কবি ভাগবতাচার্য্য-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
শুক মুনি বলে শুন রাজা পরীক্ষিত
ভণিতা - ভাগবত আচার্য্য
কবি ভাগবতাচার্য্য
আমাদের সংগ্রহে ১৩১২বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ্ থেকে প্রকাশিত, পূর্ণচন্দ্র দাস  
কর্ত্তৃক মুদ্রিত. ভাগবতাচার্য্যকৃত শ্রীমদ্ভাগবতের পয়ারানুবাদ “শ্রীকৃষ্ণপ্রেম-তরঙ্গিণী” গ্রন্থে,
পদটি ভাগবতের ১০ম স্কন্ধের ৩৩শ অধ্যায়ের অনুবাদ এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে
এটি “গোপীমণ্ডলীর মধ্যগত হইয়া যমুনা রসকেলিদ্বারা প্রেয়সীগণের সহিত বিহারবর্ণন” পর্ব
। আমরা এটিকে সম্পূর্ণরুপে এখানে উপস্থাপন করছি।  বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত
ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী সাহিত্য সংকলনে পাওয়া “
কিঙ্কণ-কিঙ্কিণী নূপুরের ঝনঝনি”   
পদটি এই পদেরই অংশ। সেই অংশটুকু ইটালিকস-এ দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ি রাগঃ॥

শুক মুনি বলে শুন রাজা পরীক্ষিত।
অপরূপ রাসকেলি গোপাল চরিত॥ ১
এইরূপ কৃষ্ণের মধুর সুধা বাণী।
চাতুরী বচন যত শুনিয়া রমণী॥ ২
ছাড়িল বিরহ তাপ পূর্ণ হৈল সিদ্ধি।
আনন্দে মজিল গোপী পাইয়া গুণনিধি॥ ৩
তবে কৃষ্ণ রাসকেলি কৈল অনুবন্ধে।
বাউহে যুবতী ধরিয়া বাইহে বান্ধে॥ ৪
রাস মহোত্সব হৈল রমণীর মাঝে।
দুই ২ যুবতী গোবিন্দ মাঝে মাঝে॥ ৫
হেন কালে সুরসিদ্ধি গন্ধর্ব্ব কিন্নর।
নিজ নিজ নারীসহ আইল বিদ্যাধর॥ ৬
গেবরথে পুরাইল আকাশ মণ্ডল।
শঙ্খ ভেরী দুন্দুভি বাজন নিরন্তর॥ ৭
ব্রহ্মাণ্ড ভরিয়া বাজে দেবের বাজন।
আকাশ ভরিয়া পড়ে পুষ্প বরিষণ॥ ৮
রথের উপরে আছে দেবের নাচনী।
বিদ্যাধর গায় গীত সুমধুর ধ্বনি॥ ৯
সদ্ধগণ মুনিগণ করয়ে স্তবন।
কৃষ্ণের নির্ম্মল রস গায় সুরগণ॥ ১০

কঙ্কণ-কিঙ্কিণী নূপুরের ঝনঝনি।
অঙ্গ আভরণ শব্দে পূরিল মোদিনী॥ ১১
অতুল শব্দ হৈল এ বাস১ মণ্ডলে।
রমণী সমাজ মাঝে কৃষ্ণ শোভাকরে॥ ১২
হেমমণি মাঝে যেন ইন্দ্র নীলমণি।
বিনিসুতে হার যেন বিচিত্র গাঁথনি॥ ১৩
দুই ২ গোপী মাঝে দেবকীনন্দন।
কত গোপী কত কানু না যায় গণন॥ ১৪
পদ আরোপণ ভুজ সব নিপতিত।
কটাক্ষ বিলাস দিগঞ্চল বিরচিত॥ ১৫
ক্ষীণ কোটীতটভঙ্গ আলোলিত হাস।
গণ্ডযুগে বলিত কুণ্ডল বিলাস॥ ১৬


ধর্ম্মকণা বিরাজিত বয়ান মণ্ডল।
বিগলিত নিবিবন্ধ কবরী কুন্তল॥ ১৭
রতিরসে বিলসে বেকত বহুভাঁতি।
বিগলিত রস নাসি সকল যুবতি॥ ১৮
জয়ধরচয় যেন সৌদামিনীমালা।
বহু কৃষ্ণ মাঝে শোভে বহু ব্রজবালা॥ ১৯
রতিরস অনুরাগে ভুলিল রমণী।
বিমল গোপাল গায় উচ্চধনি॥ ২০
ধন্য ব্রজ নারী ধন্য এ তিন ভুবন।
গোপীর পবিত্র গুণ গায় অনুক্ষণ॥ ২১
বহুবিধ গীতভেদ গোপালের গান।
কেহ সাধুজন করয়ে ব্যাখান॥ ২২
পদ ধরিয়া সব কোন গোপ গায়।
ধন্য ধন্য করিয়া বাখানে যদুরায়॥ ২৩
স্তম্ভিত বসন ভুজ চরণ চঞ্চলা।
চিত্রের পুতলি যেন রহে ব্রজবালা॥ ২৪
গোপালের কান্ধে কেহ দিয়া নিজ কর।
গলিত বসন বেশ বহে নিরন্তর॥ ২৫
কৃষ্ণের আজানু বাহু কেহ লন কান্ধে।
পুলকি হইয়া গোদীর বাহু বান্ধে॥ ২৬
নটন চঞ্চল গণ্ড কুণ্ডলে মণ্ডিত।
নিজগণ্ড গোপী তাহে কৈল আরোপিত॥ ২৭
তাম্বুল চর্ব্বিত তাহে দিল গদাধর।
নাচয়ে গোপীকা কেহো গায় মন্দস্বর॥ ২৮
কিঙ্কিণী মঞ্জীর রব ঝঞ্ঝনী বোলে।
কিভেল অধনন্দরস এ বাস২ মণ্ডলে॥ ২৯
কমলা সেবিত যেই চরণ যুগল।
পতিভাবে ভজে গোপী হেন দামোদর॥ ৩০
করে কণ্ঠ ঘেরিয়া করয়ে আলিঙ্গন।
বিহরে গোপাল গুণ গায় গোপীগণ॥ ৩১
কপালে অলকাবলি কর্ণেতে উত্পল।
ললাটে চন্দন বিন্দু গণ্ডে ঘর্ম্মজল॥ ৩২
নানা বেশ ভূষণ পরিয়া ব্রজনারী।
বহুবিধ কৌতুক করয়ে রাস কেলি॥ ৩৩
বলয়া নূপুর নাদ কিঙ্কিণী বাজন।
ব্রজবধু নাচনী নাচয়ে নারায়ণ॥ ৩৪
অলিকুল মন্দ বোল সুগীত সুসার।
কি রাস মণ্ডল ভেল কি রাস বিহার॥ ৩৫
তিন লোক হৈল যার ভাবে বিমোহিত।
কি গুণ কহিব তার শুন পরীক্ষিত॥ ৩৬
কেহো করে আলিঙ্গন কুচে নখ রেহা।
কটাক্ষে ভুলায় কেহো অঙ্গে অঙ্গে কেহো॥ ৩৭
উদার বিলাস হাস করে কার সঙ্গে।
রময়ে রমণী কানু বাসরস৩ রঙ্গে॥ ৩৮
প্রতিব্ম্ব চাহি যেন বালক বিহার।
সেইরূপ রমণীর সঙ্গে গদাধর॥ ৩৯
নিজ সুখে পূর্ণ প্রভু আপ্ত সর্ব্বকাম।
সর্ব্ব রস রসিক শেকর গুণধাম॥ ৪০
সকল জগত হয়ে কৃষ্ণের মুরতি।
কৃষ্ণ বিনে আন নহে বিচার যুগতি॥ ৪১
আপনিই আপনার নরে নারায়ণ।
বালক বিহার লীলা কে বুঝে কারণ॥ ৪২
না সম্বরে কুচপর্ণ পরিধান বাস।
বিগলিত বসন গলিত কেশপাশ॥ ৪৩
ডরকি পড়য়ে অঙ্গ ধরণ না যায়।
ভাবেতে পূরিত গোপী  কি তার উপায়॥ ৪৪
দেখিয়া গোপাল কেলি বিবুধ বনিতা।
মূর্চ্ছিত পড়য়ে দেখি কামে বিমোহিতা॥ ৪৫
নিজগণ সহিতে মোহিত শশোধর।
সুরসিদ্ধ বিমোহিত হইল নিরন্তর॥ ৪৬
যত ব্রজবধু তত দেবকী নন্দন।
লীলায় রমণী গোপী প্রভু নারায়ণ॥ ৪৭
শ্রমজল বহে গোপী বয়ান মণ্ডলে।
তা দেখিয়া দয়া কৈল প্রভু দামোদরে॥ ৪৮
নিজ কর কমলে মুছিল স্রমজল।
নিজ ভুজে আলিঙ্গন দিল গদাধর॥ ৪৯
কনক কুণ্ডল জ্যোতি গণ্ড বিরাজিত।
মন্দ মধুস্মিত হাস বিলাস মুদিত॥ ৫০
নানা রতিভাব গোপী করিয়া বিস্তার।
গাওয়ে গোপাল গুণ জন্ম অবতার॥ ৫১
তবে যত ব্রজনারী করিয়া সংহতি।
যমুনার জলে কেলি করে যদুপতি॥ ৫২
জলকেলি করয়ে বিবিধ পরিপাটী।
হাসিয়া গোপিকা করে জল ছিটা ছিটি॥ ৫৩
চৌদিকে রমণী করে জল বরিষণ।
রথে চড়ি পুষ্প বৃষ্টি করে দেবগণ॥ ৫৪
দেববাদ্য বাজে নাচে যত বিদ্যাধরি।
সুর সিদ্ধি করে স্তুতি দিব্যরথে চড়ি॥ ৫৫
গজেন্দ্র লীলায় হরি করে জলকেলি।
ভাবে বিমোহিত হৈল সব গোপনারী॥ ৫৬
জলকেলি করিয়া উঠিলা নারায়ণ।
চৌদিকে গোপিকা সব মধ্যে সনাতন॥ ৫৭
যমুনার তীরে ২ করয়ে বিহার।
সুগন্ধি কুসুমে মত্ত ভ্রমর ঝঙ্কার॥ ৫৮
সারদ পূর্ণিমা শশী রজনী বিরাজে।
বিহরে গোপাল গোপী যুবতী সমাজে॥ ৫৯
না ছাড়ে বসন প্রভু নিজ যোগবলে।
রময়ে রমণী সব যুবতী বিহরে॥ ৬০
রসিক নাগর হরি সুখ রসময়।
রমিল রমণী কাম করিয়া উদয়॥ ৬১
রাজা বলে শুন মুনি শুক মহাশয়।
আমার হৃদয় হৈল এ বড় সংশয়॥ ৬২
অধর্ম্ম করিয়া নাশ ধর্ম্মসংস্থাপন।
অবতার কৈল হরি এই সে কারণ॥ ৬৩
সুসময় হঞা করে পরদার রতি।
ঘুচাহ সংশয় মোর শুক মহামতি॥ ৬৪
এ বোল শুনিয়া মুনি ব্যাসের নন্দন।
শুন রাজা সাবধানে কহিব কারণ॥ ৬৫
যে পুন ঈশ্বর হয় জ্ঞানে বলবান।
অধর্ম্ম করিয়া তার কি হয় গেয়ান॥ ৬৬
ধর্ম্মে লাভ নাহি তার পাপে অপচয়।
সর্ব্বভক্ষ হুতাশন তবু তেজোময়॥ ৬৭
ঈশ্বর নহিলে যদি দুষ্ট কর্ম্ম করে।
নরকে পতন তার হয় নিরন্তরে॥ ৬৮
রুদ্র নহে না ধরে রুদ্রের সমবল।
হলাহল ভক্ষণে তেজয়ে কলেবর॥ ৬৯
ঈশ্বরের হৃদয়ে না উঠে অহংকার।
শুভাশুভ কর্ম্মফল না হয় তাহার॥ ৭০
অখিল জগত গুরু সর্ব্বলোক গতি।
তার কর্ম্ম বিচার করহ নরপতি॥ ৭১
যার পদরজ ভজি মহামুনিগণে।
তপযোগ করিয়া না পায় সমাধানে॥ ৭২
সচ্ছন্দে বিহরে কবু নহে ভববন্ধ।
হেন প্রভুর লীলায় তোমার এত ধন্ধ॥ ৭৩
সর্ব্বভুত হৃদয় বৈশয়ে বনমালী।
লীলার শরীর ধরি করে নানা কেলি॥ ৭৪
সেই ২ সীসা করে প্রভু নারায়ণ।
শুনিলেই হয় নর কৃষ্ণ পরায়ণ॥ ৭৫
গোপগণ কেহ-চিত্তে রোষ না করিল।
যাঁর ২ নারী তারী তাঁর নিকটে আছিল॥ ৭৬
হেন মায়া ধরে প্রভু মহাযোগেশ্বর।
তবে যে কহিবে আর শুন নরেশ্বর॥ ৭৭
মহানিশা রহি গেল প্রভাত সময়।
গোপীগণে আজ্ঞা তবে দিলা দয়াময়॥ ৭৮
আজ্ঞা পাঞা গোপীগণ গেল নিজ ঘরে।
প্রভুর বিরহ দুঃখ রহিল অন্তরে॥ ৭৯
কাসকেলির সময় প্রভুর চরিত্র।
যেবা কহে যেবা শুনে হঞা সাবহিত॥ ৮০
ইতুল ভকতি তার হয় দিনে। ২
ভব দুঃখ খণ্ডে তার অনাদি বন্ধনে॥ ৮১
ধীরে শিরোমণি শ্রীল গদাধর জান।
ভাগবত আচার্য্যের মধুরস গান॥

ইতি শ্রীভাগবতে মহাপুরাণে দশমস্কন্ধে ত্রয়োত্রিংশোধ্যায়ঃ॥

১। বাস - সম্ভবত রাস হবে।
২। বাস - সম্ভবত রাস হবে।
৩। বাসরস - সম্ভবত রাসরস হবে।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
একদিন নারায়ণে সঙ্গে গোপ শিশুগণে
ভণিতা - ভাগবত আচার্য্য
কবি ভাগবতাচার্য্য
আমাদের সংগ্রহে ১৩১২বঙ্গাব্দে বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ্ থেকে প্রকাশিত, পূর্ণচন্দ্র দাস কর্ত্তৃক মুদ্রিত.
ভাগবতাচার্য্যকৃত শ্রীমদ্ভাগবতের পয়ারানুবাদ “শ্রীকৃষ্ণপ্রেম-তরঙ্গিণী” গ্রন্থে, ভাগবতের ১০ম স্কন্ধের ১২শ
অধ্যায়ের অনুবাদ এইরূপে দেওয়া রয়েছে। এই গ্রন্থে এটি শ্রীকৃষ্ণের অঘাসুর বধ পর্ব।

॥ বরাড়ী রাগঃ॥

একদিন নারায়ণে,                          সঙ্গে গোপ শিশুগণে,
ইচ্ছা কৈল ভোজন করিতে।
প্রভাতে উঠিয়া হরি,                       বত্সগণ সহ্গে করি,
বিপিনে চলিলা হরষিতে॥ ১
শিঙ্গা বেণু করি রব,                        আনন্দে বালক সব,
নৃত্য গীত বিবিধ খেলনে।
হাম্বা রবে বত্স ধায়,                    কেহ আগে পাছে ধায়,
কেব জয় কৃষ্ণ সন্নিধানে॥ ২
হেনকালে অঘাসুর,                         মহাদৈত্য ঘোরতর,
কংশের আদেশে দুষ্টমতি।
সেই পথে মায়া করি,                        সর্প কলেবর ধরি,
মনে ২ করয়ে যুগতি॥ ৩
পূতনা ভগিনী মোর,                       জ্যেষ্ঠ ভাই বকাসুর,
এই কৃষ্ণ মারিল আসিয়া।
সুধিব ভাইর ধার,                           ভগ্নীর তর্পণ আর,
বত্স শিশুর রুধির লইয়া॥ ৪
মারিব আমার বৈরী,                      বত্স শিশু সহ হরি,
ব্রজবাসী মারিব সকল।
রামকৃষ্ণ মুণ্ড লঞা,                     কংশেরে ভেটিব গিয়া,
তবে হৈব সকল সফল॥ ৫
প্রহরের পথ যুড়ি,                        মুখখান বিস্তার করি,
রহে যেন পর্ব্বত আকার।
এক ঠোঁঠ ক্ষিতি পরে,                      আর ওষ্ঠ অম্বরিরে
নয়ন নিমেষ ভয়ঙ্কর॥ ৬
বিকট দশনগণ,                             পর্ব্বত শিখর যেন,
অন্ধকার উদর ভিতরে।
জিহ্বা লহ লহ করে,                        ঘন স্বাস সুসঞ্চরে,
চমকিত যতেক অম্বরে॥ ৭
দৈত্য মায়া নিরখিয়া,                     নিজবত্স শিসু লঞা,
প্রবেশ করিল নারায়ণ।
শিশু বত্স না মরিবে,                   দৈত্যের সংহার হৈবে,
চিন্তে প্রভু ইহার কারণ॥ ৮
তবে কৃষ্ণ প্রবেশিল,                        উদর ভিতরে গেল,
তবে দৈত্য চাপে মুখ খানী।
চিবিয়া করিব চূর,                        মনে ভাবে অঘাসুর,
দুষ্ট দৈত্য হরিশ বিধান॥ ৯
উদরে প্রবেশ করি,                        বাড়িতে লাগিল হরি
এদশ দুয়ার নিবোধিল।
নাড়িতে নাহিক পারে,                    পেট চিরি দামোদরে,
শিশু বত্স সহ প্রকাসিল॥ ১০
অঘাসুর বধ করি,                            বাহির হইল হরি,
তিন লোক গেখিল সাক্ষাতে।
আনন্দিত দেবগণ,                           কৈল পুষ্প বরিষণ,
স্তুতি ভক্তি কৈল কৈল প্রণিপাত॥ ১১
গীত বাদ্য স্তুতি বাণী,                      ব্রহ্মলোক গেল ধ্বনি,
ব্রহ্মা শুনি আইলা শীঘ্রগতি।
আকাশ মণ্ডলে থাকি,                       প্রভুর মহিমা দেখি,
বিস্ময় ভাবিল প্রজাপতি॥ ১২
অঘাসুরে বধ করি,                        বত্স শিশু উদ্ধারি,
গত হৈল সর্প কলেবর।
সুখাঞা রহিল বনে,                     ত্র্রীড়া করে শিশুগণে,
চিরদিন তাহার ভিতর॥ ১৩
অঘা হেন দুরাচার,                        অঙ্গ পরশিয়া তাঁর,
মুক্তিপদ পাইল বিদ্যমানে।
গোধন চলুক @@                           @@@@@@@@@
@@@@@@@@@
শুন রাজা পরীক্ষিত,                        বাল্য লীলা হরষিত,
শিশু বেশ পুরুষ পুরাণে॥ ১৪
অঘাসুর বিনাশন,                        বত্স শিশু বিনাশন,
গোপাল চরিত্র পুণ্য কথা।
ভাগবত আচার্য্য কহে,                   শুনিল দুষিত দোহে,
পরম মঙ্গল গুণ গাঁথা॥ ১৫

ইতি শ্রীভাগবতে দশমস্কন্ধে অঘাসুর বধো দ্বাদশোহধ্যায়ঃ॥

@ - অপাঠ্য অক্ষর।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর