এই কবি সম্বন্ধে আরও তথ্য এবং নতুন কোনও পদ আমাদের কাছে পাঠালে আমরা কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে  
প্রেরকের নাম এই পাতায় উল্লেখ করবো


আমরা
মিলনসাগরে  কবি রতিপতি ঠাকুরের বৈষ্ণব পদাবলী তুলে আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে
পারলে  এই  প্রচেষ্টার সার্থকতা।



কবি রতিপতি ঠাকুরের মূল পাতায় যেতে এখানে ক্লিক করুন


আমাদের ই-মেল -
srimilansengupta@yahoo.co.in     


এই পাতা প্রথম প্রকাশ - ২৫.১.২০১৯

...
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
*

এই পাতার উপরে . . .
কবি রতিপতি দাস - ছিলেন শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর বাল্যবন্ধু ও পরিকর নরহরি সরকার ঠাকুরের দাদা
মুকুন্দের পুত্র রঘুনন্দন ঠাকুরের পুত্র কানাই-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র মদনমোহন-এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। রতিপতি ঠাকুরের
তিন পুত্র শচীনন্দন, প্রাণবল্লভ এবং যাদবেন্দ্র ঠাকুর।
রতিপতি ঠাকুর ছিলেন শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণ রসকল্পবল্লী পদ
সংকলনের রচয়িতা
রামগোপাল দাসের দীক্ষাগুরু এবং তাঁর পুত্র শচীনন্দন ছিলেন গোপালদাসের পুত্র
পীতাম্বর দাসের দীক্ষাগুরু।

কবি রামগোপাল দাস বা গোপাল দাসের “রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী” (১৯৪৬ সালে হরেকৃষ্ণ মুখোপাধ্যায়, সুকুমার
সেন ও প্রফুল্ল পাল দ্বারা সম্পাদিত) পদ-সংকলন গ্রন্থের ৩য় কোরকে রয়েছে . . .

জয় জয় শ্রীমুকুন্দদাস শ্রীনরহরি। জয় শ্রীরঘুনন্দন কন্দর্পমাধুরী॥
জয় প্রভু কৃপাময় ঠাকুর কানাঞি। ত্রিভুবনে যার বংশে তুলনা দিতে নাঞি॥
জয় “শ্রীরায় ঠাকুর” মদনমোহন নাম। তাহার তনয় পঞ্চ সর্ব্বগুণধাম॥
তার বংশে মোর ইষ্ট ঠাকুর শ্রীরতিকান্ত। রাধাকৃষ্ণ প্রেমদাতা পরম নিতান্ত॥
অদোষদর্শি প্রভু পতিতপাবন। মোর ভরসা কেবল তাহার চরণ॥

উপরোক্ত পদ থেকে সরাসরি জানা যায় যে মদনমোহনের পুত্র রতিকান্ত বা রতিপতি ঠাকুর। তাঁর
পূর্বপুরুষদের আত্মীয়তা আমরা পাই
নরহরি চক্রবর্তী বিরোচিত ভক্তিরত্নাকরের ১৩শ তরঙ্গ থেকে
শ্রীরঘুনন্দনের পুত্র ঠাকুর কানাই বা কানাঞি, জানা যায় . . .
শ্রীরঘুনন্দনপুত্র ঠাকুর কানাই। কৈলা মহোত্সব আয়োজন অন্ত নাই॥
এবং
ভক্তিরত্নাকরের ১৩শ তরঙ্গেই আরও জানা যাচ্ছে যে রয়েছে কানাই ঠাকুরের পুত্র মদন . . .
শ্রীঠাকুর কানাইর পুত্র শ্রীমদন। তেহোঁ সংকীর্ত্তনে কৈলা অদ্ভুত নর্ত্তন॥

রতিপতি ঠাকুর ছিলেন “রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী” পদ-সংকলন গ্রন্থের রচয়িতা
রামগোপাল
দাস
বা গোপালদাসের দীক্ষা গুরু। তাঁর গ্রন্থের ভণিতায় বহুবার তা বলা হয়েছে . . .

শ্রীরতিকান্ত প্রভু ঠাকুর আমার।
যাহার চরণ বহি গতি নাহি আর॥
তাহার উচ্ছিষ্ট মোর আছয়ে অন্তরে।
সেই বলে যেই কিছু নিবেদন করে॥
শ্রীবৈষ্ণবের গণে করো পরিহার।
শ্রীগোপালদাস কহে রসের বিচার॥---রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী, ১ম কোরক সমাপ্ত, ৫-পৃষ্ঠা॥

শ্রীরতিপতি-চরণযুগল করি সার।
গোপালদাস কহে গতি নাহি আর॥---রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী, ২য় কোরক সমাপ্ত, ১৫-পৃষ্ঠা॥

শ্রীরতিপতিচরণযুগলে যার আস।
রাধাকৃষ্ণকল্পবল্লী কহে গোপালদাস॥---রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী, ৫ম কোরক সমাপ্ত, ৬৭-পৃষ্ঠা॥ . . .

এছাড়া শ্রীশ্রীরাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লীর দ্বাদশ কোরকে
রামগোপালদাসের আত্মপরিচয়-তে তিনি তাঁর গুরুর
বন্দনা করেছেন এইভাবে . . .

নাহি পড়ি গ্রন্থ না জানি কোন শাস্ত্র। শ্রীরতিপতি প্রভু মোর এই ভরসা হয় মাত্র॥
পরম দয়াল প্রভু করুণা প্রচুর। অদোষ-দর্শিত প্রভু আমার ঠাকুর॥
শেষকালে প্রভু মোরে করুণা করিলা। পঞ্চতত্ত্ব বিরচিঞা সকল কহিলা॥
রাধাকৃষ্ণ-উজ্জ্বললীলা-মাধুর্য্য অতিশয়। রাগনিষ্ঠা প্রেম সেবা আশ্রয় বিষয়॥
এই সব কথা প্রভু কহিল অল্পাক্ষরে। আমার যে মন্দ মেধা নহিল অন্তরে॥
সংকীর্ত্তন করি প্রভু গেলা আতোহাটে। মহাপ্রভুর সান্নিধ্য গঙ্গাদেবীর নিকটে॥
বৃন্দাবন নীলাচল করেন স্মরণ। রাধাকৃষ্ণ চৈতন্য আর গদাধর চরণ॥
জ্যৈষ্ঠ মাসে শুক্লপক্ষে পঞ্চমী দিবসে। অপ্রকট হৈলা প্রভু লোকে এই ঘোষে॥
আমি সে প্রকটরূপ দেখি নিরন্তর। অতি সুবলিত দেহ গমন মন্থর॥
সদা স্ফূর্ত্তি হয়ে যেন সেই কলেবর। জন্মে জন্মে হই যেন তাহার কিঙ্কর॥
---রসকল্পবল্লী, দ্বাদশ কোরক, আত্মপরিচয়, ১৭৪-পৃষ্ঠা॥

এই পদ থেকে জানা যাচ্ছে যে গ্রন্থটি রচনার কালে
কবি রামগোপাল দাসের গুরু রতিপতি ঠাকুরে তিরোধান
হয়ে গিয়েছিল। ১৬৪৩-১৬৭৬ খৃষ্টাব্দ সময়কালকে “রাধাকৃষ্ণরসকল্পবল্লী”-এর রচানাকাল ধরা হলে, আমরা
রতিপতি ঠাকুরের জীবনকাল সপ্তদশ শতকের প্রথমার্ধ বলে ধরে নিতে পারি। তাঁর তিরোধানের তিথির
উল্লেখ থাকলেও সালের উল্লেখ না থাকায় আমরা তাঁর মৃত্যুর সাল নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না।

রতিপতি ঠাকুরের রচিত কোনো গ্রন্থাদির নাম কোথাও উল্লিখিত পাওয়া যায় না।
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি   
বৈষ্ণব পদাবলী নিয়ে মিলনসাগরের ভূমিকা     
বৈষ্ণব পদাবলীর "রাগ"      
কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও উত্স গ্রন্থাবলী     
মিলনসাগরে কেন বৈষ্ণব পদাবলী ?     
এই পাতার কবিতার ভণিতা -
রতিপতি দাস, রতিপতি
.
বৈষ্ণব পদাবলী সম্বন্ধে আবদুল করিমের উদ্ধৃতি -                                   পাতার উপরে . . .  
শিক্ষাবীদ, সাহিত্যিক, গবেষক ও প্রাচীন পুথির সংগ্রাহক,
শ্রী আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ, সুরেশচন্দ্র
সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ, ১৩২৫ সংখ্যায় (ডিসেম্বর ১৯১৮), তাঁর “সঙ্গীত শাস্ত্রের
একখানি প্রাচীন গ্রন্থ” প্রবন্ধে লিখেছেন . . .
“. . .
বৈষ্ণব পদাবলীর মত সুন্দর জিনিস বঙ্গসাহিত্যে আর নাই। কাণের ভিতর দিয়া মরমে পশিয়া প্রাণ
আকুল করিয়া তুলিতে পারে, এমন সুধাস্রাবী ঝঙ্কার বৈষ্ণব পদাবলী ভিন্ন বাঙ্গালায় আর কিছুতে নাই
।”