নুনহীন তেতো কবি স্বপ্না ঘোষ মাঘ ১৪১১ সালে প্রকাশিত ( জানুয়ারী ২০০৫ ) কবির ‘দিবাবসানে’ কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া |
তরাই-এর মাটি বুক দিয়ে কানু জঙ্গলের স্বপ্নকে আজও লালন করে দেশজুড়ে ভোগবাদের নিঃশ্বাস টাট্ কা যৌবনের কাঁধ বেয়ে নামে এক মিথ্যে মায়া চারিদিকের নির্জনতা নিয়ে যুবতী একা গাছেদের কাছে শীতের শেষে হাওয়া জুড়ে যুবতীর শরীর ছুঁয়ে শুধু পাতাঝরা এভাবে বুক ভ’রে বেঁচে থাকা মন্দ নয়, এভাবে চারিদিকের খরা থেকে পালিয়ে এসে জলপান, নিজেকে ক্লিন্ন ক্লিষ্ট পরাজিত এক ক্লীব মনে হয় আকাশ বাতাস জুড়ে ভোগের মন্ত্রে সকলেরই মাথা নত যুবতীর জিভে যুবকের দেওয়া চুম্বন নুনহীন তেতো এ সময়ের স্বাদ তবু বাংলার মাটিতে জঙ্গলের চিতার ছাই ধান হ’য়ে ঝরে পুতুলের ক্রুদ্ধ জীবন | আঘাতগুলো স’য়ে যুবক স্রোতের বিপরীতে, তরাই এর শুদ্ধ পলিমাটি সারা গায়ে মাখে জঙ্গলের স্বপ্ন ঘিরে কখন কোথায় কিভাবে যেন আবারও শুরু ঝড়ের শুরুতে আকাশ তোয়াক্কা করে না যন্ত্রমানবের কুঞ্চিত ভুরু
প্রতিরাতে মাঝরাত ডাকে কবি স্বপ্না ঘোষ মাঘ ১৪১১ সালে প্রকাশিত ( জানুয়ারী ২০০৫ ) কবির ‘দিবাবসানে’ কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া |
এখনও প্রতিরাতে মাঝরাত ডাকে মুহূর্তে আর সব মিথ্যে হ’য়ে যায় দূরে তাকিয়ে দেখি ওদের চিতাগুলো এখনও জ্বলে ঘাতকের জ্বালানো আগুন | এখনও ওদের এতো ভয় ! তবে কি ঘাতকেরা জানে সৎ-চিন্তার নেই কোনও ক্ষয় এ মহাবিশ্বে আর কিবা থাকে ! জেনেছি পিঁপড়ের আছে সম্প্রীতি, কুকুরের প্রভুভক্তি | তবে শুনেছি মানুষই সেরা সে জানে পৈশাচিকতা বিশ্বাসভঙ্গের খেলা সে খেলায় সে বার অগুন্তি দর্শকের মাঝে অসংখ্য যৌবন হত্যা আপনার কেমন লেগেছে ? আমার ভালো না লাগলেও খুব সাবধানে ঘরে ফিরি ঘরে সুগন্ধি ধূপ জ্বেলে যন্ত্রণা বেশ মুছে ফেলি ছেষট্টি হতে একাত্তর কথা বলে মাঝরাতে ডাক দেয় | আমার অশক্ত ফুসফুস বাংলার বদ্ধ হাওয়ায় ক্রমে নিভে যায়
ফ্যাকাশে যুগে সে ও তাহারা কবি স্বপ্না ঘোষ মাঘ ১৪১১ সালে প্রকাশিত ( জানুয়ারী ২০০৫ ) কবির ‘দিবাবসানে’ কাব্য গ্রন্থ থেকে নেওয়া |
অষ্টাদশীর মুখময় চাঁদের আলোয় ভাসে এক অলৌকিক ভেলা | সে ভেলায় যুবতী চলেছে পিছুটানে বেশ কিছু বছর পেরিয়ে এক বধ্যভূমিতে, মৃতদের মাঝে এক বেঁচে থাকা অষ্টাদশী তার ভয় ডর নেই সে ধীর পায়ে চলেছে মৃতদের কাছে তাকে জানতে হবে গৈরিক আলো ঠিক কতটা তীব্র হতে পারে এক ফ্যাকাশে যুগে সে ও তাহারা বেঁচে আছে পুকুরের কচুরিপানা ঘেঁটে মৃতেরা চক্ষুহীনতায় চেয়ে দেখে এ কোন যুবতী ! সারা গায়ে দিকভ্রান্ত বাণ বেঁধে ‘ও’ বড়ো অস্থির ও’কে ঠেকাতে হবে বোঝাতে হবে হিংস্রতার পথে নয় মৃতদের নিমিত্ত শোকাতুর হ’য়ে নয়, চাঁদের আলোয় এ বদ্ধভূমির ত্যাজ্যমাটিকে আপন করে উচ্চারিত হবে ওদের মুখে শপথের বর্ণমালা সে ও তাহারা কেন যে এত ফ্যাকাশে হ’য়ে আছে সত্তর একাত্তরে নষ্ট সমাজকে পাল্টাতে গিয়ে কত শত যুবক যুবতী প্রাণ দিলো ঘাতকের হাতে বধ্যভূমির রক্তদাগ করতলে তুলে এ যুগের যুবক যুবতীরা ফিরে আসে বাতাস জুড়ে শুধু ওরা, ওদের মনোকষ্ট বর্ণময় যৌবনে ওদের জানতে হবে গৈরিক ভাবনা ঠিক কতটা তীব্র হ’লে হিংস্রতার পথে নয় পাখিদের ডাকে ঘাতকের দরজায় ভোর হয় অষ্টাদশীর মুখময় পঞ্জিকার শব্দাবলী ঘিরে জেগে ওঠে যুবক যুবতী ওদের কঠোর নির্দেশ সে নির্দেশ মেনে ঘাতকেরা চলেছে পুকুরের কচুরিপানা তুলবে বলে ফ্যাকাশে যুগে যুবতী আবারও ক্যানভাসে রঙ ঢালে যৌবনের উত্তাল ঢেউ, গাছে ডালে পাতায় পাখি ডাকে