কবি নন্দকিশোর-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
শ্যামর কোরে ঘুমাওল রাই
কবি নন্দকিশোর
এই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস
সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ১৬৮-সংখ্যক পদ, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ভূপালী॥

শ্যামের কোরে ঘুমাওল রাই।
মাধব জাগি রহল মুখ চাই॥
রস-রে গর গর নাগর কাহ্ন।
পুন পুন অধরসুধা করু পান॥
জাগল রঙ্গিনী ভাগঁল ধন্দ।
সচকিত নয়নে হেরি মুখচন্দ্র॥
করে কর জোরি ধরল মুখ চাপি।
শ্যামর বদনে বদন রহু ঝাপি॥
তহিঁ উপজল কত রতিরসকেলি।
নন্দকিশোর লখই দিঠি মেলি॥

ই পদটি ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৩৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শয়নলীলা
॥ ভূপালী॥

শ্যামর কোরে ঘুমাওল রাই।
মাধব জাগি রহল মুখ চাই॥
রস-রে গর গর নাগর কাহ্ন।
পুন পুন অধরসুধা করু পান॥
জাগল রঙ্গিনী ভাগঁল ধন্দ।
সচকিত নয়নে হেরি মুখচন্দ্র॥
করে কর জোরি ধরল মুখ চাপি।
শ্যামর বদনে বদন রহু ঝাপি॥
তহিঁ উপজল কত রতিরসকেলি।
নন্দকিশোর লখই দিঠি মেলি॥

ই পদটি ১৯৮৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৫০৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


শ্যামর কোরে ঘুমাওল রাই।
মাধব জাগি রহল মুখ চাই॥
রসভরে গর গর নাগর কান।
পুন পুন অধরসুধা করু পান॥
জাগল রঙ্গিনী ভাগঁল ধন্দ।
সচকিত নয়নে হেরি মুখচন্দ্র॥
করে কর জোরি ধরল মুখ চাপি।
শ্যামর বদনে বদন রহু ঝাপি॥
তহিঁ উপজল কত রতিরসকেলি।
নন্দকিশোর লখই দিঠি মেলি॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
নব নব পল্লব তোড়ল কাহ্ন
কবি নন্দকিশোর
এই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস
সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ২৪১-সংখ্যক পদ, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসালসঃ।
॥ ধানশ্রী॥

নব নব পল্লব তোড়ল কাহ্ন।
কুঞ্জে কয়ল পহুঁ শেজ বিছান॥
আদরে ধরি পহুঁ রঙ্গিণী হাথ।
শূতল কুসুম-শয়নে একু সাথ॥
শ্যামর বামে কলাবতি গোরি।
আলসে অবশ সঘন তনু মোড়ি॥
শ্যামর তনু জনু জলদ উজোর।
চঞ্চল বিজুরি গোরি তছু কোর॥
ধনিমুখ চুম্বই নাগর কাহ্ন।
রসবতি অধরসুধা করু পান॥
অবিরল মীলল চান্দ চকোর।
দুহুঁ গুণ গাওত নন্দকিশোর॥

ই পদটি ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৩৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

রসালস
॥ ধানশ্রী॥

নব নব পল্লব তোড়ল কান।
কুঞ্জে কয়ল পহুঁ শেজ বিছান॥
আদরে ধরি পহুঁ রঙ্গিণী হাথ।
শূতল কুসুম-শয়নে একু সাথ॥
শ্যামর বামে কলাবতি গোরি।
আলসে অবশ সঘন তনু মোড়ি॥
শ্যামর তনু জনু জলদ উজোর।
চঞ্চল বিজুরি গোরি তছু কোর॥
ধনিমুখ চুম্বই নাগর কান।
রসবতি অধরসুধা করু পান॥
অবিরল মীলল চান্দ চকোর।
দুহুঁ গুণ গাওত নন্দকিশোর॥

ই পদটি ১৯৮৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৫০৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


নব নব পল্লব তোড়ল কান।
কুঞ্জে কয়ল পহু শেজ বিছান॥
আদরে ধরি পহুঁ রঙ্গিণী হাথ।
শূতল কুসুম শয়নে একু সাথ॥
শ্যামর বামে কলাবতি গোরি।
আলসে অবশ সঘন তনু মোড়ি॥
শ্যামর তনু জনু জলদ উজোর।
চঞ্চল বিজুরি গোরি তছু কোর॥
ধনিমুখ চুম্বই নাগর কান।
রসবতি অধরসুধা করু পান॥
অবিরল মীলল চান্দ চকোর।
দুহুঁ গুণ গাওত নন্দকিশোর॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
শ্রীদাম সুদাম সুবল অরে ভাই
কবি নন্দকিশোর
এই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস
সংকলিত, ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী
সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ৩২০-সংখ্যক পদ, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

শ্রীদাম সুদাম সুবল অরে ভাই।
বেলা অবসান হল্য চল ঘরে যাই॥
পাল জড় করিঞা আনহ বসুদাম।
অবিলম্বে নিজ ঘরে করহ পয়ান॥
বিলম্ব হইলে ভাই এই দূর বনে।
যশোমতী নন্দ ঘোষ মরিবে পরানে॥
বিহানে জননী মোরে বন পাঠাইঞা।
সেই হত্যে আছে রাণী পথ পানে চাঞা॥
ঘন ঘন শিঙ্গারব কর বলরাম।
শুনিঞা মায়ের যেন জুড়াএ পরান॥
শ্রীনন্দকিশোর কহে বিনতি করিঞা।
দিবানিশি কান্দে প্রাণ মায়ের লাগিঞা॥

ই পদটি ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী
সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”, ৯৩৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

উত্তর গোষ্ঠ
॥ পাহিড়া॥

শ্রীদাম সুদাম সুবল অরে ভাই।
বেলা অবসান হল্য চল ঘরে যাই॥
পাল জড় করিঞা আনহ বসুদাম।
অবিলম্বে নিজ ঘরে করহ পয়ান॥
বিলম্ব হইলে ভাই এই দূর বনে।
যশোমতী নন্দ ঘোষ মরিবে জীবনে॥
বিহানে জননী মোরে বন পাঠাইঞা।
সেই হত্যে আছে রাণী পথ পানে চাঞা॥
ঘন ঘন শিঙ্গারব কর বলরাম।
শুনিঞা মায়ের যেন জুড়াএ পরান॥
শ্রীনন্দকিশোর কহে বিনতি করিঞা।
দিবানিশি কান্দে প্রাণ মায়ের লাগিঞা॥

ই পদটি ১৯৮৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৫০৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


শ্রীদাম সুদাম সুবল অরে ভাই।
বেলা অবসান হল্য চল ঘরে যাই॥
পাল জড় করিঞা আনহ বসুদাম।
অবিলম্বে নিজ ঘরে করহ পয়ান॥
বিলম্ব হইলে ভাই এই দূর বনে।
যশোমতী নন্দ ঘোষ মরিবে জীবনে॥
বিহানে জননী মোরে বন পাঠাইঞা।
সেই হত্যে আছে রাণী পথ পানে চাঞা॥
ঘন ঘন শিঙ্গারব কর বলরাম।
শুনিঞা মায়ের যেন জুড়াএ পরান॥
শ্রীনন্দকিশোর কহে বিনতি করিঞা।
দিবানিশি কান্দে প্রাণ মায়ের লাগিঞা॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
গোধন সঙ্গে রঙ্গে ব্রজবালক
কবি নন্দকিশোর
এই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”,

৩২৩-সংখ্যক পদ, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

গোধন সঙ্গে                           রঙ্গে ব্রজবালক
গোকুল করল পয়ান।
জয় জয় মুরলি                      শিঙ্গারব ঘন ঘন
বাজত বেণু নিশান॥
গোঠে আওত ব্রজরাজ।
গগন উপেখি                         চান্দ চলি যাওত
যেন গোকুল পুরমাঝ॥
ধূলি-ধুসর তনু                        মণিময় অভরণ
মালতি-মণ্ডিত কেশ।
ঝলমল অলক                     তিলক শিখিচন্দ্রক
মদন-মনোহর বেশ॥
হরিমুখ হেরি                        হরখি সব সহচর
রসভরে দেওই কোর।
গহন উপেখি                          চলল বর নাগর
গাওত নন্দকিশোর॥

ই পদটি ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৩৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


॥ কামোদ॥

গোধন সঙ্গে                            রঙ্গে ব্রজবালক
গোকুল করল পয়ান।
জয় জয় মুরলি                      শিঙ্গারব ঘন ঘন
বাজত বেণু নিশান॥
মন্দিরে চলু যুবরাজ।
গগন উপেখি                          চান্দ চলি যাওত
যেন গোকুল পুরমাঝ॥
ধূলি-ধুসর তনু                        মণিময় অভরণ
মালতি-মণ্ডিত কেশ।
ঝলমল অলক                      তিলক শিখিচন্দ্রক
মদন-মনোহর বেশ॥
হরিমুখ হেরি                        হরখি সব সহচর
রসভরে দেওই কোর।
গহন উপেখি                          চলল বর নাগর
গাওত নন্দকিশোর॥

ই পদটি ১৯৮৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৫০৬-পৃষ্ঠায়,
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


গোধন সঙ্গে রঙ্গে ব্রজবালক         
.                                গোকুল করল পয়ান।
 জয় জয় মুকলি শিঙ্গারব ঘন ঘন       
.                                বাজত বেণু নিশান॥
মন্দিরে চলু যুবরাজ।                
.                                গগন উপেখি চান্দ চলি যাওত
যেন গোকুল পুরমাঝ॥                
ধূলি-ধুসর তনু মণিময় অভরণ       
.                                মালতি মণ্ডিত কেশ।
ঝলমল অলক তিলক শিখিচন্দ্রক     
.                                মদন মনোহর বেশ॥
হরিমুখ হেরি হরখি সব সহচর      
.                                রসভরে দেওই কোর।
গহন উপেখি চলল বর নাগর        
.                                গাওত নন্দকিশোর॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
সহজই মদনমদাকুল তহিঁ পুন
কবি নন্দকিশোর
এই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ৩৩৫-
সংখ্যক পদ, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ সিন্ধুড়া॥

সহজই মদন-                        মদাকুল তহিঁ পুন
মধুমদিরা উনমাদে।
বিগলিত চোলি                      খোলি কুচকঞ্চুক
বিহরই রতিরস সাধে॥
কো কহু অপরূপ রঙ্গ।
নাগরি সঙ্ঘে                          রঙ্গে বর নাগর
কত কত রস পরসঙ্গ॥
মাধব মত্ত                            মতঙ্গজ মাধবি
মদ-করিণীগণ মেলি।
করে কর জোড়ি                 ভোরি তনু মোড়ই
করই কলহ সম কেলি॥
রতি-রস আলসে                     অবশ কলেবর
ঘূর্ণিত লোচন জোর।
নিজ নিজ বসন                    শেজ করি শূতল
গাওল নন্দকিশোর॥

ই পদটি ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৩৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


মধুপান
॥ সিন্ধুড়া॥

সহজই মদন-                      মদাকুল তহিঁ পুন
মধুমদিরা উনমাদে।
বিগলিত চোলি                    খোলি কুচকঞ্চুক
বিহরই রতিরস সাধে॥
কো কহু অপরূপ রঙ্গ।
নাগরি সঙ্ঘে                         রঙ্গে বর নাগর
কত কত রস পরসঙ্গ॥
মাধব মত্ত                           মতঙ্গজ মাধবি
মদ-কারিণীগণ মেলি।
করে কর জোড়ি                ভোরি তনু মোড়ই
করই কলহ সম কেলি॥
রতি-রস আলসে                    অবশ কলেবর
ঘূর্ণিত লোচন জোর।
নিজ নিজ বসন                   শেজ করি শূতল
গাওল নন্দকিশোর॥

ই পদটি ১৯৮৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৫০৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


সহজই মদন মদাকুল তহিঁ পুন  
.                                মধুমদিরা উনমাদে।
বিগলিত চোলি খোলি কুচকঞ্চুক
.                                বিহরই রতিরস সাধে॥
    কো কহু অপরূপ রঙ্গ।                
নাগরি সঙ্ঘে রঙ্গে বর নাগর    
.                                কত কত রস পরসঙ্গ॥
মাধব মত্ত মতঙ্গজ মাধবি      
.                                মদ-কারিণীগণ মেলি।
 করে কর জোড়ি ভোরি তনু মোড়ই
.                                করই কলহ সম কেলি॥
রতি রস আলসে অবশ কলেবর
.                                ঘূর্ণিত লোচন জোর।
নিজ নিজ বসন শেজ করি শূতল
.                                গাওল নন্দকিশোর॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
লোচন লোরে ঘোরি ঘন মৃগমদ
কবি নন্দকিশোর
এই পদটি ১৬৯৩ শকাব্দে অর্থাৎ ১১৭৮বঙ্গাদে অর্থাৎ ১৭৭১খৃষ্টাব্দে পদকর্তা দীনবন্ধু দাস সংকলিত,
১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯২৯খৃষ্টাব্দে) অমূল্যচরণ বিদ্যাভূষণ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন “সংকীর্ত্তনামৃত”, ৩৩৫-
সংখ্যক পদ, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ তথা রাগ॥

লোচন লোরে                        ঘোরি ঘন মৃগমদ
কলম করল নখচন্দ্র।
পদনখে দাস-                      কবজ পহুঁ লিখইতে
হরখি ধরল পদদ্বন্দ্ব॥
সুন্দরি অন্তরে উলসিত ভেল।
আজর সুধই                           সুধারস বাদরে
বিরহতাপ দুর গেল॥
করে কর বারইতে                     অন্তর দর দর
রসবতি পুলকিত অঙ্গ।
উপজল প্রেম-                    বিহগপতি তছু ভয়ে
ভাগল মান-ভুজঙ্গ॥
নাহবাহ ধরি                          অথির কলেবর
মদন-জলধিজলভঙ্গে।
ভাঙ্গল মান-                        জনিত ভয় মাধব
কোরে পসারল রঙ্গে॥
ভুজ ভুজ বন্ধন                     নিবিড় আলিঙ্গন
বদন বদন একু মেলি।
নন্দকিশোর                          হেরি অনুমানই
দুহুঁক কলহ কিএ কেলি॥

ই পদটি ১৯৪৬ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ৯৩৬-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


মানান্তে মিলন
॥ তথা রাগ॥

লোচন লোরে                        ঘোরি ঘন মৃগমদ
কলম করল নখচন্দ্র।
পদনখে দাস-                     কবজ পহুঁ লিখইতে
হরখি ধরল পদদ্বন্দ্ব॥
সুন্দরি অন্তরে উলসিত ভেল।
আজর সুধই                           সুধারস বাদরে
বিরহতাপ দুর গেল॥
করে কর বারইতে                     অন্তর দর দর
রসবতি পুলকিত অঙ্গ।
উপজল প্রেম-                    বিহগপতি তছু ভয়ে
ভাগল মান-ভুজঙ্গ॥
নাহবাহ ধরি                          অথির কলেবর
মদন-জলধিজলভঙ্গে।
ভাঙ্গল মান-                        জনিত ভয় মাধব
কোরে পসারল রঙ্গে॥
ভুজ ভুজ বন্ধন                     নিবিড় আলিঙ্গন
বদন বদন একু মেলি।
নন্দকিশোর                          হেরি অনুমানই
দুহুঁক কলহ কিএ কেলি॥

ই পদটি ১৯৮৫ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী",
৫০৭-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


লোচন লোরে ঘোরি ঘন মৃগমদ   
.                                কলম করল নখচন্দ্র।
পদনখে দাস কবজ পহুঁ লিখইতে  
.                                হরখি ধরল পদদ্বন্দ্ব॥
সুন্দরি অন্তরে উলসিত ভেল।     
আদর সুধই সুধারস বাদরে       
.                                বিরহতাপ দুর গেল॥
করে কর বারইতে অন্তর দর দর
.                                রসবতি পুলকিত অঙ্গ।
উপজল প্রেম বিহগপতি তছু ভয়ে
.                                ভাগল মান ভুজঙ্গ॥
নাহ বাহ ধরি অথির কলেবর     
.                                মদন জলধি জল ভঙ্গে।
ভাঙ্গল মান জনিত ভয় মাধব     
.                                কোরে পসারল রঙ্গে॥
ভুজ ভুজ বন্ধন নিবিড় আলিঙ্গন  
.                                বদন বদন একু মেলি।
নন্দকিশোর হেরি অনুমানই      
.                                দুহুঁক কলহ কিএ কেলি॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
প্রথমে বন্দিব গুরু বাঞ্চাকলপতরু
কবি নন্দকিশোর দাস
এই পদটি বঙ্গীয়-সাহিত্য-পরিষদ্-মন্দির থেকে ১৩৩৯ বঙ্গাব্দে (১৯৩২) প্রকাশিত, তারাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য
সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ৩য় খণ্ড, ৩য় সংখ্যার ১৩৭-পৃষ্ঠায় আংশিক রূপে এইভাবে
দেওয়া রয়েছে। রসকলিকা পুথির শেষাংশ।

॥ যথারাগ॥

প্রথমে বন্দিব গুরু                        বাঞ্চাকলপতরু
অতিশয় দীনজনবন্ধু।
অজ্ঞান তিমীর নাসে                   দীব্য নেত্র পরকাশে
সেই প্রভু করুণার সিন্ধু॥ ১॥
মো অতি অধম ছার                মোরে কৈলে অঙ্গিকার
সেহো তাঁর করুণা প্রবল।
কৃপা করি সব মত                        জানাইলা রসতত্ত্ব
রাধাকৃষ্ণলীলাদি সকল॥
মুঞি অতিশয় দীন                       সারাসার জ্ঞানহীন
হৃদয় মলিন অতিশয়।
গুরুকৃপা প্রচণ্ড                           সব মলা করি খণ্ড
স্মিগ্ধাকার করিল হৃদয়॥
ব্রজেন্দ্রতনয় হরি                        রাধাভাব অঙ্গিকরি
নবদ্বীপে হৈলা অবতীর্ন্ন।
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম                        প্রেমধন করি দান
আস্বাদিল নিজ ভাব পূর্ন্ন॥
নিত্যানন্দচাঁদ বন্দি                        গৌরপ্রেমরসানন্দী
বলদেব রোহিণীতনয়।
অবতীর্ন্ন মহিতলে                        প্রেম প্রচারিয়া বুলে
কীর্ত্তন আনন্দ রসময়॥ ইত্যাদি।


উজ্বল গ্রন্থ অনুসার                        বিদগ্ধ মাধব আর
সাধু পদ্য উক্ত যে প্রকার।
এ রসকলিকা না                            এই গ্রন্থে আখ্যান
অনুরূপ করিব প্রচার॥

ভণিতা,-----
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপাদপদ্মে করি আস।
বংশীচৌয্যলীলা কহে নন্দকিশোর দাস॥

অধ্যায়সমাপ্তিক-বাক্য,---
ইতি শ্রীরসকলিকাগ্রন্থে সম্ভোগানুকরণবর্ন্ননে পুষ্পত্রোটনবংশীচৌয্যবিবরণকথনং নাম চত্তর্দ্দশদলং॥

শেষ,---
রসশিরোমণী রাধা কৃষ্ণ দুই জন।
দোঁহার বিলাষ কিছু করিল বর্ন্নন॥
আমি অজ্ঞ দুরাচার বড়ই অধম।
অসত ধারণে সদা মনের গমন॥
বৈষ্ণব গোসাঞিমুখে অনেক শুনিল।
সকল স্মরণ নাহি কিছু মনে ছিল॥
অভিলাষ ক্রমে হৈল এ গ্রন্থ রচন।
দোষ না লইবে কেহো মুঞি অজ্ঞ জন॥
যদি কোন রসক্রমবিপয্যয় হয়।
সে রস বৈষ্ণব সব করিবে নির্ন্নয়॥
আমি মূঢ় দুরাচার অতি বড় হীন।
রস কিছু নাহি বুঝি অতি অপ্রবীণ॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপাদপদ্মে করি আস।
এ রসকলিকা নন্দকিশোর প্রকাশ॥ *॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপাদপদ্মে করি আস।
এ রসকলিকা নন্দকিশোর প্রকাশ॥

ইতি শ্রীরসকলিকা গ্রন্থে সম্ভোগলীলাবর্ন্ননং নাম শোড়ষদলং॥১৬॥*॥ সমাপ্তেয়ং রসকলিকাগ্রন্থঃ॥*॥
স্বাক্ষরমিদং শ্রীকৃষ্ণদাসস্য মোকাম শ্রীশ্রী ঁধাম॥ পঠনার্থ শ্রীযুক্ত নবকৃষ্ণ বসু মুনসী সাকিম কাইগ্রাম॥ ইতি
সন ১২৩৯ সাল তারিখ ২০ ভাদ্র সম্বত ১৮৮৯। মাহ ভাদ্র সুদী নবমী রোজ সোমবার ব্রহ্মকুণ্ডে কুটিতে
বসিয়া পুর্ন্ন করিলাম মাত্র॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
অনুরাগের লক্ষণ হয় চারি প্রকার
কবি নন্দকিশোর দাস
বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর শিষ্য নন্দকিশোর দাসের রসকলিকা, পৃঃ ১৪৭ থেকে।
এই পদটি ১৯৬১ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৩৯৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

আক্ষেপানুরাগ

অনুরাগের লক্ষণ হয় চারি প্রকার।
উল্লাস, আক্ষেপ, রূপ, অভিসার আর॥
আক্ষেপ অনুরাগ নানাবিধ হয়।
সংক্ষেপার্থ তাহা কিছু করিয়ে নির্ণয়॥
কৃষ্ণকে, মুরলীকে আক্ষেপ, দূতীকে করায়।
কভু যে আক্ষেপ উক্তি গুরুজনে হয়॥
কুলে শীলে আক্ষেপ, কখনও বিধাতাকে।
জাতিকে আক্ষেপ কভু, কভু আপনাকে॥
কন্দর্পকে নিন্দা, কভু আক্ষেপ সখীরে।
উল্লাস আক্ষেপ রূপ করিল বিচারে॥

বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর শিষ্য নন্দকিশোর দাসের রসকলিকা, পৃঃ ১৪৭।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
উদ্ঘূর্ণা দশাতে চিত্তে নানা ভ্রম হয়
কবি নন্দকিশোর দাস
বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর শিষ্য নন্দকিশোর দাসের রসকলিকা থেকে।
এই পদটি ১৯৬১ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত বিমানবিহারী মজুমদার সম্পাদিত “ষোড়শ শতাব্দীর
পদাবলী-সাহিত্য”, ৫১২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

দয়িতের সুদূর প্রবাসজনিত বিপ্রলম্ভে মোহন ভাব অদ্ভুত ভ্রমময়ী বৈচিত্রী দশা লাভ
করিলে দিব্যোন্মাদ হয়।
উজ্জ্বলনীলমণিতে (১৪|৯০-১৯৩) দিব্যোন্মাদের বিবিধ ভেদ বর্ণিত হইয়াছে---তন্মধ্যে উদ্ঘূর্ণা
ও চিত্রজল্প প্রধান। চিত্রজল্পের আবার দশটি ভেদ---প্রজল্প, পরিজল্প, উজ্জ্বল্প, সংজল্প,
অবজল্প, অভিজল্প, আজল্প, প্রতিজল্প ও সুজল্প। এগুলির লক্ষণ পদের টীকায় দিব (এই
পদটিতে বিমানবিহারী মহাশয় কোনও টিকা দেন নি - মিলন সেনগুপ্ত)।

বিশ্বনাথ চক্রবর্তীপাদের ছাত্র নন্দকিশোর দাস ( গোস্বামী ) রসকলিকায় লিখিয়াছেন---

উদ্ঘূর্ণা দশাতে চিত্তে নানা ভ্রম হয়।
নানা ভাব চেষ্টা ভ্রমে আসি প্রকটয়॥
অশেষ নায়িকাবস্থ চেষ্টা অদ্ভুতা।
দেখি কৃষ্ণে কহে সখী অতি যে দুঃখিতা॥
বিচ্ছেদের ভরে রাধা অতি যে মোহিতা।
নানা ভ্রমময়ী দিব্যোন্মাদ---ঘূর্ণিতা॥
কভু কুঞ্জগৃহে বাসকসজ্জিতা যে হয়ে।
বিলাস বিভ্রমে শয্যার রচনা করয়ে॥
কভু দরশন আশে হয়ে উত্কণ্ঠিতা।
বিলাপ করয়ে নানা ভ্রমময় কথা॥
অরুণ মিলিত নীল ঘন যে গগনে।
হেরিয়া খণ্ডিতা দশা করিঞা ধারণে॥
তোহারি ভরমে তাহে করিয়া তর্জন।
বচন না কহে রহে ফিরিয়া বয়ান॥
ক্ষণেক অন্তরে সেই দশা যবে যায়।
অনুতাপ করি প্রেমে করে হায় হায়॥
ক্ষণে কহে অঙ্গবেশ করহ রচনে।
মূরছিত হঞা পড়ে তুয়া অদর্শনে॥
কখন অতি যে অন্ধকার নিদারুণে।
অভিসার-ভ্রমবতী ঘুরয়ে অঙ্গনে॥
কভু প্রলাপয়ে প্রাণনাথ গেলা কতি।
ক্ষণে বিলাপয়ে সুকরুণ স্বরে অতি॥
কাঁহা ব্রজরাজ-কুলচান্দ সুশোভন।
কামার্ক-প্রতপ্ত কুমুদিনীর জীবন॥
কাঁহা সে সুঠাম শিখি-চন্দ্রক-ভূষণ।
হাহা কাঁহা প্রাণনাথ মুরলীবদন॥
কাঁহা ইন্দ্রনীলমণিদ্যুতি মনোহর।
কাঁহা নবঘন-তনু পীতবাসধর॥
কাঁহা রাসবিলাসী নাগর সুমোহন।
কাঁহা সে অপূর্ব্ব গতি মদনমোহন॥
কাঁহা রসসুধা-নিধি না পাঙ দর্শন।
ধিক্ রহু বিধিরে যে করে বিড়ম্বন॥
রজনী সময়ে ভ্রমে হয়ে দিবা জ্ঞান।
দিবস-ভিতরে কভু রজনী-বিজ্ঞান॥
এই মত নানা ভ্রমদশা-প্রকটন।
সংক্ষেপে কহিল সব না যায় বর্ণন॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
অজ্ঞান তিমিরঘোরে, মায়া অন্ধ এ সংসারে
কবি নন্দকিশোর দাস
এই পদটি ১৩৩৬ বঙ্গাব্দে (১৯৩৩খৃষ্টাব্দ) প্রকাশিত, নন্দকিশোর দাস রচিত “শ্রীবৃন্দাবন লীলামৃত” গ্রন্থের
মঙ্গলাচরণ পদ।

অজ্ঞান তিমিরান্ধস্য জ্ঞানাঞ্জন শলাকয়া।
চক্ষুরুন্মীলিতং বেন তস্মৈ শ্রীগুরুবে নমঃ॥


অজ্ঞান তিমিরঘোরে,                      মায়া অন্ধ এ সংসারে,
রহে আত্ম-বিস্মৃত হইয়া।
অন্যে আত্মজ্ঞান করি,                      জ্ঞান পথে ফিরি ঘুরি,
সব জীব স্ব-পথ ছাড়িয়া॥
কভু পূণ্যকর্ম্ম করি,                        তাহা ভুঞ্জে স্বর্গোপরি,
ভোগ অন্তে পড়য়ে সংসারে।
নিন্দাকর্ম্ম অসদ্বুদ্ধে,                         পড়য়ে রৌরব মধ্যে,
পুনঃ পুনঃ যাতায়াত করে॥
জীবের এ ক্লেশ দেখি                      শ্রীকৃষ্ণ অন্তরে দুঃখী,
আপনি আচার্য্যরূপী হৈয়া।
কৃপাদৃষ্টে তাসবার,                            দূর করে অন্ধকার,
জ্ঞানাঞ্জন নেত্র প্রকাশিয়া॥
দিব্য জ্ঞান চক্ষুদানে,                        সার বস্তু করি জ্ঞানে,
ত্যাগ করায় অসার দেখ্যায়া।
আপনার পদযুগে,                             জন্মাইয়া অনুরাগে,
উদ্ধারয়ে করুণা করিয়া॥
অজ্ঞান যে অন্ধকারে,                        দৃষ্টিহীন দেখি মোরে,
জ্ঞানাঞ্জন শলাকা করিয়া।
প্রকাশিল নেত্রদ্বন্দ্বে,                           সে প্রভু-পদারবৃন্দে,
প্রণমিয়ে অবনী লোটায়া॥
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য নাম,                          বন্দো স্বয়ং ভগবান্,
নাম প্রেম উপদেশ কৈলা।
নিজ মনোবাঞ্ছা যত,                          আস্বাদিয়া অবিরত,
প্রেমরসে সবা মাতাইলা॥
বন্দো প্রভু নিত্যানন্দ,                           বলদেব প্রেমানন্দ,
প্রকাশ রূপেতে অবতার।
পতিত অধম দীন,                             কৃতপাপী যত হীন,
সকলের করিলা উদ্ধার॥
বন্দো ভক্ত অবতার,                       আচার্য্য অদ্বৈত যার,
হুঙ্কারে চৈতন্য অবতীর্ণ।
হরিনামামৃত দানে,                            ভাসাইলা জগজনে,
সকল বাঞ্ছিত কৈলা পূর্ণ॥
বন্দো প্রভু ভক্তগণ,                           শ্রীবাসাদি যত জন,
শুদ্ধ ভক্ত তত্ত্ব বলি যারে।
চৈতন্য প্রভুর সনে,                          নাম প্রেম আস্বাদনে,
বিহারয়ে নদীয়া নগরে॥
বন্দনা করিব আর,                         ভক্ত শক্তি নাম যার,
গদাধর স্বরূপাদি করি।
যে সব লইয়া সঙ্গে,                           প্রেম বিলসই রঙ্গে,
শ্রীকৃষ্ণচৈতন্য রূপ ধরি॥
আর যত ভক্তগণ,                             বন্দো সবার চরণ,
গৌরাঙ্গ জীবন ধন যার।
পাত্রাপাত্র না দেখিয়া,                        গৌরভক্তি বিলাইয়া,
করুণা বিগ্রহ অবতার॥
সবে জান প্রভু মর্ম্ম,                          কৃপা করি গৌরধর্ম্ম,
মোর চিত্তে কর প্রকাশনে।
আনন্দ অন্তরে যেন,                           গাই কৃষ্ণলীলাগুণ,
মো অধমে শক্তি দেহ দানে॥
তোমরা করুণা কৈলে,                        এ ভব-সমুদ্র হেলে,
অনায়াসে সবে হয় পার।
মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়,                             কিছু দুর্ঘটন নয়,
এ লাগি কহিয়ে বার বার॥
নিত্যলীলা কৃষ্ণধাম,                         সর্ব্ব পরাত্পর নাম,
গোলোক গোকুল বৃন্দাবন।
বরাহ ধরণী দোঁহে,                          প্রশ্নোত্তর করি কহে,
অতি যে রহস্য সঙ্গোপন॥
বর্ণিলা পুরাণকর্ত্তা,                           সকল সংশয়ছেত্তা,
সত্যবতী-সুত বেদব্যাস।
বরাহ সংহিতাখ্যান,                           সেই হইল পুরাণ,
সাধুমুখে শুনিয়া উল্লাস॥
শ্রীগোকুল বৃন্দাবনে,                      কৃষ্ণলীলা যে যে স্থানে,
শ্লোকবন্দে আছয়ে পুরাণে।
মোর চিত্তে হয় আশা,                      বর্ণিয়া তাহার ভাষা,
করি কৃষ্ণলীলাগুণ গানে॥
চন্দ্র হেন খর্ব্বজনে,                         ধরিতে করয়ে মনে,
তৈছে মো অযোগ্য দুরাচার।
বর্ণনাভিলাষ হয়,                              বারণ করিলা লয়,
ইথে কৃপা চাহো তো সবার॥
নির্গুণ দেখিয়া যবে,                       আঙ্গীকার না করিবে,
ঘৃণা করি ত্যজিবে আমারে।
তবেতো সবার যশে,                    এ সংসারে নাহি ঘোষে,
দন্তে তণে কহো বারে বারে॥
নিজ ভৃত্য করি মোরে,                     সবে কর অঙ্গীকারে,
পূর মোর মনোভিলাষে।
কৃষ্ণ লীলাস্থলী যত,                             বৃন্দাবনলীলামৃত,
অধ্যায় রূপেতে পরকাশে॥
শ্রীগুরু বৈষ্ণব-পদ,                              পদরেণু সুসম্পদ,
হৃদয়ে ধরিয়া অভিলাষ।
মঙ্গলাচরণ যেই,                               প্রকাশ করিল এই,
কহে শ্রীনন্দকিশোর দাস॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর