অনন্ত দাস ভণিতার বৈষ্ণব পদাবলী
*
আজু রসে বাদর নিশি
কবি অনন্ত দাস / নরোত্তম
এই পদটি ভিন্ন রূপে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  
সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব
পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-গীতচিন্তামণি”, পঞ্চদশ ক্ষণদা - অমাবস্যা, ১১২-
পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে। পদটি পদকল্পতরুতে নরোত্তম-এর ভণিতায় রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আজু রসে বাদর নিশি।
ভাবে নিমগন ভেল বৃন্দাবনবাসী॥
প্রেমে পিছল পথ গমন ভেল বঙ্ক।
মৃগমদ চন্দন কুঙ্কুমে ভেল পঙ্ক॥
শ্যাম-ঘন বরিখয়ে প্রেম-সুধা-ধার।
কোরে রঙ্গিণী রাধা বিজুরী সঞ্চার॥
দিগ বিদিগ নাহি প্রেমের পাথার।
ডুবিল অনন্ত দাস না জানে সাঁতার॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল), ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা ২৪শ পল্লব,শরত্কালীয় মহারাস, ১২৯৬-পদসংখ্যায়, “নরোত্তম”-এর ভণিতায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

আজু রসে বাদর নিশি।
ভাবে ভাসল সব বৃন্দাবন-বাসী॥
শ্যাম-ঘন বরিখয়ে কত রস-ধার।
কোরে রঙ্গিণি রাধা বিজুরি সঞ্চার॥
ভাবে পিছল পথ গমন সুবঙ্ক।
মৃগমদ-চন্দন-পরিমল পঙ্ক॥
দীগ বিদিগ নাহি প্রেমের পাথার।
ডুবল নরোত্তম না জানে সাঁতার॥

ই পদটি ১৮৮৫ সালে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-এর (পরিবর্ধিত আনন্দ সংস্করণ, ২০০৬), ১১৮-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

আজু রসে বাদর নিশি।
ভাবে নিমগন ভেল বৃন্দাবনবাসী॥
প্রেমে পিছল পথ, গমন ভেল বঙ্ক।
মৃগমদ চন্দন কুঙ্কুমে ভেল পঙ্ক॥
শ্যাম ঘন বরিখয়ে প্রেম সুধাধার।
কোরে রঙ্গিণী রাধা বিজুরী সঞ্চার॥
দিগ্ বিদিগ্ নাহি প্রেমের পাথার।
ডুবিল অনন্ত দাস না জানে সাঁতার॥

ই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত, সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী
সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ১৯৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

যুগল মিলন
॥ ঝুমুর॥

আজু রসে বাদর নিশি।
ভাবে নিমগন ভোল বৃন্দাবনবাসী॥
শ্যামঘন বরিখয়ে প্রেমসাধাধার।
কোরে রঙ্গিণী রাধা বিজুরী সঞ্চার॥
ভাবে পিছন পথ গমন সুবঙ্ক।
মৃগমদ চন্দন কুঙ্কুমে ভেল পঙ্ক॥
দিগ্ বিদিগ্ নাহি প্রেমের পাথার।
ডুবল নরোত্তম না জানে সাঁতার॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
তপত কাঞ্চন কান্তি কলেবর
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ভিন্ন রূপে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে  সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, ষোড়শ ক্ষণদা - শুক্লা প্রতিপদ, ১১৯-পৃষ্ঠায় দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রস্য।
॥ ধানশী॥

তপত-কাঞ্চন-                        কান্তি-কলেবর
উন্নত ভাঙর-ভঙ্গী।
কবিবর-কর জিনি                    বাহুর সুবলনি
বিহি গঢ়ল বহু রঙ্গী॥
গোরা-রূপ জগ-মনোহারী।
আপন বৈদগধি                     বিধাতা প্রকাশল
বধিতে কুলবতী নারী॥
আপাদ-মস্তক                         পুলকে পূর্ণিত
প্রেমে ছল ছল আঁখি।
আপন গুণ শুনি                      আপহিঁ রোয়ত
হেরি কান্দয়ে পশু পাখী॥
চাঁদ-চন্দ্রিকা                             কুমুদ মল্লিকা
জিনিয়া মৃদু মন্দ হাস।
মধুর বচনে                            অমিয়া-সিঞ্চনে
নিছনি অনন্ত দাস॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
নীল কমলদল শ্রীমুখমণ্ডল
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ৫১-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নীল কমলদল, শ্রীমুখমণ্ডল, ঈষত মধুর মৃদু হাস। নব ঘন চিকণ কালা,
গলায় কদম্বমালা, আহির বালক চারিপাশ॥ মণিময় ঝূরি মাথে, অঙ্গ বলয়
হাথে, রতন নূপুর রাঙ্গাপায়। নাচিতে নাচিতে যায়, গোধূলি লাগিছে গায়,
বরিহা উড়িছে মন্দ বায়। বনবিহারে ব্রজরাজকিশোর। ধাইতে মঞ্জির
বাজে দোলে বনমাল। অনন্ত দাসের পহু মনোমত লাল॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
মুরহর কহত শুনগো ললিতা সখী
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র সম্পাদিত মহাজন
পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৫৩৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

মানপ্রকরণ
॥ কামোদ - একতালা॥

মুরহর কহত                শুনগো ললিতা সখী
সুমুখী বিমুখী যব ভেল।
প্রেম পসার                       হাট তব ভাঙ্গল
সুখঘরে আগি লাগি গেল॥
অবহুঁ জীবনে কিয়ে কাম।
রাইক কুণ্ড                    সলিলে হাম যাইয়ে
তেজব পাপ পরাণ॥
সুখে রহ তুহুঁ সব,              কাজে কি বোলব,
দৈবে বিমুখী বোল মোয়।
তুমিহু শুধাও সখী,               অব হাম যাইয়ে,
এত কহি চলে রোই রোই॥
ললিতা কিছুই                    কহই নাহি পারই
নিশ্বসি রহল নত কন্দ।
কহত অনন্ত দাস               রাধা কুণ্ডেতে হরি
উপজল শ্যামর চন্দ॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
তবে গোপী মহা কুতূহলী
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও রায়বাহাদুর খগেন্দ্রনাথ মিত্র
সম্পাদিত মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৩য় খণ্ড, ৪৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে রয়েছে।

মহারাস
॥ সুহিনী - ছোট একতালা॥

তবে গোপী মহা কুতূহলী।
রচিলেন শ্রীরাস মণ্ডলী॥
গোপীমুখ-মণ্ডল সুসার।
হেমচন্দ্র গাঁথি জনু হার॥
তনুকুল উজোর বিজুরি।
পূর্ণ সুখ ও-মুখ মাধুরী॥
কে বর্ণিতে পারে সেই সুখ।
অসমর্থ সহস্রেক মুখ॥
বর্ণিতে না যায় সেই শোভা।
অনন্ত দাসের মনলোভা॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
সুন্দরি আন-গুণে নহ মোর বচন মধুর
কবি অনন্ত দাস
এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ২৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

পুনশ্চ শ্রীকৃষ্ণস্যোক্তিঃ
শ্রীরাধা সম্বোধনে
॥ বালা ধানশী॥

সুন্দরি আন-গুণে নহ মোর বচন মধুর।
তুয়া পরসাদে সাধ সব পূর॥
আন-সঙ্গ কভু না কহবি মোর।
চাঁদ না তেজই কবহুঁ চকোর॥
তুয়া গুণ গায়ন বচন হামার।
তুয়া হৃদি শীতল পঙ্কজ হার॥
তুহুঁ দরশন বিনু সব আন্ধিয়ার।
মিছ নহ নন্দ কহয়ে কত বার॥
রাই কানু রূপের নাহিক উপাম।
কুবলয় চাঁদ মিলল এক ঠাম॥
রসের আবেশে দোঁহে হইলা বিভোর।
দাসঅনন্ত-পহুঁ না পাওল ওর॥

.            *************************             
.                                                         
কল অনন্ত ভণিতার সূচীতে . . .   



মিলনসাগর