তখন নাপিত আসি প্রভুর সম্মুখে বসি
ভণিতা রসিকানন্দ
কবি রসিকানন্দ
এই পদটি আনুমানিক ১৭৫০ সালে, বৈষ্ণবদাস (গোকুলানন্দ সেন) সংকলিত এবং সতীশচন্দ্র রায় সম্পাদিত
শ্রীশ্রীপদকল্পতরু গ্রন্থের ১৩২৫ বঙ্গাব্দের (১৯১৮ সাল) ২য় খণ্ড, ৩য় শাখা, ২১শ পল্লব, সখ্য-রস—গোষ্ঠে
গমন, ২২২৪ পদসংখ্যক পদ-রূপে দেওয়া রয়েছে। এই পদটি নিমানন্দ দাস সংকলিত পদরসসার পুথির
১৭২৪ সংখ্যক পদ।

॥ ধানশী॥

তখন নাপিত আসি                 প্রভুর সম্মুখে বসি
খুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চ-রব             কান্দে যত লোক সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হৈল কাঞ্চন নগরে।
যতেক নগর-বাসী                   দিবসে হইল নিশি
প্রবেশিল শোকের সায়রে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ              হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কান্দয়ে উচ্চ-রায়।
কি হৈল কি হৈল বলে              খুর আর নাহি চলে
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চ-স্বর করি                 কান্দে কুলবতী নারী
সভাই সভার মুখ চাইয়া।
ধৈরজ ধরিতে নারে                     নয়ন-যুগল-নীরে
ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ-অন্তর্দ্ধান                  অন্তরে দগধে প্রাণ
কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ                    সদা করে আনচান
ফাটিয়া বাহির হইয়া যায়॥

ই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত, পদাবলী সংকলন
“শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৩৯-পৃষ্ঠায় (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

তখন নাপিত আসি                 প্রভুর সম্মুখে বসি
ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চরব             কান্দে যত লোক সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হৈল কাঞ্চননগরে।
যতেক নগরবাসী                দিবসে দেখয়ে নিশি
প্রবেশিল শোকের সাগরে॥ ধ্রু॥
মুণ্ডন করিতে কেশ            হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কাঁদয়ে উচ্চরায়।
কি হৈল, কি হৈল বলে        হাতে নাহি ক্ষুর চলে
প্রাণ মোর বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চ রোল করি           কাঁদে কুলবতী নারী
সবাই প্রভুর মুখ চাঞা।
ধৈরজ ধরিতে নারে                নয়ানযুগল ঝরে
ধারা বহে নয়ান বহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান             অন্তরে দগধে প্রাণ
কাঁদিছেন অবধূত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ                সদা করে আনচান
এ দুখ ত সহন না যায়॥

ই পদটি ১৯১৬ সালে প্রকাশিত, হরিলাল চট্টোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন
“শ্রীশ্রীপদরত্ন-মালা”, ৪৬১-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশ্রী॥

তখন নাপিত আসি                 প্রভুর সম্মুখে বসি
ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চ রব             কান্দে যত লোক সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হলো কাঞ্চন নগরে।
যতেক নগর বাসী                  দিবসে হইল নিশি
প্রবেশিল শোকের সায়রে॥ ধ্রু॥
মুণ্ডন করিতে কেশ            হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কান্দয়ে উচ্চ রায়।
কি হৈল কি হৈল বলে           ক্ষুর আর নাহি চলে
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চ স্বর করি             কান্দে কুলবতী নারী
সবাই সবার মুখ চায়্যা।
ধৈরজ ধরিতে নারে                 নয়ান যুগল নীরে
ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্ধান               অন্তরে দগধে প্রাণ
কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ                সদা করে আনচান
ফাটিয়া বাহির হৈয়া যায়॥

ই পদটি ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত, মহানামশুক নবদ্বীপচন্দ্র ঘোষ সম্পাদিত পদাবলী সংকলন
শ্রীশ্রীগৌরপদরত্নমালা, ৬৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী - একতালী॥

তখন নাপিত আসি,                 প্রভুর সম্মুখে বসি
ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চরব,             কান্দে যত লোক সব,
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি! হরি! কিনা হৈল কাঞ্চন নগরে।
যতেক নগরবাসী,                  দিবসে হইল নিশি,
প্রবেশিল শোকের সাগরে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ,            হয়্যা অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কাঁদয়ে উচ্চরায়।
কি হৈল কি হৈল বলে,            ক্ষুর আর নাহি চলে
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চস্বর করি,              কান্দে কুলবতী নারী,
সভাই সভার মুখ চায়্যা।
ধৈরয ধরিতে নারে,                  নয়ানযুগল-নীরে,
ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান,               অন্তরে দগধে প্রাণ,
কাঁদিছেন অবধূত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ,                সদা করে আনচান,
ফাটিয়া বাহির হইয়া যায়॥

ই পদটি ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত, সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পাদিত “পদামৃত লহরী”, ১৮৬-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ রাগিণী ধানশ্রী - তাল দশকুশি॥

তখন নাপিত আসি, প্রভুর সম্মুখে বসি, ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চ রব, কান্দে যত লোক সব, নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা হৈল কাঞ্চন নগরে।
যতেক নগর বাসী, দিবসে হইল নিশি, প্রবেশিল শোকের সাগরে॥ ধ্রু॥
মুণ্ডন করিতে কেশ, হৈয়া অতি প্রেমাবেশ, নাপিত কান্দয়ে উচ্চরায়।
কি হৈল কি হৈল বলে, ক্ষুর আর নাহি চলে, প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চ স্বর করি, কান্দে কুলবতী নারী, সবাই সবার মুখ চাহিয়া।
ধৈরজ ধরিতে নারে, নয়ন যুগল নীরে, ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান, অন্তরে দগধে প্রাণ, কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ, সদা করে আনচান, ফাটিয়া বাহির হৈয়া যায়॥

ই পদটি ১৯৪৬ সালে প্রকাশিত, হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত বৈষ্ণব পদাবলী সংকলন “বৈষ্ণব
পদাবলী”, ১০৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীগৌরাঙ্গের সন্ন্যাস
॥ ধানশী॥

তখন নাপিত আসি                 প্রভুর সম্মুখে বসি
ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চরব             কান্দে যত লোক সব
নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা কৈল কাঞ্চন-নগরে।
যতেক নগরবাসী                   দিবসে হইল নিশি
প্রবেশিল শোকের সায়রে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ            হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
নাপিত কান্দয়ে উচ্চ-রায়।
কি হৈল কি হৈল বলে            ক্ষুর আর নাহি চলে
প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চস্বর করি               কান্দে কুলবতী নারী
সভাই সভার মুখ চাহিয়া।
ধৈরজ ধরিতে নারে                  নয়ন-যুগল-নীরে
ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান                 অন্তরে দগধ প্রাণ
কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ                 সদা করে আনচান
ফাটিয়া বাহির হইয়া যায়॥

ই পদটি ১৯৮৫ সালে প্রকাশিত, কাঞ্চন বসু সম্পাদিত পদাবলী সংকলন "বৈষ্ণব পদাবলী", ৯২২-পৃষ্ঠায়
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।


তখন নাপিত আসি প্রভুর সম্মুখে বসি
.                ক্ষুর দিল সে চাঁচর কেশে।
করি অতি উচ্চরব কান্দে যত লোক সব
.                নয়নের জলে দেহ ভাসে॥
হরি হরি কিনা কৈল কাঞ্চন-নগরে।     
যতেক নগরবাসী দিবসে হইল নিশি     
.                প্রবেশিল শোকের সায়রে॥
মুণ্ডন করিতে কেশ হৈয়া অতি প্রেমাবেশ
.                নাপিত কান্দয়ে উচ্চ রায়।
কি হৈল কি হৈল বলে ক্ষুর আর নাহি
.                চলে প্রাণ ফাটি বিদরিয়া যায়॥
মহা উচ্চস্বর করি কান্দে কুলবতী নারী
.                সভাই সভার মুখ চাহিয়া।
ধৈরজ ধরিতে নারে নয়ন যুগল নীরে
.                ধারা বহে বয়ান বাহিয়া॥
দেখি কেশ অন্তর্দ্ধান অন্তরে দগধ প্রাণ
.                কান্দিছেন অবধৌত রায়।
রসিকানন্দের প্রাণ সদা করে আনচান
.                ফাটিয়া বাহির হইয়া যায়॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
কবি রসিকানন্দের বৈষ্ণব পদাবলী
*
নরহরি প্রভুর চরণকৃপাবলে
কবি রসিকানন্দ দাস
এই পদটি রয়েছে তারাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য সঙ্কলিত, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের “বাঙ্গালা প্রাচীন
পুথির বিবরণ, ৩য় খণ্ড, ৩য় সংখ্যা”, ১৩৫-পৃষ্ঠায়। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদের ৩৪৫ সংখ্যক
পুথি। কবির “লীলামৃতরসপুর” পুথির পদ। তারাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য এখানে কোনো
পদই সম্পূর্ণ রূপে দেন নি। আমরা এখানে পুথির ত্রয়োদশ পত্রে দেওয়া গ্রন্থের পরিচয়
তুলছি, কারণ এই পদ থেকে আমরা কবির পরিচয় কিছুটা জানতে পারি।

নরহরি প্রভুর চরণকৃপাবলে।
প্রকাসিল প্রেমরস ঠাকুর গোপালে॥
ঠাকুর গোপাল মোর পরাপরগুরু।
তাহারি পাদপদ্ম ভক্তিকল্পতরু॥
সেই পাদপদ্মমধু করিয়া চিন্তন।
লীলামৃতরসপুর করিল বর্ন্নন॥
সুত্র আরম্ভিয়া প্রভু বিত্তি করিবারে।
প্রেমপাত্র হবি তার দিলেন তাহারে॥
শ্রীহরিচরণ প্রভুর গুরু আজ্ঞা পাঞা।
প্রকাশিল লিলামৃত রষপুর দিয়া॥
সেই বির্ত্তি আস্বাদয়ে প্রভু রামচন্দ্র।
শ্রীহরিচরণ চিন্তি হৃদয় আনন্দ॥
আস্বাদিতে আস্বাদিতে কৌতুক উঠিল।
ভাসা করিবারে প্রভু মোরে আজ্ঞা দিল॥
আজ্ঞা পাঞা নিবেদিলু মো অতি অধম।
কাতর দেখিয়া প্রভু কহয়ে বচন॥
চৈতন্যচন্দ্রের কৃপা জানিব ইহাতে।
এ বিত্তির ভাসা জদি হয় দিন হৈতে॥
এই আজ্ঞা পাঞা হৈল হৃদয় আনন্দ।
লীলামৃতরসপুর করিল আরম্ভ॥
মুঞি ছার মূঢ়মতি কি বলিব আন।
তাঞি লিখি প্রভু রামচন্দ্র জে বোলান॥
রাধাকৃষ্ণলীলামৃতরসপুর নাম।
মনে ছিল মোর মনমথ কাম॥
প্রাণসখির গন যত তার মুঞি দাস।
মখে বলি মনে মোর নাহিক বিস্বাষ॥
মধুমতি যত সতিমধ্যে প্রধানিকা।
তারে না ভজিলে কেহো না পায় রাধিকা॥
নরহরি বিনে নাহি পাই গোরচন্দ্র।
এ কথা কহিল মোরে প্রভু রামচন্দ্র॥
এই আজ্ঞা প্রভু ঠাঞি পাইলু বারে বার।
সেই বাক্য মোরে সর্ব্ববেদসার॥
তাহার চরণ পদ্ম করিয়া চিন্তন।
লীলামৃতরসপুর করিল বর্ন্নন॥
শ্রীগুরুবৈষ্ণবপদ মনেত ভরোসা।
রসিকানন্দ দাস কহে রষপুরভাসা॥

ইতি শ্রীলীলামৃতরসপুর সমাপ্ত॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কহে মধু শীল, আমি কি দুঃশীল
ভণিতা রসিক আনন্দ
কবি রসিকানন্দ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ২৪০-পৃষ্ঠায় (প্রথম সংস্করণ ১৯০২) এইরূপে
দেওয়া রয়েছে।

॥ পাহিড়া॥

কহে মধু শীল, আমি কি দুঃশীল, কি কর্ম্ম করিনু আমি।
মস্তক ধরিনু, পদ না সেবিনু, পাইয়া গোলকস্বামী॥
যে পদে উদ্ভব পতিতপাবনী, তাহা না পরশ হৈল।
মাথে দিনু হাত, কেন বজ্রাঘাত, মোর পাপ মাথে নৈল॥
যে চাঁচর চুল, হেরিয়া আকুল, হইত রমণী মন।
হৈনু অপরাধী, পাষাণে প্রাণ বাঁধি, কেন বা কৈনু মুণ্ডন॥
নাপিত ব্যবসায়, আর না করিব, ফেলিনু এ ক্ষুর জলে।
পহুঁ সঞে যাব, মাগিয়া খাইব, রসিক আনন্দ বলে        ॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
নিরবধি মোর, হেন লয় মনে
ভণিতা রসিক আনন্দ
কবি রসিকানন্দ
এই পদটি ১৯৩৪ সালে প্রকাশিত, জগবন্ধু ভদ্র সংকলিত, মৃণালকান্তি ঘোষ সম্পাদিত,
পদাবলী সংকলন “শ্রীগৌরপদ-তরঙ্গিণী”, ১১৪-পৃষ্ঠায় (প্রথম সংস্করণ ১৯০২)
এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

॥ ধানশী॥

নিরবধি মোর, হেন লয় মনে, ক্ষণে ক্ষণে অনিমিষে।
নয়ন ভরিয়া, গৌরাঙ্গবদন হেরিয়া মন হরিষে॥
আই আই কিয়ে, সে রূপমাধুরী, নিরমিল কোন বিধি।
নদীয়ানাগরী, সোহাগে আগরী, পাইল রসের নিধি॥
অপরূপ রূপ, কেশর করিয়া, ইচ্ছায় হিয়ায় লেপি।
সোণার বরণ, বসন পরিয়া, জীবন-যৌবন সঁপি॥
চুলের চাঁপা, ফুল হেন করি, আউলাঞা করিঞা দেখা।
লাজ ভয় ছাড়ি, লোকে উড়ি পড়ি, দু বাহু করিয়া পাখা॥
পীরিতি মূরতি, চিত্র বনাইয়া, কহিব মনের কথা।
ভরি বুকে বুকে, রাখি মুখে মুখে, রসিক ঘুচাবে ব্যথা॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
না কহয়ে সখি উহার কথা
ভণিতা রসিক দাস
কবি রসিকানন্দ
এই পদটি নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্রর মহাজন পদাবলী
“শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড, ১৯৩৭-৫৩, ৪৮৮-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে।

শ্রীমতীর উক্তি।
॥ সুহিনী - ছুটতাল॥

না কহয়ে সখি উহার কথা।
দ্বিগুণ হৃদয়ে না দেহ ব্যথা॥
যৈছন চতুর শঠের পহুঁ।
তৈছন তাহার দূতী সে তুহুঁ১॥
নিকুঞজে হৃদয়ে ধরল যে।
তাহারে না কহ সেবউ সে২॥
সোই কলাবতী নিবসে যাঁহা।
তুরিতে গমন করহ তাঁহা॥
এমতি তাহারে সাধহ যাই।
যে সুখ পাওবি অবধি নাই॥
পুন না আসিহ আমার পাশ।
শুনিয়া চলল রসিক দাস॥

১ - তিনি যেমন চতুর শঠের রাজা, তুমি তেমনি তাহার দূতী অর্থাৎ চতুরার শিরোমণি।
২ - নিকুঞ্জে যে তাহাকে কাল নিশিতে হৃদয়ে ধারণ করিয়াছে, তাহাকে গিয়া সেবা করিতে
বল না! ---নবদ্বীপচন্দ্র ব্রজবাসী ও খগেন্দ্রনাথ মিত্র, “শ্রীপদামৃতমাধুরী” ২য় খণ্ড॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*