কবি সুদীপ মণ্ডলের গান
*
আমি দূর বলাকা মেলি পাখা
কবি সুদীপ মণ্ডল

আমি দূর বলাকা মেলি পাখা
অসীম দিগন্তে,
কেন তুমি ডাক দিয়ে যাও
আজি বসন্তে।

এই বসন্ত রঙ লাগলো চোখে
সে রঙে রাঙাবো তোমার মুখে,
তুমি কেন কেঁদে চলো
বসি দুয়ার প্রান্তে।

তুমি কেঁদো না আমি যাবো না
তোমাকে ছেড়ে,
তোমার ভালোবাসার কাছে কভু
যাবো না হেরে।

যতই উঠুক ঝড় বাদল
ফেলো নাকো চোখের জল,
যেথাই থাকি ফিরবে পাখি
দিবস অন্তে।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ও চাবিওয়ালা আমার
কবি সুদীপ মণ্ডল

ও চাবিওয়ালা আমার
তালা খুলে দাওনা,
বন্ধ ঘরে একা আঁধারে
ঢুকতে পারিনা।

ফোঁটা ফোঁটা ঢালবে তেল
হয়ো নাকো তুমি বেআক্কেল,
এক ফোঁটা তেলও যেন
বাইরে পড়ে না।

ধীরে ধীরে ঘোরাবে চাবি
তালা যেন না খায় খাবি,

ওরে ও দরদী চাবিওয়ালা
আমি নারী আমি অবলা,
আমার বুঝি লাজ নাই
শরম করে না।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হাতির কুলোর মতো কান
কবি সুদীপ মণ্ডল

হাতির কুলোর মতো কান
হাতির কানটি ধরে টান।

হাতির থামের মতো পা
হাতি ছুটতে পারে না।
ছুটতে গেলে পিছন থেকে
কে দেয় পিছুটান।

হাতির লেজটি হয় ছোটো
হাতি হেলে দুলে হাঁটো।

হাতির চোখটি ছোটো তায়
হাতি মিটি মিটিয়ে চায়।
তারার মতো চেয়ে চেয়ে
ধরে মজার গান।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মহাবিশ্ব যদি ভরাট হতো
কবি সুদীপ মণ্ডল

মহাবিশ্ব যদি ভরাট হতো
মহাশূন্য নাহি থাকতো,
কেমন করে ঘুরতো তবে
গ্রহ তারা অবিরত।

কেমন করে উঠতো দূরে
চাঁদ গগনে,
কেমন করে ভরতো ভুবন
বসন্ত গানে।
রাজহংসী কেমনে হতো
হংস মিথুনে রত।

হৃদয় খানি শূন্য করে
তাতে তাজমহল গড়ো,
বিশ্বদেউল গড়ে তুলে
অশ্রুজলে ফুলে ভরো।

কেমন করে উড়তো পাখি
ফুল ফুটতো শাখি শাখি,
মহাবিশ্ব ধরা আঁধার ভরা
আলো হতে চির বিরত।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মন্দ লোকের মন্দ কথায়
কবি সুদীপ মণ্ডল

মন্দ লোকের মন্দ কথায়
কান দিও না ভাই,
সত্য পথে সরলরেখায়
তোমার চলা চাই,

ফুলেও তো কাঁটা থাকে
তবুও কি ফুল নাহি ফোটে,
কলঙ্ক দাগ চাঁদের মুখে
তবুও কি চাঁদ নাহি ওঠে,
বুকে হাত দিয়ে তোরা
বলনা সবাই।

কেউ কভু কহিলে মন্দ কথা
দিওনা কো তার বুকে ব্যাথা।

হাসি মুখে সব মেনে নিও
ব্যথার বদলে প্রেম ফিরিয়ে দিও,
সদা সবে মিলে যাবো হেসে খেলে
যদি কভু তার দেখা পাই।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রতিদিন তোর কাছে যাই
কবি সুদীপ মণ্ডল

প্রতিদিন তোর কাছে যাই
ফিরে ফিরে আসি,
প্রতিদিন ভাবি মনে মনে
বলবি ভালোবাসি।

কত কথা বলা হলো
নদী সাগর পার,
কথা জমে জমে আস্ত
হিমালয় পাহাড়।
তবু তো এখনো তুই
বাজালি না বাঁশি।

গোলাপেরই মালা গেঁথে
দিলাম খোঁপায় গুঁজে,
ভয়ে ভয়ে হাত কাঁপে
তুই দু’চোখ বুজে।

গান নিয়ে সারাবেলা
কত না আলোচনা,
বনলতা সেন নাকি
সেই একই নীলাঞ্জনা।
কার মুখে লেগে থাকে
মিষ্টি মধুর হাসি।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৌদিরে তোর দুধের গাড়ী
কবি সুদীপ মণ্ডল

বৌদিরে তোর দুধের গাড়ী
চলকে গেল বাম্পারে উঠে,
রাতদুপুরে ভোরের ফুল
কেমন করে উঠলো ফুটে।

তুই মিছে ভাবনা করিস না
তুই মিছে চিন্তা করিস না,
ভরা কলসী ভরাই আছে
যায় নি রে একটুও টুটে।

কলসী ছিলো কানায় কানায় ভরা
ভরা কলসী থেকে একটু হৃদয় হরা।

ও কলসির কিবা আছে বলো দোষ
একটুখানি দুধ পড়েছে করিস না আপশোস,
ঐ দুধের লাগি মধু ফেলে
মৌমাছিরা ছোটে।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিধি রে পার করে দাও
কবি সুদীপ মণ্ডল

বিধি রে পার করে দাও
এই ভব নদী,
নদীর কূলে বসে বসে
সারাবেলা কাঁদি।

নৌকা বাঁধা আছে ক’টা
কখন আসে জোয়ার ভাঁটা,
তীরে কখন ভিড়বে তরী
চেয়ে থাকি সেই অবধি,
নদীর কূলে বসে বসে
সারাবেলা কাঁদি।

পকেটে মোর কড়ি তো নাই
তুমি আমার ব্রজের কানাই।

আসা যাওয়ার পথে পথে
সবাই যাবে কালের স্রোতে,
তুমি প্রভু আসবে বলে
কাঁদি নিরবধি,
নদীর কূলে বসে বসে
সারাবেলা কাঁদি।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পৌষ মোদের ডাক দিয়েছে
কবি সুদীপ মণ্ডল

পৌষ মোদের ডাক দিয়েছে
আয়রে ছুটে আয়,
সোনার ধানে বান ডাকাবো
মোদের আঙিনায় ।

কাস্তে হাতে মাঠে মাঠে
কাটবো ধান পরিপাটে,
আয়রে কিশোর আয়রে জোয়ান
ছুটে ছুটে আয়,
সোনার ধানে বান ডাকাবো
মোদের আঙিনায় ।

পাখি ফেরে আপন কূলায়
সূর্যি ডোবে দূর সীমানায়।

সাঙ্গ হলে সকল খেলা
সাঙ্গ হলে প্রাণের মেলা,
ঘরে মোদের ফিরতে হবে
ভরে সোনার নায়,
সোনার ধানে বান ডাকাবো
মোদের আঙিনায় ।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালিয়ে
কবি সুদীপ মণ্ডল

সন্ধ্যাবেলায় দীপ জ্বালিয়ে
আকাশ পানে রই যে চেয়ে,
লক্ষ প্রাণের হিল্লোল তুলে
কে যেন গো আসে ধেয়ে।

লক্ষ দীপের আলোক মালা
সাজিয়ে নিয়ে বরণ ডালা,
কে তুমি চলেছ কোন পথে
মহাকালের গান গেয়ে,
লক্ষ প্রাণের হিল্লোল তুলে
কে যেন গো আসে ধেয়ে।

আমার দীপ তোমার কাছে
অনেকখানি ম্রিয়,
তোমার গাওয়া গান আমাকে
একটু শিখিয়ে দিও।

কণ্ঠ ছাড়ি গান গাইতে পারি
সুর ছেড়ে সুর ধরতে পারি,
সেই সাধনার সাধক আমি
তোমারই পরশ পেয়ে,
লক্ষ প্রাণের হিল্লোল তুলে
কে যেন গো আসে ধেয়ে।

.           ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর