যার বাঁশীর স্বরে প্রাণি হরে বাঁচ না গো প্রাণ
ভণিতা রামমোহন
কবি রামমোহন ভট্ট
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার আষাঢ়-শ্রাবণ,
১৩০৮ সংখ্যায় (জুন-জুলাই ১৯০০), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন
পদাবলী” প্রবন্ধে, ১৯৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গীত।

যার বাঁশির স্বরে, প্রাণি হরে, বাঁচেনা গো প্রাণ।
চল গো সখি, শুনে আসি, সামের বাঁশীর গান॥
কেমন বাঁশের বাঁশী, মন উদাসী করিল রাধার।
জাতি কুল মজাইল বাঁশী, প্রাণে থাকা ভার॥
জানি কত সুধা, বাঁশীর-সুধা, সুধা বরিষএ।
সুধা-বাঁশী, সুধা-আশী বাঁশী কেমন রহে॥
বাঁশী সকল দেহে, রন্ধময়ে, সুধা রাখে কিসে?
যেমন কুলবধুর কুল বিনাশে, মুলে খাউআরা বাঁশে॥
শুনে বাঁশীর গান, আন্ চান্, মন নহে স্থির।
যথার্থ জানিলাম বাঁশী বটে জাদুগীর্॥
হইলো বাঁশী কাল, কি জঞ্জাল, ঘটাইল সজনী!
যেমন কটকের বিষাল বাণে হরিণ হরিণী॥
বাঁশীর লাগল্ পাইলে দিমু জলে, জমুনা ডুবাইএ।
বাঁশের বংশী বিনাসিমু কি ঔষধ দিএ॥
বোলে রাম মোহনে, বাঁশী কেনে ডুবাইলো জলে।
চান্দ মুখেতে যেমন বাজাএ, বাঁশী তেম্নি বোলে॥

ই পদটি ১৯১৩খৃষ্টাব্দে প্রকাশিত, মুনশী আবদুল করিম সঙ্কলিত, বঙ্গীয় সাহিত্য
পরিষদের “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ, ১ম খণ্ড ২য় সংখ্যা”, ৬৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া
রয়েছে।
 

জার বাঁশির স্বরে প্রাণি হরে
বাঁচে না গো প্রাণ।
চল গো সখি সুনে আসি
সামের বাঁশির গান॥
কেমন বাঁশের বাঁশি মন উদাসী করিল রাধার।
জাতি-কুল মজাইল বাঁশী প্রাণে থাকা ভার॥
জানি কত সুধা বাঁশীর সুধা সুধা বরিসএ।
সুধা বাঁশী সুধাও আসি বাঁশী কেমনে রহে॥
বাঁশী সকল দেহে রন্ধ ময় সুধা রাখে কিসে।
জেমন কুলবধুর কুল বিনাশে মুলে খাউআর বাঁশে॥
সুনে বাঁশীর গান আনচান মন নহে স্থির।
জথার্থ জানিলাম বাশী বটে জাদুগীর॥
হইলো বাঁশী কাল কি জঞ্জাল ঘটাইল সজনি।
জেমন কটকের বিশাল বাণে হরিণ হরিণী॥
বাঁশীর লাগল পাইলে দিমু জলে জমুনা ডুপাইএ।
বাশের বংশী বিনাশিমু কি ঔষধ দিএ॥
বোলে রামমোহনে বাঁশী কেনে ডুপাইলো জলে।
চান্দ-মুখেতে জেমন বাজা এ বাঁশী তেম্নি বোলে॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
কবি রামমোহন ভট্ট-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
যথ ব্রজনারী কক্ষে করি সুবর্ণ-কলসী
ভণিতা রামমোহন
কবি রামমোহন ভট্ট
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার আষাঢ়-শ্রাবণ,
১৩০৮ সংখ্যায় (জুন-জুলাই ১৯০০), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন
পদাবলী” প্রবন্ধে, ১৯৯-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গীত।

যথ ব্রজনারী কক্ষে করি সুবর্ণ-কলসী।
শ্রীমতী সাজিল যেমন ষোলকলা শশী॥
রাধে চন্দ্রমুখী যথ সখী সাজিল যতনে।
চলিল যমুনার জলে, জল অন্বেষণে॥
চলে পন্থে হাটি, ভাবে দুইটি ও রাঙ্গা চরণ।
গোবিন্দ মঙ্গল গুণ করেন গায়ন॥
যথ ব্রজাঙ্গনা, বোলে তানা১ হরিগুণ গাই।
যদি বাড় বোলে ছলে গোবিন্দ নি পাই॥
হেরে চন্দ্রমুখ, মন দুখ, কর্ব্ব নিবারণ।
জিজ্ঞাসিব বাঁশী কেনে করে জ্বালাতন॥
দারুণ বাঁশীর জ্বালা, ব্রজবালা সহিতে না পারি।
ভিক্ষা চাইলে নাহি দিলে, কর্ব্ব বাঁশী চুরি॥
বাঁশী চুরি কৈরে, হাতে ধরে সাদা দিব আর।
দেখ্ ব বাঁশী, কেমন বাঁশী রাধে রাধে বোলে॥
শ্যামের বাঁশীর দুঃখে, গৃহ সুখে, রৈতে না দেয় প্রাণি।
রাই বোলে বাঁশীএ কৈল রাধে কলঙ্কিনী॥
যাও নদীর কূলে, নামে জলে, করে জল কেলী।
বেশী ধরে বেশী বাজাএ, রাধে রাধে বোলি॥
বোলে রাম মোহনে, রাই শুনে, শ্যামের বাঁশীর গান।
অন্তরে অন্তরে থাকে হানে মদন-বাণ॥

১ - তানা - তাঁহারা।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
রাই বোলে নবনী-চোরার সে কর্ম্ম কি ভালো
ভণিতা ভট্ট রামমোহন
কবি রামমোহন ভট্ট
এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার আষাঢ়-শ্রাবণ,
১৩০৮ সংখ্যায় (জুন-জুলাই ১৯০০), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন
পদাবলী” প্রবন্ধে, ২০০-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

গীত।

রাই বোলে নবনী-চোরার সে কর্ম্ম কি ভালো।
ননী-চোরার সনে, মিছা কেনে, বিবাদের কি ফল॥
চোরের বুদ্ধি, গৃহ সন্ধি জানে নানান্ ছল।
নিজ কার্য্য সাধি, গৃহে যদি, যাইতে পারি ভালো॥
গৃহে গুরুগঞ্জনা ভয় আসিতে লাগিল।
ভ’রে যমুনার জল, চল চল বোলে প্যারী।
নবজলধররূপ ধরিলেন শ্রীহরি॥
হইলো মেঘের বরণ, মদনমোহন, পন্থে আরম্ভিল।
দিবসে রজনী পাইএ গ্রহনিশি হইল॥
দেখে মেঘের আন্ধার, হইলো রাধার অন্তরে তরাস।
কৃষ্ণ শ্যামে মেঘরূপে সে পন্থে কৈল গ্রাস॥
হইল পন্থহারা, সব গোপীরা, কৃষ্ণ বৈলে কান্দে।
কাল ননদী শাশুড়ী কি ঠেকাইলা ফান্দে॥
গৃহে ননদী মোরে, নিষেধ করে, আসতে দিল বাধা।
সেই দোষেতে দোষী হইলাম কলঙ্কিনী রাধা॥
কি দেখে আইলাম জলে, যাত্রাকালে মাথে ঠেকিল চাল।
এই কূল সেই কূল দ্বিকূল গেল দুঃখের কপাল॥
কেনে আইজ গৃহে জাইতে, ঘিরল পথে, নব জলধরে।
ভাঙ্গিল কলসী, কি লইয়া যাইমু ঘরে॥
ভাব্যে উপায় না দেখি, যথ সখী রাধা পানে চাহে।
রাই বোলে ঐ মেঘে কেনে মুরলী বাজাএ॥
যদি মেঘ হইতো, চলি যাইত, গগন পানে সখি!
মেঘের পাএ কি নেপুর বাজাএ, ঐরূপ না দেখি॥
বুঝি কি মেঘ নহে, মনে লএ, আইলো মনচোরা।
মেঘের পাএ কি নেপুর বাজাএ, ভয় করিস্ না তোরা॥
চল যাই ধরি তারে, মনচোরারে, যাএ নি দেখি ধরা।
দেখ্ বো কেমন, মেঘের কিরণ, হাঁচ্ বে প্রেমধরা॥
শুনে সবে গোপী মিলি, ধর ধর বোলি, ধরিবারে যাএ।
লড় দিলে কানাই আর নেপুর বাজে রাঙ্গা পাএ॥
বোলে ঐ গঙ্গাসুতে অবিরতে ভাবেন শ্রীহরি।
ভট্ট রামমোহনে বোলে গৃহে গেল ব্রজনারী॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*