নারীর উক্তি:- তোমার অর্জুণ নামে আমার ধিক্কার ; ভুলে যাব হয়তো বা জনমের মত : কখনো বসন্তের চঞ্চল ইশারায় , পরস্পরে ছিল অঙ্গীকার ; প্রতিদিন ফোটাব কুসুম , প্রেমের কানন ভরে অসংখ্য শত :
পুরুষের উক্তি:- তোমার দ্রৌপদী নাম আমার গৌরব ; পাঞ্চালির স্বামি পরিচয় অর্জুণের শ্রেষ্ঠ অহংকার : কৃষ্ণার বরমাল্যে তখনই সার্থক হল স্বয়ম্বর পরম উৎসব ; যখন অর্জুণগলে উঠেছিল দুলে , দ্রৌপদীর সর্বোত্তম কন্ঠমনিহার :
নারীর উক্তি:- অর্জুণের নির্লজ্জ উচ্চাকাঙ্খায় ,পৃথিবীর নেই দায় : শুধুমাত্র দ্রোণাচার্য ষড়যন্ত্র রচে , নিষ্ঠুর আয়োজনে নির্মম হত্যার ইতিহাস , ছড়িয়েছে ধরণীর আনাচে কানাচে ; নিষাদের পুত্র সেতো অজুহাত কেবল - একলব্যের গুরু , কালক্রমে দ্রোনাচার্যের, প্রসিদ্ধির শেষ সম্বল । তবুওতো মহাকাল তর্জনী সংকেত করে-দ্রোনাচার্য বিচরিত প্রতিহিংসায় !
পুরুষের উক্তি:- দ্রৌপদী পঞ্চস্বামি সহবাস শেষে , কর্ণকে ভালবেসে , শোনা যায় কামনায়, হয়েছে অধীরা । জগতের ধনুর্ধর সেরা - অন্য কারো ভোগে লাগে পারেনা হতেই ; শুধুমাত্র দ্রৌপদীর, কামনা পুরণেই- বসুন্ধরার কোলে দুটি আঁখি মেলে , খুঁজে ফিরে পাঞ্চালি কোথায় আবেশে অপেক্ষায় বসে ?
নারীর উক্তি:- আমি তাই দ্রৌপদী নই । ফুল্লরার মত জেনো , বাহুবলী কালকেতু ঘুরে ফিরে আমার স্বপ্নেই : সে কখনো একলব্য নিষাদের ছেলে , কখনো বা কালকেতু সরল বিশ্বাসে কথা বলে ; ছলনার আশ্রয়ে আবাসের নাই প্রয়োজন , সত্যের চতুর্দোলা চড়ে নিত্য ভ্রমন : আমায় নিয়েছে সাথে- সংগ্রামের পথে । অর্জুণ কৃষ্ণের সহযোদ্ধা হতে , ঘৃণায় ফিরিয়ে মুখ স্বেচ্ছা নির্বাসনে , দ্বীপান্তরে চলে গিয়ে , একলব্য স্থায়ী হয় খ্যাতির আসনে ! কালকেতু ফুল্লরাকে সাথে , যাত্রা করে স্বর্গের পথে - মানিক্য মণ্ডিত মূল্যবান রথে । হৃদয় বিদীর্ণ হয় উপসংহারে , অর্জুণ অবতীর্ণ অদ্ভুত সমরে ; নিষাদ রাজ্যের রাজা একলব্য আত্মজ বালক তনয়, বৃদ্ধ অর্জুণের সনে মহারণে , যবে তার হয় পরাজয় , পৃথার পুত্র খুশি যত, বালক একলব্য বেদনায় কাঁদে তত ; নিয়তির ছিল নির্দ্দেশ: অভিমন্যু অকালে তাই হল নিঃশেষ : এমন পিতার পুত্র হয়ে , জীবনের চেয়ে , মৃত্যুই শ্রেয় । প্রিয়রে দেবতা করে দিয়ে , দেবতার হয়েছে সে প্রিয় !
সমবেত নারী পুরুষ:- আমাদের প্রেম বিশুদ্ধ হোক জীবনের জয়গানে , আমাদের প্রেম সুবাতাসে দিক সুবাস ছড়ায়ে আত্মার সম্মানে , আমাদের প্রেম নিশান ওড়াক সত্যের স্বাদ ঘোষণায় , আমাদের প্রেম জানাক সবারে পুষ্প চেয়ো না বনের ভিতরে , অন্তরে তার সৌরভ নিও ভাসিও পাতার ভেলায় !