কবি রতিপতি দাস - ছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাল্যবন্ধু ও পরিকর নরহরি সরকার ঠাকুরের দাদা মুকুন্দের পুত্র রঘুনন্দন ঠাকুরের পুত্র কানাই-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র মদনমোহন-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। রতিপতি ঠাকুরের তিন পুত্র শচীনন্দন, প্রাণবল্লভ এবং যাদবেন্দ্র ঠাকুর। রতিপতি ঠাকুর ছিলেন শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী পদ সংকলনের রচয়িতা রামগোপাল দাসের দীক্ষাগুরু এবং তাঁর পুত্র শচীনন্দন ছিলেন গোপালদাসের পুত্র পীতাম্বর দাসের দীক্ষাগুরু।
উপরোক্ত পদ থেকে সরাসরি জানা যায় যে মদনমোহনের পুত্র রতিকান্ত বা রতিপতি ঠাকুর। তাঁর পূর্বপুরুষদের আত্মীয়তা আমরা পাই নরহরি চক্রবর্তী বিরোচিত ভক্তিরত্নাকরের ১৩শ তরঙ্গ থেকে শ্রীরঘুনন্দনের পুত্র ঠাকুর কানাই বা কানাঞি, জানা যায় . . . শ্রীরঘুনন্দনপুত্র ঠাকুর কানাই। কৈলা মহোত্সব আয়োজন অন্ত নাই॥ এবং ভক্তিরত্নাকরের ১৩শ তরঙ্গেই আরও জানা যাচ্ছে যে রয়েছে কানাই ঠাকুরের পুত্র মদন . . . শ্রীঠাকুর কানাইর পুত্র শ্রীমদন। তেহোঁ সংকীর্ত্তনে কৈলা অদ্ভুত নর্ত্তন॥
রতিপতি ঠাকুর ছিলেন “রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী” পদ-সংকলন গ্রন্থের রচয়িতা রামগোপাল দাস বা গোপালদাসের দীক্ষা গুরু। তাঁর গ্রন্থের ভণিতায় বহুবার তা বলা হয়েছে . . .
এছাড়া শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লীর দ্বাদশ কোরকে রামগোপালদাসের আত্মপরিচয়-তে তিনি তাঁর গুরুর বন্দনা করেছেন এইভাবে . . .
নাহি পড়ি গ্রন্থ না জানি কোন শাস্ত্র। শ্রীরতিপতি প্রভু মোর এই ভরসা হয় মাত্র॥ পরম দয়াল প্রভু করুণা প্রচুর। অদোষ-দর্শিত প্রভু আমার ঠাকুর॥ শেষকালে প্রভু মোরে করুণা করিলা। পঞ্চতত্ত্ব বিরচিঞা সকল কহিলা॥ রাধাকৃষ্ণ-উজ্জ্বললীলা-মাধুর্য্য অতিশয়। রাগনিষ্ঠা প্রেম সেবা আশ্রয় বিষয়॥ এই সব কথা প্রভু কহিল অল্পাক্ষরে। আমার যে মন্দ মেধা নহিল অন্তরে॥ সংকীর্ত্তন করি প্রভু গেলা আতোহাটে। মহাপ্রভুর সান্নিধ্য গঙ্গাদেবীর নিকটে॥ বৃন্দাবন নীলাচল করেন স্মরণ। রাধাকৃষ্ণ চৈতন্য আর গদাধর চরণ॥ জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্লপক্ষে পঞ্চমী দিবসে। অপ্রকট হৈলা প্রভু লোকে এই ঘোষে॥ আমি সে প্রকটরূপ দেখি নিরন্তর। অতি সুবলিত দেহ গমন মন্থর॥ সদা স্ফূর্ত্তি হয়ে যেন সেই কলেবর। জন্মে জন্মে হই যেন তাহার কিঙ্কর॥ ---রসকল্পবল্লী, দ্বাদশ কোরক, আত্মপরিচয়, ১৭৪-পৃষ্ঠা॥
এই পদ থেকে জানা যাচ্ছে যে গ্রন্থটি রচনার কালে কবি রামগোপাল দাসের গুরু রতিপতি ঠাকুরে তিরোধান হয়ে গিয়েছিল। ১৬৪৩-১৬৭৬ খৃষ্টাব্দ সময়কালকে “রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী”-এর রচানাকাল ধরা হলে, আমরা রতিপতি ঠাকুরের জীবনকাল সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধ বলে ধরে নিতে পারি। তাঁর তিরোধানের তিথির উল্লেখ থাকলেও সালের উল্লেখ না থাকায় আমরা তাঁর মৃত্যুর সাল নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।
রতিপতি ঠাকুরের রচিত কোনো গ্রন্থাদির নাম কোথাও উল্লিখিত পাওয়া যায় না।