কবি সাহা বদিয়ুদ্দিনের বৈষ্ণব পদাবলী ও অন্যান্য গীত
*
দেখা দিয়া জুড়াও পরাণ
অবলা মন্দিরে বসি
প্রাণনাথ বাজায় বাঁশী
ভণিতা বদিয়ুদ্দিন
কবি সাহা বদিয়ুদ্দিন বা শাহ বদীউদ্দীন
এই পদটি ১৩২১ বঙ্গাব্দে (১৯১৪ সাল), মুনশী শ্রীআবদুল করিম সম্পাদিত সাহিত্য-পরিষৎ-মন্দির থেকে
প্রকাশিত, “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”-এর ১ম খণ্ডের ১ম সংখ্যার, ৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে।
এই পুথিটি আরবী অক্ষরে লেখা পাওয়া গিয়েছিল। কবির “ফতেমার ছুরত-নামা” গ্রন্থের পদ। সাহিত্য-
বিশারদ মহাশয় এই পদটিকে পারমার্থিক সঙ্গীত আখ্যা দিলেও এর মধ্যে বৈষ্ণব পদাবলীর সুর স্পষ্ট।

॥ নাচারি॥

দেখা দিয়া জুড়াও পরাণ॥ ধু।
অবলা মন্দিরে বসি,                    প্রাণের নাথ বাজায় বাঁশী,
অভাগিনী শুনি বাঁশীর গীত।
অই বন্ধের বংশীর সানে,                    ধৈরজ ন মানে প্রাণে,
আকুল করিল নারীর চিত॥
শুনিয়া মোহন বাঁশী,                        হইলুম তোমার দাসী,
ভজিলুম তুই শ্যামের চরণে।
ন দেখি তোমার জ্যোতি,                   থির নহে মোর মতি,
একবার দেখা কর নারীর সনে॥
দয়ার ঠাকুর তুমি,                        তোমার ভাবক আমি,
তুমি দয়া না করিলে মোরে।
তুমি প্রাণনাথ বিনে,                      আর দয়া করিব কেনে,
তুমি বিনে কে আছে সংসারে॥
তোমার কৃপার ফলে,                       মোহর ভাগ্যের বলে,
আসিয়াছ অবলা মন্দিরে।
এই ঘর আন্ধার করি,                      এক দিন যাইবা ছাড়ি,
কেনে দেখা না দেও রাধারে॥
তনুর অন্তরে পশি,                          মনুরা১ রহিছে বসি,
কিরূপে ভজিলে দেখা পাই।
কহন্ত বদিয়ুদ্দিনে,                             গুরুর আদেশ বিনে,
দেখিবার আর লক্ষ্য নাই॥

১। মনুরা - আত্মা।

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, আবদুল কাদির ও রেজাউল করীম সম্পাদিত, “কাব্য-মালঞ্চ”
সংকলনের ৪২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রয়েছে। কবির “ফতেমার ছুরত-নামা” গ্রন্থের পদ।

মিলন রহস্য


অবলা মন্দিরে বসি,                   প্রাণনাথ বাজায় বাঁশী,
অভাগিনী শুনি বাঁশীর গীত।
বন্ধুর বংশীর স্বনে,                        ধৈরয না ধরে মনে,
আকুল করিল নারীর চিত॥
শুনিয়া মোহন বাঁশী,                        হইলুঁ তোমার দাসী,
ভজিলুম তুই শ্যামের চরণে।
না দেখি তোমার জ্যোতিঃ,               থির নহে মোর মতি,
একবার দেখা কর রাধার সনে॥
এখানে চারটে পংক্তি নেই  . . .
তনুর অন্তরে পশি’,                       মনুরা রহিছে বসি’,
কিরূপে ভজিলে দেখা পাই।
কহন্ত বদীয়ুদ্দীনে                           গুরুর আদেশ বিনে
দেখিবার আর লক্ষ্য নাই॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-ভাবাপন্ন
মুসলমান কবি”, ৭৬-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে।

দেহতত্ত্ব
॥ লাচাড়ি॥

দেখা দিয়া জুড়াও পরাণ॥ ধুঃ।
অবলা মন্দিরে বসি,                   প্রাণের নাথ বাজায় বাঁশী,
অভাগিনী শুনি বাঁশীর গীত।
অই বন্ধের বংশীর সানে,                   ধৈরজ ন মানে প্রাণে,
আকুল করিল নারীর চিত॥
শুনিয়া মোহন বাঁশী,                        হইলুম তোমার দাসী,
ভজিলুম তুই শ্যামের চরণে।
ন দেখি তোমার জ্যোতি,                   থির নহে মোর মতি,
একবার দেখা কর নারীর সনে॥
দয়ার ঠাকুর তুমি,                        তোমার ভাবক আমি,
তুমি দয়া ন করিলে মোরে।
তুমি প্রাণনাথ বিনে,                     আর দয়া করিব কোনে,
তুমি বিনে কে আছে সংসারে॥
তোমার কৃপার ফলে,                        মোহর ভাগ্যের বলে,
আসিয়াছ অবলা মন্দিরে।
এই ঘর আন্ধার করি,                      এক দিন যাইবা ছাড়ি,
কেনে দেখা ন দেও রাধারে॥
তনুর অন্তরে পশি,                           মনুরা রহিছে বসি,
কিরূপে ভজিলে দেখা পাই।
কহন্ত বদিয়ুদ্দিনে,                            গুরুর আদেশ বিনে,
দেখিবার আর লক্ষ্য নাই॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
একদিন আলি গেলা বক্করের ঘরে
ভণিতা হীন সাহা বদিয়ুদ্দিন
কবি সাহা বদিয়ুদ্দিন বা শাহ বদীউদ্দীন
এই পদটি ১৩২১ বঙ্গাব্দে (১৯১৪ সাল), মুনশী শ্রীআবদুল করিম সম্পাদিত সাহিত্য-পরিষৎ-
মন্দির থেকে প্রকাশিত, “বাঙ্গালা প্রাচীন পুথির বিবরণ”-এর ১ম খণ্ডের ১ম সংখ্যার, ৬৪-
পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে। এই পুথিটি আরবী অক্ষরে লেখা পাওয়া গিয়েছিল। কবির
“ফতেমার ছুরত-নামা” গ্রন্থের পদ।  বৈষ্ণব পদাবলী  নয়  এবং  পদটি সম্পূর্ণ উদ্ধৃত করা
নেই। আমরা যেরূপে পেয়েছি সে রূপেই তুলে দিলাম।


আরম্ভ :---
একদিন আলি গেলা বক্করের ঘরে।
দরজায়ে ডাণ্ডাইয়া ডাকে উচ্চস্বরে॥
বক্করে বোলেন্ত তুমি হও কোন জন।
কি কারণে আসিয়াছ ডাক কি কারণ॥
শুনিয়া কহিলা তবে মোর নাম আলি।
মোলাকাত কর আসি বাহিরে নাকলি॥
তা শুনি বক্করে তানে চাতুরী করয়ে।
কোন আলি হও তুমি দেও পরিচয়ে॥

শেষ :---
ছুরত দেখিয়া আলি শান্ত হইল মন।
ছোব্ হান আল্লা বুলি বুলিলা জোবান॥
*        *        *        *        *        *
এই মতে সাহা আলি ফাতেমা দেখিল।
আপনার মনে ভাবি পরিচয় পাইল॥
ফাতেমার ছরত নামা সমাপ্ত হইলো।
পুস্তক দেখিয়া জান এই সব লোখিল॥

ভণিতা :---
হীন সাহা বদিয়ুদ্দিন কহে হস্ত জোড় করি।
দোষ ক্ষেম সভাগণ হীন জন জানি॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর