কবি কামদেব দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
কৃষ্ণ সে জীবন মোর প্রাণ ধন
কবি কামদেব দাস
শ্রীগৌড়ীয় মঠ থেকে প্রকাশিত, অতুলচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায় ভক্তিসারঙ্গ এবং হরিপদ বিদ্যারত্ন সম্পাদিত,
“গৌড়ীয়” পত্রিকার আশ্বিন ১৩২৯ সংখ্যার (সেপ্টেম্বর ১৯২২) স্বরূপ-ভ্রম প্রবন্ধের ২২-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।


কৃষ্ণ সে জীবন                        মোর প্রাণধন
কৃষ্ণ সে আমার জাতি।
জীবনে মরণে                          এই মনে হয়
কৃষ্ণ বিনা নাহি গতি॥
ধিক্ তার কুলে                    কৃষ্ণরে যে ভুলে
বিফল জনম তার।
ধন বিদ্যা তার                     কি করিবে আর
কৃষ্ণে মতি নাহি যার॥
ধায় যাতে মতি                       করুক ভকতি
কিন্তু হয় মনে মোর।
কামদেব দাস                        সদা করে আশ
শ্রীকৃষ্ণনামে বিভোর॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
আমি না খাই ননী ননী আমি না খাই ননী
আমি না খাই ননী, আমি না খাই ননী

কবি কামদেব দাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আহিরী॥

আমি না খাই ননী ননী আমি না খাই ননী।
ভাঁড়ের ননী ভাঁড়ে আছে না বাঁধ জননী॥ ধ্রু॥
আর ছাওয়ালে ননী খায় তারে মারে মায়।
নন্দ ঘোষ ঘরে আইলে মাগিব বিচায়॥
না থাকিব তোর ঘরে সুখে থাক তোরা।
আবাল বৃদ্ধ মোরে বলে ননী চোরা॥
আটিয়া না বান্ধ ব বান্ধনে পাছে মরি।
হের দেখ কর পদ ফিরাইতে নারি॥
কহে কামদেব দাস আমি দিব ননী।
বান্ধন ছাড়িয়া দেহ শুন নন্দরাণী॥

ই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত
এবং তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
১৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ আহীরী রাগ॥

আমি না খাই ননী, আমি না খাই ননী।
ভাঁড়ের ননী ভাঁড়ে আছে না কান্দ জননী॥ ধ্রু॥
আর ছাওয়ালে ননী খায়, তারে কত বান্ধে মায়।
নন্দ ঘোষ ঘরে আইলে মাগিব বিচায়॥
না থাকিব তোর ঘরে, সুখে থাক্ তোরা।
আবালবৃদ্ধ মোরে বলে ননীচোরা॥
আটিয়া না বান্ধ মা, বন্ধনে পাছে মরি।
হের দেখ কর পদ ফিরাইতে নারি॥
কহে কামদেব দাস আমি দিব ননী।
বন্ধন ছাড়িয়া দেহ শুন নন্দরাণী॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর