সাধক কমলাকান্তের শাক্ত ও বৈষ্ণব পদাবলী
*
কেন রে আমার শ্যামা মাকে বলো কালো
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্য

কেন রে আমার শ্যামা মাকে বলো কালো |
যদি কালো বটে, তবে কেন ভূবন করে আলো ?
মা মোর কখনো শ্বেত, কখনো পীত,
কখনো নীল-লোহিত রে ;---
আমি জানিতে না পারি জননী কেমন,
ভাবিতে জনম গেল রে ||

.                 ****************                          
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
নব সজল জলদ কায়
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্য

নব সজল জলদ কায় |
কালো রূপ হেরিলে আঁখি জুড়ায় ||
কপালে সিন্দুর, কটিতে ঘুংগুর, রতন নূপুর পায় |
হাসিতে হাসিতে কত,
দানব দলিছে, রুধির লেগেছে গায় ||
অতি সুশীতল চরণ-যুগল, প্রফুল্ল কমল-প্রায় |
কমলাকান্তের মন নিরন্তর, ও চরণে
ভ্রমর হইতে চায় ||

.                 ****************                          
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রংগে নাচে রণ-মাঝে, কার্ কামিনী মুক্তকেশী
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্য

রংগে নাচে রণ-মাঝে, কার্ কামিনী মুক্তকেশী |
হৈয়ে দিগম্বরী ভয়ঙ্করী, করে ধরে তীক্ষ্ণ অসি ||
কে রে তিমির বরণী বামা, হৈয়ৈ নবীনা ষোড়শী |
গলে দোলে মুণ্ডমালা, মুখে মৃদু মৃদু হাসি ||
বিনাশে দনুজগণে, দেখে মনে ভয় বাসি!
দ্যাখো, শব-ছলে চরণ-তলে, আশুতোষ পড়িল আসি |
কে রে ! ডাকিনী যোগিনী, মায়ের সঙ্গে ফেরে অহর্নিশি |
ঘন ঘন হুহুঙ্কারে, দিতির নন্দন নাশি ||
কমলাকান্তের মন অন্য নহে অভিলাষি |
আমার কালো-রূপ অন্তরে ভেবে, সদানন্দ সদা সুখী/খুসী ||

.                 ****************                          
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সদানন্দময়ী কালী, মহাকালের মনমোহিনী গো মা
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্য

সদানন্দময়ী কালী, মহাকালের মনমোহিনী গো মা !
তুমি আপন সুখে আপনি নাচ, আপনি দাও মা করতালি ||
আদিভূতা সনাতনী, শূণ্যরূপা শশী-ভালী |
ব্রহ্মাণ্ড ছিল না যখন হে মা, মুণ্ডমালা কোথায় পেলি ||
সবে মাত্র তুমি যন্ত্রী, যন্ত্র আমরা তন্ত্রে চলি |
তুমি যেমন রাখো তেমনি থাকি, যেমন বলাও তেমনি বলি |
অশান্ত কমলাকান্ত বলে দিয়ে গালাগালি---
এবার সর্বনাশি, ধ'রে অসি, ধর্মাধর্ম দুটোই খেলি ||

.                 ****************                          
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তুমি যে আমার, নয়নের নয়ন
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি” গ্রন্থ, পদসংখ্যা
১০৫, পৃষ্ঠা ৩৭।


॥ রাগিণী জোয়ান্ পুরীয়া টোড়ী। তাল আড়া চৌতাল॥

তুমি যে আমার, নয়নের নয়ন,
মনেরই মন, প্রাণেরই প্রাণ, শ্যামা !
এ দেহের দেহী, জীবনের জীবন ||
ধর্মার্থ কাম মোক্ষ পরধাম প্রাপ্তি গতি,
অগতির গতি, কারণেরই কারণ |
কমলাকান্ত কুলকান্ত,
প্রবল কৃতান্ত ভবতারণ ||

.           ****************            
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শ্যামা যদি হের নয়নে গো
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্য

শ্যামা যদি হের নয়নে গো !
ইথে বল ক্ষতি কি তোমার ||
জননী হইয়ে এই যন্ত্রণা দেখিয়ে
দয়া না করিলে এ কোন্ বিচার
আগমে নিগমে শুনি      পতিত-পাবনী তুমি,
আমি যে পতিত দুরাচার |
অধম-তারণ-বোলে,      যদি মনে অভিলাষ,
কমলাকান্তেরে কর পার গো ||

.          ****************           
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওরে নবমী নিশি ! না হৈওরে অবসান
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্য

ওরে নবমী নিশি ! না হৈওরে অবসান |
শুনেছি দারুণ তুমি, না রাখ সতের মান ||
খলের প্রধান যতো,                    কে আছে তোমার মতো |
আপনি হৈয়ে হত, বধ রে পরেরি প্রাণ ||
প্রফুল্ল কুমুদবরে,                               সচন্দন লয়ে করে ;
কৃতাঞ্জলি হৈয়ে, তোমার চরণে করিবো দান |
মোরে হইয়ে শুভদয়,                          নাশ দিন-মণি-ভয়,
যেন না সহিতে হয় রে ! শিবের বচন বাণ |
হেরিয়ে তনয়া মুখ,                           পাসরিলাম সব দুখ্ ;
আজি সে কেমন সুখ, হতেছে স্বপন জ্ঞান |
কমলাকান্তের বাণী                            শন গো গিরিরাণি !
লুকায়ে রেখো না মায়েরে হৃদয় দিয়ে স্থান ||

.          ****************        
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
মজিল মন-ভ্রমরা, কালী-পদ-নীলকমলে
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১৯৯৭ সালে প্রকাশিত অমরেন্দ্র রায় সম্পাদিত “শাক্ত পদাবলী চয়ন”, পদসংখ্যা ১৫২।


মজিল মন-ভ্রমরা, কালী-পদ-নীলকমলে।
যত বিষয়-মধু তুচ্ছ হৈল, রামাদি কুসুম সকলে॥
চরণ কালো ভ্রমর কালো, কালো কালোয় মিশে গেল ;
গেখ, সুখ দুখ সমান হোলো, আনন্দ-সাগর উথলে॥
কমলাকান্তের মনে, আশা পূর্ণ এত দিনে।
দেখ, পঞ্চ-তত্ত্ব প্রধান মত্ত, কঙ্গ দেখে ভঙ্গ দিলে॥

.          ****************        
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শুকনা তরু মুঞ্জরে না, ভয় লাগে মা, ভাঙ্গে পাছে
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১৯৯৭ সালে প্রকাশিত অমরেন্দ্র রায় সম্পাদিত “শাক্ত পদাবলী চয়ন”, পদসংখ্যা ১৫২।


শুকনা তরু মুঞ্জরে না, ভয় লাগে মা, ভাঙ্গে পাছে।
তরু পব-বলে সদাই দোলে, প্রাণ কাঁপে মা, থাকতে গাছে॥
বড় আশা ছিল মনে, ফল পাব মা এই তরুতে।
তরু মুঞ্জরে না, শুকায় শাখা, ছটা আগুন বিগুণ আছে॥
কমলাকান্তের কাছে ইহার একটি উপায় আছে।
জন্ম-জরা-মৃত্যুহরা তারা নামে ছেঁচলে বাঁচে॥

.          ****************        
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমি কি হেরিলাম মিশি স্বপনে
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২১৭, পৃষ্ঠা ৭৭।


॥ রাগিণী বেহাগ। তাল তিওট॥

আমি কি হেরিলাম মিশি স্বপনে।
গিরিরাজ! অচেতনে কত না ঘুমাও হে॥
এই, এখনি শিয়রে ছিল, গৌরী আমার কোথা গেল,
হে! আধ আধ মা বলিয়ে বিধুবদনে॥

মনের তিমির নাশি, উদয় হইল আসি,
বিতরে অমৃত রাশি, সুললিত বচনে।
অচেতনে পেয়ে নিধি, চেতনে হারালাম গিরি,
হে! ধৈরজ না ধরে মম জীবনে॥

আর শুন অসম্ভব, চারিদিগে শিবা রব ;
হে তার মাঝে আমার উমা, একাকিনী শ্মশানে।
বল কি করিব আর, কে আনিবে সমাচার,
হে! না জানি মোর গৌরী আছে কেমনে॥

কমলাকান্তের বাণী, পূণ্যবতী গিরিরাণি,
গো! সেরূপ হেরিলে তুমি অনায়াসে শয়নে।
ওপদ পঙ্কজ লাগি, শঙ্কর হৈয়েছে যোগী,
গো! হর হৃদিমাঝে রাখে, অতি যতনে॥

.          ****************        
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*