যদুভট্টের রচনা - পাতার উপরে . . .
যদুভট্টের রচনা কেবল সঙ্গীতসৃষ্টির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। সঙ্গীতজ্ঞ হবার পাশাপাশি তিনি গীতিকার
রূপেও প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিলেন। ঠাকুরবাড়ীতে থাকাকালীন তিনি কয়েকটি বাংলা ব্রহ্মসঙ্গীত রচনা করেন।
জানুয়ারী ১৯৫০খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, সাধারণ ব্রাহ্মসমাজের পক্ষে জ্যোতিরিন্দ্রনাথ দাস দ্বারা সম্পাদিত
“ব্রহ্মসঙ্গীত”, দ্বাদশ সংস্করণে তাঁর দুটি ব্রহ্মসঙ্গীত রয়েছে। মিলনসাগরে তা আমরা আমাদের পাঠকের জন্য
তুলে দিয়েছি। এছাড়া বাংলার বাইরে বিভিন্ন প্রদেশে তাঁর সঙ্গীতশিক্ষা ও পরিবেশনার সূত্রে ভ্রমণের ফলে
তিনি হিন্দী ভাষায় দক্ষতা অর্জন করে, বহু গীত রচনা করেছিলেন। ১৯৩৫ সালে প্রকাশিত, রামপ্রসন্ন
বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণীত, গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “সঙ্গীত-মঞ্জরী” গ্রন্থে আমরা তাঁর ১২টি হিন্দী গান
পেয়ে এখানে তুলে দিয়েছি। সেই গ্রন্থে তাঁর গান যদুভট্ট নামে না দিয়ে, ত্রিপুরার মহারাজ বীরচন্দ্র মাণিক্যের
দেওয়া “তানরাজ” নামে এবং পঞ্চকোটের মহারাজ নীলমণি সিংহ বাহাদুরের দেওয়া “রঙ্গনাথ” নামে
দেওয়া রয়েছে। ব্রাহ্মসঙ্গীত দুটি অবশ্য “যদুভট্ট” নামেই জ্যোতিরিন্দ্রনাথ দাস দ্বারা সম্পাদিত “ব্রহ্মসঙ্গীত”
গ্রন্থে তোলা হয়েছিল।
মিলনসাগর কবি ও গীতিকারের মধ্যে কোনো পার্থক্য বা বিভেদ বা বৈষম্য মানে না। তাই মিলনসাগরে
যিনি গীতিকার তিনিই কবি।
আমরা মিলনসাগরে কবি যদুভট্টের গান তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টাকে
সার্থক মনে করবো।
কবি যদুভট্টের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
উত্স
- রামপ্রসন্ন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রণীত, গোপেশ্বর বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত সঙ্গীত-মঞ্জরী, ১৯৩৫।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সঙ্গীতচিন্তা, ১৯৪০এর বক্তৃতা।
- জ্যোতিরিন্দ্রনাথ দাস দ্বারা সম্পাদিত “ব্রহ্মসঙ্গীত”, দ্বাদশ সংস্করণ, ১৯৫০।
- ননীগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গীত বিশারদ, সঙ্গীতদর্শিকা ৪র্থ সংস্করণ, ১৩৬৬ বঙ্গাব্দ (১৯৫৯)।
- সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু সম্পাদিত সংসদ বাঙালি চরিতাবিধান, ১ম খণ্ড, ১৯৭৬।
- অনুশীলন.অর্গ
- উইকিপেডিয়া বাংলা
- en.wikipedia.org
- listentoworldmusic.blogspot.com
- www.thefreelibrary.com
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ - ১৯.৮.২০১৮
...
বিভিন্ন রাজদরবারে যদুভট্টের উপাধি লাভ - পাতার উপরে . . .
ভারত পরিভ্রমণের শেষে বাংলায় ফিলে এলে, তিনি বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত কুচিয়াকোল নিবাসী রাজা
রাধাবল্লভ সিংহের দরবারে সঙ্গীতগুরু হিসেবে কিছুকাল কাটান। এরপর পঞ্চকোটের (কাশীপুর) মহারাজ
নীলমণি সিংহ বাহাদুর তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে “রঙ্গনাথ” উপাধী প্রদান করেন।
১৮৭০ সাল নাগাদ তাঁর খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে ত্রিপুরার মহারাজ বীরচন্দ্র
মাণিক্যের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের ফলে তিনি মাঝে মাঝেই ত্রিপুরায় গিয়ে মহারাজকে গান শুনিয়ে আসতেন।
মহারাজ তাঁর গান শুনে মুগ্ধ হয়ে তাঁকে “তানরাজ” উপাধিতে ভূষিত করে তাঁর সভাগায়ক নিযুক্ত করেন।
যদুভট্টের সঙ্গীত সৃষ্টি এবং সর্বভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গী - পাতার উপরে . . .
শুধু সঙ্গীতশিক্ষার মধ্যেই যদুভট্ট থেমে থাকেন নি। ২২বছর বয়স থেকে সঙ্গীতসৃষ্টির দিকে মন দেন।
সঙ্গীতে উত্কর্ষ লাভের আশায় তিনি কাশী, দিল্লী, গোয়ালিয়র, জয়পুর ও অন্যান্য জায়গা ভ্রমণ করেন। ফলে
তাঁর সঙ্গীতে সর্বভারতীয় রূপ লক্ষ করা যায়। বাংলা ভাষার পাশাপাশি, হিন্দী ভাষাতেও তিনি গান চরনা
করার মত পারদর্শীতা লাভ করেছিলেন।
বঙ্কিমচন্দ্র-রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীতগুরু যদুভট্ট ও বন্দেমাতরম্ - পাতার উপরে . . .
আসমুদ্রহিমাচল ভারবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল-মন্ত্র, ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের "বন্দেমাতরম্"
গীতের প্রথম সুরকার ছিলেন যদুভট্ট।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর লেখা থেকে জানা যায় যে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কয়েক বছর যদুভট্টের কাছে গান
শিখেছিলেন। বিভিন্ন মনীষীদের জীবনীকার গোপালচন্দ্র রায় জানিয়েছেন যে যদুভট্টই প্রথম বঙ্কিমচন্দ্রের
বন্দেমাতরম সংগীতে সুর দিয়ে তাঁকে শুনিয়েছিলেন।
নারায়ণ পত্রিকার বৈশাখ ১৩২২ (এপ্রিল ১৯১৫) এর বঙ্কিমচন্দ্র স্মৃতিসংখ্যায় প্রকাশিত “বঙ্কিমচন্দ্র
কাঁটালপাড়ায়” প্রবন্ধে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, যদুভট্ট প্রসঙ্গে লিখেছিলেন . . .
“তিনি কয়েক বত্সর ধরিয়া যদুভট্টের [ যদুনাথ ভট্টাচার্য ১৮৪০ - ৮৩ খৃ ] নিকট গান শিখিতেন। একটি
হারমোনিয়ামও কিনিয়াছিলেন।”
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী রচনা সংগ্রহ, ২য় খণ্ড, (৪৮-পৃষ্ঠায়), বঙ্কিমচন্দ্র প্রসঙ্গের শেষে দেওয়া সূত্র-১ এ হরপ্রসাদ
শাস্ত্রীর ভাইপো মঞ্জুগোপাল ভট্টাচার্যের (১৮৯৩ - ১৯৮১), ১৯০৯ সালের ডায়রিতে বন্দেমাতরম্ সম্বন্ধে
মন্তব্য দেওয়া রয়েছে। তা থেকে বন্দেমাতরম্ গীতের সুর-স্রষ্টা সম্বন্ধে প্রাসঙ্গিক অংশ এখানে তুলে দেওয়া
হলো . . .
“বন্দেমাতরম্ গীতটি আনন্দমঠ রচনার পূর্ব্বেই রচনা করা হইয়াছিল। প্রথমতঃ প্রিয়নাথ কথককে সুরে
চড়াইবার জন্য কহিলেন। তিনি অসমর্থ হইলে যদুনাথ ভট্টকে কহিলেন। সকলের মনোরঞ্জন হইল। . . .”
নারায়ণ পত্রিকার, বঙ্কিমচন্দ্র স্মৃতিসংখ্যায়, আষাঢ় ১৩২৫ বঙ্গাব্দে লেখা, বঙ্কিমচন্দ্র প্রবন্ধে বন্দেমাতরম্
প্রসঙ্গে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী লিখেছিলেন . . .
"যেদিন তাঁহার দরবারে বসিয়া বন্দে মাতরম্ গান শুনিলাম, গানটি কাহারো মনে ধরিল না। একজন বলিলেন,
‘অত্যন্ত শ্রুতিকটু হইয়াছে’ --- ‘শস্যশ্যামলাং’ শ্রুতিকটু নয় তো কী ? ‘দ্বিসপ্তকোটিভূজৈর্ধৃতখরকরবালে’
ইহাকে কেহই শ্রুতিমধুর বলিবেন না। একজন বলিলেন, ‘কে বলে মা তুমি অবলে’ অবলের এ-কার না
ব্যাকরণ, না কিছু। বঙ্কিমচন্দ্র এই কথাগুলি একঘন্টা ধরিয়া ধীরভাবে শুনিলেন। তাহার পর
বলিলেন, “আমার ভালো লেগেছে, তাই লিথেছি। তোমাদের ইচ্ছে হয় পড়ো, না-হয় ফেলে দাও, না-হয় প’ড়ো
না।” শ্রুতিকটু দোষ, ব্যাকরণ দোষ থাকিলেও বন্দে মাতরম্ সমস্ত ভারত ছাইয়া ফেলিয়াছে। বঙ্কিমেরই জয়
হইয়াছে। তাঁহার হৃদয়ের অন্তস্থল হইতে যে গভীর ধ্বনি উঠিয়াছিল, তাহাতে দিগন্ত ধ্বনিত হইতেছে।
আমরাও এসো প্রাণ ভরিয়া বলি বন্দে মাতরম্।"
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বালকাবস্থায়, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের আহ্বানে যদুভট্ট জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ীতে গিয়ে
তাঁকে গান শোনান। তাঁর সঙ্গীতে মুগ্ধ হয়ে মহর্ষি তাঁকে তাঁর পুত্রদের সঙ্গীতশিক্ষার গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেন।
গৃহশিক্ষকরূপে যদুভট্ট, রবীন্দ্রনাথ ও জ্যোতিরিন্দ্রনাথকে মার্গ সঙ্গীতে শিক্ষাদান করেন। পরবর্তী জীবনে,
তাঁরা তাঁদের সঙ্গীতগুরু যদুভট্টের রচিত খাণ্ডারবাণী ও অন্যান্য ধ্রুপদের সুর ও ছন্দ নিয়ে গানও রচনা
করেছিলেন।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “সঙ্গীতচিন্তা”-য় সংকলিত তাঁর ৩০ জুন ১৯৪০ তারিখে “গীতালি”-র অভিভাষণে, যদুভট্ট
সম্বন্ধে বলেছেন . . .
“যদুভট্ট আমাদের গানের মাস্টার আমায় ধরবার চেষ্টা করতেন। আমি তাঁর ঘরের সামনে দিয়ে দৌড়
দিতাম। তিনি আমাদের কানাড়া গান শেখাতে চাইতেন। বাংলাদেশে এরকম ওস্তাদ জন্মায় নি। তাঁর
প্রত্যেক গানে একটা originality ছিল, যাকে আমি বলি স্বকীয়তা।”
পৃথিবীর যে কোনো দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে, কোনো একটি গানের প্রভাব ও অবদানে, বন্দেমাতম্ শীর্ষে,
তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আশ্চর্যজনকভাবে গানটির কথা ও সুর-সৃষ্টির সঙ্গে গুরু যদুভট্ট ও তাঁর
দুই শিষ্য বঙ্কিমচন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথ অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছেন। প্রথমে গুরু যদুভট্ট তাঁর শিষ্য
বঙ্কিমচন্দ্রের লেখা গানে সুর দেন। পরে যদুভট্টেরই অপর শিষ্য রবীন্দ্রনাথ, তাঁর গুরু যদুভট্টের হাত থেকে
সঙ্গীতের "ব্যাটন" তুলে নিয়ে বঙ্কিমচন্দ্রের বন্দেমাতরম্ গানটির প্রথম দুটি স্তবকে, দেশ রাগ ও একতালে
সুরারোপ ক’রে, ১৮৯৬ সালে, বিডন স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে, নিজেই
গানটি গেয়েছিলেন। তখন থেকেই গানটি প্রকাশ্যে গাওয়া শুরু হয়। ১৮৯৪-৯৫ সালে বন্দেমাতরম্ গীতের
ইংরেজী অনুবাদ করেন ঋষি অরবিন্দ যা গানটিকে বিশ্বের দরবারে এক নতুন মাত্রা দিয়ে পৌঁছে দেয়।
অনুবাদটি প্রকাশিত হয় বম্বে থেকে প্রকাশিত ইন্দুপ্রকাশ পত্রিকায়, ঋষি অরবিন্দের একটি প্রবন্ধে।
দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে যদুভট্টের রচিত বন্দেমাতরমের সুর ও স্বরলিপি আমরা কোত্থাও খুঁজে পাই
নি। তা আজ সম্ভবতঃ লুপ্ত। তবে বঙ্গদর্শন পত্রিকার চৈত্র ১২৮৭ (মার্চ ১৮৮১) সংখ্যার,
আনন্দমঠ উপন্যাসের দশম পরিচ্ছেদে, বন্দেমাতরম্ গানের পাতার (৫৫৫-পৃষ্ঠা) পাদটীকায় দেওয়া রয়েছে
“মল্লার - কওয়ালী তাল যথা - বন্দে মাতরং ইত্যাদি”। অর্থাৎ বন্দেমাতরম গানটি মল্লার রাগ ও কওয়ালী
তালে রচিত।
রবীন্দ্রনাথের নিজের সুরে ও কণ্ঠে বন্দেমাতরম্ গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
রবীন্দ্রনাথের সুরে দেবব্রত বিশ্বাস, সুচিত্রা মিত্র, সুপ্রীতি ঘোষ, কনক বিশ্বাস দাস, জগন্ময় মিত্র ও দ্বিজেন
চৌধুরীর কণ্ঠে বন্দেমাতরম্ গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
গুজরাটের ভারুচ জেলার জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি এবং বিখ্যাত সঙ্গিতজ্ঞ পণ্ডিত ওঁকারনাথ ঠাকুরের
কণ্ঠে, রাগ কাফিতে বন্দেমাতরম গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন . . .। বিষ্ণু দিগম্বর পলুস্করের শিষ্য,
ওঁকারনাথ গানটি গেয়েছিলেন গুরু-সৃষ্ট কাফি রাগাশ্রিত সুরে, আকাশবাণী থেকে, ১৫ই আগস্ট ১৯৪৭ তারিখে
সাবধান-এ (Attention) দাঁড়িয়ে।
আকাশবাণী থেকে প্রচারিত আমাদের অতি পরিচিত সুরে বন্দেমাতরম্ গানটি শুনতে এখানে ক্লিক করুন ...।
দুঃখের বিষয় এই যে আকাশবাণীর বন্দেমাতরমের সুরটি কার, তাও আমরা সঠিকভাবে জানতে পারিনি।
পণ্ডিত রবিশঙ্করের নাম উঠে আসে, কিন্তু তিনি নাকি নিজেই বলেছিলেন যে এই সুরটি তাঁর নয়। তাঁর
আত্মজীবনী “রাগমালা”-তে বন্দেমাতরম্ নিয়ে কিছু বলেন নি। সেখানে তিনি বলেছিলেন যে আকাশবাণী
থেকে প্রচারিত “সারে জহাঁ সে অচ্ছা” গানটির সুর তাঁর দেওয়া। এ ছাড়া উঠে আসে যাঁদের নাম তাঁদের
মধ্যে রয়েছেন জ্ঞানপ্রকাশ ঘোষ, পান্নালাল ভট্টাচার্য। আসলে সেই সময়ে আকাশবাণী তাঁদের স্টাফ-
আর্টিস্টদের দ্বারা কৃত সুরে সুরকারের নাম দিতেন না। অনেক বিখ্যাত শিল্পী আকাশবাণীর সঙ্গে যুক্ত
ছিলেন ও আছেন। এ বিষয়ে অনুসন্ধান নিয়ে পড়তে এখানে ক্লিক করুন . . .।
বন্দেমাতরম্ গানটি সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য সুন্দরভাবে দিয়েছেন ডঃ পার্থ মুখোপাধ্যায়, (The Oncologist
with a Heart) তাঁর ব্লগে। “অবশ্যপাঠ্য” সেই পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন . . .।
যদুভট্টের পাতায় আমরা বন্দেমাতরম্ গানটির সুর নিয়ে আলোচনা করছি। তাই এই গানটি নিয়ে
শতবর্ষাধিক প্রাচীন যে বিতর্ক-প্রবাহ চলে আসছে, তা নিয়ে আলোকপাত করা থেকে বিরত থাকছি।
রবিন্দ্রনাথের এই গানটির মাত্র প্রথম দুটি স্তবকে সুরদান সেই বিতর্কেরই অঙ্গ, এইটুকু উল্লেখ করেই আমরা
থামছি।
যদুভট্টের সঙ্গীত শিক্ষা - পাতার উপরে . . .
পিতা মধুসূদনের কাছে সঙ্গীতশিক্ষার পর বিষ্ণুপুরের রাজা ২য় রঘুনাথ সিং এর সভাগায়ক রামশঙ্কর
ভট্টাচার্য্যের কাছেও তিনি সঙ্গীতশিক্ষা লাভ করেন। ১৮৫৩ সালে গুরু রামশঙ্করের মৃত্যুর পর মাত্র ১৫ বছর
বয়সে, ১৮৫৫ সালে তিনি গৃহত্যাগ করে কলকাতায় আসেন সঙ্গীতশিক্ষার জন্য।
জানা যায় যে যদুভট্ট বাড়ি ছেড়ে কলকাতার এসে চিৎপুরে একটি বাড়িতে রাঁধুনীর কাজে নিযুক্ত হন
গাত্রাচ্ছাদনের জন্য। সেই বাড়ির উল্টোদিকেই থাকতেন সেকালের খ্যাতনামা ধ্রুপদ শিল্পী গঙ্গানারায়ান
চট্টোপাধ্যায়ের ছাত্র ধ্রুপদ শিল্পী হরপ্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায়। যদুনাথ লুকিয়ে হরপ্রসাদের গান শুনতেন। একদিন
তিনি হরপ্রসাদের কাছে ধরা পড়ে যান। হরপ্রসাদ তাঁকে ঘরে নিয়ে আসেন ও তাঁর গভীর আগ্রহের কথা
জানতে পেরে একটি গান করতে বলেন। গান শুনে চমৎকৃত হন স্বয়ং গঙ্গানারায়ণ এবং তিনি তাঁকে
শিষ্যরূপে বরণ করে নেন। যদুভট্টের কণ্ঠস্বরে মুগ্ধ হয়ে তিনি তাঁকে তাঁর জোড়াসাঁকোর ৫৯ বলরাম দে
স্ট্রিটস্থ গৃহে এনে তালিম দেওয়া শুরু করেন।
পিতার কাছেই সেতার ও মৃদঙ্গ বাদ্যযন্ত্র সহ সঙ্গীতশিক্ষা লাভ করেন। অনুশীলন.অর্গে তাঁরা জানিয়েছেন যে
ব্যক্তিগত জীবনে যদুভট্ট কাঁঠাল পাড়া গ্রামে বিবাহ করেছিলেন এবং তাঁর একটি কন্যা সন্তান ছিল।
ননীগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায় সঙ্গীতবিশারদ তাঁর "সঙ্গীতদর্শিকা" গ্রন্থের ৪র্থ সংস্করণে লিখেছেন যে তিনি ১৮৬৭
সালে বিবাহ করেন এবং তাঁদের কোন সন্তান ছিল না।
১৮৭৫-৭৬ সালে যদুভট্ট আদি ব্রাহ্মসমাজ সঙ্গীত বিদ্যালয়ে কিছুদিন সঙ্গীত শিক্ষক হিসেবে যুক্ত ছিলেন।
১৮৭৭-৭৮সাল নাগাদ তিনি চুঁচুড়ার একটি সঙ্গীত বিদ্যালয়েও কিছুদিন সঙ্গীতশিক্ষাদান করেন।
যদুভট্টের ব্যাবহৃত ১৭৭বছরের পুরাতন তানপুরাটি এখন ভারতীয় যাদুঘরে সংরক্ষিত রয়েছে। সম্প্রতি
তাঁর জন্মস্থান বিষ্ণুপুরে যদুভট্ট মঞ্চ তৈরী এবং তার সামনে শিল্পীর আবক্ষ মূর্তির প্রতিষ্ঠা হয়েছে।
কবি যদুভট্ট - এর পিতৃদত্ত নাম ছিল যদুনাথ
ভট্টাচার্য্য। তিনি জন্মগ্রহণ করেন বাঁকুড়া জেলার
অন্তর্গত বিষ্ণুপুরের ভট্টপাড়া (বর্তমান বৈদিকপাড়া)
অঞ্চলে। পিতা মধুসূদন ভট্টাচার্য্য ছিলেন সেখানকার
প্রসিদ্ধ সঙ্গীতজ্ঞ। তিনি সেতার, সুরবাহার প্রভৃতি
বাদ্যযন্ত্রের নিপূণ শিল্পী ছিলেন। যদুভট্ট প্রথমে