| অনন্ত দাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| কি হেরিলু কদম্ব-তলাতে কি হেরিলুঁ কদম্ব-তলাতে কি হেরিনু কদম্বতলাতে সখি কি হেরিলাম কদম্ব-তলাতে কবি অনন্ত দাস এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়”, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগঃ॥ কি হেরিলু কদম্বতলাতে। বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ যেমন করে জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥ কপালে চন্দন চাঁদ কামিনীমোহন ফাঁদ আঁধারেতে করিয়াছে আলা। মেঘের উপরে চান্দ সদাই উদয় করে নিশি দিশি শশীষোল কলা॥ কিশোর বয়েস বেশ আর তাহে রসাবেশ আর তাহে ভাঁতিয়া চাহনি। হাসির হিলোলে মোর পরাণ পুতলি দোলে দিতে চাই এ তনু নিছনি॥ যে দেখয়ে একবার সে কি পাসরয়ে আর শুধুই সুধার তনু খানি। অনন্তদাসেতে বোলে রূপ হেরি কেনা ভুলে জগতে আছে কি হেন প্রাণী॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ১ম শাখা ৬ষ্ঠ পল্লব,শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ--প্রকারান্তর, ১২৫-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ কি হেরিলুঁ কদম্ব-তলাতে। বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ কেমন করে জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥ কপালে চন্দন-চাঁদ কামিনী মোহন ফান্দ আন্ধারে করিয়া আছে আলা। মেঘের উপরে চাঁদ সদাই উদয় করে নিশিদিশি শশী ষোল কলা॥ কিশোর বয়েস বেশ আর তাহে রসাবেশ আর তাহে ভাতিয়া চাহনি। হাসির হিলোলে মোর পরাণ-পুতলী দোলে দিতে চাই যৌবন নিছনি॥ যে দেখয়ে একবার সে কি পাসরয়ে আর শুধুই সুধার তনুখানি। দাস অনন্ত বলে রূপ হেরি কে না ভুলে জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ কি হেরিনু কদম্বতলাতে। বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ কেমন করে জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥ কপালে চন্দন চাঁদ কামিনী মোহন ফাঁদ, আন্ধারে করিয়াছে আলা। মেঘের উপরে চাঁদ সদাই উদয় করে নিশিদিসু শশি ষোলকলা॥ কিশোর বয়েস বেশ, আর তাহে রসাবেশ, আর তাহে ভাতিয়া চাহনি। হাসির হিল্লোলে মোর পরাণ পুতলি দোলে দিতে চাই যৌবন নিছনি॥ যে দেখয়ে একবার সে কি পাসরয়ে আর, শুধুই সুধার তনুখানি। দাস অনন্ত বলে রূপ দেখি কে না ভুলে, জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥ এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ ॥ সুহই - ছোট দশকুশী॥ সখি কি হেরিলাম কদম্ব-তলাতে। বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ কেমন করে জীতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ কপালে চন্দন চান্দ কামিনী মোহন ফান্দ আন্ধারে করিয়া আছে আলা। মেঘের উপরে চান্দ সদাই উদয় করে নিশি দিশি শশী ষোল কলা॥ কিশোর বয়েস বেশ আর তাহে রসাবেশ আর তাহে ভাতিয়া চাহনি। হাসির হিলোলে মোর পরাণ পুতলী দোলে দিতে চাই যৌবন নিছনি॥ যে দেখয়ে একবার সে কি পাশরয়ে আর শুধুই সুধার তনুখানি। অনন্ত দাস বলে রূপ হেরি কে না ভুলে জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ॥ কি হেরিলুঁ কদম্ব-তলাতে। বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ কেমন করে জীতে কি পারিয়ে পাশরিতে॥ কপালে চন্দন-চাঁদ কামিনী-মোহন ফাঁদ আঁধারেতে করিয়াছে আলা। মেঘের উপরে চাঁদ সদাই উদয় করে নিশি দিশি শশী ষোলকলা॥ কিশোর বয়েস বেশ আর তাহে রসাবেশ আর তাহে ভাতিয়া চাহনি। হাসির হিলোলে মোর পরাণ-পুতলী দোলে দিতে চাই যৌবন নিছনি॥ যে দেখয়ে একবার সে কি পাসরয়ে আর সুধুই সুধার তনুখানি। দাস অনন্ত বলে রূপ হেরি কে না ভুলে জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পূর্ব্বরাগ খণ্ড ॥ মায়ূর - দশকুসী॥ কি হেরিলুঁ কদম্বতলাতে। বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ কেমন করে জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥ কপালে চন্দন-চাঁদ কামিনী-মোহন ফাঁদ আঁধারে করিয়া আছে আলা। মেঘের উপরে চাঁদ সদাই উদয় করে নিশি দিশি শশী ষোলকলা॥ কিশোর বয়েস বেশ আর তাহে রসাবেশ আর তাহে ভাতিয়া চাহনি। হাসির হিলোলে মোর পরাণ-পুতলী দোলে দিতে চাই যৌবন নিছনি॥ যে দেখয়ে একবার সে কি পাসরয়ে আর শুধুই সুধার তনুখানি। দাস অনন্ত বলে রূপ হেরি কে না ভুলে জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥ এই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি হেরিলুঁ কদম্ব-তলাতে। বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ কেমন করে, জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥ কপালে চন্দন-চাঁদ কামিনি-মোহন-ফাঁদ আন্ধারে করিয়া আছে আলা। মেঘের উপরে চাঁদ সদাই উদয় করে, নিশি দিশি শশী ষোল-কলা॥ কিশোর বয়েস বেশ আর তাহে রসাবেশ আর তাহে ভাতিয়া চাহনি। হাসির হিলোলে মোর পরাণ-পুতলী দোলে, দিতে চাই যৌবন নিছনি॥ যে দেখয়ে একবার সে কি পাসরয়ে আর শুধুই সুধার তনুখানি। দাস অনন্ত বলে--- রূপ হেরি’ কে না ভুলে জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ ॥ শ্রীরাগ॥ কি হেরিলুঁ কদম্বতলাতে। বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ কেমন করে জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ ধ্রু॥ কপালে চন্দনচাঁদ কামিনী মোহন ফান্দ আন্ধারে করিয়া আছে আলা। মেঘের উপরে চাঁদ সদাই উদয় করে নিশিদিশি শশী ষোল কলা॥ কিশোর বয়েস বেশ আর তাহে রসাবেশ আর তাহে ভাতিয়া চাহনি। হাসির হিলোলে মোর পরাণপুতলী দোলে দিতে চাই যৌবন নিছনি॥ যে দেখয়ে একবার সে কি পাসরয়ে আর শুধুই সুধার তনুখানি। দাস অনন্ত বলে রূপ হেরি কে না ভুলে জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি হেরিলুঁ কদম্বতলাতে। বিনি পরিচয়ে মোর পরাণ কেমন করে . জিতে কি পারিয়ে পাসরিতে॥ কপালে চন্দনচাঁদ কামিনী মোহন ফান্দ . আন্ধারে করিয়া আছে আলা। মেঘের উপরে চাঁদ সদাই উদয় করে . নিশিদিশি শশী ষোল কলা॥ কিশোর বয়েস বেশ আর তাহে রসাবেশ . আর তাহে ভাতিয়া চাহনি। হাসির হিলোলে মোর পরাণপুতলী . দোলে দিতে চাই যৌবন নিছনি॥ যে দেখয়ে একবার সে কি পাসরয়ে আর . শুধুই সুধার তনুখানি। দাস অনন্ত বলে রূপ হেরি কে না ভুলে . জগতে নাহিক হেন প্রাণী॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ধনি ধনি বনি অভিসারে ধনী ধনী বনি অভিসার ধনি ধনি বনি বনি অভিসারে ধনী ধনি বনি অভিসারে ধনী ধনী চলি অভিসারে কবি অনন্ত দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ৩য় পল্লব, রূপাভিসার , ২৯৭- পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনি রঙ্গিণি প্রেম-তরঙ্গিণি সাজলি শ্যাম-বিহারে॥ চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পানকি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণি চুম্বয়ে কত যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥ কনক-লতা জিনি জিনি সৌদামিনি বিধির অবধি-রূপ সাজে। কিঙ্কিণি রণরণি বঙ্করাজ-ধনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি অবলম্বন সখি-কান্ধে। অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জবনে পুরাইতে শ্যাম-মন-সাধে॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১৩শ পল্লব, অভিসারোত্কন্ঠা, ১০২৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনি রঙ্গিণি প্রেম-তরঙ্গিণি সাজলি শ্যাম-বিহারে॥ ধ্রু॥ চলইতে চরণ সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ-পানকি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণি চুম্বয়ে কত যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥ কনক-লতা জিনি জিনি সৌদামিনি বিধির অবধি রুপ সাজে। কিঙ্কিণি রণরণি বঙ্করাজ ধনি চলইতে সুমধুর বাজ॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি অবলম্বন সখি-কান্ধে। অনন্তদাস ভণে মিললি নিকুঞ্জ-বনে পুরাইতে শ্যাম-মন সাধে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৬৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনী রঙ্গিণী রূপতরঙ্গিণী সাজলি শ্যামবিহারে॥ চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পান কি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণী চুম্বন কত জাহা জাহা পদচিহ্ন লোভে॥ কনকলতা জিনি জিনিঞা সৌদামিনী বিধির অবধি রুপ সাজে। কিঙ্কিণী রণরণি বঙ্করাজধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুনাগরিণী অবলম্বন সখীকান্ধে। অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জবনে পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ১২৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ ধনি ধনি বনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনী রঙ্গিনী প্রেম তরঙ্গিনী সাজলি শ্যাম বিহারে॥ চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পানকি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণী চুম্বয়ে কত যাহা যাহা পদচিহ্ন শোভে॥ কনকলতা জিনি, জিনি সৌদামিনী বিধির অবধি রূপ সাজে। কিঙ্কিণী রণরণি বঙ্ক রাজধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণী অবলম্বন সখি কাঁধে। অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জবনে পুরাইতে শ্যাম মনসাধে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনী রঙ্গিণী প্রেম-তরঙ্গিণী, সাজলি শ্যাম বিহারে॥ চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পানকি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণী চুম্বয়ে কত যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥ কনক-লতা জিনি, জিনি সৌদামিনী বিধির অবধি-রূপ সাজে। কিঙ্কিণী রণরণি বঙ্করাজ ধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণী অবলম্বন সখী কান্ধে। অনন্তদাস ভণে মিলিল নিকুঞ্জ বনে পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনী রঙ্গিণী, প্রেম-তরঙ্গিণী, সাজলি শ্যাম বিহারে॥ চলইতে চরণ, সঙ্গে চলু মধুকর, মকরন্দ-পানকি লোভে। সৌরভে উনমত, বরণী চুম্বয়ে কত, যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥ কনক লতা জিনি, জিনি সৌদামিনী, বিধির অবধি রূপ সাজে। কিঙ্কিণী রণরণি, বঙ্করাজ ধ্বনি, চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি অবলম্বন সখী কান্ধে। অনন্তদাস ভণে, মিললি নিকুঞ্জ-বনে, পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥ এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রূপানুরাগ ॥ শঙ্করাভরণ - মধ্যম ডাঁশপাহিড়া॥ ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনী রঙ্গিণী প্রেম তরঙ্গিণী সাজলি শ্যাম-বিহারে॥ চলইতে চরণে সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ-পান কি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণী চুম্বয়ে কত যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥ কনক লতা জিনি জিনি সৌদামিনী বিধির অবধি রূপ রাধে। কিঙ্কিণী রণ রণি বঙ্করাজ ধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি অবলম্বন সখী কাঁধে। অনন্ত দাস ভণে মিললি নিকুঞ্জ বনে পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অভিসার। ধনী ধনী বনি অভিসার। সঙ্গিনী রঙ্গিণী প্রেম তরঙ্গিণী সাজল শ্যাম বিহারে॥ চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পান কি লোভে। সৌরভে উনমত বরণী চুম্বয়ে কত যাহা যাহা পদচিহ্ণ শোভে॥ কনক লতা জিনি জিনি সৌদামিনী বিধির অবধি রূপ সাজে। কিঙ্কিণী রণ রণি বঙ্করাজ ধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণী অবলম্বন সখী কান্ধে। অনন্ত দাস ভনে মিললি নিকুঞ্জ বনে পূরইতে শ্যাম মন সাধে॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ২৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনী রঙ্গিণী প্রেম-তরঙ্গিণী সাজলি শ্যাম-বিহারে॥ চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পানকি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণী চুম্বয়ে কত যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥ কনক-লতা জিনি জিনি সৌদামিনী বিধির অবধি রূপ সাজে। কিঙ্কিণী রণরণি বঙ্করাজ-ধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি অবলম্বন সখী কান্ধে। অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জবনে পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥ এই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ - তেতালা তাল॥ ধনী ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনী রঙ্গিণী, প্রেম তরঙ্গিণী, সাজলি শ্যাম বিহারে, চলইতে চরণে, সঙ্গে চলুঁ মধুকর, মকরন্দ পানকি লোভে। সৌরভে উনমত, ধরণী চুম্বয়ে কত, যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ণ শোভে॥ কনক লতা জিনি, জিনি সৌদামিনী, বিধির অবধি রূপ সাজে। কিঙ্কিণী রণরণি, বঙ্করাজ ধ্বনি, চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি, গমন সুলাবনী, অবলম্বন সখীকান্ধে। অনন্তদাস ভনে, মিলল নিকুঞ্জবনে, পূরাইতে শ্যাম-মনসাধে॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অভিসার খণ্ড ॥ শঙ্করাভরণ - বড় দাসপেড়ে॥ ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনি রঙ্গিণি প্রেম-তরঙ্গিণি সাজলি শ্যাম-বিহারে॥ চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পানকি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণী চুম্বয়ে কত যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥ কনক-লতা জিনি জিনি সৌদামিনি বিধির অবধি-রূপ সাজে। কিঙ্কিণি রণরণি বঙ্করাজ-ধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি অবলম্বন সখি-কান্ধে। অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জবনে পুরাইতে শ্যামমন-সাধে॥ এই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ১০২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনী রঙ্গিণী প্রেম-তরঙ্গিণী সাজলি শ্যাম-বিহারে॥ চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পান-কি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণী চুম্বয়ে কত যাঁহা যাঁহা পদচিহ্ন শোভে॥ কনকলতা জিনি’ জিনি’ সৌদামিনী বিধির অবধি রূপ সাজে। কিঙ্কিণী-রণরনি বঙ্করাজ-ধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি’ গমন সুলাবণি অবলম্বন সখি-কাঁধে। অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জ বনে পূরাইতে শ্যাম-মন-সাধে॥ এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, বিভূতিভূষণ মিত্র সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কাব্য-রত্নমালা”, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শঙ্করাভরণ॥ ধনী ধনী চলি অভিসারে। সঙ্গিনী রঙ্গিণী প্রেম তরঙ্গিনী সাজলি শ্যাম বিহারে॥ চলইতে চরণের সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পানকি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণী চুম্বয়ে কত যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥ কনকলতা জিনি জিনি সৌদামিনী বিধির অবধি রূপ সাজে। কিঙ্কিণী রণরণি বঙ্করাজ ধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি অবলম্বন সখি কান্ধে। অনন্তদাস ভণে মিলিল নিকুঞ্জবনে পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অভিসার ॥ শঙ্করাভরণ॥ ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনি রঙ্গিণি প্রেম তরঙ্গিণি সাজলি শ্যাম বিহারে॥ চলইতে চরণ সঙ্গে চলু মধুকর মকরন্দ পানকি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণি চুম্বয়ে কত যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥ কনকলতা জিনি জিনি সৌদামিনি বিধির অবধি রূপ সাজে। কিঙ্কিণি রণরনি বঙ্করাজ ধ্বনি চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি অবলম্বন সখিকান্ধে। অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জবনে পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ধনি ধনি বনি অভিসারে। সঙ্গিনি রঙ্গিণি প্রেম তরঙ্গিণি . সাজলি শ্যাম বিহারে॥ চলইতে চরণ সঙ্গে চলু মধুকর . মকরন্দ পানকি লোভে। সৌরভে উনমত ধরণি চুম্বয়ে কত . যাহাঁ যাহাঁ পদচিহ্ন শোভে॥ কনকলতা জিনি জিনি সৌদামিনি . বিধির অবধি রূপ সাজে। কিঙ্কিণি রণরনি বঙ্করাজ ধ্বনি . চলইতে সুমধুর বাজে॥ হংসরাজ জিনি গমন সুলাবণি . অবলম্বন সখিকান্ধে। অনন্তদাসে ভণে মিললি নিকুঞ্জবনে . পুরাইতে শ্যাম মন সাধে॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইলুঁ কানুর লাগিএ জাগিয়া পোহানু কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইনু কবি অনন্ত দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ৬ষ্ঠ পল্লব,বর্ষাকালোচিত উত্কন্ঠিতা, ৩৪৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। উকণ্ঠিতান্তে বিপ্রলব্ধা। ॥ সুহই॥ কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইলুঁ এ ঘোর আন্ধার রাতি। এত দিনে সই নিচয়ে জানিলুঁ নিঠুর পুরুখ জাতি॥ মেঘ দুর দুর দাদুরীর বোল ঝিঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে। ঘোর আন্ধিয়ারে বিজুরী ছটা হিয়ার পুতলি দোলে॥ যতনে সাজালুঁ ফুলের শেজ গন্ধে মোহ মোহ করে। অঙ্গ ছটফটি সহনে না যায় দারুণ বিরহ-জরে॥ মনের আগুনি মনে নিভাইতে যেমন করয়ে প্রাণে। কানুর এমন নিঠুর চরিত এ দাস অনন্ত ভণে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ উত্কণ্ঠিতা। রাগিণী সুহই॥ কানুর লাগিএ জাগিয়া পোহানু এ ঘোর আন্ধার রাতি। এতদিনে সই নিশ্চয়ে জানিল নিঠুর পুরূখজাতি॥ মেঘ দুরু দুরু দাদুরি বোল ঝিঝা ঝিনি বোলে। ঘোর আন্ধিআরে বিজুরি ছটা হিয়ার পুথলী দোলে॥ জতনে সাজাঅনু ফুলের শেজ গন্ধে মোহ মোহ করে। অঙ্গ ছটফটে সহনে না জায় দারুণ বিরহজ্বরে॥ মনের আগুনি মনে নিবারিতে জেমন করএ প্রাণে। কানুর এমন নিঠুর চরিত এ দাস অনন্ত ভণে॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ইমন॥ কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইনু এ ঘোর আন্ধার রাতি। এত দিনে সই, নিচয়ে জানিনু নিঠুর পুরুষ জাতি॥ মেঘ দুর দুর, দাদুরির বোল ঝিঝা ঝিঝিনিকি বোলে। ঘোর আন্ধিয়ারে বিজুরির ছটা হিয়ার পুতলি দোলে॥ যতনে সাজাইনু ফুলের সেজ গন্ধে মোহ মোহ করে। অঙ্গ ছটফটি সহনে না যায় দারুণ বিরহজ্বরে॥ মনের আগুনি মনে নিভাইতে যেমন করয়ে প্রাণে। কানুর এমন নিঠুর চরিত এ দাস অনন্ত ভণে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ কানুর লাগিয়া, জাগি পোহাইনু, এ ঘোর আঁধার রাতি। এত দিনে সই, নিশ্চয়ে জানিনু, নিঠুর পুরুষ জাতি॥ মেঘ-দুর-দুর দাদুরীর বোল, ঝিঁ ঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে। ঘোর আন্ধিয়ারে, বিজুরী ছটা, হিয়ার পুতলি দোলে॥ যতনে সাজানু, ফুলের শেজ, গন্ধে মোহ মোহ করে। অঙ্গ ছটফটি, সহনে না যায়, দারুণ বিরহজ্বরে॥ মনের আগুনি মনে নিভাইতে যেমন করয়ে প্রাণে। কানুর এমন, নিঠুর চরিত, এ দাস অনন্ত ভণে॥ এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৩৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইনু এ ঘোর আন্ধার রাতি। এত দিনে সই নিশ্চয় জানিনু নিঠুর পুরুষ জাতি॥ মেঘ দুর দুর দাদুরীর বোল ঝিঝা ঝিনি ঝিনি বোলে। ঘোর আন্ধিয়ারে বিজুরী ছটা হিয়ার পুতলী দোলে॥ যতনে সাজানু ফুলের শেজ গন্ধে মোহ মোহ করে। অঙ্গ ছটপটি সহনে না যায় দারুণ বিরহ জ্বরে॥ মনের আগুনি বনে নিভাইতে কেমন করয়ে প্রাণে। কানুর এমন নিঠুর চরিত এ দাস অনন্ত ভণে॥ এই পদটি ৪র্থবার ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৪৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। উত্কণ্ঠিতান্তে বিপ্রলব্ধা ॥ সুহই॥ কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইলুঁ এ ঘোর আন্ধার রাতি। এত দিনে সই নিশ্চয় জানিলুঁ নিঠুর পুরুখ জাতি॥ মেঘ দুর দুর দাদুরীর বোল ঝিঁঝা ঝিনি ঝিনি বোলে। ঘোর আন্ধিয়ারে বিজুরী ছটা হিয়ার পুতলী দোলে॥ যতনে সাজালুঁ ফুলের শেজ গন্ধে মোহ্ মোহ্ করে। অঙ্গ ছটপটি সহনে না যায় দারুণ বিরহ-জরে॥ মনের আগুনি মনে নিভাইতে কেমন করয়ে প্রাণে। কানুর ঐছন নিঠুর চরিত এ দাস অনন্ত ভণে॥ এই পদটি ১৯৪০ সালে প্রকাশিত, চারুচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “বিদ্যাপতি চণ্ডীদাস ও অন্যান্য বৈষ্ণব মহাজন গীতিকা”, ১৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কানুর লাগিয়া জাগি’ পোহাইলুঁ এ ঘোর আন্ধার রাতি। এত দিনে সই নিচয়ে জানিলুঁ নিঠুর পুরুখ জাতি॥ মেঘ দুরদুর, দাদুরীর বোল, ঝিঁঝা ঝিনি ঝিনি বোলে। ঘোর আন্ধিয়ারে বিজুরী-ছটা, হিয়ার পুতলি দোলে॥ যতনে সাজালুঁ ফুলের শেজ--- গন্ধে মোহ মোহ করে। অঙ্গ-ছটফটি সহনে না যায়--- দারুণ বিরহ-জ্বরে॥ মনের আগুনি মনে নিভাইতে যেমন করয়ে প্রাণে। কানুর এমন নিঠুর চরিত এ দাস অনন্ত ভণে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বিপ্রলব্ধা ॥ সুহই॥ কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইলুঁ এ ঘোর আন্ধার রাতি। এত দিনে সই নিচয়ে জানিলুঁ নিঠুর পুরুখ জাতি॥ মেঘ দুর দুর দাদুরীর রোল ঝিঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে। ঘোর আন্ধিয়ারে বিজুরীর ছটা হিয়ার পুতলি দোলে॥ যতনে সাজালুঁ ফুলের শেজ গন্ধে মহু মহু করে। অঙ্গ ছটফটি সহনে না যায় দারুণ বিরহজরে॥ মনের আগুনি মনে নিভাইতে যেমন করয়ে প্রাণে। কানুর এমন নিঠুর চরিত এ দাস অনন্ত ভণে॥ এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইলুঁ এ ঘোর আন্ধার রাতি। এত দিনে সই নিচয়ে জানিলুঁ নিঠুর পুরুখ জাতি॥ মেঘ দুর দুর দাদুরীর বোল ঝিঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে। ঘোর আন্ধিয়ারে বিজুরী ছটা হিয়ার পুতলি দোলে॥ যতনে সাজালুঁ ফুলের শেজ গন্ধে মোহ মোহ করে। অঙ্গ ছটফটি সহনে না যায় দারুণ বিরহ-জরে॥ মনের আগুনি মনে নিভাইতে যেমন করয়ে প্রাণে। কানুর এমন নিঠুর চরিত এ দাস অনন্ত ভণে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কানুর লাগিয়া জাগি পোহাইলুঁ . এ ঘোর আন্ধার রাতি। এত দিনে সই নিচয়ে জানিলুঁ . নিঠুর পুরুখ জাতি॥ মেঘ দুর দুর দাদুরীর রোল . ঝিঝাঁ ঝিনি ঝিনি বোলে। ঘোর আন্ধিয়ারে বিজুরীর ছটা . হিয়ার পুতলি দোলে॥ যতনে সাজালুঁ ফুলের শেজ . গন্ধে মহু মহু করে। অঙ্গ ছটফটি সহনে না যায় . দারুণ বিরহজরে॥ মনের আগুনি মনে নিভাইতে . যেমন করয়ে প্রাণে। কানুর এমন নিঠুর চরিত . এ দাস অনন্ত ভণে॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| না বোল না বোল কানুর বোল কবি অনন্ত দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা ২০শ পল্লব,বিবিধ মান , ৫৫৪- পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ না বোল না বোল কানুর বোল ও কথা নাহিক মানি। বিষম কপট তাহার প্রেম ভালে ভালে হাম জানি॥ নিকুঞ্জ-কাননে সঙ্কেত করিয়া তাহাঁ জাগাইল মোরে। আন ধনি সনে সে নিশি বঞ্চিয়া বিহানে মিলল দূরে॥ সিন্দূর কাজর সব অঙ্গ পর কপটে মিনতি কেল। ছল করি শির- সিন্দূর কাজর আমার চরণে দেল॥ শতগুণ হিয়া আনল জ্বালিল চলিয়া আইলুঁ বাস। এ হেন শঠের বদন না হের কহয়ে অনন্ত দাস॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ না বোল না বোল, কানুর বোল, ও কথা নাহিক মানি। বিষম কপট, তাহার প্রেম, ভালে ভালে হাম জানি॥ নিকুঞ্জে কাননে, সঙ্কেত করিয়া, তাঁহা জাগাইলা মোরে। আন ধনী সনে, সে নিশি বঞ্চিয়া, বিহনে মিলিল দূরে॥ সিন্দূর কাজর, সব অঙ্গোপর, কপটে মিনতি কেল। ছল করি শির, সিন্দূর কাজর, আমার চরণে দেল॥ শতগুণ হিয়া, আনল জ্বলিল, চলিয়া আইনু বাস। এ হেন শঠের বদন না হেরি, কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মান ॥ ধানশী॥ না বোল না বোল কানুর বোল ও কথা নাহিক মানি। বিষম কপট তাহার প্রেম ভালে ভালে হাম জানি॥ নিকুঞ্জ কাননে সঙ্কেত করিয়া তাহাঁ জাগাইল মোরে। আন ধনি সনে সে নিশি বঞ্চিয়া বিহানে মিলল দূরে॥ সিন্দূর কাজর সব অঙ্গ পর কপটে মিনতি কেল। ছল করি শির সিন্দূর কাজর আমার চরণে দেল॥ শতগুণ হিয়া আনল জ্বালিল চলিয়া আইলুঁ বাস। এ হেন শঠের বদন না হের কহয়ে অনন্ত দাস॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৪৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। খণ্ডিতা ॥ জয় জয়ন্তী ধানশী - মধ্যম দশকুশী॥ না বোল না বোল, কানুর বোল, ও কথা নাহিক মানি। বিষম কপট, তাহার প্রেম, ভালে ভালে হাম জানি॥ নিকুঞ্জ কাননে, সঙ্কেত করিয়া, তাঁহা জাগাইল মোরে। আন ধনী সনে, সো নিশি বঞ্চিয়া বিহানে মিলল দূরে॥ সিন্দুর কাজর, সব অঙ্গ পর, কপটে মিনতি কেল। ছল করি শির- সিন্দুর কাজর, আমার চরণে দেল॥ শতগুণ হিয়া, আনল জ্বলিল, চলিয়া আইলুঁ বাস। এ হেন শঠের বদন না হের, কহয়ে অনন্ত দাস॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৪৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। না বোল না বোল কানুর বোল ও কথা নাহিক মানি। বিষম কপট তাহার প্রেম ভালে ভালে হাম জানি॥ নিকুঞ্জ কাননে সঙ্কেত করিয়া তাহাঁ জাগাইল মোরে। আন ধনি সনে সে নিশি বঞ্চিয়া বিহানে মিলল দূরে॥ সিন্দূর কাজর সব অঙ্গ পর কপটে মিনতি কেল। ছল করি শির- সিন্দুর কাজর আমার চরণে দেল॥ শতগুণ হিয়া- আনল জ্বালিল চলিয়া আইলুঁ বাস। এহেন শঠের বদন না হের কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। না বোল না বোল কানুর বোল . ও কথা নাহিক মানি। বিষম কপট তাহার প্রেম . ভালে ভালে হাম জানি॥ নিকুঞ্জ কাননে সঙ্কেত করিয়া . তাহাঁ জাগাইল মোরে। আন ধনি সনে সে নিশি বঞ্চিয়া . বিহানে মিলল দূরে॥ সিন্দূর কাজর সব অঙ্গ পর . কপটে মিনতি কেল। ছল করি শির সিন্দূর কাজর . আমার চরণে দেল॥ শতগুণ হিয়া আনল জ্বালিল . চলিয়া আইলুঁ বাস। এ হেন শঠের বদন না হের . কহয়ে অনন্ত দাস॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |