অনন্ত দাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
তোহারি সঙ্কেত নিকুঞ্জে বসিয়া
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ৮ম পল্লব, হেমন্ত-শিশিরোচিত
বিরহ, ১৭৪৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোহারি সঙ্কেত-       নিকুঞ্জে বসিয়া
কত করু পরলাপ।
তুহিন-পবনে             বিরহ-বেদনে
সঘনে হৃদয় কাঁপ॥
পুরুব বাসক-             শয়ন সোঙরি
রচই বিবিধ শেজ।
সহচরীগণে              করিয়া রোদনে
দূরেহি সবহুঁ তেজ॥
কবহুঁ সুমুখী                বিমুখ হইয়া
মানিনী সমান রহে।
যাহ যাহ কান           না হেরি বয়ান
সতত এমতি কহে॥
কবহুঁ রোদন                দশন বিথারি
খল খল করি হাসে।
দারুণ বিরহে           ভৈ গেও বাউরি
কহই অনন্ত দাসে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৯৭৩-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ ধানশী॥

তোহারি সঙ্কেত-       নিকুঞ্জে বসিয়া
কত করু পরলাপ।
তুহিন-পবনে             বিরহ-বেদনে
সঘনে হৃদয় কাঁপ॥
পুরুব বাসক-             শয়ন সোঙরি
রচই বিবিধ শেজ।
সহচরীগণে              করিয়া রোদনে
দূরহি সবহি তেজ॥
কবহুঁ সুমুখী                বিমুখ হইয়া
মানিনী সমান রহে।
যাহ যাহ কান           না হেরি বয়ান
সতত এমতি কহে॥
কবহুঁ রোদন                দশন বিথারি
খল খল করি হাসে।
দারুণ বিরহে           ভৈ গেও বাউরি
কহই অনন্ত দাসে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৩৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী তালোচিত॥

তোহারি সঙ্কেতনিকুঞ্জে বসিআ কত করূ পরলাপ।
তুহিন পবনে বিরহবেদনে সঘনেহৃদয়ে কাঁপ॥
পুরব বাসক সঙন সোঙরি রচই বিবিধ সেজ।
সহচরীগণে করিয়া রোদনে দূরহু সবহু তেজ॥
কবহু সুমুখী বিমুখী হইআ মানিনী সমান রহে।
জাহ জাহ কান না হেরি বআন সতত এমনি কহে॥
কবহু বদন দশন বিথারি খলখল করি হাসে।
দারুণ বিরহে ভৈ গেল বাউলি কহই অনন্তদাসে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোহারি সঙ্কেত-       নিকুঞ্জে বসিয়া
কত করু পরলাপ।
তুহিন-পবনে             বিরহ-বেদনে
সঘনে হৃদয় কাঁপ॥
পুরব বাসক-             শয়ন সোঙরি
রচই বিবিধ শেজ।
সহচরীগণে              করিয়া রোদনে
দূরেহি সবহুঁ তেজ॥
কবহুঁ সুমুখী                বিমুখ হইয়া
মানিনী সমান রহে।
যায় যায় কান           না হেরি বয়ান
সতত এমতি কহে॥
কবহুঁ রোদন                দশন বিথারি
খল খল করি হাসে।
দারুণ বিরহে           ভৈ গেও বাউরী
কহই অনন্ত দাসে॥

ই পদটি ৩য়বার ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ৩৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তোঁহারি সঙ্কেত-       নিকুঞ্জে বসিয়া
কত করু পরলাপ।
তুহিন-পবনে             বিরহ-বেদনে
সঘনে হৃদয় কাঁপ॥
পূরব বাসক-             শয়ন সোঙরি
রচই বিবিধ শেজ।
সহচরীগণে              করিয়া রোদনে
দূরেহি সবহুঁ তেজ॥
কবহুঁ সুমুখী                বিমুখ হইয়া
মানিনী সমান রহে।
যায় যায় কান           না হেরি বয়ান
সতত এমতি কহে॥
কবহুঁ রোদন                দশন বিথারি
খল খল করি হাসে।
দারুণ বিরহে           ভৈ গেও বাউরী
কহই অনন্ত দাসে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মাথুর - হেমন্ত শিশিরোচিত বিরহ
॥ ধানশী॥

তোহারি সঙ্কেত       নিকুঞ্জে বসিয়া
কত করু পরলাপ।
তুহিনপবনে             বিরহবেদনে
সঘনে হৃদয় কাঁপ॥
পুরুব বাসক             শয়ন সোঙরি
রচই বিবিধ শেজ।
সহচরীগণে              করিয়া রোদনে
দূরেহি সবহু তেজ॥
কবহুঁ সুমুখী                বিমুখ হইয়া
মানিনী সমান রহে।
যাহ যাহ কান           না হেরি বয়ান
সতত এমতি কহে॥
কবহুঁ রোদন                দশন বিথারি
খল খল করি হাসে।
দারুণ বিরহে           ভৈ গেও বাউরি
কহই অনন্ত দাসে॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৩১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শীতকালোচিত বিরহ
॥ বালা ধানশী - ডাঁশপাহিড়া॥

তোহারি সঙ্কেত                       নিকুঞ্জে বসিয়া
কত করু পরলাপ।
তুহিন-পবনে                            বিরহ-বেদনে
সঘনে হৃদয় কাঁপ॥
পুরুব বাসক-                           শয়ন সোঙরি
রচই বিবিধ শেজ।
সহচরীগণে                            করিয়া রোদনে
দুরেহি সবহুঁ তেজ॥
কবহুঁ সুমুখী                             বিমুখ হইয়া
মানিনী সমান রহে।
যাহ যাহ কান                         না হেরি বয়ান
সতত এমতি কহে॥
কবহুঁ বদন                             দশন বিথারি
খল খল করি হাসে।
দারুণ বিরহে                       ভৈ গেও বাউরি
কহই অনন্তদাসে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

তোহারি সঙ্কেত নিকুঞ্জে বসিয়া          
.                কত করূ পরলাপ।
তুহিনপবনে বিরহবেদনে                
.                সঘনে হৃদয় কাঁপ॥
পুরুব বাসক শয়ন সোঙরি              
.                রচই বিবিধ শেজ।
সহচরীগণে করিয়া রোদনে                
.                দূরেহি সবহু তেজ॥
কবহুঁ সুমুখী বিমুখ হইয়া                
.                মানিনী সমান রহে।
যাহ যাহ কান না হেরি বয়ান             
.                সতত এমতি কহে॥
কবহুঁ রোদন দশন বিথারি                
.                খল খল করি হাসে।
দারুণ বিরহে ভৈ গেও বাউরি            
.                        কহই অনন্ত দাসে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বন্ধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া
বঁধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১২শ পল্লব,
ভাবোল্লাস, ১৯৮০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বন্ধুয়া আসিয়া      হাসিয়া হাসিয়া
মিলব আমার পাশে।
তুরিতে   দেখিয়া চকিতে উঠিয়া
বদন ঝাঁপিব বাসে॥
তা দেখি নাগর       রসের সাগর
আঁচরে ধরিবে মোর।
করে কর ধরি          গদগদ করি
কহিব বচন থোর॥
তবহি মিলন         দেখিয়া বদন
হইয়া নাগর ভোরে।
আঁখি ছল ছলে       গরগর বোলে
কত না সাধিবে মোরে॥
সময় জানিয়া            থীর মানিয়া
পূরাব মনের আশ।
এ সকল বাণী         ফলিবে এখনি
কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৩৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশী॥ তালোচিত॥

বন্ধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া মিলব আমার পাশে।
তুরিত দেখিয়া চমকি উঠিয়া বদন ঝাপিব বাসে॥
তা দেখি নাগর রসের সাগর আধরে অধর মোর।
করে কর ধরি গদগদ করি কহিব বচন থোর॥
তরহি বদন দেখিয়া মলিন হইয়া নাগর ভোরে।
আখি ছলছলে গদগদে বোলে কত না সাধিব মোরে॥
সময় জানিয়া থীর মানিয়া পূরাব মনের আশ।
এ সকল বাণী ফলিবে এখনি কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ধানসী॥

বন্ধুয়া আসিয়া, হাসিয়া হাসিয়া, মিলব আমার পাশে। ত্বরিতে দেখিয়া,
চকিতে উঠিয়া, বদন ঝাঁপিব বাসে॥ তা দেখি নাগর, রসের সাগর, আচরে
ধরিবে মোর। করে কর ধরি, গদগদ করি, কহিব বচন থোর॥ তবহি মিলন,
দেখিয়া বদন, হইয়া নাগর ভোর। আঁখি ছল ছলে, গর গর বোলে, কত না
সাধিবে মোর॥ সময় জানিয়া, থির মাগিয়া, পূরাব মনের আশ। এ সকল বাণী,
ফলিবে এখনি, কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ২৭০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

বন্ধুয়া আসিয়া     হাসিয়া হাসিয়া
মিলব আমার পাশে।
তুরিতে দেখিয়া     চকিতে উঠিয়া
বদন ঝাঁপিব বাসে॥
তা দেখি নাগর       রসের সাগর
আঁচরে ধরিবে মোর।
করে কর ধরি          গদগদ করি
কহিব বচন থোর॥
তবহি মিলন          দেখিয়া বদন
হইয়া নাগর ভোরে।
আঁখি ছলছলে       গরগর বোলে
কত না সাধিবে মোরে॥
সময় জানিয়া            থির মানিয়া
পূরাব মনের আশ।
এ সকল বাণী         ফলিবে এখনি
কহে অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ভাবোল্লাস
॥ ধানশী॥

বন্ধুয়া আসিয়া       হাসিয়া হাসিয়া
মিলব আমার পাশে।
তুরিতে দেখিয়া       চকিতে উঠিয়া
বদন ঝাঁপিব বাসে॥
তা দেখি নাগর         রসের সাগর
আঁচরে ধরিবে মোর।
করে কর ধরি           গদগদ করি
কহিব বচন থোর॥
তবহি মলিন           দেখিয়া বদন
হইয়া নাগর ভোরে।
আঁখি ছল ছলে        গরগর বোলে
কত না সাধিবে মোরে॥
সময় জানিয়া            থীর মানিয়া
পূরাব মনের আশ।
এ সকল বাণী          ফলিবে এখনি
কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

স্বপ্ন রসোদ্গার
॥ পূরবী - দুঠুকী॥

বঁধুয়া আসিয়া,              হাসিয়া হাসিয়া,
মিলব আমার পাশে।
তুরিতে দেখিয়া,        চকিতে উঠিয়া,
বদন ঝাঁপিব বাসে॥
তা দেখি নাগর,               রসের সাগর,
আঁচরে ধরিবে মোর।
করে কর ধরি,                  গদ গদ করি,
কহিব বচন থোর॥
তবহি মলিন,                 দেখিয়া বদন,
হইয়া নাগর ভোরে।
আঁখি ছল ছলে,               গর গর বোলে,
কত না সাধিবে মোরে॥
সময় জানিয়া,                    থীর মানিয়া,
পূরাব মনের আশ।
এ সকল বাণী,                 ফলিবে এখনি,
কহয়ে অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বন্ধুয়া আসিয়া হাসিয়া হাসিয়া            
.                মিলব আমার পাশে।
তুরিতে দেখিয়া চকিতে উঠিয়া           
.                বদন ঝাঁপিব বাসে॥
তা দেখি নাগর রসের সাগর               
.                আঁচরে ধরিবে মোর।
করে কর ধরি গদগদ করি                
.                কহিব বচন থোর॥
তবহি মলিন দেখিয়া বদন                 
.                হইয়া নাগর ভোরে।
আঁখি ছল ছলে গরগর বোলে              
.                কত না সাধিবে মোরে॥
সময় জানিয়া থীর মানিয়া                 
.                পূরাব মনের আশ।
এ সকল বাণী ফলিবে এখনি                
.                কহয়ে অনন্তদাস॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৪শ পল্লব,
প্রকারান্তর সমৃদ্ধিমান্ সম্ভোগ, ২০১৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

কেমনে বিনোদ            নাগর আসিয়া
নিকুঞ্জে মিলল তোয়।
অনেক দিবসে            শুনিতে মানসে
সাধ লাগে বড় মোয়॥
তোহারি দুখেতে             দুখিত হিয়া
যেমত জরিয়া গেল।
সরস বচনে               অমিয়া-সেচনে
তেমতি করহ ভাল॥
রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি।
সো পহু-রতনে             মিললি যতনে
এ দুখ-সায়রে তরি॥ ধ্রু॥
কি কথা কহিল             কি রস রচিল
কহিয়া পূরাহ আশ।
অতি চিরকালে             করহ শীতলে
কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী বিভাস॥ তালোচিত॥

কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া নিকুঞ্জে মিলল তোয়।
অনেক দিবসে সুনিতে মানসে সাধ লাগে বড় মোয়॥
তোহারি দুখেতে দুখিত হিয়া জেমত জরিয়া গেল।
সরস বচনে অমিয়া সেচনে তেমতি করহ ভাল॥
রাই তোহারি নিছনি লইয়া মরি।
সো পহু রতনে মিললি জতনে এ সুখশাওরে ভরি॥ ধ্রু॥
কি কথা কহল কি রস রচিল কহিয়া পূরাহ আশ।
অতি চিরকালে করহ শীতলে কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

কেমনে বিনোদ           নাগর আসিয়া
নিকুঞ্জে মিলিল তোয়।
অনেক দিবসে           শুনিতে মানসে
সাধ লাগে বড় মোর॥
তোহারি দুখেতে            দুখিত হিয়া
জীবন জরিয়া গেল।
সরস বচনে               অমিয়া সেচনে
তেমতি করহ ভাল॥
রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি।
সো পহুঁ রতনে            মিললি যতনে
এ দুখ সায়রে তরি॥
কি কথা কহিল            কি রস রচিল
কহিয়া পূরাহ আশ।
অতি চিরকালে            করহ শীতলে
কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার প্রতি সখীর উক্তি
॥ বিভাস॥

কেমনে বিনোদ           নাগর আসিয়া
নিকুঞ্জে মিলল তোয়।
অনেক দিবসে           শুনিতে মানসে
সাধ লাগে বড় মোয়॥
তোহারি দুখেতে        দুখিত এ হিয়া
যেমত জরিয়া গেল।
সরস বচনে              অমিয়া-সেচনে
তেমতি করহ ভাল॥
রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি।
সো পহুঁরতনে             মিললি যতনে
এ দুখসায়রে তরি॥ ধ্রু॥
কি কথা কহিল            কি রস রচিল
কহিয়া পূরাহ আশ।
অতি চিরকালে             করহ শীতলে
কহয়ে অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪০৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ বিভাষ॥

কেমনে বিনোদ           নাগর আসিয়া
নিকুঞ্জে মিলল তোয়।
অনেক দিবসে            শুনিতে মানসে
সাধ লাগে বড় মোয়॥
তোহারি দুখেতে             দুখিত হিয়া
যেমত জরিয়া গেল।
সরস বচনে               অমিয়া-সেচনে
তেমতি করহ ভাল॥
রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি।
সো পহু-রতনে             মিললি যতনে
এ দুখ-সায়রে তরি॥ ধ্রু॥
কি কথা কহিল            কি রস রচিল
কহিয়া পূরাহ আশ।
অতি চিরকালে            করহ শীতলে
কহয়ে অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কেমনে বিনোদ নাগর আসিয়া                
.                নিকুঞ্জে মিলল তোয়।
অনেক দিবসে শুনিতে মানসে                
.                সাধ লাগে বড় মোয়॥
তোহারি দুখেতে দুখিত এ হিয়া              
.                যেমত জরিয়া গেল।
সরস বচনে অমিয়া সেচনে                   
.                তেমতি করহ ভাল॥
রাই তোহারি নিছনি লৈয়া মরি।             
সো পহুঁরতনে মিললি যতনে                  
.                এ দুখসায়রে তরি॥
কি কথা কহিল কি রস রচিল                
.                কহিয়া পূরাহ আশ।
অতি চিরকালে করহ শীতলে                
.                কহয়ে অনন্তদাস॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
রজনিক আনন্দ কি কহব তোয়
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ১৪শ পল্লব, সমৃদ্ধমান্ সম্ভোগের রসোদগার , ২০২০-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

রজনিক আনন্দ কি কহব তোয়।
চিরদিনে মাধব মীলল মোয়॥
হিয়ায় হইতে মোরে না করে বাহির।
হেরইতে বদন নয়নে বহে নীর॥
দারিদ হেম জনু তিলেক না ছোড়।
ঐছনে হাম রহলুঁ পিয়া-কোর॥
যতহুঁ বিপদ কছু না কহলুঁ রোয়।
কহইতে কৈছে কি জানি কিয়ে হোয়॥
নাগর গরগর আরতি বিথার।
দাস অনন্ত কহই রস-সার॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর
গ্রন্থশালার “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী বিভাস॥ তালোচিত॥

রজনীক আনন্দ কি কহব তোয়। চিরদিনে মাধব মিলল মোয়॥
হিয়ায় হইতে মোরে না করে বাহির। হেরইতে বদন নয়নে বহে নীর॥
দারিদ্র হেম জনু তিলেক না ছোড়। ঐছনে হাম রহলু প্রিয়াকোর॥
জতহু বিপদ কছু না কহলু রোই। কহইতে জৈছে কি জানি কিয়ে হোই॥
নাগর গরগর আরতি বিথার। দাস অনন্ত কহই রসসার॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

রজনীক আনন্দ কি কহব তোয়।
চিরদিনে মাধব মিলল মোয়॥
হিয়ায় হইতে মোরে না করে বাহির।
হেরইতে বদন নয়নে বহে নীর॥
দারিদ্র হেম জনু তিলেক না ছোড়।
ঐছনে হাম রহলু পিয়া কোর॥
যতহুঁ বিপদ কছু না কহলু রোয়।
কহইতে কৈছে কি জানি কিয়ে হোয়॥
নাগর গর গর আরতি বিথার।
দাস অনন্ত কহ ইহ রস সার॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ বিভাস॥

রজনিক আনন্দ কি কহব তোয়।
চিরদিনে মাধব মীলল মোয়॥
হিয়ার হইতে মোরে না করে বাহির।
হেরইতে বদন নয়নে বহে নীর॥
দারিদ হেম জনু তিলেক না ছোড়।
ঐছনে হাম রহলুঁ পিয়াকোর॥
যতহুঁ বিপদ কছু না কহলুঁ রোয়।
কহইতে কৈছে কি জানি কিয়ে হোয়॥
নাগর গরগর আরতি বিথার।
দাস অনন্ত কহই রসসার॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ বালা ধানশী - একতালা॥

রজনিক আনন্দ কি কহব তোয়।
চিরদিনে মাধব মীলল মোয়॥ ধ্রু॥
হিয়ায় হইতে মোরে না করে বাহির।
হেরইতে বদন নয়নে বহে নীর॥
দারিদ হেম জনু তিলেক না ছোড়।
ঐছন হাম রহলুঁ পিয়া-কোর॥
যতহুঁ বিপদ কছু না কহলুঁ রোয়।
কহইতে কৈছে কি জানি কিয়ে হোয়॥
নাগর গরগর আরতি বিথার।
দাস অনন্ত কহই রস-সার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রজনিক আনণ্ড১ কি কহব তোয়।
চিরদিনে মাধব মীলল মোয়॥
হিয়ার হইতে মোরে না করে বাহির।
হেরইতে বদন নয়নে বহে নীর॥
দারিদ হেম জনু তিলেক না ছোড়।
ঐছনে হাম রহলুঁ পিয়াকোর॥
যতহুঁ বিপদ কছু না কহলুঁ রোয়।
কহইতে কৈছে কি জানি কিয়ে হোয়॥
নাগর গরগর আরতি বিথার।
দাস অনন্ত কহই রসসার॥

১। আনণ্ড - সম্ভবত “আনন্দ” হবে।

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বিবিধ কুসুম আনিয়া নাগর
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ১৪শ পল্লব, সমৃদ্ধমান্ সম্ভোগের
রসোদগার , ২০২২-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

বিবিধ কুসুম                  আনিয়া নাগর
করল আমার বেশ।
বেণী বানাইয়া                কবরী বান্ধল
যতনে আচড়ি কেশ॥
সখি হে কি কব সুখের কথা।
দাবানলে  পুড়ি                 ফুল বিথারল
যৈছন লবঙ্গ-লতা ॥ ধ্রু॥
দারুণ শিশিরে                পদুমিনী  জনু
জীবনে মরিয়া ছিল।
প্রবল রবির                   কিরণ পাইয়া
জনু বিকসিত ভেল॥
ঐছে মোর পিয়া              বেশ বানাইয়া
রাখিল হিয়ায় ভরি।
এ দাস অনন্ত                   কহই পিরিতি
বালাই লইয়া মরি॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৪৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী সিন্ধুড়া॥ তালোচিত॥

বিবিধ কুসুম আনিয়ে নাগর করল আমার বেশ।
বেনী বনাইয়া কবরী বান্ধিয়া জতনে আচরি কেশ॥
সখী হে কি কব সুখেরি কথা।
দাবানলে  পুড়ি ফুল বিথারল জৈছন লবঙ্গলতা ॥
দারুণ শিশিরে পদুমিনি জনু জীবনে মরিয়াছিল।
প্রবল রবির কিরণ পাইয়া জনু বিকশিত ভেল॥
ঐছে মোর প্রিয়া বেশ বনাইয়া রাখিল হিয়ার পরে।
এ দাস অনন্ত কহই পিরিতের বালাই লইয়া মরে॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ১৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

বিবিধ কুসুম                  আনিয়া নাগর
করল আমার বেশ।
বেণী বানাইয়া                কবরী বান্ধিল
যতনে আচরি কেশ॥
সখি হে কি কব সুখের কথা।
দাবানলে  পুড়ি                  ফুল বিথারল
যৈছন লবঙ্গলতা ॥ ধ্রু॥
দারুণ শিশিরে                পদুমিনী  যেন
জীবনে মরিয়া ছিল।
প্রবল রবির                   কিরণ পাইয়া
জনু বিকশিত ভেল॥
ঐছে মোর পিয়া              বেশ বানাইয়া
রাখিল হিয়ায় ভরি।
এ দাস অনন্ত                  কহই পিরীতি
বালাই লইয়া মরি॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-পদলহরী”, ৪৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

বিবিধ কুসুম                  আনিয়া নাগর
করল আমার বেশ।
বেণী বানাইয়া                  কবরী বান্ধল
যতনে আচড়ি কেশ॥
সখি হে কি কব সুখের কথা।
দাবানলে  পুড়ি                  ফুল বিথারল
যৈছন লবঙ্গ-লতা ॥
দারুণ শিশিরে                পদুমিনী  জনু
জীবনে মরিয়া ছিল।
প্রবল রবির                     কিরণ পাইয়া
জনু বিকসিত ভেল॥
ঐছে মোর পিয়া              বেশ বানাইয়া
রাখিল হিয়ায় ভরি।
এ দাস অনন্ত                  কহই পিরীতি
বালাই লইয়া মরি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৫৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রসোদ্গার
॥ তথারাগ॥

বিবিধ কুসুম                  আনিয়া নাগর
করল আমার বেশ।
বেণী বানাইয়া                কবরী বান্ধিল
যতনে আঁচড়ি কেশ॥
সখি হে কি কব সুখের কথা।
দাবানলে পুড়ি                  ফুল বিথারল
যৈছন লবঙ্গলতা ॥ ধ্রু॥
দারুণ শিশিরে                পদুমিনী  জনু
জীবনে মরিয়া ছিল।
প্রবল রবির                   কিরণ পাইয়া
জনু বিকসিত ভেল॥
ঐছে মোর পিয়া               বেশ বানাইয়া
রাখিল হিয়ায় ভরি।
এ দাস অনন্ত                   কহই পিরিতি
বালাই লইয়া মরি॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসোদ্গার
॥ সিন্ধুড়া - ডাঁশপাহিড়া॥

বিবিধ কুসুম                আনিয়া নাগর
করল আমার বেশ।
বেণী বানাইয়া                কবরী বান্ধল
যতনে আচড়ি কেশ॥
সখি হে কি কব সুখের কথা।
দাবানলে  পুড়ি               ফুল বিথারল
যৈছন লবঙ্গ-লতা ॥ ধ্রু॥
দারুণ শিশিরে                পদুমিনী  জনু
জীবনে মরিয়া ছিল।
প্রবল রবির                   কিরণ পাইয়া
জনু বিকসিত ভেল॥
ঐছে মোর পিয়া           বেশ বানাইয়া
রাখিল হিয়ায় ভরি।
এ দাস অনন্ত                 কহই পিরিতি
বালাই লইয়া মরি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিবিধ কুসুম আনিয়া নাগর         
.                করল আমার বেশ।
বেণী বানাইয়া কবরী বান্ধিল         
.                যতনে আঁচড়ি কেশ॥
সখি হে কি কব সুখের কথা।        
দাবানলে পুড়ি ফুল বিথারল           
.                যৈছন লবঙ্গলতা॥
দারুণ শিশিরে পদুমিনী  জনু         
.                জীবনে মরিয়া ছিল।
প্রবল রবির কিরণ পাইয়া            
.                জনু বিকসিত ভেল॥
ঐছে মোর পিয়া বেশ বানাইয়া        
.                রাখিল হিয়ায় ভরি।
এ দাস অনন্ত কহই পিরিতি            
.                বালাই লইয়া মরি॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা ১৯শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গেররূপ--নাগরী-উক্তি, ২১৬৭-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

ততঃ শ্রীনবদ্বীপস্থ-ষড়্ভুজ-প্রকাশক-রূপং যথা।
॥ তিরোথা ধানশী॥

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
চাঁদ-বদনে হাসি অমিয়া-তরঙ্গ॥
অবনি-বিলম্বিত বনি বনমাল।
সৌরভে বেঢ়ল মধুকর-জাল॥
উভ দ্বয় ভূজ পর খর শর-চাপ।
হেরইতে রিপুগণ থরহরি কাঁপ॥
দুরবা-দল-তুল নখ-বিধু সাজ।
মণিময় কঙ্কণ বলয় বিরাজ॥
তদধহিঁ দুহুঁ কর জলধর-শ্যাম।
তহিঁ শোভে মোহন মুরলি অনুপাম॥
নখ-মণি বিধু জিনি তলহি সুরঙ্গ।
মণি-অভরণ তাহে মুরছে অনঙ্গ॥
তদধহি করহি কমণ্ডলু দণ্ড।
যাহে কলি-কলমষ পাষণ্ড খণ্ড॥
গিম সঞে উরে মণি মোতি বিলোল।
শ্রীবত্সাঙ্কিত কৌস্তুভ দোল॥
মলয়জময় উর পরিসর পীন।
নাভি গভির কটি কেশরি-খীণ॥
বসন সুরঙ্গ চরণ পরিযন্ত।
পদ-নখ-নীছনি দাস অনন্ত॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২২৭৪-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তিরোথা ধানশী॥

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
চাঁদ-বদনে হাসি অমিয়া-তরঙ্গ॥
অবনি-বিলম্বিত বনি বনমাল।
সৌরভে বেঢ়ল মধুকর-জাল॥
উভ দ্বয় ভূজ পর খর শর-চাপ।
হেরইতে রিপুগণ থরহরি কাঁপ॥
দুরবা-দল-তুল নখ-বিধু সাজ।
মণিময় কঙ্কণ বলয় বিরাজ॥
তদধহিঁ দুহুঁ কর জলধর-শ্যাম।
তহিঁ শোভে মোহন মুরলি অনুপাম॥
নখ-মণি বিধু জিনি তলহি সুরঙ্গ।
মণি-অভরণ তাহে মুরছে অনঙ্গ॥
তদধহি করহি কমণ্ডলু দণ্ড।
যাহে কলি-কলমষ পাষণ্ড খণ্ড॥
গিম সঞে উরে মণি মোতি বিলোল।
শ্রীবত্সাঙ্কিত কৌস্তুভ দোল॥
মলয়জময় উর পরিসর পীন।
নাভি গভির কটি কেশরি-খীণ॥
বসন সুরঙ্গ চরণ পরিযন্ত।
পদ-নখ-নিছনি দাস অনন্ত॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৮৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তিরোতা ধানশী॥

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
চাঁদবদনে হাসি অমিয়া তরঙ্গ॥
অবনী বিলম্বিত বনি বনমাল।
সৌরভে বেঢ়ল মধুকরজাল॥
উভদ্বয় ভুজপর খর সর চাপ।
হেরইতে ঋপুগণ থরহরি কাঁপ॥
দুর বাদল তুল নখবিধু সাজ।
মণিময় কঙ্কণ বলয় বিরাজ॥
তদধহিঁ দুহুঁ কর জলধরশ্যাম।
তহিঁ শোভে মোহন মুরলী অনুপাম॥
নখমণি বিধু জিনি তলহি সুরঙ্গ।
তাহে মণি আভরণ মূরছে অনঙ্গ॥
তদধহিঁ করহি কমণ্ডলু দণ্ড।
যাহে কলিকলুষ পাষণ্ড খণ্ড॥
গীম সঞে উরে মণি মোতি বিলোল।
শ্রীবত্সাঙ্কিত কৌস্তুভ দোল॥
মলয়জময় উর পরিসর পীন।
নাভি গভির কটি কেশরিক্ষীণ॥
বসন সুরঙ্গ চরণ পরিযন্ত।
পদনখ নিছনি দাস অনন্ত॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩য় তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ৯৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
চাঁদবদনে হাসি অমিয়াতরঙ্গ॥
অবনী-বিলম্বিত বনমাল।
সৌরভে বেঢ়ল মধুকরজাল॥
উভদ্বয় ভুজপর খরশর চাপ।
হেরইতে রিপুগণ থরহরি কাঁপ॥
দুরবাদল তুল নখবিধু সাজ।
মণিময় কঙ্কণ বলয় বিরাজ॥
তদধহি দুহুঁ জলধর শ্যাম।
তহি শোভে মোহন মুরলী অনুপাম॥
নখমণি বিধু জিনি তলহি সুরঙ্গ।
মণি অভরণ তাহে মূরছে অনঙ্গ॥
তদধহি করহি কমণ্ডলু দণ্ড।
যাহে কলিকলুষ পাষণ্ড খণ্ড॥
গীম সঞে উরে মণি মোতি বিলোল।
শ্রীবত্সাঙ্কিত কৌস্তুভ দোল॥
মলয়জময় উর পরিসর পীন।
নাভি গভীর কটি কেশরিক্ষীণ॥
বসন সুরঙ্গ চরণ পর্য্যন্ত।
পদনখ নিছনি দাস অনন্ত॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের ষড়ভুজ মূর্ত্তি।

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
চাঁদবদনে হাসি অমিয়াতরঙ্গ॥
অবনিবিলম্বিত বনি বনমাল।
সৌরভে বেঢ়ল মধুকর-জাল॥
উভ ভুজদ্বয় পর খর শর-চাপ।
হেরইতে রিপুগণ থরহরি কাঁপ॥
দুর্ব্বাদলতুল কিবা নখবিধু সাজ।
মণিময় কঙ্কণ বলয় বিরাজ॥
তদধহি দুহুঁ কর জলধরশ্যাম।
তহিঁ শোভে মোহন মুরলি অনুপাম॥
নখমণি বিধু জিনি তলহি সুরঙ্গ।
মণিআভরণ তাহে মুরছে অনঙ্গ॥
তদধহি করহি কমণ্ডলু দণ্ড।
যাহে কলিকল্মষ পাষণ্ড খণ্ড॥
গিম সঞে উরে মণি মোতি বিলোল।
শ্রীবত্সাঙ্কিত কৌস্তুভ দোল॥
মলয়জময় উর পরিসর পীন।
নাভি গভির কটি কেশরি খীণ॥
বসন সুরঙ্গ চরণ পরিযন্ত।
পদনখ নীছনি দাস অনন্ত॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কাঁচা সে সোণার তনু ডগমগি অঙ্গ।
চাঁদবদনে হাসি অমিয়াতরঙ্গ॥
অবনিবিলম্বিত বনি বনমাল।
সৌরভে বেঢ়ল মধুকর জাল॥
উভ ভূজদ্বয় পর খর শর চাপ।
হেরইতে রিপুগণ থরহরি কাঁপ॥
দুর্ব্বাদলতুল কিবা নখবিধু সাজ।
মণিময় কঙ্কণ বলয় বিরাজ॥
তদধহি দুহুঁ কর জলধরশ্যাম।
তহিঁ শোভে মোহন মুরলি অনুপাম॥
নখমণি বিধু জিনি তলহি সুরঙ্গ।
মণিআভরণ তাহে মুরছে অনঙ্গ॥
তদধহি করহি কমণ্ডলু দণ্ড।
যাহে কলিকল্মষ পাষণ্ড খণ্ড॥
গিম সঞে উরে মণি মোতি বিলোল।
শ্রীবত্সাঙ্কিত কৌস্তুভ দোল॥
মলয়জময় উর পরিসর পীন।
নাভি গভির কটি কেশরি-খীণ॥
বসন সুরঙ্গ চরণ পরিষন্ত।
পদনখ নীছনি দাস অনন্ত॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
আপাদ মস্তক প্রেম ধারা বরিখত
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরচন্দ্র---
প্রকারান্তর, ২২০৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

আপাদ-মস্তক                 প্রেম-ধারা বরিখত
চৌদিগে ঝলকত কিরণে।
মত্ত গজেন্দ্র জিনি                  গমন সুলাবণি
চাঁদ উদয় করু চরণে॥
কেমন বিধাতা সে             গৌরাঙ্গ-চাঁদের দে
গঢ়িল আপন তনু দঢ়িয়া।
কেমন কেমন তার               কাষ্ঠ-পাষাণ-হিয়া
তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥
আমার গৌরাঙ্গের গুণে         দারু পাষাণ কিবা
গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী।
অরণ্যের মৃগ পাখী          ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে
নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণী॥
যেমন তেমন কুলে               জনম হউক মোর
যেমন তেমন দেহ পাইয়া।
অনন্ত দাসের মন             ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ
দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩১৬-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ মঙ্গল॥

আপাদ-মস্তক                 প্রেম-ধারা বরিখত
চৌদিগে ঝলকত কিরণে।
মত্ত গজেন্দ্র জিনি                  গমন সুলাবণি
চাঁদ উদয় করু চরণে॥
কেমন বিধাতা সে             গৌরাঙ্গ-চাঁদের দে
গঢ়িল আপন তনু ধরিয়া।
কেমনে কেমনে তার             কাষ্ঠ-পাষাণ-হিয়া
তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥
আমার গৌরাঙ্গের গুণে         দারু পাষাণ কিবা
গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী।
অরণ্যের মৃগ পাখী          ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে
নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণী॥
যেমন তেমন কুলে               জনম হউক মোর
যেমন তেমন দেহ পাইয়া।
অনন্ত দাসের মন             ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ
দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ২৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল রাগ॥

আপাদ মস্তক প্রেম-                ধারা বরিষত
চৌদিকো ঝলকত কিরণে।
মত্ত গজেন্দ্র জিনি                  গমন সুনাচনী
চাঁদ উদয় করু চরণে॥
কেমন বিধাতা সে,             গৌরাঙ্গ চাঁদের দে
গড়িলে আপন তনু দড়িয়া।
কেমন কেমন তার,              কাষ্ঠ পাষাণ হিয়া
তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥
আমার গৌরাঙ্গের গুণে,         দারু পাষাণ কিবা
গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী।
অরণ্যের মৃগ পাখী,          ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে
নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণি॥
যেমন তেমন কুলে              জনম হউক মোর
যেমন তেমন দেহ পাইয়া।
অনন্ত দাসের মন,             ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ
দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মঙ্গল॥

আপাদ-মস্তক                  প্রেমধারা বরিখত
চৌদিগে ঝলকত কিরণে।
মত্ত গজেন্দ্র জিনি                  গমন সুলাবণি
চাঁদ উদয় করু চরণে॥
কেমন বিধাতা সে             গৌরাঙ্গ চাঁদেরে যে
গড়িল আপন তনু ধরিয়া।
কেমন কেমন তার               কাষ্ঠ পাষাণ হিয়া
তখনি না গেল কেন গলিয়া॥
আমার গৌরাঙ্গের গুণে         দারু পাষাণ কিবা
গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী।
অরণ্যের মৃগ পাখী          ঝুরিয়া ঝুরিয়া কাঁদে
নাহি কাঁদে হেন নাহি পরাণী॥
যেমন তেমন কুলে               জনম হউক মোর
যেমন তেমন দেহ পাঞা।
অনন্ত দাসের মন             ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ
দেশে দেশে ফিরি যেন গাঞা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র

আপাদমস্তক                 প্রেমধারা বরিখত
চৌদিগে ঝলকত কিরণে।
মত্ত গজেন্দ্র জিনি                  গমন সুলাবণি
চাঁদ উদয় করু চরণে॥
কেমন বিধাতা সে             গৌরাঙ্গ-চাঁদের দে
গঢ়িল আপন তনু দঢ়িয়া।
কেমন কেমন তার               কাষ্ঠপাষাণহিয়া
তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥
আমার গৌরাঙ্গের গুণে         দারু পাষাণ কিবা
গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী।
অরণ্যের মৃগ পাখী          ঝুরিয়া ঝুরিয়া কান্দে
নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণী॥
যেমন তেমন কুলে               জনম হউক মোর
যেমন তেমন দেহ পাইয়া।
অনন্ত দাসের মন             ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ
দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥ 
ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আপাদমস্তক প্রেমধারা বরিখত            
.        চৌদিগে ঝলকত কিরণে।
মত্ত গজেন্দ্র জিনি গমন সুলাবণি           
.        চাঁদ উদয় করু চরণে॥
কেমন বিধাতা সে গৌরাঙ্গ চাঁদের দে       
.        গঢ়িল আপন তনু দঢ়িয়া।
কেমন কেমন তার কাষ্ঠপাষাণহিয়া        
.                তখনি না গেল কেনে গলিয়া॥
আমার গৌরাঙ্গের গুণে দারু পাষাণ        
.                কিবা গলিয়া গলিয়া পড়ে অবনী।
অরণ্যের মৃগ পাখী ঝুরিয়া ঝুরিয়া          
.                কান্দে নাহি কান্দে হেন নাহি পরাণী॥
যেমন তেমন কুলে জনম হউক মোর       
.        যেমন তেমন দেহ পাইয়া।
অনন্ত দাসের মন ঠাকুর গৌরাঙ্গের গুণ    
.                দেশে দেশে ফিরি যেন গাইয়া॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২৩শ পল্লব, শ্রীচৈতন্য-
নিত্যানন্দের রূপ-গুণ-বর্ণন, ২৩৩৬-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি কোনও পাঠান্তর
ছাড়াই হুবহু এক রূপে উনবিংশ শতকে প্রকাশিত নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পদাবলী সংকলনে
রয়েছে।

॥ কামোদ॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই।
অখিল জীবের ভাগ্যে       অবনী বিহরে গো
পতিত-পাবন দোন ভাই॥
যারে দেখে তার ঠামে  যাচিয়া বিলায় প্রেমে
উত্তম অধম নাহি মানে।
এ তিন ভুবনের লোক নাহি জরা মৃত্যু শোক
প্রেম-অমৃত করি পানে॥
কলপ-বিরিখি সিন্ধু        না যাচয়ে এক বিন্দু
ছি ছি কিয়ে তাহাতে উপমা।
পতিত দেখিয়া কান্দে দোহেঁ  থির নাহি বান্ধে
যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥
এমন দয়াল দুহুঁ           যে না ভজে হেন পহু
সে ছারের জীবনে কি আশ।
ন্যাসী বিপ্র হইলে হ            অসুরে গণন সেহ
অনন্ত দাসের এই ভাষ॥

ই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”,
১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস, ২৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ বা কামোদ॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই।
অখিল-জীবের ভাগ্যে       অবনী বিহরে গো
পতিতপাবন দোন ভাই॥
যারে দেখে তার ঠামে     যাচিঞা বিলায় প্রেমে
উত্তম অধম নাহি মানে।
এ তিন ভুবনের লোক    নাহি জরা মৃত্যু শোক
প্রেম-অমৃত করি পানে॥
কলপ-বিরিক্ষি সিন্ধু          না যাচয়ে এক বিন্দু
ছিছি কিয়ে তাহাতে উপমা।
পতিত দেখিয়া কাঁদে        দেহ থির নাহি বাঁধে
যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥
এমন দয়াল দুহুঁ             যে না ভজে হেন পঁহু
সে ছারের জীবনে কি আশ।
সন্ন্যাসী বিপ্র হইলে ইহ            অসুর গণন সেহ
অনন্তদাসের এই ভাষ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গ ও নিত্যানন্দ

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই।
অখিল জীবের ভাগ্যে       অবনী বিহরে গো
পতিতপাবন দোন ভাই॥
যারে দেখে তার ঠামে  যাচিয়া বিলায় প্রেমে
উত্তম অধম নাহি মানে।
এ তিন ভুবনের লোক   নাহি জরা মৃত্যু শোক
প্রেমঅমৃত করি পানে॥
কলপ বিরিখি সিন্ধু        না যাচয়ে এক বিন্দু
ছি ছি কিয়ে তাহাতে উপমা।
পতিত দেখিয়া কান্দে   দোহেঁ  থির নাহি বান্ধে
যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥
এমন দয়াল দুহুঁ           যে না ভজে হেন পহু
সে ছারের জীবনে কি আশ।
ন্যাসী বিপ্র হইলেহ            অসুরে গণন সেহ
অনন্ত দাসের এই ভাষ॥

ই পদটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের গুণ বর্ণন
॥ কামোদ - মধ্যম দশকুশী॥

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই।
অখিল জীবের ভাগ্যে       অবনী বিহরে গো
পতিত-পাবন দোন ভাই॥
যারে দেখে তার ঠামে  যাচিয়া বিলায় প্রেমে
উত্তম অধম নাহি মানে।
এ তিন ভুবনের লোক নাহি জরা-মৃত্যু শোক
প্রেম অমৃত করি পানে॥
কলপ বিরিখি সিন্ধু        না যাচয়ে একবিন্দু
ছি ছি কিয়ে তাহাতে উপমা।
পতিত দেখিয়া কান্দে দোহেঁ  থির নাহি বান্ধে
যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥
এমন দয়াল দুহুঁ           যে না ভজে হেন পহু
সে ছারের জীবনে কি আশ।
ন্যাসী বিপ্র হইলেহ            অসুরে গণন সেহ
অনন্ত দাসের এই ভাষ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দেখ দেখ অপরূপ গৌরাঙ্গ নিতাই।        
.                অখিল জীবের ভাগ্যে অবনী বিহরে গো
পতিতপাবন দোন ভাই॥                
যারে দেখে তার ঠামে  যাচিয়া বিলায়      
.                প্রেমে উত্তম অধম নাহি মানে।
এ তিন ভুবনের লোক নাহি জরা মৃত্যু      
.                শোক প্রেমঅমৃত করি পানে॥
কলপ বিরিখি সিন্ধু না যাচয়ে এক বিন্দু      
.                ছি ছি কিয়ে তাহাতে উপমা।
পতিত দেখিয়া কান্দে দোহেঁ থির নাহি       
.                বান্ধে যাচয়ে অমূল্য ভক্তি প্রেমা॥
এমন দয়াল দুহুঁ যে না ভজে হেন পহু        
.                সে ছারের জীবনে কি আশ।
ন্যাসী বিপ্র হইলেহ অসুরে গণন সেহ         
.                অনন্ত দাসের এই ভাষ॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ব্রজ কুল কুমুদ সুধাকর নাগর
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থ খণ্ড,
৪র্থ শাখা,২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব, শ্রীকৃষ্ণের রূপ, ২৪৪১-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ব্রজ-কুল-কুমুদ-সুধাকর নাগর।
নাগরি-পিরিতি-মুরতিময় সাগর॥
জয় জয় গোকুল-বল্লভ শ্যামর।
ভাবিনি-ভাব-বিভাবিত-অন্তর॥
কান্তি-করম্বিত জিত-নব-জলধর।
চূড়হি চূড় শিখণ্ড-খণ্ড-বর॥
ঢর ঢর লোচন নীল-কমল-দল।
কত কোটি অরুণ জিতল কর-পদ-তল॥
কাঞ্চন-রুচি-রুচি ধৃত পিতাম্বর।
হৃদয়ে ধরল নখ-রেখ-সুধাকর॥
তহিঁ মণি-রাজ রোম-রাজি-ভুজগবর।
মোতি-মাল সহ নাভি-সরোবর॥
খিণ কটি-তট পট কাঞ্চি-মনোহর।
জানু জিতল কিয়ে রাম-কদলি-বর॥
চরণ-নখর-মণি-মুকুর-নিকর-হর।
দাস অনন্ত-চিতে নিতি নিতি জাগর॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ১৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ যথা রাগ॥

ব্রজ-কুল-কুমুদ-সুধাকর নাগর।
নাগর-পিরীতি-মূরতিময়-সাগর॥

জয় জয় গোকুল-বল্লভ শ্যামর।
ভাবিনী-ভাব-বিভাবিত-অন্তর॥

কান্তি-করম্বিত জিত-নব-জলধর।
চূড়হি চূড় শিখণ্ড-খণ্ড-বর॥

ঢর ঢর লোচন নীল-কমল-দল।
কত কোটি অরুণ জিতল কর-পদ-তল॥

কাঞ্চন-রুচি রুচি ধৃত-পিতাম্বর।
হৃদয়ে ধরল নখ-রেহ-সুধাকর॥

তহিঁ মণি-রাজ রোম-রাজি-ভুজগবর।
মোতি-মাল সহ নাভি-সরোবর॥

ক্ষীণ কটি-তট পট কাঞ্চী-মনোহর।
জনু জিতল কিয়ে রাম-কদলীবর॥

চরণ-নখর-মণি-মুকুর-নিকর-হর।
দাস-অনন্ত-চিতে নিতি নিতি জাগর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের রূপ
॥ তথা রাগ॥

ব্রজকুল কুমুদ সুধাকর নাগর।
নাগরি পিরিতি মুরতিময় সাগর॥
জয় জয় গোকুল বল্লভ শ্যামর।
ভাবিনি ভাব বিভাবিত অন্তর॥
কান্তিকরম্বিত জিতনবজলধর।
চূড়হি চারু শিখণ্ডখণ্ডধর॥
লোচন নীলকমলদল ঢর ঢর।
কত কোটি অরুণ জিতল পদতল কর॥
কাঞ্চন রুচি রুচি ধৃত পিতাম্বর।
হৃদয়ে ধরল নখরেখসুধাকর॥
তহিঁ মণিরাজ রোমরাজি ভুজগেশ্বর।
মোতিম মাল সহ নাভিসরোবর॥
খিন কটিতট পট কাঞ্চি মনোহর।
জানু জিতল কিয়ে রামকদলি-বর॥
চরণ নখর মণি মুকুর নিকর হর।
দাস অনন্তচিতে নিতি নিতি জাগর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ব্রজকুল কুমুদ সুধাকর নাগর।
নাগরি পিরিতি মুরতিময় সাগর॥
জয় জয় গোকুল বল্লভ শ্যামর।
ভাবিনি ভাব বিভাবিত অন্তর॥
কান্তিকরম্বিত জিতনবজলধর।
চূড়হি চারু শিখণ্ডখণ্ডধর॥
লোচন নীলকমলদল ঢর ঢর।
কত কোটি অরুণ জিতল পদতল কর॥
কাঞ্চন রুচি রুচি ধৃত পিতাম্বর।
হৃদয়ে ধরল নখরেখসুধাকর॥
তহিঁ মণিরাজ রোমরাজি ভুজগেশ্বর।
মোতিম মাল সহ নাভিসরোবর॥
খিন কটিতট পট কাঞ্চি মনোহর।
জানু জিতল কিয়ে রামকদলি-বর॥
চরণ নখর মণি মুকুর নিকর হর।
দাস অনন্তচিতে নিতি নিতি জাগর॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ধনি কনক কেশর কাঁতি
ধান কনক কেশর কাঁতি
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ৪৬২ গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়”, ৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

ধনি কনক কেশর কাঁতি।    বনি বদন বিধুর ভাঁতি॥
জিনি নীল নলিন বাস।    কিয়ে অমিয়া মধুর হাস॥
কিবা চিকণ কবরিভার।    হিয়ে লম্বিত মণিহার॥
কুচ কনক দাড়িম শোহে।    মনমোহন মন মোহে॥
ভুজ হেম মৃণাল জিনি।    তাহে নীল বলয়া মণি॥
নখ শরদ পূণিম চাঁদ।    তল হেরি অরুণ কাঁদ।
কটী কেশরী জিনি খীণ।    তিন রেখ ত্রিবলি ভীন॥
থল পঙ্কজ পদতল।    মণিমঞ্জীর ঝলমল॥
হেরি তাহি অনন্তদাস।    করু সেবন-অভিলাষ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থ খণ্ড,
৪র্থ শাখা,২য় ভাগ, ২৯শ পল্লব, শ্রীরাধার রূপ, ২৪৬৯-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ধনি কনক-কেশর-কাঁতি।
বনি বদন-বিধুক ভাঁতি॥
জিনি নীল-নলিন বাস।
কিয়ে অমিয়া-মধুর ভাষ॥
তাহে চিকুরে কবরি-ভার।
হিয়ে লম্বিত মণিক হার॥
কুচ কনক-দাড়িম শোহ।
মন-মোহন-মন মোহ॥
ভুজ হেম-মৃণাল জিনি।
তাহে নীল বলয়া মণি॥
নখ শরদ-পূর্ণিমা-চাঁদ।
তনু হেরি অরুণ কান্দ।
কটি কেশরি জিনি খীণ।
তিন রেখ ত্রিবলি ভীন॥
স্থল-পঙ্কজ পদ-তল।
মণি-মঞ্জির ঝলমল॥
হেরি তাহে অনন্ত দাস।
কর সেবন অভিলাষ॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১১৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। গাঁড়াদহের পুথির পদ।

শ্রীকৃষ্ণের পূর্ব্ব-রাগ
॥ ধানশী॥

ধনি কনক-কেশর-কাঁতি।
ধনি বদন-বিধুক ভাঁতি॥
জিনি নীল-নলিন বাস।
কিয়ে অমিয়-মধুর ভাষ॥
তহিঁ চিকুর-কবরি-ভার।
হিয়ে লম্বিত মোতিম হার॥
কুচ কনক-দাড়িম শোহ।
মন-মোহন মন মোহ॥
ভুজ হেম-মৃণাল জিনি।
তহিঁ নীল-বলয়-মণি॥
নখ শরদ-পুণিম-চান্দ।
তল হেরি অরুণ কান্দ॥
কটি কেশরি জিনি খীণ।
তিন রেখা ত্রিবলি-চীন॥
থল-পঙ্কজ পদ-তল।
মণি-মঞ্জীর ঝলমল॥
তাহে হেরি অনন্ত-দাস।
করু সেবন অভিলাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ২৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

ধনি কনক-কেশর-কাঁতি।
বনি বদন-বিধুক ভাতি॥
জিনি নীল-নলিন বাস।
কিয়ে অমিয়া-মধুর ভাষ॥
তাহে চিকুর-কবরী-ভার।
হিয়ে লম্বিত মণি-হার॥
ভুজ হোম মৃণাল জিনি।
তাহে নীল বলয়া মণি॥
নখ শরদ-পূর্ণিমা-চাঁদ।
তনু হেরি অরুণ কান্দ।
কটি কেশরি জিনি ক্ষীণ।
তিন রেখ ত্রিবলী ভিন॥
থল-পঙ্কজ পদ-তল।
মণি-মঞ্জীর ঝলমল॥
হেরি তাহি অনন্ত দাস।
করু সেবন অভিলাষ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার রূপ
॥ তথা রাগ॥

ধনি কনক কেশর কাঁতি।
বনি বদন বিধুক ভাঁতি॥
জিনি নীল নলিন বাস।
কিয়ে অমিয়া মধুর ভাষ॥
তাহে চিকুরে কবরিভার।
হিয়ে লম্বিত মণিক হার॥
কুচ কনক দাড়িম শোহ।
মন মোহন মন মোহ॥
ভুজ হেমমৃণাল জিনি।
তাহে নীল বলয়া মণি॥
নখ শরদ পূর্ণিমা চাঁদ।
তনু হেরিয়া অরুণ কান্দ।
কটি কেশরি জিনিয়া খীণ।
তিন রেখ ত্রিবলি ভীন॥
স্থূলপঙ্কজ পদতল।
মণিমঞ্জির ঝলমল॥
হেরি তাহে অনন্ত দাস।
করু সেবন অভিলাষ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের
পদাবলী”, ৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ধনি কনক-কেশর-কাঁতি।
বনি বদন-বিধুক ভাঁতি॥
জিনি নীল-নলিন বাস।
কিয়ে অমিয়া-মধুর ভাষ॥
তাহে চিকুরে কবরি-ভার।
হিয়ে লম্বিত মাণিক হার॥
কুচ কনক-দাড়িম শোহ।
মন-মোহন-মন মোহ॥
ভুজ হেম-মৃণাল জিনি।
তাহে নীল বলয়া মণি॥
নখ শরদ-পূর্ণিমা-চাঁদ।
তনু হেরি অরুণ কান্দ।
কটি কেশরি জিনি খীণ।
তিন রেখ ত্রিবলি ভীন॥
স্থল-পঙ্কজ পদ-তল।
মণি-মঞ্জির ঝলমল॥
হেরি তাহে অনন্তদাস।
কর সেবন অভিলাষ॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ধনি কনক-কেশর-কাঁতি।
বনি বদন-বিধুক ভাঁতি॥
জিনি নীল-নলিন বাস।
কিয়ে অমিয়া-মধুর ভাষ॥
তাহে চিকুরে কবরি-ভার।
হিয়ে লম্বিত মাণিক হার॥
কুচ কনক-দাড়িম শোহ।
মন-মোহন-মন মোহ॥
ভুজ হেম-মৃণাল জিনি।
তাহে নীল বলয়া মণি॥
নখ শরদ-পূর্ণিমা-চাঁদ।
তনু হেরি অরুণ কান্দ।
কটি কেশরি জিনি খীণ।
তিন রেখ ত্রিবলি ভীন॥
স্থল-পঙ্কজ পদ-তল।
মণি-মঞ্জির ঝলমল॥
হেরি তাহে অনন্তদাস।
কর সেবন অভিলাষ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

ধান১ কনক কেশর কাঁতি।
বনি বদন বিধুক ভাঁতি॥
জিনি নীল নলিন বাস।
কিয়ে অমিয়া মধুর ভাষ॥
তাহে চিকুরে কবরিভার।
হিয়ে লম্বিত মণিক হার॥
কুচ কনক দাড়িম শোহ।
মন মোহন মন মোহ॥
ভুজ হেমমৃণাল জিনি।
তাহে নীল বলয়া মণি॥
নখ শরদ পূর্ণিমা চাঁদ।
তনু হেরিয়া অরুণ কান্দ।
কটি কেশরি জিনিয়া খীণ।
তিন রেখ ত্রিবলি ভীন॥
স্থূলপঙ্কজ পদতল।
মণিমঞ্জির ঝলমল॥
হেরি তাহে অনন্ত দাস।
করু সেবন অভিলাষ॥

১। "ধান" - সম্ভবত "ধনি" হবে, কারণ অন্য সব প্রকাশনায় ধনি দেথা যাচ্ছে। তবুও আমরা
যা দেখেছি তাই এখানে তুলে দিলাম।

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর