কবি সুদীপ মণ্ডলের কবিতা
*
পান্থশালা
কবি সুদীপ মণ্ডল


আমরা সবাই পথিক।
জীবনের বন্ধুর পথে দিতেছি পাড়ি,
ছেড়ে ঘর পথকে বরণ করি।
জীবনেরই পথে চলতে চলতে -
ক্লান্ত পরিশ্রান্ত আমি।
বিশ্রামের তরে লয়েছি আশ্রয়,
পথেরই পাশে এক পান্থশালায়।
চোখেরই সামনে কত অজানা মুখ,
জানিবার তরে আজি জেগে ওঠে বুক।
জানাজানি চেনাচেনি গড়ে ওঠে বন্ধন,
ক’দিনেই সবাই আমার আপন জন।
হাসি আর আনন্দ ছাড়া সব কিছু বাদ,
এখানেই পাই জীবনের স্বাদ।

চলা......চলা......শুধুই চলা
চলি আবার চলার আনন্দে,
জীবনেরই ছন্দে ছন্দে।
কিন্তু একি!
.       চোখে কেন জল
.           করে ছলছল;
.         আঁখি পাতা ভারী
.             বোঝাতে না পারি
মনের অব্যক্ত বেদনা কাহারে।
একেই কি ভালোবাসা কহেরে?
জানিনা কে ক’জন পৌঁছাব লক্ষ্যে
কেউ বা ইতি হব পথেরই বক্ষে।
তবু এই স্মৃতি লিখি মনপাতায়
আবার আসিব ফিরি এই পান্থশালায়।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বহিন-মুসলমান, হিন্দু ভাইজান
কবি সুদীপ মণ্ডল


বন্ধু! গিয়েছিলে কি গুজরাটে
দেখেছ কি আমার বহিনের কবরখানা?
আমার বহিন ঘুমিয়ে নীরবে -
ওর ঘুম তোমরা কেউ ভাঙিওনা।

সেদিন মুসলমান মারিল হিন্দু,
হিন্দু মারিল কত মুসলমান।
চারিদিকে শুধু রক্ত, রক্তনদীর বান -
পুড়িল মানুষ আগুন লেলিহান।

থেমে গেল মন্দিরে শ্রীরাম,
থেমে গেল মসজিদে আজান ধ্বনি;
তাকিয়ে দেখি সবার হাতে রক্ত
তুমি, আমি, আমরা সবাই খুনী।

ভাইফোঁটাতে দিতো ভাইফোঁটা,
হাতে আমার বেঁধে দিতো রাখি;
সে আমাকে ডাকেনা-ভাইজান!
এ লজ্জা! কোথায় লুকিয়ে রাখি?

ওর জন্য গড়িয়েছি বালাজোড়া -
সামনের বছর ওর যে ছিল সাদি,
সেই স্মৃতি জড়িয়ে ধরে বুকে -
আমি সারারাত কাঁদি শুধুই কাঁদি।

ওরা ভাঙছে মন্দির-মসজিদ,
ওরা করছে ভাঙাভাঙি খেলা;
ওদের পিছনে দাঁড়িয়ে কালপুরুষ -
এই বেলা যে ওদেরই কালবেলা।

ভারতবর্ষ ধর্মনিরপেক্ষতার নাম,
ভারতবর্ষ শাশ্বত এক চাঁদ;
সেই চাঁদকে করতে কলঙ্কিত
নপুংসকেরা পেতেছে মারণফাঁদ।

পৃথিবীতে যদি মসজিদ না থাকে,
থাকে শুধু সাচ্চা মুসলমান;
ফুটপাতে সে গামছা বিছিয়ে নিয়ে -
সেরে নেবে ভোরের আজান।

পৃথিবীতে যদি মন্দির না থাকে,
থাকে শুধু ধর্ম প্রাণ হিন্দু;
রামলালার বিগ্রহ ধুইয়ে দিতে -
চোখের জল ঝরে বিন্দু বিন্দু।

আমার বহিনের কবরের পাশে আমায়
চিতায় তুলে পুড়িয়ে ক’রো ছাই,
সবার কাছে বলে দিও তুমি
বহিন-মুসলমান, হিন্দু ভাইজান ভাই।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রজাপতি
কবি সুদীপ মণ্ডল


প্রজাপতি!                             প্রজাপতি!
জীবনে তার হানিল কুঠার -
দুঃস্বপনের রাতি।

কাল দিবসে,                    মৃদু হেসে হেসে,
ফুলে ফুলে ঘুরে ঘুরে;
গানে গানে                              প্রাণে প্রাণে
ভারালি ভুবনেরে।

আজ এখানে                        ঘাসের শয়ানে
এ কেমন বেশে,
ওরে অভিমানী                জানি, আমি জানি -
মানুষেরে ভালবেসে।

সারারাত ধরে,                      পশুর কামড়ে,
ছিঁড়ে গেছে দুই ডানা।
মলিন মুখ                              কম্পিত বুক
উড়তে যে তোর মানা।

যে পশু আজ,                       করিল এ কাজ,
মুণ্ডে তাহার হানিব বাজ;
ভাঙ্গিব যত আইন         হোক যত হোক ফাইন
গড়িব নতুন সমাজ॥

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মহাপ্রলয়
কবি সুদীপ মণ্ডল


মহাপ্রলয় নেমে আসুক পৃথিবীর বুকে -
যেথা যত রাষ্ট্রনেতা ঘুমিয়ে পরম সুখে,
জাগো-দেখো মেলে আঁখি -
মহাপ্রলয়ের কি আর আছে বাকি?

বিপ্লবের ডাক দিয়েছে সর্বহারার দল,
বিপ্লবের ডাক দিয়েছে সাগরের জল।
উঠছে বাষ্প হয়ে আকাশ পথে,
নামছে বায়ু বেয়ে বজ্রের সাথে।
বিপ্লবের ডাক দিয়েছে যত তরুদল,
ডালে-ডালে ঘষে ওরা জ্বেলেছে দাবানল।

বিপ্লবের ডাক দিয়েছে পাখ-পাখালি
প্রতিজ্ঞা-করিবেন সঙ্গম। কূজন কাকলি
ঘেরা এ পৃথিবী আগামী দিনে সঙ্গীতশূন্য।
ভিখারি করিবে না ভিক্ষা -
জুটিবেনা অর্জিত পুণ্য।

ওরা সর্বহারার দল;
ওদের নেই কোন ভয়।
সব হারিয়ে সব হারানো
করেছে ওরা জয়,
কালের অবক্ষয়।

মহাপ্রলয়ে খসে যাক
কৃষ্ণের হাতের পাঞ্চজন্য শাঁখ,
শান্তির পতাকা ধূলায় পড়ে থাক।
শ্বেতশুভ্র কপোত কপোতীরে
বিপ্লবের খাঁচায় কর বন্দী,
ওরা মানেনা কোন আইন -
মানেনা কোন সন্ধি।

মহাপ্রলয়ে ধ্বংস হোক
কামান্ধ কুক্কুরের যৌন ক্ষিপ্রতা,
আমবাগানে ধর্ষিতা কিশোরীর কলুষতা,
মানুষের গরিবি; মানুষের দারিদ্রতা।

মহাপ্রলয়ের শেষে -
খিলখিলিয়ে উঠুক হেসে
কচি কাঁচা দুগ্ধপোষ্য মুখ,
পৃথিবী উঠুক জেগে
আশায় বেঁধে বুক।
বন্ধ কলকারখানা যাক খুলে
মানুষ যাক শোষণ ভুলে।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
জীবন্ত এক লাশ
কবি সুদীপ মণ্ডল


টি.ভি. খুলে দেখি আজকের খবর খাস,
পুকুর জলে ভাসে গৃহবধূর বস্তাবন্দী লাশ।

ধরমপুরীর ধার্মিক যত আগুনে পোড়ায় বাস,
তার-ই ভিতর অগ্নিদগ্ধ তিন ছাত্রীর লাশ।

মাথার উপর মেঘ মুক্ত অনন্ত নীলাকাশ,
মহাশূন্যে ঘোরে পৃথিবী সে তো এক লাশ।

দাম্ভিকেরই পায়ের তলায় দলিত কোমল-ঘাস,
ধনীদেরই শোষণ যন্ত্রে গরিবরা সব লাশ।

কালকে যখন মিছিলে স্লোগানে মুখরিত বাতাস,
পাটি অফিসের সামনে আজ পাটি-কর্মীর লাশ।

নির্বাচনী ইস্তাহার জুড়ে ভাবীমন্ত্রীর আশ্বাস,
কাগজওয়ালা কুড়িয়ে বেড়ায় যত ইস্তাহারী লাশ।

পাইপগান হাতে সমাজবিরোধী দেশ জুড়ে সন্ত্রাস,
প্রকাশ্য রাজপথে গণপিটুনিতে হিমঘরে সব লাশ।

বিদেশী ঋণের দায়ে এ দেশের গলায় ফাঁস,
মানচিত্রে খুঁজি আমার মহান দেশের লাশ।

ভূগোল পড়েছো বন্ধু, পড়েছো অতীত ইতিহাস?
পরমাণু বোমার আঘাতে কাশ্মীর আগামী লাশ।

ফুটপাতের উলঙ্গ-শিশু জোটে নাই অর্ন্তবাস,
শিক্ষা কোন দূর অস্ত অচিন দেশের লাশ।

ত্রিকোণ প্রেমের খেলা অবৈধ গোপন সহবাস,
রেললাইনের ধারে সদ্যোজাতের মুণ্ডুবিহীন লাশ।

গাদাগাদা পড়াশুনা টেস্টে হয়নি পাশ,
বাথরুমে অ্যাসিড খেয়ে স্কুলপড়ুয়ার লাশ।

হারিয়ে গেছে প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা আর বিশ্বাস,
পোষ্টমর্টেমের শেষে ফেরে সারি সারি লাশ।

গ্রামে শ্মশানের স্তব্ধতা বন্যার করাল গ্রাস,
গাছের ডালে ঝোলে আমার প্রিয়ার লাশ।

মাতা কোথা কে জানে; পিতার ঠিকানা বৃদ্ধাবাস,
মুখাগ্নি করবে খোকা-সে তো এখন লাশ।

কখন থেমে গেছে মানব সভ্যতার শ্বাস,
আঁধারে সারারাত ধরে গণধর্ষিতার লাশ।

ওরে দুর্বৃত্ত কবি! সত্যি কি তুই চাস?
চাই হতে আস্ত জীবন্ত এক লাশ।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
লঙ্কায় যেতে না পারে
কবি সুদীপ মণ্ডল


বলোনা মা, বলো না,
সত্যি করে বলো না।
শুনেছি, যে যায় লঙ্কায় -
সে হয় রাজা।
সে আর ঘরে ফেরে না।
মা! আমিও লঙ্কায় যাবো,
লঙ্কায় গিয়ে রাজা হবো -
তুমি আমায় অনুমতি দাওনা।
রাজমুকুট মাথায় পরবো
মন্ত্রী ব্ল্যাকক্যাট সাথে লবো
তোমার কিসের ভাবনা?
এ আর এমন কি কঠিন কাজ!
শুধু পেরোনো একটি নির্বাচনী সেতু।
আমাদের এপাড়ার ঐ যে জেঠু
দেখলে না-এবারের নির্বাচনে
কাঁচানো ধুতি পরে,
দু’হাতে জড়ো করে,
এলো আমাদের বাড়ির সামনে,
কত দেয়াল লিখন-পোষ্টার-স্লোগান,
বুথজ্যাম-রিগিং-বোমা-পাইপগান;
সেই যে লঙ্কায় গেল -
আর ফিরে এলোনা।
শুনেছি লঙ্কায় গিয়ে রাজা হয়েছেন।
এয়ার কন্ডিশন বাড়ি-গাড়ী
শোকেসের ভিতরে
সাজানো থরেবিথরে
দেশ বিদেশ চুরি।
মা! আমি যেদিন রাজা হবো
তুমি হবে রাজমাতা,
জনদরদী হাতে মাইক্রোফোনে
বিশাল জনতার সামনে
দেব কত ভুরি ভুরি ঝুড়ি ঝুড়ি বক্তৃতা।

শোনো অবোধ ছেলের কথা -
তুই রাজা হবি কি রে?
তুই হবি কবি,
লিখবি কবিতা।
কলম দিয়ে আঁকবি
মানুষের মনের ছবি।
লিখবি তাদের যত
জমানো দুঃখ ব্যথা।
তুই খাবি না বিরিয়ানি
মন্ত্রীদের সাথে,
তুই থাকবি সাধারণ বেশে
খাবি দিনের শেষে
যা জোটে
শাক ভাত পাতে।
যেদিন নামবে বর্ষা -
ঝরবে অঝরে বৃষ্টি,
সবাই ঢুকে পরবে
যে যার নিজ বাসা।
ভগবানের সৃষ্টি
ঐ যে ফুটপাতে -
যে শিশুর বিছানা পাতা,
তুই ছুট্টে যাবি -
আড়াল করবি ওর মাথা
তোর দুই কচি কচি হাতে
ধরে ছোট্টো একটি ছাতা।
বল, খোকা বল,
আমায় দিব্যি দিয়ে বল -
তুই মুছিয়ে দিবি মানুষের
যত চোখের জল।
মা! আমি যেদিন বড়ো হবো
চীনের মহাপ্রাচীর দেবো
লঙ্কার চারিধারে,
যাতে কেউ সাধ করেও
লঙ্কায় যেতে না পারে।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আলো হতে অন্ধকারে
কবি সুদীপ মণ্ডল


জীবনের কত দিন কত রাত মাতৃজঠরে
কেটেছে ঘোর অন্ধকারে,
তারপরে একদিন জরায়ু হতে
বেরিয়ে এলাম আমি
আলোকের স্রোতে।
শৈশব-কৈশোর-যৌবন পেরিয়ে
কোচিং-কম্পিটিশন বন্ধুদের হারিয়ে
প্রথম হওয়া বারেবারে।
বিবাহঃ- যদিদং হদয়ং তব
তদস্তু হদয়ং মম,
যদি এ প্রেম বিফলে যায়
ক্ষম মোরে ক্ষম।
সেই যে কবে কোন শৈশবে -
মায়ের কোলে নিশিন্তে ঘুমিয়ে ছিলাম,
তারপর একমুহূর্তও পাইনি কো বিশ্রাম।
সকাল হতে রাত-দুপুর
টপ টপ টপ ঝরে গেছে ঘাম,
সে ঘাম মুছে মুছে
রুমালটা ভিজে গেছে।

আকাশ ডেকেছে; ডেকেছে পাগলিনী নদী;
সময় করে ওদের কাছে যেতাম যদি -
তবে যৌবনের ফুল যেত না ঝরে
তোমার পূজা হতো নানা উপাচারে।
জীবনে কতবার করেছি যে ভুল,
প্রাণের ভয়ে সব প্রতীকে মেরেছি যে ছাপ,  
সেই ছাপ বিশ্বায়নের বিশ্বগ্রাসী ক্ষুধায়
আমার স্বদেশ দখল করে আদিম হিংস্রতায়।
সারা দুনিয়া কাঁপে আলকায়দার সন্ত্রাসে
মহাকাল অট্টহাসি হাসে বিবর্ণ-ইতিহাসে।
আমায় ভালোবেসে,
আমার চারিপাশে,
আজ কেন এত
মানুষের জটলা
পুষ্পস্তবক হাতে?
আমি তো এসেছি একেলা -
চলেও যাব একেলা।
আমাকে পথ করে দাও,
তোমরা বৃথা দেরী করাও;
যে পথ ধরে চলে গেছে
আমার পূর্বপুরুষেরা
সুদূর নক্ষত্র লোকে।
জরা-ব্যাধি-মরণের শোকে
মানুষের কান্না
অনেক শুনেছি আমি -
আর আমার ভালোলাগেনা।
ঐ দেখো; শেষ খেয়া চলে যায়,
পশ্চিম দিগন্তে সূর্য অস্তমিত প্রায়,
আমিও চলে যাব ওপারে।
আমার কথা শুনতে পাবেনা কেউ,
শেষ চরণ চিহ্নও মুছে দেবে -
সময় .......... তরঙ্গ.......... ঢেউ।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ম্যালরি তোমাকে
কবি সুদীপ মণ্ডল


ম্যালরি তোমাকে আমি দেখেছিলাম
পরম সুখে
ঘুমিয়ে আছো প্রেমিকার বুকে।
এভারেষ্ট ছলনাময়ী তুমি
নবযৌবনা কামাতুরা নারী।
শরীরের খাঁজে খাঁজে ভাঁজে ভাঁজে
রহস্য রোমাঞ্চ তোমারি,
রমনের তরে বারে বারে
জানাও আহ্বান।
তোমার সর্বাঙ্গে তীব্র কামের জ্বালা
তুমি কোনদিন কাউকে ভালোবাসনি
করেছ প্রেম প্রেম খেলা।
তোমারে জিনিবারে
পুরুষের অভিযানের পালা
অকালে প্রাণ বলিদান।
যখনি শুনেছ ম্যালরির পদধ্বনি
স্খলিত তব অঙ্গের বসনখানি,
তোমার লজ্জা তোমার নারীত্ব
এতদিন যা শুধু তোমারি একান্ত,

যার তরে তোমার গর্বের অহংকারের
ছিলনা কোন অন্ত,
যা তুমি কোন দিন কাউকে
দিতে চাওনি ভাগ,
আজ তোমারি পরে
ম্যালরির ভালবাসার দাগ।
ম্যালরি তার সবল দুবাহু আকড়ি
ঘোষণা করেছে পৌরুষের জয়,
পরাজিতা লজ্জিতা তুমি নারী
নত মুখে মেনেছ পরাজয়।
তোমারি অন্তরের লেলিহান শিখায়
মহাপ্রেমিকের মুকুট
আজ ম্যালরির মাথায়।
তারপর কেটে গেছে
কত যুগ; কতটা সময়,
তবু স্পর্শ করেনি ম্যালরিকে
কালের ক্ষয়।
আজও ম্যালরি দীপ্যমান উজ্জ্বলতায়
বিশ্বমানবের হিয়ায় হিয়ায়।।

.               ****************                
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নারী ও পুরুষ
কবি সুদীপ মণ্ডল


নারী লজ্জাবতী লতা
পুরুষ সুদৃঢ় গাছ,
গাছকে জড়িয়ে বুকে
লতা তুই বাঁচ।

পুরুষ নীল আকাশ
নারী মায়াবী চাঁদ,
পুরুষ আবদ্ধ পাখি
নারী পাতে ফাঁদ।

নারী ছুটন্ত নদী
পুরুষ প্রশান্ত সাগর,
পুরুষ দ্বিপ্রহর হলে
নারী স্নিগ্ধ ভোর।

নারী মনোবল হলে
পুরুষ বাহুবল,
পুরুষের সুর ছন্দে
নারীর যত ছল।।

.            ****************                
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আসন শূন্য থাকে পড়ে
কবি সুদীপ মণ্ডল


যে আসন পেতেছ মোর তরে
যেদিন রবোনা আমি
সে আসন শূন্য থাক পড়ে।
যদি চাহে মন
পেতো হে আসন
আমার আসনের বামে ডাইনে
সামনে পিছনে।
শুধু যে আসন পেতেছ মোর তরে
সে আসন শূন্য থাকে পড়ে।

যদি কোনদিন
কোন অজানা অচেনা পথিকেরে
দেখা পাও পথ পরে
ডেকো তারে তোমার দুয়ারে।
যদি চাহে মন
পেতো হে আসন
তোমার হৃদয় মন্দিরে।
শুধু যে আসন পেতেছ মোর তরে
সে আসন শূন্য থাক পড়ে।
যদি কখনো ভুল বুঝে
চেনা সে পথ খুঁজে,
আমি আবার আসি
তোমার কাছেই ফিরে।।

.            ****************                
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর