কবি মনোহর দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
জয় জয় নিত্যানন্দ-চন্দ্র-বর
কবি মনোহর দাস
এই পদটি গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭৫০ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯১৫ সালে,  সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ১ খণ্ড, ১ম শাখা, ১ম পল্লব, মঙ্গলাচরণ, ৭-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ তুড়ী॥

জয় জয় নিত্যানন্দ-চন্দ্র-বর।
জয় শান্তীপুর-নগর-সুধাকর॥
জয় বসু-জাহ্নবি-দেবি-হৃদয়-হর।
জয় জয় সীতামোদ-কলেবর॥
বীর-তাত জয় জীব-প্রিয়ঙ্কর।
জয় জয় অচ্যুত-জনক মহেশ্বর॥
জয় জয় গৌর-অভিন্ন-কলেবর।
ফুকরই কাতর দাস মনোহর॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ৭-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ তুড়ী॥

জয় জয় নিত্যানন্দ-চন্দ্র-বর।
জয় শান্তিপুর-নগর-সুধাকর॥
জয় বসু-জাহ্নবি-দেবি-হৃদয়-হর।
জয় জয় সীতামোদ-কলেবর॥
বীর-তাত জয় জীব-প্রিয়ঙ্কর।
জয় জয় অচ্যুত-জনক মহেশ্বর॥
জয় জয় গৌর-অভিন্ন-কলেবর।
ফুকরই কাতর দাস মনোহর॥

ই পদটি এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস,
৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ টোরি॥

জয় জয় নিত্যানন্দচন্দ্র বর।
জয় শান্তিপুরনগর-সুধাকর॥
জয় বসু জাহ্নবিদেবি-হৃদয়হর।
জয় জয় সীতামোদ-কলেবর॥
বীর তাত জয় জীবপ্রিয়ঙ্কর।
জয় জয় অচ্যুত-জনক মহেশ্বর॥
জয় জয় গৌর অভিন্ন-কলেবর।
ফুকরই কাতর দাস মনোহর॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নিত্যানন্দ ও অদ্বৈত বন্দনা
॥ তুড়ী॥

জয় জয় নিত্যানন্দ-চন্দ্র-বর।
জয় শান্তিপুর নগর সুধাকর॥
জয় বসু-জাহ্নবী-দেবি-হৃদয়-হর।
জয় জয় সীতামোদ-কলেবর॥
বীর-তাত জয় জীব প্রিয় কর।
জয় জয় অচ্যুত জনক মহেশ্বর॥
জয় জয় গৌর অভিন্ন কলেবর।
ফুকরই কাতর দাস মনোহর॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় নিত্যানন্দ চন্দ্র বর।
জয় শান্তিপুর নগর সুধাকর॥
জয় বসু জাহ্নবী দেবি হৃদয় হর।
জয় জয় সীতামো কলেবর॥
বীর তাত জয় জীব প্রিয় কর।
জয় জয় অচ্যুত জনক মহেশ্বর॥
জয় জয় গৌর অভিন্ন কলেবর।
ফুকরই কাতর দাস মনোহর॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
শ্যামের মুরলী হৃদয় খুরলি
কবি মনোহর দাস
এই পদটি গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭৫০ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯১৮
সালে,  সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ২ খণ্ড, ৩য় শাখা, ১১শ
পল্লব, আক্ষেপানুরাগ, ৮২৫-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বালা ধানশী॥

শ্যামের মুরলী                        হৃদয় খুরলি
করিলি সকলি নাশ।
মোহর মিনতি                    না শুনি আরতি
করহ বাজিতে আশ॥
শুন শুন রে ধরমনাশা।
দেব আরাধিয়া                     ও মুখ বান্ধিব
ঘুচাব তোমার আশা॥ ধ্রু॥
আমরা অবলা                      সহজে অখলা
দেখিয়া তোহার লোভ।
অলপে অলপে                      সকলি খাইয়া
জীবনে করহ ক্ষোভ॥
এখনে আমরা                          সতর হইলুঁ
তেজহ এ সব আশ।
যাহার যেমন                       না ছাড়ে করণ
কহে মনোহর দাস॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৩১৪-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ বালা ধানশী॥

শ্যামের মুরলী                        হৃদয় খুরলি
করিলি সকল নাশ।
মোরহ মিনতি                    না শুনি আরতি
করহ বাজিতে আশ॥
শুন শুন রে ধরমনাশা।
দেব আরাধিয়া                    ও মুখ বান্ধিব
ঘুচাব তোমার আশা॥ ধ্রু॥
আমরা অবলা                     সহজে অখলা
দেখিয়া তোমার লোভ।
অলপে অলপে                     সকলি খাইয়া
জীবনে করহ ক্ষোভ॥
এখনে আমরা                        সতর হইলুঁ
তেজহ এ সব আশ।
যাহার যেমন                      না ছাড়ে করণ
কহে মনোহর দাস॥

ই পদটি ১৯২৪ সালে প্রকাশিত, দক্ষিণারঞ্জন ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব-গীতাঞ্জলি”,
৩৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ বালা ধানশী॥

শ্যামের মুরলী                        হৃদয় খুরলি
করিলি সকল নাশ।
আমার মিনতি                   না শুনি আরতি
করহ বাজিতে আশ॥
শুন শুন রে ধরম-নাশা।
দেব আরাধিয়া                     ও মুখ বান্ধিব
ঘুচাব তোমার আশা॥
আমরা অবলা                       সহজে অখলা
দেখিয়া তোহারি লোভ।
অলপে অলপে                       সকল খাইয়া
জীবনে করহ ক্ষোভ॥
এখনে আমরা                         সতর হইলুঁ
তেজহ এ সব আশ।
যাহার যেমন                      না ছাড়ে কারণ
কহে মনোহর দাস॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ
॥ বালা ধানশী॥

শ্যামের মুরলী                        হৃদয় খুরলি
করিলি সকলি নাশ।
মোহর মিনতি                    না শুনি আরতি
করহ বাজিতে আশ॥
শুন শুন রে ধরমনাশা।
দেব আরাধিয়া                    ও মুখ বান্ধিব
ঘুচাব তোমার আশা॥ ধ্রু॥
আমরা অবলা                      সহজে অখলা
হৃদয়ে জাগায়া ক্ষোভ।
অলপে অলপে                     সকলি খাইয়া
জীবনে করহ লোভ॥
এখনে আমরা                        সতর হইলুঁ
তেজহ এসব আশ।
যাহার যেমন                      না ছাড়ে করণ
কহে মনোহর দাস॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৬৪৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - জপতাল॥

শ্যামের মুরলী,                        হৃদয় খুরলি,
করিলি সকল নাশ।
মোহর মিনতি                     না শুনি আরতি
করহ বাজিতে আশ॥
শুন শুনরে ধরম-নাশা।
দেব আরাধিয়া                      ও মুখ বাঁধিব
ঘুচাব তোমার আশা॥ ধ্রু॥
আমরা অবলা                      সহজে অখলা
দেখিয়া তোহারি লোভ।
অলপে অলপে                        সকল খাইয়া
জীবনে করহ ক্ষোভ॥
এখনে আমরা                        সতর্ক হইনু,
তেজহ এ সব আশ।
যাহার যেমন,                      না ছাড়ে করণ,
কহে মনোহর দাস॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্যামের মুরলী হৃদয় খুরলি                          
করিলি সকলি নাশ।
মোহর মিনতি না শুনি আরতি                     
করহ বাজিতে আশ॥
শুন শুন রে ধরমনাশা।                              
দেব আরাধিয়া ও মুখ বান্ধিব                      
ঘুচাব তোমার আশা॥
আমরা অবলা সহজে অখলা                        
হৃদয়ে জাগায়া ক্ষোভ।
অলপে অলপে সকলি খাইয়া                        
জীবনে করহ লোভ॥
এখনে আমরা সতর হইলুঁ                            
তেজহ এসব আশ।
যাহার যেমন না ছাড়ে করণ                        
কহে মনোহর দাস॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
কানাই কত ফরকাহ চুল
ভণিতাহীন / মনোহর
এই পদটি গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭৫০ সালে সংকলিত ও বিরোচিত এবং ১৯১৮
সালে,  সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ২ খণ্ড, ৩য় শাখা, ২৫শ
পল্লব, দান-লীলা, ১৩৮৬-পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

কানাই কত ফরকাহ চুল।
দানী হইয়া                        যে জন বৈসয়ে
তার ধরম গণ্ডার মূল॥
আছে মেন তোমার                   চাঁচর কেশ
টানিয়া বান্ধ্যাছ ভালে।
তাহার উপরে                শিখী-পাখ্যের পাখা
জড়ান বকুল-মালে॥
এ তাড় তোড়ল                      বলয়া ঘাঘর
ইথে আছে বুঝি ভাড়া।
নন্দরাজ ঘরে                        নবনী খাইয়া
হৈয়াছ উমাদ ষাঁড়া॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ১৮১৬-পদসংখ্যায় এই
রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে
এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রীরাগ॥

কানাই কত ফরকাহ চুল।
দানী হইয়া                        যে জন বৈসয়ে
অব ধরম গণ্ডা মূল॥
আছে বেন তোমার                   চাঁচর কেশ
টানিয়া বান্ধিছ ভালে।
তাহার উপরে                    শিখী পাখা দেখি
লবঙ্গ মালতি মালে॥
এ তাড় তোড়ল                      বলয়া ঘাঘর
ইথে আছে বুঝি ভাড়া।
নন্দরাজ ঘরে                        নবনী খাইয়া
হৈয়াছ উমাদ সাড়া॥
যশোদা যেমন                   দু-করে বান্ধিতো
রাখিতো তোমারে কেবা।
কহে মনোহর                      কেমন বাটপাড়
বাটপাড়ি শিখি যাবা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দান-লীলা
॥ শ্রীরাগ॥

কানাই কত ফরকাহ চুল।
দানী হইয়া                     যে জন বৈসয়ে
তার ধরমগণ্ডা মূল॥
আছে ঘন তোমার                 চাঁচর কেশ
টানিয়া বান্ধ্যাছ ভালে।
তাহার উপরে              শিখী-পাখীর পাখা
জড়ান বকুল-মালে॥
এ তাড় তোড়ল                   বলয়া ঘাঘর
ইথে আছে বুঝি ভাড়া।
নন্দরাজ ঘরে                     নবনী খাইয়া
হৈয়াছ উমাদ ষাঁড়া॥
বনের কাষ্ঠ                      ঘসিয়া মেখেছ
কত না সুগন্ধ তাহে।
কি দেখি তোমার               যুবতি ভুলিবে
দাস মনোহর গাহে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

কানাই কত ফরকাহ চুল।               
দানী হইয়া পথে যে জন বৈসয়ে        
.                        তার ধরমগণ্ডা মূল॥
আছে ঘন তোমার চাঁচর কেশ          
.                        টানিয়া বান্ধ্যাছ ভালে।
তাহার উপরে শিখী পাখীর পাখা        
.                        জড়ান বকুল মালে॥
এ তাড় তোড়ল বলয়া ঘাঘর           
.                        ইথে আছে বুঝি ভাড়া।
নন্দরাজ ঘরে নবনী খাইয়া             
.                        হৈয়াছ উমাদ ষাঁড়া॥
বনের কাষ্ঠ ঘসিয়া মেখেছ             
.                        কত না সুগন্ধ তাহে।
কি দেখি তোমার যুবতি ভুলিবে        
.                        দাস মনোহর গাহে॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
জয় পহু শ্রীল সনাতন নাম
জয় জয় পহুঁ শ্রীল সনাতন নাম
কবি মনোহর
এই পদটি গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭৫০ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯১৮ সালে,  সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, ২৩৬৬-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

জয় পহু শ্রীল সনাতন নাম।
ভরল ভুবন মহা যছু গুণ-গাম॥
তেজল সকল সুখ-সম্পদ-পার।
শ্রীচৈতন্য-চরণ করু সার॥
শ্রীবৃন্দাবন-ভূমে করি বাস।
লুপত-তীর্থ সব কয়ল প্রকাশ॥
শ্রীগোবিন্দ-সেবা পরচারি।
কয়ল ভাগবত-অর্থ-বিচারি॥
যুগল-ভজন লীলা গুণ নাম।
কয়ল বিথার গ্রন্থ অনুপাম॥
সতত গৌর-প্রেমে গর গর দেহ।
ভ্রমই বৃন্দাবনে না পায়ই থেহ॥
বিপুল-পুলক-ভর নয়নহি নীর।
রাই কানু বলি পড়ই অথীর॥
ভাব-বিভূষণ সকল শরীর।
অনুখন বিহরই যমুনাক তীর॥
যছু করুণায় বৃন্দাবন পাই।
ভাবই মনোহর সোই গোসাঞি॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৪৭০-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ শ্রীরাগ॥

জয় পহু শ্রীল সনাতন নাম।
ভরল ভুবন মহা যছু গুণ-গাম॥
তেজল সকল সুখ-সম্পদ-পার।
শ্রীচৈতন্য-চরণ করু সার॥
শ্রীবৃন্দাবন-ভূমে করু বাস।
লুপত-তীর্থ সব কয়ল প্রকাশ॥
শ্রীগোবিন্দ-সেবা পরচারি।
কয়ল ভাগবত-অর্থ-বিচারি॥
যুগল-ভজন লীলা গুণ নাম।
কয়ল বিথার গ্রন্থ অনুপাম॥
সতত গৌর-প্রেমে গর গর দেহ।
ভ্রমই বৃন্দাবনে না পায়ই থেহ॥
বিপুল-পুলক-ভর নয়নহি নীর।
রাই কানু বলি পড়ই অথীর॥
ভাব-বিভূষণ সকল শরীর।
অনুখন বিহরই যমুনাক তীর॥
যছু করুণায় বৃন্দাবন পাই।
ভাবই মনোহর সোই গোসাঞি॥

ই পদটি এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস,
৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

জয় জয় পহুঁ শ্রীল সনাতন নাম।
সকল ভুবন মাহা যছু গুণগ্রাম॥
তেজল সকল সুখ সম্পদ পার।
শ্রীচৈতন্য চরণযুগল করু সার॥
শ্রীবৃন্দাবনভূমে করি বাস।
লুপত তীর্থ সব করল প্রকাশ॥
শ্রীগোবিন্দসেবা পরচারি।
কয়ল ভাগবত অর্থ বিচারি॥
যুগল ভজনলীলা গুণ নাম।
কয়ল বিথার গ্রন্থ অনুপাম॥
সতত গৌরপ্রেমে গর গর দেহ।
ভ্রমই বৃন্দাবনে না পায়ই থেহ॥
বিপুল পুলক ভর নয়ন নীর।
রাই কানু বলি পড়ই অথির॥
ভাব বিভূষণ সকল শরীর।
অনুখন বিহরই যমুনাতীর॥
যছু করুণায় বৃন্দাবন পাই।
ভাবই মনোহর সোই গোসাঞী॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরভক্ত বন্দনা
॥ শ্রীরাগ॥

জয় পহু শ্রীল সনাতন নাম।
ভরল ভুবন মাহা যছু গুণ-গাম॥
তেজল সকল সুখ-সম্পদ-পার।
শ্রীচৈতন্য-চরণ করু সার॥
শ্রীবৃন্দাবন-ভূমে করি বাস।
লুপত-তীর্থ সব কয়ল প্রকাশ॥
শ্রীগোবিন্দ-সেবা পরচারি।
কয়ল ভাগবত-অর্থ-বিচারি॥
যুগল-ভজন লীলা গুণ নাম।
কয়ল বিথার গ্রন্থ অনুপাম॥
সতত গৌর-প্রেমে গরগর দেহ।
ভ্রমই বৃন্দাবনে না পায়ই থেহ॥
বিপুল পুলক-ভর নয়নহি নীর।
রাই কানু বলি পড়ই অথীর॥
ভাব-বিভূষণ সকল শরীর।
অনুখণ বিহরই যমুনাক তীর॥
যছু করুণায়ে বৃন্দাবন পাই।
ভাবই মনোহর সোই গোসাঞি॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় পহুঁ শ্রীল সনাতন নাম।
ভরল ভুবন মাহা যছু গুণ গাম॥
তেজল সকল সুখ সম্পদ পার।
শ্রীচৈতন্য চরণ করু সার॥
শ্রীবৃন্দাবন ভূমে করি বাস।
লুপত তীর্থ সব কয়ল প্রকাশ॥
শ্রীগোবিন্দ সেবা পরচারি।
কয়ল ভাগবত অর্থ বিচারি॥
যুগল ভজন লীলা গুণ নাম।
কয়ল বিথার গ্রন্থ অনুপাম॥
সতত গৌর প্রেমে গরগর দেহ।
ভ্রমরই বৃন্দাবনে না পায়ই থেহ॥
বিপুল পুলক-ভর নয়নহি নীর।
রাই কানু বলি পড়ই অথীর॥
ভাব-বিভূষণ সকল শরীর।
অনুখণ বিহরই যমুনাক তীর॥
যছু করুণায়ে বৃন্দাবন পাই।
ভাবই মনোহর সোই গোসাঞি॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
জয় সাধু-শিরমণি সনাতন রূপ
কবি মনোহর
এই পদটি গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭৫০ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯১৮ সালে,  সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২৫শ পল্লব, শ্রীগৌরভক্তবৃন্দের চরিত্র-বর্ণন, ২৩৬৭-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গী॥

জয় সাধু-শিরমণি সনাতন রূপ।
যো দুহু প্রেম-ভকতি-রস-ভূপ॥
রাধাকৃষ্ণ-ভজনকে লাগি।
শ্রীবৃন্দাবন-ধামে বৈরাগী॥
শ্রীগোপাল ভট্ট রঘুনাথ।
মীলল সকল ভকতগণ সাথ॥
সভে মেলি প্রেম ভকতি পরচারি।
যুগল-ভজন-ধন জগতে বিথারি॥
অনুখণ গৌরচন্দ্র-গুণ গান।
ভোরল প্রেমে ওর নাহি পান॥
কতিহুঁ না হেরিয়ে ঐছে উদাস।
মনোহর সদত চরণে করু আশ॥

ই পদটি উনিশ শতকে প্রকাশিত, নিমানন্দ দাস সংকলিত “পদরসসার” পুথির ২৩৬৭-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে। আমরা পুথিটি হাতে পাইনি। সতীশচন্দ্র রায়ের
পদকল্পতরুর টীকা-পাঠান্তর দেখে এখানে উপস্থাপন করা হলো।

॥ সারঙ্গী॥

জয় সাধু-শিরমণি সনাতন রূপ।
যো দুহু প্রেম-ভকতি-রস-ভূপ॥
রাধাকৃষ্ণ-ভজনকো লাগি।
শ্রীবৃন্দাবন-ধামে বৈরাগী॥
শ্রীগোপাল ভট্ট রঘুনাথ।
মীলল সকল ভকতগণ সাথ॥
সভে মেলি প্রেম ভকতি পরচারি।
যুগল-ভজন-ধন জগতে বিথারি॥
অনুখণ গৌরচন্দ্র-গুণ গান।
ভোরল প্রেমে ওর নাহি পান॥
কতিহুঁ না হেরিয়ে ঐছে উদাস।
মনোহর সদত চরণে করু আশ॥

ই পদটি এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৬ষ্ঠ তরঙ্গ, ৩য় উচ্ছাস,
৩০৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সারঙ্গ॥

জয় সাধু শিরমণি সনাতন রূপ।
যো দুহুঁ প্রেম ভকতি রসকূপ॥
রাধাকৃষ্ণ ভজনক লাগি।
শ্রীবৃন্দাবন ধামে বৈরাগী॥
শ্রীগোপাল ভট্ট রঘুনাথ।
মিলন সকল ভকতগণ সাথ॥
সভে মিলি প্রেম ভকতি পরচারি।
যুগল ভজন ধন জগতে বিথারি॥
অনুখণ গৌরচন্দ্র গুণ গায়।
ভরল প্রেমে ওর নাহি পায়॥
কতিহুঁ না হেরিয়ে ঐছে উদাস।
মনোহর সতত চরণে করু আশ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরভক্ত বন্দনা
॥ সারঙ্গী॥

জয় সাধু-শিরমণি সনাতন রূপ।
যো দুহুঁ প্রেম-ভকতি-রস-ভূপ॥
শ্রীরাধাকৃষ্ণ-ভজনকে লাগি।
শ্রীবৃন্দাবন-ধামে বৈরাগী॥
শ্রীগোপাল ভট্ট যুগ-রঘুনাথ।
মীলল সকল ভকতগণ সাথ॥
সভে মেলি প্রেম ভকতি পরচারি।
যুগল ভজন-ধন জগতে বিথারি॥
অনুখণ গৌরচন্দ্র-গুণ গান।
ভোরল প্রেমে ওর নাহি পান॥
কতিহুঁ না হেরিয়ে ঐছে উদাস।
মনোহর সদত চরণে করু আশ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় সাধু শিরমণি সনাতন রূপ।
যো দুহুঁ প্রেম ভকতি রস ভূপ॥
শ্রীরাধাকৃষ্ণ ভজনকে লাগি।
শ্রীবৃন্দাবন ধামে বৈরাগী॥
শ্রীগোপাল ভট্ট যুগ রঘুনাথ।
মীলল সকল ভকতগণ সাথ॥
সভে মেলি প্রেম ভকতি পরচারি।
যুগল ভজন ধন জগতে বিথারি॥
অনুখণ গৌরচন্দ্র গুণ গান।
ভোরল প্রেমে ওর নাহি পান॥
কতিহুঁ না হেরিয়ে ঐছে উদাস।
মনোহর সদত চরণে করু আশ॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
জয় জয় রাধে জি শরণ তোহারি
জয় জয় রাধে জিকৈ স্মরণ তুঁহারি
জয় জয় রাধে জিকো শরণ তোহারি
জয় জয় রাধেজীগো স্মরণ তোহারি
কবি মনোহর
এই পদটি গোকুলানন্দ সেন (বৈষ্ণবদাস) দ্বারা আনুমানিক ১৭৫০ সালে সংকলিত ও
বিরোচিত এবং ১৯১৮ সালে,  সতীশচন্দ্র রায় দ্বারা সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদকল্পতরু”, ৪র্থ খণ্ড, ৪র্থ শাখা ২য়-ভাগ, ৩২শ পল্লব, অষ্টকালীয় নিত্য-লীলা, ২৮৭০-
পদসংখ্যায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

তত্র নিজালয়ে শ্রীরাধিকায়া যথা।
॥ তথারাগ॥

জয় জয় রাধে জি শরণ তোহারি।
ঐছন আরতি যাঙ বলিহারি॥
পাট পটাম্বর ওঢ়ে নীল শাড়ি।
সীথক সিন্দুর যাঙ বলিহারি॥
বেশ বনায়ল প্রিয়-সহচরি।
রতন-সিংহাসনে বৈঠলি গোরি॥
চৌদিগে সখিগণ দেই করতারি।
আরতি করতহি ললিতা পিয়ারি॥
রতন-জড়িত মণি-মাণিক-মোতি।
ঝলমল অভরণ প্রতি-অঙ্গে জোতি॥
চৌদিগে সহচরি মঙ্গল গাওয়ে।
প্রিয়-নর্ম্ম-সখিগণ চামর ঢুলায়ে॥
ও পদ-পঙ্কজ সেবনকি আশা।
দাস মনোহর করত ভরোসা॥

ই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”,
৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় রাধে জিকৈ স্মরণ তুঁহারি।
ঐছন আরতি জাউ বলিহারি॥
পাট পট্টাম্বর উড়ে নীল সাড়ি।
সিতাকো সিন্দুর জাউ বলিহারি॥
রতন সিংহাসনে বৈটল গোরি॥
আরতি করতহিঁ ললিতা পিআরি॥
চউদিগে সখিগণ মঙ্গল গায়ে।
শ্রীরূপ মঞ্জুরি চামর ঢুলাঞে॥
তু পদ পঙ্কজ ভকতি হি আসা।
দাস মনোহর করত ভরসা॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৭২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সায়ংকালোচিত শ্রীরাধার আরতি।
॥ গৌরী॥

জয় জয় রাধে জি শরণ তোঁহারি।
ঐছন আরতি যাঙ বলিহারী॥
পাট পটাম্বর ওঢ়ে নীল শাড়ী।
সীথক সিন্দূর যাঙ বলিহারী॥
বেশ বনাওল প্রিয় সহচরী।
রতন সিংহাসনে বৈঠল গৌরী॥
চৌদিগে সখীগণ দেই করতালি।
আরতি করতহি ললিতা পিয়ারী॥
রতন জড়িত মণি মাণিক্য-মতি।
ঝলমল আভরণ প্রতি অঙ্গে জ্যোতি॥
চৌদিকে সহচরী মঙ্গল গাওয়ে।
প্রিয় নর্ম্ম সখীগণ চামর ঢুলায়ে॥
ও পদ পঙ্কজ সেবন কি আশা।
দাস মনোহর করত ভরসা॥

ই পদটি ১৯৩০ সালে প্রকাশিত, ব্রহ্মচারী নিত্যস্বরূপ সম্পাদিত, শ্রীহরি সাধক-কণ্ঠহার
পদ-সংকলন, ৩৪৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় রাধেজীগো স্মরণ তোহারি।
ঐছন আরতি, যাউ বলিহারি॥
পাট পট্টাম্বর উড়ে নীল শাড়ী।
সিঁথোপর সিঁদুর যাউ বলিহারী॥
বেশ বনাওত প্রিয় সহচরী।
রতন সিংহাসনে বৈঠল নাগরী॥
রতনে জড়িত মণি মাণিক্য মতি।
ঝলকত আভরণ প্রতি অঙ্গে জ্যোতিঃ॥
চৌদিগে সখিগণ দেয় করতারি।
আরতি করতই ললিতা প্যারি॥
নব নব ব্রজবধূ মঙ্গল গাওয়ে।
প্রিয়নর্ম্ম সখিগণ চামর ঢুলাওয়ে॥
শ্রীরাধাপদ-পঙ্কজ, ভকত কি আশা।
দাস মনোহর করত ভরসা॥

ই পদটি ১৯৩২ সালে প্রকাশিত, ব্রজমোহন দাস সংকলিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
সেবা আরতি ও কীর্ত্তন পদাবলী ও নিত্যক্রিয়া পদ্ধতি”, ৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীশ্রীরাধিকাজীউর সন্ধ্যা আরতি

জয় জয় রাধেজীকো শরণ তোঁহারি।
ঐছন আরতি যাউ বলিহারি॥ ধ্রু॥
পাট পটাম্বর উড়ে নীল শাড়ী।
সিঁথিপর সিন্দুর যাউ বলিহারি॥
বেশ বনাওল প্রিয় সহচরী।
রতন সিংহাসনে বৈঠল গৌরী॥
রতনে জড়িত মণি মাণিক মোতি।
ঝল মল আভরণ প্রতি অঙ্গে জ্যোতি॥
চুয়া চন্দন অঙ্গে দেই ব্রজবালা।
বৃষভানু রাজনন্দিনীর বদন উজালা॥
চৌদিগে সখিগণ দেই করতালি।
আরতি করতহি ললিতা আলি॥
নব নব ব্রজবধূ মঙ্গল গাওয়ে।
প্রিয় নর্ম্ম সখীগণ চামর ঢোলাওয়ে॥
রাধাপদ পঙ্কজ ভকত কি আশা।
দাস মনোহর করত ভরসা॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৮৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীরাধার আরতি
॥ তথারাগ॥

জয় জয় রাধে জিকো শরণ তোহারি।
ঐছন আরতি যাঙ বলিহারি॥
পাট পটাম্বর উঢ়ে নিল শাড়ি।
সীঁথাক সিন্দুক যাঙ বলিহারি॥
বেশ বনায়ল প্রিয়-সহচরি।
রতন-সিংহাসনে বৈঠল গোরি॥
চৌদিগে সখিগণ দেই করতারি।
আরতি করতহি ললিতা পিয়ারি॥
রতন-জড়িত মণি-মাণিক-মোতি।
ঝলমল আভরণ প্রতি-অঙ্গে জ্যোতি॥
চৌদিগে সহচরি মঙ্গল গাওয়ে।
প্রিয় নর্ম্ম-সখিগণ চামর ঢুলায়ে॥
ও পদপঙ্কজ সেবনকি আশা।
দাস মনোহর করত ভরোসা॥

ই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“কীর্ত্তন-পদাবলী”, ১৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

সায়ংকালোচিত শ্রীরাধার আরতি।
॥ গৌরী॥

জয় জয় রাধে জি শরণ তোঁহারি।
ঐছন আরতি যাঙ বলিহারী॥
পাট পটাম্বর ওঢ়ে নীল শাড়ী।
সীথক সিন্দূর যাঙ বলিহারী॥
বেশ বনাওল প্রিয় সহচরী।
রতন সিংহাসনে বৈঠল গৌরী॥
চৌদিগে সখীগণ দেই করতালি।
আরতি করতহি ললিতা পিয়ারী॥
রতন জড়িত মণি মাণিক্য-মতি।
ঝলমল আভরণ প্রতি অঙ্গে জ্যোতি॥
চৌদিকে সহচরী মঙ্গল গাওয়ে।
প্রিয় নর্ম্ম সখীগণ চামর ঢুলায়ে॥
ও পদ পঙ্কজ সেবন কি আশা।
দাস মনোহর করত ভরসা॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৪২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

জয় জয় রাধে জিকো শরণ তোহারি।
ঐছন আরতি যাঙ বলিহারি॥
পাট পটাম্বর উঢ়ে নিল শাড়ি।
সীঁথাক সিন্দুর যাঙ বলিহারি॥
বেশ বনায়ল প্রিয় সহচরি।
রতন সিংহাসনে বৈঠল গোরি॥
চৌদিগে সখিগণ দেই করতারি।
আরতি করতহি ললিতা পিয়ারি॥
রতন জড়িত মণি মাণিক মোতি।
ঝলমল আভরণ প্রতি অঙ্গে জ্যোতি॥
চৌদিগে সহচরি মঙ্গল গাওয়ে।
প্রিয় নর্ম্ম সখিগণ চামর ঢুলায়ে॥
ও পদপঙ্কজ সেবনকি আশা।
দাস মনোহর করত ভরোসা॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
জয় শচীসুত গৌর হরি
কবি মনোহর
এই পদটি এই পদটি জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১৯৩৪ (প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১ম তরঙ্গ, ২য় উচ্ছাস, ৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

জয় শচীসুত গৌর হরি।
জয় পাবন জয় নদীয়াবিহারী॥
জয় চাপাল গোপাল-মুক্তিকারী।
জয় জগাই-মাধাই-দুষ্কৃতিহারী॥
জয় অখিল ভুবন ত্রাণকারী।
জয় দণ্ড কমণ্ডলু করোয়াধারী॥
জয় যুগলকিশোররূপধারী।
জয় দাস মনোহর হৃদয়বিহারী॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
বরিখে রিমি ঝিমি সঘনে যামিনি
কবি মনোহর
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৯১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

অভিসারিকা
॥ সৌরাষ্ট্রী॥

বরিখে রিমি ঝিমি               সঘনে যামিনি
দামিনী ঝটকাই রে।
রাগে অভিসরি                    সঙ্গে সহচরি
চলল সুন্দরী রাই রে॥
চসিতে অহিকুল                   চরণে বেঢ়ল
আন্ধ পিছলিত পন্থ রে।
গিরত শত বেরি                উঠিয়া ধাওত
ভেটিতে গোকুল-চন্দ রে॥
সঘনে বরিখনে                 ভিজল কামিনি
তিতল আ-পদ অঙ্গ রে।
বাদল-বারি নি-                  বারি কর-তলে
তবহুঁ গতি নাহি ভঙ্গ রে॥
সকল সঙ্কট                       জিতল কামিনি
বিঘন কি করু আর রে।
কহে মনোহর                        কুঞ্জ-কাননে
মিলল নন্দ-কুমার রে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বরিখে রিমি ঝিমি সঘনে যামিনি                
দামিনী ঝটকাই রে।
রাগে অভিসরি সঙ্গে সহচরি                    
চলল সুন্দরী রাই রে॥
চসিতে অহিকুল চরণে বেঢ়ল                    
আন্ধ পিছলিত পন্থ রে।
গিরত শত বেরি উঠিয়া ধাওত                  
ভেটিতে গোকুল চন্দ রে॥
সঘনে বরিখনে ভিজল কামিনি                   
তিতল আপদ অঙ্গ রে।
বাদল বারি নিবারি কর-তলে                      
তবহুঁ গতি নাহি ভঙ্গ রে॥
সকল সঙ্কট জিতল কামিনি                        
বিঘন কি করু আর রে।
কহে মনোহর কুঞ্জ কাননে                        
মিলল নন্দ কুমার রে॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
নবিন কিশলয় ফুটল ফুল চয়
কবি মনোহর
এই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত,হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৮৯২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

বাসকসজ্জা
॥ ধানশী॥

নবিন কিশলয়                    ফুটল ফুল চয়
পাতি বিবিধ বিধান।
যৈছে খির সর                  তৈছে শেজ কর
কুসুম কুল উপাধান॥
সখি হে স্বরূপে কহলমু তোয়।
ঐছে সাজাহ                       বাস গৃহ জনু
নিরখি হরি-সুখ হোয়॥ ধ্রু॥
চারু চম্পক---                      কুসুম-হারক
গন্ধ মালতি-মাল।
খপুর কর্পূর                        পাণ সুমধুর
পুরিঞা কাঞ্চন-থাল॥
করহ সব তুহুঁ                     জাগি রহলুহুঁ
পিয়াক পন্থ নিহার।
কহে মনোহর                       কুঞ্জ-কাননে
মিলব নন্দ-কুমার॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৪৩০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

নবিন কিশলয় ফুটল ফুল চয়               
পাতি বিবিধ বিধান।
যৈছে খির সর তৈছে শেজ কর             
কুসুম কুল উপাধান॥
সখি হে স্বরূপে কহলমু তোয়।              
ঐছে সাজাহ বাস গৃহ জনু                    
নিরখি হরি-সুখ হোয়॥ ধ্রু॥
চারু চম্পক---কুসুম হারক                    
গন্ধ মালতি মাল।
খপুর কর্পূর পাণ সুমধুর                      
পুরিঞা কাঞ্চন থাল॥
করহ সব তুহুঁ জাগি রহলুহুঁ                    
পিয়াক পন্থ নিহার।
কহে মনোহর কুঞ্জ কাননে                      
মিলব নন্দ কুমার॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর
*
চন্দ্রাবলী রতি ছরমে ঘুমাওল
কবি মনোহর দাস
এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-
মালা”, ৩৫৫-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাষ॥

চন্দ্রাবলী রতি                        ছরমে ঘুমাওল
কুহু কোকিলা নিশি ভোর।
ঐছন সময়ে                        চতুর বর নাগর
তেজল তাকর কোর॥
দিনমণি দেওল বার।
কুমুদিনী ত্যজি অলি                কমল পর ধাবই
বায়স নিয়ড়ে ফুকার॥ ধ্রু॥
চন্দনে চরচিত                        সবহু কলেবর
নীল বসন পরিধান।
অরুণিত লোচন                        যুগল ঢুলু ঢুলু
দিগ দলি আওত কান॥
দূরে হেরি সুন্দরী                     ভবনহি পৈঠল
হলধর আওল জানি।
ললিতা নতমুখী                   হাসি হাসি অঙ্গনে
আসন দেওল আনি॥
যবতহি বৈঠল কান।
করে কর সুন্দরী                     গলে অম্বর ধরি
ভরমে করল পরণাম॥
লহু লহু পুছই                        রোহিণীক মঙ্গল
ললিতা সখী করি আড়।
ঐছন বচন                        শুনি হরি অন্তরে
ভয় উপজল গাঢ়॥
রোহিনী মঙ্গল                        পুছ তুহুঁ সুন্দরি
সো হোয়ত মঝু জেঠ।
রামানুজ হাম                        প্রাতরে আওল
তুয়া সঙ্গে করইতে ভেট॥
ঐছন বচন                          শুনি ধনী অন্তরে
অতিশয় মতি ভেল বাম।
দাস মনোহর                           তুহুঁ বহুবল্লভ
রজনী বঞ্চলি কোন ঠাম॥

ই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ৩২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ বিভাস - বৃহৎ জপতাল॥

চন্দ্রাবলী রতি-                    ছরমে ঘুমাওল
কুহু কোকিলা নিশি ভোর।
ঐছন সময়ে,                     চতুর বর নাগর
তেজল তাকর কোর॥
দিনমণি দেওল বার।
কুমুদিনী তেজি অলি             কমল পর ধাবই
বায়স নিয়ড়ে ফুকার॥ ধ্রু॥
চন্দনে চরচিত                     সবহুঁ কলেবর
নীল বসন পরিধান।
অরুণিম লোচন-                   যুগল ঢুলু ঢুলু,
দিগ দলি আওত কান॥
দূরে হেরি সুন্দরী,                  ভরমহি বৈঠল
হলধর আওল জানি।
ললিতা নতমুখী,                হাসি হাসি অঙ্গনে,
আসন দেয়ল আনি॥
তব তঁহি বৈঠল কান।
করে কর সুন্দরী,                গলে অম্বর ধরি,
ভরমে করল পরণাম॥
লহু লহু পুছই,                     রোহিণীক মঙ্গল
ললিতা সখি করি আড়।
ঐছন বচন,                      শুনি হরি অন্তরে,
ভয় উপজিল গাঢ়॥
রোহিনীক মঙ্গল,                  পুছ তুহুঁ সুন্দরী,
সো হোয়ত মঝু জেঠ।
রামানুজ হাম,                      প্রাতরে আয়লুঁ,
তুয়া সনে করইতে ভেট॥
ঐছন বচন,                       শুনি ধনি অন্তরে,
অতিশয় মতি ভেল বাম।
দাস মনোহর,                       তুহুঁ বহু-বল্লভ
রজনি বঞ্চিলা কোন ঠাম॥

.            *************************             
.                                                         
সূচীতে . . .   



মিলনসাগর