না দেখি উপায় রে নাথ ভণিতা রতিরাম দাস কবি রতি রাম দাস এই পদটি নৃসিংহচন্দ্র মুখোপাধ্যায় সম্পাদিত “সাহিত্য সংহিতা” পত্রিকার আষাঢ়-শ্রাবণ, ১৩০৯ সংখ্যায় (জুন-জুলাই ১৯০২), আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদের “অপিরকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে এইরূপে দেওয়া রয়েছে।
॥ গীত॥
না দেখি উপায় রে নাথ, না দেখি উপায়। সবে ভরসা কৃষ্ণ তুয়া রাঙ্গা পায় (রে নাথ)॥ দিন গেলা মিছা কাজে ভবেতে আসিআ। ঠেকিআ রহিলুম মুই তোমা না ভজিআ॥ না ভজি গোবিন্দ পদ মুই অপরাধী। এই তিন ভুবন মধ্যে ভ্রমি নিরবধি॥ ধন জন পুত্র মিত্র সব অকারণ। মনেতে ভাবিয়া দেখ নিশির স্বপন॥ বৃক্ষ আরোহণে যেন থাকে পক্ষীগণ। প্রভাতে উঠিয়া যাইতে কে করে বেদন॥ কৃষ্ণ পদে না ভজিলুম মুই দৃঢ় মনে। বোলিতে উত্তর নাই ধরিলে শমনে॥ রতিরাম দাস কহে ভজ এইবার। মনুষ্য দুর্ল্লভ জন্ম না হইবে আর॥
কলিযুগ মহাঘোর প্রাণ তৃপ্তি হইল। অন্যে অন্যে জ্ঞান কর্ম্ম ধর্ম্ম না বর্জ্জিল॥ বাসুদেব পরায়ণ হএ জেই জন। সেজনে পাইব কৃষ্ণ জানিঅ কারণ॥ ভজ ভজ অরে লোক যার আছে জ্ঞান। কৃষ্ণের পদে ভজ ভাই পাইবা পরিত্রাণ॥ সংসার অসার জান স্বপ্নের যে প্রায়। বাদিআর বাজি জেন দুই কুল নাচাএ॥ তিলেক অপেক্ষা হইলে সর্ব্ব মিথ্যা হএ। এ সব সংসার মায়া কার কেহ নহে॥ রাম ২ রাম ২ রাম ২ রাম। শ্রীকৃষ্ণ চরণে মোর সহস্র প্রণাম॥
ভণিতা --- অতি দীন অতি হীন অতি নীচাচার। রতিরামে কহে কিছু গ্রহন্ত অর্থসার॥
সুন সুন অএ লোক হইআ একমন কবি রতি রাম দাস এই পদটি সাহিত্য-পরিষৎ-পত্রিকার ১৩২১বঙ্গাব্দের (১৯১৪ খৃষ্টাব্দ) অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশিত, তারাপ্রসন্ন ভট্টাচার্য্য সঙ্কলিত “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”, ৩য় খণ্ড, ৩য় সংখ্যা, ১৩৯-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। রাধাকৃষ্ণভজনোপদেশ বিষয়ক “সারগীতা” নামক গ্রন্থের পদ।
নমো গণেশায়॥
নারাধিতং কলিযুগে [ ইত্যাদি শ্লোক ]
সুন সুন অএ লোক হইআ একমন। পুরাণ প্রমাণ কিছু করহ শ্রবণ॥ কলিসর্পপাপে বিসে নাসিল ভুবন। তাহার প্রকার কিছু সুন সর্ব্বজন॥ চারি বেদ চৌদ্দ সাস্ত্র আছএ বিদিত। তথাপি পাপিষ্ঠ লোকে করয়ে ইঙ্গিত॥ শ্রুতি দিষ্টি দুই আছে বিপ্রের লোচন। এক না থাকিলেক না বলিএ ব্রাহ্মণ॥ দুই না থাকিলে অন্ধ বলিএ তাহারে। হেন সাস্ত্র পড়ি সুনি নানা ক্রিয়া করে॥ . ---ইত্যাদি॥
ভণিতা --- অতি দিন অতি হিন নিচো নিচাচার। রতিরামদাসে এহি করিল প্রচার॥
এই পদটি শ্যামদাস ভণিতাতেও রয়েছে একই পুথিতে। শ্রীগুরুবৈষ্ণবপদে হউক মনে আস। সারগীতা কিছু কহে শ্যামদাস॥ . ************************* . সূচীতে . . .