অনন্ত দাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
বিকচ সরোজ ভান মুখ মণ্ডল
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ৪৬২
গৌরাব্দে (১৯৪৯), হরিদাস দাস দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীগীতচন্দ্রোদয়”, ৬-পৃষ্ঠায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলাবেলী॥

বিকচ সরোজ    ভান মুখমণ্ডল    দিঠি ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরী    হাস উগারই    পিবি আনন্দে আঁখি পড়ল বিভোর॥
বরণি না হোয় রূপ বরণ-চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ    কিয়ে কুবলয়দল    কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥ ধ্রু॥
অঙ্গদ বলয়    হার মণি কুণ্ডল    চরণে নুপূর কটি কিঙ্কিণী-কলনা।
অভরণ বরণ    কিরণ কিয়ে ঢরঢর    কালিন্দীজলে যৈছে চাঁদকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ    খচিত কুসুমাবলি    তছুপর শোহে শিখিচান্দ কি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ    অপরূপ লাবণি    সকল যুবতি-মন পঢ়ল হি ফান্দে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ১ম পল্লব, রূপাভিসার,
২৬৮-পদসংখ্যায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটির সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে সাজানো রূপ, নীচে দেওয়া,
“বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া” শিরোনামের পদটি। ঐ পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও দেওয়া
হয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

বিকচ সরোজ                        ভান মুখ-মণ্ডল
দিঠি-ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরি                        হাস উগারই
পী পী আনন্দে আঁখি পড়লহি ভোর॥
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ                        কিয়ে কুবলয়দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনিলমণিয়া॥ ধ্রু॥
অঙ্গদ বলয়                           হার মণি-কুণ্ডল
চরণে নুপুর কটি কিঙ্কিনি-কলনা।
অভরণ-বরণ-                   কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর
কালিন্দি-জলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                         বেশ কুসুমাবলি
শির পর শোভে শিখি-চান্দকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                        অপরূপ লাবণি
সকল যুবতি-মন পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩৪ বঙ্গাব্দের (১৯২৭ সাল), ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা,২য় ভাগ, ২৮শ পল্লব,
শ্রীকৃষ্ণের রূপ, ২৪৪৩-পদসংখ্যায় দ্বিতীয়বার এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

বিকচ সরোজ-ভান মুখ-মণ্ডল
.       দিঠি ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু-মাধুরি হাস উগারই
.       পী পী আনন্দে আঁখি পড়লহি ভোর॥
.       বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘন-পুঞ্জ কিয়ে কুবলয়-দল
.        কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনিল মণিয়া॥ ধ্রু॥
অঙ্গদ বলয় হার মণি-কুণ্ডল
.        চরণে নূপুর কটি কিঙ্কিণি কলনা।
অভরণ-বরণ-কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর
.        কালিন্দি-জলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ বেশ কুসুমাবলি
.        শির পর শোভে শিখি-চান্দকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহু অপরূপ লাবণি
.        সকল যুবতি-মন পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি ১৮০৭ সালে প্রকাশিত, কমলাকান্ত দাস সংকলিত “পদরত্নাকর” পুথির ২|৩৫-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বেলোয়ার॥

বিকচ সরোজ                        ভান মুখ-মণ্ডল
দিঠি-ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরি                        হাস উগারই
পী পী আনন্দে আঁখি পড়লহি ভোর॥
বরণি হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ                        কিয়ে কুবলয়দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনিলমণিয়া॥ ধ্রু॥
অঙ্গদ বলয়                           হার মণি-কুণ্ডল
চরণে নুপুর কটি কিঙ্কিনি-কলনা।
অভরণ-বরণ-                  কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর
কালিন্দি-জলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                        বেশ কুসুমাবলি
শির পর শোভে শিখি-চান্দকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                        অপরূপ লাবণি
সকল যুবতি-মন পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৩২৮-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বেলোয়ার॥

বিকচ সরোজ                     ভান মুখ-মণ্ডল
দিঠি-ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরি                     হাস উগারই
পি পি আনন্দে আঁখি পড়ল বিভোর॥
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ                     কিয়ে কুবলয়দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনিলমণিয়া॥ ধ্রু॥
অঙ্গদ বলয়া                        হার মণি-কুণ্ডল
কলয়া (কনয়া?) নুপুর কটি কিঙ্কিনি-কলনা।
অভরণ-বরণ-                        --- -- ঝলকই
কালিন্দি-তীরে যৈছে চান্দে কিছু চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                         ভালে রঞ্জিত
মত্ত মউর শিখি পুচ্ছকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                   জুবতিক লোচন
চূড়া নিরখিতে পড়লহি ফান্দে॥

ই পদটি দ্বিজ মাধব সংকলিত, উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, বিশ্বভারতীর গ্রন্থশালার
“শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলআর॥

বিকজ সরোজ    ভানুমুখমণ্ডল    দিঠে ভঙ্গিম নট খঞ্জনে জোড়।
কি এ মৃদুমাধুরি    হাস উগারই    পি পি আনন্দে আঁখি পড়ল বিভোর॥
বরণি না হোএ রূপ বরণ চিকণিয়া।
কি এ ঘন পুঞ্জ    কি এ কুবলয় দলন    কি এ কাজর কি এ ইন্দ্রনীল মণিঞা॥
অঙ্গদ বলয়া    হার মণিকুণ্ডল    চরণ নূপুর কটি কিঙ্কিনী কণা।
আভরণ বরণ    কিরণ অঙ্গ ঢরঢর    কালিন্দী জলে জৈছে চান্দ কি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ    বেশ কুসুমাবলি    শিরোপরি শোভে শিখি চান্দ কি ছান্দে।
অনন্তদাসের পহু    অপরূপ লাবনি    সকল যুবতীমন পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়াল॥

বিকচ সরোজ ভানু মুখ মণ্ডল দিঠি ভঙ্গিম
নট খঞ্জন জোর। কিয়ে মধুরিম মৃদু হাস উগারই পিপি
আনন্দে আঁখি পড়ল বিভোর॥ বরণি না হো@ রূপ বরণ
চিকণিয়া। কিয়ে ঘনপুঞ্জ কিয়ে কুবলয় দল কিয়ে কাজর
কিয়ে ইন্দ্র নীলমণিয়া॥ ধ্রু॥ অঙ্গদ বলয় হার মণি কুণ্ডল
কনক নুপুর কটি কিঙ্কিণী কলনা। অভরণ বরণ কিরণ কিয়ে
চরব কালিন্দী জলে যৈছে চাঁদকি ছলনা॥ চাঁচর কেশ
কেশর কুন্তলাবলী মদশিখী পুছক চাঁদে। অনন্ত দাস কহে
যুবতীক লোচন চূড়া হেয়ইতে পড়লহু ফাঁদে॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১১৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বেলোয়াল॥

বিকচ সরোজ ভান, মুখমণ্ডল দিঠি ভঙ্গিম, নট খঞ্জন জোর। কিয়ে
মধুরিম, হাস উগারই, পি পি আনন্দে আঁখি পড়ল বিভোর॥ বরণি না
হোয়ে রূপ-বরণ চিকণিয়া। কিয়ে ঘনপুঞ্জ, কিয়ে কুবলয়দল, কিয়ে
কাজর, কি যে ইন্দ্রনীল-মণিয়া॥ ধ্রু॥ অঙ্গদ বলয় হার, মণিকুণ্ডল, কনক-
নুপুর, কটিকিঙ্কিনী কলনা। আভরণ বরণ কিরণ কিয়ে, ঢর ঢর কালিন্দি-
জলে বৈছে চাঁদ কি ছলনা॥ চাঁচর কেশ, কুসুমাবলী মদসিখি পুচ্ছক চাঁদে।
অনন্ত দাস কহে, যুবতিক লোচনচূড়া, হেরইতে পড়লহু ফাঁদে॥

ই পদটি ১৯০৫ সালে প্রকাশিত, দুর্গাদাস লাহিড়ী সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-পদলহরী”,
৪৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

বিকচ সরোজ                            ভান মুখ মণ্ডল
দিঠি ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরী                           হাস উগারই
পিই পিই আনন্দে আঁখি পড়লহি বিভোর॥
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘন পুঞ্জ                          কিয়ে কুবলয়দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥
অঙ্গদ বলয়া                            হার মণি-কুণ্ডল
চরণে নূপুর কটী কিঙ্কিণী কলনা।
আভরণ বরণে                             অঙ্গ ঢর ঢর
কালিন্দীজলে যৈছে চাঁন্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                             বেশ কুসুমাবলী
শোভে মদনশিখী চাঁন্দকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                           অপরূপ লাবণী
সকল যুবতী-মন পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ১৪৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধিকার পূর্ব্বরাগ
॥ বেলোয়ার - বড় দশকুশী॥

বিকচ সরোজ                         ভাণ মুখমণ্ডল
দিঠি ভঙ্গিম নট-খঞ্জন জোড়।
কিয়ে মৃদু মাধুরী                        হাস উগারই
পি পি আনন্দে আঁখি পড়ল বিভোর॥
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ                        কিয়ে কুবলয়দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥ ধ্রু॥
অঙ্গদ বলয়া                            হার মণি-কুণ্ডল
চরণে নূপুর কটী কিঙ্কিণী কলনা।
অভরণ বরণ                     কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর
কালিন্দী-জলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                          খচিত কুসুমাবলী
মত্ত ময়ূর শিখি পুচ্ছকি ছাদে।
অনন্তদাস কহে                         যুবতীক লোচন
চূড়া নিরখিতে পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

বিকচ সরোজ                        ভাণ মুখ মণ্ডল,
দিঠি ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরী                        হাস উগারই
পিই পিই আনন্দে আঁখি পড়ল বিভোর॥
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ                        কিয়ে কুবলয় দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্র নীল মণিয়া॥ ধ্রু॥
অঙ্গদ বলয়া                           হার মণি কুন্তল
চরণে নুপুর কটি কিঙ্কিণী কলনা।
অভরণ বরণ                   কিরণ কিয়ে ঢর ঢর
কালিন্দী জলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ,                        খচিত কুসুমাবলি
তছু পর শোভে শিখি চাঁদকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                        অপরূপ লাবণি
সকল যুবতি মন পড়লহি ফান্দে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৭৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

বিকচ সরোজ                         ভাণ মুখ-মণ্ডল
দিঠি-ভঙ্গিম নট-খঞ্জন-জোর।
কিয়ে মৃদু মধুরিম                        হাস উগারই
পিয়ি পিয়ি আনন্দে আঁখি পড়লহি ভোর॥
বরণি না হোয়ে রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘন-পুঞ্জ                        কিয়ে কুবলয়-দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্র-নীল-মণিয়া॥
অঙ্গদ বলয়                            হার মণি-কুণ্ডল
কনক নূপুর কটি-কিঙ্কিণী কলনা।
আভরণ বরণ                     কিরণ কিয়ে ঢর ঢর
কালিন্দী-জলে যৈছে চাঁদকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                          খচিত কুসুমাবলী
তছু পর শোভে শিখি-চাঁদ কি ছান্দে।
অনন্তদাস-পহুঁ                             অপরূপ লাবণি
সকল যুবতি-মন পড়লহুঁ ফান্দে॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
১৮৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলোয়াড় - বড় দশকুশী॥

বিকচ সরোজ                        ভাণ মুখ-মণ্ডল
দিঠি-ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরি                        হাস উগারই
পি পি আনন্দে আঁখি পড়লহি ভোর॥
বরণি না হয়ে রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ                       কিয়ে কুবলয়দল
কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥
অঙ্গদ বলয়া                          হার মণি-কুণ্ডল
চরণে নূপুর কটি কিঙ্কিনি-কলনা।
আভরণ-বরণ-                  কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর
কালিন্দী-জলে যৈছে চাঁন্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                          বেশ কুসুমাবলী
তছু পর শোভে শিখি-চান্দকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                        অপরূপ লাবণি
সকল যুবতি-মন পড়লহুঁ ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন পাদাবলী”, ৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপ খণ্ড
॥ বেলোয়াড় - বড় দশকুশী॥

বিকচ সরোজ-                        ভাণ মুখমণ্ডল
দিঠি-ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরি                        হাস উগারই
পী পী আনন্দে আঁখি পড়লহি ভোর॥
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ                        কিয়ে কুবলয়দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥ ধ্রু॥
অঙ্গদ বলয়                        হার মণি-কুণ্ডল
চরণে নূপুর কটি কিঙ্কিনি-কলনা।
অভরণ-বরণ-                        কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর
কালিন্দি-জলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ,                        বেশ-কুসুমাবলি
শির পর শোভে শিখি-চান্দকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                        অপরূপ লাবণি
সকল যুবতী-মন পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের রূপ

বিকচ সরোজ                        ভাণ মুখমণ্ডল
দিঠি-ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোড়।
কিয়ে মৃদু মাধুরি                        হাস উগারই
পী পী আনন্দে আঁখি পড়লহি ভোর॥
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ                        কিয়ে কুবলয়দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥ ধ্রু॥
অঙ্গদ বলয়                          হার মণি-কুণ্ডল
চরণে নূপুর কটি কিঙ্কিনি-কলনা।
অভরণ-বরণ-                   কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর
কালিন্দি-জলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ,                        বেশ-কুসুমাবলি
শির পর শোভে শিখি-চাঁদকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                        অপরূপ লাবণি
সকল যুবতী-মন পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ৫২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিকচ-সরোজ-                        ভান মুখমণ্ডল
দিঠি ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোড়।
কিয়ে মৃদু মাধুরী                        হাস উগারই
পী পী আনন্দে আঁখি পড়লহি ভোর॥
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ                       কিয়ে কুবলয় দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া ॥
অঙ্গদ বলয়                            হার মণি কুণ্ডল
চরণে নূপুর কটি কিঙ্কিনি কলনা।
অভরণ-বরণ                     কিরণে অঙ্গ ঢরঢর
কালিন্দীজলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                          বেশ কুসুমাবলি
শির পর শোভে শিখিচান্দকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহু                        অপরূপ লাবণি
সকল যুবতি মন পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৬০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বিকচ সরোজ মুখমণ্ডল                
.                দিঠিভঙ্গিম নট খঞ্জন জোড়।
কিয়ে মৃদু মাধুরি হাস উগারই        
.                পী পী আনন্দে আঁখি পড়লহি ভোর॥
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘনপুঞ্জ কিয়ে কুবলয়দল       
.                কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥
অঙ্গদ বলয় হার মণি কুণ্ডল          
.                চরণে নূপুর কটি কিঙ্কিনি কলনা।
অভরণবরণ কিরণে অঙ্গ ঢর ঢর    
.                কালিন্দিজলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ বেশকুসুমাবলি         
.                শির পর শোভে শিখিচাঁদকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ অপরূপ লাবণি      
.                সকল যুবতীমন পড়ি গেও ফান্দে॥

ই পদটি ভিন্ন রূপে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, চতুর্থ ক্ষণদা - কৃষ্ণা চতুর্থী, ২৬-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে। এই পদটির সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে
সাজানো রূপ, উপরে দেওয়া, “বিকচ সরোজ-ভান মুখ-মণ্ডল” শিরোনামের পদটি। পদটিকে একটি স্বতন্ত্র
পদ হিসেবেও দেওয়া হয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘন-পুঞ্জ                    কিয়ে কুবলয়-দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥
বিকচ সরোজ-                       ভাণ মুখ-মণ্ডল
দিঠি-ভঙ্গিম নট-খঞ্জন-জোর।
কিয়ে মধুর মৃদু                        হাস উগারই
পিবি আনন্দে আঁখি পড়লহিঁ ভোর॥
অঙ্গদ বলয়                          হার মণিকুণ্ডল
কনক-নূপুর কটি-কিঙ্কিণী-বলনা।
অভরণ-বরণ                  কিরণ কিয়ে ঢর ঢর
কালিন্দী-জলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
সুকুঞ্চিত কেশ                      বেশ কুসুমাবলী
রাজিত মত্ত-শিখি-পুচ্ছকো ছাঁদে।
অনন্ত দাসের মন                যুবতীকো লোচন
চূড়া নিরখিতে পড়লহিঁ ফাঁদে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া
বরণি না হএ রূপ বরণ চিকণিয়া
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও বিরোচিত এবং
১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, চতুর্থ
ক্ষণদা - কৃষ্ণা চতুর্থী, ২৬-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে। এই পদটির সম্পূর্ণ ভিন্ন ভাবে সাজানো রূপ, উপরে
দেওয়া, “বিকচ সরোজ-ভান মুখ-মণ্ডল” শিরোনামের পদটি। পদটিকে একটি স্বতন্ত্র পদ হিসেবেও দেওয়া
হয়েছে।

॥ বেলোয়ার॥

বরণি না হয় রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘন-পুঞ্জ                    কিয়ে কুবলয়-দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥
বিকচ সরোজ-                      ভাণ মুখ-মণ্ডল
দিঠি-ভঙ্গিম নট-খঞ্জন-জোর।
কিয়ে মধুর মৃদু                        হাস উগারই
পিবি আনন্দে আঁখি পড়লহিঁ ভোর॥
অঙ্গদ বলয়                          হার মণিকুণ্ডল
কনক-নূপুর কটি-কিঙ্কিণী-বলনা।
অভরণ-বরণ                    কিরণ কিয়ে ঢর ঢর
কালিন্দী-জলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
সুকুঞ্চিত কেশ                       বেশ কুসুমাবলী
রাজিত মত্ত-শিখি-পুচ্ছকো ছাঁদে।
অনন্ত দাসের মন                    যুবতীকো লোচন
চূড়া নিরখিতে পড়লহিঁ ফাঁদে॥

ই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”,
৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বেলাবনী রাগ কন্দর্প তালৌ॥

বরণি না হএ রূপ বরণ চিকণিয়া। কিয়ে ঘন পুঞ্জ কিএ
কুবলয় দল কিয়ে কাজর কিএ ইন্দ্রনীল মণিয়া॥ ধ্রু॥
বিকচ সরোজভান মুখ মণ্ডল দিঠি ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিএ মৃদু মাধুরি হাস উগারই পিপি আনন্দে আঁখি পড়ল
বিভোর॥ অঙ্গদ বলয় হার মণিকুণ্ডল চরণনূপুর কটিকিঙ্কিনি
কলনা। অভরণ বরণ কিরণ কিএ ঢর ২ কালিন্দী জলে
যৈছে চান্দ কি চলনা॥ কুঞ্চিত কেশ কুসুমাবলী তছুপর
শোভে শিখি চান্দকি ছান্দে। অনন্তদাস পহুঁ অপরূপ লাবণি
সকল যুবতি মন ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “পাঁচশত বত্সরের পদাবলী”,
৮৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বরণি না হয়ে রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘন পুঞ্জ                        কিয়ে কুবলয় দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥
বিকচ সরোজ ভাণ                     মুখ মণ্ডল দিঠি
ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরি                           হাস উগারই
পি পি আনন্দে আঁখি পড়ল বিভোর॥
অঙ্গদ বলয় হার                        মণি কুণ্ডল চরণ
নূপুর কটি কঙ্কিনি কলনা।
অভরণ বরণ                        কিরণ কিয়ে ঢর ঢর
কালিন্দীজলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                         কুসুমাবলী তছু পর
শোভে শিখিচান্দকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                           অপরূপ লাবণি
সকল যুবতি মন ফান্দে॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”,
৩৫৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বরণি না হয়ে রূপ বরণ চিকণিয়া।
কিয়ে ঘন পুঞ্জ                       কিয়ে কুবলয় দল
কিয়ে কাজর কিয়ে ইন্দ্রনীলমণিয়া॥
বিকচ সরোজ ভাণ                    মুখ মণ্ডল দিঠি
ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর।
কিয়ে মৃদু মাধুরি                          হাস উগারই
পি পি আনন্দে আঁখি পড়ল বিভোর॥
অঙ্গদ বলয় হার                       মণি কুণ্ডল চরণ
নূপুর কটি কঙ্কিনি কলনা।
অভরণ বরণ                      কিরণ কিয়ে ঢর ঢর
কালিন্দীজলে যৈছে চান্দকি চলনা॥
কুঞ্চিত কেশ                        কুসুমাবলী তছু পর
শোভে শিখিচান্দকি ছান্দে।
অনন্ত দাস পহুঁ                          অপরূপ লাবণি
সকল যুবতি মন ফান্দে॥

টীকা -
বিকচ সরোজ ভাণ - প্রস্ফুটিত কমলের মতন ভাণ বা দীপ্তি যাহার।
ভঙ্গিম নট খঞ্জন জোর - তাঁহার চোখ দুইটি যেন নৃত্যপারায়ণ খঞ্জনযুগল।
পি পি - পান করিয়া করিয়া।
কালিন্দীজলে যৈছে চান্দকি চলনা - কৃষ্ণের কৃষ্ণবর্ণ দেহের সঙ্গে কালিন্দীর কাল জলের এবং স্বর্ণ ও
মণিবিভূষিত অলঙ্কারের সঙ্গে চন্দ্রের উপমা।

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কি পেখলুঁ বরজ রাজ কুল নন্দন
কি পেখলুঁ বরজ রাজনন্দন
কি পেখলুঁ বরজ-কুলনন্দন
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ভিন্ন রূপে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, পঞ্চদশ ক্ষণদা - অমাবস্যা, ১১৪-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধাহ।
॥ সিন্ধুড়া॥

কি পেখলুঁ বরজ-                রাজ-কুল-নন্দন
রূপে রহল পরাণ।
নিরমিয়া রস-নিধি        আমারে না নিল বিধি
প্রতি অঙ্গে লাখ নয়ান॥
একে সে চিকণ তনু             কাঞ্চন অভরণ
কিরণহিঁ ভুবন উজোর।
দরশনে লোরে                 আগোরল লোচন
না চিনিনু কাল কি গোর॥
সহজে দৃগঞ্চল                     অরুণ-কঞ্জ-দল
তাহে কত ফুল-শর সাজে।
দিঠি মোর পরশিতে           ও হাসি অলখিতে
শেল রহল হৃদি মাঝে॥
সরস কপোল                    লোল মণি-কুণ্ডল
ঝাঁপল দিনকর-ভাস।
ও রূপ-লাবণি                দিঠি ভরি না পেখনু
দুখিয়া অনন্ত দাস॥

ই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও বিরচিত এবং
১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদামৃত সমুদ্র”
৭৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া রাগ জয়ন্ত তালৌ॥

কি পেখলুঁ বরজ রাজনন্দন রূপে হরল পরাণ। নিরমিয়া
রসনিধি আমারে না দিল বিধি প্রতি অঙ্গে অধিক নয়ান॥ ধ্রু॥
একে সে চিকন তনু কাঞ্চন অভরণ কিরণহি ভুবন উজোর।
দরশনে লোরে আগোরল লোচন না চিহ্ণিলুঁ কাল কি গোর॥
সহজে দৃগঞ্চল অরুণ কঞ্জদল তাহে কত ফুলশর সাজে।
এ রূপ বিলাস হাস নাহি পেখলু শেল রহল হৃদি মাঝে॥
সরস কপোল দোলত মণি কুণ্ডল ঝাঁপল দিন কর ভাস।
ও রূপ লাবণি দিঠি ভরি না পেখলু দুখিয়া অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কি পেখলু বরজ                  রাজকুল নন্দন
রূপে রহল পরাণ।
নিরমিয়া রসনিধি,        আমারে না নিল বিধি
প্রতি অঙ্গে অধিক নয়ান॥ ধ্রু,
একে সে চিকণ তনু             কাঞ্চন আভরণ
কিরণ হি ভুবন উজোর।
দরশনে লোরে                 আগোরল লোচন
না চিহ্নিনু কাল কি গোর॥
সহজে দৃগঞ্চল,                     অরুণ কঞ্জদল
তাহে কত ফুলশর সাজে।
ও রূপ বিলাস হাস,                   নাহি পেখলু
শেল রহল হৃদি মাঝে॥
সরস কপোল,                  দোলত মণি কুণ্ডল
ঝাঁপল দিনকর ভাস।
ও রূপ লাবণি,               দিঠি ভরি না পেখলু
দুখিয়া অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯১০ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ১ম খণ্ড, ৪৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ ধানশী - জপতাল॥

কি পেখলুঁ বরজ-                রাজকুল নন্দন
রূপে হরল পরাণ।
নিরমিয়া রসনিধি        আমারে না দিল বিধি
প্রতি অঙ্গে লাখ নয়ান॥
একে সে চিকণ তনু             কাঞ্চন অভরণ
কিরণ হি ভুবন উজোর।
দরশনে লোরে                আগোরল লোচন
না চিনিনু কাল কি গোর॥
সহজে দৃগঞ্চল                     অরুণ কঞ্জদল
তাহে কত ফুল-শর সাজে।
দিঠি মোর পরশিতে          ও হাসি অলখিতে
শেল রহল হৃদি মাঝে॥
সরস কপোল                   লোল মণি কুণ্ডল
ঝাঁপল দিনকর-ভাস।
ও রূপ লাবণি               দিঠি ভরি না পেখলুঁ
দুখিয়া অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৭৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

কি পেখলুঁ বরজ-                রাজ-কুল-নন্দন
রূপে হরল পরাণ।
নিরমিয়া রস-নিধি        আমারে না দিল বিধি
প্রতি অঙ্গে অধিক নয়ান॥
একে সে চিকণ তনু              কাঞ্চন-অভরণ
কিরণ হি ভুবন উজোর।
দরশনে লোরে                 আগোরল লোচন
না চিহ্নিলুঁ কাল কি গোর॥
সহজে দৃগঞ্চল                   অরুণ কঞ্জ-দল
তাহে কত ফুল-শর সাজে।
ও রূপ বিলাস                  হাস নাহি পেখলুঁ
শেল রহল হৃদি-মাঝে॥
সরস কপোল                 দোলত মণি-কুণ্ডল
ঝাঁপল দিনকর ভাস।
ও রূপ-লাবণি              দিঠি ভরি না পেখলুঁ
দুখিয়া অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১১৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথির পদ।

শ্রীরাধার পূর্বরাগ
॥ সিন্ধুড়া॥

কি পেখলুঁ                        বরজ-কুলনন্দন
রূপে রহল পরাণ।
নিরমিয়া রস-নিধি        আমারে না নিল বিধি
প্রতিঅঙ্গে অধিক নয়ান॥
একে সে চিকণ-তনু              কাঞ্চন-অভরণ
কিরণহিঁ ভুবন উজোর।
দরশনে লোচন                   লোরে অগোরল
না চিহ্নলুঁ কাল কি গোর॥
সহজ-দিগঞ্চল                      অরুণ-কঞ্জ-দল
তাহে কত ফুল-শর সাজে।
দিঠি মোর পরশিতে          ও হাসি অলখিতে
শেল রহল হৃদি মাঝে॥
সরস কপোল                    লোস মণি-কুণ্ডল
ঝাঁপল দিনকর-ভাস।
ও রূপ-লাবণি               দিঠি ভরি না পেখলুঁ
দুখিয়া অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ২৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার পূর্ব্বরাগ
॥ তথারাগ॥

কি পেখলুঁ বরজ-                 রাজকুলনন্দন
রূপে হরল পরাণ।
নিরমিয়া রসনিধি,        আমারে না দিল বিধি
প্রতি অঙ্গে লাখ নয়ান॥
একে সে চিকণ তনু,            কাঞ্চন আভরণ
কিরণহিঁ ভুবন উজোর।
দরশনে লোরে                আগোরল লোচন
না চিনিলুঁ কাল কি গোর॥
সহজে দৃগঞ্চল                     অরুণ কঞ্জদল
তাহে কত ফুল-শর সাজে।
দিঠি মোর পরশিতে         ও হাসি অলখিতে
শেল রহল হৃদি মাঝে॥
সরস কপোল                  লোল মণি কুণ্ডল
ঝাঁপল দিনকর ভাস।
ও রূপ লাবণি              দিঠি ভরি না দেখলুঁ
দুখিয়া অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯৫২ সালে প্রকাশিত, খগেন্দ্রনাথ মিত্র, সুকুমার সেন, বিশ্বপতি চৌধুরী ও শ্যামাপদ চৌধুরী
সম্পাদিত সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী (চয়ন)”, ৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পূর্ব্বরাগ ও অনুরাগ॥

কি পেখলু বরজ-                রাজ-কুলনন্দন
রূপে রহল পরাণ।
নিরমিয়া রসনিধি        আমারে না নিল বিধি
প্রতি অঙ্গে অধিক নয়ান॥
একে সে চিকণ তনু             কাঞ্চন-অভরণ
কিরণহি ভুবন উজোর।
দরশনে লোচন                  লোরে অগোরল
না চিহ্নলু কাল কি গোর॥
সহজে দৃগঞ্চল                     অরুণ কঞ্জ-দল
তাহে কত ফুল-শর সাজে।
দিঠি মোর পরশিতে          ও হাসি অলখিতে
শেল রহল হৃদি মাঝে॥
সরস কপোল                    লোল মণি-কুন্তল
ঝাঁপল দিনকর ভাস।
ও রূপ-লাবণি               দিঠি ভরি না পেখলু
দুখিয়া অনন্ত দাস॥

ই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি পেখলুঁ বরজ-                রাদকুলনন্দন
রূপে রহল পরাণ।
নিরমিয়া রসনিধি      আমারে না নিল বিধি
প্রতি অঙ্গে অধিক নয়ান॥
একে সে চিকণ তনু           কাঞ্চন আভরণ
কিরণহিঁ ভুবন উজোর।
দরশনে লোচন                  লোরে অগোরল
না চিহ্নলু কাল কি গোর॥
সহজে দৃগঞ্চল                   অরুণ কঞ্জ-দল
তাহে কত ফুল-শর সাজে।
দিঠি মোর পরশিতে         ও হাসি অলখিতে
শেল রহল হৃদি-মাঝে॥
সরস কপোল                   লোল মণি কুণ্ডল
ঝাঁপল দিনকর-ভাস।
ও রূপ-লাবণি               দিঠি ভরি না পেখলুঁ
দুখিয়া অনন্তদাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কি পেখলুঁ বরজ রাজকুলনন্দন                
.                রূপে হরল পরাণ।
নিরমিয়া রসনিধি আমারে না দিল বিধি      
.                প্রতি অঙ্গে লাখ নয়ান॥
একে সে চিকণ তনু কাঞ্চন আভরণ           
.                কিরণহিঁ ভুবন উজোর।
দরশনে লোরে আগোরল লোচন                 
.                না চিনিলুঁ কাল কি গোর॥
সহজে দৃগঞ্চল অরুণ কঞ্জদল                    
.                তাহে কত ফুল শর সাজে।
দিঠি মোর পরশিতে ও হাসি অলখিতে        
.                শেল রহল হৃদি মাঝে॥
সরস কপোল লোল মণি কুণ্ডল                 
.                ঝাঁপল দিনকর ভাস।
ও রূপ লাবণি দিঠি ভরি না দেখলুঁ             
.                দুখিয়া অনন্ত দাস॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
মাধব অবধি জানলুঁ এক-দিনে
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার”
সংকলনের পদ।

খণ্ডিতা
শ্রীরাধার উক্তি
॥ ধানশী॥

মাধব অবধি জানলুঁ এক-দিনে।
কপট-চাতুরি যত                    এবে ভেল পরতিত
পরতেখ রতি-রণ-চীনে॥ ধ্রু॥
অধরে দশন-দাগ                        মারণেহ অনুরাগ
মুদিত নয়ন এথা লাগি।
গুণ-বর-কামিনি                          তুয়া অনুরাগিণি
রস-প্রসঙ্গে নিশি জাগি॥
সে ধনি গুণবতি                         অরাধল পশুপতি
অতি-বড় শ্রীফল পাতি।
তহিঁ কণ্টক ছিল                   সে ফলে বিচ্ছেদ ভেল
বিধি জানি করল প্রভাতি॥
যত ছিল অবিদিত                      সো ভেল পরতিত
নন্দ-নগরে গুণ-গান।
অনন্ত দাস বোলে                        কহ কত কত ছলে
নাহ বিরস অভিমান॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
মোহন শ্যাম কপট বলহ কাহে লাগি
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “অপ্রকাশিত
পদরত্নাবলী”, ১২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার”
সংকলনের পদ।

খণ্ডিতা
শ্রীরাধার উক্তি
॥ বরাড়ী॥

মোহন শ্যাম কপট বলহ কাহে লাগি।
অধর মলিন                             অরুণ লোচন
রমণী রমণে জাগি॥ ধ্রু॥
বিপরিত বসন                        অঙ্গে কুচ-কুঙ্কুম
হার ছিন উরে আলুলিত।
সুন্দর শ্যাম-                       শরিরে সিন্দুর লাগি
গিরি মাঝে অরুণ উদিত॥
বলয়-কঙ্কণ-দাগ                      মরমে মরমে লাগ
বতি-রণ-চিহ্ন পরতেখ।
বিগলিত নট-বেশ                  কুসুমে খচিত কেশ
আউলাইছে মউরের পাখ॥
হামারি বচন রাখ                   তাহাঁই যাইয়া থাক
অতি বড় ঘুমের আয়াসে।
অনন্ত দাসে ভণ                        পহু মদন মোহন
অলপহ অলপ হাসে॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বাজন-নূপুর বলয় মণি-কিঙ্কিণি
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সাহিত্য পরিষদের ২০১
সংখ্যক পুথির পদ। এই পদ এবং “একে নবকুঞ্জ কুসুম অতি মনোহর” শিরোনামের পদের
পার্থক্য কেবল এই যে তাদের কলিগুলি কেবল ভিন্ন রকমভাবে সাজানো হয়েছে। আমরা
দুটিকেই স্বতন্ত্র পদ হিসেবে তুলছি।

রাস-লীলা
॥ কামোদ॥

বাজন-নূপুর বলয় মণি-কিঙ্কিণি
.        শ্যাম বামে চল গোরি কিশোরী।
দুহুঁ কর ভুজ দুহুঁ কান্ধ পর হেলন
.        নব-বারিদ মৈছে বিনদ-বিজোরি॥
.        রসমই রাধা বর-নাগর কান।
রাস-বিলাস-উলাস-পুলক-তনু
.        এক শকতি দুহুঁ একই পরাণ॥ ধ্রু॥
রতন-প্রদীপ নীপ পর হিমকর
.        মোহন দেব-মদন নট শাল।
একে সব কুসুম-কুঞ্জ অতি মন-হর
.        ভ্রমর-ভ্রমরি-গণ গাওত রসাল॥
মন্দ মধুর-স্মিত-মিলিত দৃগঞ্চল
.        আনন্দে হেরি দুহুঁ দুহুঁক বয়ান।
অখিল ভুবন সুখ-সায়রে শুতায়ল
.        অনন্তদাস-চিতে ঐছন ভান॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
একে নবকুঞ্জ কুসুম অতি মনোহর
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি রাধামোহন ঠাকুর (রাধামোহন দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সালে সংকলিত ও
বিরচিত এবং ১৮৭৮ সালে, রামনারায়ণ বিদ্যারত্ন দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “পদামৃত সমুদ্র” ৪৬৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদ এবং “বাজন-নূপুর
বলয় মণি-কিঙ্কিণি” শিরোনামের পদের পার্থক্য কেবল এই যে তাদের কলিগুলি কেবল
ভিন্ন রকমভাবে সাজানো হয়েছে। আমরা দুটিকেই স্বতন্ত্র পদ হিসেবে তুলছি।

॥ বৃহদেকতালীতালৌ বেলোয়ার রাগঃ॥

একে নবকুঞ্জ কুসুম অতি মনোহর ভ্রমরা ভ্রমরি গুণ গান
রসাল। রতন প্রদীপ নীপ পরি হিমকর মদন দেব মনোহর
নটরাজ॥ বিমোদিনি রাধা বর নাগর কান। নটন বিলাস
উলাস পুলক তনু এক শকতি দুহুঁ এক পরাণ॥ বাজন বলয়া
নূপুর মণি কিঙ্কিনি শ্যাম বামে রহু গোরি কিশোরি। দুহুঁক
বাহু কন্ধ পর হেলন নব বারিদে যৈছে বিনোদ বিজোরি॥
মৃদু মধুরস্মিত মিলিত দৃগঞ্চল আনন্দে হেরি দুহুঁ দুহুঁক
বয়ান। অখিল ভুবন সুখ সায়রে সুতায়ল অনন্তদাস চিত
ঐছন মান॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
ধনি-অঙ্গ-সুমধুর-সৌরভে আকুল
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৬২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগান্ধার॥

ধনী অঙ্গ মধুর সৌরভে শ্যাম আকুল উছলল
প্রেম তরঙ্গ। রাইর কোরে ভোরি নন্দনন্দন কাতর মূরছিত
অঙ্গ॥ হরি ২ কবে বিধি হবে অনুকুল। বৃকভানু নন্দিনী দিঠি
ভরি হেরব পরশি কাঢব দুঃখ মূল॥ ধ্রু॥ সোতনু অমিয়া
উদধি পরে পরশব হেরব সোমুখ চন্দ। ললিতা সঞে বচনক
চাতুরী হাসি কহয়ে মন্দ মন্দ॥ শ্যাম বিভোর বচন শুনি
সহচরী সঙ্গে পড়ল ধনী ধন্দ। মোড়ি বয়ান ধনী হেরই সখী
মুখ উলসিত দাস অনন্ত॥

ই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে নিমানন্দ
দাস সংকলিত “পদরসসার” সংকলনের পদ।

প্রেম-বৈচিত্ত্য
॥ গান্ধার॥

ধনি-অঙ্গ-সুমধুর-সৌরভে আকুল
.        উছলল প্রেম তরঙ্গ।
রাইক কোরে ভোরি নন্দ-নন্দন
.        তাকর মুরছিত অঙ্গ॥
.        হরি হরি কবে বিধি হবে অনুকুল।
বৃকভানু-নন্দিনি দিঠি ভরি হেরব
.        পরশি কাঢ়ব দুখ-মূল॥ ধ্রু॥
সো তনু অমিয়া মুরচি কবে পরশব
.        হেরব সো মখ-চন্দ।
ললিত-সখি সঞে বচনব চাতুরি
.        হাসি কহয়ে মন্দ মন্দ॥
শ্যামর-ভোর-বচন শুনি সহচরি
.        সঙ্গে পড়লি ধনি @ন্দ।
মোড়ি বয়ন ধনি হেরই শশি মুখ
.        উলসিত দাস অনন্ত॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
শ্যাম বামে নবীন কিশোরী
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৯২৬ সালে প্রকাশিত, সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“অপ্রকাশিত পদরত্নাবলী”, ১২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। অষ্টাদশ শতকে নিমানন্দ
দাস সংকলিত “পদরসসার” সংকলনের পদ।

যুগল-রূপ
॥ ধানশী॥

শ্যাম বামে নবীন কিশোরী।
কাল-মেঘে পড়িছে বিজুরী॥
তমালে দুলিছে হেম-লতা।
কুবলয়ে চম্পকে গাঁথা॥
নাগর নাগরী ভাল সাজে।
অতসী-কুসুম অলি রাজে॥
দুহুঁ @@@ অতি-বড় শোভা।
অনন্ত দাসের মন-লোভা॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রূপানুরাগ
॥ সুহিনী - ছোট একতালা॥

শ্যাম বামে নবীন কিশোরী।
কাল মেঘে পড়িছে বিজুরী॥
তমালে দুলিছে হেমলতা।
কুবলয়ে চম্পকে গাঁথা॥
নাগর নাগরী ভাল সাজে।
অতসী কুসুম অলি রাজে॥
দুহুঁ দোঁহে অতি বড় শোভা।
অনন্ত দাসের মন লোভা॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বড়ই দয়াল আমার নিত্যানন্দ রায় রে
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন  
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ১ম উচ্ছাস, ২৮৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

বড়ই দয়াল আমার নিত্যানন্দ রায় রে,
.                        কাঙ্গালের ঠাকুর।
ঘরে ঘরে প্রেমধন, যাচিয়াবিলায় রে,
.                        তরাইল আন্ধল আতুর॥
ঢুলিয়া ঢুলিয়া চলে প্রেমার আবেশে রে,
.                        ভাইয়ার ভাবেতে জ্ঞানহারা।
কৃপাসিন্ধু দীনবন্ধু, নিতাই দয়াল রে,
.                        অহতির গতি প্রেমদাতা।
অনন্ত দাসের হিয়া, দিবানিশি মাগে রে,
.                        নিতাইর পাদপদ্ম রাতা॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর