কবি মহম্মদ হানিফ-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
মধুর মুরারি ধ্বনি সুনিতে সুস্বর
ভণিতা মহহ্মদ হানিফ
কবি মহহ্মদ হানিফ
এই পদটি রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী সম্পাদিত সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকার ১৩১০ বঙ্গাব্দের
(১৯০৩সাল), অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত পুঁথির বিবরণ -এ ১৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রযেছে।

॥ কল্যাণ॥

মধুর মুরারি ধ্বনি সুনিতে সুস্বর।
ভুবনমোহন রূপ চলহ মথুর॥ ধু।
কি রঙ্গ দেখিলাম সই রে যমুনার কুলে।
পুলকিআ উঠে প্রাণ ছটফট করে॥
কালিয়ার কাচনি (নাচনি?) চাইতে প্রাণ নিল হরি।
ঠামুর ঠুমুর নাচে আপনা পাসরি॥
মহহ্মদ হানিফে কহে কি রঙ্গ দেখিলুম।
মোকর চলিআ জাইতে নিরক্ষি চাহিলুম॥

ই পদটি ১৯০৪ সালে প্রকাশিত, ব্রজসুন্দর সান্যাল সম্পাদিত, মূলত আবদুল করিম
সাহিত্যবিশারদ ও রমণীমোহন মল্লিক দ্বারা সংগৃহীত, “মুসলমান বৈষ্ণব কবি", ৩য় খণ্ড,
২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কল্যাণ॥

মধুর মুরড়ি ধ্বনি শুনিতে সুস্বর।
ভুবন মোহন রূপ চলহ মথুর॥ ধু॥
কি রঙ্গ দেখিলাম সইরে যমুনার কুলে।
পুলকিয়া উঠে প্রাণ ছটফট করে॥
কালিয়ার নাচনি চাইতে প্রাণি নিল হরি।
ঝামরু ঝামরু নাচে আপনা পাসরি॥
মহম্মদ হানিফে কহে কি রঙ্গ দেখিলুম।
মোকর (?) চলিআ যাইতে নিরক্ষি চাহিলুম॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-
ভাবাপন্ন মুসলমান কবি”, ৮৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে।

রাধার পূর্বরাগ
॥ কল্যাণ॥

মধুর মুরড়ি ধ্বনি শুনিতে সুস্বর।
ভুবনমোহন রূপ চলহ মথুর॥ ধু॥
কি রঙ্গ দেখিলাম সইরে যমুনার কুলে।
পুলকিয়া উঠে প্রাণ ছটফট করে॥
কালিয়ার নাচনি চাইতে প্রাণি নিল হরি।
ঝামরু ঝামরু নাচে আপনা পাসরি॥
মহম্মদ হানিফে কহে কি রঙ্গ দেখিলুম।
মোকর চলিআ যাইতে নিরক্ষি চাহিলুম॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, “কাব্য-
মালঞ্চ” সংকলনের ৪১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাগমালা পুথির পদ।

মথুরার পথে
॥ কল্যাণ॥

মধুর মুরলী-ধ্বনি শুনিতে সুস্বর।
ভুবনমোহন রূপ, চলহ মথুর॥ ধু।
কি রঙ্গ দেখিলাম সই রে যমুনার কুলে।
পুলকিয়া উঠে প্রাণ, দেহ মন ঢুলে॥
কালিয়ার কাচনি চাহিতে প্রাণ নিল হরি’।
ঠামরু ঠুমুরু নাচে আপনা পাশরি’॥
মোহম্মদ হানিফ কহে, কি রঙ্গ দেখিলুম।
মথুরা চলিয়া যাইতে নিরক্ষি’ চাহিলুম॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর