সাধক কমলাকান্তের শাক্ত ও বৈষ্ণব পদাবলী
*
সেই রূপে সদা মন ধায়
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৫৬, পৃষ্ঠা ৯৫।


॥ রাগিণী লুম্ ঝিঝিট্। জলদ্ তেতালা॥

সেই রূপে সদা মন ধায়।
আমি কি হেরিলাম যমুনা বিপিনে॥
মধুর মুরলি যে বিধু বদনে॥

ত্রিভঙ্গ ভঙ্গিম, রূপ নিরুপম,
কেন হেরিলাম, আমি কি করিলাম।
বঙ্কিম চাহনি চঞ্চল নয়নে॥

কমলাকান্তের বাণী, শুন ওগো সজনি ;
আমি ভুলিলাম, সকলি সুঁপিলাম।
মজিলাম মজিলান, নবঘন বরণে॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ওহে বঁধু! তোমার কি দোষ, তুমি কি করিবে পরবশ
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৫৭, পৃষ্ঠা ৯৫।


॥ রাগিণী কালাংড়া। একতালা॥

ওহে বঁধু! তোমার কি দোষ, তুমি কি করিবে পরবশ।
তোমারে পূরাতে হয়, অনেকেরই আশ॥
পূরুষ সুজন বট, কোন গুণে নাহি খাট ;
না বুঝে অবোধ লোক, করে অপযশ॥

কমলাকান্তের বাণী, শুন হে শ্যামগুণমণি!
মনের ভরমে কভু, মম গৃহে এসো॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কেন বা পিরীতি করিলাম, কপটেরি সনে
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৫৮, পৃষ্ঠা ৯৬।


॥ রাগিণী কালাংড়া। ঢিমা তেতালা॥

কেন বা পিরীতি করিলাম, কপটেরি সনে।
না বুঝে আরনার দোষে, কলঙ্কে ডুবিলাম॥
অমৃত বলিয়ে সখি! গরল ভক্ষিলাম।
দিবা নিশি অবিরত, জ্বলিতে লাগিলাম॥
কমলাকান্তের কথা, আগে না বুঝিলাম।
পরে কি করিব বশ, আপনা খোয়ালাম॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
রতন বলিয়ে সখি! যতন করিলাম তারে
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৫৯, পৃষ্ঠা ৯৬।


॥ রাগিণী ভৈরবী। ঢিমা তেতালা॥

রতন বলিয়ে সখি! যতন করিলাম তারে।
কে জানে পাষাণ হবে, দিন দুই তিন পরে॥
শিশির শীতল অতি, শরীরের তাপ হরে।
নলিনী কি জানে শেষে, সমূলে বিনাশ করে॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
সাধ করে পিরীতি করিতে, যদি মিলন হয় সুজন সহিতে
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬০, পৃষ্ঠা ৯৬।


॥ রাগিণী পরজ কালাংড়া। ঢিমা তেতালা॥

সাধ করে পিরীতি করিতে, যদি মিলন হয় সুজন সহিতে, সই!
আমার যেমন মন, সে যদি হয় এমন ;
কি আর অধিক সুখ, এসুখ হইতে॥

কি ক্ষণে হেরিলাম রূপ, সুধাময় রসকূপ ;
সেই হইতে প্রাণ কান্দে, তাহারে দেখিতে॥

কমলাকান্তের যদি, আনিয়া মিলায় বিধি,
সেরূপ লাবণ্য নিধি, হৃদয়ে রাখিতে॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
বন্ধু! তুমি কয়েছিলে খালি এই কথা
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬১, পৃষ্ঠা ৯৭।


॥ রাগিণী বাহার। জলদ্ তেতালা॥

বন্ধু! তুমি কয়েছিলে খালি এই কথা।
প্রিয়সি তোমার বই, আর কার নই,
তবে এত রজনী বঞ্চিলে কোথা ?

সাধিতে আপনার ফল, কত না চাতুরি বল,
বুঝিলাম তোমার যেমন সুজনতা॥

আপনি করিয়ে প্রেম রাখিতে রসরাজ!
কেবল কলঙ্কডালা, মোর মাথে সাজাইলা,
এই করিলে প্রাণ! খেয়ে মোর মাথা॥

কমলাকন্তের বাণী, শুন হে লম্পটরাজ!
অবলা কুলের বালা, অধিক প্রেমের জ্বালা,
অতি অনুচিত তব, সরলে শঠতা॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
তোমারে আপনার কোরে, ভাবে যেই জন
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬২, পৃষ্ঠা ৯৭।


॥ রাগিণী বেহাগ। জলদ্ তেতালা॥

তোমারে আপনার কোরে, ভাবে যেই জন।
প্রাণ রে! তুমি তারে, কেন কর এত বিড়ম্বন॥
এ কেমন প্রেম, উভয় মন সম নয়।
কেহ সুখভাগী, কেহ, দঃখের কারণ॥
যতনে রতন তরু করিলে সৃজন।
ফল ফুল কালে তারে, নাকয় সেচন।
মুকুলে আকুল অতি, সংশয় জীবন।
তুমি তার হিত আর করিবে কখন॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
ইহারি কারণে সুপিলাম যৌবন জীবন প্রাণ
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬৩, পৃষ্ঠা ৯৭।


॥ রাগিণী সরফরদা। জলদ্ তেতালা॥

ইহারি কারণে সুপিলাম যৌবন জীবন প্রাণ।
পুরুষ রতন তুমি, রসিক সুজন॥
কঠিন হৃদয় যার, সদাই চাতুরী তার,
চিরদিন নাহি রয়, কুজনে মিলন।
রসিকের এই গুণ, নবরস প্রতিদিন,
কখন না হইবে, প্রেম পুরাতন॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কি লাগিয়ে প্রাণ প্রিয়ে মানিনী হয়েছ
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬৪, পৃষ্ঠা ৯৮।


॥ রাগিণী ললিত। জলদ্ তেতালা॥

কি লাগিয়ে প্রাণ প্রিয়ে মানিনী হয়েছ।
ও বিধুবদনি! কেন, মুখ মলিন করেছ॥
চাতক ত্যজিয়ে ঘন, করে সর আরাধন,
চকোর নিকর শশী, ত্যাগি কি দেখেছ!
অলি কুমুদিনী বশ, কোথারে শুনেছ॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
এখন কি করিবে অলিরাজ
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬৫, পৃষ্ঠা ৯৮।


॥ রাগিণী আলেয়া। জলদ্ তেতালা॥

এখন কি করিবে অলিরাজ! হৃদয়ে বেন্ধেছে কমলিনী।
প্রতিদিন এই নিশি, মোরে দেখে হাসে এই শশী,
তুমি থাক লৈয়ে কুমুদিনী॥

দিন অবসান কালে, আসিয়ে মিলিয়ে ছিলে,
আজি পুরাইব আশ, না ছাড়িব ওহে বঁধু!
থাকিতে যামিনী॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর