সাধক কমলাকান্তের শাক্ত ও বৈষ্ণব পদাবলী
*
কি ক্ষণে শ্যামচাঁদের রূপ নয়নে লাগিল
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১৯৬১ সালে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী ১৪১০-
১৯১০”, পদসংখ্যা ৩০৩। এই কমলাকান্ত শাক্ত সাধক ছিলেন। ইনি ১২২৬ বঙ্গাব্দে
(১৮০৯সালে) অম্বিকা-কালনা থেকে বর্ধমানে এসে রাজাসভার সভাপণ্ডিত হন। পদটি
কমলাকান্ত-পদাবলীর পৃষ্ঠা ৯৪ থেকে নেওয়া হয়েছে, পদসংখ্যা ২৫৪।


.        রূপাভিসার

কি ক্ষণে শ্যামচাঁদের রূপ নয়নে লাগিল।
তিলে না হেরিতে রূপ অন্তরে পশিল॥
হেরিতে না পেলাম রূপ তিলেক দাঁড়াইয়ে।
অবলার মনে দুঃখ চিরদিন মনে রহিল॥
কমলাকান্তের বাণী শুন গো প্রাণ সজনি।
সখি! অকলঙ্ক কুলে বুঝি কলঙ্ক ঘটিল॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
আমার গৌর নাচেরে যাচে হরিনাম সংকীর্ত্তন রস প্রকাশে
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৪৬, পৃষ্ঠা ৯২।


.        ॥ রাগিণী মুলতান। একতালা॥

আমার গৌর নাচেরে যাচে হরিনাম সংকীর্ত্তন রস প্রকাশে।
হরি হরি বলি, দেয় করতালি, কলি কলুষ নাশে॥

তড়িত পুঞ্জ জড়িত কায়, শরত ইন্দু বদন তায় ;
একি আনন্দ ভকত-বন্দ, মগন প্রেম-পাশে॥

ক্ষণে অচেতন অবশ অঙ্গ, ক্ষণে পুলকিত ভকত সঙ্গ ;
রাধা পুনরাধ্য ভাব প্রসঙ্গ, প্রকট সুখ বিলাসে।
নব কি নবকরে করজ, দণ্ডপাণি একি তরঙ্গ ;
কমলাকান্ত হেরি অনন্ত, মিনতি ভকত আশে॥

.                 ****************                          
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
জয় জয় মাধব মুকুন্দ মুরারি
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৪৭, পৃষ্ঠা ৯২।


॥ রাগিণী দেশমল্লার। জলদ তেতালা॥

জয় জয় মাধব মুকুন্দ মুরারি।
জয় বৃন্দাবনচন্দ্র, জয় নন্দসুত, জয় বৃকভানু কুমারী॥
পীতাম্বর ধর, বনমালা ধর, বাধাধর বনোয়াকি।
ব্রজবনিতা সুখ, দায়ক নায়ক, জয় পীতম দয় প্যারী॥
জয় গোবিন্দ গোপাল, দনার্দ্দন জয় গোবর্দ্ধনধারী।
কমলাকান্ত অনন্ত সুখ দায়ক, মোহন রাসবিহারী॥

.                 ****************                          
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
হে শ্যাম! পরম পুরুষ গুণধাম
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৪৮, পৃষ্ঠা ৯২।


॥ রাগিণী পরজ। ঢিমা তেতালা॥

হে শ্যাম! পরম পুরুষ গুণধাম।
মম হৃদি সরোজ নিবাস বঁধু, পূরয় মনোভিরাম॥
গুণাকর গুণনিধি, সগুণ অগুণ বিধি, অতি অনুপম তুয়া নাম।
কমলাকান্ত জীবন ধন প্রাণ, তব গুণে রত বসু যাম॥

.                 ****************                          
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পীরীতী না জানে কালা, গো সজনি
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৪৯, পৃষ্ঠা ৯৩।


॥ রাগিণী কালাংড়া। একতালা॥

পীরীতী না জানে কালা, গো সজনি!
অতকারণে ধনেপ্রাণে, মজিল অবলা।
রতন বলিয়া গলে পরিলাম কলঙ্কের মালা॥
অমৃত রুপিলে সখী, উপজে বিষের শাখী, কি জানে কুলের বালা।
কমলাকান্তের রীত, আগে না বুঝিয়ে, ঘটিল বিষয় জ্বালা॥

.                 ****************                          
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সে নিদারুণ কালা, কেমনে জানিব আমি কুলের অবলা
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি” গ্রন্থ, পদসংখ্যা
২৫০, পৃষ্ঠা ৯৩।


॥ রাগিণী কালাংড়া। একতালা॥

সে নিদারুণ কালা,                                   কেমনে জানিব
আমি কুলের অবলা।
আগে যদি জানিতাম,                          তবে কেন মজিতাম ;
প্রেম নয়, হয় কিবল পরাণের জ্বালা॥

যখন পীরিতি করলে,                         আনি চাঁদ হাতে দিলে,
ভুলাইলে মধুর বচনে কুলবালা।
কমলাকান্তের বাণী,                               শুন ওগো সজনি!
শেষে ঘটাইলে মোরে, কলঙ্কের ডালা॥

.      ****************        
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এখনি আসিবে বন্ধু প্রাণসজনি
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৫১, পৃষ্ঠা ৯৩।


॥ রাগিণী পরজ কালাংড়া। জলদ্ তোলা॥

এখনি আসিবে বন্ধু, প্রাণসজনি।
সে তোমার অনুগত, আমি ভাল জানি॥
এসো এসো বেশ, বানায়ে দিব মনের মত ;
আজু সে রসিকবর, সঙ্গে বঞ্চিবে রজনী॥

পর পর কাজল রেখা দুটি নয়নে, ধর ধর অধর সুরঙ্গ রঙ্গিণী।
কমলাকান্ত মিনতি রাখ সুন্দরি! যেমন সুন্দর শ্যাম, সখি সাজ গো! তেমনি॥

.      ****************        
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ও শ্যামবন্ধু! তোমায় না দিলে ঝুরে দুটি আঁখি
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৫২, পৃষ্ঠা ৯৪।


॥ রাগিণী সরফরদা। জলদ্ তেতালা॥

ও শ্যামবন্ধু! তোমায় না দিলে ঝুরে দুটি আঁখি।
দেখিলে নয়ন জুড়ায়॥

না জানি কি মন্ত্র দিয়ে, বান্ধিলে প্রিয়ে,
ও বিধুবদন খানি স্বপনে নিরখি॥

ঘরে গুরুজনার ভয়, কত ছলে কত কয় ;
শুনিয়ে না শুনি, হে মরমে থাকি!
তথাপি তোমার তরে, পরাণ যেনম করে,
সুধাইও কমলাকান্তেরে রাখি সাথি॥

.      ****************        
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শ্যাম কেন জানে না সখি রে
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৫৩, পৃষ্ঠা ৯৪।


॥ রাগিণী সরফরদা। জলদ্ তেতালা॥

শ্যাম কেন জানে না সখি রে!
পীরিতি করিয়া তারে যতনে রাখিতে!॥

বঁধু আপনি মজিল, আমারে মজাইল ;
আর কলঙ্ক করিল, নিলাজ বাঁশিতে, সই!॥

আমি যে সকলা নারী, এত কি বুঝিতে পারি ;
দেখিয়ে ভুলিলাম তারি, মজিলাম পীরিতে।
কমলাকান্তের বাণী, শুন প্রাণ সজনি!
এখন কি করিব নারী, নারিলাম চিনিতে॥

.      ****************        
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এতদিনে তোমারে জানিলাম
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৫৫, পৃষ্ঠা ৯৫।


॥ রাগিণী লুম্ ঝিঝিট্। জলদ্ তেতালা॥

এতদিনে তোমারে জানিলাম।
সুখের কারণ, জীবন যৌবন, ভাল জনারে সুঁপিলাম॥
তুমি কর নাথ, মধুকর ব্রত, আগে যদি জানিতাম।
তবে কেন ভুলে, কালী দিতাম কুলে, মিছা কলঙ্কে ডুবিলাম॥
ভুলেছিলাম ভ্রমে, যত সুখ প্রেমে, এখন আমি বুঝিলাম।
কমলাকান্তের, অন্তর বাহির, ভাবিয়ে কালী হইলাম॥

.      ****************        
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর