শব্দের শরীর ছুঁয়ে গড়ে তুলি মানস প্রতিমা তিল তিল অক্ষর বিন্যাসে ফুটে ওঠে অপরূপ রূপ তিলোত্তমা । # শব্দের শরীর ছুঁয়ে আনি আমি বৃষ্টিধারা সাহারার বুকে ফুল না ফোটাতে পারি দিতে পারি বসন্ত আশ্বাস । # শব্দের শরীর ছুঁয়ে আগুন জ্বালাতে পারি চকমকি সে শব্দ পাথরে, কিংবা শব্দের অস্থিতে গড়া সে অমোঘ শব্দাস্ত্রে ধ্বংস হোক্, পুড়ে যাক্ বঞ্চনার দীর্ঘ ইতিহাস ।
শব্দ কখন নিঃশব্দে ছুঁয়েছে আমাকে সে কথা বুঝিনি কখনও, কখন যে ভেসে গেছি শব্দ মায়াজালে অনুভব করিনি কখনও । # কখন যে শব্দভেদী বান-বিদ্ধ আহত পাখির মতো ঝাপটিয়েছি ডানা শব্দ কখন এসে নিঃশব্দে তুলেছে ঝড়ৃ— অন্তর গভীরে, সে কথা হয়নিকো জানা । # শব্দের কাছে হার মেনে গেছি গুটিকয় শব্দামৃতের জন্য ভিক্ষা চেয়েছি, কখনও বা হারিয়ে গিয়েছি আমি অতলান্ত শব্দ-পারাবারে জানিনা তথনও ।
# মনের অজান্তে কখন পৌঁছে গেছি বহুদূরে বহু উচ্চতার সে শব্দ মিনারে শব্দ কখন নিঃশব্দে ছুঁয়েছে আমাকে সে কথা বুঝিনি কখন ও ।
দূর থেকে চোখে চোখে কত হয় কথা মনে হয় কত যুগ চেনা তবু নীরবতা । # সে ভাষা বোঝে না কেউ সে ভাষা জানে না কেউ জানেনাতো চক্ষুবিশারদ জানে শুধু চোখ # শিশির ভেজা সে চোখের ভাষা হৃদয় গভীরে তোলে সুনামির শোক # চোখের তারায় তারায় অনির্বচনীয় কথা, সাগরের চেয়ে বেশি ঢেউ বেশি নীরবতা ।
ঝরা পালকের মত ঝরে গেছে কত নিঃসঙ্গ রাত, বসন্ত কখন এসে খালি হাতে ফিরে গেছে অনুভব করিনি কখনও । # হেমন্তের দুরন্ত দাপট অন্তর সত্তায় নিশে ছিল কুয়াশার ঘন আস্তারণে বসন্তকে চিনিনি তখন । # যখন চিনলাম, তাকে জানলাম আমার শরীর থেকে কামনার সব পালক ঝরে গেছে ঝরা পালকের কান্না তাই আমার সমগ্র হৃদয় জুড়ে ।
ও মেয়ে তোর শরীর জুড়ে অনেক কথা, অনেক গান, অনেক সাগর, অনেক নদী অনেক সে ঢেউ, অনেক বাণ । # তোর শরীর ভাঁজে কাব্য-কথা শরীর তো নয় শিল্পকলা লুকিয়ে রাখিস ছন্দগাথা যা বলি, তা কমই বলা । # কেমন করে লিখব আমি আসে না যা কলম মুখে, কল্পনা যে হার মেনে যায় ওরূপ দেখি পরমসুখে ।