কবি ফকির হবিবের বৈষ্ণব পদাবলী
*
দেখ অপরূপ নন্দ-গোপাল
ভণিতা ফকির হবিব
কবি ফকির হবিব
এই পদটি সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ ১৩২১ বঙ্গাব্দ সংখ্যায় (ডিসেম্বর
১৯১৪ খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত অনাথবন্ধু দেবের “বঙ্গীয় মুসলমান ও বঙ্গ-সাহিত্য” প্রবন্ধে, ৭৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রযেছে।

দেখ মাই অপরূপ নন্দ গোপাল।
কপালে চন্দন ফোঁটা                    বিনোদ চালনি ঝোঁটা
গলে শোভে বকুল মাল॥
শ্রবণে কুণ্ডল দোলে                     কটাক্ষে ভুবন ভোলে
শ্রীমুখ অতি অনুপাম।
করেতে মোহন বেণু                        নির্ম্মল কোমল তনু
অতসী কুসুম জিনি শ্যাম॥
কটিতে পীতাম্বর                             দেখিতে মনোহর
মুকুন্দ মোহন যদুরায়।
দাঁড়াইয়া কদম্ব তলে                        সুনাদ মুরলী পুরে
তিন লোক মোহিত যায়॥
ফকির হবিব বলে                      কানুরে দেখিনু ভালে
যেন শশী পূর্ণ উদয়।
হেন মোর করে হিয়া                      কানুরে সমুখে থুয়্য
নিরবধি দেখিহুঁ সদায়॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, “কাব্য-মালঞ্চ”
সংকলনের ৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীকৃষ্ণের রূপ॥

দেখ অপরূপ নন্দ-গোপাল।
কপালে চন্দন-ফোঁটা                    বিনোদ টালনি ঝোঁটা,
গলে শোভে বকুল-মাল॥ ধুঃ।
শ্রবণে কুণ্ডল দোলে                     কটাক্ষে ভুবন ভোলে
শ্রীমুখ অতি অনুপাম।
করেতে মোহন বেণু                        নির্ম্মল কোমল তনু
অতসী-কুসুম জিনি শ্যাম॥
কটিতে পীতাম্বর                              দেখিতে মনোহর,
মুকুন্দ-মোহন যদু-রায়।
দাঁড়ায়ে কদম্ব-তলে                        সুনাদ মূরলী বোলে,
ত্রিলোক মোহিত হইয়া যায়॥
ফকির হবিব বলে,                     কানুরে দেখিতে ভালে
যেন পূর্ণশশীর উদয়।
হেন মন করে হিয়া,                        কানুরে সুমুখে নিয়া
নিরবধি দেখিহুঁ সদায়॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর