অনন্ত দাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
কি হেরিলু কদম্ব-তলাতে
কি হেরিলুঁ কদম্ব-তলাতে
কি হেরিনু কদম্বতলাতে
সখি কি হেরিলাম কদম্ব-তলাতে
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২
গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়”, ১৩৬-পৃষ্ঠায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগঃ॥

কি হেরিলু কদম্বতলাতে।
বিনি পরিচয়ে মোর    পরাণ যেমন করে    জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥
কপালে চন্দন চাঁদ    কামিনীমোহন ফাঁদ    আঁধারেতে করিয়াছে আলা।
মেঘের উপরে চান্দ    সদাই উদয় করে    নিশি দিশি শশীষোল কলা॥
কিশোর বয়েস বেশ    আর তাহে রসাবেশ    আর তাহে ভাঁতিয়া চাহনি।
হাসির হিলোলে মোর    পরাণ পুতলি দোলে    দিতে চাই এ তনু নিছনি॥
যে দেখয়ে একবার    সে কি পাসরয়ে আর    শুধুই সুধার তনু খানি।
অনন্তদাসেতে বোলে    রূপ হেরি কেনা ভুলে    জগতে আছে কি হেন প্রাণী॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা ৬ষ্ঠ পল্লব,শ্রীরাধার
পূর্ব্বরাগ--প্রকারান্তর, ১২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কি হেরিলুঁ কদম্ব-তলাতে।
বিনি পরিচয়ে মোর        পরাণ কেমন করে
জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥
কপালে চন্দন-চাঁদ         কামিনী মোহন ফান্দ
আন্ধারে করিয়া আছে আলা।
মেঘের উপরে চাঁদ            সদাই উদয় করে
নিশিদিশি শশী ষোল কলা॥
কিশোর বয়েস বেশ        আর তাহে রসাবেশ
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিলোলে মোর        পরাণ-পুতলী দোলে
দিতে চাই যৌবন নিছনি॥
যে দেখয়ে একবার        সে কি পাসরয়ে আর
শুধুই সুধার তনুখানি।
দাস অনন্ত বলে           রূপ হেরি কে না ভুলে
জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কি হেরিনু কদম্বতলাতে।
বিনি পরিচয়ে মোর         পরাণ কেমন করে
জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥
কপালে চন্দন চাঁদ         কামিনী মোহন ফাঁদ,
আন্ধারে করিয়াছে আলা।
মেঘের উপরে চাঁদ            সদাই উদয় করে
নিশিদিসু শশি ষোলকলা॥
কিশোর বয়েস বেশ,      আর তাহে রসাবেশ,
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিল্লোলে মোর       পরাণ পুতলি দোলে
দিতে চাই যৌবন নিছনি॥
যে দেখয়ে একবার        সে কি পাসরয়ে আর,
শুধুই সুধার তনুখানি।
দাস অনন্ত বলে          রূপ দেখি কে না ভুলে,
জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ সুহই - ছোট দশকুশী॥

সখি কি হেরিলাম কদম্ব-তলাতে।
বিনি পরিচয়ে মোর         পরাণ কেমন করে
জীতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥
কপালে চন্দন চান্দ         কামিনী মোহন ফান্দ
আন্ধারে করিয়া আছে আলা।
মেঘের উপরে চান্দ            সদাই উদয় করে
নিশি দিশি শশী ষোল কলা॥
কিশোর বয়েস বেশ        আর তাহে রসাবেশ
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিলোলে মোর        পরাণ পুতলী দোলে
দিতে চাই যৌবন নিছনি॥
যে দেখয়ে একবার        সে কি পাশরয়ে আর
শুধুই সুধার তনুখানি।
অনন্ত দাস বলে           রূপ হেরি কে না ভুলে
জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কি হেরিলুঁ কদম্ব-তলাতে।
বিনি পরিচয়ে মোর        পরাণ কেমন করে
জীতে কি পারিয়ে পাশরিতে॥
কপালে চন্দন-চাঁদ         কামিনী-মোহন ফাঁদ
আঁধারেতে করিয়াছে আলা।
মেঘের উপরে চাঁদ           সদাই উদয় করে
নিশি দিশি শশী ষোলকলা॥
কিশোর বয়েস বেশ      আর তাহে রসাবেশ
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিলোলে মোর      পরাণ-পুতলী দোলে
দিতে চাই যৌবন নিছনি॥
যে দেখয়ে একবার       সে কি পাসরয়ে আর
সুধুই সুধার তনুখানি।
দাস অনন্ত বলে        রূপ হেরি কে না ভুলে
জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পূর্ব্বরাগ খণ্ড
॥ মায়ূর - দশকুসী॥

কি হেরিলুঁ কদম্বতলাতে।
বিনি পরিচয়ে মোর         পরাণ কেমন করে
জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥
কপালে চন্দন-চাঁদ           কামিনী-মোহন ফাঁদ
আঁধারে করিয়া আছে আলা।
মেঘের উপরে চাঁদ            সদাই উদয় করে
নিশি দিশি শশী ষোলকলা॥
কিশোর বয়েস বেশ        আর তাহে রসাবেশ
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিলোলে মোর        পরাণ-পুতলী দোলে
দিতে চাই যৌবন নিছনি॥
যে দেখয়ে একবার        সে কি পাসরয়ে আর
শুধুই সুধার তনুখানি।
দাস অনন্ত বলে          রূপ হেরি কে না ভুলে
জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য
বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি হেরিলুঁ কদম্ব-তলাতে।
বিনি পরিচয়ে মোর        পরাণ কেমন করে,
জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥
কপালে চন্দন-চাঁদ           কামিনি-মোহন-ফাঁদ
আন্ধারে করিয়া আছে আলা।
মেঘের উপরে চাঁদ            সদাই উদয় করে,
নিশি দিশি শশী ষোল-কলা॥
কিশোর বয়েস বেশ        আর তাহে রসাবেশ
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিলোলে মোর        পরাণ-পুতলী দোলে,
দিতে চাই যৌবন নিছনি॥
যে দেখয়ে একবার        সে কি পাসরয়ে আর
শুধুই সুধার তনুখানি।
দাস অনন্ত বলে---        রূপ হেরি’ কে না ভুলে
জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

কি হেরিলুঁ কদম্বতলাতে।
বিনি পরিচয়ে মোর         পরাণ কেমন করে
জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥
কপালে চন্দনচাঁদ         কামিনী মোহন ফান্দ
আন্ধারে করিয়া আছে আলা।
মেঘের উপরে চাঁদ            সদাই উদয় করে
নিশিদিশি শশী ষোল কলা॥
কিশোর বয়েস বেশ       আর তাহে রসাবেশ
আর তাহে ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিলোলে মোর        পরাণপুতলী দোলে
দিতে চাই যৌবন নিছনি॥
যে দেখয়ে একবার        সে কি পাসরয়ে আর
শুধুই সুধার তনুখানি।
দাস অনন্ত বলে           রূপ হেরি কে না ভুলে
জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি হেরিলুঁ কদম্বতলাতে।                
বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ কেমন করে        
.                জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥
কপালে চন্দনচাঁদ কামিনী মোহন ফান্দ        
.                আন্ধারে করিয়া আছে আলা।
মেঘের উপরে চাঁদ সদাই উদয় করে           
.                নিশিদিশি শশী ষোল কলা॥
কিশোর বয়েস বেশ আর তাহে রসাবেশ      
.                আর তাহে ভাতিয়া চাহনি।
হাসির হিলোলে মোর পরাণপুতলী             
.                দোলে দিতে চাই যৌবন নিছনি॥
যে দেখয়ে একবার সে কি পাসরয়ে আর       
.                শুধুই সুধার তনুখানি।
দাস অনন্ত বলে রূপ হেরি কে না ভুলে        
.                জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বিনোদ শ্যামের রূপ হেরি প্রাণ কান্দে
শ্যাম রূপ হেরি প্রাণ কান্দে
শ্যামরূপ হেরি সখি প্রাণ মোর কান্দে
কবি অনন্ত দাস        
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড,
২য় শাখা ৩য় পল্লব,রূপাভিসার , ২৯৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

বিনোদ শ্যামের রূপ হেরি প্রাণ কান্দে।
নাগরী-মোহন চূড়া বান্ধে কত ছান্দে॥
দোসুতি মুকুতার মালা কেশের সাজনি।
রতনে জড়িত মণি মাণিকের খিচনি॥
মল্লিকা-কলিকা শোভে চূড়ার দুই পাশে।
ভুবন ভুলাইলে ময়ূর পাখের বিলাসে॥
নবঘন জিনি অঙ্গ পীত পরিধান।
আগে পাছে কত মত্ত অলি করে গান॥
মুকুরে নিরখে রূপ সুখের নাহি ওর।
আপনার রূপে নাগর আপনি বিভোর॥
রহই ত্রিভঙ্গ হই হিলন কদম্ব।
দাস অনন্ত চিতে লাগি গেল ধন্ধ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যামরূপ হেরি প্রাণ কান্দে। নাগরী মোহনচূড়া বান্ধে নানা ছান্দে॥
দুষুতি মুকুতার ঝুরি কেশের সাজনি। রতনে জড়িত মণি মাণিকের খিচনি॥
মল্লিকা কলিকা শোভে মালতীর পাশে। ভুবন ভুলাইলে মউরপাখের বিলাসে॥
নবঘন জিনি অঙ্গ পীত পরিধান। আগে পাছে কত মত্ত অলি করে গান॥
মুকুরে নিরখে রূপ সুখের নাহি ওর। আপনার রূপে নাগর আপুনি বিভোর॥
রহই ত্রিভঙ্গিম হিলোল কদম্ব। দাস অনন্ত চিতে লাগল ধন্দ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথারাগ॥

শ্যাম রূপ হেরি প্রাণ কান্দে।
নাগরী মোহনচূড়া বান্ধে কত ছান্দে॥
দোসূতী মুকুতা মালা কেশের সাজনী।
রতনে জড়িত মণি মাণিকের খেচনি॥
মল্লিকা কলিকা শোভে চূড়ার দুই পাশে।
ভুবন ভুলালে ময়ূর পাখার বিলাসে॥
নবঘন-জিনি অঙ্গ পীত পরিধান।
আগে পাছে কত মত্ত অলি করে গান॥
মুকুরে নিরখে রূপ সুখের নাহি ওর।
আপনার রূপে নাগর আপনি বিভোর॥
রহই ত্রিভঙ্গ হই হিলন কদম্ব।
দাস অনন্ত চিতে লাগি গেল ধন্দ॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ শ্রীরাগ॥

বিনোদ শ্যামের রূপ হেরি প্রাণ কান্দে।
কামিনী-মোহন চৃড়া বান্ধে কত ছান্দে॥
মল্লিকা-কলিকা শোভে চূড়া চারি পাশে।
ভুবন ভুলিল মউর-পাখার বিলাসে॥
দো-সুতী মুকুতা-মালা কেশের সাজনি।
রতনে জড়িত মণি-মাণিকের খিচনি॥
নব-ঘন জিনি তনু পীত পরিধান।
আগে পাছে কত মত্ত অলি করে গান॥
মুকুরে নিরখি মুখ সুখের নাহি ওর।
আপনার রূপে নাগর আপনি বিভোর॥
রহই ত্রিভঙ্গ-ঠামে হেলন কদম্ব।
দাস অনন্ত-চিতে লাগল ধন্ধ॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

শ্যামরূপ হেরি সখি প্রাণ মোর কান্দে।
নাগরী মোহন চূড়া বান্ধে কত ছান্দে॥
দোসুতি মুকুতা মালা কেশের সাজনী।
রতনে জড়িত মণি মাণিকের খেচনি॥
মল্লিকা কলিফা শোভে চূড়ার দুই পাশে।
ভুবন ভুলাল ময়ূর পাখার বিলাসে॥
নবঘন জিনি অঙ্গ পীত পরিধান।
আগে পাছে কত মত্ত অলি করে গান॥
মুকুরে নিরখে রূপ সুখের নাহি ওর।
আপনার রূপে নাগর আপনি বিভোর॥
রহই ত্রিভঙ্গ হই হিলন কদম্ব।
দাস অনন্ত চিতে লাগি গেল ধন্দ॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোতা বা ধানশী॥

শ্যাম-রূপ হেরি প্রাণ কান্দে।
নাগরী-মোহন চূড়া বান্ধে কত ছান্দে॥
দোসূতী মুকুতা-মালা কেশের সাজনী।
রতনে জড়িত মণি মাণিকের খেচনি॥
মল্লিকা-কলিকা শোভে চূড়ার দুই পাশে।
ভুবন ভুলালে ময়ূর পাখার বিলাসে॥
নব ঘন জিনি অঙ্গ পীত পরিধান।
আগে পাছে কত মত্ত অলি করে গান॥
মুকুরে নিরখে রূপ সুখের নাহি ওর।
আপনার রূপে নাগর আপনি বিভোর॥
রহই ত্রি-ভঙ্গ হই হিলন কদম্ব।
দাস অনন্ত চিতে লাগি গেল ধন্দ॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে নিমানন্দ
দাস সংকলিত “পদরসসার” সংকলনের পদ।

শ্রীরাধার পূর্বরাগ
॥ শ্রীরাগ - মধ্যম একতালা॥

বিনোদ শ্যামেরি রূপ হেরি প্রাণ কাঁদে।
নাগরী-মোহন চৃড়া বান্ধে কত ছান্দে॥
মল্লিকা-কলিকা শোভে চূড়ার চারি পাশে।
ভুবন ভুলালে ময়ূর পাখার বিলাসে॥
দুসুতি মুকুতা মালা কেশের সাজনি।
রতনে জড়িত মণি মাণিকের খেচনি॥
নবঘন জিনি অঙ্গ পীত পরিধান।
আগে পাছে কত মত্ত অলি করে গান॥
মুকুরে নিরখি রূপ সুখের নাহি ওর।
আপনার রূপে নাগর আপনি বিভোর॥
রহই ত্রিভঙ্গ ঠামে হিলন কদম্ব।
দাস অনন্ত চিতে লাগল ধন্ধ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের রূপ

॥ তথারাগ॥

বিনোদ শ্যামেরি রূপ হেরি প্রাণ কাঁদে।
নাগরীমোহন চৃড়া বান্ধে কত ছান্দে॥
দোসুতি মুকুতা মালা কেশের সাজনি।
রতনে জড়িত মণি মাণিকের খিচনি॥
মল্লিকা-কলিকা শোভে চূড়ার চারি পাশে।
ভুবন ভুলাইলে ময়ূর-পাখের বিলাসে॥
নবঘন জিনি অঙ্গ পীত পরিধান।
আগে পাছে কত মত্ত অলি করে গান॥
নীরে নিরখি রূপ সুখের নাহি ওর।
আপনার রূপে নাগর আপনি বিভোর॥
রহই ত্রিভঙ্গ হই হিলন কদম্ব।
দাস অনন্ত চিতে লাগি গেল ধন্ধ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিনোদ শ্যামেরি রূপ হেরি প্রাণ কাঁদে।
নাগরীমোহন চৃড়া বান্ধে কত ছান্দে॥
দোসুতি মুকুতা মালা কেশের সাজনি।
রতনে জড়িত মণি মাণিকের খিচনি॥
মল্লিকা কলিকা শোভে চূড়ার চারি পাশে।
ভুবন ভুলাইলে ময়ূর পাখের বিলাসে॥
নবঘন জিনি অঙ্গ পীত পরিধান।
আগে পাছে কত মত্ত অলি করে গান॥
নীরে নিরখি রূপ সুখের নাহি ওর।
আপনার রূপে নাগর আপনি বিভোর॥
রহই ত্রিভঙ্গ হই হিলন কদম্ব।
দাস অনন্ত চিতে লাগি গেল ধন্ধ॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ধনি ধনি বনি অভিসারে
ধনী ধনী বনি অভিসার
ধনি ধনি বনি বনি অভিসারে
ধনী ধনি বনি অভিসারে
ধনী ধনী চলি অভিসারে
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ৩য় পল্লব, রূপাভিসার , ২৯৭-
পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ॥

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনি রঙ্গিণি                    প্রেম-তরঙ্গিণি
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥
চলইতে চরণের              সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত               ধরণি চুম্বয়ে কত
যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥
কনক-লতা জিনি               জিনি সৌদামিনি
বিধির অবধি-রূপ সাজে।
কিঙ্কিণি রণরণি                    বঙ্করাজ-ধনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি                  গমন সুলাবণি
অবলম্বন সখি-কান্ধে।
অনন্তদাসে ভণে               মিললি নিকুঞ্জবনে
পুরাইতে শ্যাম-মন-সাধে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১৩শ পল্লব,
অভিসারোত্কন্ঠা, ১০২৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ॥

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনি রঙ্গিণি                প্রেম-তরঙ্গিণি
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥ ধ্রু॥
চলইতে চরণ              সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ-পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত           ধরণি চুম্বয়ে কত
যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥
কনক-লতা জিনি           জিনি সৌদামিনি
বিধির অবধি রুপ সাজে।
কিঙ্কিণি  রণরণি                বঙ্করাজ ধনি
চলইতে সুমধুর বাজ॥
হংসরাজ জিনি               গমন সুলাবণি
অবলম্বন সখি-কান্ধে।
অনন্তদাস ভণে           মিললি নিকুঞ্জ-বনে
পুরাইতে শ্যাম-মন সাধে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ॥

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী    রূপতরঙ্গিণী    সাজলি শ্যামবিহারে॥
চলইতে চরণের    সঙ্গে চলু মধুকর    মকরন্দ পান কি লোভে।
সৌরভে উনমত    ধরণী চুম্বন কত    জাহা জাহা পদচিহ্ন লোভে॥
কনকলতা জিনি    জিনিঞা সৌদামিনী    বিধির অবধি রুপ সাজে।
কিঙ্কিণী রণরণি    বঙ্করাজধ্বনি    চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি    গমন সুনাগরিণী    অবলম্বন সখীকান্ধে।
অনন্তদাসে ভণে    মিললি নিকুঞ্জবনে    পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ১২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ॥

ধনি ধনি বনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিনী প্রেম তরঙ্গিনী
সাজলি শ্যাম বিহারে॥
চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত ধরণী চুম্বয়ে কত
যাহা যাহা পদচিহ্ন শোভে॥
কনকলতা জিনি, জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ সাজে।
কিঙ্কিণী রণরণি বঙ্ক রাজধ্বনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণী
অবলম্বন সখি কাঁধে।
অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জবনে
পুরাইতে শ্যাম মনসাধে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ॥

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                 প্রেম-তরঙ্গিণী,
সাজলি শ্যাম বিহারে॥
চলইতে চরণের            সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত           ধরণী চুম্বয়ে কত
যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥
কনক-লতা জিনি,           জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি-রূপ সাজে।
কিঙ্কিণী রণরণি                বঙ্করাজ ধ্বনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি               গমন সুলাবণী
অবলম্বন সখী কান্ধে।
অনন্তদাস ভণে           মিলিল নিকুঞ্জ বনে
পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ॥

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী,                    প্রেম-তরঙ্গিণী,
সাজলি শ্যাম বিহারে॥
চলইতে চরণ,                সঙ্গে চলু মধুকর,
মকরন্দ-পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত,             বরণী চুম্বয়ে কত,
যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥
কনক লতা জিনি,              জিনি সৌদামিনী,
বিধির অবধি রূপ সাজে।
কিঙ্কিণী রণরণি,                  বঙ্করাজ ধ্বনি,
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি                  গমন সুলাবণি
অবলম্বন সখী কান্ধে।
অনন্তদাস ভণে,             মিললি নিকুঞ্জ-বনে,
পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ শঙ্করাভরণ - মধ্যম ডাঁশপাহিড়া॥

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                    প্রেম তরঙ্গিণী
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥
চলইতে চরণে                 সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ-পান কি লোভে।
সৌরভে উনমত               ধরণী চুম্বয়ে কত
যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥
কনক লতা জিনি               জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ রাধে।
কিঙ্কিণী রণ রণি                   বঙ্করাজ ধ্বনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি                  গমন সুলাবণি
অবলম্বন সখী কাঁধে।
অনন্ত দাস ভণে              মিললি নিকুঞ্জ বনে
পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার।

ধনী ধনী বনি অভিসার।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                    প্রেম তরঙ্গিণী
সাজল শ্যাম বিহারে॥
চলইতে চরণের              সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পান কি লোভে।
সৌরভে উনমত              বরণী চুম্বয়ে কত
যাহা যাহা পদচিহ্ণ শোভে॥
কনক লতা জিনি               জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ সাজে।
কিঙ্কিণী রণ রণি                  বঙ্করাজ ধ্বনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি                  গমন সুলাবণী
অবলম্বন সখী কান্ধে।
অনন্ত দাস ভনে             মিললি নিকুঞ্জ বনে
পূরইতে শ্যাম মন সাধে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ॥

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                    প্রেম-তরঙ্গিণী
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥
চলইতে চরণের              সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত              ধরণী চুম্বয়ে কত
যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥
কনক-লতা জিনি               জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ সাজে।
কিঙ্কিণী রণরণি                   বঙ্করাজ-ধ্বনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি                  গমন সুলাবণি
অবলম্বন সখী কান্ধে।
অনন্তদাসে ভণে               মিললি নিকুঞ্জবনে
পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও
কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ - তেতালা তাল॥

ধনী ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী, প্রেম তরঙ্গিণী, সাজলি শ্যাম বিহারে,
চলইতে চরণে, সঙ্গে চলুঁ মধুকর, মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত, ধরণী চুম্বয়ে কত, যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ণ শোভে॥
কনক লতা জিনি, জিনি সৌদামিনী, বিধির অবধি রূপ সাজে।
কিঙ্কিণী রণরণি, বঙ্করাজ ধ্বনি, চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি, গমন সুলাবনী, অবলম্বন সখীকান্ধে।
অনন্তদাস ভনে, মিলল নিকুঞ্জবনে, পূরাইতে শ্যাম-মনসাধে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার খণ্ড
॥ শঙ্করাভরণ - বড় দাসপেড়ে॥

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনি রঙ্গিণি                    প্রেম-তরঙ্গিণি
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥
চলইতে চরণের               সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত                ধরণী চুম্বয়ে কত
যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥
কনক-লতা জিনি                জিনি সৌদামিনি
বিধির অবধি-রূপ সাজে।
কিঙ্কিণি রণরণি                    বঙ্করাজ-ধ্বনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি                    গমন সুলাবণি
অবলম্বন সখি-কান্ধে।
অনন্তদাসে ভণে               মিললি নিকুঞ্জবনে
পুরাইতে শ্যামমন-সাধে॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য
বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ১০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                    প্রেম-তরঙ্গিণী
সাজলি শ্যাম-বিহারে॥
চলইতে চরণের              সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পান-কি লোভে।
সৌরভে উনমত              ধরণী চুম্বয়ে কত
যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥
কনকলতা জিনি’              জিনি’ সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ সাজে।
কিঙ্কিণী-রণরনি                   বঙ্করাজ-ধ্বনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি’                  গমন সুলাবণি
অবলম্বন সখি-কাঁধে।
অনন্তদাসে ভণে              মিললি নিকুঞ্জ বনে
পূরাইতে শ্যাম-মন-সাধে॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”,
৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ॥

ধনী ধনী চলি অভিসারে।
সঙ্গিনী রঙ্গিণী                    প্রেম তরঙ্গিনী
সাজলি শ্যাম বিহারে॥
চলইতে চরণের              সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত               ধরণী চুম্বয়ে কত
যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥
কনকলতা জিনি               জিনি সৌদামিনী
বিধির অবধি রূপ সাজে।
কিঙ্কিণী রণরণি                   বঙ্করাজ ধ্বনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি                  গমন সুলাবণি
অবলম্বন সখি কান্ধে।
অনন্তদাস ভণে               মিলিল নিকুঞ্জবনে
পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ শঙ্করাভরণ॥

ধনি ধনি বনি অভিসারে।
সঙ্গিনি রঙ্গিণি                প্রেম তরঙ্গিণি
সাজলি শ্যাম বিহারে॥
চলইতে চরণ              সঙ্গে চলু মধুকর
মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত           ধরণি চুম্বয়ে কত
যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥
কনকলতা জিনি            জিনি সৌদামিনি
বিধির অবধি রূপ সাজে।
কিঙ্কিণি  রণরনি              বঙ্করাজ ধ্বনি
চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি               গমন সুলাবণি
অবলম্বন সখিকান্ধে।
অনন্তদাসে ভণে           মিললি নিকুঞ্জবনে
পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ধনি ধনি বনি অভিসারে।           
সঙ্গিনি রঙ্গিণি প্রেম তরঙ্গিণি        
.                সাজলি শ্যাম বিহারে॥
চলইতে চরণ সঙ্গে চলু মধুকর     
.                মকরন্দ পানকি লোভে।
সৌরভে উনমত ধরণি চুম্বয়ে কত   
.                যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥
কনকলতা জিনি জিনি সৌদামিনি    
.                বিধির অবধি রূপ সাজে।
কিঙ্কিণি রণরনি বঙ্করাজ ধ্বনি        
.                চলইতে সুমধুর বাজে॥
হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি        
.                অবলম্বন সখিকান্ধে।
অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জবনে  
.                পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “পদামৃত সমুদ্র” ৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুরবীরাগ শোখরতালৌ॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা। কানু মরকত মণি
রাই কাঁচা সোনা॥ ধ্রু॥ চম্পক কিশোরি গোরি অঙ্গ
উজোর। অতসি কুসুম তাহে শ্যাম কিশোর॥ নব গোরো-
চনা গোরী কানু ইন্দীবর। বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ
জলধর॥ রাই-কানু বেঢ়িয়া যতেক ব্রজনারি। অনন্ত
দাসের মন তাহে বলিহারি॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড,
২য় শাখা ৩য় পল্লব,রূপাভিসার , ২৯৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
কনকের লতা যেন তমালে বেড়িল।
নবঘন মাঝে যেন বিজুরী পশিল॥
রাই-কানু-রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চান্দ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ১২|৭-
পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
চম্পক কিশোরি গোরি অঙ্গ উজোর।
অতসী কুসুম তাহে শ্যাম কিশোর॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
রাই কানু বেড়িয়া যতেক ব্রজনারী।
অনন্ত দাসের মনে তাহে বলিহারি॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ২৫|২১-
পদ-সংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ পুরবি॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
চম্পক কিশোরি গোরি অঙ্গ উজোর।
অতসী কুসুম তাহে শ্যামল কিশোর॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
রাই কানু বেড়িয়া যতেক ব্রজনারী।
অনন্ত দাসের মনে তাহে বলিহারি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত জিনি রাই কাঁচা সোনা॥
নব গোরচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কনকের তরু যেন তমালে বেড়িল।
নবঘন মাঝে যেন বিজুরী পশিল॥
রাই কানু রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চাঁদ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দোঁহে হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ ধানশী - জপতাল॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোণা॥
নব গো রাচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
কনকের লতা যেন তমালে বেঢ়িল।
নবঘন মাঝে যেন বিজুরি পশিল॥
রাই কানু রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চাঁদ মিলিল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত-মণি রাই কাঁচা সোণা॥
নব গোরোচনা গৌরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কনকের তরু যেন তমালে বেড়িল।
নবঘন মাঝে যেন বিজুরী পশিল॥
রাই কানু রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চাঁদ মিলল একঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ১১০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর                কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি            রাই কাঁচা সোনা॥

নব গোরোচনা গোরী         কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি            বিনোদ জলধর॥

কনকের লতা যেন           তমালে বেড়িল।
নবঘন মাঝে যেন            বিজুরি পশিল॥

রাই কানু রূপের            নাহিক উপমা।
কুবলয় চান্দ                 মিলল এক ঠামা॥

রসের আবেশে দুহু         হইলা বিভোর।
দাসঅনন্ত-পহুঁ               না পাওল ওর॥

ই পদটি ২য়বার ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ২৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোণা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
কনকের লতা যেন তমালে বেড়িল।
নব ঘন মাঝে যেন বিজরি পশিল॥
রাই-কানু রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চান্দ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাসঅনন্ত-পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ৩য়বার ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কনকের তরু যেন তমালে বেঢ়িল।
নব ঘন মাঝে যেন বিজুরী পশিল॥
রাই কানু রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চাঁদ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দোহে হইলা বিভোর।
দাসঅনন্ত-পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ৪র্থবার ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কনকের তরু যেন তমালে বেড়িল।
নব ঘন মাঝে যেন বিজুরি পশিল॥
রাই-কানু রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চান্দ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত-পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ১৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যুগল মিলন
॥ ধানশী - জপতাল॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
কনকের লতা যেন তমালে বেড়িল।
নবঘন মাঝে যেন বিজুরী পশিল॥
রাই-কানু-রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চান্দ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস
ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দিবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
কনকের লতা যেন তমালে বেড়িল।
নবঘন মাঝে যেন বিজুরী পশিল॥
রাইকানুরূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চান্দ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যুগলরূপ
॥ ধানশী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
কনকের লতা যেন তমালে বেড়িল।
নবঘন মাঝে যেন বিজুরি পশিল॥
রাইকানুর রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চান্দ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১০৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ বিহাগড়া - ধামালী॥

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥ ধ্রু॥
চম্পক কিশোরি গোরী অঙ্গ উজোর।
অতসি কুসুম তাহে শ্যাম কিশোর॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
রাই কানু বেড়িয়া যতেক ব্রজনারী।
অনন্তদাসের মন তাহে বলিহারি॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
নব গোরোচনা গৌরী কানু ইন্দিবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কনকের লতা যেন তমালে বেড়িল।
নবঘন মাঝে যেন বিজুরী পশিল॥
রাই-কানু-রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চান্দ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত পহুঁ না পাওল ওর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দুহুঁ মুখ সুন্দর কি দিব তুলনা।
কানু মরকত মণি রাই কাঁচা সোনা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরি বিনোদ জলধর॥
কনকের লতা যেন তমালে বেরিল।
নবঘন সাঝে যেন বিজুরি পপিল॥
রাইকানুর রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চান মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দুহুঁ হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত পহুঁ না পাওল ওর॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
শূন্য কুঞ্জ হেরি রসবতি রাই
কবি অনন্ত দাস                
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড,
২য় শাখা ৩য় পল্লব,রূপাভিসার , ৩০৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
     
॥ তথা রাগ॥

শূন্য কুঞ্জ হেরি রসবতি রাই।
নাগর-শেখর না মিলল আই॥
মধু-ঋতু রজনী চান্দ উজোর।
কোকিল ভ্রমর ডাকে আনন্দে বিভোর॥
মলয় পবন বহে কুসুম-সুগন্ধ।
দ্বিজ-কুল-শবদ কতহুঁ পরবন্ধ॥
ঐছে সময়ে যব মীলব কান।
দাস অনন্ত তোহারি গুণ গান॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

শূন্যকুঞ্জ হেরি রসবতী রাই।
নাগর-শেখর না মিলল আই॥
মধু-ঋতু রজনী চন্দ্র উজোর।
কোকিল ভ্রমর ডাকে আনন্দে বিভোর॥
মলয় পবন বহে কুসুম সুগন্ধ।
দ্বিজ-কুল-শব্দ কতহুঁ পরবন্ধ॥
ঐছে সময়ে যব মিলল কান।
দাস অনন্ত তোহারি গুণ গান॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ২৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীকৃষ্ণের আত্ম-গোপন॥

শূন্য কুঞ্জ হেরি রসবতী রাই।
নাগর-শেখর না মিলল আই॥
মধু-ঋতু রজনী চান্দ উজোর।
কোকিল ভ্রমর ডাকে আনন্দে বিভোর॥
মলয় পবন বহে কুসুম-সুগন্ধ।
দ্বিজ-কুল-শব্দ কতহুঁ পরবন্ধ॥
ঐছে সময়ে যব মিলব কান।
দাস অনন্ত তোহারি গুণ গান॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্ত কালোচিত বাসকসজ্জা
॥ তথা রাগ॥

শূন্য কুঞ্জ হেরি রসবতি রাই।
নাগর শেখর না মিলল আই॥
মধুঋতু রজনী চান্দ উজোর।
কোকিল ভ্রমর ডাকে আনন্দে বিভোর॥
মলয় পবন বহে কুসুম সুগন্ধ।
দ্বিজকুল শবদ কতহুঁ পরবন্ধ॥
ঐছে সময়ে যব মীলব কান।
দাস অনন্ত তোহারি গুণ গান॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শূন্য কুঞ্জ হেরি রসবতি রাই।
নাগর শেখর না মিলল আই॥
মধুঋতু রজনী চান্দ উজোর।
কোকিল ভ্রমর ডাকে আনন্দে বিভোর॥
মলয় পবন বহে কুসুম সুগন্ধ।
দ্বিজকুল শবদ কতহুঁ পরবন্ধ॥
ঐছে সময়ে যব মীলব কান।
দাস অনন্ত তোহারি গুণ গান॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইলুঁ
কানুর লাগিএ জাগিয়া পোহানু
কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইনু
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ৬ষ্ঠ পল্লব,বর্ষাকালোচিত
উত্কন্ঠিতা, ৩৪৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উকণ্ঠিতান্তে বিপ্রলব্ধা।
॥ সুহই॥

কানুর লাগিয়া                জাগি পোহাইলুঁ
এ ঘোর আন্ধার রাতি।
এত দিনে সই                  নিচয়ে জানিলুঁ
নিঠুর পুরুখ জাতি॥
মেঘ দুর দুর                  দাদুরীর বোল
ঝিঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে।
ঘোর আন্ধিয়ারে                  বিজুরী ছটা
হিয়ার পুতলি দোলে॥
যতনে সাজালুঁ                    ফুলের শেজ
গন্ধে মোহ মোহ করে।
অঙ্গ ছটফটি                    সহনে না যায়
দারুণ বিরহ-জরে॥
মনের আগুনি                  মনে নিভাইতে
যেমন করয়ে প্রাণে।
কানুর এমন                       নিঠুর চরিত
এ দাস অনন্ত ভণে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ উত্কণ্ঠিতা। রাগিণী সুহই॥

কানুর লাগিএ    জাগিয়া পোহানু    এ ঘোর আন্ধার রাতি।
এতদিনে সই    নিশ্চয়ে জানিল    নিঠুর পুরূখজাতি॥
মেঘ দুরু দুরু    দাদুরি বোল    ঝিঝা ঝিনি বোলে।
ঘোর আন্ধিআরে    বিজুরি ছটা    হিয়ার পুথলী দোলে॥
জতনে সাজাঅনু    ফুলের শেজ    গন্ধে মোহ মোহ করে।
অঙ্গ ছটফটে    সহনে না জায়    দারুণ বিরহজ্বরে॥
মনের আগুনি    মনে নিবারিতে    জেমন করএ প্রাণে।
কানুর এমন    নিঠুর চরিত    এ দাস অনন্ত ভণে॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ইমন॥

কানুর লাগিয়া                জাগি পোহাইনু
এ ঘোর আন্ধার রাতি।
এত দিনে সই,                  নিচয়ে জানিনু
নিঠুর পুরুষ জাতি॥
মেঘ দুর দুর,                  দাদুরির বোল
ঝিঝা ঝিঝিনিকি বোলে।
ঘোর আন্ধিয়ারে               বিজুরির ছটা
হিয়ার পুতলি দোলে॥
যতনে সাজাইনু                 ফুলের সেজ
গন্ধে মোহ মোহ করে।
অঙ্গ ছটফটি                   সহনে না যায়
দারুণ বিরহজ্বরে॥
মনের আগুনি                 মনে নিভাইতে
যেমন করয়ে প্রাণে।
কানুর এমন                      নিঠুর চরিত
এ দাস অনন্ত ভণে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কানুর লাগিয়া,                জাগি পোহাইনু,
এ ঘোর আঁধার রাতি।
এত দিনে সই,                 নিশ্চয়ে জানিনু,
নিঠুর পুরুষ জাতি॥
মেঘ-দুর-দুর                    দাদুরীর বোল,
ঝিঁ ঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে।
ঘোর আন্ধিয়ারে,                  বিজুরী ছটা,
হিয়ার পুতলি দোলে॥
যতনে সাজানু,                      ফুলের শেজ,
গন্ধে মোহ মোহ করে।
অঙ্গ ছটফটি,                     সহনে না যায়,
দারুণ বিরহজ্বরে॥
মনের আগুনি                   মনে নিভাইতে
যেমন করয়ে প্রাণে।
কানুর এমন,                       নিঠুর চরিত,
এ দাস অনন্ত ভণে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কানুর লাগিয়া                জাগি পোহাইনু
এ ঘোর আন্ধার রাতি।
এত দিনে সই                  নিশ্চয় জানিনু
নিঠুর পুরুষ জাতি॥
মেঘ দুর দুর                   দাদুরীর বোল
ঝিঝা ঝিনি ঝিনি বোলে।
ঘোর আন্ধিয়ারে                  বিজুরী ছটা
হিয়ার পুতলী দোলে॥
যতনে সাজানু                    ফুলের শেজ
গন্ধে মোহ মোহ করে।
অঙ্গ ছটপটি                    সহনে না যায়
দারুণ বিরহ জ্বরে॥
মনের আগুনি                  বনে নিভাইতে
কেমন করয়ে প্রাণে।
কানুর এমন                       নিঠুর চরিত
এ দাস অনন্ত ভণে॥

ই পদটি ৪র্থবার ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্কণ্ঠিতান্তে বিপ্রলব্ধা
॥ সুহই॥

কানুর লাগিয়া                জাগি পোহাইলুঁ
এ ঘোর আন্ধার রাতি।
এত দিনে সই                  নিশ্চয় জানিলুঁ
নিঠুর পুরুখ জাতি॥
মেঘ দুর দুর                  দাদুরীর বোল
ঝিঁঝা ঝিনি ঝিনি বোলে।
ঘোর আন্ধিয়ারে                 বিজুরী ছটা
হিয়ার পুতলী দোলে॥
যতনে সাজালুঁ                   ফুলের শেজ
গন্ধে মোহ্ মোহ্ করে।
অঙ্গ ছটপটি                   সহনে না যায়
দারুণ বিরহ-জরে॥
মনের আগুনি                মনে নিভাইতে
কেমন করয়ে প্রাণে।
কানুর ঐছন                    নিঠুর চরিত
এ দাস অনন্ত ভণে॥

ই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য
বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ১৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কানুর লাগিয়া                জাগি’ পোহাইলুঁ
এ ঘোর আন্ধার রাতি।
এত দিনে সই                  নিচয়ে জানিলুঁ
নিঠুর পুরুখ জাতি॥
মেঘ দুরদুর,                  দাদুরীর বোল,
ঝিঁঝা ঝিনি ঝিনি বোলে।
ঘোর আন্ধিয়ারে                 বিজুরী-ছটা,
হিয়ার পুতলি দোলে॥
যতনে সাজালুঁ                 ফুলের শেজ---
গন্ধে মোহ মোহ করে।
অঙ্গ-ছটফটি                 সহনে না যায়---
দারুণ বিরহ-জ্বরে॥
মনের আগুনি                 মনে নিভাইতে
যেমন করয়ে প্রাণে।
কানুর এমন                       নিঠুর চরিত
এ দাস অনন্ত ভণে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিপ্রলব্ধা
॥ সুহই॥

কানুর লাগিয়া                জাগি পোহাইলুঁ
এ ঘোর আন্ধার রাতি।
এত দিনে সই                  নিচয়ে জানিলুঁ
নিঠুর পুরুখ জাতি॥
মেঘ দুর দুর                  দাদুরীর রোল
ঝিঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে।
ঘোর আন্ধিয়ারে              বিজুরীর ছটা
হিয়ার পুতলি দোলে॥
যতনে সাজালুঁ                    ফুলের শেজ
গন্ধে মহু মহু করে।
অঙ্গ ছটফটি                   সহনে না যায়
দারুণ বিরহজরে॥
মনের আগুনি                 মনে নিভাইতে
যেমন করয়ে প্রাণে।
কানুর এমন                      নিঠুর চরিত
এ দাস অনন্ত ভণে॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কানুর লাগিয়া                জাগি পোহাইলুঁ
এ ঘোর আন্ধার রাতি।
এত দিনে সই                  নিচয়ে জানিলুঁ
নিঠুর পুরুখ জাতি॥
মেঘ দুর দুর                  দাদুরীর বোল
ঝিঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে।
ঘোর আন্ধিয়ারে                 বিজুরী ছটা
হিয়ার পুতলি দোলে॥
যতনে সাজালুঁ                    ফুলের শেজ
গন্ধে মোহ মোহ করে।
অঙ্গ ছটফটি                    সহনে না যায়
দারুণ বিরহ-জরে॥
মনের আগুনি                  মনে নিভাইতে
যেমন করয়ে প্রাণে।
কানুর এমন                       নিঠুর চরিত
এ দাস অনন্ত ভণে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইলুঁ              
.                এ ঘোর আন্ধার রাতি।
এত দিনে সই নিচয়ে জানিলুঁ                
.                নিঠুর পুরুখ জাতি॥
মেঘ দুর দুর দাদুরীর রোল                
.                ঝিঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে।
ঘোর আন্ধিয়ারে বিজুরীর ছটা               
.                হিয়ার পুতলি দোলে॥
যতনে সাজালুঁ ফুলের শেজ                   
.                গন্ধে মহু মহু করে।
অঙ্গ ছটফটি সহনে না যায়                   
.                দারুণ বিরহজরে॥
মনের আগুনি মনে নিভাইতে                
.                যেমন করয়ে প্রাণে।
কানুর এমন নিঠুর চরিত                    
.                এ দাস অনন্ত ভণে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
চান্দ বদনি ধনি চলু অভিসার
চাঁদ বদনী ধনী চলু অভিসার
কবি অনন্ত দাস / গোবিন্দদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড,
২য় শাখা  ৭ম পল্লব,  সর্ব্বকালোচিত অভিসারিকা, ৩৫৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।
     
॥ ভূপালী॥

চান্দ-বদনি ধনি চলু অভিসার।
নব নব রঙ্গিণি রসের পাথার॥
কর্পূর চন্দন অঙ্গে বিরাজ।
মালতি-মাল হিয়ে বনি সাজ॥
চান্দনি রজনি কিরণ বন মাহ।
হাসিতে কুন্দ কুসুম গলি যাহ॥
মোতিম-হার করে কঙ্কণ সাজ।
ঐছনে আওল নিকুঞ্জক মাঝ॥
বৈঠলি হৃদয়ে আরতি বলবন্ত।
শ্যাম পাশে চলু দাস অনন্ত॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৪৩০-
পদসংখ্যায়, অন্যান্য পাঠান্তর সহ ভণিতাহীন অবস্থায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা
পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে
উপস্থাপন করা হলো।

॥ ভূপালী॥

চান্দ-বদনি ধনি চলু অভিসার।
নব নব রঙ্গিণি রসের পাথার॥
কর্পূর চন্দন অঙ্গে বিরাজ।
মালতি-মাল হিয়া বনী সাজ॥
চান্দনি রজনি কিরণ বন মাহ।
হাসিতে কুন্দ কুসুম গণি যাহ॥
মোতিম-হার করে কঙ্কণ সাজ।
ঐছে আওল নিকুঞ্জক মাঝ॥

পাঠান্তর -
‘বৈঠলি হৃদয়ে’ ইত্য়াদি পংক্তি-দ্বয় প-র-সা ৪৩০ সংখ্যক পদে নাই।

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৪৬৭-
পদসংখ্যায়, গোবিন্দদাস ভণিতায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি।
সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ভূপালী॥

চান্দ-বদনি ধনি চলু অভিসার।
নব নব রঙ্গিণি রসের পাথার॥
কর্পূর চন্দন অঙ্গে বিরাজ।
অভিরত কঙ্কণ কিঙ্কিণি বাজ॥
চরণনূপুর বাজত রণুঝনু।
মদন বিজই বাম হাতে ফুলধনু॥
বৃন্দাবিপিন ভেটল শ্যাম রায়।
নব নব কোকিল পঞ্চম গায়॥
ধনীমুখ হেরি মুগধ ভেল কান।
করে ধরি কুঞ্জহি করল পয়ান॥
পুরল জতহি হৃদয় অভিলাষ।
দূরহি দূরে রহু গোবিন্দদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চান্দ-বদনী ধনী চলুঁ অভিসার।
নব নব রঙ্গিণী রসের পাথার॥
কপূর চন্দন অঙ্গে বিরাজে।
মালতী মাল হিয়ে বনি সাজ॥
চাঁদনী রজনী কিরণ চন-মাহ।
হাসিতে কুন্দ কুসুম গলি যাহ॥
মোতিম হার করে কঙ্কণ সাজ।
ঐছন আওল নিকুঞ্জক মাঝ॥
বৈঠলি-হৃদয়ে আরতি চলবন্ত।
শ্যাম পাশে চলুঁ দাস অনন্ত॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৮৭ ও ৩৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দুইবার দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

চাঁদ বদনী ধনী চলু অভিসার।
নব নব রঙ্গিনী রসের পাথার॥
কর্পূর চন্দন অঙ্গে বিরাজ।
মালতী মাল হিয়ে বনি সাজ॥
চাঁদনী রজনী কিরণ বনমাহ।
হাসিতে কুন্দ কুসুম গলি যাহ॥
মোতিম হার করে কঙ্কণ সাজ।
ঐছন আওল নিকুঞ্জক মাঝ॥
বৈঠলি হৃদয়ে আরতি বলবন্ত।
শ্যাম পাশে চলু দাস অনন্ত॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”,
৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ভূপালী - তাল দাসপাহিরা॥

চাঁদ বদনী ধনী চলু অভিসার। নব নব রঙ্গিণী রসের
পাথার॥ কর্পূর চন্দন অঙ্গে বিরাজ। মালতি মাল হিয়ে বনি
সাজ॥ চাঁদনী রজনী কিরণ বন মাহ। হাসিতে কুন্দ কুসুম
গলি যাহ॥ মোতিম হার করে কঙ্কণ সাজ। ঐছনে আওল
কুঞ্জক মাঝ॥ বৈঠল হৃদয়ে আরতি বলবন্ত। শ্যাম পাশে
চলু দাস অনন্ত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসার
॥ তথারাগ॥

চান্দবদনি ধনি চলু অভিসার।
নব নব রঙ্গিনি রসের পাথার॥
কর্পূর চন্দন অঙ্গে বিরাজ।
মালতিমাল হিয়ে বনি সাজ॥
চান্দনি রজনি কিরণ বন মাহ।
হাসিতে কুন্দকুসুম গলি যাহ॥
মোতিমহার করে কঙ্কণ সাজ।
ঐছনে আওল নিকুঞ্জক মাঝ॥
বৈঠলি হৃদয়ে আরতি বলবন্ত।
শ্যাম পাশে চলু দাস অনন্ত॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
॥ ভূপালী - ছোট দশকুশী॥

চাঁদবদনী ধনি চলু অভিসার।
নব নব রঙ্গিনী রসের পাথার॥
কর্পূর চন্দন অঙ্গে বিরাজ।
মালতী মাল হিয়ে বনি সাজ॥
চাঁদিনী রজনী কিরণ বনমাহ।
হাসিতে কুন্দ কুসুম গলি যাহ॥
মোতিম হার করে কঙ্কণ সাজ।
ঐছন আওল নিকুঞ্জক মাঝ॥
বৈঠলি হৃদয়ে আরতি বলবন্ত।
শ্যাম পাশে চলু দাস অনন্ত॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চান্দবদনি ধনি চলু অভিসার।
নব নব রঙ্গিনি রসের পাথার॥
কর্পূর চন্দন অঙ্গে বিরাজ।
মালতিমাল হিয়ে বনি সাজ॥
চান্দনি রজনি কিরণ বন মাহ।
হাসিতে কুন্দকুসুম গলি যাহ॥
মোতিমহার করে কঙ্কণ সাজ।
ঐছনে আওল নিকুঞ্জক মাঝ॥
বৈঠলি হৃদয়ে আরতি বলবন্ত।
শ্যাম পাশে চলু দাস অনন্ত॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
চল চল মাধব করহ পয়ান
কবি অনন্ত দাস / গোবিন্দদাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড,
২য় শাখা ১১শ পল্লব,অধীরা মধ্যা খণ্ডিতা , ৪১১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

চল চল মাধব করহ পয়ান।
জাগিয়া সকল নিশি আইলা বিহান॥
হাম বনচারি রহিয়ে একসরিয়া।
না করহ চাতুরালি তুহুঁ শতঘরিয়া॥
মিছই শপথি না করিহ মোর আগে।
কেমনে মিটায়বি ইহ রতি-দাগে॥
যাহ চলি চঞ্চল না কর জঞ্জাল।
দগধ পরাণ দগধ কত বার॥
বিমুখ ভেল ধনি না কহই আর।
দাস অনন্ত অব কি কহিতে পার॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ২০|১৫-
পদ-সংখ্যায়, অন্যান্য পাঠান্তর সহ গোবিন্দদাসের ভণিতায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে
উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশ্রী॥        

চল চল মাধব তোহে পরণাম।
গোঙাই সকল নিশি আওলি বিহান॥
প্রতি অঙ্গে রতি-চিহ্ন আঁখি ঢুলু ঢুলু।
খসল কেশ বেশ মালতীর ফুল॥
হাম বনচারি বঞ্চব একসরিয়া।
না করহ চাতুরালি তুহুঁ শতঘরিয়া॥
পুন পুন মাধব কি বলিব আর।
দগধ শরীর দগধ কত বার॥
চল চল মাধব চল নিজ বাস।
অতয়ে নিবেদল গোবিন্দদাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৫৫৩-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সুহই॥

চল চল মাধব করহ পয়ান।
জাগিয়া সকল নিশি আইলা বিহান॥
হাম বনচারি রহিই একসরিয়া।
না করহ চাতুরালি তুহুঁ শতঘরিয়া॥
মিছই শপথি না কর মোর আগে।
কেমনে মিটায়বি ইহ রতি-দাগে॥
যাহ চলি চঞ্চল না কর জঞ্জাল।
দগধ পরাণ দগধ কত বার॥
বিমুখ ভেল ধনি না কহই আর।
দাস অনন্ত অব কি করিতে পার॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

চল চল মাধব করহ পয়ান।
জাগিয়া সকল নিশি আইলা বিহান॥
হাম বনচারী বঞ্চি একস্বরিয়া।
চাতুরী না কর চলহ শতঘরিয়া॥
মিছহি শপথি না কর মোর আগে।
কেমনে মিটায়বি ইহ রতি-দাগে॥
যাহ চলি চঞ্চল না করে জঞ্জাল।
দগধ পরাণ দগধ কত বার॥
বিমুখ ভেল ধনী না কহই আর।
দাস অনন্ত অব কি কহিতে পার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

খণ্ডিতা
॥ সুহই॥

চল চল মাধব করহ পয়ান।
জাগিয়া সকল নিশি আইলা বিহান॥
হাম বনচারি রহিয়ে একসরিয়া।
না করহ চাতুরালি তুহুঁ শতঘরিয়া॥
মিছই শপথি না করিহ মোর আগে।
কেমনে মিটাইবে ইহ রতিদাগে॥
যাহ চলি চঞ্চল না কর জঞ্জাল।
দগধ পরাণ দগধ কত বার॥
বিমুখ ভেল ধনি না কহই আর।
দাস অনন্ত অব কি কহিতে পার॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে রয়েছে।

খণ্ডিতা
॥ কো-ভৈরবী - ছোট দশকুশী॥

চল চল মাধব করহ পয়ান।
জাগিয়া সকল নিশি আইলা বিহান॥
হাম বনচারী বঞ্চি একশ্বরিয়া।
চাতুরী না কর চলহ শতঘরিয়া॥
মিছই শপতি না করহ মোর আগে।
কেমনে মিটায়বি ইহ রতি দাগে॥
যাহ চলি চঞ্চল না কর জঞ্জাল।
দগধ পরাণ দগধ কত বার॥
বিমুখ ভেল ধনি না কহই আর।
দাস অনন্ত অব কি কহিতে পার॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ১৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চল চল মাধব করহ পয়ান।
জাগিয়া সকল নিশি আইলা বিহান॥
হাম বনচারি বঞ্চি একেশ্বরিয়া।
চাতুরী না কর চলহ শতঘরিয়া॥
মিছাহি শপথি না কর মোর আগে।
কেমনে মিটায়বি ইহ রতি দাগে॥
যাহ চলি চঞ্চল না কর জঞ্জাল।
দগধ পরাণ দগধ কত আর॥
বিমুখ ভেল ধনী না কহই আর।
দাস অনন্ত অব কি কহিতে পার॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৪২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চল চল মাধব করহ পয়ান।
জাগিয়া সকল নিশি আইলা বিহান॥
হাম বনচারী বঞ্চি একেশ্বরিয়া।
চাতুরী না কর চলহ শতঘরিয়া॥
মিছাহি শপথি না কর মোর আগে।
কেমনে মিটায়বি ইহ রতি দাগে॥
যাহ চলি চঞ্চল না কর জঞ্জাল।
দগধ পরাণ দগধ কত আর॥
বিমুখ ভেল ধনী না কহই আর।
দাস অনন্ত অব কি কহিতে পার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

চল চল মাধব করহ পয়ান।
জাগিয়া সকল নিশি আইলা বিহান॥
হাম বনচারি রহিয়ে একসরিয়া।
না করহ চাতুরালি তুহুঁ শতঘরিয়া॥
মিছই শপথি না করিহ মোর আগে।
কেমনে মিটাইবে ইহ রতিদাগে॥
যাহ চলি চঞ্চল না কর জার।
দগধ পরাণ দগধ কত বার॥
বিমুখ ভেল ধনি না কহই আর।
দাস অনন্ত অব কি কহিতে পার॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
না বোল না বোল কানুর বোল
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ২০শ পল্লব,বিবিধ মান , ৫৫৪-
পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

না বোল না বোল             কানুর বোল
ও কথা নাহিক মানি।
বিষম কপট                    তাহার প্রেম
ভালে ভালে হাম জানি॥
নিকুঞ্জ-কাননে                সঙ্কেত করিয়া
তাহাঁ জাগাইল মোরে।
আন ধনি সনে                সে নিশি বঞ্চিয়া
বিহানে মিলল দূরে॥
সিন্দূর কাজর                  সব অঙ্গ পর
কপটে মিনতি কেল।
ছল করি শির-                 সিন্দূর কাজর
আমার চরণে দেল॥
শতগুণ হিয়া                  আনল জ্বালিল
চলিয়া আইলুঁ বাস।
এ হেন শঠের                    বদন না হের
কহয়ে অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

না বোল না বোল,              কানুর বোল,
ও কথা নাহিক মানি।
বিষম কপট,                     তাহার প্রেম,
ভালে ভালে হাম জানি॥
নিকুঞ্জে কাননে,                সঙ্কেত করিয়া,
তাঁহা জাগাইলা মোরে।
আন ধনী সনে,                সে নিশি বঞ্চিয়া,
বিহনে মিলিল দূরে॥
সিন্দূর কাজর,                 সব অঙ্গোপর,
কপটে মিনতি কেল।
ছল করি শির,                 সিন্দূর কাজর,
আমার চরণে দেল॥
শতগুণ হিয়া,                  আনল জ্বলিল,
চলিয়া আইনু বাস।
এ হেন শঠের                  বদন না হেরি,
কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মান
॥ ধানশী॥

না বোল না বোল             কানুর বোল
ও কথা নাহিক মানি।
বিষম কপট                    তাহার প্রেম
ভালে ভালে হাম জানি॥
নিকুঞ্জ কাননে                সঙ্কেত করিয়া
তাহাঁ জাগাইল মোরে।
আন ধনি সনে                সে নিশি বঞ্চিয়া
বিহানে মিলল দূরে॥
সিন্দূর কাজর                  সব অঙ্গ পর
কপটে মিনতি কেল।
ছল করি শির                সিন্দূর কাজর
আমার চরণে দেল॥
শতগুণ হিয়া                  আনল জ্বালিল
চলিয়া আইলুঁ বাস।
এ হেন শঠের                  বদন না হের
কহয়ে অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

খণ্ডিতা
॥ জয় জয়ন্তী ধানশী - মধ্যম দশকুশী॥

না বোল না বোল,              কানুর বোল,
ও কথা নাহিক মানি।
বিষম কপট,                    তাহার প্রেম,
ভালে ভালে হাম জানি॥
নিকুঞ্জ কাননে,                সঙ্কেত করিয়া,
তাঁহা জাগাইল মোরে।
আন ধনী সনে,              সো নিশি বঞ্চিয়া
বিহানে মিলল দূরে॥
সিন্দুর কাজর,                  সব অঙ্গ পর,
কপটে মিনতি কেল।
ছল করি শির-                 সিন্দুর কাজর,
আমার চরণে দেল॥
শতগুণ হিয়া,                   আনল জ্বলিল,
চলিয়া আইলুঁ বাস।
এ হেন শঠের                    বদন না হের,
কহয়ে অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৪৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

না বোল না বোল             কানুর বোল
ও কথা নাহিক মানি।
বিষম কপট                    তাহার প্রেম
ভালে ভালে হাম জানি॥
নিকুঞ্জ কাননে                সঙ্কেত করিয়া
তাহাঁ জাগাইল মোরে।
আন ধনি সনে              সে নিশি বঞ্চিয়া
বিহানে মিলল দূরে॥
সিন্দূর কাজর                 সব অঙ্গ পর
কপটে মিনতি কেল।
ছল করি শির-                সিন্দুর কাজর
আমার চরণে দেল॥
শতগুণ হিয়া-                 আনল জ্বালিল
চলিয়া আইলুঁ বাস।
এহেন শঠের                    বদন না হের
কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

না বোল না বোল কানুর বোল        
.                ও কথা নাহিক মানি।
বিষম কপট তাহার প্রেম              
.                ভালে ভালে হাম জানি॥
নিকুঞ্জ কাননে সঙ্কেত করিয়া          
.                তাহাঁ জাগাইল মোরে।
আন ধনি সনে সে নিশি বঞ্চিয়া        
.                বিহানে মিলল দূরে॥
সিন্দূর কাজর সব অঙ্গ পর           
.                কপটে মিনতি কেল।
ছল করি শির সিন্দূর কাজর          
.                আমার চরণে দেল॥
শতগুণ হিয়া আনল জ্বালিল          
.                চলিয়া আইলুঁ বাস।
এ হেন শঠের বদন না হের           
.                কহয়ে অনন্ত দাস॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
আজি বড় শোভা রে মধুর বৃন্দাবনে
আজু বড় শোভা রে মধুর বৃন্দাবনে
কবি অনন্ত দাস                
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ৪র্থ পল্লব, ,স্বয়ং-দৌত্য-সম্ভোগ , ৬৫০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
     
॥ শ্রী রাগ॥

আজি বড় শোভা রে মধুর বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিলা রতন সিংহাসনে॥
হেম-নিরমিত বেদী মাণিকের গাঁথনী।
তার মাঝে রাই কানু চৌদিগে গোপিনী॥
একেক তরুর মূলে একেক অবলা।
মেঘে বেঢ়ল যেন বিজুরীক মালা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কাঁচ বেড়া কাঞ্চনে কাঞ্চন বেড়া কাঁচে।
রাই কানু দুহুঁ তনু একই হইয়াছে।
রস-ভরে দুহুঁ জন হইলা বিভোর।
দাস অনন্তে কহে না পাইলুঁ ওর॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজ বড় শোভা রে মধুর বৃন্দাবনে। রাই কানু বসিলা রতন সিংহাসনে॥
হেম নিরমিত বেদী মাণিকের গাথনি। তার মাঝে রাই কানু চৌদিকে গোপীনি॥
একেক তরুর মূলে এক এক অবলা। মেঘে বেড়ল জেন বিজরিক মালা॥
নব গোরোচনা গৌরী কানু ইন্দীবর। বিনোদিনী বিজরি বিনোদ জলধর॥
কাঁচে বেড়া কাঞ্চন কাঞ্চন বেড়া কাঁচে। রাই কানু দোহু তনু একই হইআছে।
রসভরে দোহু জন হইল বিভোর। দাস অনন্তে কহে না পায়লু ওর॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১২৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রী রাগ॥

আজি বড় শোভা রে মধুর বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিলা রতন সিংহাসনে॥
হেম নিরমিত বেদী মাণিকের গাঁথনি।
তার মাঝে রাইকানু চৌদিকে গোপিনী॥
একেক তরুর মূলে একেক অবলা।
মেঘে বেড়ল যেন বিজুরীক মালা॥
নব গোরাচনা গৌরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কাচ বেড়া কাঞ্চনে কাঞ্চন বেড়া কাচে।
রাইকানু দুহু তনু এক হৈয়া আছে।
রস ভরে দুহু জন হইলা বিভোর।
দাস অনন্ত কহে না পাইনু ওর॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ২৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আজু বড় শোভা রে মধুর বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিলা রতন সিংহাসনে॥
হেম-নিরমিত বেদী মাণিকের গাঁথনি।
তার মাঝে রাই কানু চৌদিকে গোপিনী॥
একেক তরুর মূলে একেক অবলা।
মেঘে বেঢ়ল যেন বিজুরীক মালা॥
নব গোরাচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
রস-ভরে দুহুঁ জন হইলা বিভোর।
দাস অনন্তে কহে না পাইলুঁ ওর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মিলন
॥ শ্রী রাগ॥

আজি বড় শোভা রে মধুর বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিলা রতন সিংহাসনে॥
হেম-নিরমিত বেদী মাণিকের গাঁথনী।
তার মাঝে রাই কানু চৌদিগে গোপিনী॥
একেক তরুর মূলে একেক অবলা।
মেঘে বেড়ল যেন বিজুরীক মালা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুরী বিনোদ জলধর॥
কাঁচ বেড়া কাঞ্চনে কাঞ্চন বেড়া কাঁচে।
রাই কানু দুহুঁ তনু একই হইয়াছে।
রস-ভরে দুহুঁ জন হইলা বিভোর।
দাস অনন্তে কহে না পাইলুঁ ওর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আজি বড় শোভা রে মধুর বৃন্দাবনে।
রাই কানু বসিলা রতন সিংহাসনে॥
হেম নিরমিত বেদী মাণিকের গাঁথনী।
তার মাঝে রাই কানু চৌদিগে গোপিনী॥
একেক তরুর মূলে একেক অবলা।
মেঘে বেড়ল যেন বিজুরীক মালা॥
নব গোরোচনা গোরী কানু ইন্দীবর।
বিনোদিনী বিজুর বিনোদ জলধর॥
কাঁচ বেড়া কাঞ্চনে কাঞ্চন বেড়া কাঁচে।
রাই কানু দুহুঁ একই হইয়াছে।
রসভরে দুহুঁ জন হইলা বিভোর।
দাস অনন্তে কহে না পাইলুঁ ওর॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর