| কবি মনোহর দাসের বৈষ্ণব পদাবলী |
| চলে সারী সারী দেবের কুমারী কবি মনোহর এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ২৭৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ তথারাগ॥ চলে সারী সারী দেবের কুমারী দেব পত্নীগণ যত। অপ্সরা অপ্সরী গন্ধর্ব্ব কিন্নরী তাহা বা কহিব কত॥ লক্ষ্মী সরস্বতী লইয়া ভগবতী আকুলিত মনে ধায়। আনন্দিত মনে নন্দের ভবনে হেরত মাধব রায়॥ দেবী ভগবতী হরসিত অতি কোলে লয়ে নীলমণি। দশ করে ননী খাওয়ায় তখনি হেরয়ে বদন খানি॥ কহয়ে ইন্দ্রাণী শুন মা ঈশানি নিলমণি মোরে দেহ। কোলেতে লইয়া ননী খাওয়াইয়া জুড়াই তাপিত দেহ॥ হরষিত মনে সব দেবীগণে নবনী দেওতো মুখে। এ কোলে ও কোলে মনোহর দোলে আপন মনের সুখে॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| ওগো বড়ি মাই কহিতে ডরাই কবি মনোহর এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ২৯৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ সুহই॥ ওগো বড়ি মাই কহিতে ডরাই যে মোর মনের দুঃখ। (কথা) না কবি কাহারে শপথি আমারে দেখাবি সো চাঁদ মুখ॥ বাঘিনীর ঘরে বসতি হামার না ছাড়ি দীঘল শ্বাস। কি কব বিশেষ অঙ্গিনা বদেশ না পরি নীলিম বাস॥ কালার ভরমে জলদ না হেরি না যাই যমুনা ঘাটে। পাড়ায় পাড়ায় করে কাণাকাণি ঘোর পরিবাদ রটে॥ নিন্দুকের মুখে অনল ভেজাই যাইব বঁধুয়া পাশে। যা থাকে করমে তাই হবে মোর আর না যাইব বাসে॥ মুখরা কহয়ে কেন লো নাতিনি হইলি পাগলী পারা। শুনি মনোহর আকুল অন্তর ছল ছল আঁখি তারা॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| দূরে হেরি নাগর চতুরা সহচরী কবি মনোহর দাস এই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “শ্রীশ্রীপদরত্ন- মালা”, ৩৭৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী॥ দূরে হেরি নাগর চতুরা সহচরী ঠমকি ঠমকি চলি যায়। জনু আন কাজে চলত বর রঙ্গিনী ডাহিন বাম নাহি চায়॥ হরি হরি ধূলি লোটাওত কান। সহচরী গমন হেরইতে তখন হৃদয়ে করত অনুমান॥ কিয়ে অতি সদয় হৃদয় ইহ মঝু পর সহচরী ভেজল কি রাই। কিয়ে আন কাজে চলত বর রঙ্গিনী কারণ পুছই বোলাই॥ সহচরি সহচরি করি হেরি বেরি বেরি বহু বেরি করত ফুকার। চতুরিণী সহচরী ঝুকি কহত মঝু নাম লেই কোন গোঙার॥ চঙকি কহত হরি হাম রাই কিঙ্কর করুণা করিয়া অব আহ। দাস মনোহর এক নিবেদন শুনি তবে আন কাজ যাহ॥ এই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত ও সংকলিত “পদামৃত লহরী”, ৯০-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ রাগিণী ধানশী - তাল একতালী॥ দূরে হেরি নাগর, চতুরা সহচরী, ঠমকি ঠমকি চলি যায়। জনু আন কাজে, চলত বর রঙ্গিণী, ডাহিন বামেতে নাহি চায়॥ হরি হরি ধূলি লোটায়ত কান। সহচরী আগমন, হেরইতে তৈখনে, হৃদয়ে করত অনুমান॥ কিয়ে অতি সদয়, হৃদয় ইহ মঝুপরি, সহচরী ভেজল রাই। কিয়ে আন কাজে, চলত বর রঙ্গিণী, কারণ পুছই বোলাই॥ সহচরী সহচরী, করি হেরি বেরি বেরি, বন বেরি করত ফুকার। চতুরিণী সহচরী, ঝুকি কহত মঝু, নাম লেই কোন গোঙার॥ চহকি কহত হরি, হাম রাই কিঙ্কর, করুণা করিয়া অব চাহ। দাস মনোহর, এক নিবেদন, শুনি তবে আন কাজে যাহ॥ এই পদটি ১৯৩৮ সালে প্রকাশিত সুধীরচন্দ্র রায় ও অপর্ণা দেবী সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন পাদাবলী”, ২৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। মানখণ্ড। ॥ ধানসী - বড় দশকুসী বা কামোদ - একতালা॥ দূরে হেরি নাগর চতুরা সহচরী ঠমকি ঠমকি চলি যায়। জনু আন কাজে চলত বর-রঙ্গিণী ডাহিন বামে নাহি চায়॥ হরি হরি, ধুলি লোটায়ত কান। সহচরী গমন হেরইতে তৈখন হৃদয়ে করত অনুমান॥ ধ্রু॥ কিয়ে অতি সদয়- হৃদয় ইহ মঝু পর সহচরী ভেজল রাই। কিয়ে আন কাজে চলত বর-রঙ্গিণী কারণ পুছই বোলাই॥ সহচরী সহচরী সহচরী করি হরি বেরি বেরি করত ফুকার। চতুরিণী সহচরী ঝুঁকি কহত মুঝে নাম লেই কোন গোঙার॥ চমকি কহত হরি হাম রাই-কিঙ্কর করুণা করিয়া ইহাঁ আহ। দাস মনোহর এক নিবেদন শুনি তব আনতহি যাহ॥ এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৪৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ ধানশী - বড় দশকুশী বা কামোদ - একতালা॥ দূরে হেরি নাগর চতুরা সহচরী ঠমকি ঠমকি চলি যায়। জনু আন কাজে চলত বর রঙ্গিনী ডাহিন বামে নাহি চায়॥ হরি হরি ধূলি লোটায়ত কান। সহচরি গমন হেরইতে তৈখন হৃদয়ে করত অনুমান॥ ধ্রু॥ কিয়ে অতি সদয় হৃদয় ইহ মঝু পর সহচরী ভেজল রাই। কিয়ে আন কাজে চলত বর রঙ্গিনী কারণ পুছই বোলাই॥ সহচরী সহচরী সহচরী করি হরি বেরি বেরি করত ফুকার। চতুরিণী সহচরী ঝুঁকি কহত মুঝে নাম লেই কোন গোঙার॥ চমকি কহত হরি হাম রাই কিঙ্কর করুণা করিয়া ইহাঁ আহ। দাস মনোহর এক নিবেদন শুনি তব আনতহি যাহ॥ এই পদটি ১৯৫৯ সালে প্রকাশিত দুর্গাচরণ বিশ্বাস সংগৃহীত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “কীর্ত্তন-পদাবলী”, ৯৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। দূরে হেরি নাগর, চতুরা সহচরী, ঠমকি ঠমকি চলি যায়। জনু আন কাজে, চলত বর রঙ্গিনী ডাহিন বাম নাহি চায়॥ হরি হরি ধূলি লোটায়ত কান। সহচরী গমন, হেরইতে তেখন, হৃদয়ে করত অনুমান॥ কি এ অতি সদয়, হৃদয় ইহ মঝুপর, সহচরী ভেজল কি রাই। কি এ আন কাজে, চলত বর রঙ্গিনী, কারণ পুছই বোলাই॥ সহচরী সহচরী, করি হেরি বেরি বেরি, বহু বেরি করত ফুকার। চতুরিণী সহচরী, ঝুঁকি কহত মঝু, নাম লেই কোন্ গোঙার॥ চঙকি কহত হরি, হাম রাই কিঙ্কর, করুণা করিয়া অব আহ। দাস মনোহর, এক নিবেদন, শুনি তবে আন কাজে যাহ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সুন্দরি হে তুমি সে আমার প্রাণ কবি মনোহর এই পদটি ১৯৫৩ সালে প্রকাশিত নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ২৫৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ জয়জয়ন্তী - দুঠুকী॥ সুন্দরি হে তুমি সে আমার প্রাণ। তিল আধ যদি ওমুখ না দেখি কত যুগ হয় জ্ঞান॥ আন্ধলের লড়ি তুমি সে সুন্দরী তুমি সে নয়নের তারা। তেজি অভিমান কথা দেয় দান পিরিতি এ নহে ধারা॥ শুন শুন ধনি তোমা বিনে আমি কিছুই না জানি আর। মণে মনোহর তুমি প্রাণ মোর সকল সুখের সার॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| সখি হে, হেন কথা না কহিয় আর কবি মনোহর এই পদটি ১৯১৯ সালে প্রকাশিত শিবরতন মিশ্র সম্পাদিত বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ, “পদসংগ্রহ” পুথির, ১১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। ॥ শ্রীমত্যঃ পূর্ব্বরাগঃ॥ সখি হে, হেন কথা না কহিয় আর। যে কথা শুনিতে যার পরান জুড়ায় গো তাহে কিবা কুলের বিচার॥ কত না সুকৃত ব্রত কত পুণ্যরাশি গো কব়্যাছিলাম জনমে জনমে। সেই ত পুণ্যের ফলে শ্যাম চিকনিয়া গো দেখিলাঙ নয়ানের কোণে॥ ভুবনমোহন রূপ দেখি বা না দেখি গো একুবার নয়নের পথে। মুরলির শব্দ যদি শুনিবারে পাই গো ভুবন মোহিত যার গীতে॥ তবে সে জীবন আশ তবে গৃহবাস গো তবে সে সফল মোর জেই। মনোহ কহে সখী যে বল সে বল গো সুখ মন না বাধই থেহ॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |
| কি নাম কি নাম কি নাম বলনা কবি মনোহর দাস এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কি নাম কি নাম কি নাম বলনা ভাই আরবার শুনি গো। এ দ্বই আখর জ গমণ হর অমিঞা রসের খনি গো॥ না কান জদি হয় নাম তবে সে শ্রবণ করি গো। বিধি দিল দুই কি করিব মুঞি সুনিঞা ঝুরি য়ামরি গো॥ মধুর মধুর অতি সুমধুর তাহা হতে সুমধূর গো। জে থুইল নাম তারে পর নাম তাহার বালাই দুব গো॥ মুখো নিতে নাম নাচে অবিরাম মুখ বহু হতে চায় গো। হোন নাম জার সে রস পাথার দাস মনোহর গায় গো॥ . ************************* . সূচীতে . . . মিলনসাগর |