কবি কুমুদ রঞ্জন মল্লিকের কবিতা
*
অজয়
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
শ্রীজ্যোত্স্নানাথ মল্লিক, শ্রীকৌশাম্বীনাথ মল্লিক ও শ্রীসুধেন্দু মল্লিক সম্পাদিত “কুমুদ
কাব্যমঞ্জুষা”  কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া | ১৯২৭ সালে প্রকাশিত “অজয়” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।

           
.                        ১

গঙ্গা আমার পুণ্যতমা সরিৎরূপা দেবী
মৃত্তিকাতে অমৃত তাঁর, পুণ্য সলিল সেবি’,
স্তোত্র তাঁহার গাইতে আমার কুলায় নাক ভাষা,
ধন্যা হরি পাদোদ্ভবা অস্তিমেরি আশা |
তিনি গীতা, গায়ত্রী মোর, আরাধনার ধন,
সাত পুরুষের স্বর্গ আমার, নিতান্ত আপন |
কিন্তু মায়ায় কীট যে আমি বলতে পারি কি ?
উজানি ও অজয় আমার প্রাণের সামগ্রী |

.                        ২

যমুনা নাম করতে আমার শিউরে উঠে গা,
নামে আনে বৃন্দাবনের পরাগ বহিয়া |
আরাধ্যেরি আরাধ্য মোর, প্রাণের আমার প্রাণ,
তরঙ্গিত বিদ্যাপতি চন্ডীদাসের গান |
আমার শ্যামের বংশীধ্বনি, গোরার আঁখি জল,
স্বপ্নে আমার কর্ণে পশে মধুর কলকল |
কিন্তু মায়ার কীট যে আমি বলতে পারি কি
উজানি আর অজয় আমার প্রাণের সামগ্রী |

.                        ৩

সরযূ যে অমৃতময় আমার রামায়ণ,
ব্রহ্মা না হক বাল্মীকিরই কমণ্ডলুর ধন |
সীতা রামের গাহন পূত, অপার্থিব নীর,
নামেতে হয় পুণ্য দেহ, ধূলায় লোটে শির |
ত্রেতার স্মৃতি, জেতার স্মৃতি, ত্রাতার স্মৃতি সে
বুকের মাঝে জপ করি পাই শক্তি নিমিষে |
কিন্তু মায়ার কীট যে আমি বলতে পারি কি
উজানি আর অজয় আমার প্রাণের সামগ্রী |

.                        ৪

বিশ্ব প্রেমিক নইক আমি, শক্তি নাহি হবার
দুর্ব্বলতার জন্য ক্ষমা ভিক্ষা মাগি সবার
ক্ষুদ্র আমি বিরাটকে তাই ক্ষুদ্র ছবি করি,
আরাধনায় বুকের মাঝে নিত্য রাখি ধরি |
ক্রুদ্ধ কেহ হবেন না ক ক্ষম্য অভাজন
ক্ষুদ্র গ্রামের চৌসীমানায় রুদ্ধ আমার মন |
অভয় মাগি মনের কথা বলতে পারি কি
উজানি আর অজয় আমার প্রাণের সামগ্রী |

.                        ৫

অজয় আমার ভাঙবে গৃহ, হয়ত দুদিন বই
তবু তাহার প্রীতির বাঁধন টুটতে পারি কই ?
সে ত কেবল নদ নহেক, নয়ক সে ত জল,
সে যে তরল গীত-গোবিন্দ চৈতন্য-মঙ্গল |
সে যে আমার চণ্ডী-দেবীর চরণ-অমৃত,
বনকে করে শ্যামল এবং মনকে সমৃদ্ধ |
দুঃখ এবং দৈন্য মাঝে বলতে পারি কি
উজানি আর অজয় আমার প্রাণের সামগ্রী |

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আমগাছ
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
১৯৬৬ সালে প্রকাশিত, প্রমথনাথ বিশী ও তারাপদ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত, “কাব্যবিতান” কাব্য সংকলের
কবিতা।

দুখিনীর ছিল শুধু                                        একটি আমের গাছ
নিজ দুয়ারের কাছে তার,
বছর বছর তাতে                                       গাছভরা আম হ’ত
ছেলেরা কুড়াত অনিবার।
একদিন কুপ্রভাতে                                   ছেলেরা দেখিল তার,
দু’জন কুঠার লয়ে করে
চারিদিক ঘুরি ঘুরি                                    দেখিছে গাছের মূল.
বালকেরা শিহরিল ডরে।
ছুটিয়া মায়ের কাছে                                  কাঁদিয়া বলিল গিয়া,
দেখ মাগো, কাহারা আসিয়া
দু’খান কুঠার লয়ে                                 দেখিছে গাছের গোড়া,
লয়ে যাবে বুঝি গো কাটিয়া।
আমাদের চারাগাছ                                 মুকুলেতে ভরে আছে,
এ বছর কত আম হবে!
আমরা খাব না আম,                                তারা সব নিয়ে যেয়ে
গাছটি কাটিবে কেন তবে ?
মলিন বদনে মাতা                                  বলিল, তা শুনিবে না,
তোমরা বাড়িতে এসো ধন,
ধারের দায়েতে কত                                  রাজার রাজত্ব যায়,
মহাজন শুনে না বারণ।
গরিবের ছেলে মেয়ে                                বাহিরে গেল না আর
খেলাঘর বসিল উঠানে,
কুঠারের ঘা যেমন                                   গাছের উপরে পড়ে
চাহে এ উহার মুখপানে।
খেলাতে বসে কি মন,                             কানেতে পশিছে সাড়া,
বাজিছে কোমল বুকে কত ;
নিষেধ করেছে মাতা,                             বাহিরে যাবে না আর,
বসে আছে পুতুলের মত।
আর কতখন হায়,                                   গাছ নোয়াইল শির,
শিশুদল চাহিয়া রহিল ;
ভুতলে পড়িল তরু,                              তারি সাথে আঁখি ক’টি
জলভারে নমিয়া পড়িল।
গাছের তলাতে শুধু                                ভাঙা খেলাঘর আছে,
একটিও প্রাণী নেই সেথা ;
পড়ে আছে ভ্রষ্ট নীড়,                                গেছে উড়ি পাখীগুলি
পথিকের হৃদে দিয়ে ব্যথা।
একি আশা, একি ভ্রম,                                মায়ার ছলনা একি!
আজো দুটি ছোট ছোট ছেলে
প্রভাতে উঠিয়া ওগো                                ঘটি ভ’রে জল দেয়
কাটা সেই প্রিয় তরুমূলে॥

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আজিকে রাতি
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিজনকুমার চট্টোপাধ্যায় সংকলিত “ঐকতান” কাব্য সংকলন
থেকে নেওয়া। ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত “শ্রেষ্ঠ কবিতা” কাব্যগ্রন্থের কবিতা।


প্রিয়া, সেই প্রিয় পূর্ণিমা রাতি সেই চম্পক সুরভি---
বাজে দরবারী কানাড়া কোথাও কোথাও বাজে পূরবী।
সমুখে মাধবী তেমনি শ্যামলা, শাখে থলো থলো কুঁড়ি গো,
বরণ পিঁড়িতে এখনো রয়েছে পুরানো এলুন-গুঁড়ি গো,
কোকিলের ডাক তেমনি মদির, কই তো হয় নি পুরাতন ?
মণি-মঞ্জীর-ঝংকৃত-নিশি বাজে কঙ্কন কনকন।
.                                        এ রাতি করেছে মধুরা
যুগের যুগের কিশোর-কিশোরী জগতের বর-বধূরা।

হয়তো এমন আলোক-তিথিতে তুমি যা বলেছ মিছে নয়,
হ’লো সাবিত্রী-সত্যবানের শুভদৃষ্টির বিনিময়।
আজও শোনা যায় কলধ্বনি যে সেই স্রোতবহা মালিনীর,
বেতসকুঞ্জ তেমনি শোভন হয়নি বদল অবনীর।
চন্দ্রাপীড় আর কাদম্বরীর বাসর-জাগা এ-রজনী।
কত চাঁদ মুখ সুধা দিয়ে এর গরব বাড়ালো সজনি।
.                                        যায় নি, যাবার কিছু নয়---
তৃষিত অধর উত্সুক বুক তেমনি রয়েছে সমুদয়।

এই সুধাময়ী ক্ষুধাময়ী নিশি বুঝিতে পারিনি কি বটে ?
নৃত্যে ইহার একটি ভঙ্গী প্রিয়তমে ডাকে নিকটে।
সুধার-গাগরী কক্ষে ইহার চুনুরিয়া শাড়ী পরনে,
লালে লাল করি’ চলে সুন্দরী অনুরাগ-রাঙা চরণে।
কতই শিরিন কত ফরহাদ্ কত জুলিয়েট রোমিও,
কুসুম-বিছানো এই পথে গেল তারপর তুমি আমিও।
.                                        এ-নিশি কি কেহ ভোলে গো ?
অমর হয়েছে রাই ও কানুর ঝুলন রাসে ও দোলে-ও।

লাগে না কি ভালো ? মোর ভালো লাগে, ভালো লাগে মোর অতিশয়,
পরিচিত সেই রঙ্গমঞ্চে এই নূতনের অভিনয়।
সুরভিত হ’লো যে নিশি মোদের স্মৃতির গোলাপী আতরে,
তরুণ-তরুণী গোলাপে গোলাপে সাজাইছে তারে আদরে।
আছে পথ-চাওয়া সেই গান-গাওয়া বহে সেই হাওয়া অনুখন,
ফোটে সেই ফুল সেই গাছে আজও সেই সে-বিরহ সে-মিলন।
.                                        সে-বাঁশীই বাজে অবিরাম---
উহাদের চেনা আমাদের চোখে লীলা হ’য়ে রাজে অভিরাম।

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দেয়ালি
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
শ্রীজ্যোত্স্নানাথ মল্লিক, শ্রীকৌশাম্বীনাথ মল্লিক ও শ্রীসুধেন্দু মল্লিক সম্পাদিত “কুমুদ
কাব্যমঞ্জুষা”  কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া | ১৯১৫ সালে প্রকাশিত “বীথি” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।


মঙ্গলকোটে বিজয় শেঠের সমান ছিলনা ধনী,
কাজী খোন্দকার, মোল্লাসাহেব সবে তার কাছে ঋণী |
কত জমিদারি আয়মা মহল সুদের দেনায় তার—
ভিখারী করিয়া বড় বড় বাড়ী হয়ে গেছে ছারখার |
গ্রামের ভিতর আলি নওয়াজ দয়াশীল জমিদার,
কতই হিন্দু কত মুসলিম কৃপায় পালিত তাঁর |
তাঁহার নিমক খায়নি যাহারা অল্পই ছিল সেথা,
বিজয়ের কাছে তিনিও যে ঋণী অন্যের কিবা কথা |

গ্রামে কানাকানি, শীঘ্রই শেঠ নিলামে লইবে কিনে,
তাঁর জমিদারী আয়মা যে সব বন্ধক আছে ঋণে |
শুনিয়া একথা বিষম ব্যথিত গ্রামের গরীব দুখী,
কেবল কজন আত্মীয় তাঁর হয়েছিল কিছু সুখী |

আলি নওয়াজ নীরবে সহেন মরমের ব্যথা মনে,
অস্ফুট তার গভীর বেদনা জানে শুধু একজনে |
চাহিয়া পাঠালে কত আত্মীয় শুধে দেয় ঋণভার,
আলি নওয়াজ করিবে কি নত উন্নত শির তার ?
সে যে মোখাদিম নহে ত বেতস দুখ ভারে হবে নত,
দাঁড়ায়ে পুড়িবে বজ্র আগুনে ভীম তাল তরু মত |
আলি নওয়াজ করিলেন স্থির আল্লা করেন যাহা,
ঋণ শোধ দিয়া মদিনা যাবেন কাটায়ে দেশের মায়া |
হল যদি হায় ফল-ছায়া-হীন বিশাল বিটপী হেন,
পথিকের দয়া লইতে এখানে দাঁড়ায়ে রহিবে কেন ?

পুড়িছে পটকা উড়িছে হাউই ছুটিছে আতসবাজি,
ঘরে ঘরে শত জ্বলিতেছে দীপ হিঁদুর দেয়ালী আজি |
অশ্বে আরোহি’ নওয়াজ সাহেব দেখিতে গেলেন ঘটা,
আঁধার হৃদয়ে আসিয়া পড়িল খর আলোকের ছটা |
ফিরালেন ঘোড়া, দেখিলেন দূরে বিজয় দাঁড়ায়ে আছে,
চমকি’ উঠিল হৃদয় তাঁহার --- কোনো কথা বলে পাছে |
আভূমি আনত সেলাম করিল আসি শেঠ তাড়াতাড়ি,
বলিলেন আলি “সেলাম শেঠজী এই আপনার বাড়ী ?”
বিজয় বলিল,  “হুজুর আজিকে এসেছেন এই পথে,
ছাড়িয়া দিবনা আমার গৃহেতে পদধূলি হবে দিতে |”

বুঝিলেন আলি ঋণের কথাই গোপনে বলিতে একা,
চতুর বিজয় গৃহে লয় যাবে, করিতে এসেছে দেখা |
যা হোক নামিয়া বিজয়ের সাথে গেলেন ভবনে তার,
কি জানি কী বলে এই ভাবি হৃদি কাঁপিল যে কতবার |
সজ্জিত গৃহে চারু কেদারায় বসায়ে তাঁকে হেসে,
বিনয়ের সাথে বিজয় বসিল জানু পাতি ভূমে এসে |
মুগ্ধ নওয়াজ হেরিয়া বিনয়--- দেখেন আলোকরাজি |
মাগেন বিদায়, শেষ হল যবে পোড়ানো আসতবাজি |
বিজয় বলিল ‘’হেরিলেন যাহা সে সব তবু তো ফাঁকি
মোর হাতে গড়া রঙবাতি আলো দেখাতে রয়েছে বাকি |”

এত বলি ধীরে বাক্স হইতে গুটানো কাগজখানি
প্রদীপে ধরিয়া পোড়াতে পোড়াতে সুমিখে ধরিল আনি |
“কী কর, কী কর, বাতি নয় ও যে আমারি সে তমসুক”
“জানি আমি তাহা,” বলিল বিজয় পুলক মাখানো মুখ |
“আপনার স্নেহে জনক পালিত শুনিয়াছি বহুদিন,
শুভ আগমনে করিলাম তাই এই রোশনাই ক্ষীণ |”
‘আজিকে আমার সুখের দেয়ালি,’ বিজয় বলিল হাসি
আলি নওয়াজের বিশাল নয়ন শুধু জলে গেল ভাসি |

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হিন্দু
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
শ্রীজ্যোত্স্নানাথ মল্লিক, শ্রীকৌশাম্বীনাথ মল্লিক ও শ্রীসুধেন্দু মল্লিক সম্পাদিত “কুমুদ
কাব্যমঞ্জুষা”  কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া | ১৯১৫ সালে প্রকাশিত “বীথি” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।


লভি যদি পুনঃ মানব-জন্ম হই যেন আমি হইগো হিন্দু,
যার দেবাগার শ্যামল পাহাড়, যার দেবাসন সুনীল সিন্ধু |
দেবতার নামে হয় নিশি ভোর, দেবতার নামে প্রভাত-কৃত্য,
দেবতার নামে শত্রুমিত্র, পুত্রকন্যা প্রভু ও ভৃত্য |
তীর্থ যাহার নদনদী কূলে, অতল সাগরে অচল শৃঙ্গে,
হরিনাম যার কুঞ্জে কুঞ্জে গায় প্রতিদিন বিহগ ভৃঙ্গে |
যোগ বলে লভি শক্তি বিপুল চাহে না যে রাঙা চরণ ভিন্ন,
দেবতা যাহার বহেন রক্ষে নিয়ত ভকত-চরণ-চিহ্ন |
দেবময় যার অনল অনিল, প্রখর তপন, শীতল ইন্দু,
লভি যদি পুনঃ মানব-জন্ম, হই যেন আমি হইগো হিন্দু |

ভবনে যাহার আসে দশভূজা শ্যামল ধান্য শেফালি গন্ধে,
আগমনীগান গাহে কবিকুল পুরাতন-চির-নূতন ছন্দে |
হরি-দোল-রাসে পূত পূর্ণিমা, পূতা অমানিশি শ্যামার বর্ণে
শ্যামের আভায়, নভ ঘন নীল, মাখা শ্যামরূপ বিটপী পর্ণে |
জোছনা নিশীথে শ্যামের বাঁশীতে উজান যাহার বহায় বক্ষে
আঁধার রাশিতে শ্যামার হাসিতে ভীষণ মশান প্রকটে চক্ষে |
প্রকৃতি যাহার দেবে দেবময়ী, পুষ্প যাহার দেবের ভোগ্য,
ভক্তি যাহার বিতরে মুক্তি চণ্ডালে করে ঋষির যোগ্য |
দেবময় যার অনল অনিল প্রখর তপন, শীতের ইন্দু,
লভি যদি পুনঃ মানব জন্ম হই যেন আমি হইগো হিন্দু |

যার চোখে এই বিপুল বিশ্ব দেবের মিলনে সতত রম্য
দেবতা যাহার মাতা পিতা সখা, নহে অদৃশ্য অনধিগম্য |
কর্ম্মে যাহার শুধু অধিকার, ফল যার দেব চরণে ন্যস্ত,
নিষ্কাম যার ধর্ম সাধনা, সংযমে যার দেবতা ত্র্যস্ত |
ব্রাহ্মণে যার ভক্তি অতুল, গাভীরে যে ঘণে জননী তুল্য,
সন্ন্যাসি পদে লুটায় নৃপতি, বিভবের যেথা নাহিক মূল্য |
নামে রুচি আর জীবে দয়া যার গুরুর দত্ত প্রথম দীক্ষা,
রাজা চলে যায় ব্রজের পথেতে, কাঁধে ঝুলি লয়ে করিতে ভিক্ষা
মোক্ষ না পাই দুঃখ তাহাতে নাহিক আমার নাহিক বিন্দু,
লভিয়া ভক্তি হৃদয়ে শক্তি হই যেন আমি হইগো হিন্দু |

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ত্যাগের জয়
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
শ্রীজ্যোত্স্নানাথ মল্লিক, শ্রীকৌশাম্বীনাথ মল্লিক ও শ্রীসুধেন্দু মল্লিক সম্পাদিত “কুমুদ
কাব্যমঞ্জুষা”  কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া | ১৯১৫ সালে প্রকাশিত “বীথি” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।


হারাইয়া গেছে একশত বিঘা দেবোত্তরের ছাড়,
জানিতে পারিয়া করে কাড়াকাড়ি দয়াহীন জমিদার |
বহু বহু দূরে মহারাজ কাছে বহু দরবার করি,
নব ছাড় পুনঃ পেলে ব্রাহ্মণ রহি বহু দিন ধরি |
কোথায় তাহার পল্লী ভবন কোথা সেই রাজধানী
বাহিরিল দ্বিজ নামাবলী সনে বাঁধিয়া কাগজখানি |
সব পথিকের মাঝে মাঝে চলে চলে অতি সাবধানে
কোন্ পথ দিয়া আসে যে বিপদ বল কে গণিতে জানে |
একদিন এক দস্যুর দল পথিকে করিল তাড়া
প্রাণ ভয়ে ছুটি চলে ব্রাহ্মণ নামাবলী হয়ে হারা |
মূর্চ্ছিত হয়ে পথি পাশে এক তরু তলে রহে পড়ি,
লভিয়া চেতন সব গেল বলি কাঁদে হাহাকার করি |
দেখি তার দশা পথিক জনেক বলে শুন ব্রাহ্মণ
অদূরেতে ওই সাধুর আবাস, হের ওই তপোবন |
তাঁহার কৃপায় হারাইলে মিলে যাও তুমি তাঁর কাছে
তোমার দুঃখ নিবারিতে শুধু তাঁহারই শক্তি আছে |
ব্যাকুল হইয়া গেল ব্রাহ্মণ নিবেদিল মনোব্যথা,
সাধু শুধু হাসি বলিলেন বেটা ‘ছাড় তোর পাবি কোথা ?
ব্রাহ্মণ তুমি শেখ নাই ত্যাগ হায় এত মায়াহত,
ছার ছাড় খানা হারাইয়া ফেলি কাঁদিছ পাগল মত |
হে অবোধ ভাবি দেখ দেখি তুমি হাত পা টা আছে কিনা
দেবতার সেবা করিতে নারিবে রাজার করুণা বিনা |
ঠাকুরের নামে চাহে ভোগ সুখ একিরে দুনিয়াদারী
রাজার দত্ত ছাড় রাজরাজ নিজে লয়েছেন কাড়ি” |
শুনি ব্রাহ্মণ সজল নয়নে কাতর বচনে কয়,
“ধন্য হইনু নূতন দীক্ষা দিলে আজি মহাশয় |”

*        *         *          *        *

এক মাস পরে রিক্ত হস্তে দ্বিজ নিজ গৃহে ফিরে,
রজনী প্রভাতে পত্নীরে সব জানাইল ধীরে ধীরে---
‘পথেতে আসিতে দস্যুর দলে কাড়িয়া লয়েছে ছাড়,
ভিক্ষা করিয়া চালাইব পূজা কোন আশা নাহি আর” |
পত্নী তাহার বলিল, হে প্রভু করিয়ো না কোনো ভয়,
ভকতিতে বাঁধা মদনমোহন সেবা উঠিবার নয় |
ভোগ আমাদের নহে তো ধর্ম্ম চিরদিন জানি মনে,
কালিকার লাগি এক মুঠো চাল রাখিব না গৃহকোণে |
দুইটি পয়সা সঞ্চয় আছে তাহাতেই কিবা কাজ
তুলসীর তলে হরির লুঠেতে বিলাইয়া দাও আজ” |
মহা উল্লাসে বাতাসা হানিতে বলি পুত্রেরে ডাকি,
স্নান করিবারে গেল ব্রাহ্মণ সুখের নাহিক বাকী |
ফিরিয়া আসিয়া আহ্নিক শেষে তুলসী তলায় গিয়া
দেখেন মোদক বাতাসা দিয়াছে কাগজেতে জড়াইয়া |
বলে ব্রাহ্মণ “হায়রে অবোধ এনেছে কাগজে মুড়ে
এ জিনিষ আমি মদনমোহনে নিবেদি কেমন করে ?”
কাগজ হইতে বাতাসা লইয়া না করিয়া নিবেদন
হরি হরি বলে তুলসীর তলে ছড়াইল ব্রাহ্মণ |
পূজা শেষে হায় কাগজের পানে দৃষ্টি পড়িল তাঁর,
দেখেন চাহিয়া একি এ যে তাঁহারি হারানো ছাড় |
বিস্মিত দ্বিজ পত্নীরে ডাকি বসি মন্দির দ্বারে
কাঁদে আর বলে ‘মায়া ডোরে কত বাঁধিবেহে বারে বারে |
যাহার লাগিয়া পথে পথে কাঁদি সারা হইয়াছি খুঁজি,
ছার ছাড় আজ ফিরাইয়া দিয়ে ভুলাইবে মোরে বুঝি |
তুচ্ছ কাগজে উঠিবে না মন, তুমি ধন লহ স্বামী,
ভিক্ষা করিয়া যাপিব জীবন জেনো অন্তরযামী’ |
তৃষিত নয়নে চাহে দুই জনে মদনমোহন পানে
দরদর ধারে ঝরে র্আঁখি ধারা কোন বাধা নাহি মানে |

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লোচনদাস
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
শ্রীজ্যোত্স্নানাথ মল্লিক, শ্রীকৌশাম্বীনাথ মল্লিক ও শ্রীসুধেন্দু মল্লিক সম্পাদিত “কুমুদ
কাব্যমঞ্জুষা”  কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া | ১৯১৫ সালে প্রকাশিত “বীথি” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।


অজয়ের তীরে রহিতেন কবি পর্ণ কুটিরবাসী
লোষ্ট্র সমান দূরে পড়ে কত ত্যক্ত বিভর রাশি |
বৈশাখে নব চম্পক হেরি ভাসিতেন আঁখি নীরে,
মনে পড়িত যে শ্যাম সোহাগিনী চম্পক-বরণীরে |
মাধবী জড়ানো শ্যাম সহকার মধুর যুগল ছবি,
হেরিয়া বিভোর কৃষ্ণ-ধেয়ান কৃষ্ণ পরাণ কবি |
নব ঘন শ্যাম স্মরিতেন মনে হেরি নব জলধরে,
সতিমির রাতি মেদুর পবন কাঁদাত রাধার তরে |
বেদনা বিধুর হৃদয় কবির জ্বালায়ে ভকতি বাতি,
শ্রীরাধার সাথে পথ দেখাইতে রজনীতে হত সাথী |
এ ভরা বাদর মাহ ভাদর ঘনশ্যাম তরুরাজি,
নিতুই করিত ব্রজের ভ্রান্তি নব নব বেশে সাজি |
শরত্চন্দ্র পবন মন্দ কুসুম গন্ধ বনে,
রাসের ছবিটি ফুটায়ে তুলিত নিত্য কবির মনে
কুনুরে হইতে যমুনার ভ্রম অশ্রু পড়িত ঝরি,
সুনীল গগন নীল-বরণেরে রহিত নয়নে ধরি |
রামধনু পানে চাহি ভাবিতেন চূড়া ঘেরা শিখী পাখা ,
মিলাইলে ধনু আঁখি পল্লব হত যে শিশির মাখা |
হিমে কমলিনী হেরি স্মরিতেন বিরহ বিরহ বিধুরা রাধা,
মথুরার পানে চেয়ে চেয়ে কাঁদে নাহি মানে কোন বাধা |
হায় তাঁরি দুখে সমদুখী কবি কাঁদেন সখীর ভাবে,
বুঝান তাহারে ধৈরজ ধর মুরারীরে পাবে |
নিশার বাঁশরী হৃদয়ে কবির কি যে ছবি দিত আঁকি,
উতল ব্যাকুল উঠিতেন জাগি জলে ভরে যেত আঁখি |
মধু মাসে হায় মাধবীরে হেরি মাধবে পড়িত মনে,
হেরি কিংশুক ফাগে লালে লাল কবি হাসে মনে মনে |
আজ বিভাবরী সুখে গোঁয়াইব হেরি বাঞ্ছিত মুখ,
হরি সমাগমে নিমেষে লুকায়ে শত ব্যথা শত দুখ |
কোকিল ডাকুক লাখে লাখে আজ মধু আজি সব মধু,
বহু দিন পর কুঞ্জে তাঁহার ফিরিছেন শ্যাম বঁধু |
প্রাতে পাখি রবে উঠিতেন কবি কুঞ্জ-ভঙ্গ স্মরি,
হারাই হারাই সদা এই ভয় কি দিবস বিভাবরী |
প্রতি গাভী হায় শ্যামলী ধবলী মুগ্ধ কবির চোখে,
রাখাল বালক হেরিয়া বিভোর দেখে হাসে যত লোকে |
শ্যাম ধ্যান জ্ঞান শ্যাম সুখ দুখ সকলি শ্যামের ছবি,
হেরি শ্যামময় হরি অনুরাগী সাধু বৈষ্ণব কবি |

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
কাক
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
শ্রীজ্যোত্স্নানাথ মল্লিক, শ্রীকৌশাম্বীনাথ মল্লিক ও শ্রীসুধেন্দু মল্লিক সম্পাদিত “কুমুদ
কাব্যমঞ্জুষা”  কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া | ১৯১৫ সালে প্রকাশিত “বীথি” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।


কোন কবি হিয়া হয়নি মোহিত শুনিয়া রে তোর ডাক,
হয়নি মুগ্ধ কেহ তোর রূপে ওরে রূপহীন কাক,
তবু চিরদিন ভালবাসি তোরে সুখ প্রভাতের সাথী
তোর ডাক শুনি বুঝিতাম আমি  নাহি আর নাহি রাতি |
টোকা ভরা মুড়ি খই লাড়ু লয়ে খেতাম উঠানে বসি,
বেড়াতিস তোরা চারিপাশে মোর আসতিস কাছ ঘেঁসি,
ছড়ায়ে দিতাম মুঠা মুঠা মুড়ি ক্ষুধা ত যেত না তাতে,
হাত হতে লাড়ু কাড়িয়া নিতিস্ ঠোকায়ে দিতিস হাতে |
বিকালেতে যবে ‘ফুলবাগানের’ ‘বড় আমগাছ’ থেকে
ধীরে ধীরে তোরা উড়িয়া যেতিস নীড় পানে একে একে,
উঠানেতে বসি শুনিতাম আমি দেখিতাম চেয়ে চেয়ে,
অজ্ঞাত এক বিরহ বেদনা হৃদিখানি দিত ছেয়ে |
আজ এ সুদূরে তোর ডাক শুনি, কাঁদিয়া উঠিছে প্রাণ,
জাগিছে নয়নে সেই সুখদিন সেই প্রিয় বাড়ী খান |
মনে পড়ে সেই আগুন পোহানো সূয্যি মামারে ডাকা,
গায়ে দিয়ে সেই ছিটের দোলাই দুয়ারে বসিয়া থাকা |
মনে পড়ে সেই সুখ সাথী দল কত গেছে তার চলি,
কালের পরশে শুকাইয়া গেছে কত অস্ফুট কলি |
ফিরাইয়া আনে কত প্রিয় ছবি কত সুখ-দুখ ব্যথা,
আধভোলা এক পুরানো জগৎ সখা সখীদের কথা |
যেথা দেখি তোরে মনে হয় মোর পুরাতন প্রিয় জনে,
কত জনমের প্রীতি রহিয়াছে গাথা তোমাদের সনে |

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নিষ্কর্মা
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
শ্রীজ্যোত্স্নানাথ মল্লিক, শ্রীকৌশাম্বীনাথ মল্লিক ও শ্রীসুধেন্দু মল্লিক সম্পাদিত “কুমুদ
কাব্যমঞ্জুষা”  কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া | ১৯১৫ সালে প্রকাশিত “বীথি” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।


পাড়াগাঁয়ের অকেজো দল  গ্রামকে তারা ভবন জানে,
জটলা করে এক সাতেতে দিবস নিশি তামাক টানে |
বকুল তলে চাটাই পেতে সারা দুপুর খেলায় পাশা,
চীত্কার এবং হাস্য করে, সংশোধনের নাইক আশা |
রাত্রে কবির আখড়া দেওয়া, খোল বাজিয়ে নৃত্য করা,
মতিরায়ের নূতন পালা এক সাথেতে সবাই পড়া |
জরুরি কাজ এসব তাদের, বকুনি খায় গেলেই গৃহে,
তবু তাদের ভক্ত আমি, মুগ্ধ আমি তাদের স্নেহে |

                        ( ২ )
বরযাত্রী যায় তারাই আগে, বরযাত্রীদের ঠকায় তারা
নষ্টচন্দ্রে রাত্রি সারা ঘুরে বেড়ায় সকল পাড়া |
তারাই করে পরিবেশন ভোজে কাজে তারাই আগে
অষ্টপ্রহর তারাই করে, মেলায় চাঁদা তারাই মাগে |
তারাই করে নিত্য পূজা, তারাই ত যায় নিমন্ত্রণে
আত্মীয়তা তারাই রাখে আপন করে সকল জনে |
সকল লোকের কার্য্য করে অকেজো তাই সবাই বলে,
স্মরি তাদের গুণের কথা ভাসি আমি নয়ন জলে |

                         ( ৩ )
গ্রামে কোন অতিথ এলে আদর করে তারাই ডাকে,
গ্রামের রোগী দুখীর খবর সবার আগে এরাই রাখে |
রাত দুপুরে ডাকলে পরে লম্ফ দিয়ে তারাই আসে
সম্পদেতে সুখের সুখী,  মুক্ত প্রাণে তারাই হাসে |
গ্রামবাসীদের বিপদ কালে তারাই আগে কোমর বাঁধে,
গ্রামের মৃত গঙ্গা লভে চড়ে কেবল তাদের কাঁধে |
গ্রামে গ্রামে হে ভগবান অকেজো দল এমনি দিয়ো,
তারাই গ্রামের গৌরব যে, আমার পরম বন্দনীয় |

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
তীর্থযাত্রা
কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক
শ্রীজ্যোত্স্নানাথ মল্লিক, শ্রীকৌশাম্বীনাথ মল্লিক ও শ্রীসুধেন্দু মল্লিক সম্পাদিত “কুমুদ
কাব্যমঞ্জুষা”  কাব্যসংকলন থেকে নেওয়া | ১৯১৫ সালে প্রকাশিত “বীথি” কাব্যগ্রন্থের
কবিতা।


এবার পুজার বন্ধে করিলাম মনে
যাব বন্ধুর সাথে তীর্থ পর্যটনে |
শুধু সংসারের চিন্তা, সহরের গোল
করিয়াছে ঝালাপালা, লভি শান্তি কোল
জুড়াই দুদশদিন |  শুভদিন দেখে
বাহিরিয়া বাসা হতে কাশী অভিমুখে
নামিলাম গুস্করায়, বন্ধু গৃহ হয়ে
যেতে হবে |  যাব সাথে তাহারে যে লয়ে |
বেলা অপরাহ্নে এক ক্ষুদ্র গ্রামে আসি
জানিলাম সেই গ্রাম পথিকে জিজ্ঞাসি |
করিতে বন্ধুর নাম জনেক আসিয়া
সযত্নে সে গৃহ মোরে দিল দেখাইয়া |
দেখিলাম বন্ধু মোর ঘাস লয়ে হাতে
বাছুর গুলিরে নিজে দিতেছেন খেতে |
গৃহে ঢুকিবার পথে যে দিকেতে চাই
কেবল উঠান জোড়া ধানের মরাই |
প্রকাণ্ড খড়ের ‘পল’ পুষ্ট গাভী দল
রয়েছে গোয়ালে বাঁধা বলদ সকল |
সারি দিয়া বাঁধা আছে |  দূরে জন দুই
মজুর আপন মনে পাকায় বাবুই |
কাছেই পুকুর এক চারিদিকে গাছ
চলেছে বালক দল ধরিবারে মাছ |
উঠানে নাহিক গাছ এক পাশে খালি
করবী দুঝাড় আর একটি সেফালি |
দূরেতে নিকানো তল তুলসীর গাছে
গৃহস্থের যত্নটুকু সব পড়িয়াছে |
হেরিয়া আমারে বন্ধু জোরে হাত টানি
লয়ে গিয়ে বসাইল মার কাছে আনি |
তখন বন্ধুর মাতা জপাহ্নিক সারি
উঠেছেন, দেখি মোরে, আসি তাড়াতাড়ি,
বলিলেন, এসো বাবা ভাল আছ বেশ,
পথেতে বাছার কত হইয়াছে ক্লেশ |
করাইয়া জলসেবা অর্দ্ধ ঘন্টা পর
ডাকিলেন স্নেহভরে জননী তত্পর |
কি রন্ধন !  সে যেন গো দেবের প্রসাদ,
খেয়েছি সে কতদিন আজো খেতে সাধ |
তারপর সুধালেন দাসীকে ডাকিয়া
ও পাড়ার ‘বিধু’  ‘শ্যামা’  গেছে ত খাইয়া ?
ভাত লয়ে গেছে হরি ?  অম্বিকের মেয়ে,
পড়েছিল এতদিন আহা জ্বর হয়ে,
আজিকে পাইবে পথ্য, সরু চালগুলি
দিয়ে ত এসেছ তারে ?  রেখেছিনু তুলি |
রাগিয়া কহিল দাসী, খেয়েছে সবাই,
ইচ্ছা হয় খাও তুমি, এ এক বালাই |
শুনিলাম অনাহারী এখনো জননী,
গ্রামের না খাওয়া হলে খান না আপনি |
বলেন, শুধালে, বাছা লক্ষ্মী যদি রয়
সবারে খাওয়ায়ে তবে নিজে খেতে হয় |
বাহিরে আসিয়া বসি ভাবিলাম মনে
হেন পুণ্য-কাশী কোথা মিলিবে ভুবনে |
সাক্ষাৎ মা অন্নপূর্ণা দেখিলাম যবে
বৃথা বারাণসী আর কেন যাব তবে |
ভক্তি ভরে ক্ষুদ্র গ্রামে তিন দিন ধরি,
জীবন্ত দেবীর সেই মূর্ত্তি পূজা করি,
তীর্থ ভ্রমণের কথা বন্ধুরে না বলি
লভি তীর্থ ফল, গৃহে আসিলাম চলি |

.              *************************              
.                                                                                 
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর