| কবি ভাগবতাচার্য্য-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| কৃত অপরাধি ভুজঙ্গ দেবা দেবা কবি ভাগবতাচার্য্য এই পদটি সুকুমার সেনের “History of Brajabuli Literature” গ্রন্থের ৪৬৭-পৃষ্ঠায় এই পদটি ইংরেজী হরফে তুলেছিলেন। আমরা তা বাংলা হরফে তুলে দিচ্ছি পাঠকের সুবিধার জন্য। পদটি রঘুনাথ ভাগবতাচার্য্য রচিত “কৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী” গ্রন্থের পদ বলে জানিয়েছেন সুকুমার সেন মহাশয়। কৃত অপরাধি ভুজঙ্গ দেবা দেবা নিবারিলে মদ প্রচণ্ড। রিপু সুত সমদর- শিতা তুঁহু ভগবান সমুচিত কর খল-দণ্ড॥ গোসাঞি, বারেক দেহ পতি-দান। হাম নারী-জাতি সহজে লোক-গর্হিত পতি-গত কেবল পরাণ॥ কৃত-দুষ্কৃত-জন- দূরিত হরণ দম অনুগ্রহ পরম তোমার। কু-যোনি জমন ভুজঙ্গম যতি পাপ কেবল করিলে সংহার॥ নিজ মন তেজি অনা- গত জন কৃত মন কোন তপ করল ভুজঙ্গ। অখিল-দয়া-পর ধর্ম-করণে কিবা তোষনে জগজনানন্দ॥ না বুঝলু হাম ফণির কোন অধিকার শ্রীচরণের রজ পরশনে। নিজ গুণ দোষ তেজি লক্ষি ও বাঁচাই তপ যোগ করাই ধেয়ানে॥ ও চরণারবিন্দ- রজ অজ-ভব-মাটি তছু বিনে আন নাহি জানে॥ সুরপতি-পদ আর অখিল ক্ষিতি-পতি প্রজাপতি-পদ নাহি মানে। অখিল সম্পদ-পদ পাদানু-সম্পদ সম্পদ করি নাহি জানে॥ অষ্ট-যোগ-সিদ্ধি নির্বাণ মুক্তি সকল তরিত সমানে॥ তম-গুণ-জনিত ক্রোধ-পুর কলেবর ফণা-ধরা (সো হো তুয়া) পদ-ধূলি পায়। কহে ভাগবতাচার্য্য যদু চিনতনে এ ভব-বন্ধন দূরে যায়॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| লক্ষ লক্ষ শিশুগণ সমবেশ বিভূষণ ভণিতা - ভাগবত আচার্য্য কবি ভাগবতাচার্য্য এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী সাহিত্য সংকলন, গোষ্ঠলীলা, ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটি “ভাগবতাচার্য্য” ভণিতাতে “কৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী” গ্রন্থের পদ। তিনি জানিয়েছেন যে এই পদটি ভাগবতের ১০ম স্কন্ধের ১২শ অধ্যায়ের ২- ১০ কলির অনুবাদ। কিন্তু এখানে ভণিতা বাদে মাত্র ৮টি কলির অনুবাদই দেওয়া রয়েছে। তিনি কোন প্রকাশনীর “কৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী” গ্রন্থ থেকে এই পদটি পেয়েছিলেন তাঁর গ্রন্থে সেই উল্লেখ নেই। লক্ষ লক্ষ শিশুগণ সমবেশ বিভূষণ শিঙ্গা বেত্র বিষাণ কাছিয়া। সহস্রেক নাহি টুটি লক্ষ লক্ষ কোটি কোটি চলে শিশু বত্সগণ লইয়া॥ কৃষ্ণ বত্স রাখে যত ব্রহ্মায় লেখিব কত সেখিতে কে পারে তার অন্ত। বত্স যূথ যূথ করি একত্রে সকল মেলি বত্স রাখে করিয়া আনন্দ॥ বিবিধ বালক লীলা বহুবিধ শিশুখেলা বহু ভাঁতি খেলে শিসুগণ। প্রবাল কুসুম ফল বনধাতু নব দল করে শিশু অঙ্গের ভূষণ॥ কেহ শিঙ্গা করে চুরি কেহ ফেলে দূর করি পুন দেই হাসিয়া হাসিয়া। কৃষ্ণ যদি থাকে দূরে ধাঞা ধাঞা শিশু চলে পুন আইসে কৃষ্ণ পরশিয়া॥ মুঞি সে সভার আগে পরশিনু তোমা এবে এইরূপে আনন্দ বিহরে। কেহ শিঙ্গা বেণু পূরে কেহ ভৃহ্গরব করে কোকিল-শবদ কেহ করে॥ কেহ দেখি পাখী ছায়া তার সঙ্গে যায় ধাঞা হংস দেখি হংসের গমন। বক দেখি বকবৎ কেহ হয় ধ্যানরত কেহ ধরে ময়ূর পেখম॥ বানরের পুচ্ছ ধরি কেহ টানাটানি করি বানরে টানিঞা তুলে গাছে। বানর-আকৃতি ধরে সেরূপ ভ্রুকুটি করে লম্ফে লম্ফে যায় তার পিছে॥ *** *** *** ভাগবত আচার্য্য কহে শুনিলে দূরিত দহে পরম মঙ্গল গুণগাথা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| যবে কৃষ্ণ বেণু বায় সব ধেনু রহি চায় ভণিতা - ভাগবত আচার্য্য কবি ভাগবতাচার্য্য এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী সাহিত্য সংকলন, গোষ্ঠলীলা, ৩৪৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটি “ভাগবতাচার্য্য” ভণিতাতে “কৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী” গ্রন্থের পদ। তিনি জানিয়েছেন যে এই পদটি ভাগবতের ১০ম স্কন্ধের ২১শ অধ্যায়ের ১৩- ১৮ কলির অনুবাদ। কিন্তু এখানে ভণিতা বাদে মাত্র ৪টি কলির অনুবাদই দেওয়া রয়েছে। তিনি কোন প্রকাশনীর “কৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী” গ্রন্থ থেকে এই পদটি পেয়েছিলেন তাঁর গ্রন্থে সেই উল্লেখ নেই। যবে কৃষ্ণ বেণু বায় সব ধেনু রহি চায় স্রুতিযুগ-পুট ধরে তুলি। মুদিত নয়ন করি হৃদয়ে চিন্তয়ে হরি দশনে কবল ঘাস ধরি॥ বত্স করে ক্ষীরপান যবে শুনে বেণুগান ক্ষীর-কবল মুখে ধরি। শ্রুতিযুগ উভ করি অমনি ধেয়ায় হরি প্রেমরসে আপনা পাসরি॥ বলভদ্র সহ হরি গোপশিশু সঙ্গে করি বৃন্দাবনে চরায় গোধন। দেখিয়া রবির জ্বালে মেঘে আসি ছত্র ধরে দেবে করে পুষ্প বরিষণ॥ যতেক বালক মেলি রাম সঙ্গে বনমালী গোধন চরায় যদি বনে। চরের স্থাবর-ধর্ম্ম স্থাবরের চর-ধর্ম্ম হেন চিত দেখিলা নয়নে॥ *** *** *** এ সব চরিত্র লীলা কৈলা দেবকীর বালা ভাগবত আচার্য রচনা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| চঞ্চল বরিহাপীড় বান্ধল কুসুমে চূড় ভণিতা - ভাগবত আচার্য্য কবি ভাগবতাচার্য্য এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী সাহিত্য সংকলন, উত্তর-গোষ্ঠ, ৩৫১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এটি “ভাগবতাচার্য্য” ভণিতাতে “কৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী” গ্রন্থের পদ। তিনি জানিয়েছেন যে এই পদটি ভাগবতের ১০ম স্কন্ধের ২১শ অধ্যায়ের ৫ কলির অনুবাদ। তিনি কোন প্রকাশনীর “কৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী” গ্রন্থ থেকে এই পদটি পেয়েছিলেন তাঁর গ্রন্থে সেই উল্লেখ নেই। চঞ্চল বরিহাপীড় বান্ধল কুসুমে চূড় নটবরশেখর গোপাল। দৃঢ়বন্ধ পীত ধটী উজ্জবল কিঙ্কিণী কটি শ্রুতিযুগে শোভে কর্ণিকার॥ বৈজয়ন্তী মালা দোলে মণি আভরণ ধরে অধর-সুধায় বেণু পূরে। নব নব গোপসুত চৌদিগে আনন্দযুত গায় গুণ, মাঝে বৃন্দাবনে। অমিত গোধন সঙ্গে বিবিধ কৌতুক রঙ্গে পরবেশ কৈল নারায়ণে॥ *** *** *** সুমধুর গোষ্ঠলীলা কৈলা দেবকীর বালা ভাগবত আচার্য্য রচনা॥ টীকা - পদাবলী-সাহিত্যে শ্রীকৃষ্ণকে নারায়ণ ও দেবকীনন্দন বলা হয় নাই। শ্রীরূপ গোস্বামী বিশুদ্ধ মাধুর্য্যরস প্রচার করায় শ্রীকৃষ্ণ যশোদানন্দন মাত্র---দেবকীনন্দন নহেন। আর তিনি সব সময়েই দ্বিভুজ ; কখনও চতুর্ভুজ নারায়ণ নহেন। শ্রীমন্মহাপ্রভু রঘুনাথ ভাগবতাচার্য্যের কৃষ্ণপ্রেমতরঙ্গিণী শ্রবণ করিয়া তাঁহাকে উত্সাহিত করিয়াছিলেন। . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |