কবি আশানন্দন চট্টরাজ - বাংলাভাষার সর্বকালের অন্যতম জনপ্রিয় লোকসংগীত “বলি ও ননদী
আর দু মুঠো চাল ফেলে দে হাঁড়িতে”-এর রচয়িতা। তিনি বীরভূম জেলার সিউরী সদর অন্তর্গত দুবরাজপুর-
হেতমপুরের বাসিন্দা ছিলেন।
কবি আশানন্দন চট্টরাজের জীবন সম্বন্ধে আমাদের কাছে খুবই অল্প তথ্য রয়েছে। কেউ যদি তাঁর জীবন
সম্বন্ধে আমাদের তথ্য এবং তাঁর একটি ছবি পাঠান তাহলে আমরা প্রেরকের নাম, কৃতজ্ঞতাস্বরূপ এই
পাতায় উল্লেখ করবো।
আনন্দবাজার পত্রিকার ২৫শে ডিসেম্বর ২০১৬-এর সংখ্যায় প্রকাশিত, শান্তিনিকেতনের পৌষমেলা নিয়ে
লেখা, অরুণ মুখোপাধ্যায়ের “কবিতা ও বাউল সুরে মেতে, এ বারও ১৪০০ পত্রিকা স্টল” প্রবন্ধে তিনি
লিখেছেন, “প্রয়াত বাউল কবি সাহিত্যিক আশানন্দন চট্টরাজ যতদিন জীবিত ছিলেন কাঁধে বড় ব্যাগ নিয়ে
তিন দিনের জন্য চলে আসতেন পৌষ মেলায়। সন্ধ্যে থেকেই ১৪০০ স্টলে আস্তানা নিতেন। নিজের লেখা
ছড়া পড়তেন গান করতেন। অন্যদের ছড়া, কবিতা গান মন দিয়ে শুনতেন। মেলার মধ্যে এটা ওটা খেয়ে
এসে এই স্টলেই রাত্রিযাপন করতেন।”
সম্ভবত ১৯৭৬সালে, শিল্পী স্বপ্না চক্রবর্তীর কণ্ঠে “বড়লোকের বিটি লো” (গীতিকার রতন কাহার) এবং “বলি
ও ননদী” গান দুটি প্রথমে গীতিকারের নামের জায়গায় "প্রচলিত" বলে প্রকাশিত হয়েছিল পরে ৯৭-৯৮সালে
HMV থেকে “চয়নিকা এপার বাংলা ওপার বাংলার লোকগীতি” ক্যাসেটে “বলি ও ননদী” গানটি আশানন্দন
চট্টরাজের নামেই প্রকাশিত হয়, কিন্তু রতন কাহারের গানটির গীতিকার “পরম্পরাগত”-ই রয়ে যায়।
শিল্পী অতনু বর্মনের একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “স্বপ্না চক্রবর্তীর রেকর্ড যখন প্রকাশ পায় রতন
কাহার প্রচলিত লেখার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ক'রেছিলেন। কিন্তু প্রমাণ করতে পারেন নি—গানটির তিনিই
গীতিকার। গায়িকাও দায়িত্ব নেন নি। ফলে রেকর্ডে রতন কাহার মশাইয়ের নাম গীতিকার হিসাবে উল্লিখিত
হয়নি ৷ সম্ভবত জানো যে, আশানন্দনদা'র ক্ষেত্রেও অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল ৷ তবে উনি আইনের সাহায্যে
লড়ে তথ্য-প্রমাণাদি দাখিল ক'রে 'আর দুমুঠো চালে'র গীতিকারের মর্যাদা আদায় ক'রে নেন।”
কেউ যদি এই কবি-গীতিকার সম্বন্ধে আমাদের আরও তথ্য জানাতে পারেন তা হলে আমরা কৃতজ্ঞতাস্বরূপ
তাঁদের নাম এই পাতায় উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা জানাবো।
মিলনসাগরে আমরা কবি আশানন্দন চট্টরাজের গান তুলে তাঁকে মিলনসাগরের কবিদের সভায় আসন দিতে
পেরে ধন্য হলাম। আগামী প্রজন্মের কাছে তাঁর গান পৌঁছে দিতে পারলে আমাদের এই প্রয়াসের সার্থকতা।
উত্স -
কবি আশানন্দন চট্টরাজের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন।
আমাদের ই-মেল - srimilansengupta@yahoo.co.in
এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ৫.১২.২০১৮।
...