কবি সুদীপ মণ্ডলের কবিতা
*
সম্পর্ক
কবি সুদীপ মণ্ডল


সম্পর্ক নদীর মতো -
এ কূল ভাঙে
তো ও কূল গড়ে।

সম্পর্ক ভোঁকাট্টা ঘুড়ি
উড়তে উড়তে হঠাৎ
মুখ থুবড়ে পড়ে।

সম্পর্ক মোচড়ানো গাছ
জানি তুই মরে যাবি
তবু যতদিন বেঁচে থাকিস বাঁচ।

সম্পর্ক ফুটপাতের দোকান
অপারেশান সানসাইনে হায়
প্রতিদিন ঠিকানা বদলায়।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বিদ্যালয়
কবি সুদীপ মণ্ডল


বিদ্যালয় ফুলের বাগান
শিশুরা সব গাছ,
হাজারো রঙের মেলা
নানান ফুলের নাচ।

শিক্ষকরা মালি যত
নিত্য জল দিয়ে,
গাছগুলোকে বাড়িয়ে তোলে
ঐ আকাশ ছাড়িয়ে।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
হিন্দু মুসলমান
কবি সুদীপ মণ্ডল


এপারেতে হিন্দু থাকে, ওপারে মুসলমান -
এদের হাওয়ায় দোলা খায়, ওদের খেতের ধান।

এপারেতে হিন্দু থাকে, ওপারে মুসলমান -
এরা যখন পুরাণ পড়ে, ওরা পড়ে কোরাণ।

এপারেতে হিন্দু থাকে, ওপারে মুসলমান -
এদের যখন পূজার সময় , ওরা দেয়গো আজান।

এপারেতে হিন্দু থাকে, ওপারে মুসলমান -
এদের জোছনায় ভরে যায়, ওদের ইদের আশমান।

এপারেতে হিন্দু থাকে, ওপারে মুসলমান -
এরা যারে ‘মা মা’ বলে, ওরা বলে আম্মাজান।

এপারেতে হিন্দু থাকে, ওপারে মুসলমান -
এরা পুড়ে শ্মশানে ছাই, ওরা মাটি গোরস্থান।

এপারেতে হিন্দু থাকে, ওপারে মুসলমান।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
নীলকণ্ঠ
কবি সুদীপ মণ্ডল


ও মাটি তোর শরীরে মিশছে বিষ
ক্রমশঃ তোকে করে দিচ্ছে বন্ধ্যা,
ও মেয়ে তোর জীবন সকাল এখন
এরই মধ্যে ঘনাল গহীন সন্ধ্যা।

বিষ শুধু মাটিতে নেই কো আর -
বিষ জল, স্থল, অন্তরীক্ষে,
মাটিতে যদি ফসল না ফলে আর
কে করিবে কার দুয়ারে ভিক্ষে?

পাখির কন্ঠে সুর ঝরে না আর
তারও ঠোঁটে বিষ শুধু বিষ,
বিষ বুকে নিয়ে অব্যক্ত যন্ত্রণায়
সবুজ মাঠে দোলে সোনালী শিষ।

এই বিষ মহাবিষ মহাশূন্যে মিশে
তৈরী করছে ওজোন হোল,
মায়ের বুকের দুধেও জেনো বিষ
রোবট আলো করেছে মায়ের কোল।

আমরা যা কিছু খাই সবই বিষ
ফুল, ফল, লতা আর বৃক্ষ,
বিষ জমে জমে একদিন জেনো
ধরণী হবে আরো কঠিন-রুক্ষ।

স্বার্থের বিষ মানুষের মনে আজ
ভেঙে যাচ্ছে একান্নবর্তী পরিবার,
বাবা মা এক বছর ছাড়াছাড়ি
সন্তানের লাগি আদালতে দরবার।

নিঃশ্বাসে যে বিষ বিশ্বাসে সে বিষ
বিষে ভরা এই বসুন্ধরা,
কালকে যেখানে ভাসছে বন্যায়
আজকে সেখানে হচ্ছে খরা।

বিষ ছড়িয়ে রকেট ছুটছে গ্রহে
বিষ ছড়াচ্ছে যতেক সাম্রাজ্যবাদ,
মানুষ আজ যেখানে দাঁড়িয়ে আছে
তার দু’পাশে খাদ গভীর খাদ।

পাখির বাসায় ডিম ফোটেনা আর
ডিমেও দেখো সেই একই বিষ,
এক দেহ থেকে অন্য দেহে বিষ যায়
অবাধ, অবৈধ মিলনে অহর্নিশ।

মানুষে মানুষে বিষ ছড়িয়ে দিচ্ছে
ধর্মের নামে যত সন্ত্রাসবাদ,
ধর্ম ছিলো মানুষের মাথায় ছাতা
প্যালেস্তার খসে ভেঙে পড়েছে ছাদ।

সমাজ সংসারের যত বিষ মাগো
পান আমি করেছি আকন্ঠ,
আমার সর্বাঙ্গে তীব্র বিষের জ্বালা
আজ আমি সেজেছি নীলকণ্ঠ।।

.                   ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
একটি মানিক
কবি সুদীপ মণ্ডল


লক্ষ মানিক জ্বলে ওঠে
ঐ নীল আকাশের গায়,
মানিক সেরা মানিক যেগো
তুমি সত্যজিৎ রায়।

সুকুমারের পুত্র তুমি
চলচ্চিত্রে সর্বজিৎ,
গল্প গানে ছবি ছাড়ায়
তুমিই বিশ্বজিৎ।

গর্বে মোদের ভরলো বুক
পেলে যেদিন অস্কার,
ভারতরত্ন তোমায় দিয়ে
রাখলাম মোদের নমস্কার।

জানিয়ে দিয়ে বিশ্বময়
এ বাঙালী নিঃস্ব নয়,
হারিয়ে তুমি গেলে কোথা
কোন সে রাজার দেশে?
সারা আকাশ ঘুরে শেষে
একটি মানিক খুঁজে ফিরি
তোমায় ভালোবেসে,
আগন্তুক আর গুপীবাঘায়
দুর্গা অপুর পথময়।।

.               ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মাটি
কবি সুদীপ মণ্ডল


একমুঠো মাটি দিও আমায়
একমুঠো মাটি,
ঘুমিয়ে রবো মাটির বিছানায়
যেন শীতলপাটি।

জীবন তুমি সত্য মেনো
মরণ আরো খাঁটি,
সোনার চেয়ে মুল্য জেনো
আমার দেশের মাটি।

মাটিতে ফলে সোনার ফসল
সোনার ধানের আঁটি,
শিশিরে পা ধুইয়ে দেয় লো
আলতা রাঙা পা’টি।

অনেক আঘাত সয়েছি বন্ধু
এবার আমার ছুটি,
মাটির বিছানায় খেলবো শুধু
মাটিতেই লুটোপুটি।।

.               ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রূপসী কবিতা
কবি সুদীপ মণ্ডল


কাল সারারাত নদীর কাছে শুয়ে
আজকে ফুল তোমার কাছে শোব,
কাল সারারাত নদীর সোহাগ মেখে
আজকে ফুল তোমার গন্ধ নেব।

কালকে আবার চাঁদের দেশে গিয়ে
মেঘ পরীদের মুখে শুনবো রূপকথা,
সবার রূপ-রস-গন্ধ-স্পর্শ নিয়ে
র‍্যাম্পে হাঁটবে আমার রূপসী কবিতা।।

.               ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
পাখি
কবি সুদীপ মণ্ডল


অন্তর্বাসে বাসা বেঁধেছে ঐ
অজানা দুটি পাখি,
সারাদিন ধরে কিচির মিচির
করছে ডাকাডাকি।

গায়ে তাদের নরম পালক
মুখে দুধের ভাষা,
দেখতে খেতে দুইই দারুণ
বারুইপুরের ডাসা।

গ্রীষ্ম শীতে বর্ষা রাতে
দুহাতে চেপে রাখি,
বলনা পাগলী ওদের ছেড়ে
কেমন একা থাকি?

এ বুকেতে গুমরে মরে
গোপন ভালোবাসা,
ও বুক ছেড়ে এ বুকেতে
বাঁধনা তোরা বাসা।।

.               ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বাল্যসখী
কবি সুদীপ মণ্ডল


আমি যত বড় হয়েছি -
তুমিও বড় হয়েছ তত,
স্বপ্ন দেশের পরী নও
তুমি তো গ্রাম্য বধূর মতো।

তুমি এনেছো শীতের রাতে
ফাগুন আগুন শিহরণ,
তুমি ঢেলেছো প্রখর তাপে
শ্রাবণ ঘন বরিষণ।

কখনো থেকেছি উপর নীচে
কখনোবা পাশাপাশি,
আমি বলিনি তুমি বলেছ
ভালোবাসি ভালোবাসি!

তুমি আমার জীবন মরণ
তুমি যে গো রূপকথা,
তুমি আমার মায়ের পরশ
হাতে বোনা ছেঁড়া কাঁথা।।

.               ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ও যদি বলে তোকে নয়
কবি সুদীপ মণ্ডল


ও মেয়ে, বলতো দেখি কিসের তোর কষ্ট
ঠোঁটের পরে চোখের কোণে ফুটে ওঠে স্পষ্ট।
ঐ যে এক কিশোর ছেলে বাজায় মোহন বাঁশি
ওকে তুই বলতে পারিসনি তোকেই ভালোবাসি।
কিশোর এখন যুবক হয়ে নদীর ধারে বসে
পিছন থেকে চোখ টিপে ধর মিষ্টি মধুর হেসে।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘নদী’
তুই বলবি, ওমন কত বয়ে চলে শরীরে নিরবধি।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘পাখি’
তুই বলবি, হৃদমাঝারে বকম বকম করছে ডাকাডাকি।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘গাছ’
তুই বলবি, গাছ হয়ে দাঁড়াতে পারি আগে নমুনা সাঁঝ।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘আকাশ’
তুই বলবি, ওমন কত লুকিয়ে আছে আঁখির পানে তাকাস।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘বাঁশি’
তুই বলবি, বাঁশির চেয়ে মিষ্টি বড় মেয়েমানুষের হাসি।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘মাঠ’
তুই বলবি, ওমন কত দেখাতে পারি খুলে বন্ধ কপাট।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘মরু’
তুই বলবি, কেমন বুকে কাঁপন লাগায় প্রিয়ার প্লাকিং ভ্রুরু।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘মোহনা’
তুই বলবি, আমার মোহনায় ভেসে যাবে একবার কাছে এসোনা।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘চন্দ্রকলা’
তুই বলবি, কেমন লাগে দেখতে বলো নারীর ছলাকলা।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘রাগিনী’
তুই বলবি, কত রাগ বাজাতে পারি আমি তো এখনো রাগী নি।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘পাহাড়’
তুই বলবি, দিনে রাতে গড়তে পারি দিয়ে পাঁজরের হাড়।
ও যদি বলে, তোকে নয় ভালোবাসি ‘ফুল’
তুই বলবি, কেমন লাগে দেখতে বলো কর্ণলতিকার দুল।।

.               ****************                   
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর