| কবি আলিরাজার বৈষ্ণব পদাবলী |
| কোথাতে রাখিমু লুকাইয়া রে ভণিতা আলিরাজা কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, ১৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ পঞ্চম॥ কোথাতে রাখিমু লুকাইয়া রে। পিরীতি তোরে কিরূপে রাখিমু লুকাইয়া॥ দারুণি আনল প্রেমে ঠাকুরের তনু ঘর্ম্মে ত্রিভুবন পুড়ি করে ছার। মহারত্ন প্রেম তোর রাখিতে কি শক্তি মোর সর্ব্বজগৎ যেই অধিকার॥ যে পালে পিরীতি সার ত্রিলোক নিছনি তার কান্ত সোহাগিনী সে সকল। যে জন পিরীতি ছাড়া সে সব জীয়তে মরা আদি অন্তে নাই তার ফল॥ প্রেম রত্ন নিধি বস্তু গুরুপদ সিদ্ধিরস্তু হীন আলিরাজা মাগে দান। জানাও প্রেমের পাঠ করাও পিরীতি নাট সর্ব্ব অঙ্গে গাহে প্রেম গান॥ এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত আবদুল কাদির, রেজাউল করীম সম্পাদিত বাঙ্গালী মুসলমান কবিদের রচিত কবিতাবলীর সংকলন “কাব্য-মালঞ্চ”, ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কবির "ধ্যানমালা" পুথির গান। ॥ ভাব-সম্মিলন॥ কোথায় রাখিমু লুকাইয়া রে। পিরীতি তোরে কিরূপে রাখিমু লুকাইয়া॥ ধ্রু। দারুণ অনল প্রেমে ঠাকুরের তনু ঘেমে’ ত্রিভুবন পুড়ি’ করে ছার। মহারত্ন প্রেম তোর রাখিতে কি শক্তি মোর সর্ব্বজগৎ যাহে অধিকার॥ যে রাখে পিরীতি সার ত্রিলোক নিছনি তার কান্ত-সোহাগিনী সে সফল। যে-জন পিরীতি ছাড়া সে-জন জীয়ন্তে মরা আদি অন্ত নাই তার ফল॥ প্রেম-রত্ন নিধি-বস্তু গুরুপদ সিদ্ধিরস্তু হীন আলি রাজা মাগে দান। জানাও প্রেমের পাঠ করাও পিরীতি-নাট সর্ব্ব-অঙ্গ গাহে প্রেম-গান॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| হাম নারী অতি হরি প্রেমেতে উদাস ভণিতা আলিরাজা কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত “কাব্য-রত্নমালা” বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন, ১৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ আসাবরী॥ হাম নারী অতি হরি প্রেমেতে উদাস। তোমার পিরীতি হরি হইল রাধার বৈরী জাতিধর্ম্ম করিল বিনাশ॥ তোমার পিরীতি বাদে কলঙ্কিনী হৈলুম রাধে তথাপি তোমার মনে রিষ১। পন্থ নিরখিয়া থাকি কায় প্রাণে ভজি ডাকি কান্দিয়া পোহাই অহর্নিশ॥ প্রেমমূলে দাসী করি কি হেতু না চাহ ফিরি নিশি দিশি অই মোর দুখ। রাধার পরাণ তনু মীন প্রায় জল বিনু না দেখি হরির চন্দ্র মুখ॥ হীন আলিরাজা বলে হরি রাধা পদতলে শুন ঠাকুরাণী রাধা সার। যে রামা হরিরে ভজে কদাচিত নাহি তেজে হরি নিত্য বিদিতে রাধার॥ রিষ - দ্বেষ। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বনমালী শ্যাম তোমার মুরলী জগপ্রাণ ভণিতা আলিরাজা / অলিরাজা কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির এই পদটি সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকার ১৩২১বঙ্গাব্দের (১৯১৪ খৃষ্টাব্দ) অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ১ম খণ্ড, ১ম সংখ্যা, ৭৮-পৃষ্ঠা, ধ্যানমালা পুথির বিবরণে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে । ॥ রাগ-মালব॥ বনমালী শ্যাম, তোমার মুররী জগপ্রাণ॥ ধুআ। শুনি মুররীর ধ্বনি, ভ্রম যাএ দেব মুনি ত্রিভুবন হএ জর জর। কুলবতী জথ নারী, গৃহবাস দিল ছাড়ি, শুনিআ দারুণি বংশী স্বর॥ জাতি ধর্ম্ম কুলনীতি, m তেজি বন্ধু সব পতি, নিত্য শুনে মুররীর গীত। বংশী হেন শক্তি ধরে, তনু রাখি প্রাণি হরে, বংশী মূলে জগতের চিত॥ জে শুনে তোমার বংশী, সে বড় দেবের অংশী, প্রচারি কহিতে বাসি ভয়। গৃহ বাস কিবা সাধ, বংশী মোর প্রাণনাথ, গুরুপদে আলি রাজা কয়॥ এই পদটি ১৩৪৫ বঙ্গাব্দের অগ্রহায়ণ সংখ্যায় (নভেম্বর ১৯৩৮খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, সচ্চিদানন্দ ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বঙ্গশ্রী”পত্রিকার, কনক বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বঙ্গের মুসলমান বৈষ্ণব-কবি” প্রবন্ধে, ৬৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বনমালী শ্যাম তোমার মুররী জগপ্রাণ॥ ধ্রু॥ শুনি মুরলীর ধ্বনি ভ্রম যায় দেব মুনি ত্রিভুবন হএ জরজর। কুলবতী যত নারী গৃহবাস দিল ছাড়ি শুনিআ দারুণ বংশী স্বর॥ জাতি ধর্ম কুল নীতি তেজি বন্ধু-সব পতি নিত্য শুনে মুরলীর গীত। বংশী হেন শক্তি ধরে তনু রাখি প্রাণি হরে বংশীমূলে জগতের চিত॥ যে শুনে তোমার বংশী সে বড় দেবের অংশী প্রচারি কহিতে বাসি ভয়। গৃহবাস কিবা সাধ বংশী মোর প্রাণনাথ গুরুপদে অলিরাজা কয়॥ এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত আবদুল কাদির, রেজাউল করীম সম্পাদিত বাঙ্গালী মুসলমান কবিদের রচিত কবিতাবলীর সংকলন “কাব্য-মালঞ্চ”, ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কবির ধ্যানমালা পুথির গান। ॥ মুরলী-মাহাত্ম॥ বনমালী শ্যাম তোমার মুরলী জগপ্রাণ॥ ধুয়া। শুনি’ মুরলীর ধ্বনি ভ্রম যায় দেব মুনি ত্রিভুবন হয় জরজর। কুলবতী যত নারী গৃহবাস দিল ছাড়ি’ শুনিয়া দারুণ বংশী-স্বর॥ জাতি-ধর্ম্ম কুল-নীতি ত্যজি’ সব পতি-প্রীতি নিত্য শোনে মুরলীর গীত। বংশী হেন শক্তি ধরে, তনু রাখি’ প্রাণ হরে, বংশী-মূলে জগতের চিত॥ যে শুনে তোমার বংশী সে বড় দেবের অংশী, প্রচারি’ কহিতে বাসি ভয়। গৃহ-বাসে কিবা সাধ, বংশী মোর প্রাণনাথ, গুরু-পদে আলি রাজা কয়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সই না লো হে, আমার দুঃখ-সাক্ষী পীতাম্বর ভণিতা আলিরাজা / অলিরাজা কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার আষাঢ়, ১৩০৮ সংখ্যায় (জুন ১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, ১৭৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গীত - মারহাটি॥ সই না লো হে, আমার দুঃখ-সাক্ষী পীতাম্বর॥ সর্ব্ব জগ দেখি ধান্ধা। অই চতুর্ভুজ বিনে, আনরে না মানে মনে, সে রাঙ্গা চরণে প্রাণি-বান্ধা॥ বিষ লাগে বসন্তের বাও। নগরে বেড়াও তুমি, কুলবতী বধু আমি, অবলাকে দেখা দিয়া যাও॥ রহিতে না দিলা সুখে। আমি রাজা গাহে কালা, সহন না যাএ জ্বালা, বিষানল দিলা মোর বুকে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আজু কেনে অন্ধকার বদন চান্দ ভণিতা আলিরাজা / অলিরাজা কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার আষাঢ়, ১৩০৮ সংখ্যায় (জুন ১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, ১৮০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ গীত - বিভাস॥ আজু কেনে অন্ধকার বদন চান্দ॥ ধু। জ্যোতিহীন দেখি মুখ, বিদরে দারুণি বুক, শিরেত লাগিল বজ্রাঘাত। কোন্ দুঃখে মনে দাগ, দান দিমূ যেই মাগ, হাসি বাঁশী ফুক হরিনাথ॥ যদি হারি মধু হাসে, কোটি জন্ম পাপ নাশে, বিরহিণী বাঞ্ছা হয় পূর। পদ্মলাভ জগস্বামী, নধর-যৌবনী আমি, সেই পদ নিছনি যাম্ দূর॥ গুরু কৃপা সিন্ধু জলে, হীন আলি রাজা বোলে, প্রেমহেতু গোপাল বিকল। ভেদ নাহি রাধা কানু, জর জর যুগ তনু, সহে দুঃখ বিরহ আনল॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |