অনন্ত ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
দারুণ সংসারের চরিত্র দেখিয়া
কবি অনন্ত
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা,২য় ভাগ, ৩৬শ পল্লব, প্রার্থনা,
২৯৯৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

দারুণ সংসারের                চরিত্র দেখিয়া
পরাণে লাগিছে ভয়।
কাল সাপের মুখে             শুতিয়া রয়্যাছি
কখন কি জানি হয়॥ ধ্রু॥
মনের ভরমে                  ঐরিরে সেবিলু
তেজিয়া বান্ধব-লোক।
কাচের ভরমে                  মাণিক হারায়্যা
এখন হইছে শোক॥
সুখের লাগিয়া                    এ ঘর বান্ধিলু
করিলুঁ দুখের তরে।
জ্বলন্ত আনল                     দেখিয়া পতঙ্গ
ইছায়ে পুড়িয়া মরে॥
বিষয় গরলে                         ভরল দেহ
আর কি ঔষধি আছে।
অনন্ত কহয়ে                        সাধু-ধন্বন্তরি
চরণে শরণ পাছে॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম পরিশিষ্ট, ৩৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

দারুণ সংসারের চরিত্র দেখিয়া পরাণে লাগিছে ভয়।
কাল সাপের মুখে শুতিয়া রহিয়াছি কখন কি জানি হয়॥ ধ্রু॥
মনের ভরমে অরিরে সেবিনু তেজিয়া বান্ধব লোক।
কাচের ভরমে মাণিক হারাইয়া এখন হইছে শোক॥
সুখের লাগিয়া এ ঘর বান্ধিনু করিনু দুঃখের তরে।
জ্বলন্ত অনল দেখিয়া পতঙ্গ ইচ্ছায় পুড়িয়া মরে॥
বিষয় গরলে ভরল এ দেহ আর কি ঔষধ আছে।
অনন্ত কহয়ে ষাধু ধন্বন্তরি চরণ স্মরণ পাছে॥


ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদু খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

প্রার্থনা
॥ তথা রাগ - জপতাল॥

দারুণ সংসারের,                চরিত্র দেখিয়া,
পরাণে লাগিছে ভয়।
কাল সাপের মুখে,             শুতিয়া রৈয়াছি,
কখন কি জানি হয়॥ ধ্রু॥
মনের ভরমে,                  অরিরে সেবিনু,
ত্যজিয়া বান্ধব লোক।
কাচের ভরমে,                  মাণিক হারাইয়া,
এখন হইছে শোক॥
সুখের লাগিয়া,                    এ ঘর বান্ধিনু,
করিনু দুঃখের তরে।
জ্বলন্ত অনল,                     দেখিয়া পতঙ্গ,
ইচ্ছায়ে পুড়িয়া মরে॥
বিষয় গরল,                         ভরল দেহ,
আর কি ঔষধি আছে।
অনন্ত কহয়ে,                        সাধু ধন্বন্তরি-
চরণে-শরণ পাছে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

দারুণ সংসারের                চরিত্র দেখিয়া
পরাণে লাগিছে ভয়।
কাল সাপের মুখে             শুতিয়া রয়্যাছি
কখন কি জানি হয়॥ ধ্রু॥
মনের ভরমে                  অরিরে সেবিলুঁ
তেজিয়া বান্ধব লোক।
কাচের ভরমে                  মাণিক হারায়্যা
এখন হইছে শোক॥
সুখের লাগিয়া                    এ ঘর বান্ধিলুঁ
করিলুঁ দুখের তরে।
জ্বলন্ত আনল                     দেখিয়া পতঙ্গ
ইছায়ে পুড়িয়া মরে॥
বিষয় গরলে                         ভরল এ দেহ
আর কি ঔষধ আছে।
অনন্ত কহয়ে                        সাধু ধন্বন্তরি-
চরণে শরণ পাছে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দারুণ সংসারের চরিত্র দেখিয়া                
পরাণে লাগিছে ভয়।
কাল সাপের মুখে শুতিয়া রয়্যাছি              
কখন কি জানি হয়॥
মনের ভরমে অরিরে সেবিলুঁ                
তেজিয়া বান্ধব লোক।
কাচের ভরমে মাণিক হারায়্যা                
এখন হইছে শোক॥
সুখের লাগিয়া এ ঘর বান্ধিলুঁ                
করিলুঁ দুখের তরে।
জ্বলন্ত আনল দেখিয়া পতঙ্গ                
ইছায়ে পুড়িয়া মরে॥
বিষয় গরলে ভরল এ দেহ                
আর কি ঔষধ আছে।
অনন্ত কহয়ে সাধু ধন্বন্তরি                
চরণে শরণ পাছে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
গোরা নাচে প্রেম বিনোদিয়া
ভনিতা অনন্ত / বলরাম দাস
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  
৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ১৬০-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥
      
গোরা নাচে প্রেমবিনোদিয়া। অখিল-ভুবনপতি বিহরে
নদীয়া॥ দিক্ বিদিক্ না জানে গোরা নাচিতে নাচিতে।
চান্দমুখে হরি বোলে কাঁদিতে কাঁদিতে॥ গোলোকের প্রেম-
ধন জীবে বিলাইয়া। সঙ্কীর্ত্তনে নাচে গোরা হরিবোল বলিয়া॥
এ ভুমি আকাশ ভরি জয় জয় ধ্বনি। গায়য়ে অনন্তগুণ দিবস
রজনি॥


ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৪র্থ তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ১৬০-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তুড়ী॥
      
গোরা নাচে প্রেমবিনোদিয়া।
অখিলভুবনপতি বিহরে নদীয়া॥
দিগ্বিদিগ্ না জানে গোরা নাচিতে নাচিতে।
চান্দমুখে হরি বোলে কান্দিতে কান্দিতে॥
গোলোকের প্রেমধন জীবে বিলাইয়া।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরি বোল বলিয়া॥
প্রেমে গর গর অঙ্গ মুখে মৃদু হাস।
সে রসে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাস১॥

১ - গ্রন্থান্তরে ভণিতা---
এ ভুমি আকাশ ভরি জয় জয় ধ্বনি।
গাওয়ে অনন্ত গুণ দিবস রজনী॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহারাস
॥ তুড়ি - যোত সমতাল॥

গোরা নাচে প্রেম বিনোদিয়া।
অখিল ভুবনপতি বিহরে নদিয়া॥
দিগবিদিগ নাহি জানে নাচিতে নাচিতে।
চাঁদমুখে হরি বলে কাঁদিতে কাঁদিতে॥
গোলোকের প্রেমধন জীবে বিলাইয়া।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরি বোল বলিয়া॥
প্রেমে অঙ্গ ঢর ঢর মুখে মৃদু হাস।
এক মুখে কি কহব বলরাম দাস॥

ই পদটি ১৯৫৬ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী অমরচৈতন্য সম্পাদিত
বলরামদাসের পদাবলী, ১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তোড়ী ॥

গোরা নাচে প্রেম বিনোদিয়া ।
অখিল ভুবনপতি বিহরে নদীয়া  ॥
দিগ্বিদিগ না জানে গোরা নাচিতে নাচিতে ।
চান্দমুখে হরি বোলে কান্দিতে কান্দিতে  ॥
গোলোকের প্রেমধন জীবে বিলাইয়া  ।
সংকীর্ত্তনে নাচে গোরা হরি বোল বলিয়া  ॥
প্রেমে গর গর অঙ্গ মুখে মৃদু হাস  ।
সে রসে বঞ্চিত ভেল বলরাম দাস ॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
নাহিতে যাইতে রঙ্গে জলদ-শ্যামের অঙ্গে
কবি অনন্ত
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার”
সংকলনের পদ।

শ্রীরাধার পূর্বরাগ
॥ ভাটিয়ারি॥

নাহিতে যাইতে রঙ্গে                জলদ-শ্যামের অঙ্গে
দীঠি পড়িয়া গেল মোর।
শ্যাম-রূপ নিরখিতে                সব দুঃখ দূরে গেল
সুখের সায়রে নাহি ওর॥
আকুল হইয়া চিতে                      দীগ নেহারিতে
শ্যামরময় সব দেখি।
হয়ার মাঝারে                               ওনব-নাগর
দেখিয়া মুদিলুঁ আঁখি॥
অঙ্গের ভূষণ                                কটির বসন
গলিয়া গলিয়া পড়ে।
মুকুত-কবরী                             পিঠে লোটায়ল
পরাণ না রহে ধড়ে॥
ইষত হাসিয়া                              বাহু পসারিয়া
যতনে করিল কোলে।
কর-পরশন নয়                       কিছুই নাহিক কয়
ভাসিলুঁ আনন্দ-লোরে॥
কাঁপিতে কাঁপিতে পথে             দোসর নাহিক সাথে
আবেশে পশিলুঁ ঘরে।
মাই ধাই আসি                          পুছে কাছে বলি
করিতে নারিলুঁ উতরে॥
“গা তোর শীতল                        তবে কেমন জ্বর
কিছুই লখিতে নারি।“
ঠারে অনন্ত কয়                     জ্বর-জ্বালা কিছু নয়
কানু কব়্যাছে মন-চুরি॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদু খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ ভাটিয়ারী - ধানশী॥

নাহিতে যাইতে রঙ্গে                জলদ-শ্যামের অঙ্গে
দিঠি পাড়য়া গেল মোর।
শ্যামরূপ নিরখিতে                  সব দুঃখ গেল দূরে
সুখের সায়রে নাহি ওর॥
আকুল হইয়া চিতে                       দীগ নেহারিতে
শ্যামর-ময় সব দেখি।
হিয়ার মাঝারে                             ও নব-নাগর
দেখিয়া মুদিলুঁ আঁখি॥
অঙ্গের ভূষণ                               কটীর বসন
গলিয়া গলিয়া পড়ে।
মুকুত কবরী                             পিঠে লোটায়ল
পরাণ না রহে ধড়ে॥
ইষত হাসিয়া                             বাহু পসারিয়া
যতনে করিল কোলে।
কর-পরশন নয়                       কিছুই নাহিক কয়
ভাসিলুঁ আনন্দ-লোরে॥
@@@ কাঁপিতে পথে                দোসর নাহিক সাথে
আবেশে পশিলুঁ ঘরে।
মাই ধাই আসি                           পুছে কাছে বলি
করিতে নারিলুঁ উত্তরে॥
“গা তোর শীতল                         তবে কেমন জ্বর
কিছুই লখিতে নারি।”
ঠারে অনন্ত কয়                      জ্বর-জ্বালা কিছু নয়
কানু কব়্যাছে মন-চুরি॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সজনি! মঝু মনে লাগল নন্দ-কিশোর
সজনী মনে মোর লাগল নন্দ কিশোর
সজনী মঝু মনে লাগল নন্দ-কিশোর
সজনি কি হেরিলাম নন্দকিশোর
সজনি! মনে মোর লাগল নন্দ-কিশোর
কবি অনন্ত
এই পদটি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, দশম
ক্ষণদা - কৃষ্ণা দশমী, ৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

সজনি! মঝু মনে লাগল নন্দ-কিশোর।
অনিমিখ লাখ                   নয়নে যব্ যুগ-শত
হেরই না পারই ওর॥
ইন্দ্রনীলমণি-                      মুকুর-কান্তি জিনি
জগ-মন-মোহন বয়না।
শারদ-ইন্দু-                        অমল নব পঙ্কজ
পূজল জনু দুই নয়না॥
বন্ধুক-বন্ধু                     অধর অতি মনোহর
বিলসই রসময় বংশে।
ভঙ্গি গীম-                        ভর অতি মন্থর
অবতংস বিরাজিত অংসে॥
ভালে চন্দন-চান্দ                রমণী-মোহন ফাঁদ
তছু পরি মুকুতার ঝারা।
অনন্ত কহিছে ঘন              চান্দের উপরে যেন
সঘনে বরিষে রস-ধারা॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

সজনী মনে মোর লাগল নন্দ কিশোর। অনি
মিখ লাখ নয়ন যব যুগ শত হেরই নাপাই ওর॥ ধ্রু॥ ইন্দ্র
নীলমণি মুকুর কান্তি জিনি জগমন মোহন বয়না। শারদ
ইন্দু অমল মুখ পঙ্কজ পূজল জনু দুহু নয়না॥ বন্ধুকে বন্ধু
অধরে অতি মোহন বিলসই রসময় বংশে। ভঙ্গিম গীম
অতি মন্থর অবতংস বিরাজিত অংশে॥ ভালে চন্দন-চাঁদ
রমণী মোহন ফাঁদ তছু পরি মুকুতার ঝারা। অনন্ত কহিছে
ঘন চাঁদের উপরে যেন সঘনে বরিখে জল ধারা॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ সিন্ধুরা॥

সজনি মনে মোর লাগল নন্দকিশোর। অনিমিখ লাখ নয়ন যব যুগ শত
হেরই না পাই ওর॥ ধ্রু॥ ইন্দ্র নীলমণি, মুকুরকান্তি জিনি, জগমনোমোহন
বয়না। শারদ-ইন্দু অমল-মুখ-পঙ্কজ, পূজল জনু দুহু নয়না॥ বন্ধুকে বন্ধু অধরে
অতি মোহন, বিলসই রসময় বংশে। ভঙ্গিম গীম অতি মন্থর অবতংস বিরাজিত
অংসে॥ ভালে চন্দন চাঁদ, রমণীমোহন ফাঁদ, তছুপরি মুকুতার ঝারা।
অনন্ত কহিছে ঘন, চাঁদের উপরে যেন, সঘনে বরিষে জল ধারা॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

সজনি কি হেরিলাম নন্দকিশোর। অনিমিষ নয়নে লাখ শর বরিখয়ে
হেরিয়া না পাইনু ওর॥ ইন্দ্র নীলমণি, মুকুর কান্তি জিনি, জগমনোমোহন
বরণা। শারদ অমল ইন্দু, নব পঙ্কজে পূজল, জনুপম নয়না॥ রন্ধক রন্ধ,
জিনিয়া মধু মাধুরী,, বিলসই মোহন বংশে। বঙ্কিম গীমভরে, মনোমোহন
অবতংসে, বিরাজিত অংশে॥ চন্দন তিলক উপরে, অলকাবলী তদোপরি,
মুকুতার ঝারা। অনন্ত কহয়ে, ঘন চাঁদের উপরে, যেন সঘনে বরিষে ঘনধারা॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদু খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ করুণ ধানশ্রী - একতালা॥

সজনি মনে মোর লাগল নন্দকিশোর।
অনিমিখ লাখ,                    নয়নে যব যুগ শত
হেরই না পাউ ওর॥
ইন্দ্র-নীলমণি-                      মুকুর-কান্তি জিনি,
জগমন-মোহন-বয়না।
শারদ ইন্দু,                        অমল নব পঙ্কজ,
পূজল জনু দুহু নয়না॥
বাঁধুলি বন্ধু,                     অধরে অতি মোহন,
বিলসই রসময় বংশে।
বঙ্কিম গীম-                           ভরে মনমোহন,
অবতংস বিরাজিত অংসে॥
চন্দন তিলক,                     উপরে অলকাবলি,
তছুপরি মুকুতার ঝারা।
অনন্ত কহয়ে ঘন,                চান্দের উপরে যেন,
সঘনে বরিখে জলধারা॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সজনি!
মনে মোর লাগল নন্দ-কিশোর।
অনিমিখ লাখ,                  নয়নে যব্ যুগ শত
হেরই না পাউ ওর॥
ইন্দ্র নীলম                        মুকুর কান্তি জিনি
জগ-মন-মোহন-বয়না।
শারদ ইন্দু                        অমল মুখ-পঙ্কজ
পূজল জনু দুহুঁ নয়না॥
বাঁন্ধুলি-বন্ধু                    অধরে অতি মোহন
বিলসই রসময় বংশে।
বঙ্কিম গীম-                        ভরে মন মোহন,
অবতংস বিরাজিত অংসে॥
চন্দন-তিলক                     উপরে অলকাবলি
তছু পরি মুকুতার ঝারা।
অনন্ত কহয়ে ঘন                চাঁদের উপরে যেন
সঘনে বরিখে জলধারা॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে নিমানন্দ দাস সংকলিত
“পদরসসার” সংকলনের পদ।

রূপোল্লাস
॥ সিন্ধুড়া॥

সজনী মঝু মনে লাগল নন্দ-কিশোর।
অনিমিখ লাখ                   নয়ন-যুগ শত শত
হেরইতে না পাওই ওর॥ ধ্রু॥
ইন্দ্রনীল-মণি                     মুকুর-কাঁতি জিনি
জগ-মন-মোহন বয়না।
শারদ-ইন্দু                        অমল-নব-পঙ্কজে
পূজল জনু দুই নয়না॥
বন্ধুক-বন্ধু                        অধর অতি মোহন
বিলসই রসময়-বংশে।
ভঙ্গি গীম-                        ভারে অতি মন্থর
বতংস বিরাজিত অংসে॥
ভালে সে চন্দন চাঁদ             রমণী-মোহন ফাঁদ
তছু পর মুকুতার ঝারা।
অনন্ত কহিছে ঘন                চাঁদের উপরে যে
সঘনে বরিখে জলধারে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অনুরাগ খণ্ড
॥ শ্রীরাগ - তেওট॥

সজনী, মঝু মনে লাগল নন্দকিশোর।
অনিমিখ লাখ                   নয়ন যুগ শত শত
হেরইতে না পাইয়ে ওর॥ ধ্রু॥
কিয়ে ইন্দ্রনীল-মণি-              মুকুর-কাঁতি জিনি
জগ-মন-মোহন বয়না।
শারদ-ইন্দু                        অমল-নব-পঙ্কজে
পূজল জনু দুই নয়না॥
বন্ধুক-বন্ধু                      অধর অতি মনোহর
বিলসই রসময় বংশে।
ভঙ্গি গীম                        ভারে অতি মন্থর
অবতংস বিরাজিত অংসে॥
ভালে সে চন্দন-চাঁদ             রমণী-মোহন ফাঁদ
তছু পরি মুকুতার ঝারা।
অনন্ত কহিছে ঘন              চান্দের উপরে যেন
সঘনে বরিখে জলধারা॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কুঞ্জে করলি সাজ রে ধনী
কবি অনন্ত
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথি।

রূপোল্লাস
॥ কোদার॥

কুঞ্জে করলি                     সাজ রে ধনী
কুঞ্জে করলি সাজ।
রমণী সঙ্গে                        চলিলা রঙ্গে
ভেটিতে নাগর-রাজ॥
নাসার ভূষণ                        নীল বসন
তিমির বিনাশে হাসি।
ফুটল কমল                   ফিরে অলি-কুল
পাশে মধু খায় বসি॥
আর তাহে পর                  কাম-ধনু-শর
জুঝিতে কানুক রঙ্গ।
কপালে লোহিত                  চাঁদের উদয়
তারা গণ লৈয়া সঙ্গ॥
মনে সাধে                          চললি রাধে
জয় দিয়া কুঞ্জে পশি।
অনন্ত কহে                        নাসার উপর
মদন বান্ধিতে ফাঁসি॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কিয়ে শুভ দরশনে উলসিত-লোচনে
কবি অনন্ত
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথি। পদকল্পতরুর
২৭৪ সংখ্যক ভণিতাহীন পদটির প্রথম কলিটি হুবহু এই পদের সঙ্গে মিলে যায়। কিন্তু পরবর্তী অন্য
পদগুলি ভিন্ন। নিমানন্দ দাসের "পদসরসার" সংকলনে উপরোক্ত ভণিতাহীন পদটি গোবিন্দদাস ভণিতায়
রয়েছে।

কুঞ্জে মিলন
॥ ভূপালী॥

কিয়ে শুভ দরশনে                      উলসিত-লোচনে
দুহুঁ দোহাঁ হেরি মুখ-ছাঁদে।
তৃষিত চাতক নব-                        জসধরে মীলল
ভুখিল চকোর চারু-চাঁদে॥
রাই কানু বান্ধল নব-অনুরাগে।
কাঞ্চন-পুঞ্জ                          কুঞ্জে বিহি মিলাওল
অঙ্গে অঙ্গে কবি যোগে॥ ধ্রু॥
হাঁসি সুমুখি মুখ                        মুন্দি রহলি তহিঁ
নাগর চিতে উতরোল।
সরস সম্ভাষই                         পরশিতে বর-তনু
রাই লুকায়লি কোর॥
কাঁচা কাঞ্চন জিনি                       কানু পরশ-মণি
কৌতুকে কষিল কাম-রায়।
রাই নহি অনুরতি                       সুনাগর-আরতি
অনন্ত ইহ রস গায়॥

টীকা -
এই পদের মাত্র প্রথম কলিটি পদকল্পতরুর ভণিতাহীন ২৭৪ সংখ্যক পদের প্রথম কলির অনুরূপ ; অবশিষ্ট
কলিগুলি সম্পূর্ণ বিভিন্ন।---সতীশচন্দ্র রায়, “অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
চল চল ঢিঠ মিঠ-রস-বঞ্চক
চল চল টীট মীঠ-খল বঞ্চক
কবি অনন্ত
এই পদটি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, নবম
ক্ষণদা - কৃষ্ণা নবমী, ৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধাহ।
॥ সুহই॥

চল চল ঢিঠ                        মিঠ-রস-বঞ্চক
চাতুরী রহু তুয়া ঠামে।
কৈতব বচন-                      রচনে যব্ ভূলনু
বুঝনু তুয়া পরিণামে॥
মঞ্জুল হাস                       ভাষ মৃদু বোলনি
দোলনি নয়ন-সন্ধান।
প্রেম-প্রণালী                      তুহুঁ ভালে জানসি
যৈছন অমিয়া-সিনান॥
করকা-কাঁতি-পাঁতি                  হাম হেরইতে
ধাওলুঁ মাণিক-আশে।
পাণিকো পরশে               ডালি পয়ে দূরে গেও
রহল লোক উপহাসে॥
বিষকো কটোর                   থোর দধি উপর
দেওল দারুণ ধাতা।
কপটহিঁ প্রেম                 পহিলে হাম না বুঝনু
অনন্ত কহে গুণ-গাথা॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথি।

খণ্ডিতা
শ্রীরাধার উক্তি
॥ সুহই॥

চল চল টীট                        মীঠ-খল বঞ্চক
চাতুরি রহু তুয়া ঠামে।
কাতব-বচন                        শূনি হম ভূললুঁ
বুঝলুঁ তুহে পরিণামে॥
মঞ্জুল হাস                       ভাষ মৃদু বোলনি
দোলনি নয়ন-সন্ধান।
প্রেম-প্রণালি                     ভালে তুহুঁ জানসি
যৈছন অমিয়-সিনান॥
কবকা-পাঁতি-                  কাঁতি হম হেরইতে
ধায়ল মাণিক-আশে।
পাণিক পরশে                  ভান পয় দুর গেও
রহল লোক-উপহাসে॥
বিখক কটোর                    থোর দধি উপর
দেওল দারুণ ধাতা।
কপটহি প্রেম                 পহিলে হম না গণলুঁ
অনন্ত কহে গুণ-গাথা॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চল চল ঢিঠ                        মিঠ-রস-বঞ্চক
চাতুরী রহু তুয়া ঠামে।
কৈতব বচন-                     রচনে যব ভুলনু
বুঝনু তুয়া পরিণামে॥
মঞ্জুল হাস                       ভাষ মৃদু বোলনি
দোলনি নয়ন সন্ধান।
প্রেম-প্রণালী                     তুহুঁ ভালে জানসি
যৈছন অমিয়া-সিনান॥
করকা-কাঁতিপাঁতি                   হাম হেরইতে
ধাওলুঁ মাণিক আশে।
পাণিকো পরশে              ডালি পয়ে দূরে গেও
রহল লোক উপহাসে॥
বিষকো কটোর                    থোর দধি উপর
দেওল দারুণ ধাতা।
কপটহিঁ প্রেম                  পহিলে হাম না বুঝনু
অনন্ত কহে গুণগাথা॥

টীকা -
যাও, যাও ধৃষ্ট (ঢিঠ), তুমি মিষ্ট রস দিয়া প্রবঞ্চনা কর ; তোমার ছলনা তোমার কাছেই থাক।
তোমার মতন ছলের কথার ফাঁদে যখন ভুলিয়াছি, তখন পরিণামে কি হইবে বুঝিতেছি। সুন্দর হাসি,
মৃদুস্বরে কথা বলা, নয়ন নাচাইয়া কটাক্ষ করা, এ সব ভালবাসার ঢঙ তুমি খুব ভালই জান ; প্রথমে মনে
হয়, যেন অমৃত-সরোবরে স্নান করিতেছি। করকা অর্থাৎ শিলার কান্তিপঙ্ক্তি (-সমূহ) দেখিয়া মনে
হইয়াছিল, উহা বুঝি মণিমাণিক্য, তাই উহা পাইবার আশায় দৌড়াইয়াছিলাম। কিন্তু হাত দিতেই
উপহারের পাত্রের উপর হইতে সব চলিয়া গেল শুধু লোকের উপহাস মাত্রই রহিয়া গেল। যেন নিদারণ
বিধাতা প্রবঞ্চনা করিবার জন্যই বিষের বাটির উপর একটি দধি রাখিয়া দিয়াছেন।
---বিমান বিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৪২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চল চল ঢিঠ                        মিঠ-রস-বঞ্চক
চাতুরী রহু তুয়া ঠামে।
কৈতব বচন-                     রচনে যব ভুলনু
বুঝনু তুয়া পরিণামে॥
মঞ্জুল হাস                        ভাষ মৃদু বোলনি
দোলনি নয়ন সন্ধান।
প্রেম-প্রণালী                      তুহুঁ ভালে জানসি
যৈছন অমিয়া-সিনান॥
করকা-কাঁতিপাঁতি                   হাম হেরইতে
ধাওলুঁ মাণিক আশে।
পাণিকো পরশে              ডালি পয়ে দূরে গেও
রহল লোক উপহাসে॥
বিষকো কটোর                    থোর দধি উপর
দেওল দারুণ ধাতা।
কপটহিঁ প্রেম                  পহিলে হাম না বুঝনু
অনন্ত কহে গুণগাথা॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
গৌর-নবঘন প্রেমধারা বরিষিল
কবি অনন্ত
এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

গৌর-নবঘন প্রেমধারা বরিষিল।
তৃষিত তাপিত জীব তিরপিত ভেল॥
দুর্ম্মতি কঠিন মাটি ভক্তিচাষে চূর।
উপজিল জীব-হৃদে প্রেমের অঙ্কুর॥
সে অঙ্কুরে ভক্তিবারি নিতাই সোচিল।
দিনে দিনে প্রেমতরু বাঢ়িয়া উঠিল॥
ধরিল প্রেমের ফল সব জীব তরে।
অনন্ত বঞ্চিল ভেল নিজ কর্ম্মফেরে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
আহির রমণী যত চালাঞা বাহির পথ
আহির রমণী যত চালাইঞা বাহির পথ
কবি অনন্ত
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র” ২৫৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া রাগ ধ্রুব তালৌ॥

আহির রমণি যত চালাঞা বাহির পথ আপনে যাইছ
আন ছলে। বাহু নাড়া দিয়া যাও দানি পানে নাহি চাও
এত না গরব কার বলে॥ হেদে ল কিশোরি গোরি শুনহ
বচন মোরি তোর দান না করিব আন। এতেক শুনিয়া
সভে হাসিয়া বোলএ তবে কিবা দান কহ দেখি কান॥ পুন
হাসি কহে বাণি শুন হের বিনোদিনি অল্প নিব তোমার পি-
রিতে। পীতবাস কাম রায় সেবা যত দান চায় তাহা পুন
না পারিবে দিতে॥ গলার মোতিম হার এক লক্ষ দান
তার দুই লক্ষ শিথার সিন্দুর। তিন লক্ষ কেশ পাশ দান
মাগে পীতবাস চারি লক্ষ পায়ের নূপুর॥ কুসুম কবরী ঝরি
পাঁচ লক্ষ দান তারি নহে কহ যে হয় উচিত। মোরা করোঁ
রাজসেবা কাঁচুলীতে লুকা কিবা দেখাইয়া করাও পরতীত॥
কে জানে কিসের দান কি বোল বলিলে কান অন্য হৈলে
আমি ভালে জানি। যদি পুন এমন বল তবে পাবে প্রতি
ফল হাসিল অনন্ত-পহুঁ শুনি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৫শ পল্লব, দান-লীলা,
১৩৩৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

আহির-রমণী যত                        চালাঞা বাহির পথ
আপনে যাইছ আন ছলে।
বাহু নাড়া দিয়া যাও                    দানী পানে নাহি চাও
এত না গরব কার বলে॥
হেদে লো কিশোরি গোরি                    শুনহ বচন মোরি
তোর দান না করিব আন।
এতেক শুনিয়া তবে                     হাসিয়া বোলয়ে সভে
কিবা দান কহ দেখি কান॥
পুন হাসি কহে বাণী                        শুন ওহে বিনোদিনি
অল্প নিব তোমার পিরিতে।
পীত-বাস কাম-রায়                        সে বা যত দান চায়
তাহা পুন না পারিবে দিতে॥
গলে গজমোতি-হার,                        এক লক্ষ দান তার
দুই লক্ষ সিঁথায় সিন্দূর।
তিন লক্ষ কেশপাশ                        দান মাগে পীত-বাস
চারি লক্ষ পায়ের নূপুর॥
কুসুম-কবরী ঝুরি                           পাঁচলক্ষ দান তারি
নহে কহ যে হয় উচিত।
মোরা করোঁ রাজ-সেবা,                   কাঁচুলীতে লুকা কিবা
দেখাইয়া করাও পরতীত॥
কে জানে কিসের দান,                    কি বোল বলিলে কান
অন্য হৈলে আমি ভালে জানি।
যদি পুন হেন বোল                          মাথায় ঢালিব ঘোল
হাসিল অনন্ত-পহুঁ শুনি॥

ই পদটি দীনবন্ধু দাস দ্বারা ১৭৭১ সালে সংকলিত এবং ১৯২৯ সালে অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ দ্বারা
সম্পাদিত ও মুদ্রিত পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ৪৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বড়ারি॥

আহির-রমণী যত                চালাঞা বাহির পথ
আপনি আস্যাছ আন ছলে।
বাহু নাড়া দিঞা যাও            দানী পানে নাহি চাও
এত না গরব কর কারে॥
গলে গজমোতি হার                এক লক্ষ দাম তার
দুই লক্ষ সিথার সিন্দূর।
তিন লক্ষ কেশপাশ                দান মাগে পীতবাস
চারি লক্ষ পাএর নূপুর॥
হেদে লো কিশোরি গোরি          নিতি যাও মধুপুরি
দান দেহ যে হয় উচিত।
শুন বৃষভানু-ঝি                    আঁচলে ঝাপিলে কি
দেখাইঞা কর পরতীত॥
কে জানে কিসের দান            কি বোল বলিলে কাহ্ন
অন্য হলে আমি ভাল জানি।
যদি বল আন বোল                মাথাএ ঢালিব ঘোল
হাসিলা অনন্তপহুঁ শুনি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

আহীর-রমণী যত                চালাইঞা বাহির পথ
আপনে যাইছ আন ছলে।
বাহু নাড়া দিয়া যাও             দানী পানে নাহি চাও
এত না গরব কার বলে॥
হেদে লো কিশোরি গোরি            শুনহ বচন মোরি
তোর দান না করিব আন।
এতেক শুনিয়া সবে              হাসিয়া বোলয়ে তবে
কিবা দান কহ দেখি কান॥
পুন হাসি কহে বাণী                শুন ওহে বিনোদিনি
অল্প নিব তোমার পিরীতে।
পীত-বাস-কাম-রায়                সে বা যত দান চায়
তাহা তুমি না পারিবে দিতে॥
গলে গজমোতি হার,                এক লক্ষ দান তার
দুই লক্ষ সীঁথার সিন্দূর।
তিন লক্ষ কেশপাশ                দান মাগে পীত-বাস
চারি লক্ষ পায়ের নূপুর॥
কুসুম-কবরী ঝুরি                   পাঁচলক্ষ দান তারি
নহে কহ যে হয় উচিত।
মোরা করোঁ রাজ-সেবা,            কাঁচলীতে লুকাইবা
দেখাইয়া করাও পরতীত॥
কে জানে কিসের দান,           কি বোল বলিলে কান
অন্য হৈলে আমি ভাল জানি।
যদি পুন হেন বোল                তবে পাবে প্রতিফল
হাসিল অনন্ত পহুঁ শুনি॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদু খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৩৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ বরাড়ি সিন্ধুড়া - ডাঁশপাহিড়া॥

আহির রমণী যত,                        চালাঞা বাহির পথ,
আপনে যাইছ আন ছলে।
বাহু নাড়া দিয়া যাও,                    দানী পানে নাহি চাও,
এত না গরব কার বলে॥
হেদে গো কিশোরী গোরী                     শুনহ বচন মোরি
তোর দান না করিব আন।
এতেক শুনিয়া তবে                    হাসিয়া বোলয়ে  সভে
কিবা দান কহ দেখি কান॥
পুন হাসি কহে বাণী                        শুন ওহে বিনোদিনী
অল্প নিব তোমার পিরিতে।
পীতবাস কামরায়,                        সে বা যত দান চায়,
তাহা তুমি না পারিবে দিতে॥
গলে গজমতি হার                           এক লক্ষ দান তার
দুই লক্ষ সিঁথায় সিন্দূর।
তিন লক্ষ কেশপাশ,                        দান মাগে পীতবাস,
চারি লক্ষ পায়ের নূপুর॥
কুসুম কবরি ঝুরি                          পাঁচ লক্ষ দান তারি
নহে কহ যে হয় উচিত।
মোরা করোঁ রাজসেবা                   কাঁচুলিতে লুকা কিবা
দেখাইয়া করাহ পরতীত॥
কে জানে কিসের দান,                     কি বোল বলিলে কান
অন্য হৈলে আমি ভালে জানি।
যদি পুন হেন বোল                        তবে পাবে প্রতিফল
হাসি অনন্ত-পহুঁ শুনি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা
॥ সিন্ধুড়া॥

আহির রমণী যত                
চালাঞা বাহির পথ                
.        আপনে যাইছ আন ছলে।
বাহু নাড়া দিয়া যাও                
দানী পানে নাহি চাও                
.        এত না গরব কার বলে॥
হেদে লো কিশোরী গোরি        
শুনহ বচন মোরি                
.        তোর দান না করিব আন।
এতেক শুনিয়া তবে                
হাসিয়া বোলয়ে  সভে                
.        কিবা দান কহ দেখি কান॥
পুন হাসি কহে দানী                
শুন অহে বিনোদিনি                
.        অল্প নিব তোহারি পিরীতে।
আমার দানের রীতি                
শুন শুন রসবতি                
.        তাহা তুমি না পারিবে দিতে॥
গলে গজমতিহার                
এক লক্ষ দান তার                
দুই লক্ষ সিঁথায় সিন্দূর।
তিন লক্ষ কেশপাশ                
দান মাগে পীতবাস                
.        চারি লক্ষ পায়ের নূপুর॥
কুসুম কবরী ঝুরি                
পাঁচ লক্ষ দান তারি                
.        নহে কহ যে হয় উচিত।
মোরা করোঁ রাজসেবা                
কাঁচুলিতে লুকা কিবা                
.        দেখাইয়া করাও পরতীত॥
কে জানে কিসের দান                
কি বোল বলিলে কান                
.                মোরা সবে তোরে ভালে জানি।
যদি পুন হেন বোল                
মাথায় ঢালিব ঘোল                
.        হাসি অনন্ত-পহুঁ শুনি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
১৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আহির রমণি যত                চলাঞা বাহির পথ
আপনি আস্যাছ আন ছলে।
বাহু নাড়া দিঞা যাও           দানী পানে নাহি চাও
এত না গরব কর কারে॥
গলে গজমোতি হার               এক লক্ষ দাম তার
দুই লক্ষ সিথার সিন্দুর।
তিন লক্ষ কেশ পাশ              দান মাগে পীতবাস
চারি লক্ষ পায়ের নূপুর॥
হেদে লো কিশোরি গোরি          নিতি যাও মধুপুরি
দান দেহ যে হয় উচিত।
শুন বৃষভানু-ঝি                    আঁচলে ঝাঁপিলে কি
দেখাইঞা কর পরতীত॥
কে জানে কিসের দান            কি বোল বলিলে কাহ্ন
অন্য হইলে আমি ভাল জানি।
যদি বল আন বোল                মাথায় ঢালিব ঘোল
হাসিলা অনন্তপহুঁ শুনি॥

টিপ্পনী -
রাধামোহন ঠাকুর পদামৃতসমুদ্রের টীকায় লিখিয়াছেন যে, মাথায় ঢালিব ঘোল পাঠ কোথাও দেখা যায়
বটে, কিন্তু ‘স তু নাতিরসদঃ’। তিনি পাঠ ধরিয়াছেন, ‘যদি পুন এমন বল, তবে পাবে প্রতিফল’। শ্রীকৃষ্ণের
মাথায় ঘোল ঢালার প্রস্তার ঠাকুর মহাশয়ের ভাল লাগে নাই।

পদটি নিম্নলিখিত প্রাচীন স্লোকের ভাবানুবাদ---
কৃ বাসি দানীত্যপি নৈব পশ্যতি দৃগঞ্চলেনাপি গজেন্দ্রগামিনি।
কিমঞ্চলেনাপিহিতং কিশোরি মে তদাকলয্যাশু করঃ প্রদীয়তাম্॥
---বিমানবিহারী মজুমদার, “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আহির রমণি যত                চলাঞা বাহির পথ
আপনি আস্যাছ আন ছলে।
বাহু নাড়া দিঞা যাও           দানী পানে নাহি চাও
এত না গরব কর কারে॥
গলে গজমোতি হার              এক লক্ষ দাম তার
দুই লক্ষ সিথার সিন্দুর।
তিন লক্ষ কেশ পাশ             দান মাগে পীতবাস
চারি লক্ষ পায়ের নূপুর॥
হেদে লো কিশোরি গোরি        নিতি যাও মধুপুরি
দান দেহ যে হয় উচিত।
শুন বৃষভানু-ঝি                  আঁচলে ঝাঁপিলে কি
দেখাইঞা কর পরতীত॥
কে জানে কিসের দান          কি বোল বলিলে কাহ্ন
অন্য হইলে আমি ভাল জানি।
যদি বল আন বোল               মাথায় ঢালিব ঘোল
হাসিলা অনন্তপহুঁ শুনি॥
ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দানলীলা ও নৌকালীলা।

আহির রমণী যত                        চালাঞা বাহির পথ
আপনে যাইছ আন ছলে।
বাহু নাড়া দিয়া যাও                     দানী পানে নাহি চাও
এত না গরব কার বলে১॥
হেদে লো কিশোরি গোরি                    শুনহ বচন মোরি
তোর দান না করিব আন।
এতেক শুনিয়া তবে                      হাসিয়া বোলয়ে সভে
কিবা দান কহ দেখি কান॥
পুন হাসি কহে বাণী                        শুন ওহে বিনোদিনী
অল্প নিব তোহারি পিরিতে।
পীত-বাস কাম-রায়                        সে বা যত দান চায়
তাহা তুমি২ না পারিবে দিতে॥
গলে গজমোতি হার                          একলক্ষ দান তার
দুই লক্ষ সিঁথার সিন্দুর।
তিন লক্ষ কেশ পাশ                        দান মাগে পীতবাস
চারি লক্ষ পায়ের নূপুর॥
কুসুম কবরী ঝুরি                          পাঁচলক্ষ দান তারি
নহে কহ যে হয় উচিত।
মোরা করোঁ রাজসেবা                    কাঁচুলীতে লুকা কিবা
দেখাইঞা করাও পরতীত॥
কে জানে কিসের দান                     কি বোল বলিলে কান
অন্য হইলে আমি ভালে জানি।
যদি পুন হেন বোল                        মাথায় ঢালিব ঘোল৩
হাসিল অনন্ত পহুঁ শুনি॥

পাঠান্তর -
১। বল - বোল। ২। তুমি - পুন। ৩। মাথায় ঢালিব ঘোল - তবে পাবে প্রতিফল।

টীকা -
আহির - আভীর বা গোপ।
পীতবাস কাম রায় - হলুদবসন মদন রাজা।
পদটিতে নিম্নলিখিত প্রাচীন শ্লোকের ছায়া লক্ষ্যণীয় ---
কৃ বাসি দানীত্যপি নৈব পশ্যতি দৃগঞ্চলেনাপি গজেন্দ্রগামিনি।
কিমঞ্চলেনাপিহিতং কিশোরি মে তদাকলয্যাশু করঃ প্রদীয়তাম্॥
শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের দানখণ্ডের পদের সঙ্গেও পদটি তুলনীয়।
---দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আহির রমণী যত                
চালাঞা বাহির পথ                
.        আপনে যাইছ আন ছলে।
বাহু নাড়া দিয়া যাও                
দানী পানে নাহি চাও                
.        এত না গরব কার বলে॥
হেদে লো কিশোরী গোরি        
শুনহ বচন মোরি                
.        তোর দান না করিব আন।
এতেক শুনিয়া তবে                
হাসিয়া বোলয়ে  সভে                
.        কিবা দান কহ দেখি কান॥
পুন হাসি কহে দানী                
শুন অহে বিনোদিনি                
.        অল্প নিব তোহারি পিরীতে।
আমার দানের রীতি                
শুন শুন রসবতি                
.        তাহা তুমি না পারিবে দিতে॥
গলে গজমতিহার                
এক লক্ষ দান তার                
দুই লক্ষ সিঁথায় সিন্দূর।
তিন লক্ষ কেশপাশ                
দান মাগে পীতবাস                
.        চারি লক্ষ পায়ের নূপুর॥
কুসুম কবরী ঝুরি                
পাঁচ লক্ষ দান তারি                
.        নহে কহ যে হয় উচিত।
মোরা করোঁ রাজসেবা                
কাঁচুলিতে লুকা কিবা                
.        দেখাইয়া করাও পরতীত॥
কে জানে কিসের দান                
কি বোল বলিলে কান                
.                মোরা সবে তোরে ভালে জানি।
যদি পুন হেন বোল                
মাথায় ঢালিব ঘোল                
.        হাসি অনন্ত পহুঁ শুনি॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
দূরে গেল যত বিরহ বাধা
কবি অনন্ত
এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সিন্ধুড়া॥ তালোচিত॥

দূরে গেল জত বিরহবাধা। অমিয়া সাগরে ডুবোল রাধা॥
কি কহিব সখি তোহারি ঠাম। বিপরীত সব কয়লু হাম॥
ধৈরজ সরম রহিল দূর। তার মনোরথ কয়ল পূর॥
সে দিল আমার জীবনদান। তেই সে হইল তাহারি ভান॥
অনন্ত কহয়ে সুনহ সখী। এ কথা সুনিলে সভাই সুখী॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সোয়ারী॥

দূরে গেল যত বিরহ-বাধা।
অমিয়া-সাগরে ডুবল রাধা॥
কি কব সখি তোহারি ঠাম।
বিপরীত সব কয়লু হাম॥
ধৈরয সরম রহিল দূর।
তার মনোরথ করিনু পুর॥
সে দিল আমারে জীবন-দান।
তেঞি সে হইনু তাহার ভান॥
অনন্ত কহয়ে সুন হে সখি।
এ কথা শুনিলে সবাই সুখী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সমৃদ্ধিমান সম্ভোগের রসোদ্গার।

দূরে গেল যত বিরহবাধা।
অমিয়াসাগরে ডুবল রাধা॥
কি কহব সখি তোহারি ঠাম।
বিপরীত সব কয়লুঁ হাম॥
ধৈরজ সরম রহল দূর।
তার মনোরথ করিলুঁ পূর॥
সে দিলে আমারে জীবনদান।
তেঞি সে রাখিলুঁ তাহার মান॥
অনন্ত কহয়ে শুন হে সখি।
এ কথা শুনিলে সবাই সুখী॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দূরে গেল যত বিরহবাধা।
অমিয়াসাগরে ডুবল রাধা॥
কি কহব সখি তোহারি ঠাম।
বিপরীত সব কয়লুঁ হাম॥
ধৈরজ সরম রহল দূর।
তার মনোরথ করিলুঁ পূর॥
সে দিলে আমারে জীবনদান।
তেঞি সে রাখিলুঁ তাহার মান॥
অনন্ত কহয়ে শুন হে সখি।
এ কথা শুনিলে সবাই সুখী॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর