কবি রামচন্দ্র দাসের বৈষ্ণব পদাবলী
*
পহু মোর শ্রীগৌরাঙ্গ রায়
পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ রায়   
পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ সুন্দর রায়

ভণিতা রামচন্দ্র
এই পদটি নরহরি চক্রবর্তী (ঘনশ্যাম) দ্বারা আনুমানিক ১৭২৫ সাল নাগাদ বিরচিত এবং  
৪২৬ গৌরাব্দে (১৯১৩ খৃষ্টাব্দ), রামদেব মিশ্র দ্বারা প্রকাশিত “ভক্তিরত্নাকর” গ্রন্থ, ৯১৯-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ পুনঃ - সুহই॥

পহু মোর শ্রীগৌরাঙ্গ রায়। শিব শুক বিরিঞ্চি মহিমা যার গায়॥
কমলা যাহার ভাবে সদাই আকুলী। সে পহুঁ কাঁদয়ে হরি বলি বাহু তুলি॥
যে অঙ্গ হেরি হেরি অনঙ্গ ভেল কাম। কীর্ত্তন-ধূলায় সে ধূষর অবিরাম॥
ক্ষণে রাধা রাধা বলি উঠে চমকিয়া। রহে নরহরি গদাধর মুখ চা’য়া॥
পূরুব নিবিড় প্রেমে পুলকিত অঙ্গ। রামচন্দ্র কহে কেনা বুঝে ওনা রঙ্গ॥

ই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং
সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩),
৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ২০শ পল্লব, শ্রীগৌরাঙ্গচন্দ্র-প্রকারান্তর, ২১৮৬-পদসংখ্যা। এই পদটি
নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২২৯৩ সংখ্যক পদ।

॥ শ্রীরাগ॥

পহু মোর গৌরাঙ্গ রায়।
শিব শুক বিরিঞ্চি যার গুণ গায়॥ ধ্রু॥
কমলা যাহার ভাবে সদাই আকুলি।
সেই পহু বাহু তুলি কান্দে হরি বলি॥
যে অঙ্গ হেরি হেরি অনঙ্গ ভেল কাম।
সো অব কীর্ত্তন-ধূলি-ধূসর অবিরাম॥
খেণে রাধা রাধা বলি উঠে চমকিয়া।
গদাধর নরহরি রহে মুখ চাঞা॥
পূরব-নিবিড়-প্রেম-পুলকিত অঙ্গ।
রামচন্দ্র কহে কেনা বুঝে ও না রঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ২৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীরাগ॥

পঁহু মোর গৌরাঙ্গ রায়।
শিব শুক বিরিঞ্চি যার মহিমা গুণ গায়॥ ধ্রু॥
কমলা যাঁহার ভাবে সদাই আকুলি।
সেই পঁহু বাহু তুলি কাঁদে হরি বলি॥
যে অঙ্গ হেরি হেরি অনঙ্গ ভেল কাম।
সো অব কীর্ত্তন ধূলি ধূসর অবিরাম॥
খেনে রাধা রাধা বলি উঠে চমকিয়া।
গদাধর নরহরি রহে মুখ চাঞা॥
পূরুব নিবিড় প্রেম পুলকিত অঙ্গ।
রামচন্দ্র কহে কেনা বুঝে ও না রঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ১৭৩-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ রায়।
শিব শুক বিরিঞ্চি যার মহিমা গুণ গায়॥ ধ্রু॥
কমলা যাহার ভাবে সদাই আকুলি।
সেই পহুঁ বাহু তুলি কাঁদে হরি বলি॥
যে অঙ্গ নেহারি অনঙ্গ ভেল কাম।
সো অব কীর্ত্তন-ধূলি-ধূসর অবিরাম॥
খেনে রাধা রাধা বলি উঠে চমকিয়া।
গদাধর নরহরি উঠে মুখ চাঞা॥
পূরুব নিবিড় প্রেম পুলকিত অঙ্গ।
রামচন্দ্র কহে কে না বুঝে ও না রঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
“বৈষ্ণব পদাবলী”, ১০৭১-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ শ্রীগৌরাঙ্গ॥

পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ সুন্দর রায়।
শিব শুক বিরিঞ্চি যার মহিমা গুণ গায়॥
কমলা যাহার ভাবে সদাই আকুলি।
সো পহুঁ বলিয়া হরি কান্দে বাহু তুলি॥
পূরব নিগূঢ় প্রেমে পুলকিত অঙ্গ।
রামচন্দ্র কহে কে না বুঝে ও না রঙ্গ॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব
পদাবলী", ৯৩৯-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

পহুঁ মোর গৌরাঙ্গ সুন্দর রায়।
শিব শুক বিরিঞ্চি যার মহিমা গুণ গায়॥
কমলা যাহার ভাবে সদাই আকুলি।
সো পহুঁ বলিয়া হরি কান্দে বাহু তুলি॥
পূরব নিগূঢ় প্রেমে পুলকিত অঙ্গ।
রামচন্দ্র কহে না বুঝে ও না রঙ্গ॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
দেখ শচীনন্দন জগত-জীবন-ধন
ভণিতা রামচন্দ্র দাস
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে বৈষ্ণবদাস ( গোকুলানন্দ সেন ) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায়
সম্পাদিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের, সটীক সংস্করণ ১৩৩০ বঙ্গাব্দ (১৯২৩), ৩য় খণ্ড, ৪র্থ শাখা, ১৭শ পল্লব,
শ্রীগৌরাঙ্গের নৃত্যাদি লীলা, ২০৬৪-পদসংখ্যা। এই পদটি নিমানন্দ দাসের পদরসসার পুথির ২১৭৩
সংখ্যক পদ।

॥ তথা রাগ॥

দেখ শচীনন্দন                         জগত-জীবন-ধন
অনুখন প্রেম-ধন জগ-জন যাচে।
ভাবে বিভোর বর                 গৌর-তনু পুলকিত
সঘনে বোলাঞা হরি গোরা পঁহু নাচে॥
সব অবতার-সার গোরা অবতার।
হেম-বরণ যিনি                        নিরুপম তনুখানি
অরুণ নয়নে বহে প্রেমক ধার॥ ধ্রু॥
বৃন্দাবন-গুণ শুনি                    লুঠত সে দ্বিজ-মণি
ভাব-ভরে গরগর পহুঁ মোর হাসে।
কাশীশ্বর অভিরাম                   পণ্ডিত পুরুষোত্তম
গুণগান করতহি নরহরি দাসে॥
খোল করতাল শুনি                কিবা শিশু কিবা ধনী
ধায়ত সবহুঁ প্রেম-প্রতিআশে।
এমন গৌর-গুণ                           যাক জাগয়ে মন
তাকর সেবক রামচন্দ্র দাসে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
বিনোদ বন্ধনি ধনি তাহে নব যৌবনি
ভণিতা রামচন্দ্রদাস
কবি রামচন্দ্র দাস
এই পদটি রয়েছে তারাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য সঙ্কলিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ,
৩য় খণ্ড”, ৩-পৃষ্ঠায়। বৃন্দাবনদাস বৈরাগী লিখিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ২০১ সংখ্যক পুথি, বৈষ্ণব-
পদাবলী সংকলনের পদ।

রূপাভিসার।

বিনোদ বন্ধনি ধনি                        তাহে নব যৌবনি
সাজলি দরশনে শ্যাম।
গুরুয়া নিতম্ব ভরে                       পদ আধ আধ চলে
হেরইতে মুরছিল কাম॥
ভালে সে অরুণ ইন্দু                     মলয়জ বিন্দু বিন্দু
কস্তুরিতিলক তার মাঝে।
পিঠে দোলে হেম ঝাপা                 রঙ্গিয়া পাটের থোপা
নাসিকায় মুকুতা বিরাজে॥
পদ অতি মন্থর                                নবযৌবন ভর
সখী অঙ্গে হেলি নিজ অঙ্গ।
চৌদিগে রমণি সাজে                       ডম্ফ রবাব বাজে
চলে রাই মদনতরঙ্গ॥
পদ উতপল রাতা                        তাহাতে তরল পাতা
কনকনুপুর তার সনে।
দরসনে হইয়া ভোর                        আনন্দে নাহি ওর
রামচন্দ্রদাস গুণগানে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
হাহা মোর কি ছার অদৃষ্ট
ভণিতা রামচন্দ্র
কবি রামচন্দ্র দাস
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত ও মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী” (১৯৩৪, প্রথম সংস্করণ ১৯০২), ৩৩৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

হাহা মোর কি ছার অদৃষ্ট।
যবে গৌর প্রকটিল                        আমার জনম নৈল
তেঁই মুঞি অধম পাপিষ্ঠ॥ ধ্রু॥
না হেরিনু গৌরচন্দ্র                      না হেরিনু নিত্যনন্দ
না হেরিনু অদ্বৈত গোসাঞী।
ঠাকুর শ্রীসরকার                        না হেরিনু পদ তার
না হেরিনু শ্রীবিস গদাই॥
কি মোর কর্ম্মের লেখা                    সে সব নহুল দেখা
একা আমি কেন জনমিনু।
সব অবতার সার                        শ্রীগৌরাঙ্গ অবতার
না দেখিনু কেন না মরিনু॥
প্রভুর প্রিয় স্বগণ                            ঠাকুর বংশীবদন
সুত-সুত হওঁ মুঞি তার।
অহো গৌর নিত্যানন্দ                   তবে কেন মতি মন্দ
রামচন্দ্র অতি দুরাচার॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
আঙ্গিনায়ে নাচত নন্দদুলাল
ভণিতা রামচন্দ্র
কবি রামচন্দ্র দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ মাউর॥

আঙ্গিনায়ে নাচত নন্দদুলাল। চৌদিকে ব্রজবধূ নাচত গাওত বোলত থোই থোই তাল॥ ধ্রু॥
থমটী মৃদু মন্দ মধুরগতি ঘুঙ্গুর শবদ সুতাল। বঙ্ক বলয়াধ্বনি, নূপুর ঝন ঝনি, আধ আধ
বোলে রসাল॥ মরকতগঞ্জন, ইন্দুবদন, মনোমোহন মূরতি তমাল। ঈষদ মধুর তাহে
দোলায়নি করপদ পঙ্কজলাল॥ ধরণী আনন্দিত, অঙ্গ বিরাজিত, সুন্দর বালগোপাল।
রামচন্দ্রকে প্রভু, অখিল কলা-গুরু, ভকতবত্সল জয় গোপাল॥

ই পদটি ১৮৪৯ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, গৌরমোহন দাস সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “পদকল্পলতিকা”,
১৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মাউর॥

আঙ্গিনামে নাচত নন্দদুলাল। চৌদিগে ব্রজবধু নাচত গায়ত বোলত থই ২ তাল॥ ধ্রু॥
থমকি ২ মৃদু মন্দ মধুর গতি ঘুঙ্গুর শবদ সুতাল। বঙ্ক বলয় ধ্বনি নূপুর ঝন ঝনি
আধ ২ বোল রসাল॥ মরকত অঞ্জন ইন্দু বদন ঘন মোহন মূরতি তমাল।
ঈষৎ মধুর তঁহিগিম দোলায়নি কর পদপঙ্কজ লাল॥ ধরণী আনন্দিত অঙ্গ বিরাজিত
সুন্দর বালগোপাল। রামচন্দ্র কে প্রভু অখিল কলা গুরু ভকত বত্সল জয় গোপাল॥

ই পদটি ১৮৪৯ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও শ্রীশচন্দ্র মজুমদার দ্বারা সম্পাদিত, ১৮৮৫ সালে
প্রকাশিত, পদাবলী সংকলন “পদরত্নাবলী”-তে এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ মায়ুর॥

আঙ্গিনামে নাচত নন্দদুলাল।
চৌদিকে ব্রজবধূ নাচত গাওত
বোলত থই থই তাল॥ ধ্রু॥
থমকি থমকি মৃদু মন্দ মধুর গতি
সুন্দর শব্দ সুতাল।
বল্ক বলয়াধ্বনি নূপুর ঝনঝনি
আধ আধ বোল রসাল॥
মরকত অঞ্জ ইন্দুবদন ঘন
মনোমোহন মূরতি তমাল।
ঈষৎ মধুর তঁহি গিম দোলায়নি
করপদ পঙ্কজলাল॥
ধরণী আনন্দিত অঙ্গ বিরাজিত
সুন্দর বালগোপাল।
রামচন্দ্রকে প্রভু অখিল কলাগুরু
ভকতবত্সল জয় গোপাল॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
১০৭২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীকৃষ্ণের বাল্যলীলা
॥ মায়ূর॥

আঙ্গিনামে নাচত নন্দদুলাল।
চৌদিকে ব্রজবধু                        নাচত গায়ত
বোলত থই থই তাল॥
থমকি থমকি মৃদু                    মন্দ মধুর গতি
ঘুঙ্গুর শবদ সুভাল।
বঙ্ক বলয় ধ্বনি                        নূপুর ঝন ঝনি
আধ আধ বোলে রসাল॥
ইন্দুবদন ঘন                          মরকত অঞ্জন
মোহন মূরতি তমাল।
ঈষৎ মধুর তঁহি                      গীম দোলায়নি
করপদপঙ্কজ লাল॥
ধরণী আনন্দিত                      অঙ্গ বিরাজিত
সুন্দর বালগোপাল।
রামচন্দ্রকে প্রভু                    অখিল কলাগুরু
ভকত জনক প্রতিপাল॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৯৩৯-পৃষ্ঠায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

আঙ্গিনামে নাচত নন্দদুলাল।
চৌদিকে ব্রজবধু নাচত গায়ত
.                        বোলত থই থই তাল॥
থমকি থমকি মৃদু মন্দ মধুর গতি
.                        ঘুঙ্গুর শবদ সুভাল।
বঙ্ক বলয় ধ্বনি নূপুর ঝন ঝনি
.                        আধ আধ বোলে রসাল॥
ইন্দুবদন ঘন মরকত অঞ্জন
.                        মোহন মূরতি তমাল।
ঈষৎ মধুর তঁহি গীম দোলায়নি
.                        করপদপঙ্কজ লাল॥
ধরণী আনন্দিত অঙ্গে বিরাজি
.                        সুন্দর বালগোপাল।
রামচন্দ্রকে প্রভু অখিল কলাগুরু
.                        ভকত জনক প্রতিপাল॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
সখী অবলম্বনে চলবি নিতম্বিনী
ভণিতা রামচন্দ্র
কবি রামচন্দ্র দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং তাঁর পুত্র
রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”, ২২৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

সখী অবলম্বনে চলবি নিতম্বিনী স্তম্ভ বিমুখ সমিখে।
যদি হরি করে ধরি কোরে বৈঠায়ই নিচোলে চালায়বি দীপে॥
সুন্দরি মান না রহয়ে উদাসে।
বদন আধ বিনু, সাধ না পুরবি, কুচ দরশায়বি পাশে॥ ধ্রু॥
বহু অনুরোধে পহুঁ কাতর দেখি, বিমুখে বৈঠবি বামে।
পাণি পরশে ঘন চমকিত চপলা, সেজ তেজি আন ঠামে॥
ভুজযুগ যোড়ি মুড়ি কর পল্লব, অম্বর সম্বরবি পীঠে।
দীন রামচন্দ্র ভণত, উত্কট সঙ্কট বঙ্কিম দিঠে॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
১০৭২-পৃষ্ঠায় এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখীশিক্ষা
॥ ধানশী॥

সখী অবলম্বনে                        চলবি নিতম্বিনী
থম্ভবি নাথ সমীপে।
যদি হরি করে ধরি                   কোরে বৈঠয়ই
নিচোলে চালায়বি দীপে॥
সুন্দরি মান না রহয়ে উদাসে।
বদন আধ বিনু                        সাধ না পুরবি
কুচ দরশায়বি পাশে॥
বহু অনুরোধে                       পহুঁ কাতর দেখি
বিমুখে বৈঠবি বামে।
পাণি পরশে ঘন                       চমকিত চপলা
শেজ তেজি আন ঠামে॥
ভুজ যুগ জোড়ি                      মোড়ি করপল্লব
অম্বর সম্বরবি পীঠে।
দীন রামচন্দ্র                        ভণ অতি উত্কট
সঙ্কট বঙ্কিম দীঠে॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৯৩৯-পৃষ্ঠায়
এই রূপে দেওয়া রয়েছে।

সখী অবলম্বনে চলবি নিতম্বিনী
.                        থম্ভবি নাথ সমীপে।
  যদি হরি করে ধরি কোরে বৈঠয়ই
.                        নিচোলে চালায়বি দীপে॥
সুন্দরি মান না রহয়ে উদাসে।
বদন আধ বিনু সাধ না পুরবি
.                        কুচ দরশায়বি পাশে॥
বহু অনুরোধে পহুঁ কাতর দেখি
.                        বিমুখে বৈঠবি বামে।
পাণি পরশে ঘন চমকিত চপলা
.                        শেজ তেজি আন ঠামে॥
ভূজ যুগ জোড়ি মোড়ি করপল্লব
.                        অম্বর সম্বরবি পীঠে।
দীনরামচন্দ্র ভণ অতি উত্কট
.                        সঙ্কট বঙ্কিম দীঠে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
মথুরা নাগরী, আওয়ে সারি সারি
ভণিতা রামচন্দ্র
কবি রামচন্দ্র দাস
এই পদটি ১৯৩৭-৫৩খৃঃ সময়কালে প্রকাশিত, নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ৪র্থ খণ্ড, ১৫৭-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ - একতালা॥

মথুরা নাগরী,                 আওয়ে সারি সারি
গাগরি করিয়া কাঁখে।
মুখরা প্রখরা,                      অতি তত্পরা,
যাওয়ে মথুরা মুখে॥
যমুনাকিনারে,                       মথুরা নাগরী,
ব্রজ সুন্দরী দেখা।
চতুরিণী দোঁহে,                      পূছত তাহে,
ঘন ঘন দেয় হাঁকা॥
কাঁহা তেরা ঘর,                      কহত সত্বর,
কিয়ে তুয়া সব নাম।
মথুরা নিবাসী,                   কহে হাসি হাসি,
রাজ মহলে ধাম॥
রাজন অভি-                         ষেক কারণ,
জল ভরনেক আই।
চল চল চল                      তবে ভাল হইল,
হাম সব ওই চাই॥
(মথুরা) বাসিনী সঙ্গে,              গোপিনী রঙ্গে,
রাজ দ্বারেতে যায়।
রামচন্দ্র,                             ভাবত ধন্দ,
আজু কিবা হয়॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কাহারে কহিব মনের কথা
ভণিতা রামচন্দ্র
কবি রামচন্দ্র দাস
এই পদটি ১৯৫৭ সালে প্রকাশিত, সুকুমার সেন সংকলিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব পদাবলী”,
১৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ দুর্ভর প্রেম॥

কাহারে কহিব                        মনের কথা
কেবা যায় পরতীত।
হিয়ার মাঝারে                       মরম-বেদন
সদাই চমকে চিত॥
গুরুজন-আগে                    বসিতে না পাই
সদা ছলছলে আঁখি।
পুলকে আকুল                     দিগ নেহারিতে
সব শ্যামময় দেখি॥
সঙ্গী সঙ্গে যদি                        জলেরে যাই
সে কথা কহিল নয়।
যমুনার জল                          মুকত কবরী
ইথে কি পরাম রয়॥
কুলের ধরম                        রাখিতে নারিল
কহিল সভার আগে।
রামচন্দ্র কহে                         শ্যাম নাগর
সদাই মরমে জাগে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
শ্রীচৈতন্য প্রভু মোরে করহ প্রসাদ
ভণিতা রামচন্দ্র দাস
কবি রামচন্দ্র দাস
এই পদটি সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকায় ১৩২৬ বঙ্গাব্দের (১৯১৯) সংখ্যায় প্রকাশিত,
শিবরতন মিত্র সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ২য় খণ্ড, ১ম সংখ্যা, ৯৯-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে। সিদ্ধান্তচন্দ্রিকা পুথির পদ। পুথিটির এই শেষ পাতাটিই পাওয়া
গিয়েছে।

পুথি সমাপ্তির পদ।

শ্রীচৈতন্য প্রভু মোরে করহ প্রসাদ।
ধার্ষিটতা করিনুঁ মোরে ক্ষেম অপরাদ॥
জয় জয় সচীসুত জগতের প্রাণ।
শরণ লইনু তুয়া কর মোর ত্রাণ॥
জয় জয় নিত্যানন্দ করুণাসাগর।
করুণা কর প্রভু মো অতি পামর॥
জয় জয় অদ্বৈতচন্দ্র জীবহিতকারী।
মো অধমে কৃপা কর মোর পাপ ভারি॥
জয় জয় ভক্তবৃন্দ সর্ব্বগুণদাতা।
স্মরণ লইনু দেহ পাদপদ্মছায়া॥
তাঁহার ছায়ায় বসি যুড়াক জীবন।
এই কৃপা কর মোরে লইল শরণ॥
জয় জয় কৃপাময় শ্রীগুরুগোসাঞি।
মোরে কৃপা কর মোর আর কেহ নাঞি॥
সবার চরণপদ্মে করি অধিকা।
সমাপ্ত করিলু এই সিদ্ধান্তচন্দ্রিকা॥
গুরুপাদপদ্ম হৃদে করি আশ।
সিদ্ধান্তচন্দ্রিকা কহে রামচন্দ্র দাস॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
আও লো শ্যাম মিলল বর ভামিনী
ভণিতা রামচন্দ্র
কবি রামচন্দ্র দাস
এই পদটি চন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা সমস্ত জীবন ধরে, ১৮৭০ সাল পর্যন্ত সংগৃহীত এবং
তাঁর পুত্র রাজেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় দ্বারা ১৯২২ খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, “শ্রীশ্রীপদামৃতসিন্ধু”,
২৩১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ কামোদ॥

আও লো শ্যাম মিলল বর ভামিনী, নিছই কুসুম পদে দেয়ল ডারি।
লাজে কমলমুখী তুঞ্চিত লোচনে হাসি, নিরখে মুখ বৃষভানু-কুমারী॥
দোহেঁ দোহাঁ দরশনে আনন্দ হইল মনে, উছলল আনন্দ-হিলোল।
রামচন্দ্র পহু রসিক শিরোমণি, দুহুঁ মুখ হেরইতে দুহুঁ ভের ভোর॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর