| কবি কানু দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| জীবে এমন দয়া কোথাও না দেখি ভণিতা কানু / কানুদাস এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কোনও কোনও পদাবলী সংকলনে এই পদটি কানুদাস ভণিতায় দেওয়া রয়েছে। শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ॥ বরাড়ী॥ জীবে এমন দয়া কোথাও না দেখি নায়র চৈতন্য প্রভু। দীন হীন জনে এমন করুণা আর নাহি দেখি কভু॥ যুগধর্ম্ম লাগি বৈরাগী হইয়া ভ্রমি ফিরে দেশ দেশ। পাইয়া অকিঞ্চন যাচে প্রেমধন বিলায় করুণাশেয॥ নাম সঙ্কীর্ত্তন পরম নিগূঢ় প্রচারে হৈয়া অমায়া। ধীরাধীর জড় অন্ধ আতুর সভারে সমান দয়া॥ ত্রিতাপে তাপিত দেখিয়া জগত আঁখি ভরে প্রেমজলে। শীতল করিতে হেরি কৃপাদিঠে বরখিয়ে কানু বোলে॥ এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২১শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস ইত্যাদি, পদসংখ্যা ২২৪৩-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি উনবিংশ শতকে প্রকাশিত নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির ২৩৪৮ সংখ্যক পদ। ॥ বরাড়ী॥ জীবে এমন দয়া কোথাও না দেখি নায়র চৈতন্য প্রভু। দীন হীন জনে এমন করুণা আর নাহি দেখি কভু॥ যুগ-ধর্ম্ম লাগি বৈরাগী হইয়া ভ্রমি ফিরে দেশে দেশে। পাইয়া অকিঞ্চন যাচে প্রেম-ধন বিলায় করুণাবেশে॥ নাম-সঙ্কীর্ত্তন পরম নিগূঢ় প্রচারে হৈয়া অমায়া। ধীরাধীর জড় পতঙ্গ আতুর সভারে সমান দয়া॥ ত্রি-তাপে-তাপিত দেখিয়া জগত নয়ন ভরল প্রেম-জলে। শীতল করিতে হেরি কৃপা-দিঠে বরখিয়ে কানুদাসে বোলে॥ এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বরাড়ী॥ জীবেরে এমন দয়া কোথাও না দেখি নায়র চৈতন্য প্রভু। দীন হীন জনে এমন করুণা আর নাহি দেখি কভু॥ যুগধর্ম্ম লাগিয়া বৈরাগ্যে ভ্রমিয়া ফিরেন দেশে দেশে। পাইয়া অকিঞ্চন যাচিঞা প্রেমধন বিলায় করুণা-আবেশে॥ নিজ নাম সঙ্কীর্ত্তন পরম নিগূঢ় ধন করুণায় গঢ়ল কায়া। ধীরা অধীর জড় পঙ্গু অন্ধ আতুর সবারে সমান দয়া॥ তিন তাপে তাপিত দেখিয়া ত্রিজগত নয়ন ভরল প্রেমজলে। শীতল করিতে হেরিয়া কৃপাদিঠি বরখিয়ে কানুদাসে বলে॥ এই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। জীবে এমন দয়া কোথাও না দেখি . নায়র চৈতন্য প্রভু। দীন হীন জনে এমন করুণা . আর নাহি দেখি প্রভু॥ যুগধর্ম্ম লাগি বৈরাগী হইয়া . ভ্রমি ফিরে দেশ দেশ। পাইয়া অকিঞ্চন যাচে প্রেমধন . বিলায় করুণাশেষ॥ নাম সঙ্কীর্ত্তন পরম নিগূঢ় . প্রচারে হৈয়া অমায়া। ধীরাধীর জড় অন্ধ আতুর . সভারে সমান দয়া॥ ত্রিতাপে তাপিত দেখিয়া জগত . নয়ন ভরল প্রেমজলে। শীতল করিতে হেরি কৃপাদিঠে . বরখিয়ে কানু বোলে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সব সখিগণ মেলে দেব-আরাধন-ছলে ভণিতা কানু দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৬শ পল্লব, বসন্তকালোচিত মান, পদসংখ্যা ২০৪৮-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ সব সখিগণ মেলে দেব-আরাধন-ছলে কাননে চলিল ধনী রাই। সহচরীগণ সনে কুসুম তোড়ই বনে যতনে হার নিরমাই॥ বসিয়া মাধবী-কুঞ্জ মাঝে। অন্তরে মিলিব আশে বাহিরে না পরকাশে অভিমান গরব বেয়াজে॥ ধ্রু॥ বুঝিয়া মরম-আশ চলিলা নাগর পাশ পরম চতুরি প্রিয়-সখী। যেখানে রসিক-রাজ বসিয়া কুঞ্জের মাঝ বিরহে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥ তাহারে দেখিয়া কান পাইল পরাণ দান করযোড়ে কহে সখী পাশ। পর-দুখে দুখী হৈয়া দেহ রাই মিলাইয়া তোমার নিছনি কানু দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সূর্য্যপূজাচ্ছলে শ্রীরাধার অভিসার ॥ কামোদ॥ সব সখিগণ মেলে দেব আরাধন ছলে কাননে চলিল ধনী রাই। সহচরীগণ সনে কুসুম তোড়ই বনে যতনে হার নিরমাই॥ বসিয়া মাধবীকুঞ্জ মাঝে। অন্তরে মিলিব আশে বাহিরে না পরকাশে অভিমান গরব বেয়াজে॥ ধ্রু॥ বুঝিয়া মরম আশ চলিলা নাগর পাশ পরম চতুরি প্রিয়সখী। যেখানে রসিকরাজ বসিয়া কুঞ্জের মাঝ বিরহে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥ তাহারে দেখিয়া কান পাইল পরাণ দান করযোড়ে কহে সখী পাশ। পরদুখে দুখী হৈয়া দেহ রাই মিলাইয়া তোমার নিছনি কানুদাস॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময় কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ - তেওট॥ সব সখিগণ মেলে দেব-আরাধন-ছলে কাননে চলিল ধনী রাই। সহচরীগণ সনে কুসুম তোড়ই বনে যতনে হার নিরমাই॥ বসিয়া মাধবী-কুঞ্জ মাঝে। অন্তরে মিলিব আশে বাহিরে না পরকাশে অভিমান গরব বেয়াজে॥ ধ্রু॥ বুঝিয়া মরম আশ চলিলা নাগর পাশ পরম চতুরি প্রিয়-সখী। যেখানে রসিক-রাজ বসিয়া কুঞ্জের মাঝ বিরহে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥ তাহারে দেখিয়া কান পাইল পরাণ দান করযোড়ে কহে সখী পাশ। পর-দুখে দুখী হৈয়া দেহ রাই মিলাইয়া তোমার নিছনি কানুদাস॥ এই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সব সখিগণ মেলে দেব আরাধন ছলে . কাননে চলিলা ধনী রাই। সহচরীগণ সনে কুসুম তোড়ই বনে . যতনে হার নিরমাই॥ বসিয়া মাধবীকুঞ্জ মাঝে। অন্তরে মিলিব আশে বাহিরে না . পরকাশে অভিমান গরব বেয়াজে॥ বুঝিয়া মরম আশ চলিলা নাগর পাশ . পরম চতুরী প্রিয়সখী। যেখানে রসিকরাজ বসিয়া কুঞ্জের মাঝ . বিরহে ঝরয়ে দুটি আঁখি॥ তাহারে দেখিয়া কান পাইল পরাণ দান . করযোড়ে কহে সখী পাশ। পরদুখে দুখী হৈয়া দেহ রাই মিলাইয়া . তোমার নিছনি কানুদাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কে গো অই গৌরবর্ণ বাঁকা ভুরু বাঁকা নয়ন ভণিতা কানুদাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ কে গো অই গৌরবর্ণ বাঁকা ভুরু বাঁকা নয়ন চিন চিন চিন যেন করি। এই না সে নন্দের গোপাল যশোদার জীবন-দুলাল আইল করি গোপীর মন চুরি॥ শিরে ছিল মোহন-চূড়া এবে মাথা কৈল নেড়া কৌপীন পড়িল ধড়া ছাড়ি। গোপীমন মোহনের তরে মোহনবাঁশী ছিল করে এবে সে হইল দণ্ডধারী॥ নীপতরু-মূলে গিয়া অধরে মূরলী লৈয়া রাধানাম করিত সাধন। এবে সুরধুনী-তীরে বাহু দুটী উচ্চ ক’রে সদাই করয়ে সংকীর্ত্তন॥ নবীন নাগর সাজে গোপী সহ কুঞ্জমাঝে করিত যে বিবিধ বিলাস। এবে পারিষদ সঙ্গে নাম যাচে দীনবেশে সেই এই কহে কানুদাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| আয়ত নিত্যানন্দ অবধূত চাঁদ ভণিতা কানু দাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৮৫-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কল্যাণ॥ আয়ত নিত্যানন্দ অবধূত চাঁদ। সহজ গমন নটন গতি সুন্দর ত্রিভুবন জন মোহন ছাঁদ॥ ধ্রু॥ বয়ন বয়ন সুবিমল সুন্দর অম্বুজ মধুলিহ ভুজযুগ ভাতি। অরুণাধরদ্যুতি অরুণিহ শোভে অতি দশন মোতিফল পাঁতি॥ ভবতাপিত জন সিঞ্চহ সকরুণ বচন পীযূষ-রস ধারে॥ হরেকৃষ্ণ নাম কিরণে নাশই সব দুর্ব্বাসনা আঁধিয়ারে॥ চৌদিকে সঙ্গী রঙ্গী উড়ুমণ্ডল নিশি দিশি চাঁদ পরকাশে। শ্রীজাহ্নবাবল্লভ শ্রীপাদপল্লব আশে শ্রীকানু দাস ভাষে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| বিদ্যানগরাধিপ অপার সম্পদশালী ভণিতা কানুদাস এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩০১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ কামোদ॥ বিদ্যানগরাধিপ অপার সম্পদশালী রামরায় পুরুষপ্রধান। গৃহে পাইয়া শ্রীগৌরাঙ্গ আপনার মনোভৃঙ্গ তার পদে করিলেক দান॥ ধন্য ধন্য রায় রামানন্দ। যাহার পাইয়া সঙ্গ প্রভু মোর শ্রীগৌরাঙ্গ ভুঞ্জিলেক অসীম আনন্দ॥ ধ্রু॥ দোহে প্রশ্নোত্তরছলে স্বাধায় নির্ণয় কৈলে জানি জীব-সাধন-সন্ধান। যাহার রসের পদ যেন ফুল্ল কোকনদ রসিকজনের সে পরাণ॥ রামানন্দ পদরজ শিরে ধরি সদা ভজ ভজনের সারাত্সার ধন। কানুদাস মতিহীন মধুর রসেতে দীন রামরায় দেও শ্রীচরণ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |