কবি শম্ভু মিত্রর কবিতা
ও কুঁচবরণ কন্যা তোমার মেঘবরণ চুল
কবি শম্ভু মিত্র
১৯৭৮ সালে শম্ভু মিত্র রচিত “চাঁদ বণিকের পালা”-র, প্রথম পর্বের কবিতা বা গীত।


ও কুঁচবরণ কন্যা তোমার মেঘবরণ চুল,--
তোমারি তরে যে কন্যা ( আমার ) সকলি বেভ্ ভুল,--
মরি, হায়,  হায়,   হায়---

[ সকলে দোয়ার ধরে ]

সকলে॥        স্বপনে কাঁপন লাগে জর জর গায়ে
.                       মরি, হায়, হায়, হায়—
শিব॥                ও চারুমতী কন্যা, ---- তোমার কটাক্ষে চমক,
.                অঙ্গেতে আগুন জ্বালে নিতম্ব ঠমক---
.                        মরি, হায়, হায়, হায়—
সকলে॥        স্বপনে কাঁপন লাগে জর জর গায়ে
.                       মরি, হায়, হায়, হায়—
শিব॥                ও চারুমতী কন্যা তুমি
.                       এসো মোর ঘরে
.                দিনেতে ব্যঞ্জন রান্ধো
.                       রাত্রে রান্ধো মোরে
সকলে॥               মরি, হায়, হায়, হায়---
.                স্বপনে কাঁপন লাগে জর জর গায়ে
.                       মরি, হায়, হায়, হায়—
শিব॥                ও চারুমতী কন্যা--- তুমি রূপেতে অতুল—
.                তোমারে গড়িয়্যা বিধি হয়্যেছে বাতুল---
সকলে॥               ও বিধি, হয়েছে বাতুল----।
শিব॥                নিজেই পড়িয়্যা লোভে ( তোমার ) বর নাহি গড়ে
.                আমাদের সকলেরে খুঁত দিয়া ভরে—
.                        মরি, হায়, হায়, হায়।
সকলে।।                  মরি, হায়, হায়, হায়---
শিব॥                মেনোনা বিধির কথা
.                        ও ব্যাটা ত্যঁদড়----
.                হিংসায় মোদের করে দেখিতে ব্যাদড়---
সকলে॥                 মরি, হায়, হায়, হায়---।
.                স্বপনে কাঁপন লাগে জর জর গায়ে
.                        মরি, হায়, হায়, হায়----।
শিব॥                ও চারুমতী কন্যা, তুমি নিম্নমুখে চাও
.                করুণা করিয়্যা কন্যা, আমাতে তাক্যাও
.                ( ওগো ) সর্বস্ব উজাড়ি দিব, মোর পানে চাও
.                আগুন নিভ্যায়া তুমি প্রেমবারি দাও।
.                বিজুরি থামায়্যা তুমি মোর পানে চাও
.                কটাক্ষ গভীর করো মোর পানে চাও ----

.     
                 ************************    
.                                
                                               সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
পাতালবাসিনী মাগো আন্ধার নাগিনী
কবি শম্ভু মিত্র
১৯৭৮ সালে শম্ভু মিত্র রচিত “চাঁদ বণিকের পালা”-র, প্রথম পর্বের কবিতা বা গীত।


.                [ প্রণাম করে। তারপর দুই হাত জোড় ক’রে স্তব করে ]

সনকা।                পাতালবাসিনী মাগো আন্ধার নাগিনী।
.                চৌদিকে ছায়াতে ঘোরে তোমার বাহিনী॥
.                যুক্তির অতীত তুমি, জ্ঞানের অতীত।
.                তমসার রূপে মাগো, আলোর অতীত॥
.                যা কিছু গণনা করি মিথ্যা হয়্যা যায়।
.                অকারণে দিনমানে আন্ধার ঘনায়॥
.                যা দেখি তা নাই নাই, দিবসে আঁধার।
.                আচম্বিতে শিরোপরে দংশন তোমার॥
.                তুমি মা অজ্ঞেয় দেবী, নিয়মাপহারী।
.                ভক্তেরে বাঁচ্যাও তুমি, ওগো বিষহরি॥

.                      ************************    
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
শুনরে নাইয়া বন্ধু
কবি শম্ভু মিত্র
১৯৭৮ সালে শম্ভু মিত্র রচিত “চাঁদ বণিকের পালা”-র, প্রথম পর্বের কবিতা বা গীত।


[  আলো নিভে যায়   শিবদাসের কন্ঠের গান জুড়িয়া তুলে নেয়  ]

জুড়িদের গান॥

.        ও----
.        শুনরে নাইয়া বন্ধু,
( তুমি ) দিয়া জ্বালি রাখো,
আন্ধার সাগরে তুমি হাল ধর্ব়্যা থাকো।
.            ( তুমি ) দিয়া জ্বালি রাখো॥
বইঠা চাল্যাও ( সবে ) বইঠ্যা চাল্যাও
প্রাণের নাইয়া, তুমি, পাল তুল্যা দাও
আন্ধার মাঝারে তুমি, দিয়াটি জ্বালাও॥

.                      ************************    
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
ঝড় আসে ঝড় আসে
কবি শম্ভু মিত্র
১৯৭৮ সালে শম্ভু মিত্র রচিত “চাঁদ বণিকের পালা”-র, প্রথম পর্বের কবিতা বা গীত।


[ আলো ক্ষীণ হ’য়ে নিভে যায়। হঠাৎ গুরু-গুরু আওয়াজের সঙ্গে ঢোল নাকাড়া ঝাঁঝ মৃদঙ্গ
ইত্যাদি বেজে ওঠে। জুড়িরা গান ধরে ]

জুড়িদের গান॥
.        ঝড় আসে, ঝড় আসে,
.        প্রচণ্ড ঝড় আসে,
.        নৌকা সাম্ হাল দেও কাণ্ডার॥
গগন ঢাকিল মেঘে           পবন চলিল বেগে
.        সমুদ্র দেয় যেন হুঙ্কার
.        নৌকা সাম্ হাল দেও কাণ্ডার
( ও )         পার করো, পার করো, নাইয়া,
থর-থর করে প্রাণ             কী কব়্যে যে পাব ত্রাণ
.        নিবিড় আন্ধার এলো ছাইয়া,
.        পার করো, পার করো, নাইয়া॥
বরিষে মুষল ধারা              জনে-জনে দিশাহারা
.        কালীদহে পাক দেয় চক্রে।
আথালি পাতালি করে               ঢেউ পরে ঢেউ পড়ে
.        লেজের ঝাপট্ মারে নক্রে।
.        কালীদহে পাক দেয় চক্রে ॥
( ও )         পার করো, পার করো, কাণ্ডার
.        চারিভিতে এলো ছেয়ে আন্ধার।
.        নৌকা সাম্ হাল্ দেও কাণ্ডার॥
.        পার করো, পার করো, কাণ্ডার।
.        কাণ্ডার !  কাণ্ডার !!

.                      ************************    
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
ঘরের সন্ধানী তুমি ঘর পেলে না
কবি শম্ভু মিত্র
১৯৭৮ সালে শম্ভু মিত্র রচিত “চাঁদ বণিকের পালা”-র, দ্বিতীয় পর্বের কবিতা বা গীত।


[ সদাগর স্বপ্নোথ্বিতের মতো চারিদিকে চেয়ে উঠতে যায়, কিন্তু কম্পিত হাতথেকে তার
হেতালের লাঠি প’ড়ে যায়, চাঁদ অবলম্বনহীনের মতো পুনরায় ব’সে প’ড়ে হঠাৎ অস্ফুটে
‘হায় হায়’ বলে উঠে দুই হাতে মুখ ঢাকে। মঞ্চে আলো নিভে যায়। জুড়িরা গান শুরু করে -- ]

ঘরের সন্ধানী                তুমি ঘর পেলে না
তীরের সন্ধানী                 তুমি তীর পেলে না
জন্মিয়া যে ঘর পাও                 হৃদয়ে ভরে না তাও
নিজে যারে বান্ধো তাও ঘর হোল না
ঘরের সন্ধানী তুমি ঘর পেলে না ----।
আপনার বান্ধা ঘরে                আপনি বন্ধনে পড়্যে
( মানুষ ) পরবাসী হয়্যা বাঁচে, ঘর মেলে না
ঘরের সন্ধানী তুমি ঘর পেলে না ---। ইত্যাদি

.                      ************************    
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
এ ভ্রম ভাঙ্গাও মাগো ভাঙ্গো অহঙ্কার
কবি শম্ভু মিত্র
১৯৭৮ সালে শম্ভু মিত্র রচিত “চাঁদ বণিকের পালা”-র, দ্বিতীয় পর্বের কবিতা বা গীত।


[  সামনের আলো নিভে যায়। পাটাতনের পিছনের দিকটায় সনকা ও পুরনারীরা গান
গাইতে গাইতে ঢোকে। মাথায় কুলোর ডালায় প্রদীপ, মনসার মূর্তি ইত্যাদি। দু-একজন
দন্ডী দিতে-দিতে চলেছে। তার মধ্যে সনকা ]

সকলে ॥        এ ভ্রম ভাঙ্গাও মাগো, ভাঙ্গো অহঙ্কার।
.                আলোতে আবিল চক্ষু করো অন্ধকার॥
সনকা  ॥        ( দন্ডী দিয়ে উঠে ব’সে )
.                আন্ধারে জনম মাগো পুনঃ আন্ধারে বিলয়
.                তবু মানুষের মনে শুধু আলোতে প্রত্যয়॥

.                                [ সনকা আবার দন্ডী দেয় ]

সকলে॥                এ ভ্রম ভাঙ্গাও মাগো,  ভাঙ্গো অহঙ্কার।
.                আলোতে আবিল চক্ষু করো অন্ধকার॥
সনকা॥                ( আবার দন্ডীর পরে )
.                প্রদীপে আন্ধার মাঠে অন্ধ করে আরো
.                দীপ না বুজালে দৃষ্টি নাহি চলে কারো॥
সকলে॥                এ ভ্রম ভাঙ্গাও মাগো, ভাঙ্গো অহঙ্কার।  ইত্যাদি।

.                      ************************    
.                                                                               
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর