কবি ভক্তরাম দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
শ্রীগুরু বৈষ্ণবপদ করিয়া প্রণতি
ভণিতা ভক্তরাম
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকায় ১৩২০ (১৯১৩) বঙ্গাব্দের অতিরিক্ত সংখ্যায়
প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সঙ্কলিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির
বিবরণ, ১ম খণ্ড”, ১০২-পৃষ্ঠায়। এটি কবির “গোকুল-মঙ্গল” পুথির পদ।

নমো গনেশায়ঃ।
শ্রীরাধাকৃষ্ণায় জয়তাং।

জদাংঘৃকমলদ্বন্দ্বং দ্বন্দতাপন্নবারণং।
তারণং ভবসিন্ধুর্চ্চ শ্রীগুরু প্রণমাম্যহং॥

শ্রীগুরু বৈষ্ণবপদ করিয়া প্রণতি।
কৃপা কর অধমের ষুদ্ধ হৌক মতি॥
গকার অক্ষর জান হএ সর্ব্বসিদ্ধি।
গকারেতে পাপ নাস বাড়ে ঙ্গান বুদ্ধি॥
ব্রহ্মা আদি দেব রৈছে গুরুপদ ভাবি।
মুক্ষপদ পাএ সবে গুরুপদ সেবী॥
.         *          *          *
.         *          *          *
ইষ্টদেব রাধা কানু না হইয় বাম।
যুগল পদ ভাবি লেখে দাস ভক্তরাম॥
শ্রীকৃষ্ণের পৃয় রাধা লক্ষ্মি অবতার।
কে বুঝে মহিমা কৃষ্ণের গুণ গাহে জার॥
শ্রীরাধার পাদপদ্মে হৈতে চাহি অলী।
ধরিছি যুগল পদে না পেলাইয় ঠেলি॥
যুগল পাদপদ্মে মন রাখিয়া অটল।
ভক্তরামে গাইথে চাহে গকুলমঙ্গল॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
নাচে নন্দলাল, নাচে নন্দলাল
ভণিতা ভক্তরাম
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকায় ১৩২০ (১৯১৩) বঙ্গাব্দের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত, মুনশী
আবদুল করিম সঙ্কলিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ, ১ম খণ্ড”, ১০২-পৃষ্ঠায়।
এটি কবির “গোকুল-মঙ্গল” পুথির পদ।

॥ ভাক্কা গিৎ॥

নাচে নন্দলাল, নাচে নন্দলাল,
গোপী বোলে নন্দলাল ভাল নাচে রে।
ঘন ভুরু ঠারে,                        অলি চুরাএ উরে,
চরণে নপুর বাজে রে॥ ধ্রু॥
গোপি সঘন মঙ্গল গাহে রে।
জেন চাতকিনি                          হেরে মেঘপানি,
কানু পানে গোপি চাহে রে॥
রঙ্গ করে ব্রজনারি রে।
শ্যাম চিকন অঙ্গ                           হইয়া ত্রিভঙ্গ
অধরে মুরারি পুরে রে॥
কথ তালি দেই গুপি রে।
ভক্তরামে ভনে,                        সাদ আছে মনে,
থাকি যুগল পদ সেবি রে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
আহ্মার বাচা কেন কান্দে রে!
ভণিতা ভক্তরাম দাস
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার ১৩১০ বঙ্গাব্দের
জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় (মে ১৯০৩ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের
“গোকুল-মঙ্গল” নামক প্রবন্ধে। এটি কবির “গোকুল-মঙ্গল” পুথির পদ।

॥ ব্রজের ছন্দ॥

আহ্মার বাচা কেন কান্দে রে!
মাএর বাছা কান্দে কেনী।
খাও বাছা ক্ষীর ননী।
কান্দ্য নারে নীলমণি।
আকুল হইল মাএর প্রাণি।
মুঞি কেনে আপনা খাইলুম।
শিশু লইআ এথা আইলুম।
কি করিব কথা (কোথা) জাব।
কথা (কোথা) গেসে বাচা না কান্দিব।
হেদে গো বিমলা ধনি।
কান্দে কেনে জাদুমণি।
কান্দে কানু রাইর কোলে।
স্তন খাও রাণী বোলে।
কান্দ্য না নাগর হরি।
মরিমু যশোদা নারী।
ভক্তরাম দাসে ভণে।
কান্দে কানু আপন মনে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কাণু কেনে কান্দে সৈরে বাচা কেনে কান্দে
ভণিতা ভক্তরাম দাস
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার ১৩১০ বঙ্গাব্দের
জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় (মে ১৯০৩ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের
“গোকুল-মঙ্গল” নামক প্রবন্ধে। এটি কবির “গোকুল-মঙ্গল” পুথির পদ।

॥ রাগ সিন্ধুরা॥

কাণু কেনে কান্দে সৈরে বাচা কেনে কান্দে।
না জানি কপালে মোর কি আছে নির্বন্ধে॥
সখিরে মুই কেন আইলুম এথা আপনা খাইয়া।
কি জানি কি হেতু মোর কান্দেন কানাইআ॥
বাচার কান্দনে মোর হিআ জাএ ফাটি।
শরীর না সয় মোর জাদুর আউটি॥
জাদুয়ার বালাই লই মরি জাই রাণী।
মাএর মাথা খাও যদি কান্দ নীলমণি॥
দাস ভক্তরামে বোলে শুনহ যশোদা।
তোহ্মার ছাল্যা কান্দে রাণি মনে পাইআ বেথা।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
চতুর্দ্দশ দণ্ড ভানু, বন্ধনে আকুল তনু
ভণিতা ভক্তরাম দাস
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার ১৩১০ বঙ্গাব্দের
জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় (মে ১৯০৩ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের
“গোকুল-মঙ্গল” নামক প্রবন্ধে। এটি কবির “গোকুল-মঙ্গল” পুথির পদ।


চতুর্দ্দশ দণ্ড ভানু, বন্ধনে আকুল তনু।
বন্ধন জ্বালাএ আকুল হৈআ, কান্দএ মা পানে চাইআ।
শুন মাতা কহি তোরে, না রৈব তোহ্মার ঘরে।
এ ধিক জীবন মোর, মাএ বোলে ননীচোরা।
আহ্মার মাতা নহে রাণী, নিশ্চয় এহা আমি জানি।
রাণী যদি মাতা হৈত, মুখ চাহিআ ননী দিত।
মুনি কহিআছে মোরে, আহ্মার মাতা মধুপুরে।
বন্ধনজ্বালা সহিতে নারি, ছাড়্যা দেঅ গোপনারী,
গোকুলেতে ভিক্ষা করি, দিব তোহ্মার ননীর কড়ি।
কানুর বাক্য শুন্যা রাণী, মুর্চ্ছা হৈল সুবদনী।
দাস ভক্তরামে ভণে, শোকে দগ্ধে রাণীর মনে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
রসবতি ইন্দুমুখি চাহ আহ্মা পানে গো
ভণিতাহীন পদ
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার ১৩১০ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় (মে
১৯০৩ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “গোকুল-মঙ্গল” নামক প্রবন্ধে।
ভণিতাহীন এই পদটি কবির “গোকুল-মঙ্গল” পুথির।

॥ ভাক্কা গীত॥

রসবতি ইন্দুমুখি চাহ আহ্মা পানে গো।
যেন কমলছাড়া হৈলে অলি ধৈরজ না মানে গো॥ ধু
আহ্মাকে ছাড়িআ,                           গৃহে যাও ধনি,
কঠিন তোর হিয়া গো।
মনে পৈলে ধনি,                                চিত্ত বুঝাইব
কার পানে চাহিআ গো॥
তুআ নাম লই,                                বাজাই মুরড়ি,
গোধেনু রাখিএ গোঠে গো।
না দেখিআ তোহ্মা,                           কেমনে রহিব,
ও মোর মনে উঠে গো॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
রাই বোলে প্রাণ কৃষ্ণচন্দ্র আর বধিবে জানি গো
ভণিতা ভক্তরাম
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার ১৩১০ বঙ্গাব্দের জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় (মে
১৯০৩ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “গোকুল-মঙ্গল” নামক প্রবন্ধে। এই পদটি
কবির “গোকুল-মঙ্গল” পুথির।

॥ ভাক্কা জাত॥

রাই বোলে প্রাণ কৃষ্ণচন্দ্র আর বধিবে জানি গো।
প্রেমানল দিআ                                  কুল ছাড়াইলা
প্রাণি লইতে চাহ কি না গো। ধু
তুয়া প্রেমে ঠেকি,                         জাতি পাতি ছাড়ি,
কলঙ্ক করিলু সার গো।
প্রাণি তোকে দিয়া,                  সুধা (শুধু) তণু জাইতে,
চরণ না চলে ঘরে গো।
আর কি না সাধ,                              আছে ব্রজচন্দ্র
হইব তুয়া মনের মত গো।
বোল যোগী হইআ,                           তুয়া সঙ্গে জাই,
জাতি কুল করি হত গো।
রাই প্রণমিয়া,                                ভক্তরামে গাএ,
তাহা শুন ব্রজেশ্বরি গো।
বুক বিদারিয়া,                           তোহ্মারে রাখিতে
সেই সাধ করে হরি গো॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
ও ললিতা গোঠে জাইছে নন্দের কিশোরা ওরে
ভণিতা ভক্তরাম
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার ১৩১০ বঙ্গাব্দের
জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় (মে ১৯০৩ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের
“গোকুল-মঙ্গল” নামক প্রবন্ধে। এই পদটি কবির “গোকুল-মঙ্গল” পুথির।

॥ ভাক্কা গীত॥

ও ললিতা গোঠে জাইছে নন্দের কিশোরা ওরে।
দেখ অঙ্গের ঠাণ,      নিন্দিআছে চান্দ,
দিয়া বংশীর সান আখির ঠারে॥ ধুয়া।
আমা পানে চাহিআ,   মুরড়ি বাজাইয়া,
চলিআছে ধাইয়া,      ধেনুর পাছে।
দেখি চিকন কালা,     গলে বনমালা,
যেন ইন্দুকলা,          মেঘের মাজে॥
চলে নীলমণি,          করেতে পাচনি,
পূর্ণ ইন্দু জিনি          সখি-সঙ্গে।
মেঘে জিনি তনু,      করে মোহন বেণু,
গোঠে হাকে ধেনু      মনোরঙ্গে॥
শুন প্রাণ-সই,           তোরে মর্ম্ম কই,
.        মোর প্রাণ এই পাপহন্তা।
কহে ভক্তদাস,         বন্দি পীতবাস,
বুঝে রাধার আশ      গোপকান্তা॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কেশরী জিনিআ মাজা অতি-মনোহর
ভণিতাহীন পদ
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার ১৩১০ বঙ্গাব্দের
জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায় (মে ১৯০৩ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের
“গোকুল-মঙ্গল” নামক প্রবন্ধে। ভণিতাহীন এই পদটি কবির “গোকুল-মঙ্গল” পুথির।

॥ সাধারণ পয়ার॥

কেশরী জিনিআ মাজা অতি-মনোহর।
ম-ণাল জিনিআ ভুজ দেখিতে সুন্দর॥
নাসাএ বোসর দোলে গলে রত্নহার।
গগনমণ্ডলে যেন নক্ষত্রসঞ্চার॥
করে হেম-কঙ্কণ বাহুতে বাজুবন।
শিযেতে সিন্দূর যেন শোভিছে অরুণ॥
নয়নো কজ্জল অতি করিছে উজ্জ্বল।
জলদ জিনিয়া যেন কুটিল কুন্তল॥ ইত্যাদি।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
আলো বন্ধু বড় সে নিঠুর তোর হিয়া
ভণিতা ভক্তরাম
কবি ভক্তরাম দাস
এই পদটি রয়েছে সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকায় ১৩২০ (১৯১৩) বঙ্গাব্দের অতিরিক্ত সংখ্যায়
প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সঙ্কলিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির
বিবরণ, ১ম খণ্ড ১ম সংখ্যা”, ১১২-পৃষ্ঠায়। এটি কবির “গোকুলমঙ্গল” নামে ১৬৬ সংখ্যক
পুথির পদ।

॥ রাগ মল্লার॥

আলো বন্ধু বড় সে নিঠুর তোর হিয়া।
মরিমু অবলা রাধা পিরীতে ঠেকিআ॥ ধুয়া।
ধৈরজ না মানে প্রাণে তুয়া প্রেম কান্দে।
পিরীতে অবলার প্রাণ নৈলা কালাচান্দে॥
তোমার বিরহে হরি গরল ভক্ষিমু।
মহে জাতি কুল তেজি যোগিনী হইমু॥
এহ্মত নিঠুর কেনে হইলা মুরারি।
তুয়া মনে সাধ জে বধিতে গোপনারী॥
নিশ্চএ মরিমু নারী তুয়া প্রেম ফান্দে।
ভক্তরামে কহে পুনি কহে কালাচান্দে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর