কবি হাসমত আলি চৌধুরীর বৈষ্ণব পদাবলী
*
বসন্ত আইল প্রাণের বৈরী
ভণিতা হাসমত
কবি হাসমত আলি চৌধুধি
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন মুসলমান
কবি”, ১০৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে।

॥ কোড়া॥
বিরহ

বসন্ত আইল প্রাণের বৈরী,              তোরা দেখ্ লো সখি রে,
বসন্ত আইল প্রাণের বৈরী। ধু।
আইল বসন্ত রিত,                            ফুলফোটে সুললিত,
মধু লোভে গুঞ্জরে ভ্রমরা।
কামিনী পরশে ভানু,                        কামে অঙ্গ দহে তনু,
বৃন্দাবনে ফুটিছে কমলা॥
আইল শিশির-বৈরী,                         অঘোর গভীর করি,
নিশি দিশি নাহি মেলে আঁখি।
দাদুরী কামদ গায়,                             ত্বরিতে নয়ন ধায়,
শুনিকহে ব্রজভানুর সুতা॥ (?)
অঘোর সাঁঝুয়া বেলা,                     কি বোল বলিয়া গেলা,
যদি না আসিবা ছিল মনে।
এক কহ আর হয়,                               এমন উচিত নয়,
এত দুঃখ কেনে দেও মোরে॥
বহিল যতন করি,                         শয্যা সাজাইলাম নারী,
নানা সুগন্ধি পুষ্প দিয়া।
বাটাতে তাম্বুল ভরি,                           অষ্ট অলঙ্কার পরি,
সব নিশি জাগিলাম্ বলিয়া॥
যখনে পিরীতি কৈলা,                    রাত্রিদিন আঅলা গেলা,
ভিন্ন ভাব না আছিল মনে।
সাধিয়া আপন কাজ,                       কুলেতে রাখিয়া লাজ,
এবে সে না চাহ চক্ষুর কোণে॥
তোমার কঠিন হিয়া,                        আনলেতে কাষ্ঠ দিয়া,
কোথা গিয়া রহিলা ভুলিয়া।
অধীন হাসমত বলে,                         জল ঢাল সে আনলে,
নিবারহ প্রেমরস দিয়া॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
তোমার নামের গুণ কভু নহে শূন
ভণিতা হাসমত
কবি হাসমত আলি চৌধুরি
এই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা”
পত্রিকার শ্রাবণ, ১৩০৮ সংখ্যায় (জুলাই ১৯০১), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের
“অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, ২৪২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ গীত॥

প্রভু!
তোমার নামের গুণ, কভু নহে শূন,
সে গুণ-নিপুণ, আমার হৃদয়ে আছে॥ ধ্রু।
লেখিছিলা ভাগ্যে, এথায় আনিলা,
আপনার দাস আপনে বধিলা।
আমি নিজে মতি ভোর, অপদোষ কি তোর,
মাত্র এ গোহারি আপনার কাছে॥
তোমার নামের গুণে, এসঙ্কট হনে,
অভয় ভয় না ভাবি মনে।
হাসমতালী কয়, না ভাব সংশয়,
প্রভু দয়াময় আছে তব পাছে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
শুন আয় ক্ষুদ্র মিশর অধিকারী
ভণিতা নেই
কবি কাজি হাসমত আলী চৌধুরী
পৌষ ১৩৬৯ ( জানুয়ারী ১৯৬৯ সালে) ঢাকার বাংলা একাডেমী থেকে প্রকাশিত, আহমদ
শরীফ সম্পাদিত “মধ্যযুগের কাব্য-সংগ্রহ”, ২৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে। “ফগফুর
শাহ কয়মুচ রাজার কেচ্ছা” থেকে।

॥ মিসরপতির নিকট রোম পৃপতির পত্র॥

শুন আয় ক্ষুদ্র মিশর অধিকারী।
কুবুদ্ধি ঘটিছে বুঝি হৃদয়ে তোমারি॥
সব নৃপ কর আনি দিল মান্য করি।
তুমি নাহি দিলা কর কার গর্ব ধরি॥
তুমি বুঝি মনে গুণিয়াছ আপনারি।
রুম নৃপ মৃত হইছে হইছ অধিকারী॥
নহি জান রুম নৃপ মহাকাল সর্প।
তিলে সর্বনাশ করিবেক তোর দর্প॥
পূযূষে মিস্রিত করি বিষ হলাহল।
গর্ব যত কর তত দিব ফলাফল॥
যদি হিত উপনীত আপনার চাহ।
লইয়া কর কন্ধ ’পর আসিয়া ভেটহ॥
নহে যদি আশা থাকে যুদ্ধ করিবার।
শীঘ্রে আসি দন্তাওসি সংগ্রাম মাঝার॥
মনে যদি লয় তোর আইসহ এথায়।
ডর যদি লিখ আমি যাইব তথায়॥
আমি যদি যাই তোর নাহিক কল্যাণ।
সবংশে করিব নাশ নাহি পরিত্রাণ॥
অরূপা হইয়া হরি সঙ্গে যুদ্ধ আশ।
ঝোপে খাপে না পারিবি হবি সর্বনাশ॥
বহরি সহিতে কোথা চটকের গণ।
সক্ষাত হইয়া করিয়াছে মহারণ॥
তাম্রচূড় গর্ব কোথা সাচন সহিত।
ব্যাঘ্র যুদ্ধে সোনার আঁটনি কদাচিত॥
মর্কটের ডোরে করী কোথা ত বন্ধন।
কি গর্ব করছি না গুণসি নিজ মন॥
পত্র পঠি নিজ শক্তি বিচারি বুঝিয়া।
পদুত্তর শীঘ্রতর দিবি পাঠাইয়া॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর