কবি আলিরাজার বৈষ্ণব পদাবলী ও অন্যান্য গীত
*
শুন প্রাণনাথ নিবেদন পদ্মপদে বিরহ-সম্বাদ
ভণিতা আলিরাজা
কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার শ্রাবণ, ১৩০৮ সংখ্যায় (জুলাই
১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, ২৪৫-পৃষ্ঠায়, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত - বৈরাগী॥

শুন প্রাণনাথ নিবেদন পদ্মপদে বিরহ-সম্বাদ॥ ধ্রু।
তুমি ত চিকণ কালা,                        গলে নানা ফুল-মালা,
যার নাম নিলাজ কানাই।
তুমি আমি এক জাতি,                     জন্ম ভিন্ন হৈনু জ্ঞাতি,
সে নিমিত্তে তোরে বুলি ভাই॥
যার হাতে হেমজবাঁশী,                    সে মুখে সততে হাসি,
নাথ বৃন্দাবন শ্যাম।
যদি কৃপা কর বন্ধে,                         লেখিয়া কমল পদে,
রাখ বিরাহিণী রাধা নাম॥
হীন আলি রাজা ভণে,                      এই শ্রজ্ঝা কায় মনে,
ঐ রাঙ্গা চরণে হই রেণু।
সম্মুখে সাগর ধার,                              সঙ্কট হইতে পার,
উদ্ধার না দেখি গুরু বিনু॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
সহন না যায় দুঃখ আর বন্ধুর লাগি
কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির
কবি আলিরাজা
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার শ্রাবণ, ১৩০৮ সংখ্যায় (জুলাই
১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, ২৪৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত - ভূপালী॥

সহন না যায় দুঃখ আর বন্ধুর লাগি॥ ধ্রু।
হাহা হরি কি করিলা,                         অবলারে ভুলাইলা,
ভাঙ্গিমা করিয়া প্রেম-ছলে।
নানা গীত যন্ত্র শুনি,                              কুলবধু উদাসিনী,
হইয়া পড়িনু তোর ভোলে॥
তোমার কঠিন প্রাণী,                        ত্যজি ভজ মান রাণী,
ছাপাইয়া কোন দোষ পাই।
কামিনীর কান্ত বিনে,                          লক্ষ্য নাই ত্রিভুবনে,
বেয়াকুল কানুরে হারাই॥
হীন আলি রাজা গায়,                       ভজ রাণি! রাঙ্গা পায়,
উদেশিয়া পূজ রায় মনে।
হেন প্রভু অধিকার,                          সেবক না ত্যজে যার,
নিজ-দাস রাখিব চরণে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
দেখ দেখ হে প্রাণের সই
কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির
কবি আলিরাজা
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার শ্রাবণ, ১৩০৮
সংখ্যায় (জুলাই ১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী”
প্রবন্ধে, ২৪৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত - নট॥

দেখ দেখ হে প্রাণের সই!
শ্যাম চিকণিয়া বৃন্দাবনে॥ ধ্রূ।
বৃন্দাবনে রস-রঙ্গে রহিয়াছে হরি।
তান হেতু ষোল শ গোপিনী দহি মরি॥
না দেখি কমল-পদ না শুনি মুরলী।
চল চন্দ্রমুখ দেখি সকল কুমারী॥
গুরু-কৃপা আলি রাজা রচিল পয়ার।
হরি বিনু গোপীর যৌবন অন্ধকার॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
পিয়া কি করিলা মোরে
ভণিতা আলিরাজা
কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার শ্রাবণ, ১৩০৮
সংখ্যায় (জুলাই ১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী”
প্রবন্ধে, ২৪৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত - মাধবী॥

পিয়া কি করিলা মোরে।
তোমার প্রেমের জ্বালে মরম বিদরে॥ ধু।
প্রেম যন্ত্র গীত শুনি তনু জলাকার।
শুষ্ক কাষ্ঠ দ্রবে, বজ্রশীলা বহে ধার॥
নব-রত্ন জিনিয়া পীরিতি কল বড়।
যার বাণে ত্রিভুবন হয় জর জর॥
মাধবী পীরিতি-বশে আলি রাজা গায়।
যার বাণে তিন লোক মারিয়া জীয়ায়॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কমল চরণে ঠাঁই মাগম্ সততে
ভণিতা আলিরাজা
কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার শ্রাবণ, ১৩০৮ সংখ্যায় (জুলাই
১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, ২৪৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত - কেদার॥

কমল চরণে ঠাঁই মাগম্ সততে।
তুয়া বিনু প্রাণেশ্বর নাহিক জগতে॥ ধু।
অবলা কুমারী আমি,                        সূক্ষ্ম-তনু জগ-স্বামী,
অই দুঃখ মরমে বিশেষ।
কামিনী-শরীর পীন,                           কামানলে রাত্রিদিন,
তনু দহে পিয়া পরদেশ॥
প্রাণনাথ বুলি ডাকি,                       নিত্য পন্থ হেরি থাকি,
কত দিনে দরশন পাম্।
স্বামীকে না দেখি পাশ,                        বিষ-প্রায় গৃহ-বাস,
পিয়ার উদ্দেশে শ্রদ্ধা যাম্॥
পীরিতি রতন-মূলে,                       হীন আলি রাজা বোলে,
প্রাণ-সখা-পদে ব্রত করি।
কেদার হেমন্ত ঘরে,                        বঞ্চে নিত্য প্রিয়েস্বরে,
বসন্ত হৈল প্রাণ বৈরী॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
তোমার মহিমা সিন্ধু কি বুঝিতে পারি
ভণিতা আলিরাজা
কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার শ্রাবণ, ১৩০৮
সংখ্যায় (জুলাই ১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী”
প্রবন্ধে, ২৪৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত - বেলোয়ার॥

তোমার মহিমা সিন্ধু কি বুঝিতে পারি।
মাঠে থাক ধেনু রাখ বাজাও মপরারি॥
গগনের সুর-শশী রূপের সাগর।
সমস্ত নগরে হরি প্রতি ঘরে ঘরে॥
অতুল মহিমা মাধুরী পূরই মুরারি।
আলাপনে গৃহ ছাড়ে কুলবতী নারী॥
ষোল শত গোপিনী সাজিয়া একেবারে।
মাঠে গিয়া ভক্তি-মনে পূজিল হরিরে॥
আলি রাজা গাহে প্রেম-রস ভক্তি-ভাষ।
মাঝে হরি করি গোপী নাচে তারি পাশ॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
শ্যাম! কিরূপে দেখিমু তোরে
ভণিতা আলিরাজা
কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার আশ্বিন, ১৩১০ সংখ্যায়
(সেপ্টেম্বর ১৯০৩), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত॥

শ্যাম! কিরূপে দেখিমু তোরে,
কালা! কিরূপে পাইমু তোরে॥ ধু।
দূরদেশী সাথী(১)                       করিলাম পিরীতি,
অবলা গোপালের নারী।
দূরদেশী ছিল,                              ঘরে চলি গেল,
না চাহিলাম নয়ন ভরি’॥
পিরীতির অনলে,                        সর্ব্ব-অঙ্গ জ্বলে,
না দেখি শ্যামের মুখ।
এই তিন ভুবনে,                         কালা-কানু-বিনে,
কোন কুলে নাহি সুখ॥
মোর দুঃখ ভার,                            গুরুপদ সার,
কহে আলি রাজা হীনে।
ভাই পাড়াপাড়ি(২)                        হৃষ্ট-ধন কড়ি,
সার না দেখি তুয়া-বিনে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
নবী বলে শুন আলী অপরূপ বাণী
কবি আলিরাজার নবীর বন্দনার পদ
১৯৪৫ সালে প্রকাশিত আবদুল কাদির, রেজাউল করীম সম্পাদিত বাঙ্গালী মুসলমান
কবিদের রচিত কবিতাবলীর সংকলন “কাব্য-মালঞ্চ”, ৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কবির জ্ঞানসাগর গ্রন্থ থেকে।

॥ জ্ঞানসাগর॥

নবী বলে শুন আলী অপরূপ বাণী।
প্রভুর আগম-তত্ত্ব সুরস কাহিনী॥
যেই সবে ভাব তত্ত্বে করিবে খেয়াল।
সব হ’তে শুদ্ধ কাম, প্রভু জানে ভাল॥

অপরূপ সে কখন শুন আলী তুমি।
প্রভুর গোপন রত্ন তত্ত্ব সে কাহিনী॥
এই সব বৃথা নহে শুন শুদ্ধ সার।
মোর পাছে পয়গম্বর না জন্মিব আর॥
মোর পরে হইবেক কবি ঋষিগণ।
প্রভুর গোপন রত্নে বান্ধিবেক মন॥
শাস্ত্র সব ত্যাগ করি ভাবে ডুম্ব দিয়া।
প্রভু-প্রেমে প্রেম করি’ রহিবে জড়িয়া॥
মোর পাছে হ’বে শুদ্ধ ফকির প্রধান।
গুরুর পাইবে দেখা প্রভু নিজ স্থান॥
তার সঙ্গে দেখা করে আপে নিরঞ্জন।
জ্যোতেঃ জ্যোতিঃ মেশামিশি হৈবে ত্রিভুবন॥
তাহার সমান মিত্র ভবে না জন্মিবে।
প্রভুর গোপন রত্ন যোগী সে পাইবে॥
যত কবি ঋষিকুলে, আপে নিরঞ্জনে।
সর্ব্ব হ'তে বড় কৈল এ তিন ভুবনে॥
আগম নিগম তত্ত্ব জানে ঋষিগণে।
শক্তি কেহ নাহি ধরে তাহার সদনে॥
যোগী সবে বড় কৈল জগৎ মাঝারে।
তার সম মিত্র প্রভু না জানে কাহারে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
করুণাদধি নানান বরণী শ্যামা কালী
আলিরাজার শ্যামা সঙ্গীত
ভণিতা আলিরাজা
কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার আষাঢ়, ১৩০৮ সংখ্যায়
(জুন ১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, ১৮০-পৃষ্ঠায়,
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত - মালশী॥

করুণাদধি(১) নানান বরণী শ্যামা কালী॥ ধ্রু।
তুমি নারায়ণ হরি,                        তুমি হর ব্রহ্মা গৌরী,
দেবের দেবতা তুয়া মূল।
অষ্ট লোকে পরিহার,                         রাতুল চরণে যার,
শরণ মাগে দেবকুল॥
তুমি গুরু মাতা পিতা,                      ত্রিলোক পরমদাতা,
তারিণী করুণাসিন্ধু সার।
জগত রুদ্রাণী তনু,                        শিব লীলা রাধা কানু,
সত্ত্বঃ রজঃ তমঃ শক্তি যার॥
হীন আলি রাজা বোলে,                     শ্যামকালী পদতলে,
শক্তি লীলা শঙ্কর-ঘরিণী।
সূরবংশী হর গৌরী,                     চন্দ্র অংশী রাধা হরি,
তত্ত্বরূপী নবীন যৌবনী॥

১ - করুণাদধি - কুণোদধি, করুণা-সাগর।

ই পদটি হুগলী থেকে, যদুনাথ কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধনে প্রকাশিত “পূর্ণিমা” মাসিক পত্রিকার ১৩১১
বঙ্গাব্দের দ্বাদশ বর্ষ সংখ্যায় (জুন ১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “প্রাচীন সাধন সঙ্গীত”
প্রবন্ধে, ৫৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত - মালশী॥

করুণাদধি নানান বরণী শ্যামা কালী! ধু।
তুমি নারায়ণ হরি,                        তুমি হর ব্রহ্মা গৌরী,
দেবের দেবতা তুয়া মূল।
অষ্ট লোকে পরিহার,                        রাতুল চরণে যার,
শরণ মাগে নর দেবকুল॥
তুমি গুরু মাতা পিতা,                    ত্রিলোক পরম দাতা,
তারিণী করুণা সিন্ধু সার।
জগত রুদ্রাণী তনু,                        শিব লীলা রাধা কানু,
সত্ত্ব রজঃ তমঃ শক্তি যার॥
হীন আলি রাজা বোলে,                    শ্যাম কালী পদতলে,
শক্তিলীলা শঙ্কর ঘরিণী।
সূর বংশী হর গৌরী,                    চন্দ্র অংশী রাধা হরি,
তত্ত্বরূপী নবীন যৌবনী॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কালিকার মহালীলা ভয়ে কাঁপে
ভণিতা শিশু আলিরাজা
আলিরাজার শ্যামা সঙ্গীত
কবি আলিরাজা ওরফে কানু ফকির
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার শ্রাবণ, ১৩০৮
সংখ্যায় (জুলাই ১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী”
প্রবন্ধে, ২৪৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত - শুদ্ধ মালশী॥

কালিকার মহালীলা ভয়ে কাঁপে
দেবগণ শৈল সিন্ধু শিলা॥ ধ্রু।
অষ্ট অলঙ্কার চণ্ডী করি পরিধান।
মহানন্দে লৈল গৌরী যুদ্ধের সাজান॥
সিংহ আরোহণ কালী হস্তেত কৃপাণ।
সুরবর্ণ ত্রিনয়নী সমরে পয়ান॥
যুদ্ধে প্রবেশিল দেবী মন্দ মন্দ হাসি।
রক্তপানে মত্ত অসুর কাটে রাশি রাশি॥
মুক্তকেশে ভবানী দাণ্ডাই শিব বক্ষে।
নাচে পাগলরূপে, অসুর নাশে লক্ষে লক্ষে॥
শিশু আলি রাজা ভণে শ্যামকালিকাদাস।
জগমোহনী লাল-চরণী ত্রিলোক-বিনাশ॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর