সাধক কমলাকান্ত - এর নাম কমলাকান্ত ভট্টাচার্য। তিনি শাক্ত পদাবলী তথা শ্যামা সংগীতের অন্যতম
প্রধান কবি।
তাঁর নিবাস ছিল বর্দ্ধমান জেলার অম্বিকা-কালনায় অম্বিকা গ্রামে। ১২১৬ বঙ্গাব্দে (১৮০৯ সাল) তিনি
বর্ধমানের মহারাজাধিরাজ তেজশ্চন্দ্র বাহাদুরের রাজসভায় সভাপণ্ডিত পদে নিযুক্ত হন। ক্রমে তাঁর ভক্তি এ
নিষ্ঠায় আকৃষ্ট হয়ে মহারাজ তাঁর শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন। মহারাজ তাঁকে বর্ধমান শহরের কাছে কোটলাহাট
গ্রামে তাঁর বাসগৃহ বানিয়ে দেন। সেই বাসগৃহ কবে তৈরী হয়েছিল, বা তাঁর পিতার নাম কি ছিল বা
কমলাকান্তের বাল্যকাল ও শিক্ষা সম্বন্ধে কোনো তথ্যই পাওয়া যায় নি।
আশ্চর্যজনকভাবে এই কবি কমলাকান্তর বর্ধমানে আগমনের মাত্র তিন বছর আগে, আরেকজন একই নামের
কবি কমলাকান্ত, ১৮০৬ সালে বর্ধমানের মহারাজ তেজশ্চন্দ্রের আনুকুল্যেই, তাঁর প্রধান কার্য্যকারক
রাধানাথ বসুর অনুরোধে, তাঁর বিরচিত ও সংকলিত, ৪৩টি তরঙ্গে ১৩৫৮টি পদ সম্বলিত বৈষ্ণব-পাদবলীর
সংকলন “পদ-রত্নাকর” পুথির একটি অনুলিপি, স্বহস্তে তৈরী করেন। এই কমলাকান্ত ছিলেন কমলাকান্ত দাস
এবং ইনিও "কমলাকান্ত" ভণিতায় পদাবলী রচনা করতেন। তাঁর বৈষ্ণব পদাবলীর পাতায়
যেতে এখানে ক্লিক করুন . . . ।
শাক্ত পদাবলী তথা শ্যামা সঙ্গীতের জগতে, রামপ্রসাদের পরে কমলাকান্তের নামই নেওয়া হয়ে থাকে।
অধ্যাপক জাহ্নবীকুমার চক্রবর্তী রামপ্রসাদ ও কমলাকান্তের তুলনা করে লিখেছেন,
"বৈষ্ণব পদাবলী রচনায় চণ্ডীদাস ও গোবিন্দদাস কবিরাজের যে পার্থক্য, শাক্ত পদাবলী রচনায় রামপ্রসাদ ও
কমলাকান্তের মধ্যে সেই পার্থক্য। একজন ভাবতন্ময়, আত্মহারা--- অন্যজন সচেতন শিল্পী ; একজন সরল,
অনাড়ম্বর---তাঁহাতে ছন্দনৈপূণ্য নাই, বাকচতুরী নাই---আছে আত্মহারা ভক্তের আত্মহারা ভাব ; অপর জন
আত্মমগ্ন হইলেও আত্মহারা নহেন, তাঁহার বিচার আছে, সংযমবোধ আছে---তাই ছন্দের মাধুরী, শ্রুতিমধুর
শব্দ-ঝংকারের প্রতি তাঁহার সজাগ দৃষ্টি, 'রসনা-রোচন, শ্রবণ-বিলাস, রুচির পদ'-এর প্রতি আকর্ষণ।"
১২৬৪ বঙ্গাব্দে (১৮৫৭ সাল) বর্ধমানের মহারাজ মহাতপ চাঁদ বাহাদুর সাধক কমলাকান্তের সমস্ত পদাবলী,
তাঁর নিজের গৃহ ও তাঁর ভ্রাতৃবধুর গৃহ থেকে আনায়ন করে মুদ্রাঙ্কিত করান। সাধক কমলাকান্তের
"সাধকরঞ্জন" নামক তান্ত্রিক কবিতা বসন্তরঞ্জন রায় ও অটলবিহারী ঘোষ দ্বারা সম্পাদিত হয়ে ছাপা হয়েছে।
তাঁর বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে "মজিল মন মোর ভ্রোমরা শ্যামপদ নীল কমলে", "শুকনো তরু মঞ্জরে না",
"তুমি যে আমার নয়নের নয়ন", "আমি কি হেরিলাম নিশি স্বপনে" প্রভৃতি।
আমরা মিলনসাগরে কবি কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্য বা সাধক কমলাকান্তের শাক্ত এবং বৈষ্ণব পদাবলী তুলে
আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলেই এই প্রয়াসের সার্থকতা।
কবি কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্যর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
কবি কমলাকান্ত দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ" পাতার উপরে . . .
বৈষ্ণব পদাবলীর পদগুলি মূলত গান হিসেবেই রচনা করা হোতো। প্রায় প্রতিটি পদের শুরুতেই সেই পদটির
“রাগ”-এর উল্লেখ থাকে। তবে কিছু পদের আগে তার “রাগ”-এর উল্লেখ নেই এমনও পাওয়া গিয়েছে। বৈষ্ণব
পদাবলীর সংকলকগণ যখন তাঁদের সংকলনে পদ সাজান, তখন পর পর একাধিক গানের যদি একই সুর বা
রাগ থাকে, তাহলে তাঁরা প্রথম গানটিতে তার রাগ উল্লেখ ক’রে পরের গানটিতে রাগের যায়গায় “তথা রাগ”
বা “যথা” শব্দ বসিয়ে দিতেন, এই বোঝাতে যে পরের গানটি একই রাগাশ্রিত। কিন্ত এমনও পাওয়া গিয়েছে
যে একই গান বিভিন্ন সংকলকের সংকলনে ভিন্ন রাগাশ্রিত বলে উল্লেখিত। বহু পদই মুখে মুখে গীত
অবস্থায় পাওয়া গিয়েছে। তাই একই গান বিভিন্ন গায়কের মুখে ভিন্ন ভিন্ন সুরে পাওয়া গিয়ে থাকতেই
পারে। তাই অনেক বিদগ্ধজনেরা মনে করেন যে এখন আর পদের রাগের উল্লেখ না করলেও চলে। যে
যেমন সুরে চায়, গেয়ে আনন্দ লাভ করলেই এর সার্থকতা। আমরা অবশ্য যে সংকলন থেকে যে পদ
নিয়েছি, সেই সংকলনে উল্লেখিত রাগটি মিলনসাগরের পাতায় তুলে দিয়েছি। এমন হতে পারে বিশেষজ্ঞরা
অন্য সংকলনে সেই গানটির অন্য রাগ দেখতে পাবেন।
উত্স - ডঃ শিশির কুমার দাশ, সংসদ সাহিত্য সঙ্গী ২০০৩।
. সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু, সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান, ২০১০।
. কমলকুমার গঙ্গোপাধ্যায়, শাক্ত-পদাবলী চয়ন, ১৯৬০+।
. বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”, ১৯৬১।
. শ্রীকান্ত মল্লিক কর্তৃক প্রকাশিত কমলাকান্ত-পাদবলী, ১৮৮৫।
কবি কমলাকান্ত ভট্টাচার্য্যর মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
কবি কমলাকান্ত দাসের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতার প্রথম প্রকাশ কেবল শাক্ত পদাবলী নিয়ে - ৮.৮.২০০৭
বৈষ্ণব পদাবলী সহ প্রথম প্রকাশ - ৮.৪.২০১৭ পাতার উপরে . . .
...