| অনন্ত দাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী |
| তোহারি সঙ্কেত নিকুঞ্জে বসিয়া কবি অনন্ত দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ৮ম পল্লব, হেমন্ত-শিশিরোচিত বিরহ, ১৭৪৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ তোহারি সঙ্কেত- নিকুঞ্জে বসিয়া কত করু পরলাপ। তুহিন-পবনে বিরহ-বেদনে সঘনে হৃদয় কাঁপ॥ পুরুব বাসক- শয়ন সোঙরি রচই বিবিধ শেজ। সহচরীগণে করিয়া রোদনে দূরেহি সবহুঁ তেজ॥ কবহুঁ সুমুখী বিমুখ হইয়া মানিনী সমান রহে। যাহ যাহ কান না হেরি বয়ান সতত এমতি কহে॥ কবহুঁ রোদন দশন বিথারি খল খল করি হাসে। দারুণ বিরহে ভৈ গেও বাউরি কহই অনন্ত দাসে॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৯৭৩-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ ধানশী॥ তোহারি সঙ্কেত- নিকুঞ্জে বসিয়া কত করু পরলাপ। তুহিন-পবনে বিরহ-বেদনে সঘনে হৃদয় কাঁপ॥ পুরুব বাসক- শয়ন সোঙরি রচই বিবিধ শেজ। সহচরীগণে করিয়া রোদনে দূরহি সবহি তেজ॥ কবহুঁ সুমুখী বিমুখ হইয়া মানিনী সমান রহে। যাহ যাহ কান না হেরি বয়ান সতত এমতি কহে॥ কবহুঁ রোদন দশন বিথারি খল খল করি হাসে। দারুণ বিরহে ভৈ গেও বাউরি কহই অনন্ত দাসে॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী তালোচিত॥ তোহারি সঙ্কেতনিকুঞ্জে বসিআ কত করূ পরলাপ। তুহিন পবনে বিরহবেদনে সঘনেহৃদয়ে কাঁপ॥ পুরব বাসক সঙন সোঙরি রচই বিবিধ সেজ। সহচরীগণে করিয়া রোদনে দূরহু সবহু তেজ॥ কবহু সুমুখী বিমুখী হইআ মানিনী সমান রহে। জাহ জাহ কান না হেরি বআন সতত এমনি কহে॥ কবহু বদন দশন বিথারি খলখল করি হাসে। দারুণ বিরহে ভৈ গেল বাউলি কহই অনন্তদাসে॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ তোহারি সঙ্কেত- নিকুঞ্জে বসিয়া কত করু পরলাপ। তুহিন-পবনে বিরহ-বেদনে সঘনে হৃদয় কাঁপ॥ পুরব বাসক- শয়ন সোঙরি রচই বিবিধ শেজ। সহচরীগণে করিয়া রোদনে দূরেহি সবহুঁ তেজ॥ কবহুঁ সুমুখী বিমুখ হইয়া মানিনী সমান রহে। যায় যায় কান না হেরি বয়ান সতত এমতি কহে॥ কবহুঁ রোদন দশন বিথারি খল খল করি হাসে। দারুণ বিরহে ভৈ গেও বাউরী কহই অনন্ত দাসে॥ এই পদটি ৩য়বার ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব- গীতাঞ্জলি”, ৩৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ তোঁহারি সঙ্কেত- নিকুঞ্জে বসিয়া কত করু পরলাপ। তুহিন-পবনে বিরহ-বেদনে সঘনে হৃদয় কাঁপ॥ পূরব বাসক- শয়ন সোঙরি রচই বিবিধ শেজ। সহচরীগণে করিয়া রোদনে দূরেহি সবহুঁ তেজ॥ কবহুঁ সুমুখী বিমুখ হইয়া মানিনী সমান রহে। যায় যায় কান না হেরি বয়ান সতত এমতি কহে॥ কবহুঁ রোদন দশন বিথারি খল খল করি হাসে। দারুণ বিরহে ভৈ গেও বাউরী কহই অনন্ত দাসে॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মাথুর - হেমন্ত শিশিরোচিত বিরহ ॥ ধানশী॥ তোহারি সঙ্কেত নিকুঞ্জে বসিয়া কত করু পরলাপ। তুহিনপবনে বিরহবেদনে সঘনে হৃদয় কাঁপ॥ পুরুব বাসক শয়ন সোঙরি রচই বিবিধ শেজ। সহচরীগণে করিয়া রোদনে দূরেহি সবহু তেজ॥ কবহুঁ সুমুখী বিমুখ হইয়া মানিনী সমান রহে। যাহ যাহ কান না হেরি বয়ান সতত এমতি কহে॥ কবহুঁ রোদন দশন বিথারি খল খল করি হাসে। দারুণ বিরহে ভৈ গেও বাউরি কহই অনন্ত দাসে॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৩১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শীতকালোচিত বিরহ ॥ বালা ধানশী - ডাঁশপাহিড়া॥ তোহারি সঙ্কেত নিকুঞ্জে বসিয়া কত করু পরলাপ। তুহিন-পবনে বিরহ-বেদনে সঘনে হৃদয় কাঁপ॥ পুরুব বাসক- শয়ন সোঙরি রচই বিবিধ শেজ। সহচরীগণে করিয়া রোদনে দুরেহি সবহুঁ তেজ॥ কবহুঁ সুমুখী বিমুখ হইয়া মানিনী সমান রহে। যাহ যাহ কান না হেরি বয়ান সতত এমতি কহে॥ কবহুঁ বদন দশন বিথারি খল খল করি হাসে। দারুণ বিরহে ভৈ গেও বাউরি কহই অনন্তদাসে॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। তোহারি সঙ্কেত নিকুঞ্জে বসিয়া . কত করূ পরলাপ। তুহিনপবনে বিরহবেদনে . সঘনে হৃদয় কাঁপ॥ পুরুব বাসক শয়ন সোঙরি . রচই বিবিধ শেজ। সহচরীগণে করিয়া রোদনে . দূরেহি সবহু তেজ॥ কবহুঁ সুমুখী বিমুখ হইয়া . মানিনী সমান রহে। যাহ যাহ কান না হেরি বয়ান . সতত এমতি কহে॥ কবহুঁ রোদন দশন বিথারি . খল খল করি হাসে। দারুণ বিরহে ভৈ গেও বাউরি . কহই অনন্ত দাসে॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বন্ধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া বঁধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া কবি অনন্ত দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১২শ পল্লব, ভাবোল্লাস, ১৯৮০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ বন্ধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া মিলব আমার পাশে। তুরিতে দেখিয়া চকিতে উঠিয়া বদন ঝাঁপিব বাসে॥ তা দেখি নাগর রসের সাগর আঁচরে ধরিবে মোর। করে কর ধরি গদগদ করি কহিব বচন থোর॥ তবহি মিলন দেখিয়া বদন হইয়া নাগর ভোরে। আঁখি ছল ছলে গরগর বোলে কত না সাধিবে মোরে॥ সময় জানিয়া থীর মানিয়া পূরাব মনের আশ। এ সকল বাণী ফলিবে এখনি কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী ধানশী॥ তালোচিত॥ বন্ধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া মিলব আমার পাশে। তুরিত দেখিয়া চমকি উঠিয়া বদন ঝাপিব বাসে॥ তা দেখি নাগর রসের সাগর আধরে অধর মোর। করে কর ধরি গদগদ করি কহিব বচন থোর॥ তরহি বদন দেখিয়া মলিন হইয়া নাগর ভোরে। আখি ছলছলে গদগদে বোলে কত না সাধিব মোরে॥ সময় জানিয়া থীর মানিয়া পূরাব মনের আশ। এ সকল বাণী ফলিবে এখনি কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানসী॥ বন্ধুয়া আসিয়া, হাসিয়া হাসিয়া, মিলব আমার পাশে। ত্বরিতে দেখিয়া, চকিতে উঠিয়া, বদন ঝাঁপিব বাসে॥ তা দেখি নাগর, রসের সাগর, আচরে ধরিবে মোর। করে কর ধরি, গদগদ করি, কহিব বচন থোর॥ তবহি মিলন, দেখিয়া বদন, হইয়া নাগর ভোর। আঁখি ছল ছলে, গর গর বোলে, কত না সাধিবে মোর॥ সময় জানিয়া, থির মাগিয়া, পূরাব মনের আশ। এ সকল বাণী, ফলিবে এখনি, কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ২৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ বন্ধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া মিলব আমার পাশে। তুরিতে দেখিয়া চকিতে উঠিয়া বদন ঝাঁপিব বাসে॥ তা দেখি নাগর রসের সাগর আঁচরে ধরিবে মোর। করে কর ধরি গদগদ করি কহিব বচন থোর॥ তবহি মিলন দেখিয়া বদন হইয়া নাগর ভোরে। আঁখি ছলছলে গরগর বোলে কত না সাধিবে মোরে॥ সময় জানিয়া থির মানিয়া পূরাব মনের আশ। এ সকল বাণী ফলিবে এখনি কহে অনন্ত দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ভাবোল্লাস ॥ ধানশী॥ বন্ধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া মিলব আমার পাশে। তুরিতে দেখিয়া চকিতে উঠিয়া বদন ঝাঁপিব বাসে॥ তা দেখি নাগর রসের সাগর আঁচরে ধরিবে মোর। করে কর ধরি গদগদ করি কহিব বচন থোর॥ তবহি মলিন দেখিয়া বদন হইয়া নাগর ভোরে। আঁখি ছল ছলে গরগর বোলে কত না সাধিবে মোরে॥ সময় জানিয়া থীর মানিয়া পূরাব মনের আশ। এ সকল বাণী ফলিবে এখনি কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। স্বপ্ন রসোদ্গার ॥ পূরবী - দুঠুকী॥ বঁধুয়া আসিয়া, হাসিয়া হাসিয়া, মিলব আমার পাশে। তুরিতে দেখিয়া, চকিতে উঠিয়া, বদন ঝাঁপিব বাসে॥ তা দেখি নাগর, রসের সাগর, আঁচরে ধরিবে মোর। করে কর ধরি, গদ গদ করি, কহিব বচন থোর॥ তবহি মলিন, দেখিয়া বদন, হইয়া নাগর ভোরে। আঁখি ছল ছলে, গর গর বোলে, কত না সাধিবে মোরে॥ সময় জানিয়া, থীর মানিয়া, পূরাব মনের আশ। এ সকল বাণী, ফলিবে এখনি, কহয়ে অনন্ত দাস॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বন্ধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া . মিলব আমার পাশে। তুরিতে দেখিয়া চকিতে উঠিয়া . বদন ঝাঁপিব বাসে॥ তা দেখি নাগর রসের সাগর . আঁচরে ধরিবে মোর। করে কর ধরি গদগদ করি . কহিব বচন থোর॥ তবহি মলিন দেখিয়া বদন . হইয়া নাগর ভোরে। আঁখি ছল ছলে গরগর বোলে . কত না সাধিবে মোরে॥ সময় জানিয়া থীর মানিয়া . পূরাব মনের আশ। এ সকল বাণী ফলিবে এখনি . কহয়ে অনন্তদাস॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া কবি অনন্ত দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৪শ পল্লব, প্রকারান্তর সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ, ২০১৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া নিকুঞ্জে মিলল তোয়। অনেক দিবসে শুনিতে মানসে সাধ লাগে বড় মোয়॥ তোহারি দুখেতে দুখিত হিয়া যেমত জরিয়া গেল। সরস বচনে অমিয়া-সেচনে তেমতি করহ ভাল॥ রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি। সো পহু-রতনে মিললি যতনে এ দুখ-সায়রে তরি॥ ধ্রু॥ কি কথা কহিল কি রস রচিল কহিয়া পূরাহ আশ। অতি চিরকালে করহ শীতলে কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী বিভাস॥ তালোচিত॥ কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া নিকুঞ্জে মিলল তোয়। অনেক দিবসে সুনিতে মানসে সাধ লাগে বড় মোয়॥ তোহারি দুখেতে দুখিত হিয়া জেমত জরিয়া গেল। সরস বচনে অমিয়া সেচনে তেমতি করহ ভাল॥ রাই তোহারি নিছনি লইয়া মরি। সো পহু রতনে মিললি জতনে এ সুখশাওরে ভরি॥ ধ্রু॥ কি কথা কহল কি রস রচিল কহিয়া পূরাহ আশ। অতি চিরকালে করহ শীতলে কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিভাষ॥ কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া নিকুঞ্জে মিলিল তোয়। অনেক দিবসে শুনিতে মানসে সাধ লাগে বড় মোর॥ তোহারি দুখেতে দুখিত হিয়া জীবন জরিয়া গেল। সরস বচনে অমিয়া সেচনে তেমতি করহ ভাল॥ রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি। সো পহুঁ রতনে মিললি যতনে এ দুখ সায়রে তরি॥ কি কথা কহিল কি রস রচিল কহিয়া পূরাহ আশ। অতি চিরকালে করহ শীতলে কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার প্রতি সখীর উক্তি ॥ বিভাস॥ কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া নিকুঞ্জে মিলল তোয়। অনেক দিবসে শুনিতে মানসে সাধ লাগে বড় মোয়॥ তোহারি দুখেতে দুখিত এ হিয়া যেমত জরিয়া গেল। সরস বচনে অমিয়া-সেচনে তেমতি করহ ভাল॥ রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি। সো পহুঁরতনে মিললি যতনে এ দুখসায়রে তরি॥ ধ্রু॥ কি কথা কহিল কি রস রচিল কহিয়া পূরাহ আশ। অতি চিরকালে করহ শীতলে কহয়ে অনন্তদাস॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসোদ্গার ॥ বিভাষ॥ কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া নিকুঞ্জে মিলল তোয়। অনেক দিবসে শুনিতে মানসে সাধ লাগে বড় মোয়॥ তোহারি দুখেতে দুখিত হিয়া যেমত জরিয়া গেল। সরস বচনে অমিয়া-সেচনে তেমতি করহ ভাল॥ রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি। সো পহু-রতনে মিললি যতনে এ দুখ-সায়রে তরি॥ ধ্রু॥ কি কথা কহিল কি রস রচিল কহিয়া পূরাহ আশ। অতি চিরকালে করহ শীতলে কহয়ে অনন্ত দাস॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া . নিকুঞ্জে মিলল তোয়। অনেক দিবসে শুনিতে মানসে . সাধ লাগে বড় মোয়॥ তোহারি দুখেতে দুখিত এ হিয়া . যেমত জরিয়া গেল। সরস বচনে অমিয়া সেচনে . তেমতি করহ ভাল॥ রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি। সো পহুঁরতনে মিললি যতনে . এ দুখসায়রে তরি॥ কি কথা কহিল কি রস রচিল . কহিয়া পূরাহ আশ। অতি চিরকালে করহ শীতলে . কহয়ে অনন্তদাস॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিবিধ কুসুম আনিয়া নাগর কবি অনন্ত দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৪শ পল্লব, সমৃদ্ধমান্ সম্ভোগের রসোদগার , ২০২২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ বিবিধ কুসুম আনিয়া নাগর করল আমার বেশ। বেণী বানাইয়া কবরী বান্ধল যতনে আচড়ি কেশ॥ সখি হে কি কব সুখের কথা। দাবানলে পুড়ি ফুল বিথারল যৈছন লবঙ্গ-লতা ॥ ধ্রু॥ দারুণ শিশিরে পদুমিনী জনু জীবনে মরিয়া ছিল। প্রবল রবির কিরণ পাইয়া জনু বিকসিত ভেল॥ ঐছে মোর পিয়া বেশ বানাইয়া রাখিল হিয়ায় ভরি। এ দাস অনন্ত কহই পিরিতি বালাই লইয়া মরি॥ এই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী সিন্ধুড়া॥ তালোচিত॥ বিবিধ কুসুম আনিয়ে নাগর করল আমার বেশ। বেনী বনাইয়া কবরী বান্ধিয়া জতনে আচরি কেশ॥ সখী হে কি কব সুখেরি কথা। দাবানলে পুড়ি ফুল বিথারল জৈছন লবঙ্গলতা ॥ দারুণ শিশিরে পদুমিনি জনু জীবনে মরিয়াছিল। প্রবল রবির কিরণ পাইয়া জনু বিকশিত ভেল॥ ঐছে মোর প্রিয়া বেশ বনাইয়া রাখিল হিয়ার পরে। এ দাস অনন্ত কহই পিরিতের বালাই লইয়া মরে॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ বিবিধ কুসুম আনিয়া নাগর করল আমার বেশ। বেণী বানাইয়া কবরী বান্ধিল যতনে আচরি কেশ॥ সখি হে কি কব সুখের কথা। দাবানলে পুড়ি ফুল বিথারল যৈছন লবঙ্গলতা ॥ ধ্রু॥ দারুণ শিশিরে পদুমিনী যেন জীবনে মরিয়া ছিল। প্রবল রবির কিরণ পাইয়া জনু বিকশিত ভেল॥ ঐছে মোর পিয়া বেশ বানাইয়া রাখিল হিয়ায় ভরি। এ দাস অনন্ত কহই পিরীতি বালাই লইয়া মরি॥ এই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সিন্ধুড়া॥ বিবিধ কুসুম আনিয়া নাগর করল আমার বেশ। বেণী বানাইয়া কবরী বান্ধল যতনে আচড়ি কেশ॥ সখি হে কি কব সুখের কথা। দাবানলে পুড়ি ফুল বিথারল যৈছন লবঙ্গ-লতা ॥ দারুণ শিশিরে পদুমিনী জনু জীবনে মরিয়া ছিল। প্রবল রবির কিরণ পাইয়া জনু বিকসিত ভেল॥ ঐছে মোর পিয়া বেশ বানাইয়া রাখিল হিয়ায় ভরি। এ দাস অনন্ত কহই পিরীতি বালাই লইয়া মরি॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীরাধার রসোদ্গার ॥ তথারাগ॥ বিবিধ কুসুম আনিয়া নাগর করল আমার বেশ। বেণী বানাইয়া কবরী বান্ধিল যতনে আঁচড়ি কেশ॥ সখি হে কি কব সুখের কথা। দাবানলে পুড়ি ফুল বিথারল যৈছন লবঙ্গলতা ॥ ধ্রু॥ দারুণ শিশিরে পদুমিনী জনু জীবনে মরিয়া ছিল। প্রবল রবির কিরণ পাইয়া জনু বিকসিত ভেল॥ ঐছে মোর পিয়া বেশ বানাইয়া রাখিল হিয়ায় ভরি। এ দাস অনন্ত কহই পিরিতি বালাই লইয়া মরি॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রসোদ্গার ॥ সিন্ধুড়া - ডাঁশপাহিড়া॥ বিবিধ কুসুম আনিয়া নাগর করল আমার বেশ। বেণী বানাইয়া কবরী বান্ধল যতনে আচড়ি কেশ॥ সখি হে কি কব সুখের কথা। দাবানলে পুড়ি ফুল বিথারল যৈছন লবঙ্গ-লতা ॥ ধ্রু॥ দারুণ শিশিরে পদুমিনী জনু জীবনে মরিয়া ছিল। প্রবল রবির কিরণ পাইয়া জনু বিকসিত ভেল॥ ঐছে মোর পিয়া বেশ বানাইয়া রাখিল হিয়ায় ভরি। এ দাস অনন্ত কহই পিরিতি বালাই লইয়া মরি॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বিবিধ কুসুম আনিয়া নাগর . করল আমার বেশ। বেণী বানাইয়া কবরী বান্ধিল . যতনে আঁচড়ি কেশ॥ সখি হে কি কব সুখের কথা। দাবানলে পুড়ি ফুল বিথারল . যৈছন লবঙ্গলতা॥ দারুণ শিশিরে পদুমিনী জনু . জীবনে মরিয়া ছিল। প্রবল রবির কিরণ পাইয়া . জনু বিকসিত ভেল॥ ঐছে মোর পিয়া বেশ বানাইয়া . রাখিল হিয়ায় ভরি। এ দাস অনন্ত কহই পিরিতি . বালাই লইয়া মরি॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আপাদ মস্তক প্রেম ধারা বরিখত কবি অনন্ত দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র--- প্রকারান্তর, ২২০৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ আপাদ-মস্তক প্রেম-ধারা বরিখত চৌদিগে ঝলকত কিরণে। মত্ত গজেন্দ্র জিনি গমন সুলাবণি চাঁদ উদয় করু চরণে॥ কেমন বিধাতা সে গৌরাঙ্গ-চাঁদের দে গঢ়িল আপন তনু দঢ়িয়া। কেমন কেমন তার কাষ্ঠ-পাষাণ-হিয়া তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥ আমার গৌরাঙ্গের গুণে দারু পাষাণ কিবা গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী। অরণ্যের মৃগ পাখী ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণী॥ যেমন তেমন কুলে জনম হউক মোর যেমন তেমন দেহ পাইয়া। অনন্ত দাসের মন ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥ এই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩১৬-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো। ॥ মঙ্গল॥ আপাদ-মস্তক প্রেম-ধারা বরিখত চৌদিগে ঝলকত কিরণে। মত্ত গজেন্দ্র জিনি গমন সুলাবণি চাঁদ উদয় করু চরণে॥ কেমন বিধাতা সে গৌরাঙ্গ-চাঁদের দে গঢ়িল আপন তনু ধরিয়া। কেমনে কেমনে তার কাষ্ঠ-পাষাণ-হিয়া তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥ আমার গৌরাঙ্গের গুণে দারু পাষাণ কিবা গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী। অরণ্যের মৃগ পাখী ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণী॥ যেমন তেমন কুলে জনম হউক মোর যেমন তেমন দেহ পাইয়া। অনন্ত দাসের মন ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥ এই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ২৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল রাগ॥ আপাদ মস্তক প্রেম- ধারা বরিষত চৌদিকো ঝলকত কিরণে। মত্ত গজেন্দ্র জিনি গমন সুনাচনী চাঁদ উদয় করু চরণে॥ কেমন বিধাতা সে, গৌরাঙ্গ চাঁদের দে গড়িলে আপন তনু দড়িয়া। কেমন কেমন তার, কাষ্ঠ পাষাণ হিয়া তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥ আমার গৌরাঙ্গের গুণে, দারু পাষাণ কিবা গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী। অরণ্যের মৃগ পাখী, ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণি॥ যেমন তেমন কুলে জনম হউক মোর যেমন তেমন দেহ পাইয়া। অনন্ত দাসের মন, ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥ এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ মঙ্গল॥ আপাদ-মস্তক প্রেমধারা বরিখত চৌদিগে ঝলকত কিরণে। মত্ত গজেন্দ্র জিনি গমন সুলাবণি চাঁদ উদয় করু চরণে॥ কেমন বিধাতা সে গৌরাঙ্গ চাঁদেরে যে গড়িল আপন তনু ধরিয়া। কেমন কেমন তার কাষ্ঠ পাষাণ হিয়া তখনি না গেল কেন গলিয়া॥ আমার গৌরাঙ্গের গুণে দারু পাষাণ কিবা গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী। অরণ্যের মৃগ পাখী ঝুরিয়া ঝুরিয়া কাঁদে নাহি কাঁদে হেন নাহি পরাণী॥ যেমন তেমন কুলে জনম হউক মোর যেমন তেমন দেহ পাঞা। অনন্ত দাসের মন ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ দেশে দেশে ফিরি যেন গাঞা॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরচন্দ্র আপাদমস্তক প্রেমধারা বরিখত চৌদিগে ঝলকত কিরণে। মত্ত গজেন্দ্র জিনি গমন সুলাবণি চাঁদ উদয় করু চরণে॥ কেমন বিধাতা সে গৌরাঙ্গ-চাঁদের দে গঢ়িল আপন তনু দঢ়িয়া। কেমন কেমন তার কাষ্ঠপাষাণহিয়া তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥ আমার গৌরাঙ্গের গুণে দারু পাষাণ কিবা গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী। অরণ্যের মৃগ পাখী ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণী॥ যেমন তেমন কুলে জনম হউক মোর যেমন তেমন দেহ পাইয়া। অনন্ত দাসের মন ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। আপাদমস্তক প্রেমধারা বরিখত . চৌদিগে ঝলকত কিরণে। মত্ত গজেন্দ্র জিনি গমন সুলাবণি . চাঁদ উদয় করু চরণে॥ কেমন বিধাতা সে গৌরাঙ্গ চাঁদের দে . গঢ়িল আপন তনু দঢ়িয়া। কেমন কেমন তার কাষ্ঠপাষাণহিয়া . তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥ আমার গৌরাঙ্গের গুণে দারু পাষাণ . কিবা গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী। অরণ্যের মৃগ পাখী ঝুরিয়া ঝুরিয়া . কান্দে নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণী॥ যেমন তেমন কুলে জনম হউক মোর . যেমন তেমন দেহ পাইয়া। অনন্ত দাসের মন ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ . দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই কবি অনন্ত দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২৩শ পল্লব, শ্রীচৈতন্য- নিত্যানন্দের রূপ-গুণ-বর্ণন, ২৩৩৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি কোনও পাঠান্তর ছাড়াই হুবহু এক রূপে উনবিংশ শতকে প্রকাশিত নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পদাবলী সংকলনে রয়েছে। ॥ কামোদ॥ দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই। অখিল জীবের ভাগ্যে অবনী বিহরে গো পতিত-পাবন দোন ভাই॥ যারে দেখে তার ঠামে যাচিয়া বিলায় প্রেমে উত্তম অধম নাহি মানে। এ তিন ভুবনের লোক নাহি জরা মৃত্যু শোক প্রেম-অমৃত করি পানে॥ কলপ-বিরিখি সিন্ধু না যাচয়ে এক বিন্দু ছি ছি কিয়ে তাহাতে উপমা। পতিত দেখিয়া কান্দে দোহেঁ থির নাহি বান্ধে যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥ এমন দয়াল দুহুঁ যে না ভজে হেন পহু সে ছারের জীবনে কি আশ। ন্যাসী বিপ্র হইলে হ অসুরে গণন সেহ অনন্ত দাসের এই ভাষ॥ এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীরাগ বা কামোদ॥ দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই। অখিল-জীবের ভাগ্যে অবনী বিহরে গো পতিতপাবন দোন ভাই॥ যারে দেখে তার ঠামে যাচিঞা বিলায় প্রেমে উত্তম অধম নাহি মানে। এ তিন ভুবনের লোক নাহি জরা মৃত্যু শোক প্রেম-অমৃত করি পানে॥ কলপ-বিরিক্ষি সিন্ধু না যাচয়ে এক বিন্দু ছিছি কিয়ে তাহাতে উপমা। পতিত দেখিয়া কাঁদে দেহ থির নাহি বাঁধে যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥ এমন দয়াল দুহুঁ যে না ভজে হেন পঁহু সে ছারের জীবনে কি আশ। সন্ন্যাসী বিপ্র হইলে ইহ অসুর গণন সেহ অনন্তদাসের এই ভাষ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গ ও নিত্যানন্দ দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই। অখিল জীবের ভাগ্যে অবনী বিহরে গো পতিতপাবন দোন ভাই॥ যারে দেখে তার ঠামে যাচিয়া বিলায় প্রেমে উত্তম অধম নাহি মানে। এ তিন ভুবনের লোক নাহি জরা মৃত্যু শোক প্রেমঅমৃত করি পানে॥ কলপ বিরিখি সিন্ধু না যাচয়ে এক বিন্দু ছি ছি কিয়ে তাহাতে উপমা। পতিত দেখিয়া কান্দে দোহেঁ থির নাহি বান্ধে যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥ এমন দয়াল দুহুঁ যে না ভজে হেন পহু সে ছারের জীবনে কি আশ। ন্যাসী বিপ্র হইলেহ অসুরে গণন সেহ অনন্ত দাসের এই ভাষ॥ এই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। শ্রীনিত্যানন্দের গুণ বর্ণন ॥ কামোদ - মধ্যম দশকুশী॥ দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই। অখিল জীবের ভাগ্যে অবনী বিহরে গো পতিত-পাবন দোন ভাই॥ যারে দেখে তার ঠামে যাচিয়া বিলায় প্রেমে উত্তম অধম নাহি মানে। এ তিন ভুবনের লোক নাহি জরা-মৃত্যু শোক প্রেম অমৃত করি পানে॥ কলপ বিরিখি সিন্ধু না যাচয়ে একবিন্দু ছি ছি কিয়ে তাহাতে উপমা। পতিত দেখিয়া কান্দে দোহেঁ থির নাহি বান্ধে যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥ এমন দয়াল দুহুঁ যে না ভজে হেন পহু সে ছারের জীবনে কি আশ। ন্যাসী বিপ্র হইলেহ অসুরে গণন সেহ অনন্ত দাসের এই ভাষ॥ এই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই। . অখিল জীবের ভাগ্যে অবনী বিহরে গো পতিতপাবন দোন ভাই॥ যারে দেখে তার ঠামে যাচিয়া বিলায় . প্রেমে উত্তম অধম নাহি মানে। এ তিন ভুবনের লোক নাহি জরা মৃত্যু . শোক প্রেমঅমৃত করি পানে॥ কলপ বিরিখি সিন্ধু না যাচয়ে এক বিন্দু . ছি ছি কিয়ে তাহাতে উপমা। পতিত দেখিয়া কান্দে দোহেঁ থির নাহি . বান্ধে যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥ এমন দয়াল দুহুঁ যে না ভজে হেন পহু . সে ছারের জীবনে কি আশ। ন্যাসী বিপ্র হইলেহ অসুরে গণন সেহ . অনন্ত দাসের এই ভাষ॥ . ************************* . সকল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . . মিলনসাগর |