কবি স্বপ্না ঘোষ - জন্মগ্রহণ করেন ঢাকায়। পিতা শ্রী সমরেন্দ্র নারায়ণ রায় এবং মাতা শ্রীমতী মমতা
দেবী।

কবি আলিপুর গভঃ মাল্টিপারপাস স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে, কলকাতার বেথুন কলেজ থেকে
পদার্থ বিজ্ঞানে সম্মানিক স্নাতক হন ১৯৭৪ সালে। এরপর কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত পদার্থ
বিজ্ঞানে (অ্যাপ্লায়েড ফিসিক্স) ১৯৭৭ সালে স্নকোত্তর ডিগ্রী লাভ করেন।

১৯৭৯ সালে তিনি বিবাহসূত্রে আবদ্ধ হন শ্রী দেবীপ্রসাদ ঘোষের সঙ্গে। তাঁদের এক কন্যা ধ্রুপদী।

কবির পিতা সমরেন্দ্র নারায়ণ ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তিনি জাতীয় কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন এবং কবির
মাতা মমতা দেবী ওয়ার্ধায়, গান্ধীজীর আশ্রমে যুক্ত ছিলেন। ১৯৪২ সালে গান্ধীজীর আইন অমান্য আন্দোলনে
অংশগ্রহণ করার জন্য কারাবরণ করেন সমরেন্দ্র রায়।

কবির শ্বশ্রূমাতা শ্রীমতী অমিয়প্রভা ঘোষ এবং শ্বশুর মশাই স্বর্গীয় প্রবোধকুমার ঘোষ। তিনিও ছিলেন
স্বাধীনতা সংগ্রামী। প্রবোধকুমার ঘোষের স্বাধীনতা সংগ্রামের দণ্ড হিসেবে ইংরেজ সরকার তাঁকে  
শাস্তিস্বরূপ দ্বীপান্তর বা কালাপানী নির্ধারণ করেন।
আচার্য্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের সঙ্গে তাঁর পারিবারিক  
ঘনিষ্টতা ছিলো।
আচার্য্য তাঁর যোগাযোগ এবং আদালত প্রভৃতির অধীনে ওঁর শাস্তি যাবত্জীবন কারাদণ্ডকে
কমাতে সমর্থ হন। তা সত্বেও উনি দীর্ঘ্য নয় বছর কারান্তরালে ছিলেন।

এ হেন পারিবারিক পরিবেশে থেকে কবিও যে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে পদে পদে সোচ্চার হবেন এ আর
বিচিত্র কি! কলেজ জীবন থেকে কবির বড়দা শ্রী দিলীপ রায়,  নকশালবাড়ী  আন্দোলনের  সঙ্গে জড়িয়ে
পড়েন। ফলত, ছোট বোনের কবিতায় ভেসে ওঠে, নানা অর্থনৈতিক ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে
প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর। উঠে আসে চারু মজুমদার,
সরোজ দত্ত, ১৯৭১ সালের বরানগর গণহত্যা। দুই প্রজন্মের
মধ্যে নিঃসন্দেহে লড়াইয়ের ভিন্ন ভিন্ন পথ, কিন্তু উদ্দেশ্য একই --- অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।

তাঁর কবিতা জুড়ে রয়েছে একাত্তরের ঝোড়ো দিনগুলির স্মৃতি-ব্যথা। উঠে আসে ব্যর্থতার  “ফ্যাকাশে
নৈরাশ্য” ও তার বিশ্লেষণের চেষ্টা। তীক্ষ্ণ বাক্যে বিদ্ধ করেন আধুনিক গুড-বয় সমাজ-ব্যবস্থাকে। নিজের
সন্তানও ছাড় পায় না তা থেকে। . . .
“আমরা সেদিন বেঁচে থাকা যুবক যুবতীরা আজও বেঁচে আছি এক
ফ্যাকাসে নৈরাশ্য নিয়ে,
বিছানায় মিলিত হই কিছু নপুংশকের জন্ম দেবো বলে
মা হয়ে সন্তানকে এভাবে বলা!
ব্যথায় নয় রাগে নয়
ঝুঁকে পড়া মেরুদণ্ডের ফসল কখনও হেমরঙা হয় ?
তোমাদের নামাঙ্কিত শহীদ বেদী!
শকুন বলে আমি তো ওখানেই মহিলার সঙ্গে হাস্য পরিহাসে সঙ্গম করি”
---“দিবাবসানে” কাব্যগ্রন্থের “সহস্র ক্ষুদিরামের তালিকা” কবিতা থেকে॥

কবির প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে “সন্ধে জানে”, “তোমার ঠিকানা” (যুগ্ম), “প্রথম শস্যকে” (২০০৩),
দিবাবসানে (২০০৫), “আছি” (২০০৬) প্রভৃতি। এক সময়ে তাঁর কবিতা “দেশ” পত্রিকাতেও প্রকাশিত হোতো।
তাঁর সব ক’টি কাব্যগ্রন্থের প্রচ্ছদ এঁকেছেন কবিকন্যা ধ্রুপদী।

আমরা “প্রথম শস্যকে”, "দিবাবসানে" এবং “আছি” কাব্যগ্রন্থের কবিতা এখানে তুলেছি। “প্রথম শস্যকে”  ও
“আছি” কাব্যগ্রন্থের কবিতা নির্বাচন করেছেন আমাদের বন্ধুবর দেবীপ্রসাদ ঘোষ। “প্রথম শস্যকে” কাব্যগ্রন্থের
কবিতার চয়নের ভার দিয়েছিলেন আমাদের উপরে। সেই কাজে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে, কোনটা রাখবো আর
কোনটা ছাড়বো ভাবতে ভাবতে, শেষ পর্যন্ত আমরা সব ক’টি কবিতাই এখানে তুলে দিলাম!

আমরা
মিলনসাগরে  কবি স্বপ্না ঘোষের কবিতা তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের
এই প্রচেষ্টা সফল মনে করবো।



কবির সঙ্গে যোগাযোগ -
চলভাষ : +৯১ ৭০৪৪১৯৭০৭১, +৯১ ৯৪৭৭২৮৯৭০৭
ঠিকানা : ২বি, শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী রোড, কলকাতা ৭০০০২৫    
কবির ফেসবুক :  https://www.facebook.com/profile.php?id=100010986859684     

উত্স - ২৯ ও ৩০শে জুন ২০১৭ তারিখে শ্রী দেবীপ্রসাদ ঘোষের সঙ্গে সাক্ষাত্কার।   


কবি স্বপ্না ঘোষের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২.৭.২০১৭।
...