কবি রামকান্ত দাস - বৈষ্ণবদাস সংকলিত শ্রীশ্রীপদকল্পতরুর ১৫৭২ সংখ্যাক এই একটি মাত্র পদ কবি রামকান্তের। তাঁর কোনও নিশ্চিত পরিচয় জানা যায় নি। তাঁর বিরল মল্ল-ঝাঁপ ছন্দের এই পদটি সহ জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত গৌরপদ-তরঙ্গিণী সংকলনে আরও দুটি পদ উদ্ধৃত হয়েছে।
রামকান্ত সম্বন্ধে সতীশচন্দ্র রায়ের উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . সতীশচন্দ্র রায় তাঁর সম্পাদিত পদকল্পতরুর ৫ম খণ্ডের ভূমিকায় কবি রামকান্ত ও তাঁর পদ ও পদের ছন্দ সম্বন্ধে বিস্তারিত লিখেছেন। আমরা ছন্দে আগ্রহী পাঠকের জন্য তা পুরোপুরি এখানে উদ্ধৃত করছি . . .
“‘রামকান্ত’ ভণিতার শুধু একটি (১৫৭২ সংখ্যক) পদ পাওয়া গিয়াছে। রামকান্তের কোন নিশ্চিত পরিচয় জানা যায় নাই। তাঁহার পদটী শ্রীগৌরাঙ্গের অভিষেক-বিষয়ক ‘মল্ল-ঝাঁপ’ ছন্দের একটা বাংলা পদ। প্রাচীন পদাবলী-সাহিত্যে এই ছন্দের পদের সংখ্যা খুব বিরল। সমগ্র পদকল্পতরুতে আর দুই একটি দেখিয়াছি বলিয়া এখন স্মরণ পড়ে না। এই ছন্দের প্রত্যেক চরণের ৪র্থ অক্ষর ও ৮ম অক্ষরে মিল (Rhyme) আছে, যথা--- ‘সীতানাথ লেই সাথ পণ্ডিত শ্রীবাস। গদাধর দামোদর হরিদাস পাশ॥’ ইত্যাদি কদাচিৎ উক্ত চারি অক্ষরের স্থলে সমান ওজনের পাঁচ অক্ষরও দেখা যায় ; সেখানে কিঞ্চিৎ দ্রুতপঠিত পাঁচটী অক্ষরই চারি অক্ষরের তুল্য-কাল-ব্যাপী বুঝিতে হইবে। যথা--- ‘আনন্দ-কন্দ নিত্যানন্দ গৌরচন্দ্র সঙ্গ। প্রেমে ভাসি হাসি হাসি রোম-হর্ষ অঙ্গ॥’ পুনশ্চ--- ‘অদ্বৈতচন্দ্র প্রেম-কন্দ পূজা কৈলা যত। করি নিতান্ত রামকান্ত তাহা কৈবে কত॥’ ”
রামকান্ত সম্বন্ধে জগবন্ধু ভদ্রর উদ্ধৃতি - পাতার উপরে . . . জগবন্ধু ভদ্র তাঁর গৌরপদ-তরঙ্গিণী সংকলনে কবি রামকান্ত সম্বন্ধে লিখেছেন . . .
“গৌরপদতরঙ্গিণীতে ‘রামকান্ত’ ভণিতার তিনটি পদ সংগৃহীত হইয়াছে। কিন্তু এই রামকান্ত যে কে ছিলেন, তাহা জানা যায় না। বৈষ্ণব সাহিত্যে আমরা একজন মাত্র রামকান্তের নাম পাইয়াছি। ইনি নরোত্তম ঠাকুরের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা বলিয়া নরোত্তম-বিলাসে উল্লিখিত হইয়াছেন। যথা--- ‘শ্রীমহাশয়ের জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা রামকান্ত।’ তবে ইনি পদকর্ত্তা ছিলেন কি না, তাহা জানা যায় না।”