| কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিকের কবিতা |
| আমগাছ কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত, প্রমথনাথ বিশী ও তারাপদ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, “কাব্যবিতান” কাব্য সংকলের কবিতা। দুখিনীর ছিল শুধু একটি আমের গাছ নিজ দুয়ারের কাছে তার, বছর বছর তাতে গাছভরা আম হ’ত ছেলেরা কুড়াত অনিবার। একদিন কুপ্রভাতে ছেলেরা দেখিল তার, দু’জন কুঠার লয়ে করে চারিদিক ঘুরি ঘুরি দেখিছে গাছের মূল. বালকেরা শিহরিল ডরে। ছুটিয়া মায়ের কাছে কাঁদিয়া বলিল গিয়া, দেখ মাগো, কাহারা আসিয়া দু’খান কুঠার লয়ে দেখিছে গাছের গোড়া, লয়ে যাবে বুঝি গো কাটিয়া। আমাদের চারাগাছ মুকুলেতে ভরে আছে, এ বছর কত আম হবে! আমরা খাব না আম, তারা সব নিয়ে যেয়ে গাছটি কাটিবে কেন তবে ? মলিন বদনে মাতা বলিল, তা শুনিবে না, তোমরা বাড়িতে এসো ধন, ধারের দায়েতে কত রাজার রাজত্ব যায়, মহাজন শুনে না বারণ। গরিবের ছেলে মেয়ে বাহিরে গেল না আর খেলাঘর বসিল উঠানে, কুঠারের ঘা যেমন গাছের উপরে পড়ে চাহে এ উহার মুখপানে। খেলাতে বসে কি মন, কানেতে পশিছে সাড়া, বাজিছে কোমল বুকে কত ; নিষেধ করেছে মাতা, বাহিরে যাবে না আর, বসে আছে পুতুলের মত। আর কতখন হায়, গাছ নোয়াইল শির, শিশুদল চাহিয়া রহিল ; ভুতলে পড়িল তরু, তারি সাথে আঁখি ক’টি জলভারে নমিয়া পড়িল। গাছের তলাতে শুধু ভাঙা খেলাঘর আছে, একটিও প্রাণী নেই সেথা ; পড়ে আছে ভ্রষ্ট নীড়, গেছে উড়ি পাখীগুলি পথিকের হৃদে দিয়ে ব্যথা। একি আশা, একি ভ্রম, মায়ার ছলনা একি! আজো দুটি ছোট ছোট ছেলে প্রভাতে উঠিয়া ওগো ঘটি ভ’রে জল দেয় কাটা সেই প্রিয় তরুমূলে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |