| নবীনচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের কবিতা |
| শৈশব স্বপন [ "ভূবনমোহিনী প্রতিভা" (১ম ভাগ, ১৮৭৫) থেকে নেওয়া ] ১ আজ কেন অকস্মাৎ সুদূর শৈশবস্বপ্ন হইল স্মরণ? দারিদ্র্য অনল যার, হৃদে জ্বলে অনিবার, সংসারে কার্যশ্রমে ক্লান্ত অনুক্ষণ! ভয়ঙ্কর ঋণদায়, প্রতিবাসী শত্রু তায়, অস্থির উন্মত্ত প্রায় হয়েছে যেজন! সে কেন দেখিল স্বর্গ সুখের স্বপন? ২ বহুদিন ঘন ঘটা, দুর্যোগী গগন আর আঁধার ধরণী,--- যে জন দেখেছে হায়! ক্ষণস্থায়ী চপলায়, কি সুখ? তাহার মাত্র ধাঁধে আঁখিমণি ; যে পথিক্ দিক্ ভ্রমে, নিদারুণ পথশ্রমে প্রান্তরেতে ক্লান্ত, তাহে তমিস্রা রজনী, আলেয়া প্রতারে তারে কেন তা না জানি! ৩ হায়! সে সুখের দিন সময় সাগর গর্ভে হয়েছে মগন | নাই সে অবস্থা আর, সেই সঙ্গী খেলিবার, নাই জননীর কোল---স্বর্গ-সিংহাসন! বসন্ত কুসুমরাশি, শরতের পূর্ণশশী, মলয়ার বায়ু, গঙ্গাজল সম মন ছিল যে পবিত্র, এবে চিন্তার ভবন! ৪ দুঃখাঘাত প্রতিঘাতে--- নহে তা কোমল কিশলয় সম আর! নহে ত পাষাণ মত, তা হলে ফাটিয়া যেত, কি জানি কেমন তবে অন্তর আমার! হৃদয়! কিসের তরে, বিষাদ সাগর নীরে, ঢেলেছে পবিত্র মূর্তি তুমি আপনার? ভোগতৃষ্ণা, অবিতৃপ্তি আছে কি তোমার? ৫ তাও নাই, তবে কেন--- যে সংসার ছিল মোর প্রমোদ উদ্যান, ছিল শান্তি সুখ ধাম, এবো তার পরিণাম, শ্বাপদ সঙ্কুল ভীম গহন সমান? হৃদয়ের প্রিয়তর, নয়নের প্রীতিকর, কুসুমিত লতাকুঞ্জ ফলে নম্রমান ছিল, তাও এবে বিষবল্লরী বিতান? . **************** . সূচীতে . . . মিলনসাগর |