কবি কানু দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
জয় জয় গৌরাঙ্গচাঁদের প্রিয় রাম
ভণিতা দীন কানুদাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩০২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

জয় জয় গৌরাঙ্গচাঁদের প্রিয় রাম।
বিষয়ে বিষয়ী বড়                         ভক্তিতে ভকত দঢ়
মধুর রসেতে রসধাম॥ ধ্রু॥
কি কব রামের গুণ                      যারে লভি পুনঃ পুনঃ
মহাপ্রভু কৈল আলিঙ্গন।
করিলা সঙ্গেতে যার                        সাধ্যের বস্তু বিচার
যাহাতে মোহিত জগজন॥
রসে ভাসি রাম রায়                         রসের সঙ্গীত গায়
বিরচিল রসপদ বহু।
যাহার রসের কথা                          যাহার রসের গাথা
শুনি মুখ চাপি ধরে পহুঁ॥
না হম রমণী                                   না সো রমণ-মণি
ন দূতি মধত পাঁচবাণ।
এমন নিগূঢ় ভাব                         আনে কি হোয়ব লাভ
রসিকের হরে মনঃপ্রাণ॥
দেবকন্যা সঙ্গে লৈয়া                    নিত্য ভাবে মত্ত হৈয়া
যে করিল মধুর সাধন।
কহে দীন কানুদাস                         বড় মনে অভিলাষ
ভজি সদা রামের চরণ॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
মরমে রাখিবে সই কারে না কহিবে
ভণিতা কানুদাস
এই পদটি ১৮৪৯ সালে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“পদকল্পলতিকা”, ৭২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস॥

মরমে রাখিবে সই কারে না কহিবে।
অবলা এ তেক তপ করেছিল কবে॥
পরম পুরুষ এই নন্দের কুমার।
কিলাগি সে ধরে সই গো চরণে আমার॥
আপনার মুরলী দেয় চূড়া বাঁধে শিরে।
আপনি রমণী হইয়া বসে মোর উরে॥
কহিতে সরম সই বলিতে সরম।
মোরে আচরিতে বলে পুরুষ ধরম॥
বন্ধুর কাজরে পিঞা বনায় মোর বেশ।
বলিয়া বলিয়া পিয়া বাঁধে মোর কেশ॥
সুগন্ধি চন্দন পিয়া মোর অঙ্গে লেপে।
নখে করি নিজ নাম কত সুখে লিখে॥
না কহিও সই গো এ গোপত কথা।
নাপিতিনী হইয়া দেয় চরণে আলতা॥
এ গোপত কথা সই না কহিও কারে।
পিয়া গুণে কানুদাস সদা হিয়া ঝুরে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
সজনি শুন এক মনের মরম
ভণিতা কানু দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ সালে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ১২৪-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ বড়াড়ী॥

সজনি শুন এক মনের মরম।
একদিন জাতিকুল, রেখেছিলাম হাতে হাতে, মজাইলাম কুলের ভরম॥
কানু সে কালিন্দীতীরে, মুই গেলেম যমুনা-নীরে, গাখানি মাজিতেছিনু একা।
যুবতীর চিত চোরা, জলের ভেতরে গো, যৌবন রতনে দিল দাগা॥
কাল সে কালিন্দি-জল, কাল তার কলেবর, কাল করে পরিয়াছে বাস।
কাল জলে কাল তনু, লখিতে নারিনু গো, ছুঁইয়া করিনু জাতি নাশ॥
প্রচার করিব বলি, বহুত মিনতি করি, তরাসে ধরিতে চায় পায়।
শ্যামের বিকলি দেখি, মনে মনে শুনি সখি, লুকায় রাখি গো গোরা গায়॥
হিয়ার মাঝে শ্যাম, লুকায়ে রাখি গো, উপরেতে ঝাঁপিয়া নীল বাস।
হেন কালে গুরুজন, ধরিতে নারিনু মন, অনুমানে কহে কানু দাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৭১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ দিনান্তরে॥

সজনি, শুন এক মনের মরম।
এক দিন জাতি কুল                   রেখেছিলাম হাতে হাতে
মজাইলাম কুলের ভরম॥

কানু সে কালিন্দী তীরে                মুই গেলেম যমুনা নীরে
গাখানি মাজিতেছিলুঁ একা।
কুলবতী-চিত-চোরা                        জলের ভেতরে গো
অকল্ঙ্ক কুলে দিল দাগা॥

কাল সে কালিন্দী-জল                     কাল তার কলেবর
তাথে কাল পরিয়াছে বাস।
কাল জলে কাল তনু                        লখিতে নারিলুঁ গো
ছুঁইঞা করিল জাতি নাশ॥

প্রচার করিব বলি                          বহুত মিনতি করি
তরাসে ধরিতে চায় পায়।
শ্যামের বিকলি দেখি                      মনে মনে শুনি সখি
লুকায় রাখিয়ে গোরা গায়॥

হিয়ার মাঝে শ্যাম                        লুকায়ে রাখিয়ে গো
উপরেতে ঝাঁপি নীল বাস।
হেন কালে গুরুজন                        ধরিতে নারিছে মন
অনুমানে কহে কানু দাস॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর