কবি জয়া ভট্টাচার্যর কবিতা
*
বিতর্ক এবং মীমাংসা
কবি জয়া ভট্টাচার্য


নারীর উক্তি:-
তোমার অর্জুণ নামে আমার ধিক্কার ;
ভুলে যাব হয়তো বা জনমের মত :
কখনো বসন্তের চঞ্চল ইশারায় , পরস্পরে ছিল অঙ্গীকার ;
প্রতিদিন ফোটাব কুসুম , প্রেমের কানন ভরে অসংখ্য শত :

পুরুষের উক্তি:-
তোমার দ্রৌপদী নাম আমার গৌরব ;
পাঞ্চালির স্বামি পরিচয় অর্জুণের শ্রেষ্ঠ অহংকার :
কৃষ্ণার বরমাল্যে তখনই সার্থক হল স্বয়ম্বর পরম উৎসব ;
যখন অর্জুণগলে উঠেছিল দুলে , দ্রৌপদীর সর্বোত্তম কন্ঠমনিহার :

নারীর উক্তি:-
অর্জুণের নির্লজ্জ উচ্চাকাঙ্খায় ,পৃথিবীর নেই দায় :
শুধুমাত্র দ্রোণাচার্য ষড়যন্ত্র রচে ,
নিষ্ঠুর আয়োজনে নির্মম হত্যার ইতিহাস , ছড়িয়েছে ধরণীর আনাচে কানাচে ;
নিষাদের পুত্র সেতো অজুহাত কেবল -
একলব্যের গুরু , কালক্রমে দ্রোনাচার্যের, প্রসিদ্ধির শেষ সম্বল ।
তবুওতো মহাকাল তর্জনী সংকেত করে-দ্রোনাচার্য বিচরিত প্রতিহিংসায় !

পুরুষের উক্তি:-
দ্রৌপদী পঞ্চস্বামি সহবাস শেষে , কর্ণকে ভালবেসে ,
শোনা যায় কামনায়, হয়েছে অধীরা । জগতের ধনুর্ধর সেরা -
অন্য কারো ভোগে লাগে পারেনা হতেই ; শুধুমাত্র দ্রৌপদীর, কামনা পুরণেই-
বসুন্ধরার কোলে দুটি আঁখি মেলে , খুঁজে ফিরে পাঞ্চালি কোথায় আবেশে
অপেক্ষায় বসে ?

নারীর উক্তি:-
আমি তাই দ্রৌপদী নই ।
ফুল্লরার মত জেনো , বাহুবলী কালকেতু ঘুরে ফিরে আমার স্বপ্নেই :
সে কখনো একলব্য নিষাদের ছেলে ,
কখনো বা কালকেতু সরল বিশ্বাসে কথা বলে ;
ছলনার আশ্রয়ে আবাসের নাই প্রয়োজন ,
সত্যের চতুর্দোলা চড়ে নিত্য ভ্রমন :
আমায় নিয়েছে সাথে- সংগ্রামের পথে ।
অর্জুণ কৃষ্ণের সহযোদ্ধা হতে , ঘৃণায় ফিরিয়ে মুখ স্বেচ্ছা নির্বাসনে ,
দ্বীপান্তরে চলে গিয়ে , একলব্য স্থায়ী হয় খ্যাতির আসনে !
কালকেতু ফুল্লরাকে সাথে , যাত্রা করে স্বর্গের পথে -
মানিক্য মণ্ডিত মূল্যবান রথে ।
হৃদয় বিদীর্ণ হয় উপসংহারে ,
অর্জুণ অবতীর্ণ অদ্ভুত সমরে ;
নিষাদ রাজ্যের রাজা একলব্য আত্মজ বালক তনয়,
বৃদ্ধ অর্জুণের সনে মহারণে , যবে তার হয় পরাজয় ,
পৃথার পুত্র খুশি যত, বালক একলব্য বেদনায় কাঁদে তত ;
নিয়তির ছিল নির্দ্দেশ: অভিমন্যু অকালে তাই হল নিঃশেষ :
এমন পিতার পুত্র হয়ে , জীবনের চেয়ে , মৃত্যুই শ্রেয় ।
প্রিয়রে দেবতা করে দিয়ে , দেবতার হয়েছে সে প্রিয় !

সমবেত নারী পুরুষ:-
আমাদের প্রেম বিশুদ্ধ হোক জীবনের জয়গানে ,
আমাদের প্রেম সুবাতাসে দিক সুবাস ছড়ায়ে আত্মার সম্মানে ,
আমাদের প্রেম নিশান ওড়াক সত্যের স্বাদ ঘোষণায় ,
আমাদের প্রেম জানাক সবারে পুষ্প চেয়ো না বনের ভিতরে ,
অন্তরে তার সৌরভ নিও ভাসিও পাতার ভেলায় !

মিলনের শুভক্ষনে ,
সেদিন দুজনে দুলেছে কুসুম বনে :
চিরসখা দুই যুগ্ম বাঁধন, একাকার হল দীপশিখা মন ;
দুজনের গাঢ় চুম্বন এঁটে দিয়েছে আলিঙ্গন ।
সূর্য হেসেছে হেসেছে চন্দ্র , জোয়ারে ভেসেছে মদীরমন্দ্র ;
প্রকৃতির রব প্রান উৎসব আনন্দ ঘন পবনে :
মিলনের শুভক্ষনে !

.                   ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর