কবি মনোহর দাসের
শ্রীরামের
পদাবলী
*
উঠিঞা বিহানে সভাখণ্ড সনে ভরত বসিল আসি
কবি মনোহর দাস
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
উঠিঞা বিহানে সভাখণ্ড সনে ভরত বসিল আসি।
সবা সম্বোধিআ অনুজ চাহিআ কহে নেত্র জলে ভাসি॥
সুতিআ আছিনু শপথ দেখিলুঁ রজনির অবশেষে।
সবঁশে রাবণ করিআ নিধন রামের গমন দেশে॥
পবন নন্দন জানকি লক্ষ্মণ ঋক্ষু রাক্ষস কপি।
অযোধ্যা ভবন সবার গমন কনক বিমারে চাপি॥
সভাখণ্ড সনে আমরা দুজনে পাদুকা মাথাএ করি।
রাম অনিবারে গো মতির তিরে গিআছি রভসে ভরি॥
গিরি চিত্রকুটে মুনির নিকটে রজনি বঞ্চিআ সুখে।
মাগিআ মেলানি রাম গুণমণি গমন সদন সুখে॥
হৃদি নবগুণ পৃষ্ঠে শর তূণ শরাসন বাম হাতে।
দুর্ব্বাদল শ্যামকান্তি অনুপাম জটাজুট শোভে মাথে॥
আমাদের দোঁহা দেখি সকরুণ আঁখি নমিলা অবনি তলে।
সজল নয়নে আমরা দুজনে পড়িলুঁ চরণ মুলে॥
ভাই ভাই বলি ভূজ যুগ মেলি আলিঙ্গন দিলা রাম।
হেন শুভ যোগে মোর নিদ্রা ভাঁগে বিধাতা হইল বাম॥
শুনিয়া শসন সবলোক জন নয়ম সলিলে ভাসে।
বীর শত্রুঘন সজল নয়ন, কহে মনোহর দাসে॥
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
ঐ ছন সময়ে শ্রবণে আসি পৈঠল রামজয় মঙ্গল বাণী
কবি মনোহর দাস
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ১-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
ঐ ছন সময়ে শ্রবণে আসি পৈঠল রামজয় মঙ্গল বাণী।
সচকিত নয়নে সবহুঁজন বোলত কোই আয়ত নাহি জানি॥
পন্থ নিহারি সুমন্তক হত হনুমন্ত মহাবির আত্র।
ভরত শত্রুঘন মারুত নন্দন হেরি বহুত সুখপাত্র॥
রাম রাম রঘুনন্দন রটইতে নয়ন গলএ জলধার।
পুলকিত সব তনু কণ্টকি ফল জনু মীলল বায়ু কুমার॥
ভরত শত্রুঘন চরণে লোটায়ল দুহুঁ আলিঙ্গন দেসা।
দাস মনোহর আশ কি পূরব বিহি কিএ অবিমুখ ভেলা॥
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
জানকি রঘুবর আশিষ দেন
কবি মনোহর দাস
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
জানকি রঘুবর আশিষ দেন।
অনুজ ওহাঁরি প্রণতি বহ কেন॥
শুনহ নিবেদিএ মঙ্গল বাত।
লঙ্কা বিজই ভেল রঘুনাথ॥
রাবণ মারি উঁদ্ধারিআ সীতা।
বিভিষণ উপরে ধরায়ল ছাড়া১॥
সমদল সঙ্গে সুবর্ণ বিমানে।
আয়তু রঘুপতি হসিত বয়ানে॥
রজনি ভরদ্বাজ ভবনে গোঙাই।
তুয়া পাশে সাজহ আনিতে রাম।
@@@@ দাস মনোহর নাম॥
১ “ছাড়া” - সম্ভবত “ছাতা” হবে।
@@@@ - অপাঠ্য, অমুদ্রিত অক্ষর।
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
আয় বাছা হনুমান কি দিব তোমারে
কবি মনোহর দাস
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
আয় বাছা হনুমান কি দিব তোমারে।
বচনের অনুরূপ ধন নাহি ঘরে॥
* * * * *
হনুমান বলে দেহ চরণের ধুলি॥
কুশলে রাখুন তোরে দেব গদাধর।
কুশলে রাখুন তোরে উমা মহেশ্বর॥
কুশলে রাখুন তোরে দশদিক পাল।
নবগ্রহ কুশলে রাকুন চিরকাল॥
জলে স্থলে অনলে রাখুন দেহগণ।
এত বলি দিল তারে দৃঢ় আলিঙ্গন॥
বিশ হাজার ঘোড়া দিল বিশ হাজার হাতী।
দশ হাজার গাভী দিল মহা দুগ্ধবতী॥
নানা রতন অলঙ্কারে অলঙ্কৃত করি।
রূপে গুণে শীলে দিল পাঁচ হাজার নারী॥
নরীগণ আসিঞা বেড়িল হনুমানে।
কাতর হইঞা হনু চাহে চারিপানে॥
হনুমান বলে সুন সকল সুন্দরী।
তোমা সবা দেখি জেন জনক ঝিআরি॥
সবার নন্দন আমি সবে মোর মাতা।
আশীর্বাদ কর হেব নোভাইএ মাথা॥
এতবলি হনুমান প্রণাম করিল।
ধন্য ধন্য হনুমান সবে প্রসঁশিল॥
দাস মনোহর বলে আতি সে আনন্দ।
নয়ন ভরিআ নিরখিব রামচন্দ্র॥
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
শত্রুঘন সঙ্গে পুলকিত অঙ্গে ভরত চলিল ধাঞা
কবি মনোহর
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শত্রুঘন সঙ্গে পুলকিত অঙ্গে ভরত চলিল ধাঞা।
রাম আগুসার শুভ সমাচার কৌশল্যাকে কহে গিঞা॥
. সুন সুন গো জননি মোর।
আজি দশচারি বচ্ছর উপরি দেখিবে রঘু কিশোর॥
জাহার লাগিঞা কান্দিআ কান্দিআ তেজিলে ভোজন পান।
সে রঘুনন্দন দেশে আগমন কহে শুন মনোহর॥
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
কৌশল্যা উঠিঞা বাহু প্রসারিঞা ভরতে করিল কোলে
কবি মনোহর দাস
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কৌশল্যা উঠিঞা বাহু প্রসারিঞা ভরতে করিল কোলে।
শত্রুঘন স্বখাঞা সুখে গদগদ স্বরে বলে॥
. বাছা হনুমানে আনতা কি।
রামের কিঙ্কর সেই কপিবর নয়ন ভরিঞা দেখি॥
বসনের ঘর রচিল সত্যের শত্রুঘন বীর গিঞা।
তাহাতে বসিলা সিমিত্রা কৌশল্যা শতাষত সতিনি লঞা॥
এমন সময় পবন তনয় ভরতের আজ্ঞা পাঞা।
সবাখণ্ড সনে আইল সেখানে পুলকিত তনু হঞা॥
এবনি লোটাঞা প্রণতি করিঞা কৃতাঞুলি হনুরে হে।
@@@@ জন সব হইবে নিরব দাস মনোহর কহে॥
@@@@ - অপাঠ্য, অমুদ্রিত অক্ষর।
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
শ্রীরাম লক্ষ্মণ সীতার প্রনাম জানাভ জননি আগে
কবি মনোহর
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
শ্রীরাম লক্ষ্মণ সীতার প্রনাম জানাভ জননি আগে।
অযোধ্যা ভবন রামের গমন জানাভ সবার আগে॥
রাবণ বধিঞা সীতা উর্দ্ধারিঞা বিভীষণে রাজা করি।
সবাখণ্ড সত্যবতি বিমানে আসিছেন রামহরি॥
গোমতির তিরে রাখিঞা সবারে আমি আর অযোধ্যাতে।
দেখিবে শ্রীরাম দুর্ব্বাদল শ্যাম চলাচল মোর সাথে॥
সুনিঞা বানি রাম জয়ধ্বনি উঠিল আকাশ ভরি।
কহে মনোহর সাজহ সবে রাম দরশন করি॥
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
বিবিধ বাজনা বাজে অতি অনুপাম
কবি মনোহর দাস
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ৪-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
বিবিধ বাজনা বাজে অতি অনুপাম।
চিরদিন উপরে দেখি সীতারাম॥
শত্রুঘন আদেশে সকল প্রজাগণ।
আনন্দো আসিঞা করে নগর রক্ষণ॥
সুবর্ণের ঘট প্রতি দুআরে দুআরে।
আম্রের পল্লব দিল তাহার উপরে॥
শারি শারি দুআরে রোপিল রামকলা।
পথের মার্জন করি বাঁধে বনমালা॥
সীত পীত নীল রঙ পতাকা সকল।
প্রাসাদে প্রাসাদে শোভে পবনে চঞ্চল॥
সঁখ ঘন্টা বাজে সব দেবতার স্থানে।
শত উপচারে পূজা করএ ব্রাহ্মণে॥
গগন ভরিঞা উঠে রাম জয়ধ্বনি।
দাস মনোহর বলে কি মধুর মুনি॥
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
অশ্ব গজরথ সাজলি করি
কবি মনোহর দাস
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ৫-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
অশ্ব গজরথ সাজলি করি।
রামের পাদুকা মাথায় করি॥
ভরত সাজিস আনিতে রাম।
সঙ্গে শত্রুঘন উপর @@॥
অশ্ব পৃষ্ঠে কত দামামা বাজে।
সুবর্ণের ঘর সুন্দর গজে॥
শিবু খুব নায়ী।
সবে চলে শূন্য করিঞা পুরী॥
দুর্ব্বা ধান্য ফুল করিঞা হাতে।
বশিষ্ট আশিষ দিতে॥
প্রেমানন্দে তনু পুলক হঞা।
গুহার নগরে প্রবেশ গিঞা॥
নাচে রাম বলিআ মুখে।
রাম কত দূরে বলিআ ডাকে॥
সমুখে ভরতে দেখিতে পাঞা।
রামের ভরমে আইল ধাঞা॥
অবসর নাহি নয়ন জলে।
মুখে বুকে ধারা বহিলে॥
গুহারে দেখিঞা ভরত ভোর।
বাহু পসারিঞা করিল কোর॥
গুহা আগু করিয়া তবে।
রামগুণ গাঞা চলিলা সবে॥
থঞু জন চলে লগুড় হাতে।
পথে ভেল অন্ধক সাতে॥
খঞু কহে অন্ধ জাইবে কোথা।
অন্ধ কহে রাম লক্ষ্মণ যেথা॥
পুন খঞু কহে অন্ধক পাশে।
আঁখি নাহি রাম দেখিবে কিসে॥
অন্ধ কহে সুন @@@@
তোমরা দেখিবে সে চান্দ মুখ।
সার @@@@@@ সুখ॥
সবা সহ্গে রাম কহিব কথা।
তাহে ঘুচাইব শ্রবণ বেথা॥
এত বলি অন্ধ চলিআ জায়।
রাম নাম নিতে নয়ন পায়॥
হেন রাম নাম না আসে মুখে।
দাস মনোহর বঞ্চত সুখে॥
@ - অপাঠ্য, অমুদ্রিত অক্ষর।
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
কত দুরে গিঞা ভরত বলে
কবি মনোহর
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
কত দুরে গিঞা ভরত বলে।
রামেরে দেখিঞা পদ না চলে॥
আর বাছা হনু কি কাজ কৈলি।
মিছা কহি কেনে @@@@।
হনু বলে প্রভু কি আর বল।
গোমতির পার হইঞা চল॥
নয়ন ভরিঞা দেখিবে বাম।
দাহিনে লক্ষ্মণ জানকি বাম॥
হনুর বচন সিনিঞা সবে।
গোমতির পার হইল তবে॥
সুনিতে পাইল কটক রোল।
মনোহর ভাসে সুখ হিল্লোল॥
@ - অপাঠ্য, অমুদ্রিত অক্ষর।
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .
*
ভরতে দেখেন রাম আপন সমান
ভণিতাহীন পদ
কবি মনোহর দাস
এই পদটি ১৯১৫ সালে প্রকাশিত, প্রদীপকুমার সিংহ সম্পাদিত “রাঢ়ের পদাবলী”, ৭-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
ভরতে দেখেন রাম আপন সমান।
শিরে জটা গাছের বাকল পরিধান॥
নিতি নিতি উপবাসে খীন কলেবর।
পাদুকা দুখানি শোভে মাথার উপর॥
তেমতি দেখেন রাম শত্রুঘন ভাই।
জিউ অবশেষে আছে দেহে কিছু নাই॥
তেমতি দেখেন অযোধ্যার প্রজাগণ।
অস্থি মাত্র সার দেহে দুর্ব্বল জীবন॥
এসব দেখিঞা রামের সজল নয়ন।
গুহকের প্রতি দৃষ্টি পড়িল তখন॥
রাম জয় জয় রাম জয় বলি।
আনন্দে নাচএ গুহা হঞা কুত্তহলী॥
রামা নামানন্দে গুহা কিছুই না জানে।
পুলকে পূষিত দেহ ধারা দু নয়নে॥
গুহার ভকতি দেখে ভক্ত বত্সল।
করুণে অরুণ আঁখি করে ছলছল॥
অনুজ বারিঞা সঙ্গে জানকীর সাতে।
ভূমিতে না মিলা ধনুসর হাতে॥
. *************************
.
সূচীতে . . .
মিলনসাগর
কবি ম
নোহর দাসের
পরিচিতির পাতায় . . .