কবি সতীশচন্দ্র রায় - এই নামে তিনজন মনীষীকে আমরা পাই। তাঁদের মধ্যে, তৃতীয় সতীশচন্দ্র রায় (২৪.৫.১৯৮৮ - ১৯.৪.১৯৬০) ছিলেন শ্রীহট্টের শিক্ষাবিদ।
এই পাতার কবি সতীশচন্দ্র রায়কে আমরা দ্বিতীয় সতীশচন্দ্র রায় বলে উল্লেখ করছি।
মিলনসাগরে যাঁকে আমরা প্রথম কবি সতীশচন্দ্র রায় বলে সম্বোধন করেছি, তিনি ছিলেন পদকর্তা বৈষ্ণদাস সংকলিত ও বিরচিত, ৩১০১টি পদবিশিষ্ট, “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” নামের সর্ববৃহৎ বৈষ্ণব পদাবলীর সংকলনের সম্পাদক।
এই পাতার কবি, অর্থাৎ দ্বিতীয় কবি সতীশচন্দ্র রায় বা সতীশচন্দ্র রায়-২ এর আদি নিবাস ছিল অবিভক্ত বাংলার বরিশালের উজিরপুরে। বি.এ. পড়ার সময় তিনি রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য লাভ করেন এবং পড়া শেষ করার আগেই শান্তিনিকেতন ব্রহ্মবিদ্যালয়ে অধ্যাপনার কাজে যোগ দেন।
এই কবিকে নিয়ে রবীন্দ্রনাথের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . ১৯০৪ সালে, মাত্র ২২ বছর বয়েসে, কবির মৃত্যুর পরে রবীন্দ্রনাথ তাঁর লম্পর্কে বলেছিলেন . . . “সতীশ বঙ্গসাহিত্যে যে প্রদীপটি জ্বালাইয়া যাইতে পারিল না তাহা জ্বলিলে নিভিত না।”
তাঁর কবিতা ছন্দমিল হয়েও শব্দের ঝংকারে ও মেজাজে একালের আধুনিক কবিতার পূর্বসুরী বললে অত্যুক্তি করা হবে না! রবীন্দ্রনাথ তাঁর এই উক্তির মধ্যে দিয়ে কি সেই দিকেই নির্দেশ করেছিলেন!?
এই কবিকে নিয়ে শিশিরকুমার দাশের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . ২০০৩ সালে প্রকাশিত, শিশিরকুমার দাশের “বাংলা সাহিত্য সঙ্গী” গ্রন্থে তিনি এই (দ্বিতীয়) সতীশচন্দ্র রায় সম্বন্ধে লিখেছেন . . . “তাঁর স্বল্প কয়েকটি লেখা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। গুরুদক্ষিণা (১৯০৪) মৃত্যুর পর প্রকাশিত হয়। সত্যেন্দ্রনাথ দত্তকে লেখা কয়েকটি চিঠিতে (বিশ্বভারতী পত্রিকা, ষষ্ঠ বর্ষ, তৃতীয় সংখ্যা।) তাঁর সাহিত্য রুচি ও আদর্শ প্রকাশিত। চণ্ডালী (বঙ্গদর্শন মাঘ ১৩১০), দুয়োরাণি (বঙ্গদর্শন, জ্যৈষ্ঠ ১৩১০) প্রভৃতি কাহিনী কাব্যে তাঁর প্রতিভার নিদর্শন স্পষ্ট।”
১৯০৪ এর “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় ( বৈশাখ ১৩১১ সংখ্যা ) “স্বর্গীয় সতীশচন্দ্র রায়”-এর নামে দুটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল ঠিক তাঁর মৃত্যুর পরেই। আমরা সেই দুটি কবিতা এবং চৈত্র ১৩৬৩ বঙ্গাব্দে ( এপ্রিল ১৯৯১ ) প্রকাশিত, প্রমথনাথ বিশী ও তারাপদ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত "কাব্যবিতান" কাব্য সংকলন থেকে আরও দুটি কবিতা এখানে তুলে দিলাম।
সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . সুবোধচন্দ্র সেনগুপ্ত ও অঞ্জলি বসু, তাঁদের সম্পাদিত "সংসদ বাঙালি চরিতাভিধান"-এ লিখেছেন . . . "সাহিত্য-রসিক সতীশচন্দ্র গদ্য ও পদ্য রচনায় তাঁর অপূর্ব প্রতিভার পরিচয় রেখে গেছেন। দ্বিজেন্দ্রনাথের স্বপ্ন প্রয়াণ-এর এবং কবিগুরুর ক্ষণিকার ওপর তিনি যে নিবন্ধ লিখেছিলেন সমালোচনা সাহিত্যে তা বিশেষ তাত্পর্যপূর্ণ।"
তাঁর মৃত্যুর পরে ১৯১২ সালে, তাঁর গদ্য ও পদ্য সংগ্রহ সতীশচন্দ্রের রচনাবলী নামে প্রকাশিত হয়।
মিলনসাগরে তিন জনের মধ্যে দুই সতীশচন্দ্র রায়ের কবিতা - পাতার উপরে . . . এই নামে তিনজন মনীষীকে আমরা পাই। তাঁদের মধ্যে, তৃতীয় সতীশচন্দ্র রায় ( ২৪.৫.১৯৮৮ - ১৯.৪.১৯৬০ ) ছিলেন শ্রীহট্টের শিক্ষাবিদ। তিনি শেষ জীবনে হরিদাস নামানন্দ নামে সাধক হয়ে গিয়েছিলেন। কর্মজীবনে তিনি লাহোর, ঢাকা, কলকাতা (সিটি কলেজ), শ্রীহট্ট, গৌহাটি প্রভৃতি স্থানের বিভিন্ন কলেজে শিক্ষকতা করেছেন। তাঁর রচনাসম্ভারে, ভগবদ্গীতার ব্যাখ্যা সহ বিভিন্ন ধর্ম-ভিত্তিক গ্রন্থের উল্লেখ থাকলেও, তাঁর কোনো কাব্যগ্রন্থ ছিল কি না সে বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো তথ্য নেই। যে কবিতা আমরা এই পাতায় প্রকাশিত করছি, সেই কবিতা তিনিই যে লেখেন নি, এ কথা আমরা জোর দিয়ে বলতেও পারছি না। কিন্তু প্রাপ্ত তথ্য সেই দিকেই নির্দেশ করছে। তাই মিলনসাগরে, এখনও, এঁর কোনো কবিতার পাতা নেই।
দ্বিতীয় সতীশচন্দ্র রায় ( ১৮৮২ - ১৯০৪ ), ছিলেন রবীন্দ্রনাথের সান্নিধ্য লাভ করা পদ্য ও গদ্যকার। এপ্রিল ১৯০৪ এর “বঙ্গদর্শন” পত্রিকায় ( বৈশাখ ১৩১১ সংখ্যা ) “স্বর্গীয় সতীশচন্দ্র রায়”-এর দুটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল ঠিক তাঁর মৃত্যুর পরেই। তাই বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় ১৯০৪ সালের পূর্বে প্রকাশিত সতীশচন্দ্র রায় নামের কবির কবিতা আমরা বাদ দিয়ে দিয়েছি। কারণ যেটুকু তথ্য আমাদের কাছে রয়েছ তার উপর ভিত্তি করে, ওই কবিতা, কোন্ সতীশচন্দ্রের, তা এখন আর আমাদের পক্ষে বলা সম্ভব হবে না। আমরা তাই, ১৯০৪ সালের অনেক পরে, বিজয়চন্দ্র মজুমদার সম্পাদিত “বঙ্গবাণী” পত্রিকায় প্রকাশিত (১৯২৫ সালে), সতীশচন্দ্র রায়ের মাত্র দুটি কবিতাকে এখানে তুলেছি শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর সম্পাদক, সতীশচন্দ্র রায়ের কবিতা হিসেবে।
মিলনসাগরে যাঁকে আমরা প্রথম কবি সতীশচন্দ্র রায় বলে সম্বোধন করেছি, তিনি ছিলেন পদকর্তা বৈষ্ণদাস সংকলিত ও বিরচিত, ৩১০১টি পদবিশিষ্ট, “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু” নামের সর্ববৃহৎ বৈষ্ণব পদাবলীর সংকলনের সম্পাদক। শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডে প্রকাশিত তাঁর জীবনীতে রয়েছে যে, তিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের মৃত্যু উপলক্ষ্যে, “দেশবন্ধু প্রশস্তিঃ” নামে একটি শ্লোক লিখে তাঁর হিন্দী পদ্যানুবাদ সহ মহাত্মা গান্ধীর কাছে পাঠিয়েছিলেন। ঠিক ওই সময়কালে, বঙ্গদর্শন পত্রিকার শ্রাবণ ১৩৩২ (অগাস্ট ১৯২৫) সংখ্যায় প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায়ের লেখা, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন কে উত্সর্গ করা “শ্রদ্ধাঞ্জলি” নামের একটি কবিতা, আমরা পেয়েছি। এই কবিতাটি দ্বিতীয় সতীশচন্দ্র রায়ের পক্ষে লেখা সম্ভব নয় কারণ তিনি তার ২১ বছর আগেই পরলোক গমন করেছিলেন। যিনি দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জনের মৃত্যুতে, সংস্কৃতে ও হিন্দীতে কবিতা লিখে মহাত্মা গান্ধীকে পাঠাতে পারেন, তিনি বাংলা ভাষায়, একই বিষয়ে একটি কবিতা লিখে সেকালের সম্ভ্রান্ত পত্রিকা “বঙ্গবাণী”-তে পাঠিয়েছেন, এতে বিস্মিত হবার মতো আমরা কিছুই দেখছি না।
আমরা মিলনসাগরে কবি সতীশচন্দ্র রায়ের কবিতা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে এই প্রচেষ্টার সার্থকতা।
কবির একটি ছবি ও তাঁর জীবন সম্বন্ধে আরও তথ্য যদি কেউ আমাদের পাঠান তাহলে আমরা, আমাদের কৃতজ্ঞতাস্পরূপ প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো। আমাদের ঠিকানা - srimilansengupta@yahoo.co.in
সতীশচন্দ্র রায় নামের দুজন কবি পাই। প্রথম সতীশচন্দ্র জন্মগ্রণ করেন ১৭. ১০. ১৮৬৬ তারিখে। দ্বিতীয় সতীশচন্দ্র জন্মগ্রহণ করেন ১৮৮২ সালে। এই পাতা দ্বিতীয় সতীশচন্দ্র রায়ের কবিতার পাতা প্রথম সতীশচন্দ্রের পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন