কবি কানু দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
জীবে এমন দয়া কোথাও না দেখি
ভণিতা কানু / কানুদাস
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কোনও কোনও পদাবলী সংকলনে এই পদটি কানুদাস
ভণিতায় দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ বরাড়ী॥

জীবে এমন দয়া                কোথাও না দেখি
নায়র চৈতন্য প্রভু।
দীন হীন জনে                        এমন করুণা
আর নাহি দেখি কভু॥
যুগধর্ম্ম লাগি                        বৈরাগী হইয়া
ভ্রমি ফিরে দেশ দেশ।
পাইয়া অকিঞ্চন                    যাচে প্রেমধন
বিলায় করুণাশেয॥
নাম সঙ্কীর্ত্তন                          পরম নিগূঢ়
প্রচারে হৈয়া অমায়া।
ধীরাধীর জড়                        অন্ধ আতুর
সভারে সমান দয়া॥
ত্রিতাপে তাপিত                  দেখিয়া জগত
আঁখি ভরে প্রেমজলে।
শীতল করিতে                   হেরি কৃপাদিঠে
বরখিয়ে কানু বোলে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৪৩-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি উনবিংশ শতকে
প্রকাশিত নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২৩৪৮ সংখ্যক পদ।

॥ বরাড়ী॥

জীবে এমন দয়া                কোথাও না দেখি
নায়র চৈতন্য প্রভু।
দীন হীন জনে                        এমন করুণা
আর নাহি দেখি কভু॥
যুগ-ধর্ম্ম লাগি                       বৈরাগী হইয়া
ভ্রমি ফিরে দেশে দেশে।
পাইয়া অকিঞ্চন                   যাচে প্রেম-ধন
বিলায় করুণাবেশে॥
নাম-সঙ্কীর্ত্তন                          পরম নিগূঢ়
প্রচারে হৈয়া অমায়া।
ধীরাধীর জড়                       পতঙ্গ আতুর
সভারে সমান দয়া॥
ত্রি-তাপে-তাপিত                  দেখিয়া জগত
নয়ন ভরল প্রেম-জলে।
শীতল করিতে                    হেরি কৃপা-দিঠে
বরখিয়ে কানুদাসে বোলে॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

জীবেরে এমন দয়া                কোথাও না দেখি
নায়র চৈতন্য প্রভু।
দীন হীন জনে                     এমন করুণা আর
নাহি দেখি কভু॥
যুগধর্ম্ম লাগিয়া                      বৈরাগ্যে ভ্রমিয়া
ফিরেন দেশে দেশে।
পাইয়া অকিঞ্চন                    যাচিঞা প্রেমধন
বিলায় করুণা-আবেশে॥
নিজ নাম সঙ্কীর্ত্তন                    পরম নিগূঢ় ধন
করুণায় গঢ়ল কায়া।
ধীরা অধীর জড়                    পঙ্গু অন্ধ আতুর
সবারে সমান দয়া॥
তিন তাপে তাপিত                 দেখিয়া ত্রিজগত
নয়ন ভরল প্রেমজলে।
শীতল করিতে                     হেরিয়া কৃপাদিঠি
বরখিয়ে কানুদাসে বলে॥

ই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জীবে এমন দয়া কোথাও না দেখি
.                        নায়র চৈতন্য প্রভু।
দীন হীন জনে এমন করুণা        
.                        আর নাহি দেখি প্রভু॥
যুগধর্ম্ম লাগি বৈরাগী হইয়া       
.                        ভ্রমি ফিরে দেশ দেশ।
পাইয়া অকিঞ্চন যাচে প্রেমধন   
.                        বিলায় করুণাশেষ॥
নাম সঙ্কীর্ত্তন পরম নিগূঢ়        
.                        প্রচারে হৈয়া অমায়া।
ধীরাধীর জড় অন্ধ আতুর       
.                        সভারে সমান দয়া॥
ত্রিতাপে তাপিত দেখিয়া জগত
.                        নয়ন ভরল প্রেমজলে।
শীতল করিতে হেরি কৃপাদিঠে
.                        বরখিয়ে কানু বোলে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
নিজ মন্দিরে ধনি বৈঠলি সখি মেলি
ভণিতা কানু দাস
কবি কানু দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড,
৩য় শাখা, ৫ম পল্লব, রসালস, পদসংখ্যা ৬৬৩-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

নিজ মন্দিরে ধনি বৈঠলি সখি মেলি।
কহতহি পিয়া-গুণ রজনিক কেলি॥
ভাবে অবশ ধনি পুলকিত অঙ্গ।
গদ-গদ কহে কত বচন-বিভঙ্গ॥
নয়নে বহয়ে জল কাঁপয়ে শরীর।
ঘামে ভিগল সব অরুণিম চীর॥
কত কত ভাব বিথারল রাই।
কহিতে না পারে ধনি প্রেম অবগাই॥
ধৈরজ ধরি ধনি কহয়ে বিলাস।
প্রেম-অনুরূপ কহই কানু দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”,
৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিজমন্দিরে ধনি সখিগণ মেলি। কহতঁহি প্রিয়াগুণ রজনীক কেলি॥
ভাবে অবশ ধনি পুলকিত অঙ্গ। গদগদ কহে কত বচনতরঙ্গ॥
নয়ানে বহএ জল কাঁপএ শরীর। ঘামে ভিঁগেল সব অরুণিম চীর॥
কত কত ভাব বিথারল রাই। কহিতে না পারে ধনি প্রেম অবগাই॥
ধৈরজ ধরে ধনী কহিতে বিলাস। প্রেম অনুরূপ কহত কানুদাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-
গীতাঞ্জলি”, ১৩৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

নিজ মন্দিরে ধনি বৈঠলী সখি মেলি।
কহতহি পিয়া-গুণ রজনীক কেলি॥
ভাবে অবশ ধনি পুলকিত অঙ্গ।
গদ গদ কহে কত বচন-বিভঙ্গ॥
নয়নে বহয়ে জল কাঁপয়ে শরীর।
ঘামে ভিগল সব অরুণিম চীর॥
কত কত ভাব বিথারল রাই।
কহিতে না পারে ধনি প্রেম অবগাই॥
ধৈরজ ধরি ধনি কহয়ে বিলাস।
প্রেম অনুরূপ কহই কানু দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সূর্য্যপূজাচ্ছলে শ্রীরাধার অভিসার
॥ ধানশী॥

(নিজ) মন্দিরে ধনি বৈঠলি সখি মেলি।
কহতহি পিয়াগুণ রজনিক কেলি॥
ভাবে অবশ ধনি পুলকিত অঙ্গ।
গদগদ কহে কত বচন বিভঙ্গ॥
নয়নে বহয়ে জল কাঁপয়ে শরীর।
ঘামে ভিগল সব অরুণিম চীর॥
কত কত ভাব বিথারল রাই।
কহিতে না পারে ধনি প্রেম অবগাই॥
ধৈরজ ধরি ধনি কহয়ে বিলাস।
প্রেম অনুরূপ কহই কানু দাস॥

ই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

(নিজ) মন্দিরে ধনি বৈঠলি সখি মেলি।
কহতহি পিয়াগুণ রজনিক কেলি॥
ভাবে অবশ ধনি পুলকিত অঙ্গ।
গদগদ কহে কত বচন বিভঙ্গ॥
নয়নে বহয়ে জল কাঁপয়ে শরীর।
ঘামে ভিগল সব অরুণিম চীর॥
কত কত ভাব বিথারল রাই।
কহিতে না পারে ধনি প্রেম অবগাই॥
ধৈরজ ধরি ধনি কহয়ে বিলাস।
প্রেম অনুরূপ কহই কানু দাস॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
সব সখিগণ মেলে দেব-আরাধন-ছলে
ভণিতা কানু দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৬শ পল্লব,
বসন্তকালোচিত মান, পদসংখ্যা ২০৪৮-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

সব সখিগণ মেলে                        দেব-আরাধন-ছলে
কাননে চলিল ধনী রাই।
সহচরীগণ সনে                          কুসুম তোড়ই বনে
যতনে হার নিরমাই॥
বসিয়া মাধবী-কুঞ্জ মাঝে।
অন্তরে মিলিব আশে                  বাহিরে না পরকাশে
অভিমান গরব বেয়াজে॥ ধ্রু॥
বুঝিয়া মরম-আশ                        চলিলা নাগর পাশ
পরম চতুরি প্রিয়-সখী।
যেখানে রসিক-রাজ                     বসিয়া কুঞ্জের মাঝ
বিরহে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
তাহারে দেখিয়া কান                     পাইল পরাণ দান
করযোড়ে কহে সখী পাশ।
পর-দুখে দুখী হৈয়া                     দেহ রাই মিলাইয়া
তোমার নিছনি কানু দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সূর্য্যপূজাচ্ছলে শ্রীরাধার অভিসার
॥ কামোদ॥

সব সখিগণ মেলে                        দেব আরাধন ছলে
কাননে চলিল ধনী রাই।
সহচরীগণ সনে                            কুসুম তোড়ই বনে
যতনে হার নিরমাই॥
বসিয়া মাধবীকুঞ্জ মাঝে।
অন্তরে মিলিব আশে                  বাহিরে না পরকাশে
অভিমান গরব বেয়াজে॥ ধ্রু॥
বুঝিয়া মরম আশ                        চলিলা নাগর পাশ
পরম চতুরি প্রিয়সখী।
যেখানে রসিকরাজ                      বসিয়া কুঞ্জের মাঝ
বিরহে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
তাহারে দেখিয়া কান                      পাইল পরাণ দান
করযোড়ে কহে সখী পাশ।
পরদুখে দুখী হৈয়া                       দেহ রাই মিলাইয়া
তোমার নিছনি কানুদাস॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময় কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ - তেওট॥

সব সখিগণ মেলে                        দেব-আরাধন-ছলে
কাননে চলিল ধনী রাই।
সহচরীগণ সনে                           কুসুম তোড়ই বনে
যতনে হার নিরমাই॥
বসিয়া মাধবী-কুঞ্জ মাঝে।
অন্তরে মিলিব আশে                  বাহিরে না পরকাশে
অভিমান গরব বেয়াজে॥ ধ্রু॥
বুঝিয়া মরম আশ                        চলিলা নাগর পাশ
পরম চতুরি প্রিয়-সখী।
যেখানে রসিক-রাজ                     বসিয়া কুঞ্জের মাঝ
বিরহে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
তাহারে দেখিয়া কান                     পাইল পরাণ দান
করযোড়ে কহে সখী পাশ।
পর-দুখে দুখী হৈয়া                      দেহ রাই মিলাইয়া
তোমার নিছনি কানুদাস॥

ই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
১৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সব সখিগণ মেলে দেব আরাধন ছলে
.                        কাননে চলিলা ধনী রাই।
সহচরীগণ সনে কুসুম তোড়ই বনে    
.                        যতনে হার নিরমাই॥
বসিয়া মাধবীকুঞ্জ মাঝে।             
অন্তরে মিলিব আশে বাহিরে না     
.                পরকাশে অভিমান গরব বেয়াজে॥
বুঝিয়া মরম আশ চলিলা নাগর পাশ
.                        পরম চতুরী প্রিয়সখী।
যেখানে রসিকরাজ বসিয়া কুঞ্জের মাঝ
.                        বিরহে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥
তাহারে দেখিয়া কান পাইল পরাণ দান
.                        করযোড়ে কহে সখী পাশ।
পরদুখে দুখী হৈয়া দেহ রাই মিলাইয়া
.                        তোমার নিছনি কানুদাস॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
নিজ-নামামৃতে মত্ত অনুক্ষণ
ভণিতা কানু দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং   
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ১৮শ পল্লব, বসন্তকালোচিত মান, পদসংখ্যা ২১১৭-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে।
এই পদটি উনবিংশ শতকে প্রকাশিত নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২২২৫  
সংখ্যক পদ।

॥ বিভাষ॥

নিজ-নামামৃতে মত্ত অনুক্ষণ।
পিয়ায় সভারে নাম বিশেষে হীন জন॥
অতি অরুণিত আঁখি আধ আধ বোলে।
কান্দে উচ্চনাদে যারে তারে করে কোলে॥
অপরূপ গৌরাঙ্গ-বিলাস।
খেণে বলে মুই পহু খেণে বলে দাস॥ ধ্রু॥
খেণে মত্ত সিংহ-গতি খেণে ভাব-স্তম্ভ।
খেণে ধরু ধরণী পাইয়া অঙ্গ-সঙ্গ॥
খেণে মালশাট মারে অট্ট অট্ট হাসে।
খেণেকে রোদন খেণে গদ গদ ভাষে॥
খেণে দেখে শ্যামসুন্দর তিরিভঙ্গ।
কানুদাস কহে কেবা বুঝে ও না রঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৭৮-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

নিজ-নামামৃতে পহুঁ মত্ত অনুক্ষণ।
পিয়ার সভারে নাম বিশেষে হীন জন॥
অতি অরুণিত আঁখি আধ আধ বোলে।
কান্দে উচ্চনাদে যারে তারে করে কোলে॥
অপরূপ গৌরাঙ্গ বিলাস।
খেনে বোলে মুই পহুঁ খেনে বোলে দাস॥ ধ্রু
খেনে মত্তসিংহ গতি খেনে ভাব স্তম্ভ।
খেনে ধরু ধরণী পাইয়া অঙ্গ সঙ্গ॥
খেনে মালসাট মারে অট্ট অট্ট হাসে।
খেনেক রোদন খেনে গদ গদ ভাষে॥
খেনে দেখে শ্যামসুন্দর তিরিভঙ্গ।
কানু দাস কহে কেবা বুঝে ওনারঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্র
॥ বিভাস॥

নিজ নামামৃতে হয়ে মত্ত অনুক্ষণ।
পিয়ায় সভারে নাম বিশেষে হীন জন॥
অতি অরুণিত আঁখি আধ আধ বোলে।
কান্দে উচ্চনাদে যারে তারে করে কোলে॥
.        অপরূপ গৌরাঙ্গ বিলাস।
খেণে বলে মুঞি পহুঁ খেণে বলে দাস॥ ধ্রু॥
খেণে মত্ত সিংহগতি খেণে ভাব স্তম্ভ।
খেণে ধরু ধরণী পাইয়া অঙ্গসঙ্গ॥
খেণে মালশাট মারে অট্ট অট্ট হাসে।
খেণেকে রোদন খেণে গদগদ ভাষে॥
খেণে দেখে শ্যাম সুন্দর তিরিভঙ্গ।
কানুদাস কহে কেবা বুঝে ও না রঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময় কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ - একতালা॥

নিজ নামামৃতে মত্ত অনুক্ষণ।
পিয়ায় সভারে নাম বিশেষে হীনজন॥
অতি অরুণিত আঁখি আধ আধ বোলে।
কান্দে উচ্চনাদে যারে তারে করে কোলে॥
অপরূপ গৌরাঙ্গ-বিলাস।
খেণে বলে মুই পহু খেণে বলে দাস॥ ধ্রু॥
খেণে মত্ত সিংহ-গতি খেণে ভাব-স্তম্ভ।
খেণে ধরু ধরণী পাইয়া অঙ্গ-সঙ্গ॥
খেণে মালশাট মারে অট্ট অট্ট হাসে।
খেণেকে রোদন খেণে গদ গদ ভাষে॥
খেণে দেখে শ্যাম সুন্দর তিরিভঙ্গ।
কানুদাস কহে কেবা বুঝে ওনা রঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিজ নামামৃতে মত্ত অনুক্ষণ।
পিয়ায় সভারে নাম বিশেষে হীন জন॥
অতি অরুণিত আঁখি আধ আধ বোলে।
কান্দে উচ্চনাদে যারে তারে করে কোলে॥
অপরূপ গৌরাঙ্গ-বিলাস।
খেণে বলে মুঞি পহুঁ খেণে বলে দাস॥
খেণে মত্ত সিংহগতি খেণে ভাব স্তম্ভ।
খেণে ধরু ধরণী পাইয়া অঙ্গসঙ্গ॥
খেণে মালশাট মারে অট্ট অট্ট হাসে।
খেণেকে রোদন খেণে গদগদ ভাষে॥
খেণে দেখে শ্যাম সুন্দর তিরিভঙ্গ।
কানুদাস কহে কেবা বুঝে ও না রঙ্গ॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
নদীয়া নগরে গেলা নিত্যানন্দ রায়
ভণিতা কানু দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৬৪-তে এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। এই পদটি উনবিংশ শতকে প্রকাশিত নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
২৩৬৮ সংখ্যক পদ।

॥ সুহই॥

নদীয়া নগরে গেলা নিত্যানন্দ রায়।
দণ্ডবৎ হৈয়া পড়ে শচী মাতার পায়॥
তারে কোলে করি শচী কান্দয়ে করুণে।
নয়ানের জলে ভিজে অঙ্গের বসনে॥
ফুকরি ফুকরি কান্দে কাতর হিয়ায়।
গৌরাঙ্গের কথা কহি প্রবোধয়ে তায়॥
নিত্যানন্দ বলে মাতা থির কর মন।
কুশলে আছয়ে সুখে তোমার নন্দন॥
তোমারে দেখিতে মোরে পাঠাইয়া দিল।
তোর পদযুগে কত প্রণতি করিল॥
কানুদাস কহে মাতা কহি তোর ঠাঞি।
তোমার প্রেমে বান্ধা আছে গৌরাঙ্গ গোসাঞি॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৬৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নদীয়ানগরে গেলা নিত্যানন্দ রায়।
দণ্ডবৎ হৈয়া পড়ে শচীমাতার পায়॥
তারে কোলে করি শচী কাঁদয়ে করুণে।
নয়ানের জলে ভিজে অঙ্গের বসনে॥
ফুকরি ফুকরি কাঁদে কাতর হিয়ায়।
গৌরাঙ্গের কথা কহি প্রবোধয়ে তায়॥
নিত্যানন্দ বলে মাতা স্থির কর মন।
কুশলে আছএ সুখে তোমার নন্দন॥
তোমারে দেখিতে মোরে পাঠাইয়া দিলা।
তোর পদযুগে কত প্রণতি করিলা॥
কানুদাস কহে মাতা কহি তোঁর ঠাঞি।
তোমার প্রেমে বাঁধা আছে গৌরাঙ্গগোসাঞি॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরচন্দ্রের সন্ন্যাস
॥ সুহই॥

নদীয়া নগরে গেলা নিত্যানন্দ রায়।
দণ্ডবৎ হৈয়া পড়ে শচী মাতার পায়॥
তারে কোলে করি শচী কান্দয়ে করুণে।
নয়ানের জলে ভিজে অঙ্গের বসনে॥
ফুকরি ফুকরি কান্দে কাতর হিয়ায়।
গৌরাঙ্গের কথা কহি প্রবোধয়ে তায়॥
নিত্যানন্দ বলে মাতা থির কর মন।
কুশলে আছয়ে সুখে তোমার নন্দন॥
তোমারে দেখিতে মোরে পাঠাইয়া দিল।
তোর পদযুগে কত প্রণতি করিল॥
কানুদাস কহে মাতা কহি তোর ঠাঞি।
তোমার প্রেমে বান্ধা আছে গৌরাঙ্গ গোসাঞি॥

ই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময় কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর
মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

নদীয়া নগরে গেলা নিত্যানন্দ রায়।
দণ্ডবৎ হৈয়া পড়ে শচী মাতার পায়॥
তারে কোলে করি শচী কান্দয়ে করুণে।
নয়নের জলে ভিজে অঙ্গের বসনে॥
ফুকরি ফুকরি কান্দে কাতর হিয়ায়।
গৌরাঙ্গের কথা কহি প্রবোধয়ে তায়॥
নিত্যানন্দ বলে মাতা থির কর মন।
কুশলে আছয়ে সুখে তোমার নন্দন॥
তোমারে দেখিতে মোরে পাঠাইয়া দিল।
তোর পদযুগে কত প্রণতি করিল॥
কানুদাস কহে মাতা কহি তোর ঠাঞি।
তোমার প্রেমে বান্ধা আছে গৌরাঙ্গ গোসাঞি॥

ই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নদীয়া নগরে গেলা নিত্যানন্দ রায়।
দণ্ডবৎ হৈয়া পড়ে শচী মাতার পায়॥
তারে কোলে করি শচী কান্দয়ে করুণে।
নয়নের জলে ভিজে অঙ্গের বসনে॥
ফুকরি ফুকরি কান্দে কাতর হিয়ায়।
গৌরাঙ্গের কথা কহি প্রবোধয়ে তায়॥
নিত্যানন্দ বলে মাতা থির কর মন।
কুশলে আছয়ে সুখে তোমার নন্দন॥
তোমারে দেখিতে মোরে পাঠাইয়া দিল।
তোর পদযুগে কত প্রণতি করিল॥
কানুদাস কহে মাতা কহি তোর ঠাঞি।
তোমার প্রেমে বান্ধা আছে গৌরাঙ্গ গোসাঞি॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
আরে আরে মোর নিতাইচাঁদ
আরে মোর পহুঁ নিতাইচাঁদ
ভণিতা কানু দাস
এই পদটি বিশ্বনাথ চক্রবর্তী (হরিবল্লভ দাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭০০ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯২৪ সালে, রাধানাথ কাবাসী দ্বারা সম্পাদিত সংকলন “শ্রীশ্রীক্ষণদা-
গীতচিন্তামণি”, দশম ক্ষণদা, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দচন্দ্রস্য।
॥ শ্রীরাগ॥

আরে আরে মোর নিতাইচাঁদ।
ঘরে ঘরে দিল প্রেমের ফাঁদ॥
তাপিত অখিল সকল জনে।
সিঞ্চিল নিতাই নয়ন-কোণে॥
অপার করুণা গৌড় দেশে।
নাচিয়া বুলেন প্রেমের আবেশে॥
ঢুলিতে ঢুলিতে কত না ভাতি।
কমল চরণে খরয়ে গতি॥
কহে গদ গদ ভায়ার কথা।
পূরল জলে নয়ন রাতা॥
আরকত গৌরসুন্দর-তনু।
পুলক কদম্ব-কেশর জনু॥
বিবিধ ভূষণ ভূষিত অঙ্গে।
ভকত মিলি গায় পরম রঙ্গে॥
পদে প্রেম মাগে কানু দাসে।
শুনিয়া করুণা বাঢ়ল আশে॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং  
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড,
৪র্থ শাখা, ২২শ পল্লব, শ্রীনিত্যানন্দের গুণবর্ণন, পদসংখ্যা ২৩২৭-তে এই রূপে দেওয়া
রয়েছে। এই পদটি উনবিংশ শতকে প্রকাশিত নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
২৪৩১ সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

আরে মোর পহুঁ নিতাইচাঁদ।
ঘরে ঘরে দিল প্রেমের ফাঁদ॥
তাপিত অখিল সকল জনে।
সিঞ্চিত করল নয়ন-কোণে॥
অপার করুণা গৌড়-দেশে।
নাচিয়া বুলয়ে ভাব-আবেশে॥
গদগদ কহে ভাইয়ার কথা।
প্রেম-জলে ডুবে নয়ন রাতা॥
আরকত গোরা সুন্দর-তনু।
পুলক কদম্ব-কেশর জনু॥
বিবিধ ভূষণে ভূষিত অঙ্গ।
ভকত মিলিয়া গায়ত রঙ্গ॥
ঢুলিতে ঢুলিতে কত না ভাতি।
কমল-চরণে খঞ্জন-গতি॥
করুণা শুনিয়া বাঢ়ল আশ।
প্রেম মাগে পদে এ কানুদাস॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৮৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ বরাড়ী॥

আরে মোর পহুঁ নিতাইচাঁদ।
ঘরে ঘরে পাতে প্রেমের ফাঁদ॥
তাপিত অখিল সকল জনে।
সিঞ্চিত সকল নয়ান কোণে॥
অপার করুণা গৌরদেশে।
নাচিয়া বুলেন ভাবের আবেশে॥
গদ গদ কহে ভাইয়ার কথা।
প্রেমজলে ডুবে নয়ন রাতা॥
আর কত গৌরসুন্দর তনু।
পুলকে কদম্ব কেশর জনু॥
বিবিধ ভূষণে ভূষিত অঙ্গ।
ভকত মিলিয়া করত রঙ্গ॥
ঢলিতে ঢলিতে কত না ভাতি।
কমল চরণে খঞ্জন গতি॥
করুণা শুনিয়া বাঢ়ল আশ।
প্রেম লাগে পদে এ কানু দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীনিত্যানন্দের গুণবর্ণন
॥ তথারাগ॥

আরে মোর পহু নিতাই চাঁদ।
ঘরে ঘরে দিল প্রেমের ফাঁদ॥
তাপিত অখিল সকল জনে।
সিঞ্চিত করল নয়নকোণে॥
অপার করুণা গৌড়দেশে।
নাচিয়া বুলয়ে ভাবআবেশে॥
গদগদ কহে ভাইয়ার কথা।
প্রেমজলে ডুবে নয়ন রাতা॥
আরকত গোরা সুন্দরতনু।
পুলক কদম্বকেশর জনু॥
বিবিধ ভূষণে ভূষিত অঙ্গ।
ভকত মিলিয়া গায়ত রঙ্গ॥
ঢুলিতে ঢুলিতে কত না ভাতি।
কমলচরণে খঞ্জনগতি॥
করুণা শুনিয়া বাঢ়ল আশ।
প্রেম মাগে পদে এ কানুদাস॥

ই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ১৮০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আরে মোর পহু নিতাই চাঁদ।
ঘরে ঘরে দিল প্রেমের ফাঁদ॥
তাপিত অখিল সকল জনে।
সিঞ্চিত করল নয়নকোণে॥
অপার করুণা গৌড়দেশে।
নাচিয়া বুলয়ে ভাবআবেশে॥
গদগদ কহে ভাইয়ার কথা।
প্রেমজলে ডুবে নয়ন রাতা॥
আরকত গোরা সুন্দরতনু।
পুলক কদম্বকেশর জনু॥
বিবিধ ভূষণে ভূষিত অঙ্গ।
ভকত মিলিয়া গায়ত রঙ্গ॥
ঢুলিতে ঢুলিতে কত না ভাতি।
কমলচরণে খঞ্জনগতি॥
করুণা শুনিয়া বাঢ়ল আশ।
প্রেম মাগে পদে এ কানুদাস॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কে গো অই গৌরবর্ণ বাঁকা ভুরু বাঁকা নয়ন
ভণিতা কানুদাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সুহই॥

কে গো অই গৌরবর্ণ                    বাঁকা ভুরু বাঁকা নয়ন
চিন চিন চিন যেন করি।
এই না সে নন্দের গোপাল               যশোদার জীবন-দুলাল
আইল করি গোপীর মন চুরি॥
শিরে ছিল মোহন-চূড়া                    এবে মাথা কৈল নেড়া
কৌপীন পড়িল ধড়া ছাড়ি।
গোপীমন মোহনের তরে                  মোহনবাঁশী ছিল করে
এবে সে হইল দণ্ডধারী॥
নীপতরু-মূলে গিয়া                          অধরে মূরলী লৈয়া
রাধানাম করিত সাধন।
এবে সুরধুনী-তীরে                          বাহু দুটী উচ্চ ক’রে
সদাই করয়ে সংকীর্ত্তন॥
নবীন নাগর সাজে                           গোপী সহ কুঞ্জমাঝে
করিত যে বিবিধ বিলাস।
এবে পারিষদ সঙ্গে                           নাম যাচে দীনবেশে
সেই এই কহে কানুদাস॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
আয়ত নিত্যানন্দ অবধূত চাঁদ
ভণিতা কানু দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৮৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণ॥

আয়ত নিত্যানন্দ অবধূত চাঁদ।
সহজ গমন                        নটন গতি সুন্দর
ত্রিভুবন জন মোহন ছাঁদ॥ ধ্রু॥
বয়ন বয়ন                          সুবিমল সুন্দর
অম্বুজ মধুলিহ ভুজযুগ ভাতি।
অরুণাধরদ্যুতি              অরুণিহ শোভে অতি
দশন মোতিফল পাঁতি॥
ভবতাপিত জন                     সিঞ্চহ সকরুণ
বচন পীযূষ-রস ধারে॥
হরেকৃষ্ণ নাম                    কিরণে নাশই সব
দুর্ব্বাসনা আঁধিয়ারে॥
চৌদিকে সঙ্গী                        রঙ্গী উড়ুমণ্ডল
নিশি দিশি চাঁদ পরকাশে।
শ্রীজাহ্নবাবল্লভ                        শ্রীপাদপল্লব
আশে শ্রীকানু দাস ভাষে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
প্রেমে মাতোয়ারা নিতাই নাগর
ভণিতা কানু দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৮৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

প্রেমে মাতোয়ারা নিতাই নাগর।
অতুলিত প্রেম দয়ার সাগর॥
প্রেমভরে অন্তর গর গর।
না জানে পহুঁ কে আপন পর॥
হেন দয়া কোথা এ ধরণী পর।
দেয় প্রেম বেদবিধি অগোচর॥
পাতকী উদ্ধার কার্য্য নিরন্তর।
পতিতের দুখে নেত্র ঝর ঝর॥
যাচি প্রেম দেয় সবে অকাতর।
অফুরন্ত যেন ভাণ্ডার সুন্দর॥
কানু দাস কহে জুড়ি দুই কর।
পদে দিহ স্থান এ দীন কিঙ্কর॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
বিদ্যানগরাধিপ অপার সম্পদশালী
ভণিতা কানুদাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

বিদ্যানগরাধিপ                         অপার সম্পদশালী
রামরায় পুরুষপ্রধান।
গৃহে পাইয়া শ্রীগৌরাঙ্গ                  আপনার মনোভৃঙ্গ
তার পদে করিলেক দান॥
ধন্য ধন্য রায় রামানন্দ।
যাহার পাইয়া সঙ্গ                     প্রভু মোর শ্রীগৌরাঙ্গ
ভুঞ্জিলেক অসীম আনন্দ॥ ধ্রু॥
দোহে প্রশ্নোত্তরছলে                     স্বাধায় নির্ণয় কৈলে
জানি জীব-সাধন-সন্ধান।
যাহার রসের পদ                        যেন ফুল্ল কোকনদ
রসিকজনের সে পরাণ॥
রামানন্দ পদরজ                        শিরে ধরি সদা ভজ
ভজনের সারাত্সার ধন।
কানুদাস মতিহীন                         মধুর রসেতে দীন
রামরায় দেও শ্রীচরণ॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর