কবি বিশ্বজিৎ মাইতির কবিতা
*
ম্যাজিক
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

ঘোড়াটি আড়াই ঘর চালের উচ্ছ্বাসে
গলাটি উপরে তুলে যেমনি হ্রেষাধ্বনি করে
অমনি দীর্ঘ এক তরবারি নেমে এসে
গলাটি ঘচাং ফু কেটে নিল।
পেছনের শাদা পর্দায় ছিটকে পড়ল রক্ত
বাচ্চা বুড়ো সকলেই ভয়ে
ঘেমে নেয়ে একাকার হলের ভেতর।
#
রঙিন পোশাক পরা এক মেয়ে এসে
কাটা মুন্ড ঘোড়াটির লিঙ্গে হাত রাখতেই
মরা ঘোড়া পুনরায় জ্যান্ত হয়ে
গলাটি উপরে তুলে পুনরায় হ্রেষা ধ্বনি করে

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
প্রাতঃস্মরণীয়
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

আমার একটাই লক্ষ্য এ জীবনে---
সুঁচ হয়ে ঢুকে গিয়ে  
ফাল হয়ে বেরোব প্রান্তরে।
আমাকে দেখেই
লোকজন সমীহ করবে খুব,ভয় পাবে---
ভাববে,খুব চকচকে,ধারালো ও দামি ।
#
সুঁচ হয়ে ঢুকে গিয়ে
ফাল হয়ে বেরোলে প্রান্তরে
লোকে ভাববেই প্রাতঃস্মরণীয় ।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
দৌড়
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

বাঘের ভয়ে রাস্তা দৌড়াচ্ছে
জঙ্গলের ভেতর এঁকে বেঁকে,
হরিণটি দাঁড়িয়ে আছে স্থির।
সন্ধ্যে হওয়ার ভয়ে আকাশ ছুটছে দ্রুত,
পাখি স্থির ডানা মেলে আছে ।
#
প্রতি রাতে হাতবদল হওয়া মেয়ে ভাবে
কাল সকালে ঘুম ভেঙে দেখবে
বাড়ির উঠোন এসে দাঁড়িয়েছে
তাদের পতিতাপল্লীর গলিতে---
বকুলগাছের নীচে দাঁড়িয়ে আছে বাবা ।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
মধুর কবিতা
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

আমাদের গ্রামের ছেলে-মেয়ে নির্বিশেষে
সবারই নাম মধু।
পায়ে গোদ বয়স্ক লোকটির নাম
গোদা মধু।
মুদির দোকানির নাম
ট্যারা মধু ।
বছর ছয়ের দাঁতফোকলা ছেলেটির নাম
ফোকলা মধু ।
#
মধু মারা গেলে
মধু কাঁধ দেয় শ্মশান যাত্রায় ।
মধু মধুকে মোটেই সহ্য করতে পারে না ।
মধু মধুর দিকে তাকিয়ে
আর চোখ ফেরাতে পারে না ।
মধুর মেয়েকে
মধু ফুসলে নিয়ে চলে যায়
আমাদের ভুবনগ্রামে।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
রূপকথা
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

এক দেশে এক রাজা
ছিলেন রাজসভাতে বসে---
রাজার মনে সেই সময়ে
যে-কথা ঝুঁকে পড়ছিল,
পিঠ খোলা তার
বুকের আঁচল মাটিতে লুটিয়ে কাদা ।
#
সে-রাজা-বা কেমন!
সে-কথাই-বা কী!
#
কিচ্ছু না--কিচ্ছু না--
এক বুড়ি তার ধেড়ে নাতিকে
রূপকথা শোনাচ্ছিল ।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর
*
ফুড়ুৎ
কবি বিশ্বজিৎ মাইতি

প্রতিটি মুহূর্ত ছুঁতে চাইছে আবহমানকে--
রূপ ছুটে যাচ্ছে অরূপের দিকে অনাবশ্যক।
অসীম ধরা দিতে চাইছে সীমার বাহুপাশে।
#
সিংহদরজা ও গুপ্তপথ দু-জনেই ভয়ে সিঁটিয়ে উঠছে ।
#
অন্দরমহল ও রাজসভার মধ্যে
ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ উড়ে বেড়াচ্ছে একটি পাখি ।

.                 ****************       
.                                                                               
সূচীতে . . .   


মিলনসাগর