অনন্ত দাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
নব জলধর তনু থীর বিজুরি জনু
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১০ম পল্লব,
রূপানুরাগ, ৭৭৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি “শ্যামরূপ জাগয়ে মরমে” পদটির
প্রথম দুইটি কলিকে, পরবর্তী দুটি কলির তলায় নামিয়ে নিলে মিলে যায়। আমরা পদ দুটিকে স্বতন্ত্র
পদ হিসেবেই রাখছি কারণ অন্যান্য সংকলনে সেরকমভাবেই দেওয়া হয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নব-জলধর-তনু               থীর বিজুরি জনু
পীত বসন বনি তায়।
চূড়া শিখি দল              বেড়িয়া মালতীমাল
সৌরভে মধুকর ধায়॥
শ্যাম-রূপ জাগয়ে মরমে।
পাসরিব মনে করি        যতনে ভুলিতে নারি
ঘুচাইল কুলের ধরমে ॥ ধ্রু॥
কিবা সেই মুখ-শশী        উগারে অমিয়া-রাশি
আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজন-ভয়ে যদি           ধৈরজ ধরিতে চাহি
দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এ তিন ভুবনে যত             রস-সুধানিধি কত
শ্যাম আগে নিছিয়া পেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয়              হেন রূপ রসময়
না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১২৬৪-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

নব-জলধর-তনু               থীর বিজুরি জনু
পীত বসন বেনে তায়।
চূড়া শিখি দল               বেড়িয়া মালতীমাল
সৌরভে মধুকর ধায়॥
শ্যাম-রূপ জাগয়ে মরমে।
পাসরিব মনে করি          যতনে ভুলিতে নারি
ঘুচাইল কুলের ধরমে ॥ ধ্রু॥
কিবা সেই মুখ-শশী        উগারে অমিয়া-রাশি
আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজন-ভয়ে যদি            ধৈরজ ধরিতে চাহি
দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এ তিন ভুবনে যত             রস-সুধানিধি কত
শ্যাম আগে নিছিয়া পেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয়              হেন রূপ রসময়
না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

নব জলধর তনু               থির বিজরী জনু
পীত-বসনবলি তায়।
চূড়া শিখি-পুচ্ছ-দল        বেড়িয়া মালীতদল১
সৌরভে মধুকর ধায়॥
শ্যামরূপ জাগঞে মরমে।
পাসরিব মনে করি        যতনে ভুলিতে নারি
ঘুচাইল কুলের ধরমে ॥
কিবা সেই মুখশশী        উগারে অমিয়া রাশি
আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজন ভয়ে যদি          ধৈরজ ধরিতে চাহি
দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এতিন ভুবনে যত             রস সুধানিধি কত
শ্যাম আগে নিছিয়া ফেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয়              হেন রূপ রসময়
না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

১। - মালীতদল - “মালতীদল” হবে সম্ভবত।

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

নব জলধর তনু               থির বিজরী জনু
পীত-বসনবলি তায়।
চূড়া-শিখি-পুচ্ছ-দল        বেড়িয়া মালতী-মাল
সৌরভে মধুকর ধায়॥
শ্যামরূপ জাগঞে মরমে।
পাসরিব মনে করি         যতনে ভুলিতে নারি
ঘুচাইল কুলের ধরমে ॥
কিবা সেই মুখ-শশী        উগারে অমিয়া-রাশি
আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজন ভয়ে যদি           ধৈরজ ধরিতে চাহি
দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এ তিন ভুবনে যত           রস-সুধা-নিধি কত
শ্যাম আগে নিছিয়া ফেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয়              হেন-রূপ রসময়
না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের রূপ
॥ তথা রাগ॥

নবজলধরতনু               থীর বিজুরী জনু
পীত বসন বনি তায়।
চূড়াপরে শিখিদল         বেড়িয়া মালতীমাল
সৌরভে মধুকর ধায়॥
শ্যাম-রূপ জাগয়ে মরমে।
পাসরিব মনে করি        যতনে ভুলিতে নারি
ঘুচাইল কুলের ধরমে॥ ধ্রু॥
কিবা সেই মুখশশী        উগারে অমিয়ারাশি
আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজনভয়ে যদি           ধৈরজ ধরিতে চাহি
দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এ তিন ভুবনে যত            রসসুধানিধি কত
শ্যাম আগে নিছিয়া পেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয়             হেন রূপ রসময়
না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
১০৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নব-জলধর তনু               থীর বিজুরি জনু
পীত বসন বনি তায়।
চূড়া শিখি-দল              বেড়িয়া মালতীমাল
সৌরভে মধুকর ধায়॥
শ্যামরূপ জাগয়ে মরমে।
পাসরিব মনে করি          যতনে ভুলিতে নারি
ঘুচাইল কুলের ধরমে ॥
কিবা সেই মুখ-শশী       উগারে অমিয়া রাশি
আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজন-ভয়ে যদি           ধৈরজ ধরিতে চাহি
দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এ তিন ভুবনে যত            রস-সুধানিধি কত
শ্যাম আগে নিছিয়া পেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয়              হেন রূপ রসময়
না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নব জলধর তনু               থীর বিজুরি জনু
পীত বসন বনি তায়।
চূড়া শিখি-দল             বেড়িয়া মালতী মাল
সৌরভে মধুকর ধায়॥
শ্যামরূপ জাগয়ে মরমে।
পাসরিব মনে করি        যতনে ভুলিতে নারি
ঘুচাইল কুলের ধরমে ॥
কিবা সেই মুখশশী        উগারে অমিয়া রাশি
আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজন ভয়ে যদি           ধৈরজ ধরিতে চাহি
দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এ তিন ভুবনে যত             রস-সুধানিধি কত
শ্যাম আগে নিছিয়া পেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয়              হেন রূপ রসময়
না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নবজলধরতনু থীর বিজুরী জনু                
.                পীত বসন বনি তায়।
চূড়াপরে শিখিদল বেড়িয়া মালতীমাল          
.                সৌরভে মধুকর ধায়॥
শ্যামরূপ জাগয়ে মরমে।                        
পাসরিব মনে করি যতনে ভুলিতে নারি        
.                ঘুচাইল কুলের ধরমে॥
কিবা সেই মুখশশী উগারে অমিয়ারাশি        
.                আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজনভয়ে যদি ধৈরজ ধরিতে চাহি          
.                দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এ তিন ভুবনে যত রসসুধানিধি কত           
.                শ্যাম আগে নিছিয়া পেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয় হেন রূপ রসময়            
.                না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
শ্যামরূপ জাগয়ে মরমে
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি “নব জলধর তনু থীর
বিজুরি জনু” পদটির প্রথম দুইটি কলিকে, পরবর্তী দুটি কলির তলায় নামিয়ে নিলে মিলে যায়। আমরা পদ
দুটিকে স্বতন্ত্র পদ হিসেবেই রাখছি কারণ অন্যান্য সংকলনে সেরকমভাবেই দেওয়া হয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ সুহই - কাটা দশকুশী॥

শ্যামরূপ জাগয়ে মরমে।
পাসরিব মনে করি,        যতনে ভুলিতে নারি,
ঘুচাইল কুলের ধরমে॥ ধ্রু॥
নবজলধর তনু,               থির বিজুরি জনু,
পীতবসনাবলি তায়।
শিরে চূড়া শিখিদল,        বেড়িয়া মালতী-মাল
সৌরভে মধুকর ধায়॥
কিবা সেই মুখশশী,        উগারে অমিয়া রাশি
আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজন-ভয়ে যদি,           ধৈরজ ধরিতে চাহি,
দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এ তিন ভুবনে যত,            রস-সুধানিধি কত,
শ্যাম আগে নিছিয়া ফেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয়,             হেন রূপ রসময়,
না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যাম-রূপ জাগয়ে মরমে।
পাসরিব মনে করি        যতনে ভুলিতে নারি
ঘুচাইল কুলের ধরমে॥
কিবা সেই মুখ-শশী        উগারে অমিয়া-রাশি
আঁখি মোর মজিল তাহায়।
গুরুজন-ভয়ে যদি           ধৈরজ ধরিতে চাহি
দ্বিগুণ আগুন উপজায়॥
এ তিন ভুবনে যত             রস-সুধানিধি কত
শ্যাম আগে নিছিয়া ফেলিয়ে।
এ দাস অনন্তে কয়              হেন রূপ রসময়
না দেখিলে পরাণ না জীয়ে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
নব নায়রি নব নায়র
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিতএবংসতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১৫শ পল্লব, সর্ব্বকালোচিত নিত্য-
রাস, ১০৬৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নব নায়রি                   নব নায়র
নৌতুন নব নেহা।
আঁখে আঁখে          নিমিখে নিমিখে
বিছুরল নিজ দেহা॥
নৌতুন গণ                 নৌতুন বন
নৌতুন সখি গানে।
তা দিগ দিগ তা দিগ দিগ
থো দিগ দিগ২ থো দিগ দিগ
তাল ফুকারই বামে॥
নৌতুন রস               কেলি-রভস
নৌতুন গতি ভালে।
দ্রিমি ধো দ্রিমি         ধো দ্রিমি দ্রিমি
বাওত সখি তালে॥
চঞ্চল মণি-                 কুণ্ডল চল
চঞ্চল পট-বাস।
দোহঁ দোহাঁ-কর         ধরিয়া নাচত
হেরত অনন্তদাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১০৬৭-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তথা রাগ॥

নব নায়রি                   নব নায়র
নৌতুন নব নেহা।
আঁখে আঁখে          নিমিখে নিমিখে
বিছুরল নিজ দেহা॥
নৌতুন গণ                 নৌতুন বন
নৌতুন সখি গানে।
তা দিগ দিগ তা দিগ দিগ
তা দিগ দিগ থো দিগ দিগ
তাল ফুকরই বামে॥
নৌতুন রস                কেলি-রভস
নৌতুন গতি ভালে।
দ্রিমি ধো দ্রিমি          ধো দ্রিমি দ্রিমি
বাওত সখি তালে॥
চঞ্চল মণি-                   কুণ্ডল চল
চঞ্চল পট-বাস।
দোহঁ দোহাঁ-কর          ধরিয়া নাচত
হেরত অনন্তদাস॥

অন্যান্য পাঠান্তরের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য -
২ - ‘তা দিগ দিগ’ ইত্যাদি স্থলে ‘তা দিগ দিগ থো দিগ দিগ’ ক, প-র-সা। ক ও প-র-সা পুথির তালের বোল
অপেক্ষা খ, ঘ ও চ পুথির বোল দ্বিগুণ আছে ; সুতরাং উহা ‘চতুরঙ্গ’ গীতের বোলের ন্যায় ‘দুন্’
লয়ে অর্থাৎ দ্বিগুণ দ্রুত-ভাবে উচ্চারিত হইবে।---সতীশচন্দ্র রায়, পদকল্পতরু॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নব নায়রি নব নায়র নৌতুন নব নেহা।
আঁখে আঁখে নিমিখে নিমিখে বিছুরল সব দেহা॥
নৌতুনগণ নৌতুন বন নৌতুন সখিগণে।
তাদিগ তাদিগ তাদিগ দিগ থোদিগ দিগ থোদিগ থোদিগ তাল ফুকারই বামে॥
নোতুন রস কেলি রভস নৌতুন গতি ভালে।
দ্রিমিধো দ্রিমি দ্রিমি থোদ্রিমি বাওত সখী তালে॥
চঞ্চল মণিকুণ্ডল চলচঞ্চল পটবাস।
দোহ দোহার করে ধরিএ নাচত হেরত অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নব নায়রি                   নব নায়র
নৌতুন নব লেহা।
আঁখে আঁখে          নিমিখে নিমিখে
বিছুরল নিজ দেহা॥
নৌতুন গণ,                 নৌতুন বন,
নৌতুন সখী গানে।
তা দিগ দিগ              থো দিগ দিগ
তাল ফুকরই বামে॥
নৌতুন রাস                কেলি রভস
নৌতুন গতি তালে।
ধো দ্রিমি দ্রিমি          থো দ্রিমি দ্রিমি
বাওত সখী ভালে॥
চঞ্চল মণি                 কুণ্ডল (বণি)
চঞ্চল পটবাস।
দোঁহে দোঁহা কর        ধরিয়া নাচয়ে
হেরত অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নব নায়রী                   নব নায়র,
নৌতুন নব লেহা।
আঁখে আঁখে              নিমিখে নিমিখে
বিছুরল নিজ দেহা॥
নৌতুন গণ                   নৌতুন বসন
নৌতুন সখী গানে।
তা দিগ দিগ                 থো দিগ দিগ
তাল ফুকারই বামে॥
নৌতুন রস                    কেলি-রভস
নৌতুন গতি ভালে।
দ্রিমি ধা দ্রিমি দ্রিমি  দ্রিমি থো দ্রিমি দ্রিমি
বাওল সখী তালে॥
চঞ্চল মণি                       কুণ্ডল চল
চঞ্চল পট-বাস।
দুহেঁ দুহাকর                ধরিয়া নাচয়ে,
হেরত অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

নব নায়রী                   নব নায়র
নৌতুন নব লেহা।
আঁখে আঁখে          নিমিখে নিমিখে
বিছুরল নিজ দেহা॥
নৌতুন গণ                 নৌতুন বন
নৌতুন সখী গানে।
নৌতুন রস                কেলি-রভস
নৌতুন গতি ভালে।
চঞ্চল মণি-                  কুণ্ডল চল
চঞ্চল পট-বাস।
দুহেঁ দুহাঁ কর           ধরিয়া নাচয়ে
হেরত অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহারাস
॥ বোহাগ - জপতাল॥

নব নায়রী                   নব নায়র
নৌতুন নব নেহা।
আঁখে আঁখে           নিমিখে নিমিখে
বিছুরল সব দেহা॥
নৌতুন গণ,                নৌতুন বন,
নৌতুন সখি গানে।
তা তা দিগি দিগি থো দিগ দিগি দিগি
তাল ফুকারই বামে॥
নৌতুন রস                কেলি রভস
নৌতুন গতি তালে।
দৃমি দৃমি দৃমি          তাতা দৃমি দৃমি
বাওত সখী ভালে॥
চঞ্চল মণি-                   কুণ্ডল চল
চঞ্চল পট বাসে।
দোঁহে দোঁহা কর        ধরিয়া নাচত
হেরত অনন্ত দাসে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৩৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসলীলা
॥ ধানশী - জপতাল॥

নব নায়রি                  নব নায়র
নৌতুন নব নেহা।
আঁখে আঁখে          নিমিখে নিমিখে
বিছুরল নিজ দেহা॥
নৌতুন গণ                 নৌতুন বন
নৌতুন সখি গানে।
তা দিগ্ দিগ্ তা দিগ্ দিগ্        থো দিগ্ দিগ্ থো দিগ্ দিগ্
তাল ফুকারই বামে॥
নৌতুন রস               কেলি-রভস
নৌতুন গতি তালে।
দ্রিমি ধো দ্রিমি         ধো দ্রিমি দ্রিমি
বাওত সখি ভালে॥
চঞ্চল মণি-                 কুণ্ডল চল
চঞ্চল পট-বাস।
দোহঁ দোহাঁ-কর          ধরিয়া নাচত
হেরত অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্ত রাস
॥ তথা রাগ॥

নব নায়রি                   নব নায়র
নৌতুন নব নেহা।
আঁখে আঁখে          নিমিখে নিমিখে
বিছুরল নিজ দেহা॥
নৌতুন গণ                 নৌতুন বন
নৌতুন সখি গানে।
তা দিগ দিগ তা দিগ দিগ
থো দিগ দিগ থো দিগ দিগ
তাল ফুকারই কানে॥
নৌতুন রস               কেলি-রভস
নৌতুন গতি ভালে।
দ্রিমি ধো দ্রিমি        থো দ্রিমি দ্রিমি
বাওত সখি তালে॥
চঞ্চল মণি-                 কুণ্ডল চল
চঞ্চল পটবাস।
দোঁহে দুঁহুকর           ধরিয়া নাচত
হেরত অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নব নায়রি নব নায়র                
.                নৌতুন নব নেহা।
আঁখে আঁখে নিমিষে নিমিষে        
.                বিছুরল নিজ দেহা॥
নৌতুন গণ নৌতুন বন               
.                নৌতুন সখি গানে।
তা দিগ দিগ তা দিগ দিগ
থো দিগ দিগ থো দিগ দিগ
তাল ফুকারই কানে॥
নৌতুন রস কেলি-রভস             
.                নৌতুন গতি ভালে।
দ্রিমি ধো দ্রিমি থো দ্রিমি দ্রিমি      
.                বাওত সখি তালে॥
চঞ্চল মণি কুণ্ডল চল                
.                চঞ্চল পটবাস।
দোঁহে দুঁহুকর ধরিয়া নাচত         
.                হেরত অনন্তদাস॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বাজত তাল রবাব পাখোয়াজ
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ১৫শ পল্লব, সর্ব্বকালোচিত নিত্য-
রাস, ১০৬৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার শঙ্করাভরণ॥

বাজত তাল                রবাব পাখোয়াজ
নাচত যুগল কিশোর।
অঙ্গ হেলাহেলি                 নয়ন ঢুলাঢুলি
দুহুঁ দোহাঁ মুখ হেরি ভোর॥
চৌদিগে সখি মেলি              গাওত বাওত
করহি করহি কর জোর।
নবঘন পরে জনু            তড়িত লতাবলি
দুহুঁ রুপ অধিক উজোর॥
বীণ উপাঙ্গ                    মুরজ সর-মণ্ডল
বাজত থোরহি থোর।
অনন্তদাস-পহুঁ                 রাই-মুখ নিরখই
যৈছন চান্দ চকোর॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৪৮৪-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ মল্লার শঙ্করাভরণ॥

বাজত তাল                রবাব পাখোয়াজ
নাচত যুগল কিশোর।
অঙ্গ হেলাহেলি                 নয়ন ঢুলাঢুলি
দুহুঁ দোহাঁ মুখ হেরি ভোর॥
চৌদিগে সখি মেলি              গাওত বাওত
করহি করহি কর জোর।
নবঘন পরে জনু            তড়িত লতাবলি
দুহুঁ রূপ অধিক উজোর॥
বীণা উপাঙ্গ                    মুরজ সর-মণ্ডল
বাজত থোরহি থোর।
অনন্তদাস-পহুঁ                 রাই-মুখ নিরখই
যৈছন চান্দ চকোর॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার শঙ্করাভরণ॥

বাজত তাল রবাব পাখোআজ নাচত যুগলকিশোর।
অঙ্গ হেলাহেলি নয়ন ঢুলাঢুলি দোহে দোহার মুখ হেরি ভোর॥
চৌদিগে সখী মেলি গাওত বাওত করোহি করোহি করজোড়।
নবঘনে পরে জনু তড়িতলতাবলী দ্বোহু রূপ অতিহুঁ উজোর॥
বীণা উপাঙ্গ মুরূজ সরমণ্ডল বাজোহি থোরহি থোর।
অনন্তদাস পহুঁ রাইমুখ নিরখই জৈছন চান্দ চকোর॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মল্লার বা শঙ্করাভরণ॥

বাজত তাল                রবাব পাখোয়াজ
নাচত যুগল কিশোর।
অঙ্গ হেলাহেলি                 নয়ন ঢুলাঢুলি
দুহুঁ দুহাঁ মুখ হেরি ভোর॥
চৌদিগে সখী মেলি              গাওত বাওত
করহি করহি কর জোর।
নবঘন জরে জনু            তড়িত লতাবলি
দুহুঁ রূপ অধিক উজোর॥
বীণ উপাঙ্গ                    মুরজ স্বর-মণ্ডল
বাজত থোরহি থোর।
অনন্তদাস পহুঁ                 রাই মুখ নিরখই,
যৈছন চান্দ চকোর॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
২৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শঙ্করাভরণ॥

বাজত তাল                রবাব পাখোয়াজ
নাচত যুগল কিশোর।
অঙ্গ হেলাহেলি                 নয়ন ঢুলাঢুলি
দুহুঁ দুহাঁ মুখ হেরি ভোর॥
চৌদিগে সখী মেলি              গাওত বাওত
করহি করহি কর জোর।
নব-ঘন পরে জনু            তড়িত লতাবলি
দুহুঁ রূপ অতি উজোর॥
বীণ উপাঙ্গ                    মুরজ স্বর মণ্ডল
বাজত থোরহি থোর।
অনন্তদাস-পহুঁ                 রাই-মুখ নিরখই
যৈছন চান্দ চকোর॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহারাস
॥ শঙ্করাভরণ - একতালা॥

বাজত তাল                রবাব পাখোয়াজ
নাচত যুগল কিশোর।
অঙ্গ হেলাহেলি                 নয়ন ঢুলাঢুলি
দুহুঁ মুখ দুহুঁ হেরি ভোর॥
চৌদিগে সখি মেলি              গাওত বাওত
করহি করহি কর জোড়।
নব ঘন পরে জনু            তড়িত-লতাবলি
দুহুঁ রূপ অতিহুঁ উজোর॥
বীণা উপাঙ্গ                    মুরজ স্বর মণ্ডল
বাজত থোর হি থোর।
অনন্ত দাস পহু                 রাই মুখ নিরখই
যৈছন চাঁদ চকোর॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৩৮৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসলীলা
॥ বেহাগ - লোফাতাল॥

বাজত তাল                রবাব পাখোয়াজ
নাচত যুগল কিশোর।
অঙ্গ হেলাহেলি                 নয়ন ঢুলাঢুলি
দুহুঁ দোহাঁ মুখ হেরি ভোর॥
চৌদিগে সখি মেলি              গাওত বাওত
করহি করহি কর জোর।
নবঘন পরে জনু            তড়িত লতাবলী
দুহুঁ রূপ অধিক উজোর॥
বীণ উপাঙ্গ                    মুরজ সর-মণ্ডল
বাজত থোরহি থোর।
অনন্তদাস-পহুঁ                 রাই-মুখ নিরখই
যৈছন চান্দ চকোর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্ত রাস
॥ মল্লার শঙ্করাভরণ॥

বাজত তাল                রবাব পাখোয়াজ
নাচত যুগল কিশোর।
অঙ্গ হেলাহেলি                 নয়ন ঢুলাঢুলি
দুহুঁ দোহাঁ মুখ হেরি ভোর॥
চৌদিগে সখি মেলি              গাওত বাওত
করহি করহি কর জোড়।
নবঘন পরে জনু            তড়িত লতাবলি
দুহুঁ রূপ অধিক উজোর॥
বীণা উপাঙ্গ                    মুরজ সরমণ্ডল
বাজত থোরহি থোর।
অনন্তদাসপহুঁ                 রাইমুখ নিরখই
যৈছন চান্দ চকোর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাজত তাল রবাব পাখোয়াজ             
.                নাচত যুগল কিশোর।
অঙ্গ হেলাহেলি নয়ন ঢুলাঢুলি              
.                দুহুঁ দোহা মুখ হেরি ভোর॥
চৌদিগে সখি মেলি গাওত বাওত          
.                করহি করহি কর জোড়।
নবঘন পরে জনু তড়িত লতাবলি        
.                দুহুঁ রূপ অধিক উজোর॥
বীণা উপাঙ্গ মুরজ সরমণ্ডল               
.                বাজত থোরহি থোর।
অনন্তদাসপহুঁ রাইমুখ নিরখই             
.                যৈছন চান্দ চকোর॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
শ্রুতি অবতংস অংস পরি লম্বিত
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২১শ পল্লব, বন-ভোজন, ১২০৪-
পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির সঙ্গে “রাম কানাই কালিন্দির তীর” পদটির প্রথম দুইটি
কলি বাদ দিলে বাকি পদের সঙ্গে অনেক মিল রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

শ্রুতি-অবতংস               অংস পরি লম্বিত
মুরলী অধর সুরঙ্গ।
চরণে লম্বিত পিত               ধটিকর অঞ্চল
গো-ধুলি-ধুসর শ্যাম-অঙ্গ॥
ধেনু চরাওত                     বেণু বাজাওত
কানাই কালিন্দি-তীরে।
ধবলি সাঙলি বলি                  দীগ নেহারই
গরজই মন্দ গভীরে॥
করধৃত-লগুড়                   ভূমে আরোপিত
কটি-অবলম্বন-কারী।
বাম-চরণ পর                   দখিণ চরণ খানি
অঙ্গ-ভঙ্গ জগ-মন-হারী॥
ব্রজ-বালক সঙ্গে                রঙ্গে কত ধাওত
মত্ত সিংহ-গতি গমনে।
চান্দ-মুখের ঘাম                  বামকরে বারই
রহুই লগুড় হিলানে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি                   ধেনুগণ ধাওত
চাহত ঝরঝর দীঠে।
অনন্ত দাস কহ                কানু-মুখ হেরি হেরি
পুচ্ছ নাচাওত পীঠে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭৩৫-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সিন্ধুড়া॥

শ্রুতি-অবতংস               অংস পরি লম্বিত
মুরলী অধর সুরঙ্গ।
চরণে লম্বিত পিত               ধরি করু অঞ্চল
গো-ধুলি-ধুসর শ্যাম-অঙ্গ॥
ধেনু চরাওত                     বেণু বাজাওত
কানাই কালিন্দি-তীরে।
ধবলি সাঙলি বলি                  দীঘ নেহারই
গরজই মন্দ গভীরে॥
করধৃত-লগুড়                   ভূমে আরোপিত
কটি-অবলম্বন-কারী।
বাম-চরণ পর                   দখিণ চরণ খানি
অঙ্গ-ভঙ্গ জগ-মন-হারী॥
ব্রজ-বালক সঙ্গে                রঙ্গে কত ধাওত
মত্ত সিংহ-গতি গমনে।
চান্দ-মুখের ঘাম                   বামকরে বারই
রহুই লগুড় হিলনে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি                   ধেনুগণ ধাওত
চাহত ঝরঝর দিঠে।
অনন্ত দাস কহ                কানু-মুখ হেরি হেরি
পুচ্ছ নাচাওত পিঠে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

শ্রুতি অবতংস               অংস পরি লম্বিত
মুরলী অধর সুরঙ্গ।
চরণে লম্বিত পীত               ধরি কর অঞ্চল
গো-ধুলি-ধূসর শ্যাম অঙ্গ॥
ধেনু চরাওত                     বেণু বাজাওত
কানাই কালিন্দী-তীরে।
ধবলি শাঙলি বলি                  দিগ নেহারই
গরজই মন্দ গভীরে॥
করধৃত-লগুড়                   ভূমে আরোপিত
কটি-অবলম্বন-কারী।
বাম-চরণ পর                   দখিণ চরণ খানি
অঙ্গ-ভঙ্গ জগ-মন-হারী॥
ব্রজ-বালক সঙ্গে                রঙ্গে কত ধাওত
মত্ত সিংহ জিনিয়া গমনে।
চান্দ মুখের ঘাম                  বামকরে বারই
রহুই লগুড় হিলানে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি                   ধেনুগণ ধাওত
চাহত ঝর ঝর দীঠে।
অনন্ত দাস কহ                কানু-মুখ হেরি হেরি
পুচ্ছ নাচাওত পিঠে॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ-বিহার
॥ সুরট সারঙ্গ - তেওট॥

শ্রুতি-অবতংস               অংস পরি লম্বিত
মুরলী অধর সুরঙ্গ।
চরণে লম্বিত,                    পিতধড়া অঞ্চল
গোধুলি ধুসর শ্যাম অঙ্গ॥
ধেনু চরাওত,                     বেণু বাজাওত,
কাহ্নাই কালিন্দি তীরে।
ধবলি সাঙলি বলি,                  দীগ নেহারই
গরজই মন্দ গভীরে॥
করধৃত লগুড়,                   ভূমে আরোপিত,
কটী অবলম্বনকারী।
বাম চরণ পর,                   দখিণ চরণ খানি,
অঙ্গ ভঙ্গি কত জগমনহারী॥
ব্রজ বালক সঙ্গে,                রঙ্গে কত ধাওত,
মত্ত সিংহ গতি গমনে।
চাঁদ মুখের ঘাম,                  বাম করে বারই,
রহুই লগুড় হিলানে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি,                   ধেনুগণ ধাওত,
চাহত ঝর ঝর দীঠে।
অনন্ত দাস কহ,                কানুমুখ হেরি হেরি,
পুচ্ছ নাচাওত পীঠে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠবিহার
॥ সিন্ধুড়া॥

শ্রুতি অবতংস               অংস পরি লম্বিত
মুরলী অধর সুরঙ্গ।
চরণে লম্বিত পীত               ধটিকর অঞ্চল
গোধুলি ধূসর শ্যামঅঙ্গ॥
ধেনু চরাওত                     বেণু বাজাওত
কানাই কালিন্দিতীরে।
ধবলি শাঙলি বলি                  দীগ নেহারই
গরজই মন্দ গভীরে॥
করধৃত লগুড়                   ভূমে আরোপিত
কটিঅবলম্বনকারী।
বামচরণ পর                   দখিণ চরণ খানি
অঙ্গভঙ্গ জগমনহারী॥
ব্রজবালক সঙ্গে                রঙ্গে কত ধাওত
মত্ত সিংহগতি গমনে।
চান্দমুখের ঘাম                  বামকরে বারই
রহুই লগুড় হিলনে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি                   ধেনুগণ ধাওত
চাহত ঝরঝর দীঠে।
অনন্ত দাস কহে                কানুমুখ হেরি হেরি
পুচ্ছ নাচাওত পীঠে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রুতি অবতংস অংস পরি লম্বিত        
.                মুরলী অধর সুরঙ্গ।
চরণে লম্বিত পীত ধটিকর অঞ্চল        
.                গোধুলি ধূসর শ্যামঅঙ্গ॥
ধেনু চরাওত বেণু বাজাওত              
.                কানাই কালিন্দিতীরে।
ধবলি শাঙলি বলি দীগ নেহারই           
.                গরজই মন্দ গভীরে॥
করধৃত লগুড় ভূমে আরোপিত            
.                কটিঅবলম্বনকারী।
বামচরণ পরদখিণ চরণ খানি              
.                অঙ্গভঙ্গ জগমনহারী॥
ব্রজবালক সঙ্গে রঙ্গে কত ধাওত           
.                মত্ত সিংহগতি গমনে।
চান্দমুখের ঘাম বামকরে বারই             
.                রহুই লগুড় হিলনে॥
উচ্চ পুচ্ছ করি ধেনুগণ ধাওত              
.                চাহত ঝরঝর দীঠে।
অনন্ত দাস কহে কানুমুখ হেরি হেরি        
.                পুচ্ছ নাচাওত পীঠে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
রাম কানাই কালিন্দির তীর
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ২৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির প্রথম দুইটি কলি বাদ
দিলে বাকি পদের সঙ্গে “শ্রুতি-অবতংস অংস পরি লম্বিত” পদটির অনেক মিল রয়েছে।

॥ শোহিনী॥

রাম কানাই কালিন্দির তীর। ধবলী শ্যামলী
বলি দিগ নেহারই গরজই মন্দ গভীর॥ শ্রুতি অবতংস অংশ
পরি লম্বিত মরলী অধর সুরঙ্গে। চরণে লম্বিত পীত ধটী
অঞ্চল গোধূলী ধূসর শ্যাম অঙ্গে॥ দাম শ্রীদাম রাম দক্ষিণে
বলরাম চলতহি দ্বিরদ গমনে। চাঁদ মুখের ঘাম বাম করে
মোছই রহই লগুড় হেলনে॥ তৃণ মুখে সব ধেণু বেণু রবে
উনমত রহই অনিরিখ দীঠে। অনন্ত দাস কহে চাঁদ মুখ
হেরি হেরি পুচ্ছ নাচায়ত পীঠে॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শোহিত॥

রাম কানাই কালিন্দির তীর। ধবলী শামলী বলি, দিক্ নেহারই, গরজই
মন্দ গভীর॥ শ্রুতি-অবতংস, অংসোপরি লম্বিত, মুরলী অধর সুরঙ্গে। চরণে
লম্বিত, পীত ধটী অঞ্চল, গোধূলীধূসর শ্যাম অঙ্গে॥ দাম শ্রীদাম রাম, দক্ষিণে
বলরাম, চলতহি দ্বিরদগমনে। চাঁদ মুখের ঘাম, বাম করে মুছই, রহই লগুড়
হেলনে॥ তৃণ মুখে সব ধেনু, বেণু রবে উনমত, রহই অনিরিখ দিঠে। অনন্ত
দাস কহে, চাঁদ মুখ হেরি হেরি, পুচ্ছ নাচায়ত পীঠে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সখাগণ সঙ্গে রঙ্গে ব্রজ-নন্দন
সখাগণ সঙ্গে রঙ্গে যদুনন্দন
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২১শ পল্লব, বনভোজন, ১২০৫-
পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

সখাগণ সঙ্গে রঙ্গে ব্রজ-নন্দন
.      ধেনু চরাওত কালিন্দি-তীরে।
সম-বয়-বেশ কেশ পরি চন্দ্রক
.      গজবর-গমনে চলই ধিরে ধীরে॥
দাম শ্রীদাম মহাবল কোকিল
.      সবহুঁ সখা সঞে বহুবিধ খেল।
কর চরণে মহি ধরই ধবলি সম
.       কোই বত্স কোই বৃষ সম ভেল॥
কোই কোকিল সম গরজই কুহু কুহু
.       কোই ময়ূর সম নৃত্য রসাল।
ঐছন ক্রীড়নে নিমগন সব জন
.        দূর কানন মাহা চলু সব পাল॥
যমুনা-তরঙ্গ রঙ্গ হেরি কোই কোই
.        জল মাহা পৈঠি করয়ে জল-খেলা।
ঐছে আনন্দে বিহরে ব্রজ-বালক
দাস অনন্ত-চীত হরি নেলা॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৭৩৬-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ জয়জয়ন্তী॥

সখাগণ সঙ্গে রঙ্গে কত ধায়ত                
ধেনু চরাওত কালিন্দিতীরে।
সমবয়বেশ কেশ পরি চন্দ্রক                
গজবরগমনে চলই ধীরে ধীরে॥
দাম শ্রীদাম মহাবল কোকিল                
সবহুঁ সখা সঞে বহুবিধ খেল।
কর চরণে মহি ধরই ধবলি সম              
কোই বত্স কোই বৃষসম ভেল॥
কোই কোকিলসম গরজই কুহু কুহু            
কোই ময়ূরসম নৃত্য রসাল।
ঐছন ক্রীড়নে নিমগন সব জন                
দূর কানন মাহা চলু সব পাল॥
যমুনা-তরঙ্গ রঙ্গ হেরি কোই কোই           
জল মাহা পৈঠি করত জলখেলা।
ঐছে আনন্দে খেলত ব্রজ-বালক              
দাস অনন্তচীত হরি নেলা॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

সখাগণ সঙ্গে                         রঙ্গে যদুনন্দন
ধেনু চরাওত কালিন্দী-তীরে।
সম-বয়-বেশ                        কেশ পরি চন্দ্রক
গজবর-গমনে চলই ধীরে ধীরে॥
দাম শ্রীদাম                        মহাবল কোকিল
সবহুঁ সখা সঞে বহুবিধ খেল।
কর চরণে মহী                        চরই ধবলী সম
কোই বত্স কোই বৃষ সম ভেল॥
কোই কোকিল সম                গরজয়ে কুহু কুহু
কোই ময়ূর সম নৃত্য রসাল।
ঐছন ক্রীড়নে                        নিমগন সব জন
দূর কানন মাহা চলু সব পাল॥
যমুনা-তরঙ্গ                   রঙ্গ হেরি কোই কোই
জল মাহা পৈঠি করল জলখেলা।
ঐছে আনন্দে                      বিহরে ব্রজ-বালক
দাস অনন্তক চিত হরি নেলা॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ২৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গোষ্ঠ-বিহার
॥ সুরট সারঙ্গ - তেওট॥

সখাগণ সঙ্গে,                        রঙ্গে ব্রজ নন্দন,
ধেনু চরায়ত কালিন্দী তীরে।
সমবয় বেশ,                        কেশ পরি চন্দ্রক,
গজবর গমনে চলই ধীরে ধীরে॥
দাম সুদাম,                        মহাবল কোকিল,
সবহুঁ সখাসঞে বহুবিধ খেল।
করচরণে মহি,                        ধরই ধবলী সম,
কোই বত্স কোই বৃষ সম ভেল॥
কোই কোকিল সম,                গরজই কুহু কুহু
কোই ময়ূর সম নৃত্য রসাল।
ঐছন ক্রীড়নে,                        নিমগন সব জন,
দূর কানন মহা চলু সব পাল॥
যমুনা তরঙ্গ-                রঙ্গ হেরি কোই কোই,
জলমাহা পৈঠি করল জল-খেলা।
ঐছে আনন্দে,                        বিহরে ব্রজ বালক,
দাস অনন্ত চীত হরি নেলা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ জয়জয়ন্তী॥

সখাগণ সঙ্গে রঙ্গে ব্রজনন্দন                
ধেনু চরাওত কালিন্দিতীরে।
সমবয়বেশ কেশ পরি চন্দ্রক                
গজবরগমনে চলই ধিরে ধীরে॥
দাম শ্রীদাম মহাবল কোকিল                
সবহুঁ সখা সঞে বহুবিধ খেল।
কর চরণে মহি ধরই ধবলি সম             
কোই বত্স কোই বৃষসম ভেল॥
কোই কোকিলসম গরজই কুহু কুহু          
কোই ময়ূরসম নৃত্য রসাল।
ঐছন ক্রীড়নে নিমগন সব জন               
দূর কানন মাহা চলু সব পাল॥
যমুনা-তরঙ্গ রঙ্গ হেরি কোই কোই          
জল মাহা পৈঠি করয়ে জলখেলা।
ঐছে আনন্দে বিহরে ব্রজ-বালক            
দাস অনন্তচীত হরি নেলা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সখাগণ সঙ্গে রঙ্গে ব্রজনন্দন                
ধেনু চরাওত কালিন্দিতীরে।
সমবয়বেশ কেশ পরি চন্দ্রক                
গকবরগমনে১ চলই ধিরে ধীরে॥
দাম শ্রীদাম মহাবল কোকিল                
সবহুঁ সখা সঞে বহুবিধ গেলা।
কর চরণে মহি ধরই ধবলি সম             
কোই বত্স কোই বৃষসম ভেল॥
কোই কোকিলসম গরজই কুহু কুহু          
কোই ময়ূরসম নৃত্য রসাল।
ঐছন ক্রীড়নে নিনগন সব জন               
দূ কানন মাহা চলু সব পাল॥
যমুনা তরঙ্গ রঙ্গ হেরি কোই কোই           
জল মাহা পৈঠি করয়ে জলখেলা।
ঐছে আনন্দে বিহরে ব্রজবালক              
দাস অনন্তচীত হরি নেলা॥

১। গকবরগমনে - সম্ভবত গজবরগমনে হবে।

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
রাস অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং  
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ২৪শ পল্লব,শরত্কালীয় মহারাস , ১২৭৩-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রী রাগ॥

রাস-অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ।
বৈঠল দুহুঁ জন রভস-তরঙ্গ॥
শ্রম-ভরে অঙ্গ ঘাম বহি যায়।
কিঙ্করিগণ করু চামরের বায়॥
পৈঠল সবহুঁ যমুনা জল মাহ।
পানি-সমরে দুহুঁ করু অবগাহ॥
নাভি-মগন জলে মণ্ডলি কেল।
দুহুঁ দুহুঁ মেলি করই জলখেল॥
কন্ঠ-মগন জলে করল পয়ান।
চুম্বয়ে নাহ তব সবহুঁ বয়ান॥
ছলে বলে কানু রাই লেই গেল।
যো অভিলাস করল দুহুঁ মেল॥
জল সঞে উঠি সভে মোছই শরীর।
জনু বিধু-মণ্ডিত যামুন তীর॥
রাস-বিলাস করি পানি বিলাস।
দাস অনন্তক পূরল আশ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৫১৮-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রী রাগ॥

রাস-অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ।
বৈঠল দুহুঁ জন সখীগণ-সঙ্গ॥
শ্রম-ভরে অঙ্গ ঘাম বহি যায়।
কিঙ্করিগণ করু চামরের বায়॥
পৈঠল সবহুঁ যমুনা জল যাই।
পানি-সমরে দুহুঁ কর অবগাই॥
নাভি-মগন জলে অঞ্জলি ফেলি।
দুহুঁ দুহুঁ মেলি করল জলখেল॥
কন্ঠ-মগন জলে করল পয়ান।
চুম্বয়ে নাহ তব সবহুঁ বয়ান॥
ছলে বলে কানু রাই লেই গেল।
যো অভিলাস করল দুহুঁ মেল॥
জল সঞে উঠি সব মোছই শরীর।
জনু বিধু-মণ্ডিত যমুনাক তীর॥
রাস-বিলাস করি পানি বিলাস।
দাস অনন্তক পূরল আশ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ তাল পরিমিত॥

রাস অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ। বৈঠল দোহুজন রভসতরঙ্গ॥
শ্রমভরে অঙ্গে ঘাম বহি যায়। কিঙ্করীগণ করূ চামরের বায়॥
পৈঠল সবহু যমুনার জল মাহ। পানি সমরে করূ দুহুঁ অবগাহ॥
নাভি মগন জলে অঞ্জলি কেল। দোহু দোহু মেলি করএ জলখেল॥
কন্ঠ মগন জলে করল পয়ান। চুম্বএ নাহ তব সবহু বয়ান॥
ছলে বলে কানু রাই লেই গেল। জো অভিলাস করল দুহু মেল॥
জল সঞে উঠে সভে মোছই শরীর। জনু বিধমণ্ডিত যমুনার তীর॥
রাসবিলাসকারি পানি বিলাস। দাস অনন্তকো পূরল আশ॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রী রাগ॥

রাস অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ। বৈঠল দুইজন
সখী গণ সঙ্গ॥ শ্রমভরে অঙ্গে ঘাম বহি যায়। কিঙ্করী গণ
করু চামর বায়॥ পৈঠল সবহু যমুনা জল যাই। পানী
সমরে দুহু কর অবগাই॥ নারী মগন জলে অঞ্জলি ফেলি।
দুহু দুহু মেলি করল জল কেলি॥ কন্ঠ মগন জল করল পয়ান।
চুম্বয়ে নাহ তব সবহু বয়ান॥ ছলে বলে কানু রাই লই
গেল। জোয়তি নাম করল দুহু গেল॥ জল সঞে উঠি সব
মুছই শরীর। জনু বিধু মণ্ডিত যমুনা তীর॥ রাস বিলাস
করি পানী বিলাস। দাস অনন্ত কহে পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রী রাগ॥

রাস-অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ।
বৈঠল দুহুঁজন রভস-তরঙ্গ॥
শ্রম-ভরে অঙ্গ ঘাম বহি যায়।
কিঙ্করীগণ করু চামরের বায়॥
পৈঠল সবহুঁ যমুনা জল মাহ।
পানী-সমরে দুহুঁ করু অবগাহ॥
নাভি-মগন জলে মণ্ডলী কেল।
দুহুঁ দুহুঁ মেলি করল জলখেল॥
কন্ঠ-মগন জলে করল পয়ান।
চুম্বয়ে নাহ তব সবহু বয়ান॥
ছলে বলে কানু রাই লই গেল।
যো অভিলাস করল দুহুঁ মেল॥
জল সঞে উঠি সভে মোছয়ে শরীর।
জনু বিধু-মণ্ডিত যামুন নীর॥
রাস-বিলাস করি পানী-বিলাস।
দাস অনন্তক পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৫৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহারাস
॥ বেহাগ - কাওয়ালি॥

রাস অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ।
বৈঠল দুহুঁজন সখিগণ সঙ্গ॥
শ্রম ভরে দুহুঁ অঙ্গে ঘাম বহি যায়।
কিঙ্করীগণ করু চামর বায়॥
বৈঠল সবহুঁ যমুনা জল মাহ।
পানী সমরে দুহুঁ করু অবগাহ॥
নাভি মগন জলে মণ্ডলী কেল।
দুহুঁ দুহুঁ মেলি করল জল খেল॥
কন্ঠ মগন জলে করল পয়ান।
চুম্বই নাহ তব সবহুঁ বয়ান॥
ছলে বলে কানু রাই লই গেল।
যো অভিলাষ করল দুহুঁ মেল॥
জল সঞে উঠি তব মুছই শরীর।
জনু বিধু-মণ্ডিত যমুনাক তীর॥
রাস বিলাস করি পানি-বিলাস।
দাস অনন্তক পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৩৭৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাসলীলা
॥ বেহাগ - মধ্যম দশকুসী॥

রাস অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ।
বৈঠল দুহুঁ জন রভস-তরঙ্গ॥
শ্রমভরে দুহুঁ অঙ্গে ঘাম বহি যায়।
কিঙ্করিগণ করু চামরের বায়॥
পৈঠল সবহুঁ যমুনা-জল মাহ।
পানি-সমরে দুহুঁ করু অবগাহ॥
নাভি-মগন জলে মণ্ডলী কেল।
দুহুঁ দুহুঁ মেলি করই জল-খেল॥
কন্ঠমগন জলে কয়ল পয়ান।
চুম্বই নাহ তব সবহুঁ বয়ান॥
ছলে বলে কানু রাই লই গেল।
যো অভিলাষ করল দুহুঁ মেল॥
জল সঞে উঠি তব মুছই শরীর।
জনু বিধু-মণ্ডিত যামুন তীর॥
রাস-বিলাস করি পানি-বিলাস।
দাস অনন্তক পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহারাস অন্তে জলবিহার
॥ তথারাগ॥

রাস-অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ।
বৈঠল দুহুঁ জন রভসতরঙ্গ॥
শ্রমভরে অঙ্গ ঘাম বহি যায়।
কিঙ্করিগণ করু চামরের বায়॥
পৈঠল সবহুঁ যমুনা জল মাহ।
পানিসমরে দুহুঁ করু অবগাহ॥
নাভি-মগন জলে মণ্ডলি কেল।
দুহুঁ দুহুঁ মেলি করই জলখেল॥
কন্ঠ-মগন জলে করল পয়ান।
চুম্বয়ে নাহ তব সবহুঁ বয়ান॥
ছলে বলে কানু রাই লেই গেল।
যো অভিলাস করল দুহুঁ মেল॥
জল সঞে উঠি সভে মোছই শরীর।
জনু বিধুমণ্ডিত যামুন তীর॥
রাসবিলাস করি পানিবিলাস।
দাস অনন্তক পূরল আশ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রাস অবসানে অবশ ভেল অঙ্গ।
বৈঠল দুহুঁ জন রভসতরঙ্গ॥
শ্রমভরে অঙ্গ ঘাম বহি যায়।
কিঙ্করিগণ করু চামরের বায়॥
পৈঠল সবহুঁ যমুনা জল মাহ।
পানিসমরে দুহুঁ করু অবগাহ॥
নাভি মগন জলে মণ্ডলি কেল।
দুহুঁ দুহুঁ মেলি করই জলখেল॥
কন্ঠ মগন জলে করল পয়ান।
চুম্বয়ে নাম তব সবহুঁ বয়ান॥
ছলে বলে কানু রাই লেই গেল।
যো অভিলাস করল দুহুঁ মেল॥
জল সঞে উঠি সভে মোছই শরীর।
জনু বিধুমণ্ডিত যামুন তীর॥
রাসবিলাস করি পানিবিলাস।
দাস অনন্তক পূরল আশ॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
নটহি নটবর রাস মণ্ডল
নটহরি নটবর রাস-মণ্ডল
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৪শ পল্লব, শরত্কালীয় মহারাস,
১২৮২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

নটহি নটবর                    রাস-মণ্ডল
রমণি-মণ্ডল মাঝ রে।
হেম-করিণী                নিকর অন্তরে
বিহরে কুঞ্জর-রাজ রে॥
কনয়া-কঙ্কণ                ঝনর ঝন ঝন
রতন-কিঙ্কিণি বোল রে।
দ্রিমিক দ্রিমি দ্রিমি            তাল তাণ্ডব
রাস-রসে মন ভোর রে॥
গোরি গেপিনি                বাহু সুবলনি
শ্যাম তরুণ তমাল রে।
যৈছে যমুনাক               মাঝে বিহরই
কনকময় মিরিণাল রে॥
সুভগ আনন                   ঘামময়-কণ
মুদিত মনসিজ অঙ্গ।
দাস অনন্ত কহে        ও রূপ বরণি নহে
বরিখে কত কত রঙ্গ॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী কেদার তাল দোতালি॥

নটহি নটবর রাসমণ্ডল রমণি মণ্ডলী মাঝারে।
হেম করিন করিন নিকর অন্তর বিহরে কুঞ্জররাজরে॥
কনয় কিঙ্কিণী ঝনর ঝননন রতন মঞ্জীর বোলরে।
দ্রিমিকি দ্রিমি দ্রিমি তাল তাণ্ডব রাস রসে মন ভোররে॥
গোরি গেপিনি বাহু সুবলিনী শ্যাম তরুণ তমালরে।
জৈছে যমুনাক মাঝে বিহরই কনকময় মিলালোরে॥
সুভগ আনন ঘামময় কন মুদিত মনসিজ অঙ্গ রে।
দাস অনন্ত কহে এরূপ বরনি নহে রাখরে কত কত অঙ্গরে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

নটহরি নটবর,                রাস মণ্ডল,
রমণি-মণ্ডল মাঝ রে।
হেম-করিণী,                নিকর অন্তরে
বিহরে কুঞ্জর-রাজ রে॥
কনয়া-কঙ্কণ,                ঝমর ঝন নন,
রতন-কিঙ্কিণী বোল রে।
দ্রিমিক দ্রিমি দ্রিমি,            তাল তাণ্ডব
রাস-রসে মন ভোর রে॥
গোরি গেপিনী                  বাহু সুবলনি
শ্যাম তরুণ তমাল রে।
যৈছে যঁমুনাক,                মাঝে বিহরই,
কনকময় মিরিণাল রে॥
সুভগ আনন                   ঘাম-জল-কন
মুদিত মনসিজ অঙ্গ।
দাস অনন্ত কহে         ও রূপ বরণি নহে
 বরিখে কত কত রঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মহারাস
॥ কেদার॥

নটহি নটবর                    রাসমণ্ডলে
রমণিমণ্ডল মাঝ রে।
হেমকরিণী                   নিকর অন্তরে
বিহরে কুঞ্জররাজ রে॥
কনয়া কঙ্কণ                  ঝনর ঝন ঝন
রতন কিঙ্কিণি বোল রে।
দ্রিমিকি দ্রিমি দ্রিমি            তাল তাণ্ডব
রাসরসে মন ভোর রে॥
গোরি গেপিনি                  বাহু সুবলনি
শ্যাম তরুণ তমাল রে।
যৈছে যমুনাক                মাঝে বিহরই
কনকময় মিরিণাল (মৃণাল) রে॥
সুভগ আনন                     ঘামকণময়
মুদিত মনসিজ অঙ্গ।
দাস অনন্ত কহে         ও রূপ বরণি নহে
বরিখে কত কত রঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নটহি নটবর রাসমণ্ডলে          
.                রমণিমণ্ডল মাঝ রে।
হেমকারিণী নিকর অন্তরে        
.                বিহরে কুঞ্জররাজ রে॥
কনয়া কঙ্কণ ঝনর ঝন ঝন        
.                রতন কিঙ্কিণি বোল রে।
দ্রিমিকি দ্রিমি দ্রিমি তাল তাণ্ডব   
.                রাসরসে মন ভোর রে॥
গোরি গেপিনি বাহু সুবলনি       
.                শ্যাম তরুণ তমাল রে।
যৈছে যমুনাক মাঝে বিহরই       
.                কনকময় মিরিণাল (মৃণাল) রে॥
সুভগ আনন ঘামকণময়           
.                মুদিত মনসিজ অঙ্গ।
দাস অনন্ত কহে ও রূপ বরণি নহ
,                বরিখে কত কত রঙ্গ॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সরস বসন্ত সুধাকর নিরমল
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ভিন্ন রূপে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, উনত্রিংশ ক্ষণদা - শুক্লা চতুর্দ্দশী, ২৩৩-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

সরস বসন্ত                    সুধাকর নিরমল
পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার                 পসারল কলাবতী
গাহক মদনগোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলি-কলা-নিধি কান।
হাস বিলাস                    গমন দিঠি মন্থর
হেরি মুরছে পাঁচবাণ॥
হাসি পরশি                  তরুণী নব-যৌবনী
পুছই মূলকি বাত।
তরল-নয়নী                   হাসি মুখ শোভই
ঠেলই হাতহিঁ হাত॥
দুহুঁ রস-ভোর                   ওর নাহি পাওই
রস চাখই মদন দালাল।
দাস অনন্ত                    কহই রস-কৌতুক
তরু-কুল বলে ভাল ভাল॥

ই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র” ৪৬৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদরাগ মণ্ঠকতালৌ॥

সরস বসন্ত সুধাকর নিরমল পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার পসারল রসবতি রস গাহক মদন গোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলি কলানিধি কান। হাস বিলাস গমন দিঠি
মন্থর হেরি মুরছিত পাঁচবাণ॥ ধ্রু॥ নব যুবরাজ পরসি
তরুণী মণি পুছই মূলকি বাত। তরল নয়নি হাসি মুখ
মোড়ই ঠেলহি হাতহিঁ হাত॥ দুহুঁ রস ভোর ওর নাহি
পাওই রস চাখই মদন দালাল। দাস অনন্ত কহ ইহ রস
কৌতুক তরুকুল বোলে ভালি ভাল॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৪র্থ পল্লব,
বসন্তকালোচিত বিপ্রলব্ধা, ৩২৩ ও ৩২৪-পদসংখ্যার মধ্যবর্তী প্রক্ষিপ্ত পদ হিসেবে এইরূপে দেওয়া
রয়েছে। সতীশচন্দ্র রায়, এর কৈফিয়ত পদের পাদটীকায় দিয়েছেন।

॥ কেদার॥

সরস বসন্ত                    সুধাকর নিরমল
পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার                   পসারল রসবতি
গাহক মদন গোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলি-কলা-নিধি কান।
হাস-বিলাস-                   মগন দিঠি মন্থর
হেরি মুরছয়ে পাঁচবাণ॥ ধ্রু॥
নব যুবরাজ                  পরশি তরল মণি
পূছই মূলকি বাত।
তরল-নয়ানি                   হাসি মুখ মোড়ই
ঠেলই হাতহিঁ হাত॥
দুহুঁ রসে ভোর                 ওর নাহি পায়ই
রস চাখই মদন দালাল।
দাস অনন্ত কহ                 ইহ রস-কৌতুক
দ্বিজকুল কহে ভালি ভাল॥

এই পদটিকে প্রক্ষিপ্ত পদ করার কৈফিয়ত -
পদকল্পতরুর ২য় শাখার চতুর্থ পল্লবের পদ-সংখ্যা ২১---এরূপ গ্রন্থ-শেষে অনুবাদ প্রকরণে লিখিত আছে।
ক, গ, ঘ, চ পুথিতে ৩১৬ সংখ্যক ‘হেম দরপণি গৌরাঙ্গ লাবণি’ ইত্যাদি পদটি পরিত্যক্ত হওয়ায় চতুর্থ
পল্লবের পদ-সংখ্যা ২১ মিলিতেছে ; কিন্তু খ পুথির ঐ পদটি প্রক্ষিপ্ত নহে সিদ্ধান্ত করিয়া আমরা উহা মূলে
সন্নিবেশিত করিয়াছি---সুতরাং আমাদিগকে এই পল্লবের একটি পদ প্রক্ষিপ্ত বলিয়া গণনা হউতে বাদ না
দিলে পদ-সংখ্যা একটি বেশী হইয়া পড়ে। চতুর্থ পল্লবের কোন্ পদটি প্রক্ষিপ্ত বলিয়া গণ্য করা সঙ্গত,
তত্সম্বন্ধে আমরা বিশেষ আলোচনা করিয়া, এই সরস বসন্ত ইত্যাদি পদটির সহিত পূর্ব্বাপর পদ-দ্বয়ের
বিশেষ অর্থ-সঙ্গতি নাই এবং এই পদটি ৩য় শাখার ২৭ পল্লবে ৮৪ সংখ্যক পদরূপে সন্নিবেশিত হইয়াছে
দেখিয়া, এ স্থলে ইহা প্রক্ষিপ্ত স্থির করিয়া গণনা হইতে বাদ দিয়াছি কিন্ত সকল পুথিতেই পদটি দৃষ্ট হওয়ায়
উহাকে মূলের মধ্যেই সন্নিবেশিত করিয়াছি।---সতীশচন্দ্র রায়, সম্পাদক পদকল্পতরু॥

টীকা -
৮-৯। “নব যুবরাজ” ইত্যাদি। নবীন ব্রজরাজ-কুমার শ্রীকৃষ্ণ (কৌশলে শ্রীরাধার অঙ্গ স্পর্শ করার উদ্দেশ্যে)
শ্রীরাধার হারের মধ্যস্থিত উত্কৃষ্ট ও বৃহৎ মণিটি স্পর্শ করিয়া, উহার মূল্যের কথা জিজ্ঞাসা করিতেছেন ;
চঞ্চল-নয়না শ্রীরাধা (শ্রীকৃষ্ণের চাতুর্য্য বুঝিতে পারিয়া) হাসিয়া মুখ ফিরাইতেছেন এবং নিজের হস্ত দ্বারা
শ্রীকৃষ্ণের হস্ত ঠেলিয়া সরাইয়া দিতেছেন।
১২-১৫। “দুহুঁ রসে” ইত্যাদি। (শ্রীরাধা ও শ্রীকৃষ্ণ) উভয়ে রস অর্থাৎ প্রেমানন্দে বিভোর,--- (তাঁহারা)
আনন্দের সীমা পাইতেছেন না ; ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যবর্ত্তী দালালস্বরূপ কন্দর্প রস কি জাতীয় এবং কিরূপ
উত্কৃষ্ট, তাহা স্থির করিতেছেন ; অনন্ত দাস এই রস-রহস্য ব্যক্ত করিতেছেন ;---বিহঙ্গকুল (অপর অর্থে
সদস্যস্থানীয় ব্রাহ্মণগণ) ভাল ভাল বলিয়া ইহার সমর্থন করিতেছেন!
      
ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা ২৭শ পল্লব, বাসন্তী-
রাস-লীলা, ১৫০৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিহাগড়া॥

সরস বসন্ত                    সুধাকর নিরমল
পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার                   পসারল রসবতি
গাহক মদনগোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলি-কলা-নিধি কান।
হাস-বিলাস-                   মগন দিঠি মন্থর
হেরি মুরছয়ে পাঁচবাণ॥ ধ্রু॥
নব যুবরাজ                  পরশি তরল মণি
পুছই মূলকি বাত।
তরল-নয়ানি                   হাসি মুখ মোড়ই
ঠেলই হাতহিঁ হাত॥
দুহুঁ রসে ভোর                 ওর নাহি পায়ই
রস চাখই মদন দালাল।
দাস অনন্ত কহ                ইহ রস-কৌতুক
দ্বিজকুল কহে ভালি ভাল॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ২৫|২২ ও ৪২|৪১-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর
টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

২৫|২২ সংখ্যক পদ
॥ কেদার॥

সরস বসন্ত                    সুধাকর নিরমল
পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার                   পসারল রসবতি
রস গাহক মদন গোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলি-কলা-নিধি কান।
হাস-বিলাস-                   মগন দিঠি মন্থর
হেরি মুরছয়ে পাঁচবাণ॥ ধ্রু॥
নব যুবরাজ                  পরশি তরুণী মণি
পূছই মূলকি বাত।
তরল-নয়ানি                   হাসি মুখ মোড়ই
ঠেলই হাতহিঁ হাত॥
দুহুঁ রসে ভোর                ওর নাহি পায়ই
রস চাখই মদন দালাল।
দাস অনন্ত কহ                ইহ রস-কৌতুক
তরুকুল বলে ভালে ভাল॥

৪২|৪১ সংখ্যক পদ
॥ কেদার॥

সরস বসন্ত                    সুধাকর নিরমল
পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার                   পসারল রসবতি
রস গাহক মদন গোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলি-কলা-নিধি কান।
হাস-বিলাস-                     মগন দিঠি মন্থর
হেরি মুরছিত পাঁচবাণ॥ ধ্রু॥
নব যুবরাজ                   পরশি তরুণী মণি
পূছই মরমকি বাত।
তরল-নয়ানি                    হাসি মুখ মোড়ই
ঠেলহি হাতহিঁ হাত॥
দুহুঁ রসে ভোর                   ওর নাহি পায়ই
রস চাখই মদন দালাল।
দাস অনন্ত কহ                    ইহ রস-কৌতুক
তরুকুল বলে ভালে ভাল॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ২৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী বিহাগড়া তাল যথা॥

সরস বসন্ত সুধাকর নিরমল পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার পসারল রসবতী রস গাহক মদনগোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলি কলানিধি কান।
হাস বিলাস গমন দিঠি মন্থর হেরি মূরছি পাচবান॥ ধ্রু॥
নব যুবরাজ পরসি তরুণীমণি পোছই থোরকি বাত।
তরল নয়ান হাঁসিহাঁসি মুরই ঠেলহি হাথহি হাথ॥
দুহু রসে ভোর ওর নাহি পাইএ রস চাখই মদন দুলাল।
দাস অনন্ত কহো ইহো রসো কৌতুক তরুকুল বলে ভালি ভাল॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

সরস বসন্ত,                    সুধাকর নিরমল,
পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার,                   পসারল রসবতী,
গাহক মদন গোপাত১॥
বৃন্দাবনে কেলি-কলা-নিধি কান।
হাস বিলাস,                    মগন দিঠি মন্থর,
হেরি মুরছয়ে পাঁচবাণ॥
নব যুবরাজ,                   পরশি তরল মণি,
দুজুছই মূলকি বাত।
তরল নয়ানী,                     হাসি মুখ মুড়ই,
বৈঠই হাতহি হাত॥
দুহুঁ রসে ভোর,                   ওর না পাওই,
রস চাকই মদন দালাল।
দাস অনন্ত,                    কহই রস-কৌতুক,
তরুকুল কহে ভালি ভাল॥

১। - গোপাত - “গোপাল” হবে।

ই পদটি ৩য়বার ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৪০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কেদার॥

সরস বসন্ত                    সুধাকর নিরমল
পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার                  পসারল রসবতী
গাহক মদন গোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলি-কলা-নিধি কান।
হাস-বিলাস-                   মগন দিঠি মন্থর
হেরি মূরছয়ে পাঁচবাণ॥
দুহুঁ রসে ভোর                   ওর না পায়ই
রস চাকই মদন দালাল।
দাস অনন্ত কহ                ইহ রস-কৌতুক,
দ্বিজকুল কহে ভালি ভাল॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৬১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বসন্ত লীলা
॥ কামোদ - ছোট দশকুশী॥

সরস বসন্ত                    সুধাকর নিরমল
পরিমলে বকুল রসাল।
রসের পসার                 পসারল কলাবতী,
গাহক মদন গোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলি-কলানিধি কান।
হাস বিলাস,                    গমন দিঠিমন্থর,
হেরি মূরছয়ে পাঁচবাণ॥
নব যুবরাজ                  পরশি তরুণী মণি
পুছই মূলকি বাত।
তরল নয়ানী                   হাসি মুখ মোড়ই
ঠেলই হাতহিঁ হাত॥
দুহুঁ রস ভোর,                 ওর নাহি পাওই,
রস চাখই মদন দালাল।
দাস অনন্ত,                   কহই রস কৌতুক,
তরুকুল বলে ভালি ভাল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসন্ত রাস
॥ বিহগড়া॥

সরস বসন্ত                    সুধাকর নিরমল
পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার                   পসারল রসবতি
গাহক মদনগোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলিকলানিধি কান।
হাসবিলাস-                     মগন দিঠি মন্থর
হেরি মুরছয়ে পাঁচবাণ॥ ধ্রু॥
নব যুবরাজ                    পরশি তরল মণি
পূছই মূলকি বাত।
তরল-নয়ানি                   হাসি মুখ মোড়ই
ঠেলই হাতহিঁ হাত॥
দুহুঁ রসে ভোর                 ওর নাহি পায়ই
রস চাখই মদন দালাল।
দাস অনন্ত কহ                  ইহ রসকৌতুক
দ্বিজকুল কহে ভালি ভাল॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সরস বসন্ত সুধাকর নিরমল        
.                পরিমল বকুল রসাল।
রসের পসার পসারল রসবতি        
.                গাহক মদনগোপাল॥
বৃন্দাবনে কেলিকলানিধি কান।        
হাসবিলাসমগন দিঠি মন্থর            
.                হেরি মুরছয়ে পাঁচবাণ॥
নব যুবরাজ শরশি তরল মণি        
পূছই মূলকি বাত।
তরল নয়ানি হাসি মুখ মোড়ই        
.                ঠেলই হাতহিঁ হাত॥
দুহুঁ রসে ভোর ওর নাহি পায়ই       
.                রস চাখই মদন দালাল।
দাস অনন্ত কহ ইহ রসকৌতুক        
.                দ্বিজকুল কহে ভালি ভাল॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর