| কবি কানুরাম দাস-এর বৈষ্ণব পদাবলী |
| ধনি সহজে রাজার ঝি ভণিতা কানুরাম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৪র্থ পল্লব, বসন্তকালোচিত উত্কণ্ঠিতা, পদসংখ্যা ৩১১-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিহগড়া॥ ধনি সহজে রাজার ঝি। ঘরের বাহির কখন না হয় আমরা দেখিয়াছি॥ ধ্রু॥ তাহাতে রজনি কানন মাঝারে করয়ে কমল-শেজ। মিনতি করিয়া প্রিয়-সখিগণে কানুক উদ্দেশে ভেজ॥ সবহুঁ রজনি নিন্দ যায়ে ধনি রতন পালঙ্ক পরে। সে যে কমলিনী জাগয়ে যামিনী নিমিখ না দেই ডরে॥ কর পদতল ও থল-কমল নুনির পুতলি দেহ। সে যে সুকুমারী কান্দয়ে গুমরি এত না সহিবে কেহ॥ এ ঘর বাহির করে কত বার কপট-শঠের আশ। এতহুঁ বিপদ সহিতে না পারি ধায় কানুরাম দাস॥ এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১১১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বেহাগ॥ ধনি সহজে রাজার ঝি। ঘরের বাহির না হয় কখন আমরা দেখিএছি॥ ধ্রু॥ তাহাতে রজনি কানন মাঝারে করিয়ে কমল সেজ। মিনতি করিএ প্রিয় সখীগণে কাহ্নর উদ্দিসে ভেজ॥ সবহু রজনী নিন্দ জায়ে ধনি রতনপালঙ্ক পরে। শেজে কমলিনী জাগএ যামিনী নিমিখ না দেই ডরে॥ করপদতল উথল কমল নুনির পুতলী দেহ। শেজে সুকুমারী কান্দএ গুমারি এত না সহিবে কে॥ এ ঘর বাহির কর কতবার কপট শঠের আশ। এতহু বিপদ সহিতে না পারি ধায় কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিহগড়া॥ ধনি সহজে রাজার ঝি। ঘরের বাহিরে কখন না হয় আমরা দেখিয়াছি॥ তাহাতে রজনী কানন মাঝারে করয়ে কমল-শেজ। মিনতি করিয়া প্রিয়-সখীগণে কানুক উদ্দিশে ভেজ॥ সবহুঁ রজনী নিন্দ যায়ে ধনি রতন পালঙ্কোপরে। সে যে কমলিনী জাগয়ে যামিনী নিমিখ না দেই ডরে॥ কর পদতল ও থল-কমল নুনির পুতলী দেহ। সে যে সুকুমারী কান্দয়ে গুমরি এত না সহিবে কেহ॥ এ ঘর বাহির করে কত বার কপট শঠের আশ। এতহুঁ বিপদ সহিতে না পারি ধায় কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বসন্তকালোচিত উত্কণ্ঠিতা ॥ বিহগড়া॥ ধনি সহজে রাজার ঝি। ঘরের বাহির কখন না হয় আমরা দেখিয়াছি॥ ধ্রু॥ তাহাতে রজনি কানন মাঝারে করয়ে কমলশেজ। মিনতি করিয়া প্রিয় সখিগণে কানুক উদ্দেশে ভেজ॥ সবহুঁ রজনি নিন্দ নাই ধনি রতন পালঙ্ক পরে। সে যে কমলিনী জাগয়ে যামিনী নিমিখ না দেই ডরে॥ কর পদতল ও থল-কমল নুনির পুতলি দেহ। সে যে সুকুমারী কান্দয়ে গুমরি এত না সহিবে কেহ॥ এ ঘর বাহির করে কত বার কপট শঠের আশ। এতহুঁ বিপদ সহিতে না পারি ধায় কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময় কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৪৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ বিহগড়া - মধ্যম দশকুশী॥ ধনি সহজে রাজার ঝি। ঘরের বাহির কখন না হও আমরা দেখিয়াছি॥ ধ্রু॥ তাহাতে রজনি কানন মাঝারে করয়ে কমল-শেজ। মিনতি করিয়া প্রিয় সখিগণে কানুক উদ্দেশে ভেজ॥ সবহুঁ রজনি নিন্দ যায় ধনি রতন পালঙ্ক পরে। সে যে কমলিনী জাগয়ে যামিনী নিমিখ না দেই ডরে॥ কর পদতল ওথল কমল নুনীর পুতলি দেহ। সে যে সুকুমারী কান্দয়ে গুমরি এত না সহিবে কেহ॥ এঘর বাহির করে নিরন্তর কপট শঠের আশ। এতহু বিপদ সহিতে না পারি ধায় কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদরত্নাবলী”, ১০০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ধনি সহজে রাজার ঝি। ঘরের বাহির কখনো না হয় আমরা দেখিয়াছি॥ তাহাতে রজনী কানন মাঝারে করয়ে কমল-শেজ। মিনতি করিয়া প্রিয় সখীগণে কানুক উদ্দেশ ভেজ॥ সবহুঁ রজনী নিন্দ যায়ে ধনি রতন পালঙ্ক পরে। সে যে কমলিনী জাগয়ে যামিনী নিমিখ না দেই ডরে॥ কর পদতল ও থল-কমল নুনির পুতলি দেহ। সে যে সুকুমারী কান্দয়ে গুমরি এত না সহিবে কেহ॥ এ ঘর বাহির করে কতবার কপট শঠের আশ। এতহুঁ বিপদ সহিতে না পারি ধায় কানুরাম দাস॥ ব্যাখ্যা - কাজেই সুদীর্ঘ প্রতীক্ষার ভারে পীড়িতা নায়িকা শেষে সখীদের পাঠালেন কৃষ্ণের কাছে। তারা দেখেছে চির সুখের ক্রোড়ে লালিতা সেই আদরিণী কন্যা কখনও ঘরের বাইরে সচরাচর যায় না। তারা এখন দেখছে ঘোর নিশীথে অরণ্য-নিভৃতে সে এখন প্রতীক্ষায় স্থির। সে চোখের পলক পর্যন্ত ফেলে না---এই ভয়ে যদি এক নিমেষের জন্যও তার কৃষ্ণ আড়ালে চলে যায়। গুমরে গুমরে সে কেঁদে-কেঁদে রাত পোহায়। আর ঘর বার করে।---সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বৈষ্ণব পদরত্নাবলী॥ এই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৮১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ধনি সহজে রাজার ঝি। ঘরের বাহির কখন না হয় . আমরা দেখিয়াছি॥ তাহাতে রজনি কানন মাঝারে . করয়ে কমল-শেজ। মিনতি করিয়া প্রিয় সখিগণে . কানুক উদ্দেশে ভেজ॥ সবহুঁ রজনি নিন্দ নাই ধনি , রতন পালঙ্ক পরে। সে যে কমলিনী জাগয়ে যামিনী . নিমিখ না দেই ডরে॥ কর পদতলে ও থল কমল . নুনির পুতলি দেহ। সে যে সুকুমারী কান্দয়ে গুমরি . এত না সহিবে কেহ॥ এ ঘর বাহির করে কত বার . কপট শঠের আশ। এতহুঁ বিপদ সহিতে না পারি . ধায় কানুরাম দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| পবনক পরশহিঁ বিচলিত পল্লব ভণিতা কানুরাম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৫ম পল্লব, হিমকালোচিত উত্কণ্ঠিতা, পদসংখ্যা ৩৩২-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পবনক পরশহিঁ বিচলিত পল্লব শবদহিঁ সজল নয়ান। সচকিতে সঘনে নয়নে ধনি নিরখয়ে জানল আয়ল কান॥ মাধব সমুঝল তুয়া চতুরাই। তমালক কোরে আপন তনু ছাপসি অব কৈসে রহবি ছাপাই॥ ধ্রু॥ পুনহি বিলম্বে ফিরয়ে সব কাননে পুন অনুমানয়ে চীতে। ভুলল পন্থ অন্ত নাহি পায়ল না বুঝিয়ে নাগর-রীতে॥ নূপুর-রণিত- কলিত নব মাধুরি শুনইতে শ্রবণ উল্লাস। আগুসরি রাই কাননে অবলোকই কহতহি কানুরাম দাস॥ এই পদটি উনবিংশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৪৭৬ সংখ্যক পদ। এই পুথিতে পদটি বেশ কিছু পাঠান্তর সহ গোবিন্দ দাসের ভণিতায় দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পবন পরাগ চলিত নব পল্লব পুন পুন হেরই বালা। সচকিত নয়নে সঘনে ধনি নিরখয়ে জানলু আয়ল কালা॥ মাধব জানলু তুয়া চতুরাই। তমালক রোখে আপন তনু ঝাপ্পসি রহলহি মুহ ছাপাই॥ ধ্রু॥ বিলম্ব হেরি ফিরি সব কাননে পুন অনুমানয়ে চিতে। ভোয়ল পন্থ অন্ত নাহি পায়ই না বুঝল নাগর রীতে॥ নূপুর খপুর রণিত বর মাধুরী শুনইতে শ্রবণ উল্লাস। আগুসরি সুন্দরী কানু অবলোকই গায়ই গোবিন্দ দাস॥ এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানসী॥ পবনক পরশই বিচলিত পল্লব সব দুহ সজল নয়ান। সচকিত সঘনে নয়ানে ধনি নিরখয়ে জানলু আওল কান॥ মাধব সমুঝল তুয়া চতুরাই। তমালক কোরে আপন ছাপাওসি অব কৈছে রহবি ছাপাই॥ ধ্রু॥ পুনহিঁ বিলম্বে ফিরয়ে সব কাননে পুন অনুমানয়ে চিতে। ভুলল পন্থ অন্ত নাহি পাওল না বুঝিএ নাগর রীতে॥ নূপুর বলিত কলিত নব মাধুরী সুনইতে শ্রবণ উল্লাস। আগুসারি রাই কাননে অবলোকই কহতহি কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ পবনক পরশহিঁ বিচলিত পল্লব শবদহিঁ সজল নয়ান। সচকিতে সঘনে নয়নে ধনি নিরখয়ে জানল আয়ল কান॥ ‘মাধব সমুঝল তুয়া চতুরাই। তমালক কোরে আপন তনু ছাপসি অব কৈছে রহবি ছাপাই॥’ পুনহি বিলম্বে ফিরয়ে সব কাননে পুন অনুমানয়ে চিতে। ভু’লল পন্থ অন্ত নাহি পায়ল না বুঝিয়ে নাগর-রীতে॥’ নূপুর-রণিত- কলিত নব মাধুরী শুনইতে শ্রবণ উল্লাস। আগুসরি রাই কাননে অবলোকই কহতহি কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। বাসকসজ্জা ॥ ধানশী॥ পবন পরশহি বিচলিত পল্লব শবদহিঁ সজল নয়ান। সচকিত সঘনে নয়ন ধনি নিরখয়ে জানল আয়ল কান॥ মাধব সমুঝল তুয়া চতুরাই। তমালক কোরে আপন তনু ছাপসি আর কৈছে রহবি ছাপাই॥ ধ্রু॥ পুনহি বিলম্বে ফিরয়ে সব কাননে পুন অনুমানয়ে চীতে। ভুলল পন্থ অন্ত নাহি পায়ই না বুঝিয়ে নাগররীতে॥ নূপুর রণিত কলিত নব মাধুরি শুনইতে শ্রবণ উল্লাস। আগুসরি রাই কাননে অবলোকই কহতহি কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৪১৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পবনক পরশহি বিচলিত পল্লব শবদহিঁ সজল নয়ান। সচকিতে সঘনে নয়নে ধনি নিরখয়ে জানল আয়ল কান॥ মাধব, সমুঝল তুয়া চতুরাই। তমালক কোরে আপন তনু ছাপলি অব কৈছে রহবি ছাপাই॥ পুনহি বিলম্বে ফিরয়ে সব কাননে পুন অনুমানয়ে চীতে। ভুলল পন্থ অন্ত নাহি পায়ল না বুঝিয়ে নাগর-রীতে॥ নূপুর-রণিত- কলিত নব মাধুরি শুনইতে শ্রবণ উল্লাস। আগুসরি রাই কাননে অবলোকই কহতহি কানুরাম দাস॥ টীকা - রাধা কৃষ্ণের জন্য উত্কণ্ঠিত প্রতীক্ষায় থকিবার পর বাতাসে গাছের পাতা নড়ায় মনে করিলেন, কৃষ্ণ বুঝি আসিয়াছেন। তিনি তাড়াতাড়ি বাহিরে আসিয়া চারিদিকে তাকাইলেন, কিন্তু কাহাকেও দেখিতে না পাইয়া বলিতেছেন---“বুঝেছি, বুঝেছি, তুমি তমাল গাছের পিছনে লুকাইয়াছ ; এখন আর কেমন করিয়া লুকাইয়া থাকিবে?” কিন্তু অনেকক্ষণ বাদেও কৃষ্ণ যখন বাহির হইলেন না, তখন ভাবিতেছেন, তাহা হইলে কি কৃষ্ণের পথ ভুল হইল? আবার মনে হইল, ঐ বুঝি তাহার নূপুরের রণঝনি শুনা যাইতেছে। আনন্দিত মনে রাধা কাননের পানে চাহিতে লাগিলেন। জয়দেবের “পততি পতত্রে বিচলিতপত্রে” ইত্যাদি সুপ্রসিদ্ধ পদের ছায়া এই পদে দেখা যায়।---বিমান বিহারী মজুমদার, ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য॥ এই পদটি ১৯৭৭ সালে প্রকাশিত, দেবনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদসঙ্কলন”, ১৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পবনক পরশহিঁ বিচলিত পল্লব শবদহিঁ সজল নয়ান। সচকিত সঘনে নয়ন ধনি নিরখয়ে জানল আয়ল কান॥ মাধব সমুঝল তুয়া চতুরাই। তমালক কোরে আপন তনু ছাপসি আর কৈছে রহবি ছাপাই॥ পুনহি বিলম্বে ফিরয়ে সব কাননে পুন অনুমানয়ে চীতে। ভুলল পন্থ অন্ত নাহি পায়ল না বুঝিয়ে নাগর রীতে॥ নূপুর-রণিত- কলিত নব মাধুরী শুনইতে শ্রবণ উল্লাস। আগুসরি রাই কাননে অবলোকই কহতহি কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। পবনক পরশহি বিচলিত পল্লব . শবদহিঁ সজল নয়ান। সচকিতে সঘনে নয়ন ধনি নিরখয়ে . জানল আয়ল কান॥ মাধব সমুঝল তুয়া চতুরাই। তমালক কোরে আপন তনু ছাপসি . আর কৈছে রহবি ছাপাই॥ পুনহি বিলম্বে ফিরয়ে সব কাননে . পুন অনুমানয়ে চীতে। ভুলল পন্থ অন্ত নাহি পায়ল . না বুঝিয়ে নাগররীতে॥ নূপুর রণিত কলিত নব মাধুরি . শুনইতে শ্রবণ উল্লাস। আগুসরি রাই কাননে অবলোকই . কহতহি কানুরাম দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| মন্দির তেজি কানন মাহা পৈঠলুঁ ভণিতা কানুরাম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২২ বঙ্গাব্দের (১৯১৫ সাল) ১ম খণ্ড, ২য় শাখা, ৫ম পল্লব, হিমকালোচিত উত্কণ্ঠিতা, পদসংখ্যা ৩৩৪-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ মন্দির তেজি কানন মাহা পৈঠলুঁ কানু মিলন-প্রতিআশে। অভরণ বসন অঙ্গে সব সাজল তাম্বুল কর্পুর বাসে॥ সজনী সো মুঝে বিপরিত ভেল। কানু রহল দূরে মনমথ আসি ফুরে সো নাহি দরশন দেল॥ ধ্রু॥ ফুল-শরে জর জর সকল কলেবর কাতরে মহি গড়ি যাই। কোকিল-বোলে ডোলে ঘন জীবন উঠ বসি রজনি গোঙাই॥ শীতল ভবন গরল সমান ভেল হিমাচল-বায়ু হুতাশ। লোচনে নীর থীর নাহি বান্ধয়ে কান্দয়ে কানুরাম দাস॥ এই পদটি উনিশ শতকের প্রথমার্ধে অনুলিখিত, দ্বিজ মাধব সংকলিত, “শ্রীপদমেরুগ্রন্থ”, ১০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথা রাগ॥ মন্দির তেজি কানন মাহা পৈঠই কানু মিলিব প্রীতিআসে। অভরণ বসন অঙ্গে সব সাজন তাম্বুল কর্পূর বাসে॥ সজনী সবহু বিপরীত ভেল। কানু রাহুল দূরে মনমথ আসি ফুরে সো নাহি দরশন দেল॥ ধ্রু॥ ফুলশরে জরজর সকল কলেবর কাতরে মহী গড়ি জাই। কোকিল বোলে ডোলে ঘন জীবন উঠ বসি রজনি গোঙাই॥ শীতল ভূতল গরল সমান ভেল হিমাচল বাউ হুতাশ। লোচনে নীর স্থির নাহি বান্ধই কান্দএ কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদ-সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”, ৩৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। হিমকালোচিত উত্কণ্ঠিতা ॥ তথা রাগ॥ মন্দির তেজি কানন মাহা পৈঠলুঁ কানু-মিলন-প্রতিআশে। অভরণ বসন অঙ্গে সব সাজল তাম্বুল কর্পুর বাসে॥ সজনি সবহুঁ বিপরীত ভেল। কানু রহল দূরে মনমথ আসি ফুরে সো নাহি দরশন দেল॥ ফুল-শরে জরজর সকল কলেবর কাতরে মহী গড়ি যাই। কোকিল-বোলে ডোলে ঘন জীবন উঠ বসি রজনী গোঙাই॥ শীতল ভূতল গরল সমান ভেল হিমাচল-বায়ু হুতাশ। লোচনে নীর থীর নাহি বান্ধয়ে কান্দয়ে কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। উত্কণ্ঠিতা ॥ তথা রাগ॥ মন্দির তেজি কানন মাহা পৈঠলুঁ কানু মিলন প্রতিআশে। অভরণ বসন অঙ্গে সব সাজলঁ তাম্বুল কর্পুর বাসে॥ সজনী সো মুঝে বিপরিত ভেল। কানু রাহুল দূরে মনমথ আসি ফুরে সো নাহি দরশন দেল॥ ধ্রু॥ ফুলশরে জরজর সকল কলেবর কাতরে মহি গড়ি যাই। কোকিল বোলে ডোলে ঘন জীবন উঠ বসি রজনি গোঙাই॥ শীতল ভবন গরল সমান ভেল হিমাচলবায়ু হুতাশ। লোচনে নীর থীর নাহি বান্ধয়ে কান্দয়ে কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৪২০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মন্দির তেজি কানন মাহা পৈঠলুঁ কানু মিলন-প্রতিআশে। অভরণ বসন অঙ্গে সব সাজল তাম্বুল কর্পুর বাসে॥ সজনী, সো মুঝে বিপরিত ভেল। কানু রাহুল দূরে মনমথ আসি ফুরে সো নাহি দরশন দেল॥ ফুলশরে জরজর সকল কলেবর কাতরে মহি গড়ি যাই। কোকিল বোলে ডোলে ঘন জীবন উঠি বসি রজনি গোঙাই॥ শীতল ভবন গরল সমান ভেল হিমাচল বায়ু হুতাশ। লোচনে নীর থীর নাহি বান্ধয়ে কান্দয়ে কানুরাম দাস॥ এই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৮৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মন্দির তেজি কানন মাহা পৈঠলুঁ . কানু মিলন প্রতিআশে। অভরণ বসনে অঙ্গে সব সাজলুঁ . তাম্বুল কর্পুর বাসে॥ সজনী সো মুঝে বিপরীত ভেল। কানু রাহুল দূরে মনমথ আসি ফুরে . সো নাহি দরশন দেল॥ ফুলশরে জরজর সকল কলেবর . কাতরে মহি গড়ি যাই। কোকিল বোলে ডোলে ঘন জীবন . উঠি বসি রজনি গোঙাই॥ শীতল ভবন গরল সমান ভেল . হিমাচলবায়ু হুতাশ। লোচনে নীর থীর নাহি বান্ধয়ে . কান্দয়ে কানুরাম দাস॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| না কহ না কহ সখি না কহিও আর ভণিতা কানুরাম দাস এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩৩০ বঙ্গাব্দের (১৯২৩ সাল) ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৬শ পল্লব, বসন্তকালোচিত মান, পদসংখ্যা ২০৪৭-তে এই রূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই। ছুটা দশকোশী॥ না কহ না কহ সখি না কহিও আর। সকল ছাড়িয়া যারে সার করিয়াছি গো সে ত না হৈল আপনার॥ ধ্রু॥ কুল শীল তেয়াগিয়া যার নাম ধেয়াইয়া জাগি নিশি বসিয়া কাননে। সে জন আমারে ছাড়ি আনে বিলসয়ে গো এত কিয়ে সহয়ে পরাণে॥ আমি ত অবলা জাতি আর তাহে কুলবতী আমরা কি প্রেম-অনুরাগী। কত প্রেমবতী সনে তাহারি বিলাস গো সে কেনে মরিবে মোর লাগি॥ শুনিয়া কহয়ে দূতী করযোড়ে করে নতি ক্ষেম ধনি সব অপরাধ। কানুরাম দাসে কয় মিলন উচিত হয় প্রেমে পড়িবে পাছে বাদ॥ এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৪৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মান ॥ সুহই - ছুটা দশকোশী॥ না কহ না কহ সখি না কহিও আর। সকল ছাড়িয়া যারে সার করিয়াছি গো সে ত না হইল আপনার॥ ধ্রু॥ কুল শীল তেয়াগিয়া যার নাম ধেয়াইয়া জাগি নিশি বসিয়া কাননে। সে জন আমারে ছাড়ি আনে বিলসয়ে গো এত কিয়ে সহয়ে পরাণে॥ আমি ত অবলা জাতি আর তাহে কুলবতী আমরা কি প্রেম অনুরাগী। কত প্রেমবতী সনে তাহারি বিলাস গো সে কেনে মরিবে মোর লাগি॥ শুনিয়া কহয়ে দূতী করযোড়ে করে নতি ক্ষেম ধনি সব অপরাধ। কানুরাম দাসে কয় মিলন উচিত হয় প্রেমে পড়িবে পাছে বাদ॥ এই পদটি ১৯৩৭-৫৩ সময় কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ৪৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই - ছুটা দশকোশী॥ না কহ না কহ সখি না কহিও আর। সকল ছাড়িয়া যারে সার করিয়াছি গো সে ত না হইল আপনার॥ ধ্রু॥ কুল শীল তেয়াগিয়া যার নাম ধেয়াইয়া জাগি নিশি বসিয়া কাননে। সে জন আমারে ছাড়ি আনে বিলসয়ে গো এত কিয়ে সহয়ে পরাণে॥ আমি ত অবলা জাতি আর তাহে কুলবতী আমরা কি প্রেম-অনুরাগী। কত প্রেমবতী সনে তাহারি বিলাস গো সে কেনে মরিবে মোর লাগি॥ শুনিয়া কহয়ে দূতী করযোড়ে করে নতি ক্ষেম ধনি সব অপরাধ। কানুরাম দাসে কয় মিলন উচিত হয় প্রেমে পড়িবে পাছে বাদ॥ এই পদটি ১৯৬১ সালে প্রকাশিত, বিমান বিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর পদাবলী-সাহিত্য”, ৪৩৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। না কহ না কহ সখি, না কহিও আর। সকল ছাড়িয়া যারে সার করিয়াছি গো সে ত না হইল আপনার॥ কুল শীল তেয়াগিয়া যার নাম ধেয়াইয়া জাগি নিশি বসিয়া কাননে। সে জন আমারে ছাড়ি আনে বিলসয়ে গো এত কিয়ে সহয়ে পরাণে॥ আমি ত অবলা জাতি আর তাহে কুলবতী আমরা কি প্রেম-অনুরাগী। কত প্রেমবতী সনে তাহারি বিলাস গো সে কেনে মরিবে মোর লাগি॥ শুনিয়া কহয়ে দূতী করযোড়ে করে নতি ক্ষেম ধনি সব অপরাধ। কানুরাম দাসে কয় মিলন উচিত হয় প্রেমে পড়িবে পাছে বাদ॥ এই পদটি ১৯৮৬ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ১৮২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। না কহ না কহ সখি, না কহিও আর। সকল ছাড়িয়া যারে সার করিয়াছি গো . সে ত না হইল আপনার॥ কুল শীল তেয়াগিয়া যার নাম ধেয়াইয়া . জাগি নিশি বসিয়া কাননে। সে জন আমারে ছাড়ি আনে বিলসয়ে . গো এত কিয়ে সহয়ে পরাণে॥ আমি ত অবলা জাতি আর তাহে . কুলবতী আমরা কি প্রেম অনুরাগী। কত প্রেমবতী সনে তাহারি বিলাস গো . সে কেনে মরিবে মোর লাগি॥ শুনিয়া কহয়ে দূতী করযোড়ে করে নতি . ক্ষেম ধনি সব অপরাধ। কানুরাম দাসে কয় মিলন উচিত হয় . প্রেমে পড়িবে পাছে বাদ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |