কবি সৈয়দ সুলতান-এর বৈষ্ণব পদাবলী
*
ছোট না রাধিকা ভরণ কলসী
ভণিতা ছৈয়দ ছোলতান / সৈয়দ সুলতান
কবি সৈয়দ সুলতান
এই পদটি হুগলী থেকে, যদুনাথ কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধনে প্রকাশিত “পূর্ণিমা” মাসিক পত্রিকার
ভাদ্র-আশ্বিন ১৩০৩ সংখ্যায় (সেপ্টেম্বর ১৮৯৬) আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের
“অপ্রকাশিত প্রাচীন পদাবলী” প্রবন্ধে, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে।

॥ গীত - আসোয়ারী॥

মনেতে আনন্দ অতি ঘরে কেহ নাই।
আজু রাধার শুভ দিন মিলিল কানাই॥ ধ্রু।
অপরূপ বিপরীত কি বলিব কারে।
নানা রূপে করে কেলি ভ্রমরা না ছাড়ে॥
জল নাই কলসে যমুনা বড় দূর।
চলিতে না চলে রাধার চরণে নেপুর॥
ভৃঙ্গারের জল দি’ পাখাল দুই পাও।
গঙ্গার জল সাঁচরি বন্ধেরে করি বাও॥
বারে বারে কৈলাম নন্দ বেচিয়া ফেলাও ধেনু।
গোকুলে মাগিয়া খাইমু কোলে লইয়া কানু॥
কহে ছৈয়দ ছোলতানে মনেতে ভাবিয়া।
পর কি আপনা হয় পিরীতি লাগিয়া॥

ই পদটি ১৯৪৫ সালে প্রকাশিত, যতীন্দ্রমোহন ভট্টাচার্য্য সম্পাদিত “বাঙ্গালার বৈষ্ণব-
ভাবাপন্ন মুসলমান কবি”, ১০৩-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে।

॥ আশোয়ারী বা গৌরী॥

নন্দ আসি জয় দেও রে আমার গোপাল
.                        আইসে ঘর॥ ধুঃ॥
মনেতে আনন্দ অতি ঘরে কেহ নাই।
আজু রাধার শুভ দিন মিলিল কানাই॥
অপরূপ বিপরীত কি বলিব কারে।
নানা রূপে করে কেলি ভ্রমরা না ছাড়ে॥
জল নাহি কলসে যমুনা বড় দূর।
চলিতে না চলে রাধার চরণে নূপুর॥
ভৃঙ্গারের জল দিয়া পাখাল দুই পাও।
গঙ্গার জল সাঁচরি(?) বন্ধেরে করি বাও॥ @
কহে সৈয়দ সুলতানে মনেতে ভাবিয়া।
পর কি আপনা হয় পিরীতি লাগিয়া॥

@ - এর পরের দুটি পংক্তি এখানে দেওয়া নেই।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
বসন্ত খেলিতে হরি শ্রদ্ধা হৈল বড়
ভণিতা ছৈদ ছোলতান
কবি সৈয়দ সুলতান
এই পদটি ১৩৪১ বঙ্গাব্দে ( ১৯৩৪ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকার ২য় সংখ্যার, ডঃ
এনামুল হকের “কবি সৈয়দ সুলতান” প্রবন্ধে, ৩৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রযেছে। পদটি কবির “নবীবংশ”
গ্রন্থ থেকে নেওয়া।

॥ রাগ বসন্ত॥

বসন্ত খেলিতে হরি শ্রদ্ধা হৈল বড়।
লবঙ্গ, গুলাল, জাতি,                বিকাস আমোদ ভাতি
চম্পা, কেতকী, নাগেশ্বর॥ ধুআ।
বসন্ত খেলাএ হরি,                        হরসিত মন করি,
নানা রঙ্গ কতুক অপার।
নিকুঞ্জ গহন বন,                          হরসিত গোপীগণ,
চান্দ সনে যেহেন চকোর॥
চুতগণ মুকুলিত,                        নানা পুষ্প বিকসিত,
ভ্র্রমর ভ্রমএ অনুক্ষণ।
কানন নিকুঞ্জ পাই,                        কুকিল হরিস হই,
রুহু কুহু বোলএ সঘন॥
পরিআ সুগন্ধি বাস,                     করিআ বিবিধ লাস,
গোপীগণ হরির গোচর।
লইআ ফাগুর ধূলি,                  অঙ্গে অঙ্গে মেলামেলি,
ঠেলাঠেলি করে নিরন্তর॥
চন্দন কস্তুরি লই,                         হরির নিকট জাই,
কেহো নাহি কতুকে ফেলাএ।
কেহো পরিহাস করে,               কেহো এ বসনেত ধরে,
কেহো নারি আবির খেপএ॥
কেহো কেহো নারি গিআ,              মাধবির মালা লৈআ,
হরির কণ্ঠেত নিআ ধরে।
কেহো বোলে কর জুরি,                  হরিক প্রণাম করি,
হাঁসিতে হাঁসিতে তুতি করে॥
কেহো কেহো নারি আসি               পসার দেঅন্ত বসি,
কেহো বেচে মুকুতা প্রবাল।
জৌবন মাণিক্য ধন,                    হরিত বেচিতে মন,
দেখি অতি বণিজার ভাল॥
কহে ছৈদ ছোলতান,                  না রহিব হরির মান,
পাপেত ডুবিল সবার মন।
লইআ গোপিনিগণ,                      হাস্য করি রঙ্গ মন,
পাসরিলা প্রভুক সেবন॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
শ্যাম মোরে করিবা দয়া হারঘড়ী তোমারে সেবি
ভণিতা সৈয়দ ছোলতান
কবি সৈয়দ সুলতান
এই পদটি হুগলী থেকে, যদুনাথ কাঞ্জিলালের তত্ত্বাবধনে প্রকাশিত “পূর্ণিমা” মাসিক পত্রিকার ১৩০৬
বঙ্গাব্দের (নভেম্বর ১৮৯৯) কার্ত্তিক সংখ্যায়, আবদুল করিম সাহিত্য বিশারদের “অপ্রকাশিত প্রাচীন
পদাবলী” প্রবন্ধে, ১৬৪-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে।


শ্যাম মোরে করিবা দয়া হারঘড়ী তোমারে সেবি ;
ও কালাচাঁদ পরদেশী!
প্রেমসাগরে ডুবি,                 হারঘড়ী(১) তোমারে সেবি ;
মন বান্ধ্যাছ শিলাপ ডোরে,            পাসরি রহিলা মোরে।
পিরীতি তোমার সনে,                আড়াপাড়া সবে জানে ;
দৈবে কলঙ্কিনী হৈলাম,                নয়নভরি না চাহিলাম।
সুজনে পিরীতি করি,                একবারে না যায় ছাড়ি ;
জনমে জনমে পালে,                সঙ্গে থাকে নিদানকালে।
কহে সৈয়দ ছোলতানে,                আপনাকে যেই জানে ;
ততোধিক আর কেহ নাই।
পৃথিবীতে দুঃখ পায়,                  যে আছে সম্পদ যায় ;
পরিণামে নরকেত ঠাঁই॥

১। হার = প্রত্যেক, হারঘড়ী - সদা সর্ব্বদা।

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
হাম ভিখারি পরম দেব দাতা
ভণিতা ছৈদ ছুলতান,ছৈঅদ ছোলতান
কবি সৈয়দ সুলতান
এই পদটি সুরেশচন্দ্র সমাজপতি সম্পাদিত “সাহিত্য” পত্রিকার পৌষ ১৩২৫ সংখ্যায়
(জানুয়ারী ১৯১৯) প্রকাশিত, আবদুল করিম সম্পাদিত “সঙ্গীত শাস্ত্রের একখানি প্রাচীন
গ্রন্থ”, ৬৩২-পৃষ্ঠায় এইরূপে দেওয়া রযেছে। ডঃ এনামুল হক এই পদটিকে পরমার্থসঙ্গীত
বলেছেন, যা বাংলার বাউল গীতিকারদের পূর্ব্বসূরি।

॥ রাগিণী - ভৈরবী॥

হাম ভিকারি পরম দেব দাতা।
পিউ পেআছি ধেআনে মদমাতা॥ ধু।
খিতি সিংহাসন বাসন মেরি।
অষ্ট সমির মোর চামরধারী॥
শ্রীনব দণ্ড ছত্র আকার।
চান্দ সুরুজ দোহো সোভএ তার॥
*        *        *        *        *
তাহে কি বোলসি কাজ অনুছারি (?)
*        *        *        *        *
শ্রীহট নগরে বাজএ এক তালে॥
কহে ছৈদ ছুলতানে মনে হাঙ্কারি।
পহু দাতা ছুলতান পরম পরম ভিকারি॥

ই পদটি ১৩৪১ বঙ্গাব্দে ( ১৯৩৪ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকার ২য়
সংখ্যার, ডঃ এনামুল হকের “কবি সৈয়দ সুলতান” প্রবন্ধে, ৩৮-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া  
রযেছে। ডঃ এনামুল হক চৈতন্য সমকালীন এই কবির এই পদটিকে পরমার্থসঙ্গীত  
বলেছেন, যা পরবর্তী বাংলার বাউল গীতিকারদের পূর্ব্বসূরি।

॥ রাগিণী - ভৈরব॥

হাম ভিখারি পরম দেব দাতা।
পিউ পেআছি ধেআনে মদমাতা॥ ধু।
খিতি সিঙ্গাসন বাসন মেরি।
অষ্ট সসির মৌর চামরধারী॥
শ্রীনবদণ্ড ছত্র আকার।
চান্দ সুরুজ দোহো সোভএ তার॥
দুই ছুজা জছ(?) পাএ হাহ্মারি।
তাহে কি বোলসি কাজ অনুসারি॥
অজপা পঞ্চ শবদ ঘরি ভালে।
শ্রীহট নগরে বাজএ একতালে॥
কহে ছৈঅদ ছোলতানে মনে হাঙ্কারি।
পহু দাতা ছোলতান পরম ভিখারি॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কত না কহিমু কাত নিবেদিমু
ভণিতা ছুলতান
কবি সৈয়দ সুলতান
এই পদটি ১৩৪১ বঙ্গাব্দে ( ১৯৩৪ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকার ২য় সংখ্যার, ডঃ
এনামুল হকের “কবি সৈয়দ সুলতান” প্রবন্ধে, ৫১-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রযেছে। ডঃ এনামুল হক চৈতন্য
সমকালীন এই কবির এই পদটিকে পরমার্থসঙ্গীত বলেছেন, যা পরবর্তী বাংলার বাউল গীতিকারদের
পূর্ব্বসূরি।

॥ ধানসি কেদার॥

রে মন!
কত না কহিমু,                        কাত নিবেদিমু,
কত না চেতাইমু তোকে।
দিনের ভিতরে,                        নাম নিকঞ্জন,
বারেক না লইলুঁ মুখে॥ ধু।
পুত্র পরিজন,                            সব অকারণ,
ভুলি রৈলুঁ মাআ মোহে।
জেন আখি ঠার,                   লোভ দআ চুর(?)
গোরমএ বাঝি রহে॥(?)
সম্পদ সহাএ                            সুখ বেবহাএ
প্রভুপদ না সেবিলে।
গতি গুরু ভার                      জেহেন কাণ্ডার,
পঞ্চমে আটকিলে॥
কহে ছুলতান                           জীবন স্বপন,
মরণ জানিঅ সার।
সে পন্থ ছুরিআ                    অসারে মর্জ্জিআ
ভুলিআ রৈলুঁ অনিবার॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কাহে কাহে ধনি বাগ বানাআ
ভণিতা ছোলতান
কবি সৈয়দ সুলতান
এই পদটি ১৩৪১ বঙ্গাব্দে ( ১৯৩৪ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকার ২য়
সংখ্যার, ডঃ এনামুল হকের “কবি সৈয়দ সুলতান” প্রবন্ধে, ৫২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া
রযেছে। ডঃ এনামুল হক চৈতন্য সমকালীন এই কবির এই পদটিকে পরমার্থসঙ্গীত  
বলেছেন, যা পরবর্তী বাংলার বাউল গীতিকারদের পূর্ব্বসূরি।

॥ কাকিআ রাগ॥

কাহে কাহে ধনি বাগ বানাআ।
দুনিআ মিছা ধান্ধা মাআ লাগাআ॥ ধু।
তুহ্মি আহ্মার গুরুজি আহ্মি তোর চেলা।
তোর দরশন বিনু ফিরিএ একেলা॥
হুঙ্কারে মারোহোঁ তির দূরে গিআ লাগে।
ফিরি লাগে তির কামানেরি আগে॥
সোনা কর ছিড়িআ রূপা করো বাটা।
সখি গেঁও সব সরে উরি গেঁও হাটা॥
কহে ছোলতানে এ ধর খাখারা।
জাইব মনুরা সব ফানারা॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
জাইবা, জাইবারে, জাইবানি রে মন
ভণিতা ছোলতান
কবি সৈয়দ সুলতান
এই পদটি ১৩৪১ বঙ্গাব্দে ( ১৯৩৪ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকার ২য় সংখ্যার, ডঃ
এনামুল হকের “কবি সৈয়দ সুলতান” প্রবন্ধে, ৫২-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রযেছে। ডঃ এনামুল হক চৈতন্য
সমকালীন এই কবির এই পদটিকে পরমার্থসঙ্গীত বলেছেন, যা পরবর্তী বাংলার বাউল গীতিকারদের
পূর্ব্বসূরি।

॥ রাগ ছুহি॥

জাইবা, জাইবারে, জাইবানি রে মন জাইবা নিরঞ্জনপুরে।
কাঞ্চনমন্দিরে বন্ধুরে রাখিআ মুঞি পাপী আইলুঁ দূরে॥ ধু।
হাম পরবাসী.                              দূর হোন্তে আসি
রহি গেলুং এহি ঠাই।
দিন দুই চারি,                             রৈছি বাসা করি,
না জানি কোন্ খানে জাই॥
মুরার উপরে,                                বুরা টঙ্গি হেটে,
হেটে জবুনার ধারা।
উত্তর দক্ষিণে,                                দুগাছি বাহনে,
মাঝে নব গিরি পারা॥
সঙ্গে আছে মোর,                            দুই তিন ঢঙ্গর,
ঢেঙ্গরি উদ্দেশে ধাএ।
জেহেন বিলালে,                           সরা দুগ্ধ পাইলে,
খাইবারে ধরফরাএ॥
জেবা আছে বুরি,                            বাসাটি পসরি,
সেহো পরবুদ্ধি ভুলি।
চারি কড়ার তেল,                        সব বিলানে গেল,
ভাণ্ড হই গেল খালি॥
বাপের দিনের,                                কড়া দুই তিন,
পুরাণ সঞ্চিত ধন।
পাড়ার লোকে,                              সেহ নিবারিআ,
সদাএ নিবারে মন॥
কহে ছোলতানে,                                কর অবধান
এহি গৃহে নাহি কাজ।
জাতি কুল ভএ,                                গুণি মর্ম্ম দএ,
আর সভামধ্যে লাজ॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
কত কত মোহন মোহোনি জান
ভণিতা ছৈয়দ ছোলতান
কবি সৈয়দ সুলতান
এই পদটি ১৩৪১ বঙ্গাব্দে ( ১৯৩৪ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকার ২য় সংখ্যার, ডঃ
এনামুল হকের “কবি সৈয়দ সুলতান” প্রবন্ধে, ৫৩-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রযেছে। ডঃ এনামুল হক চৈতন্য
সমকালীন এই কবির এই পদটিকে পরমার্থসঙ্গীত বলেছেন, যা পরবর্তী বাংলার বাউল গীতিকারদের
পূর্ব্বসূরি।

॥ রাগ বসন্ত॥

কত কত মোহন মোহোনি জান॥ ধু॥
কুটিল কুন্তল ফান্দ,                          বেড়িআছে মুখচান্দ
গুপিগণে বাজাইতে আস।
জেহেন নির্ম্মল সসি,                        ঢাকিছে জলদে আসি,
দেখা দিলে তিমির বিনাস॥
সুগন্ধি তিমির কেশ                        রহিছে মোহন ভেস,
মুখচান্দ রহিছে ছাপাএ।
একবারে অনুপাম,                      নিসি দিসি একহি ঠাম,
লক্ষিবারে লৈক্ষণ্য ন জাএ॥
কিবা রাত্র কিবা দিন,                      নহে রূপ ভিন্নাভিন,
এ চান্দ সুরুজ নহে তার।
ছৈয়দ ছোলতানে কহু,                    সেই সে আন্ধার পহু,
দেখা না দে বিদিত সভার॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর
*
অরে নিরঞ্জন জাতে দর্ব্বেস জ্ঞাআনে পরম জুগি
ভণিতা ছৈয়দ ছোলতান
কবি সৈয়দ সুলতান
এই পদটি ১৩৪১ বঙ্গাব্দে ( ১৯৩৪ সালে) প্রকাশিত, বঙ্গীয় সাহিত্য-পরিষৎ পত্রিকার ২য় সংখ্যার, ডঃ
এনামুল হকের “কবি সৈয়দ সুলতান” প্রবন্ধে, ৫৪-পৃষ্ঠায়, এইরূপে দেওয়া রযেছে। ডঃ এনামুল হক চৈতন্য
সমকালীন এই কবির এই পদটিকে পরমার্থসঙ্গীত বলেছেন, যা পরবর্তী বাংলার বাউল গীতিকারদের
পূর্ব্বসূরি।

॥ ছুহি রাগ॥

অরে নিরঞ্জন জাতে দর্ব্বেস জ্ঞাআনে পরম জুগি॥ ধু॥
আহ্মিত ব্রাহ্মণ চাসা,                        গগনে আহ্মার বাসা,
ভাট ভট পড়ি আহ্মি বসি।
মুখ মোহোর হাল,                          জিভ্যা মোহোর ফাল,
অমূল পরাণ ভূমি চসি॥
আহ্মিত ব্রাহ্মণ বরূ,                      আঞ্জি ঐক্ষর পরি যুরু,
রবি সসি তিন সৈন্ধা করি।
ভাণ্ডার ঘর বান্ধি,                              নব দুআর ছান্ধি,
মনসের সআল (বা সঅনে) নহরি॥
কাআ মোর কামিনী,                        পাইআ সিদ্ধার বাণী,
সোআমি যে ধরিমু একজন।
পাইআ ব্রাহ্মের বেদ,                        চতুরদিগে করি খেদ,
রবি সসি আঅন জ্ঞান॥
ডাইনে মোর করি সার,                       সিরে পবি দস্তার,
ছল্লা মৈদ্ধে মছল্লা পারি।
হিআর মাঝারে বোধা,                   ভাবিলে পাইবে সোধা,
সুন্য মাঝে নমাজ গুঞ্জারি॥
কহে ছৈঅদ ছোলতান,                       মনে করি অনুমান,
জ্ঞানজোগ করি অলহ্কার।
সুমেরু সিখর ভেদি,                        গগনে জালাও বাতি,
দিলে মুখে এক করতার॥

.            *************************             
.                                                                           
সূচীতে . . .      



মিলনসাগর