কবি বিশ্বজিৎ মাইতির কবিতা
*
বন্দনা
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি


দেবীবন্দনাকালে মুদ্রাচ্ছলে পুরোহিতের হাতের আঙ্গুলগুলি নড়ে উঠতেই শিরণ খেলে গেল
দেবীর চোখের পাতায়। পুরুষের এহেন শক্তির আচম্বিত পরিচয় পেয়ে দেবীত্বের হতাশায়
টলে উঠলো শ্বেত পাথরের বেদী। তারপর রাশি রাশি মোহর কোন  অলীক পথ
 বেয়ে
উঠে এলো পুরোহিতের সামনে। চকচকে  চোখে তাকাতে তাকাতে মন্ত্রোচ্চারণের ভেতর
অনায়াসে হু  হু শব্দে ঢুকে পড়ল দীর্ঘশ্বাস। দীর্ঘশ্বাস ও শিহরণের মধ্যবর্তী শূন্যতায়
অনবরত ঘন্টা নড়ে উঠছে। ফুল বেলপাতাসহ  একটি আধুলি ছুটে চলল দেবীর পদ

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বৃষ্টি কোনো ঘটনাই নয়
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি


বৃষ্টি কোনো ঘটনাই নয়
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এলো ,বৃষ্টি এলো ঝমঝমিয়েই
আসলে বৃষ্টি কোনো ঘটনাই নয়,
ঘটনা যা তা হলো --- লাল ধুলোর পথে
সাইকেল উড়িয়ে যেতে গিয়ে এক কিশোরী
ভিজে গেল আমূল বর্ষার জলধারায়,
তবু কিশোরীর ভিজে যাওয়া নয়
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি আসার কথাটাই
লোকমুখে প্রচারিত হলো জনে জনে,
কিশোরীর ভিজে যাওয়া  --- রটেনি কি?
রটেছিল খুবই গোপনে,
.       আসলে তো যার জন্য ভেজা
.        সে যুবক কখনো আসেনি
তাই ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি এলো
আসলে বৃষ্টি কোনো ঘটনাই নয়।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রবীন্দ্রনাথকে নবীন কথক
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

অতল চন্দ্রের মোহে রং মেখে নীল প্রজাপতি
গুটিসুটি দানা ঝাপটিয়ে উড়ে যায় ভোরের বাতাসে

বাতাসের পরপারে গন্ধমাদনের ধূমশীর্ষ জেগে থাকে।
#
এমন নির্জন দৃশ্যে অনন্যা তরখড়এর সঙ্গে দেখা হলে
কি করতেন আপনি!শ্রীযুক্ত রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর!
তখনও কি বাল্য প্রেমে অভিশাপ আছে জেনে
দস্তানা না ছুঁয়েই শিস দিতে দিতে বাড়ি ফিরতেন!
আমি এক নবীন কথক,আমাকে বলুন
সান্ধ্য-উপাসনায় ভালছেলেটির মুখ মনে করছে যে কিশোরী
তার প্রেমে কতখানি বলি ও কাঁকর মেশানো যেতে পারে!
যাতে শিল্প সরোদকর নাম্নী মেয়েটির
দুপুর রৌদ্রের মধ্যে একা এক বাড়ি ফেরা বেয়মানান লাগবে না
অধিকিন্তু  বিজ্ঞজনে হাততালি দেবে শিল্প সর্থকতায়।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বলগা
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

তোমাকে নিয়ে যে আমি নিরুদ্দেশে যাবো
আমার তো অশ্ব নেই,বলগা সব খানে।
ধূলিঝড়ে সমাচ্ছন্ন পথের দুপাশ
আমার ভাঁড়ারএ কোন জলনেই, জল কোথা পাবো!

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ছবি
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

যেভাবেই আঁকা হোক
তোমারই জলছবি ফুটে উঠতে থাকে ক্যানভাস জুড়ে
সলাজে নত আঁখি থেকে বিচ্ছুরিতআলো
আমার পাশুটে রং ডানার ওপর এসে পড়ে।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
শিল্করুট
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

সঙ্গী গাধাটির পিঠে বোঝা চাপিয়ে
শিল্করুট ধরে চলেছি সন্ধের মুখে।
টাকমাথা চৌকো চোয়াল বামন এক দেবদূত
আমাদের সামনে এসে দাঁড়ালেন মিসকালো জাদুদণ্ডটির সাহায্যে।
#
দেবদূতের মহিমা যদিও বুঝিনা ঠিকমতো,
তাঁর হাতের অমিত শক্তিধর জাদুদণ্ডটির লোভে
আপ্লুত হওয়ার ভান করে তাঁকে বলি------
“হে মহানুভব, আপনার কন্যাদের
পাণিপ্রার্থী হতে আমি অতীব উদগ্রীব।“
দেবদূত মহাশয় খুশি হলেন।
#
সেইদিন থেকে পাহাড়ের খাদ,চূড়া,উপত্যকা----
সমস্ত এলাকা পুরুষানুক্রমে আমার অধীন,
দেবদূতের কন্যাগণ বিন্তি খেলে দিন কাটায় নিশ্চিন্তে
অন্দরমহলে পাতা পারস্য গালিচায়।
#
কিন্তু আমার মিথ্যা ভাষণের পাপে
সঙ্গী গাধাটি পা পিছলে পড়ে গেলো
যোনিকল্প খাদ্যের গভীরে অতঃপর।
বরফে হারিয়ে গেল শিল্করুট।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
আসবাব
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

পরিচিত পথে দেখা হবে
কথা হবে, বহু বর্ণ কথা,
তবু কিছু ব্যথা থেকে যাবে---
ব্যথারা মূল্যবান আসবাব যেন ।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
বাইশে শ্রাবণ
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

শ্রাবণের কালো মেঘে ছেয়ে আছে সমস্ত আকাশ,
সে কারণে চারপাশ দেখাই যাচ্ছে না প্রায়।
অধিকিন্তু,যুবতীরা
উল্লসিত কদমের রেনু মেখে
সীমান্তপল্লীর রাস্তায় হেঁটে যাচ্ছে,
তাই আপনার বুঝতে ভুল হতেই পারে।
#
বর্ষার অমলতাসের ডালে
খেলা করছে দুটো কাঠবেড়ালি,
পাঠভবনের কয়েকজন খুদে পড়ুয়া
তাদের হাততালি দিয়ে ভীতসন্ত্রস্ত করে
মজা পাচ্ছে ছুটির দুপুরে---
এসব দেখতে দেখতেও আপনি ভুলে যেতে পারেন।
#
সোনাঝুরির ক্যানেলে
গেরুয়া রঙের জলরাশি দ্রুত ছুটে যাচ্ছে
প্রান্তিকের দিকে।
তার উচ্ছ্বসিত রূপ দেখতে দেখতেও
আপনি ভুলে যেতে পারেন।
ক্যানেলের জলে মাছ ধরায় ব্যস্ত
ভিজে সপসপে আদিবাসী কিশোরীর
উদ্ভিন্ন স্তনে আপনার চোখ আটকে যেতেই পারে---
আপনি ভুলে যেতেই পারেন
আজ বাইশে শ্রাবণ ।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
স্বাচ্ছন্দ্য
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

মাথা সোজা করে চোঁচা দৌড়েই
আমি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি---
একটু তেরচাভাবে কানকো মেরে চলার জনপ্ৰিয় পদ্ধতিটি
আমার ঘোর অপছন্দ ।
তাছাড়া চলার সময় একা একা নয়
একটি স্বপ্নের হাতে আঙুল ঠেকিয়ে চলাই আমার খুব পছন্দ ।
#
চারপাশে থিকথিকে কাদাজল,
এক সুড়ঙ্গের মধ্যে
মুখটা ছুঁচোল করে ঢুকিয়ে
একটু তেরচাভাবে কানকো মেরে
চলার চেষ্টা করতে হচ্ছে
কয়েক জন্ম ধরে অবস্থাবিপাকে ।
কর্মবিপাকে, কন্যাসমা
সদ্যযুবতীকে দেখে
সিটি দিচ্ছি---
পদ লিখছি তাকে নিয়ে
"কুচযুগ শোভিত মুক্তার হারে" ।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
চুনিবুড়ির কবিতা
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

কল্পনার ভেতর রঙিন আলোরবৃত্ত,
বৃত্তের ভেতর সবুজবুটিওয়ালা লাল রঙের পাখি,
পাখির হলুদ চঞ্চু আর খাবারের পাত্রে ভেজানো বাদাম---
এই কল্পনা করতেই হাঁফিয়ে উঠি,
এরপর পাখিটিকে বলতে পারি না,
"হরি নাম থামাও,গুপ্ত অস্ত্র সব বের করো,
হাতে নাও,ঝোপের আড়ালে চলে যাও" ।
#
চুনিবুড়ির জলে তাই ভেসে যাচেছ
সবুজ বুটিওয়ালা হলুদ রঙের পাখি

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর