সাধক কমলাকান্তের শাক্ত ও বৈষ্ণব পদাবলী
*
বদন সরোজ কি শশী ? প্রিয়সি তোমার, হে!
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬৬, পৃষ্ঠা ৯৮।


॥ রাগিণী পরোজ কালাংড়া। জলদ্ তেতালা॥

বদন সরোজ কি শশী ? প্রিয়সি তোমার, হে!
নয়ন চকোর ভ্রমর, উভয়ের মিলন॥
কজ্জ্বল জল, কিব্যোম সম কূন্তল,
মধু কি সুধা মিলিত  বচন।

চন্দন বিন্দু ইন্দু সম নিন্দে,
সিন্দুরো তিমির বিনাশন।
কমলাকান্ত ওরূপ নিরখিয়ে,
বুঝিতে না পারে কি রজনী দিন॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
পিরীতি রতন, কহ সখি! কেমনে রাখিব
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬৭, পৃষ্ঠা ৯৮।


॥ রাগিণী কালাংড়া। জলদ্ তেতালা॥

পিরীতি রতন, কহ সখি! কেমনে রাখিব।
আমার যেমন মন, সে নহে তেমন॥
মনে মনে সাধ, ছিল মোর সরল অন্তর যার,
তারি সনে করিব মিলন।
আরে প্রাণ সখি! কে জানে শঠের সঙ্গে,
দহিবে জীবন॥

মান অপমান, না ভাবায়ে তাহার অধিনী হৈয়ে.
তারি সুখে দুঃখ নিবারণ।
কমলাকান্তেরে কৈয়ো এই নিবেদন॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
শ্যাম নাজানি কেন বঁধু দগ্ ধে আমায়
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬৮, পৃষ্ঠা ৯৯।


॥ রাগিণী বেহাগড়া। ছেব্ কা॥

শ্যাম নাজানি কেন বঁধু দগ্ ধে আমায়।
পেয়ে সে কেমন রস, যদি শ্যাম পরবশ,
তবে কেন আমারে জাগায়॥

ভ্রমর নিকুঞ্জ বনে, মজিল আসর পানে,
মাতিল মদন মধুরায়॥
প্রেমদায়ী সুখ-নিশি, বিষ বরিষয়ে শশী,
এখন আমি কি করি উপায়॥

কমলাকান্তের বাণী, শুন ওগো সজনী!
হৃদয়ে হৃদাত্ম শ্যামরায়।
নাজানি নিতান্ত সদয় হয়েছে কোনজনে,
মোরে বধি কাহারে জুড়ায়॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর
*
কার সঙ্গে রজনী জাগিয়ে অঙ্গ তোমার
কবি সাধক কমলাকান্ত ভট্টাচার্য
১২৯২ বঙ্গাব্দে (১৮৮৫ সাল) প্রকাশিত শ্রীকান্ত মল্লিক দ্বারা প্রকাশিত “কমলাকান্ত-পদাবলি”
গ্রন্থ, পদসংখ্যা ২৬৯, পৃষ্ঠা ৯৯।


॥ রাগিণী খাম্বাজ বাহার। জলদ্ তেতালা॥

কার সঙ্গে রজনী জাগিয়ে অঙ্গ তোমার।
হৃদি নখ ছিন্ন ভিন্ন তনু অতি, হেরি মন ভ্রানতি আমার॥
কার নয়নের অঞ্জন বয়ানে পরেছ হে! রসিকের এই ব্যবহার!
পীতাম্বর পরিহারি, পর পরিধেয় পরি, বাসনা পূরাইলে কার॥

তোমার ললাটে যাবক, পাবক নিন্দিত খণ্ডিত গজমতিহার।
কমলাকান্ত এসেছে নিশি বঞ্চিয়ে, নিজগুণ করিয়ে প্রচার॥

.            ****************             
.                                                                              
সূচীতে . . .    


মিলনসাগর